জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দলীয় প্রতীক

  • প্রকাশ : রবিবার ১০ মে, ২০২৬, সময় : ১:২১ পিএম

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দেশের ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভায় নির্বাচনের জন্য দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ৩৩টি পৌরসভার মেয়র, ৬৭টি উপজেলার চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়। আগামী ঈদুল আজহার আগে ২০ মে আরও ১০০ উপজেলা-পৌরসভায় প্রার্থী ঘোষণা করা হবে বলে দলটির নেতারা জানিয়েছেন। 


রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রোববার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে প্রথম ধাপে ১০০ উপজেলা-পৌরসভায় প্রার্থী ঘোষণা করেছে এনসিপি। দলটির স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটি এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সারজিস আলম, কমিটির সদস্য তাহসীন রিয়াজ, আলাউদ্দীন মোহাম্মদ ও মনজিলা ঝুমা এবং এনসিপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন, মো. আতাউল্লাহ ও এস এম সুজা সাংগঠনিক বিভাগওয়ারি প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন।


প্রার্থীদের নাম ঘোষণার সময় সারজিস আলম জানান, ঈদের আগে ২০ মে দ্বিতীয় ধাপে ১০০ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে। প্রথম ধাপে ১০০ উপজেলা-পৌরসভায় প্রার্থী ঘোষণা করা হচ্ছে। দেশের ৫০০ উপজেলা ও ৩৩০টি পৌরসভা থেকে প্রথম ধাপে নাম প্রকাশের জন্য হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছিল। সেগুলোকে বারবার যাচাই-বাছাই ও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে নিরীক্ষা করে প্রাথমিকভাবে ১০০ জনের নাম ঘোষণা করা হচ্ছে।


এর আগে গত ২৯ মার্চ ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনসহ দেশের পাঁচটি সিটি করপোরেশনের আসন্ন নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে এনসিপি। শিগগিরই অন্য আটটি সিটি করপোরেশনে প্রার্থী ঘোষণা করা হবে বলে দলটির নেতারা জানিয়েছেন। 


ঢাকা বিভাগে এনসিপির প্রার্থী কারা 

ঢাকা জেলার সাভার উপজেলায় সালামত উল্লাহ রনিকে প্রার্থী করেছে এনসিপি। কিশোরগঞ্জ জেলার সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আহনাফ সাঈদ খান, তাড়াইল উপজেলা চেয়ারম্যান পদে ইকরাম হোসেন ও করিমগঞ্জ পৌরসভার মেয়র পদে খায়রুল কবির দলটির প্রার্থী। মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় মো. আরিফুল ইসলাম ও দৌলতপুর উপজেলায় মো. আবু আবদুল্লাহকে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী করেছে এনসিপি। টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী উপজেলা চেয়ারম্যান পদে এনসিপির প্রার্থী মেহেদি হাসান। একই জেলার টাঙ্গাইল পৌরসভায় মাসুদুর রহমান, ভূঞাপুর পৌরসভায় হাসান ইমাম তালুকদার ও সখীপুর পৌরসভায় মাওলানা আনছার আলীকে মেয়র পদে প্রার্থী করেছে দলটি। নরিসিংদী জেলার সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে এনসিপির প্রার্থী সাইফ ইবনে সারওয়ার। গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে দলটির প্রার্থী মো. শোয়েব মিয়া। নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে এনসিপির প্রার্থী মো. তুহিন মাহমুদ। মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলায় দলটি প্রার্থী করেছে আলী নেওয়াজকে। ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে এনসিপির প্রার্থী মো. রেজাউল করিম। একই জেলার নগরকান্দা পৌরসভায় মুহাম্মাদ নাজমুল হুদা ও ফরিদপুর পৌরসভায় সাইফ খানকে মেয়র পদে প্রার্থী করেছে দলটি। মাদারীপুর জেলার মাদারীপুর পৌরসভায় মেয়র পদে এনসিপির প্রার্থী মোহাম্মদ হাসিবুল্লাহ। গোপালগঞ্জ জেলার গোপালগঞ্জ পৌরসভার মেয়র পদে তাদের প্রার্থী ফেরদৌস আমিনা।


বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন

রংপুর বিভাগে এনসিপির প্রার্থী কারা 

পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলায় মো. হাবিবুর রহমান ও বোদা উপজেলায় শিশির আসাদকে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছে এনসিপি। একই জেলার দেবীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র পদে দলটির প্রার্থী মাসুদ পারভেজ। ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকৈল উপজেলা চেয়ারম্যান পদে এনসিপির প্রার্থী গোলাম মূর্তজা সেলিম। দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ইমরান চৌধুরী ও বোচাগঞ্জ উপজেলায় মাওলানা এম এ তাফসীর হাসানকে মনোনীত করেছে এনসিপি। একই জেলার ফুলবাড়ি পৌরসভায় শিহাব হোসেন, ঘোড়াঘাট পৌরসভায় মো. আব্দুল মান্নান ও হাকিমপুর পৌরসভায় মো. রায়হান কবিরকে মেয়র প্রার্থী করেছে দলটি। নীলফামারী জেলার সদর উপজেলায় মো. কামরুল ইসলাম দর্পণ ও জলঢাকা উপজেলায় আবু সাঈদ লিয়নকে চেয়ারম্যান প্রার্থী করেছে এনসিপি। কুড়িগ্রাম জেলার সদর পৌরসভার মেয়র পদে এনসিপির প্রার্থী মাসুম মিয়া। লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার চেয়ারম্যান পদে এনসিপির প্রার্থী শাহ সুলতান নাসির উদ্দিন আহমেদ। এ ছাড়া রংপুর সদর উপজেলায় কৃষ্ণ চন্দ্র বর্মণ ও গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলায় মো. খাদেমুল ইসলামকে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী করেছে দলটি।


রাজশাহী বিভাগে প্রার্থী কারা 

রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান পদে এনসিপির প্রার্থী মো. আতিকুর রহমান। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী আবু মাসুদ। নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলায় নিশাদ আহমেদ, বদলগাছি উপজেলায় আসাদ নওশের ও পোড়শা উপজেলার চেয়ারম্যান পদে গোলাম মোস্তাফাকে প্রার্থী করেছে এনসিপি। একই জেলার ধামইরহাট পৌরসভার মেয়র পদে দলটির প্রার্থী মাহফুজর রহমান চৌধুরী। বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় মো. জাহাঙ্গীর আলম ও বগুড়া সদর উপজেলায় এ এম জেড শাহারিয়ারকে চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোনীত করেছে এনসিপি। একই জেলার দুপচাঁচিয়া পৌরসভার মেয়র পদে তাদের প্রার্থী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক ফকির। নাটোর জেলার সদর পৌরসভার মেয়র পদে এনসিপির প্রার্থী আব্দুল মান্নান। পাবনা জেলার চাটমোহর পৌরসভার মেয়র পদে এনসিপি প্রার্থী করেছে খন্দকার আক্তার হোসেন লেবুকে। এ ছাড়া সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মোশারফ আদনান আর উল্লাপাড়া পৌরসভার মেয়র পদে এনসিপির প্রার্থী আবদুল্লাহ আল মামুন লিয়ন।


সিলেট বিভাগে কারা এনসিপির প্রার্থী 

হবিগঞ্জ জেলার আজমিরীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে কামাল আহমেদ ও হবিগঞ্জ সদর পৌরসভার মেয়র পদে মাহবুবুল বারি চৌধুরী মুবিনকে প্রার্থী করেছে এনসিপি। মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলায় খালেদ হাসান ও কুলাউড়া উপজেলায় আবু রুকিয়ান, সিলেট জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় উবায়েদ আহমেদ, কানাইঘাট উপজেলায় বুরহান উদ্দিন ইউসুফ, ওসমানীনগর উপজেলায় হাজি মোহাম্মদ মোশাহিদ আলী, জৈন্তাপুর উপজেলায় মো. জাকারিয়া লাদেন ও গোয়াইনঘাট উপজেলায় মনসুরুল হাসান নগরীকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছে দলটি।


ময়মনসিংহ বিভাগে এনসিপির প্রার্থী কারা 

শেরপুর জেলার সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মো. লিখন মিয়া ও সদর পৌরসভার মেয়র পদে এনসিপির প্রার্থী মো. নূর ইসলাম। জামালপুর জেলার সদর উপজেলার চেয়ারম্যান পদে দলটির প্রার্থী আবু সাইদ মো. শামিম। নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে শফিকুল হক চৌধুরী বাবলু, খালিয়াজুরি উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মোহাম্মদ মুশফিকুর রহমান ও নেত্রকোনা পৌরসভার মেয়র পদে এনসিপির প্রার্থী মো. সোহাগ মিয়া প্রীতম। ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে শহিদুল ইসলাম, ভালুকা উপজেলায় নুরুল ইসলাম, হালুয়াঘাট উপজেলায় মো. আবু রেহান ও ধোবাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান পদে এনসিপি প্রার্থী করেছে মোহাম্মাদ সাইফুল্লাহকে।


খুলনা বিভাগ

কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলায় আবুল হাশিম ও ভেড়ামারা উপজেলায় মো. জান্নাতুল ফেরদাউস চেয়ারম্যান পদে এনসিপির প্রার্থী। বাগেরহাট জেলার চিতলমারী উপজেলায় ইশতিয়াখ হোসেন ও ফকিরহাট উপজেলায় লাবিব আহমেদ এনসিপির চেয়ারম্যান প্রার্থী। একই জেলার বাগেরহাট পৌরসভায় সৈয়দ মোর্শেদ আনোয়ার ও মোংলা পোর্ট পৌরসভায় মো. রহমাতুল্লাহ এনসিপির মেয়র প্রার্থী। যশোর জেলার বাঘারপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান পদে এনসিপির প্রার্থী ইয়াহিয়া জিসান, একই জেলার নোয়াপাড়া পৌরসভার মেয়র পদে তাদের প্রার্থী মো. শাহজাহান কবির। খুলনা জেলার চালনা পৌরসভার মেয়র পদে এনসিপির প্রার্থী এস এম এ রশিদ। চুয়াডাঙ্গা জেলার চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে এনসিপির প্রার্থী খাজা আমিরুল বাশার, একই জেলার জীবননগর পৌরসভার মেয়র পদে তাদের প্রার্থী সোহেল পারভেজ। মেহেরপুর জেলার গাংনী পৌরসভার মেয়র পদে এনসিপি প্রার্থী করেছে সাকিল আহমেদকে। আর ঝিনাইদহ জেলার ঝিনাইদহ পৌরসভার মেয়র পদে এনসিপির প্রার্থী তারেকুল ইসলাম।


বরিশাল বিভাগ

বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে এনসিপির প্রার্থী ফরিদ আহমেদ। ভোলা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে তাদের প্রার্থী জিয়াউর রহমান। পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলায় খান মো. বাকী বিল্লাহ ও জিয়ানগর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মো. নাজমুল ইসলাম এবং সদর পৌরসভার মেয়র পদে এনসিপি মনোনীত করেছে মো. মাইনুল আহসান মুন্নাকে। ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে দলটির প্রার্থী মো. আরিফুর রহমান।


কুমিল্লা বিভাগ

কুমিল্লা জেলার হোমনা পৌরসভার মেয়র পদে মো. রাজু সরকার ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার চেয়ারম্যান পদে মো. জহিরুল ইসলাম সরকারকে প্রার্থী করেছে এনসিপি। চাঁদপুর সদর উপজেলায় মো. জসিম গাজী ও মতলব উত্তর উপজেলায় মো. ইদ্রিস আলী প্রধানীয়াকে প্রার্থী করেছে দলটি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলায় মো. আমিনুল হক চৌধুরী, বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় মোহাম্মদ মাইনুদ্দিন ও আশুগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আমিরুল ইসলাম ডালিমকে প্রার্থী মনোনীত করেছে এনসিপি।


চট্টগ্রাম বিভাগ

কক্সবাজার সদর উপজেলার উপজেলা চেয়ারম্যান পদে এনসিপির শফিকুল ইসলাম। উখিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী মো. হোসাইন। আর কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র পদে দলটির প্রার্থী রাইয়্যান কাশেম। চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা উপজেলায় এনসিপির মনোনীত প্রার্থী জোবাইরুল আলম মানিক। নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার চেয়ারম্যান পদে ইউসুফ রেজা, হাতিয়া পৌরসভার মেয়র পদে মুহিবুর রহমান ও নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র পদে এনসিপির প্রার্থী কাজী মাইনুদ্দিন তানভীর। ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান পদে দলটির প্রার্থী মো. সুজা উদ্দিন। আর লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর পৌরসভার মেয়র পদে এনসিপির প্রার্থী মোহাম্মাদ ইব্রাহীম খলিল।


প্রার্থী ঘোষণার সময় সারজিস আলম বলেন, সারা দেশে যাঁরা আগ্রহী, এনসিপি ও দেশের মানুষের জন্য যাঁরা কাজ করতে আগ্রহী, তাঁদের এনসিপির সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের পরিশ্রমী ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি, যাঁরা কখনো মানুষের ওপর নিপীড়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না, যাঁদের সঙ্গে ফ্যাসিস্টদের সরাসরি সম্পৃক্ততা বা তাদের ফৌজদারি অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল না, তাঁরা অন্য যেকোনো রাজনৈতিক দলেরই হোন না কেন, তাঁরা এনসিপির প্রার্থী হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। অন্য কোনো রাজনৈতিক দল থেকেও যদি কেউ আসতে চান, সার্বিকভাবে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁদেরও সুযোগ দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।


জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির জন্য এনসিপি পর্যাপ্ত সময় পায়নি উল্লেখ করে সারজিস বলেন, ‘দলের সাংগঠনিক ভিত্তিও তখন সব জায়গায় প্রত্যাশা অনুযায়ী শক্তিশালী ছিল না। সেই জায়গা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা স্থানীয় নির্বাচনের ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছি। জোটগতভাবে নির্বাচন হবে নাকি এককভাবে হবে, সেই সিদ্ধান্ত নির্বাচনের আগে হবে। কিন্তু রাজনৈতিক দল হিসেবে যে দল ২০৩৬ সালের মধ্যে সংসদে সরকারি দল হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন দেখে, সেই দল জোটের আশায় বা জোট হবে কি না—এই দ্বিধা নিয়ে বসে থাকতে পারে না। সেই জায়গা থেকে আমরা এককভাবে প্রার্থী ঘোষণা করছি।’



সর্বশেষ সব খবর

রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধী দলের নেতার বাসভবনে ১১ দ‌লের লিয়া‌জোঁ ক‌মি‌টির বৈঠক

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৭:০২ পিএম

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের রায় কার্যকর, নির্বাচন কমিশনসহ বি‌ভিন্ন সরকা‌রি প্রতিষ্ঠা‌নে বিএন‌পি নেতা‌দের নিয়োগের প্রতিবাদসহ বেশ কয়েকটি দাবিতে ৫ আগস্ট ঢাকার পল্টনে সমাবেশের ডাক দিয়েছে জামায়া‌তে ইসলা‌মীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক‌্য। 


বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধী দলের নেতার বাসভবনে ১১ দ‌লের লিয়া‌জোঁ ক‌মি‌টির বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।


হা‌মিদুর রহমান আযাদ বলেন, সরকারি দল নির্বাচনের আগে জুলাই সনদের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচার চালিয়েছিল। খোদ তারেক রহমান ‘হ্যাঁ’ ভোট চেয়েছিলেন। জনগণ জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে জয়যুক্ত করলেও সেটি এখন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। অর্থাৎ সরকার তার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে জনগণের রায়কে অবজ্ঞা করছে।


আযাদ আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সরকার বিভিন্ন দপ্তর বা অধিদপ্তরে নজিরবিহীনভাবে দলীয় লোক নিয়োগ দিয়েছে, যা জুলাই অভ্যুত্থান চেতনার বিপরীত। একই সঙ্গে সারাদেশে ফের নতুন করে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি শুরু করেছে সরকারের লোকজন। এসবের প্রতিবাদে ৫ আগস্ট বুধবার ঢাকার পল্টনে ১১ দল সমাবেশ করবে।


বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, জাগপার সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান,বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমীন, এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল মাজেদ আতহারী, বিডিপির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চান প্রমুখ। 


এন‌সি‌পির কর্মসূ‌চি‌তে হামলার নিন্দা: বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, ৩ আগস্ট শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে কর্মসূ‌চি চূড়ান্ত হবে। এছাড়া সম্প্রতি হবিগঞ্জে ‘জুলাই পদযাত্রা ২০২৬’ কর্মসূচিতে এনসিপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের ওপর বিএনপির হামলার তীব্র নিন্দা  এবং এর সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দা‌বি জানা‌নো হয়।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:৪৬ এএম

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বিএনপি। রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা থাকলেও দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। 


দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনার মধ্য দিয়ে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঠিক করা হবে বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা। এ লক্ষ্যে আগামীকাল শনিবার স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে। 


নতুন রাষ্ট্রপতি কে হতে যাচ্ছেন- তা নিয়ে তুমুল আলোচনার মধ্যেই বৈঠকটি ডাকল বিএনপি। সভায় দলের শীর্ষ নেতারা নিজেদের মতামত তুলে ধরবেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।  


বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরামের কয়েকজন নেতা জানান, রাষ্ট্রপতি পদের জন্য সবচেয়ে বেশি আলোচনা বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ঘিরে। তবে দলের ভেতরের কিছু নেতা এ বিষয়ে বিরোধিতা করছেন।


নীতিনির্ধারকদের অনেকে মনে করেন, অতীতের অভিজ্ঞতা, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের নজর মাথায় রেখে প্রার্থী বাছাইয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন দলের শীর্ষ নেতা তারেক রহমান। তিনি এমন একজনকে রাষ্ট্রপতি করতে চান, যিনি রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য, সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে দক্ষ এবং বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকবেন। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর ওপর দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক তৈরি হোক, সেটা আমরা চাই না। তাই সবকিছু খুব সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ জন্যই দলীয় নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকে দায়িত্বশীল নেতাদের বার্তা দেওয়া হয়েছে, যেন স্পর্শকাতর এই ইস্যুতে কোনো অসংলগ্ন বক্তব্য না দেওয়া হয়। 


বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অবশ্য বলেছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ দলীয় ফোরামে আলোচনা করেই নেওয়া হবে। স্থায়ী কমিটি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। সংবিধান ও গণতান্ত্রিক ধারাকে সমুন্নত রেখেই দেশের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্বে দেখতে চান বলেও মন্তব্য করেন তিনি। 


একই বক্তব্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বিএনপির অন্য নেতারা জানান, রাষ্ট্রপতি শুধু আনুষ্ঠানিক পদ নয়; রাজনৈতিক সংকটের সময় এই পদটির গুরুত্ব বেড়ে যায়। তাই ব্যক্তি নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভুলের সুযোগ নেই। রাষ্ট্রপতি পদে এমন কাউকে চাই, যার সততা নিয়ে প্রশ্ন নেই। যিনি সংবিধানের রক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। দলীয় পরিচয় থাকলেও রাষ্ট্রের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবেন। 


বিএনপি সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতি মনোনয়নে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খানের নাম আগেই আলোচনায় ছিল। 


তবে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের নামও। দলের বাইরে অবসরে যাওয়া প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নামও আছে আলোচনায়। এ ছাড়া একজন সচিব ও রাজনীতির বাইরে কয়েকজনের নামও শোনা যাচ্ছে।


দলটির নেতারা বলছেন, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা এড়িয়ে চলতে চায় বিএনপি। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যকার সম্পর্কের যে ভারসাম্য, তা রক্ষা করা অত্যন্ত সংবেদনশীল। এমন কাউকে নির্বাচন করা হবে না, যিনি সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি করবেন, আবার একই সঙ্গে এমন কাউকে আনা হবে না, যিনি বঙ্গভবনের সাংবিধানিক পদের গুরুত্ব ও মর্যাদা রক্ষা করতে ব্যর্থ হন।


বিএনপির এক ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, এমন একজনের রাষ্ট্রপতি হওয়া উচিত, যিনি রাজনৈতিক উত্তেজনা কমাতে ভূমিকা রাখতে পারবেন। দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখবেন। আরেক নেতা বলেন, দলীয় আনুগত্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে যোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। 


২৪ জুলাই বিকেলে মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়েন। সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এখন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। 


জানা গেছে, বিএনপির ৩১ দফা কিংবা ঘোষিত জুলাই সনদ অনুযায়ী সংসদের উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের যৌথ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের যে পদ্ধতির কথা ছিল, সেটা এবার হচ্ছে না। ফলে আগের নিয়মেই সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রার্থীরাই নির্বাচনে জিতে আসবেন। আর জাতীয় সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৬:৩৮ পিএম

জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমের গাড়িতে আবারও হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দলটি। আজ বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া তিনটার দিকে এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এক ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানান।


তিনি লেখেন, ‘সিলেটের গোলাপগঞ্জে শহীদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সিলেটে ফেরার পথে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক সারজিস আলমের গাড়িতে আবারও বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে বিএনপির সন্ত্রাসী বাহিনী।’


সারজিস আলমও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, ‘দ্বিতীয় দফায় বিএনপির সন্ত্রাসীরা আমাদের ওপর আবার আক্রমণ করেছে সিলেটের পাঁচ মাইল বাজারে। তারেক রহমান কি শেখ হাসিনা হতে চায়?’


এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে তিনটার দিকে সারজিস আলম আরেকটি পোস্টে লেখেন, ‘সিলেটের গোলাপগঞ্জে আবার আমাদের গাড়িতে রক্তাক্ত হামলা করেছে বিএনপির সন্ত্রাসীরা। গাড়ি ভাঙচুর করেছে।’


এদিকে, সিলেটের পুলিশ জানিয়েছে, গোলাপগঞ্জে কর্মসূচি শেষ করে সিলেটের কানাইঘাটে য়াওয়ার পথে সারজিস আলমের ঘাড়ি লক্ষ্য করে ঢিল ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে গাড়ির কাঁচ ভেঙেছে; কেউ হতাহত হননি।


প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রায় হামলার ঘটনা ঘটে। সে ব্যাপারে স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিল এনসিপি। যদিও বিএনপি নেতারা হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সর্বশেষ সব খবর

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৩:৩৮ পিএম

এদেশে যখনই পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে, তখনই প্রাণ দিতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর ডিএফপি অডিটোরিয়ামে জুলাই শহিদ দিবস উপলক্ষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।


স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, জুলাইয়ের মূল্যবোধ ধারণ করে পরিবর্তনের চেষ্টা না করলে সন্তানহারা মায়েদের অশ্রু এমনি হারিয়ে যাবে।


মির্জা ফখরুল আরও বলেন, সরকার গঠনের পাঁচ মাস পার হলেও প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসেনি। এখনও ঘুষখোররা ঘুষ নিচ্ছে, তাই জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে রাষ্ট্র ও সমাজে পরিবর্তন আনতে হবে। আমাদের মধ্যে এখনো পরিবর্তন না এলেও তারেক রহমান পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


তিনি আরও বলেন, পরিবর্তনের মনোভাব সবার মধ্যে গড়ে তুলতে পারলে আমরা জুলাইয়ের সফলতা দেখতে পাব।



সর্বশেষ সব খবর

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:১১ পিএম

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বহাল রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে ৯ দফা প্রস্তাব তুলে ধরে জামায়াতের একটি প্রতিনিধি দল।


স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে বিদ্যমান আইন সংশোধন এবং আচরণবিধির খসড়া চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রস্তাবটি সরকারের কাছে পাঠানোর আগে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নেওয়ার অংশ হিসেবে এ বৈঠক হয়।


বৈঠকে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ বহাল রাখার পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া সামসুল আলমের নিয়োগ বাতিল এবং স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পাওয়া প্রশাসকদের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণার দাবি জানায় জামায়াত।


জামায়াতের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। অন্যদিকে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন, নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও তাহমিদা আহমদ এবং ইসি সচিব আখতার আহমদ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।


বৈঠক শেষে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অযোগ্য করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা ‘বৈষম্যমূলক’।


“এর ফলে শিক্ষকদের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন হবে, আমার এ বিধান নিয়ে আপত্তি জানিয়েছি। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা নেই, তাহলে স্থানীয় নির্বাচনে বাধা কেন? এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুদীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এ জন্য ইসির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছি।”


তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন বিষয়টি নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে দেখার আশ্বাস দিয়েছে।


বর্তমান বিএনপির সরকারের আমলে সিটি করপোরেশন, জেলা, উপজেলা ও পৌরসভায় দলীয় নেতাদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার কথা তুলে ধরে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, “স্থানীয় নির্বাচনে পদে থেকে তারা ভোটে প্রভাব ফেলবে এবং দলের পক্ষে কাজ করবে। তাই তাদের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করা উচিত।"


নির্বাচন কমিশনের সাবেক কর্মকর্তা সামসুল আলমকে সম্প্রতি অতিরিক্ত সচিব হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার কঠোর সমালোচনা করে জামায়াত।


গোলাম পরওয়ার বলেন, “এ কর্মকর্তা ত্রয়োদশ সংসদে সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত বিএনপির একটি কমিটিতে কাজ করেছে। এমন দলীয় ব্যক্তিকে নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ দেওয়া কোনোভাবেই সঠিক হয়নি।


“নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। এখানে দলীয় কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়ায় নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। তার নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়েছি আমরা।”


গোলাম পরওয়ার বলেন, গত ৩০ জুন আচরণবিধির খসড়ার ওপর জামায়াত যে সাত দফা মতামত দিয়েছিল, তার মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবিও ছিল।


এর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, “রাজনীতি করে ব্যক্তি, নির্বাচন করাটাও রাজনীতি। সুতরাং তারা যেন অংশ নিতে না পারে।...আমরা ইতোমধ্যে সাতটি দাবি জানিয়েছিলাম ৩০ জুন। এর সাথে এমপিওভুক্ত শিক্ষক, অতিরিক্ত সচিবের নিয়োগ বাতিলসহ আরও দুই দফা যুক্ত করেছি আজ।”


গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা এবং কমিশনের কর্মকর্তাদের নিয়োগের মত বিষয়ে স্বাধীনভাবে ভূমিকা রাখতে পারছে না।


“নির্বাচন কমিশন বলেছে এ বছরের শেষে স্থানীয় নির্বাচন হবে। এরমধ্যে সরকারের মন্ত্রীরা একেকজন একেক তারিখ জানাচ্ছে। চট্টগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য নিয়ে আদালতের রায়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে গেজেট প্রকাশ করে ফেলেছে। সার্বিক পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে ইসি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না।”


বৈঠকে নির্ধারিত আলোচ্যসূচির বাইরে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সদস্যপদ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানান গোলাম পরওয়ার।


এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "আমরা স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি দিয়েছি। দল থেকে বহিষ্কারই আমাদের সর্বোচ্চ সাংগঠনিক ব্যবস্থা। সংসদ সদস্যপদের বিষয়টি সাংবিধানিক; এটি স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার। আজকের বৈঠকে এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।"


জামায়াতের প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দীন সরকার ও অ্যাডভোকেট শিশির মোহাম্মদ মনির।





সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:৪৯ এএম

হবিগঞ্জে দলীয় ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে হামলার প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। কর্মসূচি থেকে বুধবার সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে দলটি। মঙ্গলবার রাতে দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব এ ঘোষণা দেন। বাংলামোটরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ মিছিল শাহবাগে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। 


এদিকে দলের দপ্তর সেল থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হবিগঞ্জে এনসিপির শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা কর্মসূচিতে দলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িবহরে বিএনপির হামলার ঘটনায় দলটি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 


বিজ্ঞপ্তিতে এনসিপির সব মহানগর, জেলা, উপজেলা ও থানা শাখাকে নিজ নিজ এলাকায় প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সফল করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া এবং নেতাকর্মীদের যথাসময়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।


সমাবেশে আরিফুল ইসলাম আদীব অভিযোগ করেন, হবিগঞ্জে এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর বিএনপি নেতা জি কে গউছের অনুসারী ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছেন। এতে দলের অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের দ্রুত আটকের দাবি জানান তিনি।


আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, ‘আমরা দেখছি প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে করমর্দন করে শিশুবান্ধব ভাবমূর্তি তুলে ধরছেন। অন্যদিকে হবিগঞ্জে এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর রড ও পাইপ দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। এর প্রতিবাদে বুধবার সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে।’


এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। দলটির দাবি, স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের কর্মসূচিতে অতর্কিত হামলা চালান।


রাজধানীর বিক্ষোভ কর্মসূচিতে এনসিপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ইসহাক সরকার, জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম, ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক তাহমিদ আল মুদাসসিরসহ দলটির নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

সর্বশেষ সব খবর