হাইকোর্ট ভবন। ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ১১ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১২:৩৪ পিএম

দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি লাগবে না, বরং আরবিট্রেশন কাউন্সিলের বিধানই যথেষ্ট বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। রায়ে আদালত বলেন, দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতির ভিত্তিতেই বিষয়টি নিষ্পন্ন হবে। কেননা ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনে সরাসরি এমন বাধ্যবাধকতার কোনো অস্তিত্ব নেই।


এ সংক্রান্ত এক রিটের শুনানি শেষে রুল খারিজ করে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মানসুরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন মোহাম্মদ শফিকুর রহমান ও তানিম খান।


অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান বলেন, মুসলিম পারিবারিক আইন ১৯৬১ সালের ৬ ধারা অনুযায়ী কেউ দ্বিতীয় বিয়ে করতে চাইলে আরবিট্রেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও সদস্যর অনুমতি নিয়ে করতে পারতো। সেই আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আমরা রিট করেছিলাম। আদালত রুল জারি করে পরে শুনানি শেষে গত ২০ আগস্ট রায় ঘোষণা করেন। রায়ে রুল বাতিল করে দেওয়া হয়। সম্প্রতি পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। আমরা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করবো।


ইশরাত হাসান বলেন, ‘পবিত্র কোরানে আল্লাহর বিধান রয়েছে, তোমরা চাইলে সামর্থ্য অনুযায়ী ও সমতা বিধান করতে পারলে চার চারটি বিয়ে করতে পারো। যদি সমতা করতে না পারো তাহলে একজন স্ত্রীই তোমাদের জন্য যথেষ্ট। এ ধর্মীয় বিধানে পুরুষের শারীরিক মানুষিক আর্থিক সামর্থ্য নির্ধারণ করবে কে? আমাদের দেশে বেশির ভাগ পুরুষ সমতা বিধান করতে পারে না। তাছাড়া পুরুষ আরবিট্রেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যানকে টাকা দিয়ে বিয়ের অনুমতি নিয়ে নিচ্ছে। এ জন্য আমরা মুসলিম পারিবারিক আইন ১৯৬১ সালের ৬ ধারায় আরবিট্রেশন কাউন্সিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করেছিলাম।’


প্রকাশিত রায়ে হাইকোর্ট বলেন, ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী পুরুষের জন্য দ্বিতীয় বিয়ে জায়েজ থাকলেও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তা ছিল গুরুতর অপরাধ ও নৈতিকতার লঙ্ঘন। আদালত বলেন, দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে স্ত্রীর অনুমতি নয়, বরং আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতির ভিত্তিতেই বিষয়টি নিষ্পন্ন হবে। কেননা মুসলিম পারিবারিক আইনে সরাসরি এমন বাধ্যবাধকতার কোনো অস্তিত্ব নেই।


২৪ পাতার পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতির বিষয়টি আরবিট্রেশন কাউন্সিলে ন্যস্ত থাকায় স্ত্রীর অনুমতি বাধ্যতামূলক নয়। ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারায় স্ত্রী বা স্বামী অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান ছিল। পরবর্তীতে ১৯৬১ সালে মুসলিম পারিবারিক আইন চালুর মাধ্যমে নারীর ক্ষেত্রে ওই সাজা বহাল থাকলেও পুরুষের দ্বিতীয় বিয়ে ঠেলে দেওয়া হয় আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতির ওপর। সেক্ষেত্রে অনুমতি ছাড়া বিয়ে করলে এক বছর কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়।


হাইকোর্টের রায়ে আরও বলা হয়, রিটকারি আইনজীবীরা চেয়েছিল, ১৯৬১ সালের ৬ ধারা বাতিল করে বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করার জন্য একটি নীতিমালার বিধান প্রতিস্থাপন করা যেতে পারে। ১৯৫৭ সালে তিউনিসিয়া বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করে। অন্য দেশটি হল তুরস্ক যা বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করে। ১৯২৬ সালে তুরস্ক ছিল প্রথম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ যারা বহুবিবাহ আইনত নিষিদ্ধ করেছিল। হাইকোর্ট বিভাগ ৬ ধারা বাতিল করে এবং বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করে নতুন আইন প্রণয়নের জন্য ইসলামী আইনের ওপর জোর দিয়েছিল। সরকার এখনও উপরোক্ত সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। তাই উপরোক্ত পর্যবেক্ষণের পরিপ্রেক্ষিতে, সরকার কর্তৃক গঠিত একটি ফোরাম যদি ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে বহুবিবাহকে অনুমোদন করে অথবা হাইকোর্ট বিভাগের সুপারিশ অনুসারে বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করে, তাহলে বাংলাদেশে বহুবিবাহ সম্পর্কিত সমস্ত বিতর্ক দূর করতে পারে।


রায়ে বলা হয়, এটি স্বচ্ছ যে; ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ৬ ধারার অধীনে অন্য বিবাহের অনুমতি দেওয়ার প্রক্রিয়াটি বৈষম্যমূলক বা স্বেচ্ছাচারী নয়। আইনটি পক্ষগুলোর (পুরুষ এবং মহিলা উভয়ের) কোনও অধিকার হ্রাস করে না বা হরণ করে না এবং বহুবিবাহের অনুমতি নিশ্চিত করার বা প্রত্যাখ্যান করার জন্য সালিশ পরিষদের ওপর কোনও বাধা আরোপ করে না।


রায়ে হাইকোর্ট বলেন, আরবিট্রেশন কাউন্সিল বিবাহের পক্ষগুলোর ওপর কোনও একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারে না। তাই আমরা সমতা ও সংবিধানের প্রস্তাবনায় বর্ণিত ন্যায়বিচার ও সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদের অধীনে সমতা ও বৈষম্য। বরং এই বিধানটি সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদের পরিপূরক, যা আইনের অধীন ধর্মের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে। এর অর্থ এই নয় যে আইন দ্বারা ধর্ম পালন, অনুশীলন এবং প্রচারের অধিকার কেড়ে নেওয়া যেতে পারে। এর অর্থ কেবল সংসদ আইন দ্বারা ধর্মীয় বিশ্বাস পালন, অনুশীলন এবং প্রচারের পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এইভাবে সাংবিধানিক বৈষম্যের যুক্তি অনুপস্থিত। ধর্মীয় কার্যকলাপ এবং পালনের ক্ষেত্রে কোনও স্পষ্ট হস্তক্ষেপ নেই। মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ৬-এর বিভিন্ন দিকের ওপর সুপ্রিম কোর্টের দীর্ঘ বিচারিক সিদ্ধান্ত পাওয়া যেতে পারে। তবে এর প্রযোজ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে শুধু দুটি বিএলসি (১৯৯৭) ২৩৩ (এইচসিডি) ধারা ৬ মুছে ফেলা এবং বহুবিবাহের ইসলামিক নিয়মকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং শুধু একটি বিবাহকে সীমাবদ্ধ করে বহুবিবাহের বিরুদ্ধে আইন প্রণয়ন করা।


রায়ে ধর্মীয় অধিকার নিয়ে রায়ে আদালত বলেন, বহুবিবাহের কারণে একজন নারীর অধিকার লঙ্ঘন করার জন্য ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান এবং পালনের ক্ষেত্রে কিছু বাস্তব হস্তক্ষেপ থাকতে হবে। কিন্তু আবেদনকারী আমাদের সামনে এই ধরনের যুক্তি প্রমাণ করতে পারবেন না। খ্রিস্টান দম্পতির বিবাহবিচ্ছেদের মামলায়, উচ্চ আদালত বিভাগ বিবাহবিচ্ছেদের ডিক্রি নিশ্চিত করার সময়, একটি সুপারিশ করেছে যে ‘আধুনিক সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে সংসদ কর্তৃক সকল নাগরিকের জন্য একটি অভিন্ন বিবাহ এবং বিবাহবিচ্ছেদ আইন প্রণয়ন করা উচিত। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ইসলামিক ল রিসার্চ সেন্টার এবং লিগ্যাল এইড বাংলাদেশ ছুটির আবেদন দায়ের করে। আপিলের শুনানি শেষে বিভাগ হাইকোর্ট বিভাগের সুপারিশ বাতিল করে দিয়েছে। উল্লেখ করে যে, ‘সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদের বিধানের পটভূমিতে আমাদের অভিমত যে, যে আবেদনের বিরুদ্ধে আবেদনটি দায়ের করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে হাইকোর্ট বিভাগের সুপারিশ বাতিল করা প্রয়োজন...’ (ইসলামিক সেন্টার ল রিসার্চ অ্যান্ড লিগ্যাল এইড বাংলাদেশ বনাম ইভা চৌধুরী, (২০০৩) ১১ বিএলটি (এডি) ১৮০)।


আপিল বিভাগ সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করে হাইকোর্ট বিভাগের সুপারিশের সাথে একমত হননি। এটা স্পষ্ট যে, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের ব্যক্তিগত জীবনে ধর্মের স্বাধীনতাই প্রধান বিবেচ্য বিষয়, তাদের ধর্ম নির্বিশেষে। এটিকে কোনওভাবেই সীমাবদ্ধ বা কেড়ে নেওয়া যাবে না। উপরে উল্লিখিত মামলায় আপিল বিভাগ পর্যবেক্ষণ করেছে যে, হাইকোর্ট বিভাগের ইচ্ছা রাষ্ট্র কর্তৃক বাস্তবায়িত হতে পারে। পর্যবেক্ষণটি নিম্নরূপ: ‘বিশেষ বিষয়ে বিজ্ঞ বিচারকদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থাকতে পারে এবং রাষ্ট্র কর্তৃকও তা বাস্তবায়ন করা হোক, তা গুরুত্বের সাথে চাইতে পারেন।’


রায়ে আদালত বলেন, আমরা উপরে উল্লিখিত একই মতামতও প্রকাশ করেছি (পৃষ্ঠা ১৯-এ)। ওপরে আলোচিত কারণ এবং পরিস্থিতির জন্য, আমাদের বিবেচ্য মতামত হল যে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ৬ বাংলাদেশের নারী নাগরিকদের কোনও মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে না বহুবিবাহ। অতএব, নিয়মের সমর্থনে যে যুক্তিগুলো বলা হয়েছে, তার কোনও ভিত্তি নেই। তাই নিয়মটি অবশ্যই প্রযোজ্য ও বাতিল করা হবে।


সালিশি কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া আরেকটি বিয়ে নয়





ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৪৩ পিএম

পুরান ঢাকার দর্জি দোকানি বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলার আপিল শুনানির জন্য আগামী ৮ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। আজ সোমবার রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চেম্বার বিচারপতি রেজাউল হক এ দিন ধার্য করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।


চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার ঘটনার ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর বহুল আলোচিত এ হত্যা মামলায় ৮ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। এরপর হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। সেইসঙ্গে মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করে আসামিরা।


ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট দুইজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের রায়ে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছিল রফিকুল ইসলাম শাকিল ও রাজন তালুকদারের। আর মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস পেয়েছিলেন সাইফুল ইসলাম ও কাইয়ুম মিঞা টিপু। এ ছাড়া মৃত্যুদণ্ড থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল চারজনকে। অন্যদিকে, বিচারিক আদালতের দেওয়া যাবজ্জীবন থেকে খালাস পান দুইজন।


তবে রায়ের বিরুদ্ধে আবেদন না করায় বিচারিক আদালতে যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত বাকি ১১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়েছিল।


২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর ১৮ দলের অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে রাজধানীর পুরান ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্কের সামনে বিশ্বজিৎ দাসকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ২০১৩ সালের ৫ মার্চ ছাত্রলীগের ২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।


সুপ্রিম কোর্ট

  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৫৬ পিএম

গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে পাঁচ করবর্ষের জন্য এনবিআর’র (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) দাবিকৃত ৬৬৬ কোটি ৯১ লাখ ৫২ হাজার ৩৭০ টাকা কর আদায় করতে হাইকোর্টের নির্দেশ স্থগিত করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।


হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে গ্রামীণ কল্যাণের করা লিভ টু আপিলের (আপিলের অনুমতির আবেদন) পরিপ্রেক্ষিতে আজ রবিবার (১৮অক্টোবর) চেম্বার আদালতের বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দেন। চেম্বার আদালত আপিলের ওপর আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য আগামী ১৩ ডিসেম্বর দিন ধার্য করে।


কর কমিশনারের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গ্রামীণ কল্যাণের করা পৃথক দুটি রিট আবেদনের ওপর দেওয়া রুল খারিজ (রুল ডিসচার্জ) করে গত ১০ সেপ্টেম্বর এ রায় দিয়েছিল বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ। পরে গত ১২ অক্টোবর এ সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। এর ধারাবাহিকতায় লিভ টু আপিল করে গ্রামীণ কল্যাণ।


প্রসঙ্গত, গ্রামীণ কল্যাণের চেয়ারম্যান ছিলেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।


গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফিদা এম কামাল, আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সরদার জিন্নাত আলী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মেহেদি হাসান। অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশটি স্থগিত করেছেন এবং শুনানির জন্য তারিখ ধার্য করেছেন। ফলে আপিল বিভাগে বিষয়টির চ‚ড়ান্ত শুনানি না হওয়া পর্যন্ত গ্রামীণ কল্যাণকে কোনো টাকা দিতে হচ্ছে না।


আইনজীবীদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ করবর্ষগুলোর জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে প্রদেয় কর দাবি নিয়ে  ২০১৭ সালে গ্রামীণ কল্যাণ হাইকোর্টে দুটি পৃথক রিট আবেদন করে। শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল দেয়। রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানির পর ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর রায় দেয় হাইকোর্ট। রায়ে কর কমিশনারের আদেশ বাতিল করে আদালত। পাশাপাশি বিলম্ব মার্জনা করে শর্তসাপেক্ষে আইনের বিধি অনুযায়ী ৬০ দিনের মধ্যে গ্রামীণ কল্যাণকে আপিলের সুযোগ দিতে বলা হয় রায়ে। 


পরে হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে এনবিআর পৃথক লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতির আবেদন) করে। ২০২৪ সালের ১১ মার্চ আপিল নিস্পত্তি করে আদেশ দেয় আপিল বিভাগ। আদেশে গ্রামীণ কল্যাণের করা রিটের মূল বিষয়বস্তুর ওপর হাইকোর্টে পুনঃশুনানি করতে বলে আপিল বিভাগ। পুন:শুনানি শেষে সংশ্লিষ্ট দুটি রিট আবেদন খারিজ করে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট রায় দিয়েছিল হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ। যদিও ওই বছরের ২৯ আগস্ট রায় প্রত্যাহার করে হাইকোর্ট।


রায় প্রত্যাহারের কারণ হিসেবে তখন বলা হয়ছিল, রায় দেওয়া দ্বৈত বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারক একসময় এসব মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে শুনানি করেছিলেন। তাই রায়টি ত্রুটিপূর্ণ (ডিফেক্টিভ) হবে। পরে প্রধান বিচারপতির কাছে এই মামলার নথি পাঠানো হয়। প্রধান বিচারপতি বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। এর ধারাবাহিকতায় হাইকোর্টের এ রায় হয়। 


সৈয়দ আবেদ আলী জীবন ও তার ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়াম

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:৫১ পিএম

জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামের চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি এম তারিকুল কবীর অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় দেন। দুদকের আইনজীবী দেলোয়ার জাহান রুমী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।  


তিনি জানান, চার বছরের দণ্ডের সঙ্গে আসামিকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সিয়ামের অবৈধভাবে অর্জিত ৩১ লাখ ৮১ হাজার টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) প্রশ্নফাসের ঘটনায় আলোচিত সংস্থাটির সাবেক চেয়ারম্যানের গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলীর ছেলে সিয়াম। তিনি একসময় ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ছিলেন। তবে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।



২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি সিয়ামের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন। মামলায় তার বিরুদ্ধে ২০২১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ৩৭ লাখ ৩০ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়।



তদন্ত শেষে একই বছরের ৩০ ডিসেম্বর সিয়ামকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, জ্ঞাত আয় উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৩১ লাখ ৮১ হাজার টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। 


এ বছরের ১৭ জুন এ মামলায় সিয়ামের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। এরপর সাক্ষ্য গ্রহণ দুদক ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আজ রায় দেওয়া হয়।


সুপ্রিম কোর্ট

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:০০ পিএম

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে তিন দিন সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।


সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।


এতে বলা হয়, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের কার্যক্রম আগামী ২০ থেকে ২২ অক্টোবর (মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার) বন্ধ থাকবে। তবে আগামী ১৭ অক্টোবর শনিবার বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের দাপ্তরিক কার্যক্রম চলমান থাকবে।

  • প্রকাশ : শনিবার ১০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:১৬ এএম
  • আপডেট : শনিবার ১০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:০৭ পিএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


  • প্রকাশ : শনিবার ১০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:১৬ এএম

দেশের নিপীড়িত, নির্যাতিত, অসহায় ও দুস্থ মানুষের আইনগত অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ সনাতন আইনজীবী পরিষদ’ নামে নতুন একটি ইউনিট গঠন করেছে বাংলাদেশ সনাতন পার্টি।


নবগঠিত বাংলাদেশ সনাতন আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জের কৃতী সন্তান অ্যাডভোকেট তরুন লাল বেগী। সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন খুলনার কৃতী সন্তান অ্যাডভোকেট সফল দাশ। এ ছাড়া সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন অ্যাডভোকেট অজয় টিকাকর, অ্যাডভোকেট বিমল চন্দ্র রায় ও অ্যাডভোকেট আকাশ দাস।


শুক্রবার (৯ অক্টোবর ২০২৬) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সম্মেলনে এ আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।


শ্রী অনুপ কুমার সাহার সভাপ‌তি‌ত্বে সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ঢাকা দ‌ক্ষিন সি‌টি ক‌র্পো‌রেশ‌নের প্রশাসক আবদুস সালাম। স‌ম্মেলন সঞ্চালনা ক‌রেন এড‌ভো‌কেট সুমন কুমার রায়।


নবগঠিত এই পরিষদের মাধ্যমে দেশের নিপীড়িত ও অসহায় মানুষের আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠা, আইনি সহায়তা প্রদান এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ০৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:১৭ পিএম

জামায়াতে ইসলামীর নেতা অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জনের জামিন শুনানিতে আদালতে হাতাহাতিতে জড়িয়েছেন আইনজীবীরা। আজ রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীপন্থি আইনজীবীদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।


আইনজীবীদের হট্টগোলের মধ্যে এজলাস ছাড়েন বিচারক।


শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে (ইডি) হুমকি ও নিরাপত্তা সুপারভাইজারকে মারধরের অভিযোগে করা এ মামলায় এ দিন জামিন শুনানি ছিল আখতারুজ্জামানের।


শুনানি শুরুর আগে দুপুর ২টা ৩৮ মিনিটের দিকে আখতারুজ্জামানকে মাথায় হেলমেট ও হাতকড়া পরিয়ে এজলাসে তোলা হয়। এর আগে থেকেই এজলাস বিএনপি ও জামায়াতপন্থি আইনজীবীদের উপস্থিতিতে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে।


আখতারুজ্জামানকে এজলাসে তোলার মিনিট দুয়েক পর ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম এজলাসে ওঠেন। এজলাসে দাড়ানো নিয়ে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে হট্টগোল শুরু হয়। পরে তারা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। এ অবস্থায় ২ টা ৪১ মিনিটের দিকে ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম এজলাস ছেড়ে খাসকামরায় চলে যান।


রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী এবং আসামিপক্ষের প্রধান আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাকের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। মিনিট দুয়েক পর পুনরায় এজলাসে আসেন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম।