মগবাজারে আল ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির সম্মেলনে দলটির শীর্ষ নেতা শফিকুর রহমান

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ৬:০৮ এএম

গণভোটসহ বিভিন্ন অধ্যাদেশ আইনে পরিণত না করে ক্ষমতাসীন বিএনপি ‘ভুল পথে এগোচ্ছে’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। শুক্রবার সকালে জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দলটির শীর্ষ নেতা এই অভিযোগ করেন।


তিনি বলেন, “আমরা সরকারি দলের প্রতি আহ্বান জানাব, আসুন, ভুল মানুষই করে, আমরাও করতে পারি। জাতি মনে করে স্পষ্টত আপনারা এগুলা ভুলের মধ্যে লিপ্ত আছেন। আপনারা ভুল থেকে বের হয়ে আসেন। প্রথমে গণভোটের গণনায়কে মেনে নিন। তার জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ নিন।


“আমরা আপনাদেরকে সহযোগিতা করব এটা বাস্তবায়নের জন্য। এরপরে যে অধ্যাদেশগুলো জারি করা হয়েছিল ফ্যাসিজম থেকে দেশের শাসন ব্যবস্থাকে মুক্ত করার জন্য, সেইগুলো আপনারা কথা দিয়েছেন বিল আকারে আনবেন। সেসব বিল জনআকাঙ্ক্ষার আলোকে আনেন।”


জামায়াত আমির শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা বলব, যেভাবে ওই অধ্যাদেশে ছিল, তার চাইতে চুল পরিমাণ পিছনে যেন না যায়। সামনে আগানোর যদি কিছু থাকে, সেটাকে আমাদের সাধুবাদ।


“কিন্তু জনগণের পরে ফ্যাসিজম কায়েম করার জন্য সামান্য কোনো ময়লা আবর্জনা যদি থাকে, সেটা আমরা মানব না।”


সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের একটি বক্তব্য থেকে উদ্ধৃত করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, “মাননীয় স্পিকারকে ধন্যবাদ, ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে একজন বলেছিলেন যে সমাজে অনেক ময়লা আছে, এগুলো পরিষ্কার করতে হবে। তিনি (স্পিকার) বলেছিলেন, সমাজ পরিচ্ছন্ন আছে, ময়লা ‘এখানে’ আছে। এই জায়গা পরিষ্কার হয়ে গেলে সমাজও পরিষ্কার হয়ে যায়।”


“উই ডু বিলিভ; আমরা এটা সাপোর্ট করি। এই সংসদের তিনশ জন মানুষের মন যদি দেশবাসীর জন্য উন্মুক্ত হয়ে যায়, দায়িত্বশীল হয়ে যায়, বাংলাদেশ বদলে যাবে ইনশাল্লাহ।”


শুক্রবার সকালে রাজধানীর মগবাজারে আল ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামীর এই জেলা আমির সম্মেলন হয়।


‘জনগণের সাথে প্রতারণা’


শফিকুর রহমান বলেন, “বিএনপি জনগণের রায় নিয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। সুস্থ রাজনীতির ধারা অব্যাহত রাখতেই দেশের বৃহত্তর স্বার্থে নির্বাচনের ফল মেনে নিয়েছি। জাতীয় নির্বাচনে ব্যাপক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে জুলাইয়ের চেতনাকে ভূলুণ্ঠিত করা হয়েছে।”


তার দাবি, গত নির্বাচনে কীভাবে ‘কারচুপি’ করা হয়েছে, তা সাবেক একজন উপদেষ্টা এবং বর্তমান সরকারের একজন মন্ত্রীর বক্তব্যেই ‘স্পষ্ট’ হয়েছে।


তিনি বলেন, সংবিধানে ইচ্ছামত সংশোধনের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশ চালাতে চায় বিএনপি সরকার। সংসদে বিরোধী দলের কণ্ঠ রোধ করা হচ্ছে। তাই জনস্বার্থ রক্ষায় রাজপথে নামতে বাধ্য হচ্ছে ১১ দলীয় ঐক্য।


“গণভোটের রায় প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে নতুন ফ্যাসিবাদের যাত্রা শুরু হয়েছে। গণতান্ত্রিক সব প্রতিষ্ঠানে অগণতান্ত্রিক দলীয়করণের মাধ্যমে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হচ্ছে।”


জামায়াতে ইসলামী সংসদ ও রাজপথে ‘জনগণের এজেন্ডা নিয়ে’ সরব থাকবে জানিয়ে দলটির আমির বলেন, “দেশের আর্থিক সম্পদ রক্ষায় জনগণকে গর্জে উঠতে হবে৷ আমরা জনগণের পাশে থাকব।”


‘রাজনীতির সংস্কৃতি পাল্টাতে হবে’


শফিকুর রহমান বলেন, “রাজনীতির সেই স্লোগান কে মানে, কে মানে না–ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়। আর আমরা কার্যত দেখতে পাই, দেশের চেয়ে দল বড় দলের চেয়ে ব্যক্তি বড়। এই চরিত্রকে পাল্টাতে হবে।



“রাজনীতির এই সংস্কৃতি বাংলাদেশে ইনশাল্লাহ আর চলতে দেওয়া হবে না। যেখানে এই সংস্কৃতির চর্চা চলবে, সেখানেই আমরা প্রতিবাদ করব। জনগণের সাথে হয়ে জনগণকে সাথে নিয়ে আমরা প্রতিবাদ করব ইনশাল্লাহ।”


সংসদে সংকট নিয়ে আলোচনা চাই’


ক্ষমতাসীন দলের উদ্দেশে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, “আসুন, সংকটকালে লুকোচুরি নয়। আমরা বারবার নোটিস দিয়েছি এই নোটিসগুলো আলোচনায় আসে না। জ্বালানি সংকট, বিদ্যুৎ সংকট, সার সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি–এগুলো নিয়ে আলোচনা করি। সরকারি দলের এগুলো আলোচনা করা পছন্দ না। শুধু লোকচুরি।


“ভাই, এগুলা তো সব আপনাদের সৃষ্টি না। এটা গ্লোবাল প্রবলেমের কারণে তৈরি হয়েছে। আমরা বুঝি না এগুলা? আমরা তো মানুষ। আমরা খোলা মনেই তো… সবাই চাই সমাধান বের হয়ে আসুক। আমরা এখনো আহ্বান জানাব, সংসদে, সংসদের বাইরে, আসুন খোলামনে আলোচনা করে জাতীয় সংকট উত্তোরণে আমরা একসাথে কাজ করি।”


‘মাগুরা থেকে বগুড়া’


সম্প্রতি বগুড়ার উপ নির্বাচন এবং শেরপুরের সাধারণ নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির।


তিনি বলেন, “এ দেশ তো আমাদের দেশ। এর মাঝে আরো দুই বিপত্তি ঘটে গেছে–বগুড়া এবং শেরপুর। এখন লোকরা বলে ছিয়ানব্বইতে মাগুরা, আর ছাব্বিশে এসে বগুড়া।


“কেন রে ভাই, দরকার আর কী ছিল? ফেয়ার ইলেকশন করে আপনারাই জিতেন, না হয় আমরাই জিতি। গণরায়টাকে আমরা সম্মান করি। কিন্তু সেখানে দেখেছেন কী ঘটনা ঘটেছে? আমি ভাই লজ্জিত।”


কিছু গণমাধ্যম প্রসঙ্গে


নির্বাচনের খবর প্রকাশের ক্ষেত্রে নাম না নিয়ে কিছু সংবাদমাধ্যমের সমালোচনা করেছেন শফিকুর রহমান।


তিনি বলেন, “কিছু মিডিয়া, আমি সবার কথা বলছি না, ‘অমুক ভাই তিনগুণ ভোটে বিজয়ী হয়েছে’। ভাই আপনিও তো সেখানে ছিলেন, মানে আপনার একজন বন্ধু সেখানে ছিল। খোলা চোখে আপনি দেখেন নাই সেখানে কি হয়েছে? সবই দেখেছে। একদম সিলমারা ব্যালট এবং এজেন্টকে ধরে আপনাদের সামনেই তো আপনাদের মাধ্যমে তো জাতির সামনে নিয়ে এসেছি।


“তারপরে আপনারা (কিছু গণমাধ্যম) কেমনে বলেন রে ভাই। সবাই না, যারা এরকম করেছেন, তাদের ব্যাপারে আমি লজ্জিত, তারা লজ্জিত কিনা আমি জানিনা। লজ্জিত হওয়া উচিত ।”


শফিকুর রহমান বলেন, “এই অঙ্গনের আলহামদুলিল্লাহ সুনাম অক্ষুণ্ন থাকুক আমরা চাই। আমরা বরাবর বলেছি, সাদাকে সাদা বলুন, কালোকে কালো বলুন। আমি কালো হলে আমাকে বলে দেন, অসুবিধা নেই। কিন্তু আমার সাদাটাকে মেহেরবানী করে বাদামী এবং কালো বানাতে যাইয়েন না। এটা ভালো জিনিস না।


“টুকরা টুকরা কাট-পিস এখান থেকে ওখানে… আজকেও কী করবেন আপনার আল্লাহই জানে। আশা করি আজকে ইনসাফ করবেন। কেউ এই কাজ করবেন না। দিলে পুরাটা দিবেন। না দিলে পুরাটা ফেলে দিয়েন–এটা আপনাদের ব্যাপার। কিন্তু আপনাদের মত করে আমাদের বক্তব্যটাকে ভাই বৈজ্ঞানিক আকারে উপস্থাপন করবেন না। আমরা সাদাসিধা মানুষ ভাই, সাদাসিধা বক্তব্য এগুলো, সাদাসিধা ভাবেই, স্পষ্টভাবে আপনারা তুলে ধরবেন, এটা আপনাদের কাছে আমাদের বিনয়ী আহ্বান।”


‘কালো রাতের অবসান হবে’


শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাব। দেশবাসী, অধিকার কেউ আপনাকে ঘরে এনে দেবে না। বলবেন–‘আর কত ত্যাগ’? হ্যাঁ ত্যাগের রাস্তায় বোধহয় আরো কিছুদূর আমাদের চলতে হবে এবং কালো রাতের অবসান ঘটবে ইনশাল্লাহ।


“কে বাঁচব, কে মরব জানি না, কোন দল ক্ষমতায় আসবে কোন দল ক্ষমতা থেকে যাবে তাও জানি না। কিন্তু এটা জানি যে মহান আল্লাহ, তিনি কখনো তার সৃষ্টির প্রতি অবিচার করেন না। সুতরাং সুবিচার পাব, সুবিচার প্রতিষ্ঠিত হবে ইনশাল্লাহ।”


‘আগামী ফ্যাসিজম আরও ভয়াবহ হবে’


বিশ্ববিদ্যালয়, বিচার বিভাগসহ বিভিন্ন জায়গায় দলীয়করণের অভিযোগ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা আবার কেন সেই পুরানা সংস্কৃতিতে ফিরে যাব?... এগুলো যখন বিদ্যমান থাকবে, আমরা আশঙ্কা করছি, অতীতের ফ্যাসিজমের চাইতে আগামীর ফ্যাসিজম হবে আরো ভয়াবহ।


“এইজন্য আমরা বলতে বাধ্য হয়েছি, যেদিন গণভোটের গণরায়কে অস্বীকার করা হয়েছে, সেদিন থেকেই নতুন ফ্যাসিজমের যাত্রা শুরু হয়েছে। গণতন্ত্রের মূল্যবোধ হচ্ছে, মানুষের অধিকাংশের রায়কে সম্মান করা; আর এখানে অধিকাংশের রায়কে করা হল অপমান।”


তেলের জন্য পেট্রোল পাম্পে লাইনের প্রসঙ্গ তুলে সরকারের ‘ব্যর্থতার’ কঠোর সমালোচনা করেন জামায়াত প্রধান।


ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ যেসব উদ্যোগ বিএনপি সরকার নিয়েছে, সে প্রসঙ্গ টেনে শফিকুর রহমান বলেন, “ভালো সেটা দেন। সেটা যদি রাষ্ট্রের পর্যাপ্ত রেভিনিউ থাকে, দেবেন না কেন? কল্যাণে ব্যয় করেন। কারণ টাকা তো নিজের না।


“সেখানে দলীয়করণ, আবার সেখানে গিয়ে অনেক ঘটনা ইতোমধ্যে ঘটে গেছে, আপনারা দেখেছেন। এক বিধবা, তাকে কার্ড দেওয়ার কথা বলে তার জীবনটাই শেষ করে দেওয়া হয়েছে। একটা কেইস এসেছে, বাকিটা হয়ত লজ্জায় মুখ বুঝে আছে। জানি না এরকম হয়েছে কিনা আল্লাহ ভালো জানে।”


তিনি বলেন, “চাঁদাবাজির রেট আগের চাইতে এখন দিন দিন সব সেক্টরে বাড়তেছে। অতিষ্ঠ জনগণ, দ্রব্যমূল্যের যাতাকলে পিষ্ট দুই কারণে। একটা জ্বালানি সংকটে পরিবহন খরচ, আরেকটা হচ্ছে বাড়তি চাঁদার চাপ। এই সবটুকু এসে সাধারণ জনগণের, খেটে খাওয়া মানুষের ঘাড়ে চাপতেছে।


“একটা সরকার, জনগণের জন্য তার একটু দুঃখ, দরদ, দায় থাকবে না, এরকম চলে? কি করলেন আপনারা? অথচ আপনারা বলেছিলেন যে, আপনারা দুর্নীতির টুটি চেপে ধরবেন। আমরা বুঝতে পারছি না কার টুটি চেপে ধরা হয়েছে। হ্যাঁ, আমরা দুইটা জায়গায় টুঁটি চেপে ধরা দেখতে পাচ্ছি। একটা মিডিয়া; মিডিয়াকে সত্য প্রকাশে বারণ করা হচ্ছে, স্পষ্টত আমরা দেখতে পাচ্ছি। আরেকটা সমাজের বিভিন্ন জায়গায় ভালো মানুষগুলো, তাদের টুটি এখন সেলাই করার চেষ্টা করা হচ্ছে। মনে রাখবেন, এইভাবে কারো টুটি দীর্ঘদিন বা চিরদিন বন্ধ করে রাখা যায় না।”


জেলা আমির সম্মেলনে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলামসহ নায়েবে আমির ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলরা উপস্থিত ছিলেন।



সর্বশেষ সব খবর

রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধী দলের নেতার বাসভবনে ১১ দ‌লের লিয়া‌জোঁ ক‌মি‌টির বৈঠক

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৭:০২ পিএম

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের রায় কার্যকর, নির্বাচন কমিশনসহ বি‌ভিন্ন সরকা‌রি প্রতিষ্ঠা‌নে বিএন‌পি নেতা‌দের নিয়োগের প্রতিবাদসহ বেশ কয়েকটি দাবিতে ৫ আগস্ট ঢাকার পল্টনে সমাবেশের ডাক দিয়েছে জামায়া‌তে ইসলা‌মীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক‌্য। 


বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধী দলের নেতার বাসভবনে ১১ দ‌লের লিয়া‌জোঁ ক‌মি‌টির বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।


হা‌মিদুর রহমান আযাদ বলেন, সরকারি দল নির্বাচনের আগে জুলাই সনদের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচার চালিয়েছিল। খোদ তারেক রহমান ‘হ্যাঁ’ ভোট চেয়েছিলেন। জনগণ জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে জয়যুক্ত করলেও সেটি এখন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। অর্থাৎ সরকার তার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে জনগণের রায়কে অবজ্ঞা করছে।


আযাদ আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সরকার বিভিন্ন দপ্তর বা অধিদপ্তরে নজিরবিহীনভাবে দলীয় লোক নিয়োগ দিয়েছে, যা জুলাই অভ্যুত্থান চেতনার বিপরীত। একই সঙ্গে সারাদেশে ফের নতুন করে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি শুরু করেছে সরকারের লোকজন। এসবের প্রতিবাদে ৫ আগস্ট বুধবার ঢাকার পল্টনে ১১ দল সমাবেশ করবে।


বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, জাগপার সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান,বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমীন, এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল মাজেদ আতহারী, বিডিপির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চান প্রমুখ। 


এন‌সি‌পির কর্মসূ‌চি‌তে হামলার নিন্দা: বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, ৩ আগস্ট শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে কর্মসূ‌চি চূড়ান্ত হবে। এছাড়া সম্প্রতি হবিগঞ্জে ‘জুলাই পদযাত্রা ২০২৬’ কর্মসূচিতে এনসিপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের ওপর বিএনপির হামলার তীব্র নিন্দা  এবং এর সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দা‌বি জানা‌নো হয়।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:৪৬ এএম

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বিএনপি। রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা থাকলেও দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। 


দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনার মধ্য দিয়ে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঠিক করা হবে বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা। এ লক্ষ্যে আগামীকাল শনিবার স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে। 


নতুন রাষ্ট্রপতি কে হতে যাচ্ছেন- তা নিয়ে তুমুল আলোচনার মধ্যেই বৈঠকটি ডাকল বিএনপি। সভায় দলের শীর্ষ নেতারা নিজেদের মতামত তুলে ধরবেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।  


বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরামের কয়েকজন নেতা জানান, রাষ্ট্রপতি পদের জন্য সবচেয়ে বেশি আলোচনা বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ঘিরে। তবে দলের ভেতরের কিছু নেতা এ বিষয়ে বিরোধিতা করছেন।


নীতিনির্ধারকদের অনেকে মনে করেন, অতীতের অভিজ্ঞতা, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের নজর মাথায় রেখে প্রার্থী বাছাইয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন দলের শীর্ষ নেতা তারেক রহমান। তিনি এমন একজনকে রাষ্ট্রপতি করতে চান, যিনি রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য, সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে দক্ষ এবং বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকবেন। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর ওপর দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক তৈরি হোক, সেটা আমরা চাই না। তাই সবকিছু খুব সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ জন্যই দলীয় নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকে দায়িত্বশীল নেতাদের বার্তা দেওয়া হয়েছে, যেন স্পর্শকাতর এই ইস্যুতে কোনো অসংলগ্ন বক্তব্য না দেওয়া হয়। 


বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অবশ্য বলেছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ দলীয় ফোরামে আলোচনা করেই নেওয়া হবে। স্থায়ী কমিটি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। সংবিধান ও গণতান্ত্রিক ধারাকে সমুন্নত রেখেই দেশের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্বে দেখতে চান বলেও মন্তব্য করেন তিনি। 


একই বক্তব্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বিএনপির অন্য নেতারা জানান, রাষ্ট্রপতি শুধু আনুষ্ঠানিক পদ নয়; রাজনৈতিক সংকটের সময় এই পদটির গুরুত্ব বেড়ে যায়। তাই ব্যক্তি নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভুলের সুযোগ নেই। রাষ্ট্রপতি পদে এমন কাউকে চাই, যার সততা নিয়ে প্রশ্ন নেই। যিনি সংবিধানের রক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। দলীয় পরিচয় থাকলেও রাষ্ট্রের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবেন। 


বিএনপি সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতি মনোনয়নে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খানের নাম আগেই আলোচনায় ছিল। 


তবে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের নামও। দলের বাইরে অবসরে যাওয়া প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নামও আছে আলোচনায়। এ ছাড়া একজন সচিব ও রাজনীতির বাইরে কয়েকজনের নামও শোনা যাচ্ছে।


দলটির নেতারা বলছেন, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা এড়িয়ে চলতে চায় বিএনপি। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যকার সম্পর্কের যে ভারসাম্য, তা রক্ষা করা অত্যন্ত সংবেদনশীল। এমন কাউকে নির্বাচন করা হবে না, যিনি সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি করবেন, আবার একই সঙ্গে এমন কাউকে আনা হবে না, যিনি বঙ্গভবনের সাংবিধানিক পদের গুরুত্ব ও মর্যাদা রক্ষা করতে ব্যর্থ হন।


বিএনপির এক ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, এমন একজনের রাষ্ট্রপতি হওয়া উচিত, যিনি রাজনৈতিক উত্তেজনা কমাতে ভূমিকা রাখতে পারবেন। দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখবেন। আরেক নেতা বলেন, দলীয় আনুগত্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে যোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। 


২৪ জুলাই বিকেলে মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়েন। সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এখন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। 


জানা গেছে, বিএনপির ৩১ দফা কিংবা ঘোষিত জুলাই সনদ অনুযায়ী সংসদের উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের যৌথ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের যে পদ্ধতির কথা ছিল, সেটা এবার হচ্ছে না। ফলে আগের নিয়মেই সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রার্থীরাই নির্বাচনে জিতে আসবেন। আর জাতীয় সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৬:৩৮ পিএম

জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমের গাড়িতে আবারও হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দলটি। আজ বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া তিনটার দিকে এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এক ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানান।


তিনি লেখেন, ‘সিলেটের গোলাপগঞ্জে শহীদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সিলেটে ফেরার পথে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক সারজিস আলমের গাড়িতে আবারও বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে বিএনপির সন্ত্রাসী বাহিনী।’


সারজিস আলমও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, ‘দ্বিতীয় দফায় বিএনপির সন্ত্রাসীরা আমাদের ওপর আবার আক্রমণ করেছে সিলেটের পাঁচ মাইল বাজারে। তারেক রহমান কি শেখ হাসিনা হতে চায়?’


এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে তিনটার দিকে সারজিস আলম আরেকটি পোস্টে লেখেন, ‘সিলেটের গোলাপগঞ্জে আবার আমাদের গাড়িতে রক্তাক্ত হামলা করেছে বিএনপির সন্ত্রাসীরা। গাড়ি ভাঙচুর করেছে।’


এদিকে, সিলেটের পুলিশ জানিয়েছে, গোলাপগঞ্জে কর্মসূচি শেষ করে সিলেটের কানাইঘাটে য়াওয়ার পথে সারজিস আলমের ঘাড়ি লক্ষ্য করে ঢিল ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে গাড়ির কাঁচ ভেঙেছে; কেউ হতাহত হননি।


প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রায় হামলার ঘটনা ঘটে। সে ব্যাপারে স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিল এনসিপি। যদিও বিএনপি নেতারা হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সর্বশেষ সব খবর

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৩:৩৮ পিএম

এদেশে যখনই পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে, তখনই প্রাণ দিতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর ডিএফপি অডিটোরিয়ামে জুলাই শহিদ দিবস উপলক্ষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।


স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, জুলাইয়ের মূল্যবোধ ধারণ করে পরিবর্তনের চেষ্টা না করলে সন্তানহারা মায়েদের অশ্রু এমনি হারিয়ে যাবে।


মির্জা ফখরুল আরও বলেন, সরকার গঠনের পাঁচ মাস পার হলেও প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসেনি। এখনও ঘুষখোররা ঘুষ নিচ্ছে, তাই জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে রাষ্ট্র ও সমাজে পরিবর্তন আনতে হবে। আমাদের মধ্যে এখনো পরিবর্তন না এলেও তারেক রহমান পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


তিনি আরও বলেন, পরিবর্তনের মনোভাব সবার মধ্যে গড়ে তুলতে পারলে আমরা জুলাইয়ের সফলতা দেখতে পাব।



সর্বশেষ সব খবর

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:১১ পিএম

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বহাল রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে ৯ দফা প্রস্তাব তুলে ধরে জামায়াতের একটি প্রতিনিধি দল।


স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে বিদ্যমান আইন সংশোধন এবং আচরণবিধির খসড়া চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রস্তাবটি সরকারের কাছে পাঠানোর আগে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নেওয়ার অংশ হিসেবে এ বৈঠক হয়।


বৈঠকে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ বহাল রাখার পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া সামসুল আলমের নিয়োগ বাতিল এবং স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পাওয়া প্রশাসকদের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণার দাবি জানায় জামায়াত।


জামায়াতের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। অন্যদিকে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন, নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও তাহমিদা আহমদ এবং ইসি সচিব আখতার আহমদ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।


বৈঠক শেষে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অযোগ্য করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা ‘বৈষম্যমূলক’।


“এর ফলে শিক্ষকদের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন হবে, আমার এ বিধান নিয়ে আপত্তি জানিয়েছি। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা নেই, তাহলে স্থানীয় নির্বাচনে বাধা কেন? এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুদীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এ জন্য ইসির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছি।”


তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন বিষয়টি নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে দেখার আশ্বাস দিয়েছে।


বর্তমান বিএনপির সরকারের আমলে সিটি করপোরেশন, জেলা, উপজেলা ও পৌরসভায় দলীয় নেতাদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার কথা তুলে ধরে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, “স্থানীয় নির্বাচনে পদে থেকে তারা ভোটে প্রভাব ফেলবে এবং দলের পক্ষে কাজ করবে। তাই তাদের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করা উচিত।"


নির্বাচন কমিশনের সাবেক কর্মকর্তা সামসুল আলমকে সম্প্রতি অতিরিক্ত সচিব হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার কঠোর সমালোচনা করে জামায়াত।


গোলাম পরওয়ার বলেন, “এ কর্মকর্তা ত্রয়োদশ সংসদে সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত বিএনপির একটি কমিটিতে কাজ করেছে। এমন দলীয় ব্যক্তিকে নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ দেওয়া কোনোভাবেই সঠিক হয়নি।


“নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। এখানে দলীয় কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়ায় নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। তার নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়েছি আমরা।”


গোলাম পরওয়ার বলেন, গত ৩০ জুন আচরণবিধির খসড়ার ওপর জামায়াত যে সাত দফা মতামত দিয়েছিল, তার মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবিও ছিল।


এর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, “রাজনীতি করে ব্যক্তি, নির্বাচন করাটাও রাজনীতি। সুতরাং তারা যেন অংশ নিতে না পারে।...আমরা ইতোমধ্যে সাতটি দাবি জানিয়েছিলাম ৩০ জুন। এর সাথে এমপিওভুক্ত শিক্ষক, অতিরিক্ত সচিবের নিয়োগ বাতিলসহ আরও দুই দফা যুক্ত করেছি আজ।”


গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা এবং কমিশনের কর্মকর্তাদের নিয়োগের মত বিষয়ে স্বাধীনভাবে ভূমিকা রাখতে পারছে না।


“নির্বাচন কমিশন বলেছে এ বছরের শেষে স্থানীয় নির্বাচন হবে। এরমধ্যে সরকারের মন্ত্রীরা একেকজন একেক তারিখ জানাচ্ছে। চট্টগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য নিয়ে আদালতের রায়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে গেজেট প্রকাশ করে ফেলেছে। সার্বিক পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে ইসি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না।”


বৈঠকে নির্ধারিত আলোচ্যসূচির বাইরে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সদস্যপদ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানান গোলাম পরওয়ার।


এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "আমরা স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি দিয়েছি। দল থেকে বহিষ্কারই আমাদের সর্বোচ্চ সাংগঠনিক ব্যবস্থা। সংসদ সদস্যপদের বিষয়টি সাংবিধানিক; এটি স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার। আজকের বৈঠকে এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।"


জামায়াতের প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দীন সরকার ও অ্যাডভোকেট শিশির মোহাম্মদ মনির।





সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:৪৯ এএম

হবিগঞ্জে দলীয় ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে হামলার প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। কর্মসূচি থেকে বুধবার সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে দলটি। মঙ্গলবার রাতে দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব এ ঘোষণা দেন। বাংলামোটরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ মিছিল শাহবাগে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। 


এদিকে দলের দপ্তর সেল থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হবিগঞ্জে এনসিপির শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা কর্মসূচিতে দলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িবহরে বিএনপির হামলার ঘটনায় দলটি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 


বিজ্ঞপ্তিতে এনসিপির সব মহানগর, জেলা, উপজেলা ও থানা শাখাকে নিজ নিজ এলাকায় প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সফল করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া এবং নেতাকর্মীদের যথাসময়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।


সমাবেশে আরিফুল ইসলাম আদীব অভিযোগ করেন, হবিগঞ্জে এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর বিএনপি নেতা জি কে গউছের অনুসারী ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছেন। এতে দলের অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের দ্রুত আটকের দাবি জানান তিনি।


আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, ‘আমরা দেখছি প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে করমর্দন করে শিশুবান্ধব ভাবমূর্তি তুলে ধরছেন। অন্যদিকে হবিগঞ্জে এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর রড ও পাইপ দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। এর প্রতিবাদে বুধবার সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে।’


এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। দলটির দাবি, স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের কর্মসূচিতে অতর্কিত হামলা চালান।


রাজধানীর বিক্ষোভ কর্মসূচিতে এনসিপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ইসহাক সরকার, জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম, ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক তাহমিদ আল মুদাসসিরসহ দলটির নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

সর্বশেষ সব খবর