সুপ্রিম কোর্ট

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৯ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ৮:০৭ এএম

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্বের অভিযোগ তুলে বিরোধী দলের সদস্যরা আপত্তি দিলেও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা তিনটি অধ্যাদেশ বাতিল করেছে জাতীয় সংসদ। আলাদা দুটি বিল পাসের মাধ্যমে এসব অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়।


আজ বৃহস্পতিবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকে এ দুটি বিল পাস হয়েছে। এর মধ্যে ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ রহিতকরণ বিল, ২০২৬’ পাসের মাধ্যমে বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল হয়।


আর ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় রহিতকরণ বিল, ২০২৬’ পাসের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়।


ফলে আপাতত সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের জন্য আলাদা কোনো আইন থাকছে না। সুপ্রিম কোর্টের স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার আইনগত ভিত্তিও থাকছে না। বিচারক নিয়োগ ও বিচার বিভাগের প্রশাসনিক কার্যক্রম আগের কাঠামোয় ফিরে যাচ্ছে।


সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ জারি হল যেভাবে


বাংলাদেশে স্বাধীন বিচার বিভাগের দাবি কয়েক যুগ ধরে বিভিন্ন মহল থেকে করা হচ্ছিল। এ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা ও সভা-সমাবেশের মধ্যে ১৯৯৫ সালে বিসিএস বিচার অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মাসদার হোসেন ও তার সহকর্মীরা বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগের প্রভাব থেকে মুক্ত করার দাবিতে মামলা করেন।


সেই মামলায় ১৯৯৯ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত রায় দেয়। সেই রায়ের ২৬ বছর পর বিচার বিভাগের জন্য আলাদা সচিবালয় করার পদক্ষেপ গত বছর ২০ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সররকারের অনুমোদন পায়। 


তার ১০ দিনের মাথায় ৩০ নভেম্বর 'সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫' জারি হয়।


এ অধ্যাদেশ পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার পর নিম্ন আদালতের বিচারকদের বদলি, পদোন্নতি, শৃঙ্খলাজনিত বিষয়, ছুটির পাশাপাশি নিম্ন আদালতের বিচারকদের নিয়োগের সব কিছু সুপ্রিম কোর্টের সচিবালয় করবে।


অধ্যাদেশ অনুযায়ী ১১ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা করে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়। সুপ্রিম কোর্টের প্রশাসনিক ভবন-৪ এ সচিবালয় উদ্বোধন করেন তখনকার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ।


‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় নগ্ন হস্তক্ষেপ’


সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় রহিতকরণ বিলটি অবিলম্বে বিবেচনার প্রস্তাব সংসদে তোলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তখন আপত্তি জানান বিরোধী সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান।


পাবনা-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর এই সদস্য বলেন, “বিলটি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ এবং স্বাধীনতার চরম লঙ্ঘন।” তার ভাষায়, “ফ্যাসিবাদী কায়দায় নিম্ন আদালতকে ব্যবহার করে বিরোধী মত দমনের আয়োজন চলছে।”


আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দণ্ডিত জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে নাজিবুর রহমান বলেন, বিচার বিভাগ এখন স্বাধীনভাবে কাজ করছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় কিছু বিচারককে শোকজও করা হয়েছে।


তিনি বলেন, আগে মন্ত্রণালয়ের কথা না শুনলে বিচারকদের দূরবর্তী জেলায় বদলি করা হতো, এখন সেই পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হচ্ছে।


জামায়াতের এ সদস্য বলেন, হাইকোর্টের একটি রায়ের ভিত্তিতেই সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল।


তার ভাষায়, ১৯৭২ সালের সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদে আনা পরিবর্তন অসাংবিধানিক ঘোষিত হয়েছে এবং মূল ১১৬ অনুচ্ছেদ ‘স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনরুজ্জীবিত’ হয়েছে। সে অনুযায়ী বিচারিক কার্যসম্পাদনকারী ম্যাজিস্ট্রেটদের পদায়ন, পদোন্নতি, ছুটি ও শৃঙ্খলা বিধানের ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত হয়েছে।


নাজিবুর রহমান বলেন, “সে রায় বাস্তবায়িত হয়ে গিয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছে। সেখানে রায়টি স্থগিত হওয়া কিংবা বাতিল হওয়া ছাড়া এটিকে বিলুপ্ত করা, সেই সচিবালয়কে বিলুপ্ত করার জন্য বিল আনা বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় নগ্ন হস্তক্ষেপ এবং আদালত অবমাননার শামিল।”


এই সদস্য বিলটি জনমত যাচাইয়ের জন্য পাঠানোরও প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, “রহিতকরণ বিলটি অসাংবিধানিক। এটা কোনোভাবেই পাস করা যাবে না।”


নাজিবুর রহমান বলেন, সংসদ সার্বভৌম বলে আদালতের রায় না মানার যে ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে, তা জনমত বিভ্রান্ত করছে।


তিনি একটি বইয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের কেউই সার্বভৌম নয়; সংবিধানের সীমার মধ্যেই তাদের কাজ করতে হয়। তার ভাষায়, কোনো আইন সংবিধানবিরোধী হলে আদালত সেটি বাতিল করতে পারে।


বিরোধী দলের এ সদস্য বলেন, জুলাই জাতীয় সনদে বিএনপি সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দেয়নি। সে অবস্থায় এখন রহিতকরণ বিল আনা জনগণের সঙ্গে ‘প্রতারণার’ শামিল।


জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, সুপ্রিম কোর্ট কোনো আইন অসাংবিধানিক কি না, তা বলতে পারে; কিন্তু সংসদকে কোনো আইন করতে ‘ডিক্টেট’ করতে পারে না।


মাসদার হোসেন মামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আদালত আইন নিয়ে মত দিতে পারে, কিন্তু আইন প্রণয়নের ক্ষমতা সংসদের।


আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতা চায় এবং তা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।


জামায়াতের সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আমরা চাই। ওনাদের পিতারা বিচার বিভাগের কাছে অবিচারের শিকার হয়েছিলেন। সেই স্বাধীনতা যেমন অ্যাবিউজড হয়েছে, যারা সে বিচার করেছিলেন তারা সবচেয়ে স্বাধীন বিচারক ছিলেন।”


তিনি বলেন, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যেখানে বিচারকদের চাকরি, বদলি, পদায়ন ও শৃঙ্খলাবিষয়ক সুরক্ষা সাংবিধানিকভাবে নিশ্চিত। তবে তার ভাষায়, সেই সুপ্রিম কোর্ট থেকেই ‘শপথবদ্ধ রাজনীতিবিদ’ এর জন্ম হয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বিচারের অভিযোগও উঠেছে।


খালেদা জিয়ার সাজার প্রসঙ্গ টেনে আসাদুজ্জামান বলেন, “সে সুপ্রিম কোর্ট বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেত্রী, গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী, বাংলাদেশের হৃৎপিণ্ড বেগম খালেদা জিয়াকে ৫ বছর থেকে ১০ বছর জেল দিয়েছিলেন।”


রাতে মোমবাতি জ্বালিয়ে বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে বিচারকাজ চালানোর অভিযোগও তোলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, এত ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সুপ্রিম কোর্ট একজন বিচারকের বিরুদ্ধেও শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেয়নি।


বিচারকদের শোকজের ব্যাখ্যা


বিচারকদের শোকজ দেওয়ার অভিযোগের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, আচরণবিধি অনুযায়ী বিচারক থাকা অবস্থায় কেউ কোচিং সেন্টারের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারেন না।


তার ভাষায়, কেউ কেউ ক্লাস নেওয়ার বিজ্ঞাপন দিচ্ছেন, কেউ কেউ ফেইসবুকে সংবিধান বিশেষজ্ঞ হিসেবে হাজির হচ্ছেন। সে কারণেই তাদের বিষয়ে নোটিস দেওয়া হয়েছে।


মন্ত্রী বলেন, সরকার সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। তবে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের মতো প্রশ্নে আরও আলোচনা ও যাচাই-বাছাই দরকার। পরে কণ্ঠভোটে নাজিবুর রহমানের আপত্তি নাকচ হয় এবং বিলটি পাস হয়।


বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ বাতিলেও আপত্তি


পরে আইনমন্ত্রী ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ রহিতকরণ বিল, ২০২৬’ পাসের জন্য প্রস্তাব করেন। এতে আপত্তি দেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি সদস্য আখতার হোসেন।


রংপুর-৪ আসনের এই সদস্য বলেন, অতীতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের ব্যবস্থায় রাজনৈতিক প্রভাব এতটাই প্রবল ছিল যে, তাতে ‘দলীয় আনুগত্যসম্পন্ন ও বিতর্কিত’ ব্যক্তিরাও বিচারপতির পদে যেতে পেরেছেন।


আইনমন্ত্রীর আগের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিচারপতিরা সাংবিধানিক সুরক্ষা পেয়েও কীভাবে ‘রাতে মোমবাতি জ্বালিয়ে’ বিচারকার্য চালিয়েছেন, কীভাবে বেগম খালেদা জিয়ার সাজার বাড়ানো হয়েছে এবং কীভাবে বিচারব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে, সেটাই প্রমাণ করে নিয়োগ-প্রক্রিয়ার গোড়াতেই সমস্যা ছিল।


আখতার হোসেন বলেন, “এই যে শপথবদ্ধ রাজনীতিবিদ তৈরি হল, খায়রুল হকের মতো বিচারপতি তৈরি হল, মানিকচোরা শব্দটা এখানকার জন্যে অশোভনীয় হতে পারে, কিন্তু বাইরে এই শব্দটা এভাবেই চলছে।”


তার ভাষায়, বিচারক নিয়োগের বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোয় রাষ্ট্রপতির নিয়োগক্ষমতা কার্যত প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শনির্ভর হওয়ায় রাজনৈতিক প্রভাবের সুযোগ তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই শেখ হাসিনার আমলে ‘মানিক চোরার মতো ব্যক্তিরা’ বিচারপতি হতে পেরেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।


বিচারক নিয়োগের বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামো বোঝাতে তিনি ঘুড়ির নাটাইয়ের উদাহরণ টানেন।


তার ভাষায়, “কোনো একটা ঘুড়িকে আপনি আকাশে উড়িয়ে দিয়েছেন, সেই ঘুড়ির নাটাই যদি আপনার হাতে থাকে, ঘুড়িকে আপনি যতই উড়ার স্বাধীনতা দেন না কেন, আকাশের মধ্যে সেই ঘুড়ি সেখানেই পাক খাবে, আপনি যখন টান দেবেন, তখন আপনার কাছেই ফিরে আসবে।”


আখতার হোসেন সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ ও ৪৮ অনুচ্ছেদে প্রধান বিচারপতি ও বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার বিষয়ে কি বলা হয়েছে, তা তুলে ধরেন। তার ভাষায়, এই কাঠামোর কারণেই রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত নিয়োগ সম্ভব হয়েছে।


এনসিপির এ সদস্য বলেন, “সেই ধরনের একটা পরিস্থিতি বাংলাদেশের সামনের দিনে চলুক, এটা তো আমরা কেউই চাই না।”


আখতার হোসেন বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আনা অধ্যাদেশে বিচারপতি নিয়োগের জন্য একটি ‘জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল’ গঠন করা হয়েছিল।


তার মতে, ওই অধ্যাদেশে বয়স, অভিজ্ঞতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, চারিত্রিক গুণাবলী ও প্রকাশনার মতো যোগ্যতার মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা অতীতে ছিল না।


আখতার হোসেন বলেন, অধ্যাদেশটিকে অসাংবিধানিক ঘোষণার জন্য রিট হয়েছিল, কিন্তু আদালত তা খারিজ করে দিয়েছিল। তার ভাষায়, “সেই অধ্যাদেশের মধ্যে কোনো অসাংবিধানিকতা নাই।”


আখতারের বক্তব্যের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, তাত্ত্বিকভাবে তিনি বিরোধী সদস্যের বক্তব্যের সঙ্গে একমত যে অতীতে বিচারপতি নিয়োগে ভয়াবহ সমস্যা ছিল।


তিনি বলেন, “বিশেষ করে গত ১৭ বছরের মধ্যে ফ্যাসিস্ট আমলে পার্টি ক্যাডারদেরকে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে, যে নিয়োগের মাধ্যমে বিচার বিভাগকে কলঙ্কিত করা হয়েছে, যে নিয়োগের মাধ্যমে খায়রুল হকের জন্ম হয়েছে।”


মন্ত্রী বলেন, সরকারও চায় বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ হোক, ভালো বিচারপতি নিয়োগ হোক, সুপ্রিম কোর্ট মানুষের ন্যায়বিচারের আস্থার জায়গা হয়ে উঠুক।


তবে তার ভাষায়, অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে তিনি আগে যে অবস্থান নিয়েছিলেন, তা ছিল তৎকালীন সরকারের পক্ষে আইনি অবস্থান তুলে ধরা। এখন তিনি এই সরকারের মন্ত্রী, আর সরকারের নীতি হল-বিচার বিভাগে নিয়োগে ‘সম্পূর্ণরূপে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা’ নিশ্চিত করা।


আইনমন্ত্রী বলেন, বিএনপি বিচারক নিয়োগের বিষয়টি সংবিধানে নয়, আইনে করার কথা বলেছে। সেই অবস্থান থেকেই সরকার বৃহত্তর সাংবিধানিক সংস্কারের পথে যেতে চায়।


তার ভাষায়, “আমরা বিচারক নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে আইন প্রণয়ন করব। আমরা সংবিধান সংশোধনের যে বিশেষ কমিটি করতে চাচ্ছি, আমরা সেই কমিটির কাছে ফিরে যাই।”


তিনি বলেন, বিচারক নিয়োগে স্বচ্ছতা, মানদণ্ড, কাঠামো ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সব প্রশ্নই সেই আলোচনায় আসতে পারে।


মন্ত্রী বলেন, “আমরা চাই না বাংলাদেশে আর কোনো মানিকের জন্ম হোক। আমরা চাই না বাংলাদেশে আর কোনো খায়রুল হক গজায় উঠুক। আমরা চাই না আর কোনো বিচার বিভাগীয় কিলিং হোক।”


পরে কণ্ঠভোটে আখতার হোসেনের আপত্তি নাকচ হয়ে যায়। বিলটিও পাস হয়।


বিল পাসের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদকে জানান, আলোচনার সময় একজন বিচারপতির নামের শেষে একটি বিশেষণ যুক্ত করা হয়েছিল, সেটি সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৪৩ পিএম

পুরান ঢাকার দর্জি দোকানি বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলার আপিল শুনানির জন্য আগামী ৮ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। আজ সোমবার রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চেম্বার বিচারপতি রেজাউল হক এ দিন ধার্য করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।


চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার ঘটনার ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর বহুল আলোচিত এ হত্যা মামলায় ৮ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। এরপর হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। সেইসঙ্গে মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করে আসামিরা।


ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট দুইজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের রায়ে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছিল রফিকুল ইসলাম শাকিল ও রাজন তালুকদারের। আর মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস পেয়েছিলেন সাইফুল ইসলাম ও কাইয়ুম মিঞা টিপু। এ ছাড়া মৃত্যুদণ্ড থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল চারজনকে। অন্যদিকে, বিচারিক আদালতের দেওয়া যাবজ্জীবন থেকে খালাস পান দুইজন।


তবে রায়ের বিরুদ্ধে আবেদন না করায় বিচারিক আদালতে যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত বাকি ১১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়েছিল।


২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর ১৮ দলের অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে রাজধানীর পুরান ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্কের সামনে বিশ্বজিৎ দাসকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ২০১৩ সালের ৫ মার্চ ছাত্রলীগের ২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।


সুপ্রিম কোর্ট

  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৫৬ পিএম

গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে পাঁচ করবর্ষের জন্য এনবিআর’র (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) দাবিকৃত ৬৬৬ কোটি ৯১ লাখ ৫২ হাজার ৩৭০ টাকা কর আদায় করতে হাইকোর্টের নির্দেশ স্থগিত করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।


হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে গ্রামীণ কল্যাণের করা লিভ টু আপিলের (আপিলের অনুমতির আবেদন) পরিপ্রেক্ষিতে আজ রবিবার (১৮অক্টোবর) চেম্বার আদালতের বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দেন। চেম্বার আদালত আপিলের ওপর আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য আগামী ১৩ ডিসেম্বর দিন ধার্য করে।


কর কমিশনারের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গ্রামীণ কল্যাণের করা পৃথক দুটি রিট আবেদনের ওপর দেওয়া রুল খারিজ (রুল ডিসচার্জ) করে গত ১০ সেপ্টেম্বর এ রায় দিয়েছিল বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ। পরে গত ১২ অক্টোবর এ সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। এর ধারাবাহিকতায় লিভ টু আপিল করে গ্রামীণ কল্যাণ।


প্রসঙ্গত, গ্রামীণ কল্যাণের চেয়ারম্যান ছিলেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।


গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফিদা এম কামাল, আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সরদার জিন্নাত আলী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মেহেদি হাসান। অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশটি স্থগিত করেছেন এবং শুনানির জন্য তারিখ ধার্য করেছেন। ফলে আপিল বিভাগে বিষয়টির চ‚ড়ান্ত শুনানি না হওয়া পর্যন্ত গ্রামীণ কল্যাণকে কোনো টাকা দিতে হচ্ছে না।


আইনজীবীদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ করবর্ষগুলোর জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে প্রদেয় কর দাবি নিয়ে  ২০১৭ সালে গ্রামীণ কল্যাণ হাইকোর্টে দুটি পৃথক রিট আবেদন করে। শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল দেয়। রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানির পর ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর রায় দেয় হাইকোর্ট। রায়ে কর কমিশনারের আদেশ বাতিল করে আদালত। পাশাপাশি বিলম্ব মার্জনা করে শর্তসাপেক্ষে আইনের বিধি অনুযায়ী ৬০ দিনের মধ্যে গ্রামীণ কল্যাণকে আপিলের সুযোগ দিতে বলা হয় রায়ে। 


পরে হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে এনবিআর পৃথক লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতির আবেদন) করে। ২০২৪ সালের ১১ মার্চ আপিল নিস্পত্তি করে আদেশ দেয় আপিল বিভাগ। আদেশে গ্রামীণ কল্যাণের করা রিটের মূল বিষয়বস্তুর ওপর হাইকোর্টে পুনঃশুনানি করতে বলে আপিল বিভাগ। পুন:শুনানি শেষে সংশ্লিষ্ট দুটি রিট আবেদন খারিজ করে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট রায় দিয়েছিল হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ। যদিও ওই বছরের ২৯ আগস্ট রায় প্রত্যাহার করে হাইকোর্ট।


রায় প্রত্যাহারের কারণ হিসেবে তখন বলা হয়ছিল, রায় দেওয়া দ্বৈত বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারক একসময় এসব মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে শুনানি করেছিলেন। তাই রায়টি ত্রুটিপূর্ণ (ডিফেক্টিভ) হবে। পরে প্রধান বিচারপতির কাছে এই মামলার নথি পাঠানো হয়। প্রধান বিচারপতি বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। এর ধারাবাহিকতায় হাইকোর্টের এ রায় হয়। 


সৈয়দ আবেদ আলী জীবন ও তার ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়াম

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:৫১ পিএম

জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামের চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি এম তারিকুল কবীর অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় দেন। দুদকের আইনজীবী দেলোয়ার জাহান রুমী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।  


তিনি জানান, চার বছরের দণ্ডের সঙ্গে আসামিকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সিয়ামের অবৈধভাবে অর্জিত ৩১ লাখ ৮১ হাজার টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) প্রশ্নফাসের ঘটনায় আলোচিত সংস্থাটির সাবেক চেয়ারম্যানের গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলীর ছেলে সিয়াম। তিনি একসময় ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ছিলেন। তবে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।



২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি সিয়ামের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন। মামলায় তার বিরুদ্ধে ২০২১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ৩৭ লাখ ৩০ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়।



তদন্ত শেষে একই বছরের ৩০ ডিসেম্বর সিয়ামকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, জ্ঞাত আয় উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৩১ লাখ ৮১ হাজার টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। 


এ বছরের ১৭ জুন এ মামলায় সিয়ামের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। এরপর সাক্ষ্য গ্রহণ দুদক ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আজ রায় দেওয়া হয়।


সুপ্রিম কোর্ট

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:০০ পিএম

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে তিন দিন সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।


সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।


এতে বলা হয়, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের কার্যক্রম আগামী ২০ থেকে ২২ অক্টোবর (মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার) বন্ধ থাকবে। তবে আগামী ১৭ অক্টোবর শনিবার বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের দাপ্তরিক কার্যক্রম চলমান থাকবে।

  • প্রকাশ : শনিবার ১০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:১৬ এএম
  • আপডেট : শনিবার ১০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:০৭ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


  • প্রকাশ : শনিবার ১০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:১৬ এএম

দেশের নিপীড়িত, নির্যাতিত, অসহায় ও দুস্থ মানুষের আইনগত অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ সনাতন আইনজীবী পরিষদ’ নামে নতুন একটি ইউনিট গঠন করেছে বাংলাদেশ সনাতন পার্টি।


নবগঠিত বাংলাদেশ সনাতন আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জের কৃতী সন্তান অ্যাডভোকেট তরুন লাল বেগী। সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন খুলনার কৃতী সন্তান অ্যাডভোকেট সফল দাশ। এ ছাড়া সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন অ্যাডভোকেট অজয় টিকাকর, অ্যাডভোকেট বিমল চন্দ্র রায় ও অ্যাডভোকেট আকাশ দাস।


শুক্রবার (৯ অক্টোবর ২০২৬) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সম্মেলনে এ আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।


শ্রী অনুপ কুমার সাহার সভাপ‌তি‌ত্বে সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ঢাকা দ‌ক্ষিন সি‌টি ক‌র্পো‌রেশ‌নের প্রশাসক আবদুস সালাম। স‌ম্মেলন সঞ্চালনা ক‌রেন এড‌ভো‌কেট সুমন কুমার রায়।


নবগঠিত এই পরিষদের মাধ্যমে দেশের নিপীড়িত ও অসহায় মানুষের আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠা, আইনি সহায়তা প্রদান এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ০৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:১৭ পিএম

জামায়াতে ইসলামীর নেতা অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জনের জামিন শুনানিতে আদালতে হাতাহাতিতে জড়িয়েছেন আইনজীবীরা। আজ রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীপন্থি আইনজীবীদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।


আইনজীবীদের হট্টগোলের মধ্যে এজলাস ছাড়েন বিচারক।


শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে (ইডি) হুমকি ও নিরাপত্তা সুপারভাইজারকে মারধরের অভিযোগে করা এ মামলায় এ দিন জামিন শুনানি ছিল আখতারুজ্জামানের।


শুনানি শুরুর আগে দুপুর ২টা ৩৮ মিনিটের দিকে আখতারুজ্জামানকে মাথায় হেলমেট ও হাতকড়া পরিয়ে এজলাসে তোলা হয়। এর আগে থেকেই এজলাস বিএনপি ও জামায়াতপন্থি আইনজীবীদের উপস্থিতিতে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে।


আখতারুজ্জামানকে এজলাসে তোলার মিনিট দুয়েক পর ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম এজলাসে ওঠেন। এজলাসে দাড়ানো নিয়ে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে হট্টগোল শুরু হয়। পরে তারা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। এ অবস্থায় ২ টা ৪১ মিনিটের দিকে ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম এজলাস ছেড়ে খাসকামরায় চলে যান।


রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী এবং আসামিপক্ষের প্রধান আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাকের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। মিনিট দুয়েক পর পুনরায় এজলাসে আসেন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম।