ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে শাহবাগ মোড়ে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে এবার সারাদেশে অবরোধের ডাক দেওয়া হয়েছে। শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর শাহবাগে বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে আট বিভাগীয় শহরে অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। তিনি জানান, আজ রোববার বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের আট বিভাগে এই কর্মসূচি পালিত হবে।
এদিকে শাহবাগে ৩৪ ঘণ্টা অবরোধের পর রাতে শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের কর্মসূচিতে হাজির হয়ে হাদি হত্যার বিচার দ্রুত শুরু করার আশ্বাস দিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, ‘ভারত থেকে আসামি ফেরত এনে দ্রুত মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হবে। চার্জশিট থেকে রায়– সব ধাপেই দ্রুত অগ্রগতি নিশ্চিত করা হবে। দেশের মানুষ ন্যায়বিচার পাবে– এ ব্যাপারে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।’
শুক্রবার জুমার নামাজের পর থেকে হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে শাহবাগে অবস্থান শুরু করে ইনকিলাব মঞ্চ। পরে সারারাত তারা সেখানে অবস্থান করে। গতকাল শনিবার বেলা ১১টার দিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান হাদির কবর জিয়ারত করতে এলে দুপুর ১২টা পর্যন্ত শাহবাগ মোড় ছেড়ে আজিজ সুপারমার্কেটের সামনে অবস্থান নেন তারা। এরপর আবার শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে বিচার না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন আব্দুল্লাহ আল জাবের।
শাহবাগে উপদেষ্টা রিজওয়ানা বলেন, ‘হাদির হত্যায় জড়িতদের সবাইকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তদন্তের চূড়ান্ত ধাপ প্রায় শেষের পথে। সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করে ৭ জানুয়ারির পর দ্রুত নির্ভুল ও শক্ত প্রমাণভিত্তিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি চার্জশিট দিতে চাই, যাতে কোথাও কোনো ফাঁকফোকর না থাকে। তদন্ত, ফরেনসিক পরীক্ষা ও প্রমাণ যাচাই শেষ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হবে। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই দ্রুত বিচার নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।’
এ সময় উপদেষ্টা জানান, হত্যাকাণ্ডের কিছু আসামি দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে। তবে তাদের বিচার এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ থাকবে না। এ বিষয়ে ভারত সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক পর্যায়ে কথা হয়েছে। ভারত আশ্বাস দিয়েছে, বাংলাদেশের অনুরোধে আসামিদের খুঁজে পাওয়া গেলে তাদের ফেরত পাঠাতে সহযোগিতা করবে। রিজওয়ানা বলেন, ‘পালিয়ে গেলেই দায়মুক্তি নয়। প্রয়োজনে অনুপস্থিতিতেও বিচার প্রক্রিয়া এগোবে। একই সঙ্গে যারা ভারতে আশ্রয় নিয়েছে বলে ধারণা, তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের সামনে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছি।’
তদন্ত-সংক্রান্ত তথ্য আপাতত প্রকাশ না করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা শত্রুপক্ষের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে কাজ করছি। তাই তদন্তের স্বার্থে কিছু বিষয় এখন বলা যাচ্ছে না। তবে ডিবি পুলিশ আগামীকাল (আজ) সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে সংবাদ সম্মেলনে আরও বিস্তারিত জানাবে।’ শহীদ হাদির পরিবারের সঙ্গে সরকারের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে জানিয়ে উপদেষ্টা রিজওয়ানা বলেন, ‘এই নৃশংস হত্যার বিচার আমরা বিলম্বিত করতে চাই না। চার্জশিট থেকে রায়– সব ধাপেই দ্রুত অগ্রগতি নিশ্চিত করা হবে। দেশের মানুষ ন্যায়বিচার পাবে– এ ব্যাপারে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।’
এর আগে রাত পৌনে ৮টার দিকে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি, রাতে প্রয়োজনে আপনারা চারপাশে কড়া পাহারার ব্যবস্থা করেন। এখানে কে কী উদ্দেশ্য নিয়ে আসছে, আমরা জানি না। গতকাল আমরা দেখেছি, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখানে ছিল না। শাহবাগ থানা এখানে। কেউ এসে যদি কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করে, এর জন্য আপনারাও দায়ী থাকবেন।’ জাবের বলেন, ‘আপনারা দায়িত্ব পালন করবেন, আমরা আমাদের জায়গা থেকে আপনাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব। কিন্তু আপনারা যদি শুধু থানায় বসে থাকেন এবং এখানে যদি কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়, এর দায় আপনারা এড়াতে পারবেন না।’
অবরোধ না তোলার বিষয়ে বলেন, ‘এখানে ড. ইউনূসও যদি আসেন এবং আমাদের অবরোধ তুলে নিতে বলেন, আমরা অবরোধ তুলব না। অবরোধ অবরোধের মতো থাকবে, আমাদের লড়াই চলছে, আমাদের লড়াই চলবে। আমরা শুধু শুনব তারা কী বলতে চায়, সিদ্ধান্ত তো আমরা নেব।’ শনিবারও রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ হয়। ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীর পাশাপাশি নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ দেন। এদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে একই দাবিতে নানা কর্মসূচি পালিত হয়।
ছবি : সংগৃহীত
আমরা কাউকে অসম্মান করতে আসিনি, জনগণের দাবি নিয়ে এসেছি বলে মন্তব্য করেছেন জানিয়েছেণ বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াত ইসলামি আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সম্মানের সঙ্গে সরকারের প্রতিনিধির হাতে আমাদের দাবি তুলে দিতে চাই। এজন্য আমরা এখানে ১০ মিনিট অপেক্ষা করব। এই সময়ের মধ্যে কেউ না এলে আমরা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করব।
তেল, গ্যাস সংকট, বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল ও মূল্য বৃদ্ধি, আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতির বৃহস্পতিবার প্রতিবাদে (৬ আগস্টথ) ১১ দলীয় জোটের অবস্থান কর্মসূচি মুক্তাঙ্গন থেকে মিছিল নিয়ে সচিবালয় ঘেরাও চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। বাধার মুখে সচিবালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে এ মন্তব্য করেছেন তিনি।
বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, আজ শুধু ঢাকা নয়, সারা বাংলাদেশেই একই কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বিশ্বাসী। জনগণের দাবি জনপ্রতিনিধিদের কাছে পৌঁছে দিতেই সচিবালয়ের সামনে এসেছি।
অবস্থান কর্মসূচিতে বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, এনসিপির আহবায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীর বিক্রম), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ, জাগপার সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত রয়েছেন।
১১ দলীয় জোটের সচিবালয় ঘেরাও চেষ্টা, পুলিশের বাধা। ছবি: সংগৃহীত
তেল, গ্যাস সংকট, বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল ও মূল্য বৃদ্ধি, আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতির প্রতিবাদে ১১ দলীয় জোটের অবস্থান কর্মসূচি মুক্তাঙ্গন থেকে মিছিল নিয়ে সচিবালয় ঘেরাও চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুর ১ টার দিকে সচিবালয়ের সামনের সড়কে অবস্থান নেয় তারা। সচিবালয়ে ঘেরাও কর্মসূচির নেতৃত্ব দিয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াত ইসলামি আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বিদ্যুৎ মন্ত্রী না আসা পর্যন্ত সচিবালয়ের সামনে অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন।
এ সময় পুলিশ নেতাকর্মীদের সরে যেতে বলে। পুলিশের সঙ্গে ১১ দলের নেতাকর্মীদের বাকবিতণ্ডা হয়। ধাক্কাধাক্কির এক পর্যায়ে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে সচিবালয়ের সামনের পথ থেকে সরে যায়।
অবস্থান কর্মসূচিতে বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, এনসিপির আহবায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীর বিক্রম), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ, জাগপার সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত রয়েছেন।
রাজধানীতে ১১ দলীয় জোটের অবস্থান কর্মসূচি। ছবিঃ সংগৃহীত
জ্বালানি তেল ও গ্যাসের তীব্র সংকট, বিদ্যুতের অসংগতিপূর্ণ বা ‘ভূতুড়ে বিল’, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অনিয়ন্ত্রিত মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানীর পল্টনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ১১ দলীয় জোট। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নারী কর্মীদের হাতে গ্যাসের চুলা ও রান্নার হাড়ি-পাতিল দেখা যায়।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বেলা ১১টায় রাজধানীর পল্টনে এ কর্মসূচি শুরু হয়। ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং সরকারের বিভিন্ন নীতি ও সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
অবস্থান কর্মসূচি থেকে চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট মোকাবিলায় ১০ দফা জনদাবি তুলে ধরে ১১ দলীয় জোট। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, গত তিন মাসে আদায় করা কথিত ভূতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের বিষয়ে গণশুনানির আয়োজন, দোষীদের শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা; প্রিপেইড ও পোস্টপেইড মিটারে ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া ও অন্যান্য অযৌক্তিক চার্জ বাতিল; অতিরিক্ত আদায় করা অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রাহকদের ফেরত দেওয়া এবং বিদ্যুৎ বিলিং ব্যবস্থায় শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
এ ছাড়া গ্যাস সরবরাহ না থাকলে বিল আদায় বন্ধ, গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি ও আমদানিনির্ভরতা কমাতে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় জ্বালানি নীতি প্রণয়ন, নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান এবং কূপ খননের উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়। মহেশখালী এলএনজি টার্মিনালের ব্যর্থতার তদন্ত, ক্ষয়ক্ষতির হিসাব ও পুনরায় চালুর সময়সূচি প্রকাশের পাশাপাশি বিকল্প জ্বালানি সরবরাহের কার্যকর পরিকল্পনা ঘোষণারও দাবি জানানো হয়।
জোটের দাবিতে আরও বলা হয়, গ্যাসের সিস্টেম লস, চুরি ও অপচয় বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। স্মার্ট মিটারিং চালু, অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং পুরোনো পাইপলাইন সংস্কারের মাধ্যমে বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্র থেকেই অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে শিল্প, ব্যবসা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান রক্ষা, এলপিজি ও সিএনজির পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং জ্বালানি খাতে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
১১ দলীয় জোটের সচিবালয় ঘেরাও চেষ্টা, পুলিশের বাধা
আর এদিকে এই অবস্থান কর্মসূচির কারণে পল্টন জিরো পয়েন্ট ও এর আশপাশের এলাকায় চরম যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েছে সেই রাস্তা দিয়ে চলাচলের মানুষজন।
অবস্থান কর্মসূচিতে বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, এনসিপির আহবায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীর বিক্রম), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ, জাগপার সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত রয়েছেন।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমা
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই বিপ্লবের ইতিহাস বিকৃত বা ভুলিয়ে দেওয়ার কোনো চেষ্টা হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহত করা হবে।
তিনি বলেন, ‘জুলাইকে ভুলিয়ে দেওয়ার কোনো উল্টো সংগ্রাম যদি শুরু হয়ে থাকে, তাহলে মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করে বলছি দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আমরা তা প্রতিহত করব।’ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘আজাদী সংগ্রামের পটভূমিতে জুলাই বিপ্লব ২০২৪’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই আন্দোলনের কোনো একক ‘মাস্টারমাইন্ড’ ছিল না। দেশের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষার্থী, তরুণ, শিশু এবং সাধারণ মানুষ জীবন বাজি রেখে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। তাদের সম্মিলিত আত্মত্যাগের ফলেই আন্দোলন সফল হয়েছে।
তিনি বলেন, আন্দোলনে নিহতদের পরিবার, আহত ও পঙ্গু হয়ে যাওয়া মানুষদের প্রতি রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব এখনো শেষ হয়নি। আন্দোলনের সময় তার সহকর্মীরা বিভিন্ন হাসপাতালে গিয়ে আহতদের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং চিকিৎসায় কোনো গাফিলতি না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করেছেন।
থাইল্যান্ডের ব্যাংককে চিকিৎসাধীন কয়েকজন আহতকে দেখে আসার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেকেই এমনভাবে আহত হয়েছেন যে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তারা আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন না। এসব মানুষের দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে।
জুলাই বিপ্লবের অবদান ও আত্মত্যাগের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কার কী অবদান ছিল, তা যেন আড়াল না হয়। একটি গ্রহণযোগ্য ও নির্ভুল ইতিহাস রচনা করতে হবে, যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম প্রকৃত ঘটনাগুলো জানতে পারে।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও ১৯৭১ সালের সব শহীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি হয়নি। একই ভুল যেন ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের ক্ষেত্রে না হয়। শহীদ, আহত ও অংশগ্রহণকারীদের একটি নির্ভুল তালিকা রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘এটি শুধু কোনো বেসরকারি উদ্যোগের বিষয় নয়, সরকারের দায়িত্বও সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ করা।’
তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই বিপ্লব-পরবর্তীতে রাজনৈতিক নেতৃত্বের বক্তব্যে পরিবর্তন এসেছে এবং ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর পর থেকে সেই পরিবর্তন আরও স্পষ্ট হয়েছে। আগে দেওয়া অনেক প্রতিশ্রুতি এখন ভুলে যাওয়া হচ্ছে এবং নতুন বয়ান দাঁড় করানো হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জুলাই ঘোষণাপত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংসদে ঘোষণা দিয়েছিলেন ৫ আগস্টের মধ্যে এটি প্রকাশ করা হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সে বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই বলে তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের রায়ই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সর্বোচ্চ। সেই রায়ের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। জনগণের অধিকার ও আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা যাবে না।
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘মেহেরবানি করে জুলাই যোদ্ধাদের গায়ে হাত দেবেন না। যাদের আত্মত্যাগের কারণে আজকের পরিবর্তন এসেছে, তাদের রক্ত যেন আর না ঝরে। তাদের চোখ, হাত-পা কিংবা জীবনের ওপর কোনো আঘাত এলে সেটি চরম অকৃতজ্ঞতার পরিচয় হবে।’
তিনি বলেন, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন হলে জামায়াতে ইসলামী প্রস্তুত রয়েছে। তবে জনগণের মৌলিক অধিকার বিসর্জন দিয়ে কোনো আপস করা হবে না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশ ও জনগণের প্রয়োজন হলে আমাদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে পাশে থাকব। জেল, আয়নাঘর কিংবা মৃত্যুর ভয় আমাদের দমাতে পারবে না। বাংলাদেশের স্বার্থে আমরা সংগ্রাম চালিয়ে যাব।
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সাক্ষাতে ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কোনো ব্যক্তি যেন ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, সে বিষয়ে ভারত সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। এ ধরনের কার্যক্রম বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
আজ সোমবার বিকেলে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এ কথা বলেন।
তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টার সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ হয় বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক এবং পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও জোরদার এবং সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পলাতক শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখতে পারেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় (সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম) ছড়িয়ে পড়া এ খবর আলোচনায় উঠে আসে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, ‘এ বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হাইকমিশনারকে জানান, পলাতক শেখ হাসিনাসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো ব্যক্তি যাতে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদান বা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না পারেন, সে বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ।’
তিনি উল্লেখ করেন, এ ধরনের কার্যক্রম দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
ভারতের হাইকমিশনার বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেওয়া এবং এ বিষয়ে সচেষ্ট থাকার আশ্বাস দিয়েছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, উভয় পক্ষ নিয়মিত সংলাপ ও গঠনমূলক সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ এবং পারস্পরিক আস্থা ও আলোচনার মাধ্যমেই সব বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধান অর্জন সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে।
মাহফুজ আলম (ছবি: সংগৃহীত)
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এক ফেসবুক পোস্টে বলেছেন, জুলাই আদর্শিক অক্ষ অনুযায়ী বিভক্ত হয়েছে। ডানপন্থি জুলাইয়ের সংগঠনে ডানবিরোধীরা জায়গা পাবেন না। অ-ডানপন্থিদের জুলাই সংগঠনে ডানপন্থিরা জায়গা পাবেন না। রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা লেখেন মাহফুজ আলম।
পোস্টে মাহফুজ আলম আরও লেখেন, এটাই জুলাই বন্দোবস্ত। ডান-বামের বাইরে যারা যেতে চাইবেন, তাদের জন্য এতে আছে শিক্ষা। দ্রুত ডান বা অ-ডান জুলাই বেছে নিয়ে গা বাঁচান। নিজস্ব মব না থাকলে মাইর একটাও মাটিতে পড়বে না।
এই পোস্টের কমেন্টেই তিনি আবার লিখেছেন, ‘ডান ও অ-ডানের এ কুস্তি নাগরিক কমিটি প্রকল্পের সমাপ্তির মাধ্যমে পুরোদমে শুরু হইসে। এটা শেষ হবে জুলাইকে নিয়ে কুস্তিতে জিততে উভয় পক্ষের সব কোশেশ যখন লীগ আসাকে অনিবার্য করে তুলবে, সেদিন। সব কুস্তিগিরদের আগাম অভিনন্দন!’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার প্রাক্কালে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের দুই উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং মাহফুজ আলম প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তাদের পদত্যাগপত্র জমা দেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মাহফুজ আলম।