সংসদে মাহবুব উদ্দিন খোকন। ফাইল ছবি

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:০০ এএম

আপিল বিভাগে একটি মামলায় জরিমানার আদেশ নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের সঙ্গে কথোপকথনের এক পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীসহ পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের এজলাস ত্যাগের বিষয়টি জাতীয় সংসদে তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান।


এ ঘটনাকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ আখ্যা দিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, জনগণের ন্যায়বিচার পাওয়ার শেষ আশ্রয়স্থল বিচার বিভাগে এমন ঘটনা কী বার্তা দিচ্ছে।


জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেছেন, ঘটনাটি রাষ্ট্রের তিন অঙ্গের মধ্যে কোনো অঙ্গের সঙ্গে ঘটেনি। এটি একজন আইনজীবীর আচরণের বিষয়। তবে ওই আচরণকে তিনি সমর্থন করছেন না।


বুধবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে বিষয়টি তোলেন নাজিবুর রহমান। তিনি বলেন, “আমাদের সম্মানিত সংসদ সদস্য বার-এর প্রেসিডেন্ট জনাব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। উনার সাথে প্রধান বিচারপতির একটি বদানুবাদের ঘটনা ঘটে, যার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি এবং সকল আপিল বিভাগের বিচারপতি তাদের এজলাস ত্যাগ করেন এবং গতকালকে তারা আর কোর্টে ফিরে আসেননি।”


মঙ্গলবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে আপিল বিভাগ একটি মামলায় আদেশ দেয়। একই বিষয়ে একাধিক রিট আবেদন এবং আগের মামলার তথ্য গোপনের অভিযোগে রিট আবেদনকারী মো. নূর আলম ও তার আইনজীবী সুফিয়া আহামেদকে পাঁচ লাখ টাকা করে মোট ১০ লাখ টাকা জরিমানা (কস্ট) করা হয়।


জরিমানার টাকা ৩০ দিনের মধ্যে ঢাকা শিশু হাসপাতালে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।


আদেশ দেওয়ার সময় আইনজীবী সুফিয়া আহামেদ আদালতে ছিলেন। তবে তার সিনিয়র আইনজীবী হিসেবে এসব মামলায় যুক্ত ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন তখন আদালতে ছিলেন না।


দুপুরের পর এজলাসে গিয়ে ব্যারিস্টার খোকন প্রধান বিচারপতির কাছে ওই নারী আইনজীবীর পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা মওকুফের অনুরোধ করেন।


তার ভাষ্য ছিল, একজন জুনিয়র ল’ইয়ার হিসেবে ৫ লাখ টাকা ‘কস্ট’ অনেক বেশি হয়ে গেছে, এটা মাফ করে দেওয়া দরকার।


ওই কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি আপিল বিভাগে মামলা কমে যাওয়া এবং এর ফলে আইনজীবীদের আয় কমে যাওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন।


সেই ঘটনা বর্ণনা করে ব্যারিস্টার খোকন পরে সাংবাদিকদের বলেন, “আমি মাননীয় প্রধান বিচারপতিকে বললাম, যে আপনি মাননীয় প্রধান বিচারপতি হওয়ার পরে আসলে মামলা-টামলা খুব একটা হচ্ছে না আপিল বিভাগে। আইনজীবীদের ইনকাম কমে গেছে।"


খোকনের দাবি, তার বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল আপিল বিভাগে বেঞ্চের সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে মামলার শুনানি কমে যাওয়ার বিষয়টি বোঝানো।


তবে প্রধান বিচারপতি তখন খোকনের কাছে জানতে চান, তিনি প্রধান বিচারপতি হওয়ার পরই আইনজীবীদের আয় কমে গেছে–এমন কিছু খোকন বোঝাতে চাইছে কি না।


খোকন একই বক্তব্য আবার বলার চেষ্টা করলে প্রধান বিচারপতি তাকে বলেন, তার ওই বক্তব্য ‘অ্যাবসোলিউটলি আদালত অবমাননার শামিল’।


এরপর প্রধান বিচারপতি জানান, তিনি আর আদালতে দিনের কার্যক্রমে অংশ নেবেন না। এরপর তিনি এবং বেঞ্চের অন্য বিচারকরা এজলাস ছেড়ে উঠে যান।


সকালের ঘটনার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন জানিয়ে সংসদ সদস্য নাজিবুর বলেন, “একজন আইনজীবী বারংবার সত্যকে গোপন করে রিট করার কারণে পেনাল্টি হিসেবে জরিমানা করা হয়, যার পরিপ্রেক্ষিতে এই ঘটনাটির সূত্রপাত হয়।”


তিনি বলেন, “মাহবুব উদ্দিন খোকন শুধু একজন আইনজীবী নন, তিনি সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং সংসদের একজন সদস্য।


“এ ধরনের যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা, আমরা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা বলি। জনগণের ন্যায়বিচার পাওয়ার যে সর্বশেষ আশ্রয়স্থল, সেটা হলো বিচার বিভাগ। এ ধরনের ঘটনা জনগণকে কী মেসেজ দিচ্ছে, এটা আমাদেরকে চিন্তা করা উচিত।”


অতীতের একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদী আমলে প্রধান বিচারপতিকে অস্ত্রের মুখে কিন্তু তার পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছিল।”


এরপর ‘ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ডরায়’ প্রবাদটি মনে করিয়ে দিয়ে নাজিবুর বলেন, “এ ধরনের ঘটনা সে ধরনের বার্তা দিচ্ছে কিনা, এটা কিন্তু আমাদেরকে খতিয়ে দেখতে হবে।”


‘এক অঙ্গ আরেক অঙ্গের ওপর প্রভাব বিস্তার করবে না’


রাষ্ট্রের তিন অঙ্গের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্যের বিষয়টিও তোলেন নাজিবুর রহমান।


তিনি বলেন, “বিশেষ করে আমাদের রাষ্ট্রের যে তিনটি প্রধান অঙ্গ রয়েছে, বিচার বিভাগ—তার স্বাধীনতা আমরা চাই, সকলে এটার ব্যাপারে কথা বলেছে। এটা যেমন সার্বভৌম নয়, একই সাথে সংসদও সার্বভৌম নয় এবং এক্সিকিউটিভ, সেটাও সার্বভৌম নয়।”


এই সংসদ সদস্য লেন, “এই তিনটা মিলে জনগণ যে সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক, যেভাবে ক্ষমতা দিয়েছে, সেই ক্ষমতাকে আমাদেরকে সেইভাবে ব্যবহার করতে হবে, একটা অঙ্গ আরেক অঙ্গের উপরে কোনো প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করবে না, এটাই আমাদের জন্য প্রযোজ্য, এটাই যথার্থ।”


এ বিষয়ে জনগণকে আশ্বস্ত করতে আইনমন্ত্রীর বক্তব্য চান তিনি। তখন স্পিকার বলেন, সংসদ সদস্য ক্ষমতার পৃথকীকরণের প্রেক্ষাপটে আইনমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি জানতে চেয়েছেন। আইনমন্ত্রী চাইলে তখনই অথবা পরে কার্যপ্রণালী বিধির ৩৫০ বিধিতে বক্তব্য দিতে পারেন।


জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, বিষয়টি ‘আলোচনার দাবি রাখে’।


তবে তিনি বলেন, “সেপারেশন অফ পাওয়ারের যে থিওরি, তা এখানে অ্যাপ্লাই করে না মাননীয় স্পিকার।”


তার ব্যাখ্যা, ঘটনাটি একজন আইনজীবীর আচরণের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং সেই আইনজীবী সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি।


আইনমন্ত্রী বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের তিনটা অর্গানের কোনো অর্গানের পার্ট নয়। ইট ইজ অ্যান ইনফরমাল বডি, ইট ইজ অ্যান অ্যাসোসিয়েশন অফ দ্য মেম্বারস হু আর প্র্যাকটিসিং ইন দ্য সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ।”


তিনি বলেন, ওই আইনজীবী বিচার বিভাগ, আইন বিভাগ বা শাসন বিভাগের কোনো অঙ্গকে প্রতিনিধিত্ব করেননি।


তবে আইনমন্ত্রী এও বলেন, “দ্যাট ডাজ নট মিন আই অ্যাম জাস্টিফাইং দ্যাট অ্যাকশন।”


আইনমন্ত্রী বলেন, আদালতে আইনজীবী ও বেঞ্চের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের ঘটনা নতুন নয়।


তিনি বলেন, “এটা অনেক সময় দেখা যায় এটা বার অ্যান্ড বেঞ্চের রিলেশনশিপের ব্যাপার। অনেক সময় মনে হচ্ছে যে আমরা ফাইট করছি বারে। কোনো সময় আদার সাইডের লইয়ারের সাথে, কোনো সময় আমরা বেঞ্চের সাথে। কিন্তু বের হওয়ার পরে আমরা কিন্তু এক হয়ে যাই।”


এ প্রসঙ্গে তিনি নিজের পেশাজীবনের একটি ঘটনার উদাহরণ দেন।


আসাদুজ্জামান বলেন, একটি মামলায় ড. কামাল হোসেন, রফিকুল হক ও ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ এক পক্ষে এবং ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ অন্য পক্ষে ছিলেন।


বিচারকের একটি প্রশ্নের পর রফিকুল হক বলেছিলেন, “আমার ৫০ বছরের প্র্যাকটিসের জীবনে আমি এরকম কোনো সাবমিশন শুনি নাই।”


এর জবাবে রোকনউদ্দিন মাহমুদ বলেছিলেন, “আমার মত মানুষের বাচ্চা ৫০ দিনে এটা শিখতে পারে, কিন্তু যাদের ব্রেন নাই তারা ৫০ বছরেও শিখবে না।”


আইনমন্ত্রী বলেন, পরে ইশতিয়াক আহমেদ তাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ না করতে বললে রোকনউদ্দিন মাহমুদ বলেন, “আপনি দালালি করবেন না।”


আদালতে এমন তর্কের পরও পরে ওই আইনজীবীদের একসঙ্গে চা খেতে দেখেছিলেন বলে সংসদে জানান আসাদুজ্জামান।


মঙ্গলবারের ঘটনার বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধান বিচারপতি যেভাবে আদালত থেকে উঠে গিয়েছিলেন, তাতে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর আচরণ ‘যথাযথ ছিল না’ বলে তাদের মনে হয়েছে।


তিনি বলেন, “কালকে মাননীয় প্রধান বিচারপতি যেভাবে কোর্ট থেকে উঠে গেলেন, এই উঠে যাওয়াটা আমাদের কাছে নিশ্চিতভাবেই মনে হয়েছে দ্য লইয়ার হু ডেমোনস্ট্রেটেড দ্যাট কন্ডাক্ট ওয়াজ নট প্রপার।”


আইনমন্ত্রী বলেন, বুধবার প্রধান বিচারপতি আদালতে বসে আদালত অবমাননার রুল দিতে পারেন বলে তাদের ধারণা হয়েছিল। কিন্তু তা হয়নি।


তিনি বলেন, “সকাল ৯টায় উঠেই উনি আবার কিন্তু যথারীতি কাজ শুরু করেছেন এবং ওই লয়ারও সেই মাননীয় প্রধান বিচারপতির কোর্টে গিয়ে স্বাভাবিকভাবে মামলা করেছেন বলে খবর পেয়েছি।”


ঘটনাটি সংসদে তোলার জন্য নাজিবুর রহমানকে ধন্যবাদ জানান আইনমন্ত্রী।


তিনি বলেন, “এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে কেউ ঘটাবেন না বলে আমরা প্রত্যাশা রাখি এবং এটা আমাদের সংবিধানের আর্টিকেল ২১-এ আমাদের নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব রয়ে গেছে।”


পরে সংসদে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করেন মাহবুব উদ্দিন খোকন।


তিনি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আগের দিনের ঘটনা বর্ণনা করতে চাইলে স্পিকার তাকে শুধু বিশেষ ব্যাখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে বলেন।


ডেপুটি স্পিকার বলেন, “আপনার যদি বিশেষ ব্যাখ্যা থাকে তা দিন। আইনমন্ত্রী সুন্দরভাবে বলেছেন। আমি ওই বারের ক্ষুদ্র সদস্য। আপনি ওই বারের সভাপতি। আমার মনে হয়, আইনমন্ত্রী যেভাবে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, মহান সংসদে তা গ্রহণযোগ্য হয়েছে। আর নতুন করে যদি যুক্ত করার না থাকে তাহলে বসুন।”


এরপরও মাহবুব উদ্দিন খোকন ঘটনার বিস্তারিত বলতে চাইলে ডেপুটি স্পিকার তাকে থামান।


ডেপুটি স্পিকার বলেন, “জুডিশিয়াল বিষয়ে অভ্যন্তরীণ কথা বলা শোভা পাচ্ছে না। আইনমন্ত্রী সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। আপনি বসুন।”


একপর্যায়ে সংসদ কক্ষে হইচই শুরু হলে স্পিকার মাহবুব উদ্দিন খোকনের মাইক বন্ধ করে দেন।


মাহবুব উদ্দিনের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে এজলাস ছাড়লেন প্রধান বিচারপতি





প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৫০ পিএম

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গত একদিনে ডেঙ্গু নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ২৯৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু-বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) দুজন ও ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) একজনের মৃত্যু হয়েছে।


এতে চলতি বছর মশাবাহিত রোগটিতে এ পর্যন্ত মোট প্রাণহানি ৩৭১ জনে দাঁড়াল।


এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাহিরে) সবচেয়ে বেশি ২৭৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পাশাপাশি এই সময়ে বরিশাল বিভাগে ১৫৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২১৯, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১১৬, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩১, খুলনা বিভাগে ১৪৭, ময়মনসিংহ বিভাগে ১০০, রাজশাহী বিভাগে ১১৩ ও রংপুর বিভাগে ৩৮ ও সিলেট বিভাগে দুইজন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।


সবমিলিয়ে চলতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে আজ শুক্রবার পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ৩৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনসহ শুধু ঢাকা বিভাগেই ডেঙ্গুতে ১৭৯ জন মারা গেছেন।


এ ছাড়া উল্লেখিত সময়ে খুলনা বিভাগে ৬৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩০ জন, বরিশাল বিভাগে ২৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৩ জন, রংপুরে ৭ জন ও সিলেট বিভাগে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:২২ পিএম

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২১৪ জনে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।


বুলেটিনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেট বিভাগেই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ১৩৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।


বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৫৫৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১৯৪ জন, বরিশালে ১১৫ জন, সিলেটে ৯৪ জন, ময়মনসিংহে ৬৫ জন, খুলনায় ৬০ জন, রংপুরে ২৪ জন এবং রাজশাহীতে ২০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬৩৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ৮৬ হাজার ৭৯৮ জন।


এদিকে, ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৮৭০ জনে। তাদের মধ্যে ২৩ হাজার ২৭৩ জনের শরীরে হাম নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে।








ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:২৫ পিএম

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খানকে দেখে এলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।


বঙ্গভবন জানিয়েছে, শুক্রবার সকালে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে যান রাষ্ট্রপতি। তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।


স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর স্ত্রী অ্যাডভোকেট রোকসানা খন্দকার এ সময় উপস্থিত ছিলেন।


এভারকেয়ার হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সাহাবুদ্দিন তালুকদারসহ চিকিৎসকরা আবদুল মঈন খানের সর্বশেষ অবস্থা রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।


গত বুধবার বুকে ব্যথা নিয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন মঈন খান। তিনি শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগে ভুগছেন। চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।


শাহজালাল বিমানবন্দরে যাত্রীরা (ফাইল ছবি)

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:১০ পিএম

৩৫ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠিয়েছে ইউরোপের কয়েকটি দেশ। এর মধ্যে ইতালি থেকে ১৯ জন, গ্রিস থেকে ১০ জন এবং সাইপ্রাস থেকে ছয়জন বাংলাদেশি দেশে ফিরছেন। 


ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল সোয়া আটটায় একটি বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে (পিভিজি ৯৪৪৫) তারা ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।


বিমানবন্দরে সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটি ও প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহযোগিতায় ফেরত আসা বাংলাদেশিদের জরুরি সহায়তা, কাউন্সেলিং এবং নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম। এ সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।


বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, একটি বিশেষ বিমানে করে ৩৫ বাংলাদেশি শুক্রবার সকালে ঢাকায় এসেছেন। এর মধ্যে ইতালি থেকে ১৯ জন, গ্রিস থেকে ১০ জন এবং সাইপ্রাস থেকে ছয়জন বাংলাদেশি দেশে ফিরছেন। 


তাদের সবাইকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রত্যাশা-২ প্রকল্প থেকে বিমানবন্দরে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে কাউন্সিলিং ও প্রশিক্ষণ শেষে সবাইকে অর্থনৈতিক সহায়তা করা হবে।


বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:০৩ পিএম

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দোকানপাট ও শপিং মল রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার বিশেষ অনুমতির মেয়াদ শেষ হয়েছে। ফলে আজ শুক্রবার থেকে আগের সময়সূচি অনুযায়ী সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে দোকানপাট, মার্কেট ও বিপণিবিতান। 



এতে প্রতিষ্ঠানগুলোর খোলা থাকার সময় দুই ঘণ্টা কমছে। বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রাখতে চলতি বছর কয়েক দফায় দোকানপাট খোলা ও বন্ধের সময় পরিবর্তন করেছে সরকার। সর্বশেষ গত ৫ অক্টোবর দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত রাত ১০টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখার অনুমতি দেয় বিদ্যুৎ বিভাগ। 



সেই সময়সীমা শেষ হওয়ায় আজ থেকে পুরোনো নিয়ম কার্যকর হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সকাল ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত শপিং মল, মার্কেট ও দোকানপাট খোলা রাখা যাবে। ২৩ অক্টোবর থেকে আগের নিয়মে সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে হবে।


এ বছর জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে দোকানপাট বন্ধের সময় একাধিকবার পরিবর্তন করা হয়। এপ্রিলের শুরুতে শপিং মল ও দোকানপাট সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরে ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সময় বাড়িয়ে সন্ধ্যা ৭টা করা হয়। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে গত ১২ মে সাময়িকভাবে রাত ১০টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়। 


এরপর জুনে বন্ধের সময় রাত ৯টা নির্ধারণ করা হয়। পরে ১২ আগস্ট বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সময় আরও এক ঘণ্টা কমিয়ে রাত ৮টা করা হয়। সেই অনুযায়ী সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখার নিয়ম চালু হয়, যা আজ থেকে আবার কার্যকর হলো।


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৫৯ পিএম
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৫৯ এএম


জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে নিসচার র‍্যালি ও সমাবেশ

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৫৯ পিএম

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর উদ্যোগে আজ সকাল ১১টায় রাজধানীর কাকরাইলে নিসচার কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে জাতীয় প্রেসক্লাব পর্যন্ত এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। র‍্যালিতে নিসচার উপদেষ্টা, আজীবন সদস্য, কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ, সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, সবার জন্য বাংলাদেশ, নিসচা মুন্সীগঞ্জ জেলা শাখা, নিসচা ঢাকা জেলা, বাংলাদেশ সাইকেল লেন, নিসচা ধামরাই উপজেলা,নিসচা পলাশ উপজেলা শাখা, নিসচা নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা, নিসচা লৌহজং উপজেলা শাখা, নিসচা শিবপুর উপজেলা শাখা, নিসচা সাভার উপজেলা শাখা, নিসচা ঠাকুরগাঁও জেলা শাখা  এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ অনেকে অংশ নেন।


 


র‍্যালিটি কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে নির্ধারিত পথ অতিক্রম করে জাতীয় প্রেসক্লাবে গিয়ে শেষ হয়। অংশগ্রহণকারীরা সড়কে শৃঙ্খলা, আইন মানা, চালক ও যাত্রীর নিরাপত্তা এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান। তাঁদের হাতে থাকা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ডে নিরাপদ সড়কের দাবিতে নানা বার্তা তুলে ধরা হয়। র‍্যালি থেকে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও পঙ্গুত্বের ঝুঁকি কমাতে সরকার, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, পরিবহন খাত, গণমাধ্যম এবং নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।


 


জাতীয় প্রেসক্লাবে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে নিসচার নেতৃবৃন্দ বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা কোনো অনিবার্য ঘটনা নয়। পরিকল্পিত ব্যবস্থা, বিদ্যমান আইন ও বিধির যথাযথ প্রয়োগ, দক্ষ চালক তৈরি এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের সচেতন আচরণের মাধ্যমে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব। এজন্য সড়ক নিরাপত্তাকে বিচ্ছিন্ন কোনো কর্মসূচি হিসেবে না দেখে নিয়মিত ও সমন্বিত জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।


 


নেতৃবৃন্দের বক্তব্যে চালকের যোগ্যতা ও প্রশিক্ষণ, যানবাহনের ফিটনেস, সড়কের নকশা ও রক্ষণাবেক্ষণ, পথচারীর নিরাপত্তা, দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার এবং চিকিৎসা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। তাঁরা বলেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে কেবল আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়, আইন বাস্তবায়ন, তদারকি, তথ্য সংগ্রহ এবং অনিয়মের জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে।


 


নিসচার দাবি ও সুপারিশ

র‍্যালি ও সমাবেশ থেকে নিসচার পক্ষ থেকে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কয়েকটি দাবি ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়:


 


সড়ক নিরাপত্তা আইন ও বিধির কার্যকর প্রয়োগ: ট্রাফিক আইন ভঙ্গ, বিপজ্জনক গতিতে গাড়ি চালানো, ভুল পথে চলা, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, অতিরিক্ত যাত্রী বা মাল বহন এবং যানবাহনের কাগজপত্র ও ফিটনেসসংক্রান্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে নিয়মিত ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা নিতে হবে।


চালকদের দক্ষতা ও যোগ্যতা নিশ্চিত করা: পেশাদার চালকদের প্রশিক্ষণ, পরীক্ষার মান এবং লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করতে হবে। চালকের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা, বিশ্রাম এবং কর্মঘণ্টার বিষয়েও নজর দিতে হবে, যাতে ক্লান্তি বা অদক্ষতার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি না বাড়ে।


যানবাহনের ফিটনেস ও নিরাপত্তা তদারকি: যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানসহ সব ধরনের যানবাহনের নিয়মিত পরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। ত্রুটিপূর্ণ, অনুপযোগী বা অতিরিক্ত ধোঁয়া নির্গমনকারী যান চলাচল বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধারাবাহিক নজরদারি করতে হবে।


সড়ক ও অবকাঠামো নিরাপদ করা: ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, অপর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, অস্পষ্ট বা অনুপস্থিত সাইন-সিগন্যাল এবং বিপজ্জনক প্রবেশপথ চিহ্নিত করে দ্রুত সংস্কার করতে হবে। সড়ক নির্মাণ ও মেরামতের পরিকল্পনায় চালক, যাত্রী, পথচারী, শিশু, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিরাপত্তা বিবেচনায় রাখতে হবে।


পথচারী ও যাত্রী সুরক্ষা: ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা করা, প্রয়োজনীয় স্থানে জেব্রা ক্রসিং ও ট্রাফিক সংকেত স্থাপন এবং বাসস্টপ ও যাত্রী ওঠানামার স্থান সুশৃঙ্খল করা জরুরি। স্কুল, হাসপাতাল, বাজার ও জনবহুল এলাকায় যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।


গতিসীমা ও ঝুঁকিপূর্ণ চালনা নিয়ন্ত্রণ: সড়কের ধরন ও পরিবেশ অনুযায়ী গতিসীমা নির্ধারণ করে তা দৃশ্যমানভাবে জানাতে হবে। দ্রুতগতির যান শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং নিয়মিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করার সুপারিশ করা হয়।


দুর্ঘটনার তথ্য ও গবেষণা: দুর্ঘটনার স্থান, সময়, ধরন ও কারণ সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করে নিয়মিত বিশ্লেষণ প্রকাশ করতে হবে। তথ্যের ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।


দুর্ঘটনার পর দ্রুত সেবা: দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার, জরুরি চিকিৎসা এবং উপযুক্ত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে। জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং সাধারণ মানুষের জন্য সহজে ব্যবহারযোগ্য জরুরি যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।


নিরাপত্তা শিক্ষার বিস্তার: বিদ্যালয়, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, কর্মক্ষেত্র ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে নিয়মিত শিক্ষা ও প্রচার চালাতে হবে। চালক, হেলপার, যাত্রী, পথচারী এবং পরিবহন মালিক—সবার জন্য সচেতনতামূলক কর্মসূচি প্রয়োজন।


সমন্বিত ও জবাবদিহিমূলক উদ্যোগ: সড়ক নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত সরকারি দপ্তর, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠন, বিশেষজ্ঞ এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে। নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করে জনগণের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।


 


নিসচার নেতৃবৃন্দ বলেন, নিরাপদ সড়ক গড়ে তুলতে প্রত্যেকের ভূমিকা রয়েছে। চালককে দায়িত্বশীলভাবে গাড়ি চালাতে হবে, যাত্রীকে নিরাপত্তাবিধি মানতে হবে, পথচারীকে সতর্ক থাকতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিয়ম প্রয়োগ ও নিরাপদ অবকাঠামো নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে পরিবহনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ এবং জনসচেতনতামূলক উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ।


 


তাঁরা আরও বলেন, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো এবং আহত ব্যক্তিদের যথাযথ সহায়তা দেওয়া মানবিক দায়িত্ব। দুর্ঘটনার কারণ নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান, প্রতিরোধমূলক সুপারিশ বাস্তবায়ন এবং একই ধরনের দুর্ঘটনা যেন পুনরায় না ঘটে সে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।


 


জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের কর্মসূচি থেকে নিসচা দেশের সর্বস্তরের মানুষকে সড়ক আইন মেনে চলা, নিরাপদ গতিতে যানবাহন চালানো, ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ পরিহার করা এবং সড়কে অন্যের অধিকার ও নিরাপত্তার প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের প্রতি সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বাস্তবসম্মত, ধারাবাহিক ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।


 


২২ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে এবারের প্রতিপাদ্য হলো – ‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। আর নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য নিরাপদ নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।