হুম্মাম কাদের চৌধুরী। ছবিঃ সংগৃহীত
জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টার বা জেআইসিতে গুম-নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জবানবন্দি দিয়েছেন হুম্মাম কাদের চৌধুরী। সাক্ষ্যে নিজে গুম হওয়ার ভয়াবহ বর্ণনা দিয়েছেন তিনি।
গুমের এ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৩ আসামির বিরুদ্ধে প্রথম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল সোমবার (১৯ জানুয়ারি); আর প্রথম সাক্ষী হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে হুম্মামের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
২০১৬ সালের ৪ আগস্ট তাকে গুম করা হয়। শুধুমাত্র বিএনপি করার কারণে বারবার নির্যাতন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। নির্যাতনে তার সারা শরীরে ঘায়ের মতো হয়ে যেতো। পায়ের অংশে বড় ফোঁড়াও হয়। আয়নাঘরে রাখা টেবিলের নিচের অংশে লাল কালি দিয়ে সিটিআইবি দেখা দেখতে পেয়েছিলেন হুম্মাম কাদের চৌধুরী। দিন গুনতেন খাবার দেখে। খাবারের জন্য রুটি এলে বুঝতে পারতেন দিন শুরু হয়েছে। কেননা দুপুর ও রাতের খাবার দেওয়া হতো ভাত-মাছ অথবা মুরগি-সবজি। প্রথম দুই মাস একটি পেরেকে দেয়ালে দাগ দিয়ে দিনের হিসাব রাখতেন তিনি।
জবানবন্দিতে হুম্মাম বলেন, ফোঁড়া হওয়ার পর ভেবেছিলাম আমাকে হাসপাতালে নেওয়া হবে। এতে কেউ আমাকে দেখে চিনতে পারবেন। কিন্তু তারা নেয়নি। বেশকিছুদিন পর ফোঁড়ার কারণে হাঁটতে পারছিলাম না। চিৎকার, চেঁচামেচি করে ডাক্তার ডাকতে বলি। তখন একজন ডাক্তার এসে আমাকে পরীক্ষা করেন। আমি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা বললে বলা হয় ‘একজন বড় ডাক্তার এসে চিকিৎসা করবেন’। পরদিন আমার সেলে কয়েকজন এসে আমাকে চৌকির সঙ্গে বেঁধে ফেলেন। একপর্যায়ে আমার ফোঁড়া অপারেশন করা হয়। এতে আমি বেঁহুশ হয়ে পড়ি। জ্ঞান ফিরলে মেঝেতে রক্ত, ভেজা গজ, টিস্যু পড়ে থাকতে দেখি। আমাকে এন্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। ওষুধের মোড়ক খুলে হাতে করে নিয়ে আসা হতো। একদিন একজন ভুল করে মোড়কসহ একপাতা ওষুধ নিয়ে আসেন। সেখানে লেখা ছিল ‘ভিআইপি-১’। তা দেখে আমি বুঝতে পারি যে, এটা আমার কোড নেম।
তিনি বলেন, আমাকে মাঝে মধ্যেই নির্যাতন করা হতো। বেশকিছু সময় তারা আমার সেলে এসে আমার হাতে ইনজেকশন দিতো। যার ফলে মনে হতো আমার পুরো শরীরে যেন আগুন ধরে গেছে। বার বার ইনজেকশন দেওয়ার কারণে আমার হাত কালো হয়ে গিয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদের সময় বাবার রাজনীতির বিষয়ে জানতে চাইতো। আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করি কি না বা বিদেশি কোনো গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ আছে কি না তা বারবার জিজ্ঞাসা করতো। আমার বিপরীত দিকের সেলে একজন বন্দির কোরআন তেলওয়াতের আওয়াজ ও খাবারের পর শব্দ করে ঢেকুর তোলার শব্দ প্রতিদিন শুনতে পেতাম। তার কান্নার আওয়াজও অনেক দিন শুনেছি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জানতে পারি ওই কোরআন তেলাওয়াতকারী লোকটির নাম ব্রিগেডিয়ার আমান আযমী। তখন বুঝতে পারি এ ভবনে আমি একা নই, আরও বন্দি রয়েছেন। আমার সেলে দুই স্তরের দরজা ছিল। একটি লোহার বার ও আরেকটি স্টিলের। একদিন স্টিলের দরজার কিছু অংশ ফাঁকা থাকায় একজন ব্যক্তিকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যেতে দেখি। তাকে জমটুপি পরানো ছিল। তবে জমটুপির নিচে তার দাঁড়ি দেখা যাচ্ছিল। মনে হচ্ছিলো তিনি একজন বয়স্ক ব্যক্তি।
হুম্মাম বলেন, আমার সেলের ভেতরে একটি টিউবলাইট ও একটি সিলিং ফ্যান ছিল। লাইটটি সবসময় জ্বলতো। বন্ধ করার কোনো সুযোগ ছিল না, যা ছিল নির্যাতনের অংশ। একদিন আমাকে যখন ইন্টারোগেশন সেলে মারধর করা হচ্ছিল তখন আমার চোখের বাঁধন সরে গেলে দেখতে পাই যে কক্ষে আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল সে কক্ষটি পুরোপুরি সাউন্ডপ্রুফ। চারপাশের দেয়ালে খয়েরি রংয়ের ছোট ছোট ছিদ্র দিয়ে কার্ডবোর্ডের মতো কভার দিয়ে ঢাকা। কক্ষটি প্রথমে অনেক বড় মনে হলেও চোখের বাঁধন খুলে যাওয়ার পর দেখলাম অনেক ছোট। সেখানে থাকা অবস্থায় কোনো বন্দির সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়নি। তবে যারা আমার দেখভাল বা খাবার দিতে আসতেন, তাদের বারবার প্রশ্ন ও কথা বলার চেষ্টা করতাম। তারা কখনও কোনো প্রশ্নের জবাব দিতেন না। তবে যখন আমি আমার কোডনেম জানতে পারি, তখন যিনি খাবার নিয়ে আসেন তাকে ভালো মানের খাবার পরিবেশন করতে বলেছিলাম। তখন তার বড় ভাইকে নিয়ে আসেন। বড় ভাই এসে আমাকে বলল এই ধরনের কথা বললে পরিণতি ভালো হবে না।
জিজ্ঞেস করা হলো কীভাবে জানলাম আমার কোডনেম ভিআইপি-১। আমি বাধ্য হয়ে বলে দেই যে, আমি ওষুধের মোড়কে এ লেখা দেখতে পেয়েছি। যে ব্যক্তি ওই সময় আমার খাবার পরিবেশন করেছিল ঘটনার পর আর আমাকে খাবার দিতে আসেনি। যারা খাবার দিতে আসতো তারা ছিল ছোট ভাই। মেজো ভাইয়েরা মাঝে মাঝে চেক করতে আসতো। আর বড় ভাইয়েরা আসতো বড় সমস্যা হলে। এটা ছিল তাদের হায়ারার্কি।
জবানবন্দিতে তিনি আরও বলেন, ইন্টারোগেশন সেলে আমাকে যখন শেষবার নেওয়া হয় তখন আমাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে আমাকে ছেড়ে দিলে সবাইকে কী বলবো। জবাবে বলেছিলাম আপনারা যা বলতে বলবেন তাই বলব। তারা আমাকে শিখিয়ে দিলেন আমি যেন বলি কিছু দুষ্ট লোক আমাকে কিডন্যাপ করেছিল। আমি তাদের কাছ থেকে পালিয়ে এসেছি। আমাকে আরও বলা হয়, ‘অনারেবল প্রাইম মিনিস্টার আপনাকে একটা সেকেন্ড চান্স দিতে চান’। তখন আমি বুঝতে পারি যে, আমাকে গুম-নির্যাতনের ঘটনার পেছনে শেখ হাসিনার হাত রয়েছে। সেদিন আমাকে আমার সেলে ফেরত নিয়ে যাওয়া হয়। তিনদিন পর ভোরে কিছু লোক আমার সেলে ঢুকে তিন স্তরে চোখ বাঁধা হয়। আমাকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে সেল থেকে বের করে একটি মাইক্রোবাসে তোলা হয়।
অনেকক্ষণ গাড়ি চলার পর আবারও সেই জিগজ্যাগ অনুভব করতে পারি। ২০ মিনিট গাড়ি চলার পর একজন আমাকে জিজ্ঞাসা করেন আমি ভয় পাচ্ছি কি না। আমি বলি না। তখন আমাকে পাল্টা প্রশ্ন করা হয় পাচ্ছি না। জবাবে বলেছিলাম, ‘যদি মেরে ফেলেন তাহলে আব্বার সঙ্গে দেখা হবে, আর যদি ছেড়ে দেন তাহলে আম্মার সঙ্গে দেখা হবে। এরপর অনেকক্ষণ চলার পর গাড়িটা থেমে যায়। একপর্যায়ে আমাকে গাড়ি থেকে নামানো হয়। আমাকে ফুটপাতে বসিয়ে হ্যান্ডকাফ খুলে দেওয়া হয়। তারা আমার চোখের বাঁধন খুলে দিতে দিতে বলে আমি যেন তিন মিনিট চোখ বন্ধ করে রাখি। যদি চোখ খুলি তাহলে সমস্যা হবে।
এরপর গাড়িটির দরজা বন্ধ হওয়ার আওয়াজ পাই। গাড়িটি চলে যায়। চোখ খুলে গাড়িটিকে চলে যেতে দেখি। পরে ওই রাস্তায় দাঁড়িয়ে এলাকাটি চেনার চেষ্টা করি। একপর্যায়ে বুঝতে পারি আমি ধানমন্ডি ৭/এ এলাকায় আছি। যেটা আমার বাসা থেকে তিন রাস্তা দূরে। আমি হেঁটে হেঁটে বাসার দিকে যেতে থাকি। বাসায় ঢুকতে গেলে দারোয়ান ঢুকতে দেয়নি। আমার ওজন অনেক কমে যাওয়া, দাঁড়ি-চুল লম্বা হয়ে যাওয়ায় সে আমাকে চিনতে পারেনি। আমার বাড়িতে থাকা পোষা কুকুর আমাকে চিনতে পেরেছিল বিধায় দারোয়ান গেট খুলে দেয়। বাড়িতে প্রবেশ করে জানতে পারি আমার আম্মা এ বাসায় থাকেন না। তিনি গুলশানে বড় ভাইয়ের বাসায় থাকেন। গাড়িতে করে গুলশানে বড় ভাইয়ের বাসায় যাই। আম্মার সঙ্গে দেখা হওয়ার পর জানতে পারি আরও দুজনকে গুম করা হয়েছে। তাদের একজন ব্যারিস্টার আরমান ও ব্রিগ্রেডিয়ার আজমী।
পরবর্তীতে জানতে পারি আমাকে আটকের সময় সিটিআইবির পরিচালক ছিলেন তৌহিদুল ইসলাম। ডিজিএফআইয়ের প্রধান ছিলেন জেনারেল আকবর। ২০১৭ সালের ২ মার্চ আমাকে মুক্তি দেওয়া হয়। ওই সময় ডিজিএফআইয়ের প্রধান ছিলেন জেনারেল আবেদিন।
হুম্মাম বলেন, যারা আমাকে গুম করেছিল, গুমের নির্দেশ দিয়েছিল, আয়নাঘরে আটকে রেখেছিল, নির্যাতন করেছিল আমি তাদের বিচার চাই। শেখ হাসিনা, জেনারেল আকবর, জেনারেল আবেদিন, ব্রিগ্রেডিয়ার তৌহিদুল ইসলাম ও তাদের সহযোগী যারা হুকুমদাতা ছিল এবং সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ায় যারা যারা অংশগ্রহণ করেছিল তাদের সর্বোচ্চ শান্তি চাই।
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তার জেরা হয়নি। জেরার জন্য আসামিপক্ষের আইনজীবীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ২৫ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
ছবি : সংগৃহীত
পুরান ঢাকার দর্জি দোকানি বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলার আপিল শুনানির জন্য আগামী ৮ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। আজ সোমবার রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চেম্বার বিচারপতি রেজাউল হক এ দিন ধার্য করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।
চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার ঘটনার ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর বহুল আলোচিত এ হত্যা মামলায় ৮ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। এরপর হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। সেইসঙ্গে মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করে আসামিরা।
ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট দুইজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের রায়ে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছিল রফিকুল ইসলাম শাকিল ও রাজন তালুকদারের। আর মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস পেয়েছিলেন সাইফুল ইসলাম ও কাইয়ুম মিঞা টিপু। এ ছাড়া মৃত্যুদণ্ড থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল চারজনকে। অন্যদিকে, বিচারিক আদালতের দেওয়া যাবজ্জীবন থেকে খালাস পান দুইজন।
তবে রায়ের বিরুদ্ধে আবেদন না করায় বিচারিক আদালতে যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত বাকি ১১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়েছিল।
২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর ১৮ দলের অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে রাজধানীর পুরান ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্কের সামনে বিশ্বজিৎ দাসকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ২০১৩ সালের ৫ মার্চ ছাত্রলীগের ২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।
সুপ্রিম কোর্ট
গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে পাঁচ করবর্ষের জন্য এনবিআর’র (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) দাবিকৃত ৬৬৬ কোটি ৯১ লাখ ৫২ হাজার ৩৭০ টাকা কর আদায় করতে হাইকোর্টের নির্দেশ স্থগিত করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।
হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে গ্রামীণ কল্যাণের করা লিভ টু আপিলের (আপিলের অনুমতির আবেদন) পরিপ্রেক্ষিতে আজ রবিবার (১৮অক্টোবর) চেম্বার আদালতের বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দেন। চেম্বার আদালত আপিলের ওপর আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য আগামী ১৩ ডিসেম্বর দিন ধার্য করে।
কর কমিশনারের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গ্রামীণ কল্যাণের করা পৃথক দুটি রিট আবেদনের ওপর দেওয়া রুল খারিজ (রুল ডিসচার্জ) করে গত ১০ সেপ্টেম্বর এ রায় দিয়েছিল বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ। পরে গত ১২ অক্টোবর এ সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। এর ধারাবাহিকতায় লিভ টু আপিল করে গ্রামীণ কল্যাণ।
প্রসঙ্গত, গ্রামীণ কল্যাণের চেয়ারম্যান ছিলেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফিদা এম কামাল, আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সরদার জিন্নাত আলী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মেহেদি হাসান। অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশটি স্থগিত করেছেন এবং শুনানির জন্য তারিখ ধার্য করেছেন। ফলে আপিল বিভাগে বিষয়টির চ‚ড়ান্ত শুনানি না হওয়া পর্যন্ত গ্রামীণ কল্যাণকে কোনো টাকা দিতে হচ্ছে না।
আইনজীবীদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ করবর্ষগুলোর জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে প্রদেয় কর দাবি নিয়ে ২০১৭ সালে গ্রামীণ কল্যাণ হাইকোর্টে দুটি পৃথক রিট আবেদন করে। শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল দেয়। রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানির পর ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর রায় দেয় হাইকোর্ট। রায়ে কর কমিশনারের আদেশ বাতিল করে আদালত। পাশাপাশি বিলম্ব মার্জনা করে শর্তসাপেক্ষে আইনের বিধি অনুযায়ী ৬০ দিনের মধ্যে গ্রামীণ কল্যাণকে আপিলের সুযোগ দিতে বলা হয় রায়ে।
পরে হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে এনবিআর পৃথক লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতির আবেদন) করে। ২০২৪ সালের ১১ মার্চ আপিল নিস্পত্তি করে আদেশ দেয় আপিল বিভাগ। আদেশে গ্রামীণ কল্যাণের করা রিটের মূল বিষয়বস্তুর ওপর হাইকোর্টে পুনঃশুনানি করতে বলে আপিল বিভাগ। পুন:শুনানি শেষে সংশ্লিষ্ট দুটি রিট আবেদন খারিজ করে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট রায় দিয়েছিল হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ। যদিও ওই বছরের ২৯ আগস্ট রায় প্রত্যাহার করে হাইকোর্ট।
রায় প্রত্যাহারের কারণ হিসেবে তখন বলা হয়ছিল, রায় দেওয়া দ্বৈত বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারক একসময় এসব মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে শুনানি করেছিলেন। তাই রায়টি ত্রুটিপূর্ণ (ডিফেক্টিভ) হবে। পরে প্রধান বিচারপতির কাছে এই মামলার নথি পাঠানো হয়। প্রধান বিচারপতি বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। এর ধারাবাহিকতায় হাইকোর্টের এ রায় হয়।
সৈয়দ আবেদ আলী জীবন ও তার ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়াম
জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামের চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি এম তারিকুল কবীর অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় দেন। দুদকের আইনজীবী দেলোয়ার জাহান রুমী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, চার বছরের দণ্ডের সঙ্গে আসামিকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সিয়ামের অবৈধভাবে অর্জিত ৩১ লাখ ৮১ হাজার টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) প্রশ্নফাসের ঘটনায় আলোচিত সংস্থাটির সাবেক চেয়ারম্যানের গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলীর ছেলে সিয়াম। তিনি একসময় ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ছিলেন। তবে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি সিয়ামের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন। মামলায় তার বিরুদ্ধে ২০২১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ৩৭ লাখ ৩০ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়।
তদন্ত শেষে একই বছরের ৩০ ডিসেম্বর সিয়ামকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, জ্ঞাত আয় উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৩১ লাখ ৮১ হাজার টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।
এ বছরের ১৭ জুন এ মামলায় সিয়ামের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। এরপর সাক্ষ্য গ্রহণ দুদক ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আজ রায় দেওয়া হয়।
সুপ্রিম কোর্ট
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে তিন দিন সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের কার্যক্রম আগামী ২০ থেকে ২২ অক্টোবর (মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার) বন্ধ থাকবে। তবে আগামী ১৭ অক্টোবর শনিবার বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের দাপ্তরিক কার্যক্রম চলমান থাকবে।
দেশের নিপীড়িত, নির্যাতিত, অসহায় ও দুস্থ মানুষের আইনগত অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ সনাতন আইনজীবী পরিষদ’ নামে নতুন একটি ইউনিট গঠন করেছে বাংলাদেশ সনাতন পার্টি।
নবগঠিত বাংলাদেশ সনাতন আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জের কৃতী সন্তান অ্যাডভোকেট তরুন লাল বেগী। সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন খুলনার কৃতী সন্তান অ্যাডভোকেট সফল দাশ। এ ছাড়া সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন অ্যাডভোকেট অজয় টিকাকর, অ্যাডভোকেট বিমল চন্দ্র রায় ও অ্যাডভোকেট আকাশ দাস।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর ২০২৬) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সম্মেলনে এ আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।
শ্রী অনুপ কুমার সাহার সভাপতিত্বে সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম। সম্মেলন সঞ্চালনা করেন এডভোকেট সুমন কুমার রায়।
নবগঠিত এই পরিষদের মাধ্যমে দেশের নিপীড়িত ও অসহায় মানুষের আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠা, আইনি সহায়তা প্রদান এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ছবি : সংগৃহীত
জামায়াতে ইসলামীর নেতা অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জনের জামিন শুনানিতে আদালতে হাতাহাতিতে জড়িয়েছেন আইনজীবীরা। আজ রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীপন্থি আইনজীবীদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।
আইনজীবীদের হট্টগোলের মধ্যে এজলাস ছাড়েন বিচারক।
শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে (ইডি) হুমকি ও নিরাপত্তা সুপারভাইজারকে মারধরের অভিযোগে করা এ মামলায় এ দিন জামিন শুনানি ছিল আখতারুজ্জামানের।
শুনানি শুরুর আগে দুপুর ২টা ৩৮ মিনিটের দিকে আখতারুজ্জামানকে মাথায় হেলমেট ও হাতকড়া পরিয়ে এজলাসে তোলা হয়। এর আগে থেকেই এজলাস বিএনপি ও জামায়াতপন্থি আইনজীবীদের উপস্থিতিতে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
আখতারুজ্জামানকে এজলাসে তোলার মিনিট দুয়েক পর ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম এজলাসে ওঠেন। এজলাসে দাড়ানো নিয়ে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে হট্টগোল শুরু হয়। পরে তারা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। এ অবস্থায় ২ টা ৪১ মিনিটের দিকে ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম এজলাস ছেড়ে খাসকামরায় চলে যান।
রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী এবং আসামিপক্ষের প্রধান আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাকের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। মিনিট দুয়েক পর পুনরায় এজলাসে আসেন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম।