ঐশ্বরিয়া রাই

  • প্রকাশ : শনিবার ২৩ মে, ২০২৬, সময় : ৭:৫৫ এএম

অবশেষে সেই প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে রাজকীয় উপস্থিতিতে লালগালিচায় হাজির হলেন ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। গাঢ় নীল রঙের গাউন পরে হোটেল থেকে বের হতেই আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন তিনি। 


মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভরে যায় প্রশংসা আর উচ্ছ্বাসে। মুম্বাই বিমানবন্দর থেকে পাপারাজ্জিদের তোলা ছবি প্রকাশ হতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়ে যায় জল্পনা। 


কান চলচ্চিত্র উৎসবে তাঁর উপস্থিতি এখন আর শুধু ফ্যাশনের অংশ নয়, বরং বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। তাই অনেকের কাছেই মনে হচ্ছিল, তাঁকে ছাড়া যেন অসম্পূর্ণ থেকে যাবে ৭৯তম কান চলচ্চিত্র উৎসব।


অবশেষে সেই প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে রাজকীয় উপস্থিতিতে লালগালিচায় হাজির হলেন ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন।


অনেকে তাঁকে আখ্যা দিচ্ছেন ‘মাদার অব কান’ হিসেবেও। কারণ, বছরের পর বছর কানে তাঁর উপস্থিতি হয়ে উঠেছে বিশেষ এক প্রত্যাশার নাম। নতুনত্বের জন্য নয়; বরং তাঁর সেই চিরচেনা সৌন্দর্য, আত্মবিশ্বাস আর তারকাখচিত উপস্থিতির জন্য। তাঁর সংক্ষিপ্ত উপস্থিতিও ফ্যাশনের গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়। আগেও গেছে।


এবার কানে প্রথম উপস্থিতিতে ঐশ্বরিয়া নজর কাড়েন ডিজাইনার অমিত আগারওয়ালের তৈরি ভবিষ্যৎধর্মী কতুর পোশাকে। নীল রঙের সেই গাউনে ছিল ‘ক্রিস্টাল ভেইন’ এমব্রয়ডারির সূক্ষ্ম কাজ। অসংখ্য ক্রিস্টালের জটিল বিন্যাসে আলো প্রতিফলিত হয়ে তৈরি করছিল ভিন্ন এক দীপ্তি।


স্টাইলিস্ট মোহিত রায়ের সঙ্গে যৌথ ভাবনায় তৈরি করা হয়েছে এই লুক। অমিত আগারওয়ালের ইনস্টাগ্রামে পোশাকটি সম্পর্কে বলা হয়েছে, এটি আলোর সৌন্দর্যকে তুলে ধরার এক শিল্পিত প্রয়াস। পোশাকটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ডিজাইনার হাউসের ‘ক্রিস্টাল ভেইন’ এমব্রয়ডারি। 


হাজার হাজার ক্রিস্টাল সূক্ষ্ম নকশার ভেতর বসানো হয়েছে; ফলে আলো, গভীরতা আর গতিশীলতার এক অনন্য মিশ্রণ তৈরি হয়েছে পুরো পোশাকে। প্রায় ১ হাজার ৫০০ ঘণ্টা লেগেছে পোশাকটি তৈরি করতে।


গাঢ় ‘অ্যাবিস ব্লু’ রংটির অনুপ্রেরণা এসেছে মহাজাগতিক আলো আর অসীম মহাশূন্য থেকে। পোশাকটির প্রতিটি অংশ এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যেন চলাফেরা আর আলোর পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এর রূপও বদলে যায়। 


সিনেম্যাটিক উপস্থিতি, ভাস্কর্যধর্মী কাটের কতুর আর উপকরণের নতুনত্ব- সব মিলিয়ে এটি বৈশ্বিক মঞ্চে সমকালীন ভারতীয় কতুরের শক্তিশালী উপস্থিতিকে তুলে ধরেছে।


তবে কয়েক ঘণ্টা পরই যেন একেবারে ভিন্ন আবহে দেখা গেল ঐশ্বরিয়াকে। ‘লাইটস অন ওমেন্স ওর্থ’ অনুষ্ঠানে বেছে নেন সম্পূর্ণ বিপরীত রঙের সাজ। মহাজাগতিক নীল আভা ছেড়ে হাজির হন হালকা ব্লাশ-পিংক রঙের সফি কতুর গাউনে। 


স্ট্র্যাপলেস করসেট বডিস পোশাকটিকে দিয়েছে পরিমিত গঠন। নেকলাইন, বডিস ও কোমরজুড়ে ছড়িয়ে ছিল সরভস্কি ক্রিস্টালের ফুলেল অলংকরণ।


সূক্ষ্ম প্লিটিং পোশাকে এনেছে টেক্সচার। কাঁধ বেয়ে নেমে এসেছে একই রঙের স্বচ্ছ কেপ। মেকআপেও ছিল পরিমিতির ছাপ। এবার সাজ নিয়ে খুব বেশি নিরীক্ষায় যাননি ঐশ্বরিয়া। 


এই বিশেষ মুহূর্তে তাঁর সঙ্গী ছিল মেয়ে আরাধ্য বচ্চন। রুবি-লাল রঙের গাউন আর কাঁধে ওড়নার আদলে ড্রেপ করা কেপে তাকেও সুন্দর লাগছিল।




প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:৫৪ পিএম

ঘন ঘন ভুলে যাচ্ছেন? ডিমেনশিয়ার উপসর্গ মনে হলেও আদতে এটি ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি নয় তো? ভিটামিন বি১২ শরীরের একটি অতি প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান। কিন্তু মানবদেহ সরাসরি এই ভিটামিন উৎপাদন করতে না পারায় এর ঘাটতি দেখা দেওয়া খুবই স্বাভাবিক।


রক্তের গঠন ও স্নায়ুতন্ত্রকে সঠিকভাবে সচল রাখতে ভিটামিন বি১২ অপরিহার্য। যেহেতু মানবদেহ এটি নিজে তৈরি করতে পারে না, তাই আমাদের শরীরকে নির্ভর করতে হয় যথাযথ খাবার ও ফুড সাপ্লিমেন্টের ওপর। বিশেষ করে নিরামিষাশীদের মধ্যে এই ভিটামিনের ঘাটতি বেশি দেখা যায়; কারণ এটি ‘প্লান্টবেজড’ বা উদ্ভিদজাত উৎস থেকে সরাসরি পাওয়া যায় না। ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি শনাক্ত করতে অনেক সময় দেরি হয়ে যায়, কারণ এর প্রাথমিক উপসর্গগুলো ডিমেনশিয়ার লক্ষণের সঙ্গে বেশ সাদৃশ্যপূর্ণ।


কেন হয় এই সমস্যা?

ঘন ঘন সংশয়: কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বা মনোযোগ দিতে সংশয় তৈরি হওয়া ভিটামিন বি১২-এর অভাবের লক্ষণ। এই ভিটামিন সারা শরীরে অক্সিজেন সরবরাহকারী লোহিত রক্তকণিকাকে সক্রিয় রাখে। এর অভাবে মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছাতে বাধা পায়, ফলে মানসিক দ্বিধা বা সংশয় তৈরি হয়।


মুড সুইং বা বিষণ্নতা: যখন-তখন মেজাজ খিটখিটে হওয়া বা মুড অফ হয়ে যাওয়া ভিটামিন বি১২-এর অভাবের সংকেত হতে পারে। দীর্ঘদিন এই ঘাটতি থাকলে তা থেকে বিষণ্নতা (ডিপ্রেশন) হতে পারে। ভিটামিন বি১২-এর অভাবে শরীরে ‘হোমোসিস্টিন’-এর মাত্রা বেড়ে যায়, যা মস্তিষ্কের টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।


মনোযোগের অভাব: কোনো কিছুতেই ঠিকমতো মন বসাতে না পারা, অথচ আগে এমন সমস্যা না থাকা–এটি শরীরে পুষ্টি উপাদানের অভাবের অন্যতম লক্ষণ। ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।


স্মৃতিভ্রংশ বা ভুলে যাওয়া: প্রায়ই কোনো জিনিস ভুলে যাওয়া বা কথা বলতে বলতে খেই হারিয়ে ফেলাকে শুরুতেই ডিমেনশিয়া বা বার্ধক্যজনিত রোগ ভেবে নেবেন না। ভিটামিন বি১২-এর অভাবও এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।



কী করবেন?


এই ধরনের উপসর্গগুলো দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এ ছাড়া ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া, প্রচণ্ড দুর্বল লাগা বা আচমকা শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দিলে সতর্ক হতে হবে। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব আপনার শরীরে ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি আছে কিনা। 


চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সুষম খাবার গ্রহণ বা ফুড সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলে এই সমস্যা থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়া সম্ভব।। 

বিষয় : ভিটামিন


  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:১১ এএম

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত নগরী কক্সবাজারে অত্যন্ত আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে গ্লোবাল উইনার গ্রুপের অন্যতম সফল অঙ্গপ্রতিষ্ঠান “বাংলাদেশ এগ্রো রিসোর্ট” এর ৩ দিনব্যাপী ১ম বর্ষপূর্তি সম্মেলন ও উদযাপনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।


শুক্রবার কক্সবাজারের একটি ফাইভ স্টার হোটেল এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 


সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কোম্পানির সম্মানিত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জনাব ইব্রাহিম খলিল এবং উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) জনাব ফেরদৌসুর রহমান রুমী সহ মূল ৮ জন প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, পরিচালনা পর্ষদের কর্মকর্তাবৃন্দ, সম্মানিত পার্টনার এবং শেয়ারহোল্ডারগণ। 


অনুষ্ঠানটিকে আরও মহিমান্বিত করেন সম্মানিত অতিথিবৃন্দ; এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক ‘নওরোজ’ পত্রিকার সম্পাদক এবং বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক ডিআইজি।


৩ দিনব্যাপী এই আয়োজনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণের মধ্যে ছিল প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের দক্ষতা বাড়াতে আয়োজিত স্পেশাল মার্কেটিং ট্রেনিং। 



বাংলাদেশ এগ্রো রিসোর্টের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন



আধুনিক বিপণন কৌশল ও পেশাগত দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে এই বিশেষ সেশনটি পরিচালনা করেন দেশের জনপ্রিয় লার্নিং প্ল্যাটফর্ম স্কিলস রাইডার’ (Skills Rider)-এর ফাউন্ডার ও এমডি রাশেদুল ইসলাম।


সম্মেলনে প্রজেক্টের ভবিষ্যৎ মেগা পরিকল্পনা তুলে ধরে উদ্যোক্তারা জানান, বর্তমানে ১৭ একর জমিতে বাংলাদেশ এগ্রো রিসোর্টের আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণের কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। 


পর্যায়ক্রমে জমি বৃদ্ধির মাধ্যমে এই প্রজেক্টটিকে মোট ২০০০ একর জমিতে বিস্তৃত করার এক বিশাল মাস্টারপ্ল্যান হাতে নেওয়া হয়েছে, যা দেশের পরিবেশবান্ধব এগ্রো-ট্যুরিজমে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।


১ম বর্ষপূর্তি উদযাপন উপলক্ষে বিনিয়োগকারী ও গ্রাহকদের সুবিধার্থে অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন কিছু শেয়ার প্যাকেজ উন্মোচন করা হয়। একই সাথে, যেসকল বিনিয়োগকারী সফলভাবে তাঁদের বিনিয়োগ সম্পন্ন করেছেন, অনুষ্ঠানে তাঁদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সনদপত্র প্রদান করা হয়। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের অগ্রযাত্রায় অসামান্য অবদান রাখায় সেরা পারফর্মকারী প্রতিনিধিদের বেস্ট মার্কেটার’ সম্মাননা ও বিশেষ পুরস্কার প্রদান করা হয়।


সম্মেলনের সমাপনী দিনে সফল পার্টনারদের মাঝে সম্মাননা স্মারক বিতরণ এবং এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার মধ্য দিয়ে ৩ দিনব্যাপী এই স্মরণীয় উদযাপনের সফল সমাপ্তি ঘটে।


 ‘বাংলাদেশ এগ্রো রিসোর্টের’ বর্ষপূর্তিতে কক্সবাজার সৈকতে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, খেলাধুলা


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:৫০ এএম

চুল পড়ার সমস্যায় আমরা সাধারণত শ্যাম্পু পরিবর্তন করি বা দামি হেয়ার সিরাম ব্যবহার করি। অনেকে আবার বিভিন্ন ঘরোয়া টোটকা বা সাপ্লিমেন্ট নিতে শুরু করেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চুলের যত্নে বাইরে থেকে কী ব্যবহার করছেন তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনার শরীর ভেতরে কী ধরণের পুষ্টি পাচ্ছে। প্রতিটি চুলের গোছার বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন প্রোটিন, আয়রন, জিঙ্ক, ভিটামিন এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট। এই প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাব হলে বা ভুল খাদ্যাভ্যাসের কারণে চুলের স্বাস্থ্য নষ্ট হতে পারে।


সম্প্রতি টাইমস অব ইন্ডিয়ার লাইফস্টাইল বিষয়ক একটি প্রতিবেদনে এমন ৮টি খাবারের কথা উঠে এসেছে, যা অতিরিক্ত গ্রহণ করলে আপনার চুলের ক্ষতি হতে পারে:


১. মিষ্টি ও চিনিযুক্ত খাবার: অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার রক্তে গ্লুকোজ ও ইনসুলিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এই পরিবর্তনটি এমন কিছু হরমোনকে প্রভাবিত করতে পারে যা চুলের তেলের উৎপাদন বাড়িয়ে দেয় এবং চুল পাতলা করে ফেলে। এছাড়া চিনি শরীরের প্রদাহ বাড়ায় যা চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বাধা দেয়।


২. ডিপ-ফ্রাইড ফাস্ট ফুড: ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, ফ্রাইড চিকেন বা চিপস জাতীয় খাবারে অস্বাস্থ্যকর চর্বি এবং ক্যালোরি অনেক বেশি থাকে, কিন্তু পুষ্টিগুণ থাকে না বললেই চলে। নিয়মিত এসব খাবার খেলে শরীরে জিঙ্ক, আয়রন ও প্রোটিনের অভাব দেখা দেয়, যা চুলের স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য।


৩. অত্যধিক প্রক্রিয়াজাত খাবার: ইনস্ট্যান্ট নুডলস, প্যাকেটজাত স্ন্যাকস বা প্রক্রিয়াজাত মাংসে প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম, রিফাইনড কার্বোহাইড্রেট এবং প্রিজারভেটিভ থাকে। চুলের টিস্যু শরীরের দ্রুত বর্ধনশীল টিস্যুগুলোর অন্যতম, যার জন্য নিরবচ্ছিন্ন পুষ্টির প্রয়োজন হয়। প্রক্রিয়াজাত খাবার এই পুষ্টির জোগান দিতে ব্যর্থ হয়।


৪. পারদ সমৃদ্ধ মাছ: মাছ সাধারণত চুলের জন্য ভালো হলেও সমুদ্রের বড় শিকারি মাছ যেমন- সোর্ডফিশ, শার্ক বা কিছু বিশেষ জাতের টুনা মাছ অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক নয়। কারণ এসব মাছে পারদ বা মার্কারির পরিমাণ বেশি থাকে, যা অতিরিক্ত গ্রহণে চুল পড়ার ঝুঁকি বাড়ে।


৫. অতিরিক্ত ভিটামিন এ: ভিটামিন এ চুল ও ত্বকের জন্য ভালো, তবে ‘বেশি মানেই ভালো’ নয়। দীর্ঘ সময় ধরে সাপ্লিমেন্ট বা ফোর্টিফাইড খাবারের মাধ্যমে অতিরিক্ত ভিটামিন এ গ্রহণ করলে চুলের ফলিকলগুলো অকালেই ঝরে পড়ার পর্যায়ে পৌঁছে যায়।


৬. অ্যালকোহল: অতিরিক্ত অ্যালকোহল শরীরকে পানিশূন্য করে ফেলে এবং জিঙ্ক ও ফোলেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি শোষণে বাধা দেয়। যেহেতু চুল মূলত প্রোটিন দিয়ে তৈরি, তাই পুষ্টির এই অভাব নতুন চুলকে দুর্বল করে ফেলে।


৭. খুব কম প্রোটিনযুক্ত ডায়েট: চুল প্রধানত ‘কেরাটিন’ নামক প্রোটিন দিয়ে তৈরি। ক্রাশ ডায়েট বা ওজন কমানোর জন্য প্রোটিন জাতীয় খাবার (যেমন- ডাল, ডিম, মাছ, দুধ) বাদ দিলে শরীর অত্যাবশ্যকীয় অঙ্গগুলোকে বাঁচাতে চুলের পুষ্টি বন্ধ করে দেয়, ফলে প্রচুর চুল ঝরে যায়।


৮. রিফাইনড কার্বোহাইড্রেট: সাদা পাউরুটি, পেস্ট্রি বা চিনিযুক্ত ব্রেকফাস্ট সিরিয়াল খুব দ্রুত হজম হয়ে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। সময়ের সাথে সাথে এই পরিবর্তনগুলো হরমোনের ওপর প্রভাব ফেলে এবং চুলের বৃদ্ধিতে বিঘ্ন ঘটায়।


মাঝেমধ্যে এসব খাবার খাওয়ায় কোনো সমস্যা নেই, তবে এগুলো যেন আপনার প্রতিদিনের প্রধান খাবারে পরিণত না হয়। একটি সুষম এবং পুষ্টিকর খাবারই পারে আপনার চুলকে মজবুত ও উজ্জ্বল রাখতে।

বিষয় : চুল


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৫:৩৭ পিএম

আজকাল দেখা যাচ্ছে একই বাড়িতে থাকেন, প্রতিদিন দেখা হয়, সংসারের সব দায়িত্বও একসঙ্গে সামলান -তারপরও দম্পতিদের মধ্যে বাড়ছে মানসিক দূরত্ব। বাইরে থেকে সবকিছু স্বাভাবিক দেখালেও ভিতরে ভিতরে তারা অনুভব করছেন একাকীত্ব। 


মনোবিদদের ভাষায়, একে বলা হয় ‘ইমোশনাল লোনলিনেস’-যেখানে একসঙ্গে থেকেও মানুষ নিজেকে একা অনুভব করেন।


বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান ব্যস্ত জীবন, প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার এবং যোগাযোগের অভাবের কারণে এই সমস্যা আগের তুলনায় অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক ঠিক কী কী কারণে স্বামী-স্ত্রীদের মধ্যে বাড়ছে দূরত্ব। 


কথোপকথন কমে যাওয়া


সম্পর্কে মানসিক দূরত্বের অন্যতম বড় কারণ হলো যোগাযোগের অভাব।দিনের বেশিরভাগ সময় কেটে যায় অফিস, সংসার, সন্তান কিংবা আর্থিক দায়িত্ব সামলাতে। ফলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথাবার্তা সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। এতে ধীরে ধীরে সম্পর্কের আবেগও কমতে থাকে।


অনুভূতিকে গুরুত্ব না দেওয়া


অনেক সময় দেখা যায় একজন হয়তো নিজের মনের কথা বলতে চান, কিন্তু অন্যজন তা গুরুত্ব দিয়ে শোনেন না। বারবার এমন হলে মানুষ ধীরে ধীরে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করার আর আগ্রহ পায় না। বরং ভিতরে জমতে থাকে অভিমান ও অপূর্ণতার অনুভূতি।


কথোপকথন কমে যাওয়া


সম্পর্কে মানসিক দূরত্বের অন্যতম বড় কারণ হলো যোগাযোগের অভাব।দিনের বেশিরভাগ সময় কেটে যায় অফিস, সংসার, সন্তান কিংবা আর্থিক দায়িত্ব সামলাতে। ফলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথাবার্তা সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। এতে ধীরে ধীরে সম্পর্কের আবেগও কমতে থাকে।


অনুভূতিকে গুরুত্ব না দেওয়া


অনেক সময় দেখা যায় একজন হয়তো নিজের মনের কথা বলতে চান, কিন্তু অন্যজন তা গুরুত্ব দিয়ে শোনেন না। বারবার এমন হলে মানুষ ধীরে ধীরে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করার আর আগ্রহ পায় না। বরং ভিতরে জমতে থাকে অভিমান ও অপূর্ণতার অনুভূতি।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:৪৭ পিএম

ভাত বাঙালির প্রতিদিনের খাবারের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের মধ্যে একটি ধারণা বেশ প্রচলিত যে, ভাত মানেই কার্বোহাইড্রেট, আর কার্বোহাইড্রেট মানেই ওজন বৃদ্ধি ও রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়া। তাই অনেকে সাদা ভাত ছেড়ে ব্রাউন রাইস বা অন্য চালের দিকে ঝুঁকেন। কিন্তু সত্যি হলো, সব ধরনের চালের পুষ্টিগুণ এক নয়। চালের ধরন, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং পলিশ করার মাত্রার ওপরই নির্ভর করে কোন ভাত কতটা স্বাস্থ্যকর হবে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাতে শুধু কার্বোহাইড্রেটই থাকে না। এতে ফাইবার, বি-ভিটামিন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, আয়রনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খনিজও থাকতে পারে। তবে চাল যত বেশি পলিশ করা হয়, ততই এর বাইরের আবরণ বা ব্র্যান স্তর নষ্ট হয়ে যায়। আর এই স্তরেই থাকে অধিকাংশ পুষ্টি উপাদান। তাই সঠিক চাল বেছে নেওয়া যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি পরিমিত পরিমাণে খাওয়াও সমান জরুরি।


পুষ্টির শীর্ষে ব্ল্যাক রাইস

পুষ্টিগুণের দিক থেকে ব্ল্যাক রাইসকে সবচেয়ে সমৃদ্ধ চালগুলোর একটি ধরা হয়। এটি সাধারণত আনপলিশড অবস্থায় বাজারে আসে, ফলে এর প্রাকৃতিক পুষ্টি অক্ষুণ্ন থাকে।


গাঢ় কালো বা বেগুনি রঙের এই চালে রয়েছে অ্যান্থোসায়ানিন, যা শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। এছাড়া এতে পর্যাপ্ত ফাইবার, আয়রন, ভিটামিন ই এবং বিভিন্ন খনিজ উপাদান পাওয়া যায়। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় ব্ল্যাক রাইস খেলে শরীরের প্রদাহ কমাতে, কোষের ক্ষয় রোধ করতে এবং দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে।


ফাইবার ও মিনারেলে ভরপুর লাল চাল

লাল চালও তুলনামূলকভাবে কম প্রক্রিয়াজাত করা হয়। এতে রয়েছে ফাইবার, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং বি-কমপ্লেক্স ভিটামিন।


যারা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে চান বা ধীরে ধীরে শক্তি পেতে চান, তাদের জন্য লাল চাল একটি ভালো বিকল্প হতে পারে। এটি হজম প্রক্রিয়াকেও তুলনামূলক ধীর করে, ফলে রক্তে শর্করার ওঠানামাও কিছুটা নিয়ন্ত্রিত থাকে।


স্বাস্থ্যসচেতনদের জনপ্রিয় পছন্দ ব্রাউন রাইস

ব্রাউন রাইসের জনপ্রিয়তা গত কয়েক বছরে অনেক বেড়েছে। কারণ এটি পলিশ করা হয় না এবং চালের বাইরের ব্র্যান স্তর অক্ষত থাকে।


এতে ফাইবার, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং বিভিন্ন ভিটামিন পাওয়া যায়। ব্রাউন রাইস ধীরে হজম হয় বলে দীর্ঘ সময় ক্ষুধা কম লাগে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে কিংবা সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে চাইলে এটি ভালো বিকল্প হতে পারে।


সুগন্ধের সঙ্গে পুষ্টিতে সমৃদ্ধ বাসমতি চাল

বাসমতি চাল শুধু সুগন্ধের জন্যই নয়, তুলনামূলক কম গ্লাইসেমিক সূচকের কারণেও অনেকের কাছে জনপ্রিয়।

বাসমতির দুটি ধরন রয়েছে-সাদা ও বাদামি। বাদামি বাসমতি রাইসে ফাইবার ও খনিজ উপাদান বেশি থাকে, কারণ এটি কম প্রক্রিয়াজাত। অন্যদিকে সাদা বাসমতি চাল পলিশ করা হলেও এতে অ্যামাইলোজ তুলনামূলক বেশি থাকে, যা সাধারণ সাদা চালের তুলনায় কিছুটা ধীরে হজম হয়।


বিরিয়ানি, পোলাও কিংবা ফ্রায়েড রাইসের জন্য বাসমতি চালের ব্যবহার বেশি হলেও প্রতিদিনের খাবার হিসেবেও এটি পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে।


বেশি খাওয়া হয় সাদা চাল

আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি খাওয়া হয় সাদা চালের ভাত। তবে এটি সবচেয়ে বেশি পলিশ করা হয় বলে এর বাইরের পুষ্টিকর স্তর প্রায় পুরোপুরি অপসারণ করা হয়। ফলে ফাইবার, ভিটামিন এবং অনেক খনিজ উপাদান উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। তবে এর একটি সুবিধা হলো এটি দ্রুত রান্না হয় এবং সহজে হজম হয়।


তাই সাদা চাল সম্পূর্ণ বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে পরিমিত পরিমাণে সাদা ভাতের সঙ্গে ডাল, শাকসবজি, মাছ, ডিম বা মাংস যোগ করলে সেটিও একটি সুষম খাবারে পরিণত হতে পারে।


কোন চাল খাবেন?

যদি সর্বোচ্চ পুষ্টিগুণ চান, তাহলে ব্ল্যাক রাইস বা লাল চাল খেতে পারেন। প্রতিদিনের জন্য ব্রাউন রাইসও উপকারী। বাসমতি চাল স্বাদ ও তুলনামূলক কম গ্লাইসেমিক সূচকের কারণে ভালো পছন্দ হতে পারে। আর সাদা চাল খেতে চাইলে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অবশ্যই প্রোটিন ও শাকসবজির সঙ্গে খাওয়ার চেষ্টা করুন।


স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস শুধু চালের ধরন দিয়ে নির্ধারিত হয় না। আপনি কতটা পরিমাণে খাচ্ছেন, কী দিয়ে খাচ্ছেন এবং আপনার দৈনন্দিন জীবনযাপন কেমন এসব বিষয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ।


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:৩৯ এএম

স্টমাক ওয়াশ বা গ্যাস্ট্রিক ল্যাভাজ হলো বিশেষ নল দিয়ে পাকস্থলীর ভেতরের বিষাক্ত পদার্থ বের করার চেষ্টা। উদ্দেশ্য হলো, বিষ শরীরে আরও শোষিত হওয়ার আগেই পাকস্থলী থেকে তা যতটা সম্ভব সরিয়ে ফেলা।


তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিষ পাকস্থলী থেকে অন্ত্রে চলে যায় এবং শরীরে শোষিত হতে শুরু করে। তাই সময় এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


সময়


সাধারণত বিষ গ্রহণের এক ঘণ্টার মধ্যে রোগী হাসপাতালে এলে এবং বিষের পরিমাণ সম্ভাব্যভাবে প্রাণঘাতী হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক স্টমাক ওয়াশ বিবেচনা করতে পারেন।


তবে এটিকে কোনো ‘নির্দিষ্ট নিয়ম’ হিসেবে মনে করা যাবে না। রোগীর অবস্থা, কী বিষ খেয়েছেন, কতটা খেয়েছেন এবং কতক্ষণ আগে খেয়েছেন—সবকিছু বিবেচনা করা হয়।


কেন সব সময় করা হয় না


 স্টমাক ওয়াশের কিছু গুরুতর ঝুঁকি রয়েছে। এতে—


> খাবার বা পাকস্থলীর তরল ফুসফুসে ঢুকে যেতে পারে।


> শ্বাসনালিতে খিঁচুনি


> অক্সিজেন কমে যাওয়া


> হৃদ্‌যন্ত্রের ছন্দের সমস্যা


> এমনকি গলা বা খাদ্যনালির আঘাতও হতে পারে


তাই রোগীর জ্ঞান কমে গেলে বা নিজের শ্বাসনালি সুরক্ষিত রাখার ক্ষমতা না থাকলে, বিশেষ ব্যবস্থা ছাড়া স্টমাক ওয়াশ করা বিপজ্জনক।


কোন ক্ষেত্রে করা যাবে না?


অ্যাসিড বা ক্ষারজাতীয় ক্ষয়কারী পদার্থ পান করলে স্টমাক ওয়াশ করা উচিত নয়। এতে ক্ষত আরও বাড়তে পারে। একইভাবে কেরোসিন বা উচ্চমাত্রায় ফুসফুসে ঢুকে যাওয়ার ঝুঁকিযুক্ত হাইড্রোকার্বন পান করলেও সাধারণত এটি এড়ানো হয়।


সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা, বাড়িতে কখনো নিজে থেকে বমি করানো বা নল ঢুকিয়ে স্টমাক ওয়াশ করার চেষ্টা করবেন না।


এমন রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান এবং কী বিষ, কতটা এবং কখন খাওয়া হয়েছে—এই তথ্য চিকিৎসককে জানান। সময়মতো সঠিক চিকিৎসাই জীবন বাঁচাতে পারে।