ইশরাক হোসেন

  • প্রকাশ : সোমবার ০২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১১:২৪ এএম

ঢাকা-৬ আসনের বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন,‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বিপুল ভোটে ধানের শীষকে বিজয়ী করে বাংলাদেশের জনগণ আমাদের সরকার গঠনের ম্যান্ডেট দেবে।’


আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ডিএসসিসি মালিকানাধীন ধূপখোলা মাঠ মার্কেট নির্মাণাধীন ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিক ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।


ইশরাক হোসেন বলেন, ‘আপনারা সবাই দেখেছেন, আজ বাংলাদেশজুড়ে তারেক রহমানের জোয়ার বইছে। আমাদের নেতা সিলেট থেকে শুরু করে সিলেট বিভাগ, চট্টগ্রাম বিভাগ, ময়মনসিংহ বিভাগ, উত্তরবঙ্গ ঘুরে আজ খুলনা ও যশোরে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। সারা দেশে সব স্তরের জনগণের মধ্যে অভূতপূর্ব জনতার ঢল নেমেছে।’


মার্কেট সংশ্লিষ্ট দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, আমি যে কথাটি বলছিলাম ১২ ফেব্রুয়ারির পর আমরা আপনাদের এই মার্কেট সমিতির দাবিগুলো লিখিতভাবে আপনাদের কাছ থেকে গ্রহণ করব। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী এবং অতীতে যারা এই মার্কেটের প্রকৃত মালিক ছিলেন, তারা যেন কোনোভাবেই বঞ্চিত না হন এবং তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পান সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে আমার জায়গা থেকে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাব, ইনশাআল্লাহ। এই কাজটি আমি আপনাদের সঙ্গে নিয়েই করব এ কথা আমি আপনাদের দিচ্ছি।


আইনি জটিলতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখানে যে আইনি জটিলতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সে বিষয়ে বলতে চাই বাংলাদেশের আইনে যে কেউ আইনের আশ্রয় নিতে পারে। কোনো বিষয় আদালতে বিচারাধীন থাকলে সে বিষয়ে মন্তব্য করা যায় না। তাই আইনি বিষয়গুলো এবং এ সংক্রান্ত যারা মামলা করেছেন সব পক্ষকে নিয়ে যদি আমরা এমন একটি সমাধানে পৌঁছাতে পারি, যেখানে সব পক্ষের দাবি বিবেচনায় আসে এবং সর্বোপরি জনগণের স্বার্থ রক্ষা হয় সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাব।’


ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি বিশেষভাবে খেয়াল করেছি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা যেন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হন। আপনারা বলেছেন, অনেকে মারা গেছেন, অনেকে চরম অর্থকষ্টে দিন কাটাচ্ছেন কেউ চা বিক্রি করছেন, কেউ রিকশা চালাচ্ছেন। এই বিষয়গুলো আমি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। আগামী দিনে এসব সমস্যার সমাধানে আমি সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা করব।’


তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের থানা বিএনপির নেতারা এবং এই ওয়ার্ডের বিএনপির নেতা এখানে উপস্থিত আছেন। তাদের সঙ্গে নিয়ে আমরা এই সমস্যার একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য সমাধান করব।


ইনশাআল্লাহ, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির পর আবারও আপনাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করে এই বিষয়গুলো চূড়ান্তভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেব।’




১১ দলীয় জোটের সচিবালয় ঘেরাও চেষ্টা, পুলিশের বাধা। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:২৪ পিএম

তেল, গ্যাস সংকট, বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল ও মূল্য বৃদ্ধি, আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতির প্রতিবাদে ১১ দলীয় জোটের অবস্থান কর্মসূচি মুক্তাঙ্গন থেকে মিছিল নিয়ে সচিবালয় ঘেরাও চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়।



বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুর ১ টার দিকে সচিবালয়ের সামনের সড়কে অবস্থান নেয় তারা। সচিবালয়ে ঘেরাও কর্মসূচির নেতৃত্ব দিয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াত ইসলামি আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বিদ্যুৎ মন্ত্রী না আসা পর্যন্ত সচিবালয়ের সামনে অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন। 


এ সময় পুলিশ নেতাকর্মীদের সরে যেতে বলে। পুলিশের সঙ্গে ১১ দলের নেতাকর্মীদের বাকবিতণ্ডা হয়। ধাক্কাধাক্কির এক পর্যায়ে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে সচিবালয়ের সামনের পথ থেকে সরে যায়।



অবস্থান কর্মসূচিতে বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, এনসিপির আহবায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীর বিক্রম), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ, জাগপার সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত রয়েছেন।


রাজধানীতে ১১ দলীয় জোটের অবস্থান কর্মসূচি। ছবিঃ সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:১৯ পিএম

জ্বালানি তেল ও গ্যাসের তীব্র সংকট, বিদ্যুতের অসংগতিপূর্ণ বা ‘ভূতুড়ে বিল’, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অনিয়ন্ত্রিত মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানীর পল্টনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ১১ দলীয় জোট। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নারী কর্মীদের হাতে গ্যাসের চুলা ও রান্নার হাড়ি-পাতিল দেখা যায়।



বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বেলা ১১টায় রাজধানীর পল্টনে এ কর্মসূচি শুরু হয়। ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং সরকারের বিভিন্ন নীতি ও সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বিভিন্ন স্লোগান দেন।


 

অবস্থান কর্মসূচি থেকে চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট মোকাবিলায় ১০ দফা জনদাবি তুলে ধরে ১১ দলীয় জোট। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, গত তিন মাসে আদায় করা কথিত ভূতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের বিষয়ে গণশুনানির আয়োজন, দোষীদের শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা; প্রিপেইড ও পোস্টপেইড মিটারে ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া ও অন্যান্য অযৌক্তিক চার্জ বাতিল; অতিরিক্ত আদায় করা অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রাহকদের ফেরত দেওয়া এবং বিদ্যুৎ বিলিং ব্যবস্থায় শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।


এ ছাড়া গ্যাস সরবরাহ না থাকলে বিল আদায় বন্ধ, গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি ও আমদানিনির্ভরতা কমাতে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় জ্বালানি নীতি প্রণয়ন, নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান এবং কূপ খননের উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়। মহেশখালী এলএনজি টার্মিনালের ব্যর্থতার তদন্ত, ক্ষয়ক্ষতির হিসাব ও পুনরায় চালুর সময়সূচি প্রকাশের পাশাপাশি বিকল্প জ্বালানি সরবরাহের কার্যকর পরিকল্পনা ঘোষণারও দাবি জানানো হয়।



জোটের দাবিতে আরও বলা হয়, গ্যাসের সিস্টেম লস, চুরি ও অপচয় বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। স্মার্ট মিটারিং চালু, অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং পুরোনো পাইপলাইন সংস্কারের মাধ্যমে বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্র থেকেই অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে শিল্প, ব্যবসা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান রক্ষা, এলপিজি ও সিএনজির পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং জ্বালানি খাতে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।


 ১১ দলীয় জোটের সচিবালয় ঘেরাও চেষ্টা, পুলিশের বাধা


আর এদিকে এই অবস্থান কর্মসূচির কারণে পল্টন জিরো পয়েন্ট ও এর আশপাশের এলাকায় চরম যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েছে সেই রাস্তা দিয়ে চলাচলের মানুষজন।


অবস্থান কর্মসূচিতে বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, এনসিপির আহবায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীর বিক্রম), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ, জাগপার সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত রয়েছেন।


জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমা

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:১০ পিএম

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই বিপ্লবের ইতিহাস বিকৃত বা ভুলিয়ে দেওয়ার কোনো চেষ্টা হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহত করা হবে।


তিনি বলেন, ‘জুলাইকে ভুলিয়ে দেওয়ার কোনো উল্টো সংগ্রাম যদি শুরু হয়ে থাকে, তাহলে মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করে বলছি দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আমরা তা প্রতিহত করব।’ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘আজাদী সংগ্রামের পটভূমিতে জুলাই বিপ্লব ২০২৪’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই আন্দোলনের কোনো একক ‘মাস্টারমাইন্ড’ ছিল না। দেশের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষার্থী, তরুণ, শিশু এবং সাধারণ মানুষ জীবন বাজি রেখে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। তাদের সম্মিলিত আত্মত্যাগের ফলেই আন্দোলন সফল হয়েছে।


তিনি বলেন, আন্দোলনে নিহতদের পরিবার, আহত ও পঙ্গু হয়ে যাওয়া মানুষদের প্রতি রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব এখনো শেষ হয়নি। আন্দোলনের সময় তার সহকর্মীরা বিভিন্ন হাসপাতালে গিয়ে আহতদের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং চিকিৎসায় কোনো গাফিলতি না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করেছেন।


থাইল্যান্ডের ব্যাংককে চিকিৎসাধীন কয়েকজন আহতকে দেখে আসার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেকেই এমনভাবে আহত হয়েছেন যে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তারা আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন না। এসব মানুষের দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে।


জুলাই বিপ্লবের অবদান ও আত্মত্যাগের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কার কী অবদান ছিল, তা যেন আড়াল না হয়। একটি গ্রহণযোগ্য ও নির্ভুল ইতিহাস রচনা করতে হবে, যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম প্রকৃত ঘটনাগুলো জানতে পারে।


তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও ১৯৭১ সালের সব শহীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি হয়নি। একই ভুল যেন ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের ক্ষেত্রে না হয়। শহীদ, আহত ও অংশগ্রহণকারীদের একটি নির্ভুল তালিকা রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।


সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘এটি শুধু কোনো বেসরকারি উদ্যোগের বিষয় নয়, সরকারের দায়িত্বও সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ করা।’


তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই বিপ্লব-পরবর্তীতে রাজনৈতিক নেতৃত্বের বক্তব্যে পরিবর্তন এসেছে এবং ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর পর থেকে সেই পরিবর্তন আরও স্পষ্ট হয়েছে। আগে দেওয়া অনেক প্রতিশ্রুতি এখন ভুলে যাওয়া হচ্ছে এবং নতুন বয়ান দাঁড় করানো হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


জুলাই ঘোষণাপত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংসদে ঘোষণা দিয়েছিলেন ৫ আগস্টের মধ্যে এটি প্রকাশ করা হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সে বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই বলে তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।


ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের রায়ই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সর্বোচ্চ। সেই রায়ের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। জনগণের অধিকার ও আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা যাবে না।


সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘মেহেরবানি করে জুলাই যোদ্ধাদের গায়ে হাত দেবেন না। যাদের আত্মত্যাগের কারণে আজকের পরিবর্তন এসেছে, তাদের রক্ত যেন আর না ঝরে। তাদের চোখ, হাত-পা কিংবা জীবনের ওপর কোনো আঘাত এলে সেটি চরম অকৃতজ্ঞতার পরিচয় হবে।’


তিনি বলেন, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন হলে জামায়াতে ইসলামী প্রস্তুত রয়েছে। তবে জনগণের মৌলিক অধিকার বিসর্জন দিয়ে কোনো আপস করা হবে না।


ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশ ও জনগণের প্রয়োজন হলে আমাদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে পাশে থাকব। জেল, আয়নাঘর কিংবা মৃত্যুর ভয় আমাদের দমাতে পারবে না। বাংলাদেশের স্বার্থে আমরা সংগ্রাম চালিয়ে যাব।


প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সাক্ষাতে ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী

  • প্রকাশ : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৫৬ পিএম

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কোনো ব্যক্তি যেন ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, সে বিষয়ে ভারত সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। এ ধরনের কার্যক্রম বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।


আজ সোমবার বিকেলে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এ কথা বলেন। 


তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টার সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ হয় বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক এবং পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও জোরদার এবং সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


পলাতক শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখতে পারেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় (সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম) ছড়িয়ে পড়া এ খবর আলোচনায় উঠে আসে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, ‘এ বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হাইকমিশনারকে জানান, পলাতক শেখ হাসিনাসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো ব্যক্তি যাতে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদান বা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না পারেন, সে বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ।’ 


তিনি উল্লেখ করেন, এ ধরনের কার্যক্রম দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।


ভারতের হাইকমিশনার বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেওয়া এবং এ বিষয়ে সচেষ্ট থাকার আশ্বাস দিয়েছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। 


এতে বলা হয়, উভয় পক্ষ নিয়মিত সংলাপ ও গঠনমূলক সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ এবং পারস্পরিক আস্থা ও আলোচনার মাধ্যমেই সব বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধান অর্জন সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে।


মাহফুজ আলম (ছবি: সংগৃহীত)

  • প্রকাশ : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৪২ পিএম

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এক ফেসবুক পোস্টে বলেছেন, জুলাই আদর্শিক অক্ষ অনুযায়ী বিভক্ত হয়েছে। ডানপন্থি জুলাইয়ের সংগঠনে ডানবিরোধীরা জায়গা পাবেন না। অ-ডানপন্থিদের জুলাই সংগঠনে ডানপন্থিরা জায়গা পাবেন না। রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা লেখেন মাহফুজ আলম।


পোস্টে মাহফুজ আলম আরও লেখেন, এটাই জুলাই বন্দোবস্ত। ডান-বামের বাইরে যারা যেতে চাইবেন, তাদের জন্য এতে আছে শিক্ষা। দ্রুত ডান বা অ-ডান জুলাই বেছে নিয়ে গা বাঁচান। নিজস্ব মব না থাকলে মাইর একটাও মাটিতে পড়বে না।


এই পোস্টের কমেন্টেই তিনি আবার লিখেছেন, ‘ডান ও অ-ডানের এ কুস্তি নাগরিক কমিটি প্রকল্পের সমাপ্তির মাধ্যমে পুরোদমে শুরু হইসে। এটা শেষ হবে জুলাইকে নিয়ে কুস্তিতে জিততে উভয় পক্ষের সব কোশেশ যখন লীগ আসাকে অনিবার্য করে তুলবে, সেদিন। সব কুস্তিগিরদের আগাম অভিনন্দন!’


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার প্রাক্কালে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের দুই উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং মাহফুজ আলম প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তাদের পদত্যাগপত্র জমা দেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মাহফুজ আলম। 


‘৩৬ জুলাইয়ের অবদান বিতর্ক ও ব্যর্থতার দায় পর্যালোচনা’ শীর্ষক সংলাপে কবি, চিন্তক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফরহাদ মজহার

  • প্রকাশ : রবিবার ০২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৫৯ পিএম

বাংলাদেশের রাজনীতিতে যত দিন জামায়াতে ইসলামী নাম নিয়ে রাজনীতি থাকবে, তত দিন আওয়ামী লীগও থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন কবি, চিন্তক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফরহাদ মজহার। 


তিনি বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর নাম নিয়ে রাজনীতি করার তিনি ঘোরবিরোধী। একই সঙ্গে ১৯৭২ সালের সংবিধানকে জনগণের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত একটি ঔপনিবেশিক ‘অস্ত্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তা সম্পূর্ণ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, বিদ্যমান ব্যবস্থার জায়গায় নতুন ‘গঠনতন্ত্র’ প্রণয়ন এবং গণসার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করাই নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের একমাত্র পথ।


আজ রোববার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কার, রাজনৈতিক ঐক্য এবং অর্জন-ব্যর্থতার মূল্যায়ন নিয়ে ‘৩৬ জুলাইয়ের অবদান বিতর্ক ও ব্যর্থতার দায় পর্যালোচনা’ শীর্ষক এক সংলাপে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে ফরহাদ মজহার এ কথা বলেন। এ সংলাপের আয়োজন করে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি।


বক্তব্যের শুরুতে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে ফরহাদ মজহার বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ প্রথম একটি রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী হিসেবে বিশ্ব ইতিহাসে আত্মপ্রকাশ করেছে। এই জাতীয় অর্জনের সঙ্গে কোনোভাবেই আপস বা দর-কষাকষি করা যাবে না, এমনকি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গেও নয়। 


তিনি বলেন, ‘আমি বারবার একটা কথা বলেছি, যদিও তাঁরা অনেকে রাগ করেছেন—আমি বলেছি, যত দিন জামায়াতে ইসলামী থাকবে, তত দিন বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ থাকবে। আমি জামায়াতে ইসলামী নাম নিয়ে রাজনীতি করার ঘোরবিরোধী। কারণ, ইসলাম আমাদের ধর্ম। তার নীতিগত ও নৈতিক দিক একটি নতুন রাষ্ট্র ও নতুন সমাজ গঠনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’


গঠনতন্ত্রের পক্ষে যে যুক্তি দিলেন ফরহাদ মজহার


১৯৭২ সালের সংবিধান সম্পূর্ণ বাতিলের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে ফরহাদ মজহার বলেন, ‘এ বিষয়ে কোনো আপসের সুযোগ নেই।’ সংবিধানের সপ্তম অনুচ্ছেদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সেখানে এক বাক্যে জনগণকে রাষ্ট্রক্ষমতার মালিক বলা হয়েছে, কিন্তু ঠিক পরের বাক্যে সংবিধান বা আইনি দলিলকে জনগণের ওপরে স্থাপন করে জনগণের সার্বভৌমত্বকে নাকচ করা হয়েছে।


ঔপনিবেশিক শাসনের ইতিহাস টেনে ফরহাদ মজহার বলেন, তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে এলএফওর (লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্ক অর্ডার) অধীন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিজয়ীরা দেশে ফিরে এসে গণপরিষদ দাবি করে এই সংবিধান চাপিয়ে দিয়েছিল। ‘সংবিধান’ ও ‘গঠনতন্ত্র’-এর আইনি পার্থক্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘জনগণ সংবিধানের ঊর্ধ্বে, জনগণ সংবিধানের অধীন নয়। জনগণ চাইলে যখন খুশি নতুন গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করতে পারে। কনস্টিটিউশন বা সংবিধান শব্দটি কলোনিয়াল শাসকেরা ব্যবহার করত লুটেরা ও মাফিয়া শ্রেণিকে দিয়ে গণবিরোধী শাসন চালাতে। অন্যদিকে গঠনতন্ত্র হলো জনগণ নিজেরা একত্র হয়ে সম্পদের মালিকানা, ব্যাংক, বিনিয়োগ, বৈদেশিক বাণিজ্য, চিকিৎসা ও শিক্ষাব্যবস্থা কীভাবে পরিচালিত হবে তা স্থির করা।’


পূর্ণ শক্তির অন্তর্বর্তী সরকার গঠনে বাধা


২০২৫ সালের ৫ আগস্ট গণ–অভ্যুত্থানের পরপরই রাষ্ট্রক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় গুরুতর গলদ ছিল বলে মনে করেন ফরহাদ মজহার। তিনি অভিযোগ করেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী একটি পূর্ণ ক্ষমতাসম্পন্ন অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করতে দেওয়া হয়নি।


এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি পূর্ণ ক্ষমতাসম্পন্ন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। কিন্তু তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন (চুপ্পু) এবং বিএনপি—এই তিন শক্তি মিলে আমাদের একটি পূর্ণ ক্ষমতাসম্পন্ন অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করতে দেয়নি। সম্প্রতি প্রকাশিত কালের কণ্ঠে রাষ্ট্রপতি চুপ্পুর সাক্ষাৎকারেই তার প্রমাণ মিলেছে। ৮ আগস্ট পুরোনো সংবিধান ও রাষ্ট্রপতিকে বহাল রেখে যে সরকার গঠন করা হয়েছে, তা মূলত একটি সাংবিধানিক প্রতিবিপ্লব।’


গণমাধ্যমের ভূমিকারও সমালোচনা করে ফরহাদ মজহার বলেন, হাসিনাহীন কিন্তু হাসিনা-ব্যবস্থা টিকিয়ে রেখে গঠিত এই সরকারকে সাংবাদিকেরা ভুলভাবে ‘অন্তর্বর্তী সরকার’ বলে প্রচার করেছেন। বাস্তবে এটি ছিল পুরোনো সংবিধানের অধীন প্রেসিডেন্ট দ্বারা পরিচালিত একটি সেনাসমর্থিত উপদেষ্টা সরকার, যা দিয়ে মূল সংবিধান বদলানো অসম্ভব।


অভ্যুত্থানে তরুণ প্রজন্মের সাহসিকতার প্রশংসা করে ফরহাদ মজহার বিএনপি ও রাজনৈতিক দলগুলোকে সতর্ক করে বলেন, রাস্তায় বৃষ্টিতে ভিজে আন্দোলনে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর যেন পুলিশি নির্যাতন না চালানো হয় এবং তারেক রহমান যেন তরুণদের সঙ্গে বেইমানি না করেন। বেগম খালেদা জিয়াও কখনো তরুণদের সঙ্গে বেইমানি করতে চাননি বলে উল্লেখ করেন তিনি।


ধর্মের নামে তাণ্ডব চালানো ও মাজার ভাঙচুরের ঘটনার কঠোর সমালোচনা করেন ফরহাদ মজহার। তিনি বলেন, ‘যাঁরা মাজার ভাঙছেন, ধর্মকে মানুষকে ভয় দেখানো বা অত্যাচার করার অস্ত্র বানাচ্ছেন, তাঁদের আমরা চিনি। গাজাকে ধূলিসাৎ করে রিয়েল এস্টেট বানানোর মতো এটাও একধরনের আগ্রাসন। পেট্রোডলারের কোনো নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা চাপিয়ে দিয়ে কেউ দাবি করতে পারেন না যে তাঁরাই ইসলামের একমাত্র কর্তৃত্বের হকদার। ইসলামে কারও এই ধরনের একক কর্তৃত্ব দাবি করার সুযোগ নেই।’


গণ–অভ্যুত্থানের অর্জনকে ‘ব্যর্থতা’ হিসেবে তুলে ধরার তীব্র বিরোধিতা করেন ফরহাদ মজহার। তিনি বলেন, ‘২০ বছর ধরে যেখানে কথা বলা যাচ্ছিল না, সেখানে এখন কথা বলা যাচ্ছে, শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছে—এটা কোনো ব্যর্থতা হতে পারে না। ব্যর্থতার গল্প না বলে এখন দেখতে হবে আগামী দিনে আমাদের কী কী করা বাকি রয়ে গেছে। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে তরুণেরা যে পথ দেখিয়েছে, সেখান থেকে পিছিয়ে আসার কোনো সুযোগ নেই।’


আলোচনায় সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ বলেন, ১৯৭১ ও ২০২৪—উভয় চেতনাকেই ধারণ করে সামনে এগোতে হবে। তিনি বলেন, একটি সরকারের পতন ঘটানো এবং একটি রাষ্ট্র পুনর্গঠন সম্পূর্ণ ভিন্ন দক্ষতার বিষয়। দুর্নীতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং পুরোনো রাষ্ট্রব্যবস্থা পরিবর্তন না হলে কোনো সরকারই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করতে পারবে না।


সভায় সভাপতিত্ব করেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান। এতে আরও সাবেক উপদেষ্টা ও এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, আইনজীবী আবু হেনা রাজ্জাকী, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া, এ বি এম খালিদ হাসান, ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক সুলতানা রাজিয়া প্রমুখ।