এক লিটার বোতলের পানিতে আড়াই লাখ প্লাস্টিক কণা

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ৯:২৫ এএম

এক লিটার বোতলের পানি গবেষণা অনুযায়ী, সূক্ষ্ম প্লাস্টিক-কণাকে ‘ন্যানোপ্লাস্টিক’ বলা হয়। ১ লিটার প্লাস্টিকের বোতলের পানিতে (৩৩ আউন্স) কমপক্ষে ২ লাখ ৪০ হাজার প্লাস্টিক-কণা থাকে, যা খালি চোখে দেখা যায় না। 


এসব কণা পানির সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করে রক্তে মিশে যায়। এদের দৈর্ঘ্য মাত্র ১ থেকে ৫০০০ মাইক্রোমিটার, যা মানুষের মাথার চুলের চেয়েও সূক্ষ্ম।


বাজারে পাওয়া বেশিরভাগ কোমল পানীয়ের বোতল একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি। এই ধরনের বোতল থেকে দিনের পর দিন পানি পান করলে ক্যানসারের আশঙ্কা বেড়ে যায়। 


প্লাস্টিকের বোতল তৈরিতে ব্যবহৃত হয় ‘বিসফেনল এ’ (বিপিএ) সহ একাধিক উপাদান, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর।


গবেষকেরা আরও জানান, ন্যানোপ্লাস্টিক ও ‘বিসফেনল এ’ শরীরে অধিক পরিমাণে প্রবেশ করলে নানা জটিল রোগের কারণ হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই প্লাস্টিক উপাদানগুলো ইনসুলিনের ক্ষরণে প্রভাব ফেলে, যা ডায়াবেটিসের কারণ হতে পারে।


৪০ জন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর পরীক্ষা করে প্রমাণ পাওয়া গেছে যে, প্লাস্টিকের ‘বিপিএ’ হরমোন ও ক্রোমোজোম সংক্রান্ত সমস্যাও ডেকে আনতে পারে। উচ্চমাত্রায় প্লাস্টিক-কণা শরীরে জমলে পুরুষদের ক্ষেত্রে শুক্রাণুর পরিমাণ কমে যেতে পারে এবং নারীদের হরমোন ক্ষরণে বাধা সৃষ্টি করে, বিশেষ করে ইস্ট্রোজেন হরমোনের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়।তে আড়াই লাখ প্লাস্টিক কণা: গবেষণা


অনুপম স্বাস্থ্য ডেস্ক:  প্লাস্টিকের বোতলে সংরক্ষিত পানিতে প্রচুর পরিমাণে ক্ষতিকর প্লাস্টিক-কণা মিশে থাকে, যা পানির সঙ্গে আমাদের শরীরে প্রবেশ করে এবং টক্সিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। বিশেষত, উচ্চমাত্রার প্লাস্টিক-কণা শরীরে ইনসুলিনের তারতম্য ঘটিয়ে টাইপ টু ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।


আমেরিকান ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশনের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা দীর্ঘদিন ধরে প্লাস্টিকের বোতলের ক্ষতিকারক প্রভাব নিয়ে গবেষণা করছেন।



সর্বশেষ সব খবর

মাইক্রোপ্লাস্টিক

  • প্রকাশ : রবিবার ০২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:১১ এএম

প্লাস্টিক প্রাকৃতিকভাবে পচনশীল নয়। এটি পরিবেশে শত শত, এমনকি হাজার হাজার বছর টিকে থাকতে পারে। এই প্লাস্টিক ধীরে ধীরে ভেঙে আরও ছোট ছোট কণায় পরিণত হয়, যাকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলে।


মাইক্রোপ্লাস্টিক মাটি, নদী ও সমুদ্রে জমা হতে থাকে। উদ্বেগজনক বিষয় হলো মাইক্রোপ্লাস্টিক এখন খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করেছে। এর অর্থ- আমরা যে মাছ, মুরগি, কৃষিপণ্য ও সামুদ্রিক খাবার খাই, তাতে মাইক্রোপ্লাস্টিক মিশে থাকতে পারে।


স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব


প্লাস্টিক যখন ভেঙে অতি ক্ষুদ্র ন্যানো আকারের কণায় পরিণত হয়, তখন সেগুলো খাবার, পানি, এমনকি শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এই ক্ষুদ্র কণাগুলো হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে।


নারীদের ক্ষেত্রে ফাইব্রয়েড, এন্ডোমেট্রিওসিস ও পিএমওএসের মতো হরমোনজনিত সমস্যা বাড়ায়। পুরুষদের ক্ষেত্রে শুক্রাণুর গুণমান ও টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে যেতে পারে।


মাইক্রোপ্লাস্টিক সময়ের আগে বয়ঃসন্ধি বা বিলম্বিত বয়ঃসন্ধি ঘটাতে পারে। শিশুর বিকাশে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। মাইক্রোপ্লাস্টিকের সঙ্গে ফুসফুস, স্তন ক্যানসার, প্রোস্টেট ও লিভার ক্যানসারের মতো রোগের যোগসূত্র রয়েছে। এ ছাড়া অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার ও পিত্তনালির ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায় মাইক্রোপ্লাস্টিক।


মাইক্রোপ্লাস্টিক অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমকে ব্যাহত করতে পারে। এই কণাগুলো অন্ত্রের আস্তরণে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে, যা খাদ্য সংবেদনশীলতা থেকে শুরু করে অটোইমিউন রোগ ও মাানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হতে পারে।


করণীয়


  • প্লাস্টিকের চপিং বোর্ড ব্যবহার না করে কাঠের বা শক্ত কাচের বোর্ড ব্যবহার করতে হবে।


  • স্টেইনলেস স্টিল, ফুড গ্রেড সিলিকন বা কাঠের বিকল্প ব্যবহার করতে হবে। বাঁশের বা স্টেইনলেস স্টিলের স্ট্র ব্যবহার করতে হবে।


  • খাবারের সংস্পর্শে আসে- এমন যেকোনো প্লাস্টিকে বিপিএ আছে কি না, তা পরীক্ষা করে কিনতে হবে।


  • প্লাস্টিকের পাত্রে খাবার গরম করা যাবে না।


  • অনেক টি-ব্যাগে পলিপ্রোপাইলিন থাকে, যা একধরনের প্লাস্টিক। তাই খোলা চা-পাতা ব্যবহার করা ভালো।


  • প্লাস্টিকের টুথব্রাশের বদলে বাঁশের টুথব্রাশ ব্যবহার করতে হবে।


  • বাজার করতে পাটের ব্যাগ ব্যবহার করতে হবে।


  • স্টেইনলেস স্টিল বা তাপ নিরোধক পানির বোতল ব্যবহার করতে হবে।


  • প্লাস্টিকের গ্লাসে পানি বা কোমল পানীয় পান এড়িয়ে চলতে হবে।


শিশুদের জন্য


  • স্টেইনলেস স্টিলের টিফিন বক্স দিতে হবে।


  • শিশুকে সুতির কাপড় পরাতে হবে।


  • প্লাস্টিকের খেলনার পরিবর্তে কাঠের, তুলার, সিলিকন বা রাবারের খেলনা দিতে হবে।


কী খাওয়া যেতে পারে


নীল, বেগুনি, লাল ফল ও সবজিতে অ্যান্থোসায়ানিন থাকে। এটি মাইক্রোপ্লাস্টিকের প্রভাব মোকাবিলায় সাহায্য করতে পারে।


তাই খাদ্যতালিকায় ডালিম, ড্রাগন, বিট, গাজর, স্ট্রবেরি, চেরি, ব্লুবেরি, লাল পেঁয়াজ ইত্যাদি রাখতে হবে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ১৫ জুন, ২০২৬, সময় : ৩:৫৭ পিএম

বর্তমান সময়ে হাড়, জোড়া ও মেরুদণ্ডজনিত রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। এসব জটিল রোগের আধুনিক চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন বিশিষ্ট অর্থোপেডিক ও স্পাইন সার্জন ডাঃ নাবিল যুনায়েদ সিডনী।


দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও মানবিক আচরণের কারণে রোগীদের কাছে তিনি আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।


তিনি এমবিবিএস ও ডি-অর্থো (বিএসএমএমইউ) ডিগ্রি অর্জন করেছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ অর্থোপেডিক সোসাইটি, এশিয়া প্যাসিফিক অর্থোপেডিক অ্যাসোসিয়েশন, এশিয়া প্যাসিফিক স্পাইন সোসাইটি ও ইন্ডিয়ান অর্থোপেডিক সোসাইটির লাইফ মেম্বার হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে তিনি নিয়মিত আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি ও গবেষণার সঙ্গে নিজেকে আপডেট রাখছেন।


গুরুতর দুর্ঘটনায় আহত বহু রোগীর ক্ষেত্রে, যেখানে অঙ্গচ্ছেদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, সেখানে ডাঃ নাবিল যুনায়েদ সিডনী সফলভাবে বিকল্প চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীদের সুস্থ করে তুলেছেন। 


ঝিনাইদার বাইক দুর্ঘটনায় আহত তপু রায়ের পা কেটে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হলেও তাঁর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিয়ে রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন।


সম্প্রতি নোয়াখালীর এক যুবক ভয়াবহ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হলে তাঁকে শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ডাঃ নাবিল যুনায়েদ সিডনির নিবিড় চিকিৎসায় টানা ৯৭ দিন পর ওই রোগী স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সক্ষম হন।


বর্তমানে তিনি শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক, ট্রমা ও স্পাইন সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি নতুন চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনাও দিয়ে যাচ্ছেন নিয়মিত।

বিষয় :

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ০৬ জুন, ২০২৬, সময় : ১২:৩৫ এএম

বাংলাদেশে প্রতিবছরই বাড়ছে ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, দেশটিতে প্রতিবছর বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারে ভুগে এক লাখ ১৬ হাজার পাঁচশ' জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন।


সংস্থাটির হিসাবে, একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছেন এক লাখ ৬৭ হাজারেরও বেশি মানুষ। যদিও বাস্তবে সংখ্যাটি আরও বেশি হবে বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। শুধু ঢাকার জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালেই গতবছর সাড়ে ৪২ হাজারের মতো ক্যান্সার রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩১ হাজারই নতুন রোগী।


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে, বাংলাদেশে বর্তমানে ক্যান্সারে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা তিন লাখ ৪৬ হাজারের মতো, যা ২০১৮ সালের তুলনায় প্রায় ১১ শতাংশ বেশি।


একই সময়ে ক্যান্সার আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর হার বেড়েছে প্রায় আট শতাংশ। প্রাপ্ত বয়স্ক নারী-পুরুষের পাশাপাশি শিশুরাও ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে।


বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশে ক্যান্সার রোগীদের মধ্যে শিশুদের হার প্রায় দুই দশমিক চার শতাংশ।


২০২৫ সালে প্রকাশিত ওই গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির মানুষ ৩৮ ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে। এর মধ্যে পুরুষরা ফুসফুস, খাদ্যনালী, মুখ ও ঠোঁটের ক্যান্সারে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।


অন্যদিকে, নারীদের মধ্যে স্তন, জরায়ুমুখ এবং ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে গবেষণা প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।


কিন্তু সার্বিকভাবে দেশে কোন কোন ধরনের ক্যান্সার বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সেটার পেছনে কারণ কী, চলুন জেনে নেওয়া যাক।


খাদ্যনালীর ক্যান্সার


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, বাংলাদেশের মানুষ সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে খাদ্যনালির ক্যান্সারে। ২০২২ সালে প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে এই ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৪২ হাজারেরও বেশি। প্রতিবছর আরও ২৫ হাজারের বেশি মানুষ এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন, যা মোট আক্রান্তের প্রায় ১৫ দশমিক এক শতাংশ।


নারীদের তুলনায় পুরুষরাই খাদ্যনালির ক্যান্সারে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। আক্রান্তের হারের মতো এ ধরনের ক্যান্সারে মৃত্যুর সংখ্যাও বেশি।


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিবছর বাংলাদেশে যে সোয়া এক লাখ মানুষ ক্যান্সারে ভুগে মারা যাচ্ছেন, তাদের মধ্যে খাদ্যনালির ক্যান্সারে প্রাণ হারাচ্ছেন ২৪ হাজারের বেশি।


ক্যান্সারের মোট মৃত্যু হারের হিসেবে এটি প্রায় ২০ দশমিক নয় শতাংশ।


মুখ ও ঠোঁটের ক্যান্সার


আক্রান্তের সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে মুখ ও ঠোঁটের ক্যান্সার।


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে, বর্তমানে দেশে এমন ক্যান্সারে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৪০ হাজারের কিছু বেশি।


এছাড়া প্রতিবছর ১৬ হাজারেরও বেশি মানুষ এই ক্যান্সারে নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছেন। তাদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা প্রায় ১১ হাজার এবং নারীর সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজার। এ রোগে ভুগে প্রতিবছর মারা যাচ্ছেন প্রায় সাড়ে নয় হাজারের মতো মানুষ, যা ক্যান্সারের মোট মৃত্যুর প্রায় আট দশমিক এক শতাংশ।


২০২৬ সালে প্রকাশিত জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর তাদের কাছে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে আট দশমিক ৭১ শতাংশই এসেছিলেন মুখ ও ঠোঁটের ক্যান্সার নিয়ে।


ফুসফুসের ক্যান্সার


মৃত্যুহার বিবেচনায় খাদ্যনালির ক্যান্সারের পরেই রয়েছে ফুসফুসের ক্যান্সার।


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, এ ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে প্রতিবছর বাংলাদেশে ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন।


সংস্থাটির হিসেবে, বর্তমানে বাংলাদেশে ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় ১৭ হাজার। প্রতিবছর নতুন করে আরও প্রায় ১৩ হাজার মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এর মধ্যে দশ হাজার জনই পুরুষ।


জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল বলছে, ২০২৫ সালে তাদের কাছে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে ১৮ শতাংশই ছিল ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত।


সংখ্যার হিসেবে সেটি সাড়ে পাঁচ হাজারেরও বেশি বলে হাসপাতালের সর্বশেষ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


স্তনের ক্যান্সার


বাংলাদেশের নারীরা যেসব ক্যান্সারে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন, সেগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে স্তনের ক্যান্সার।


বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটিতে ক্যান্সার আক্রান্ত নারীদের মধ্যে ৩৬ দশমিক চার শতাংশই স্তনের ক্যান্সারে ভুগছেন।


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২২ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে সারাদেশে প্রায় ৩৫ হাজারের বেশি নারী এ ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত।


প্রতিবছর নতুন করে আরও প্রায় ১৩ হাজার নারী স্তনের ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন। সেইসঙ্গে, এর কারণে প্রায় প্রতি বছরই ছয় হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হচ্ছে।


জরায়ুমুখের ক্যান্সার


স্তনের ক্যান্সারের পর নারীদের মধ্যে মৃত্যুহার সবচেয়ে বেশি জরায়ুমুখের ক্যান্সারে।


বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশটিতে নারী ক্যান্সার রোগীদের মধ্যে ১৯ শতাংশই প্রজনন সম্পর্কিত ক্যান্সারে ভুগছেন।


এর মধ্যে ১১ শতাংশই জরায়ুমুখের ক্যান্সারে ভুগছেন। এর বাইরে, পাঁচ শতাংশ ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারে এবং তিন শতাংশ জরায়ু ক্যান্সারে আক্রান্ত।


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, বাংলাদেশ এখন সাড়ে ২৬ হাজারেরও বেশি নারী জরায়ুমুখের ক্যান্সারে ভুগছেন।


এছাড়া প্রতিবছর আরও প্রায় সাড়ে নয় হাজার নারী এই ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন। একই সময়ে, পাঁচ হাজার আটশ' জনেরও বেশি নারী জরায়ুমুখের ক্যান্সারের কারণে মারা যাচ্ছেন।


কেন বাড়ছে?


ক্যান্সারের বিষয়ে বাংলাদেশে এখনো জাতীয়ভাবে কোনো তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা হয়নি। যতটুকু তথ্য উপাত্ত পাওয়া যায়, সেগুলো মূলত বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে সংগ্রহ করা।


কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন, আক্রান্তদের মধ্যে একটা উল্লেখযোগ্য অংশই হাসপাতালে যান না।


"ফলে ক্যান্সার আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যাটা যে আরও বড়, সে ব্যাপারে সন্দেহ নেই," গণমাধ্যমকে বলছিলেন জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোস্তফা আজিজ সুমন।


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, দেশে প্রতিবছরই ক্যান্সার আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। পরিবেশ দূষণ এক্ষেত্রে অনেকটা দায়ী বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা।


"বায়ু দূষণের সঙ্গে ফুসফুসের ক্যান্সার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। আর আমাদের দেশের বাতাস যে মাত্রায় দূষিত, তাতে এখানে সুস্থ থাকাটা খুবই কঠিন," বলছিলেন ডা. সুমন।


একইসঙ্গে, খাদ্যাভ্যাসসহ মানুষের সামগ্রিক জীবনযাত্রার কারণেই ক্যান্সার বাড়ছে।


"বিশেষ করে ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, ধূমপান করা বা তামাকপাতা সেবন ইত্যাদি কর্মকাণ্ড ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে," বলেন ডা. সুমন।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্যদেশের তুলনায় বাংলাদেশের নারীরা কম বয়সে স্তন ও জরায়ুর ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন।


"সারা পৃথিবীতে যেভাবে ব্রেস্ট ক্যান্সার পাওয়া যায় বয়স্ক নারীদের মধ্যে, আমাদের দেশে সেখানে বেশিরভাগ রোগী পাচ্ছি ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে," বলছিলেন ডা. সুমন।


তবে সঠিক সময়ে টিকা গ্রহণ এবং সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে স্তন ও জরায়ুর ক্যান্সার কমানো সম্ভব বলে মনে করেন চিকিৎসকরা।


"আমাদের দেশে ইতোমধ্যে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হলেও সেগুলোর কাভারেজ এখনও অনেক কম। ফলে টিকা কাভারেজ বাড়ানোর পাশাপাশি ক্যান্সার বিষয়ে যদি সবাইকে সচেতন করে তোলা যায়, তাহলে নারীদের মধ্যে ক্যান্সারে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার- উভয়ই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে,"জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক ডা. সুমন।

সর্বশেষ সব খবর

হাঁটার অভ্যাস জীবনে বড় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৬ মে, ২০২৬, সময় : ২:২২ এএম

খুব ছোট ও সহজ কাজগুলো অনেক সময় আমাদের জীবনে বড় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। কিন্তু আমরা অনেকেই বিষয়টা নিয়ে তেমনভাবে ভাবি না। এই যেমন ধরুন হাঁটার অভ্যাসের কথাই যদি বলি। 


আমাদের ব্যস্ততম জীবনে প্রতিদিন নিয়ম করে একটু হাঁটা খুব কঠিন কিছু নয়। কিন্তু নিয়মিত এই অভ্যাসই আপনার জীবনে আমূল পরিবর্তন এনে দিতে পারে।


আজকে নতুন নয়, আমাদের শরীর ও মনের ওপর হাঁটার যে ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে, সেই যুগ যুগ ধরেই তা প্রমাণিত হয়ে এসেছে। শরীরে হাড় গঠনে সহায়তা থেকে শুরু করে মনের প্রশান্তি ও একাগ্রতা ধরে রাখতে হাঁটার গুরুত্ব অপরিসীম। হাঁটার অভ্যাস কীভাবে জীবন বদলে দেয়-এ বিষয়ে আমাদের বিস্তারিত জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফার্মাকোলজি অ্যান্ড থেরাপিউটিক্স বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. সীফাত জাহান শশী।


তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন হাঁটার অনেক উপকারিতা আছে। এটি শরীর ও মনের জন্য খুবই ভালো একটি অভ্যাস। সাধারণভাবে প্রতিদিন ২০-৩০ মিনিট হাঁটা খুব উপকারী বলে ধরা হয়। সকালে বা বিকেলে খোলা পরিবেশে হাঁটলে আরও ভালো অনুভূতি পাওয়া যায়।’


এই চিকিৎসকের মতে হাঁটার গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতাগুলোর কিছু নিচে উল্লেখ করা হলো:


হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়


হৃদরোগকে বিশ্বের এক নম্বর ঘাতক রোগ বলা হয়। বর্ণ, গোত্র, বয়স ও লিঙ্গ নির্বিশেষে প্রতি বছর বহু মানুষ এই রোগে মারা যায়। 


হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার জন্য মূলত আমাদের অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রাই দায়ী, যার অন্যতম প্রধান কারণ হলো অপর্যাপ্ত কায়িক পরিশ্রম। হৃৎপিণ্ড এক ধরনের পেশী, যা আমাদের শরীরে রক্ত সঞ্চালনকে সুষম রাখে। 


হাঁটার ফলে হৃদযন্ত্রের সক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং শরীরে রক্ত সরবরাহের কাজ আরও কার্যকরভাবে সম্পন্ন করতে এটি সক্ষম হয়ে ওঠে। প্রতিদিন যদি আপনি ৩০ মিনিট করে হাঁটেন, তাহলে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। শুধু তাই নয়, উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতেও এটি সাহায্য করে। সপ্তাহে প্রতিদিন না হলেও অন্তত পাঁচ দিন হাঁটা উচিত।


পেশী ও হাড়ের গঠনকে মজবুত করে


হাঁটলে দেহের পেশী মজবুত হয়। আর পেশী মজবুত হলে তা হৃৎপিণ্ডে আরও ভালোভাবে রক্ত সঞ্চালনে সহায়তা করে এবং আমাদের স্ট্যামিনাও বৃদ্ধি পায়। নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করলে আমাদের দেহের প্রতিটি জয়েন্টের ব্যায়াম হয় এবং অস্টিওপোরোসিসের মতো হাড়ের নানা সমস্যার ঝুঁকি কমে যায়।

 

শরীর ও মনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে


আপনি ১০ মিনিট করে ভাগ করে বা টানা ৩০ মিনিট-যেভাবেই হাঁটুন না কেন, দৈনিক মোট ৩০ মিনিট হাঁটা আপনার শরীর ও মনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে।


হাঁটলে শরীরের ক্যালোরি খরচ হয়, আমাদের মন প্রফুল্ল থাকে এবং এনার্জি লেভেল বৃদ্ধি পায়।


ওজন কমায় ও হজমে সহায়তা করে


আমাদের প্রতিটি কাজ, যেমন চলাফেরা বা দৈনন্দিন কাজকর্ম সম্পন্ন করতে ক্যালোরি প্রয়োজন। তবে ওজন কমাতে হলে শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত ক্যালোরি বার্ন করা জরুরি। দীর্ঘ সময় বসে কাজ করার অভ্যাসের কারণে অনেকের শরীরে ধীরে ধীরে মেদ জমে এবং স্থূলতার সমস্যা দেখা দেয়।


নিয়মিত হাঁটার ফলে শরীরের প্রচুর ক্যালোরি খরচ হয় এবং বিশেষ করে পেটের চর্বি কমাতে সহায়তা করে।


এছাড়া প্রতিদিন হাঁটার ফলে আমরা যে খাবার খাই, তা শরীরে ফ্যাট হিসেবে জমা না হয়ে শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। এর ফলে ক্যালোরি খরচ বাড়ে এবং হজমশক্তিও উন্নত হয়।


ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ করে ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়


ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি। রক্তে অনিয়ন্ত্রিত শর্করা শরীরে নানা জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে এবং স্নায়ু, হৃৎপিণ্ড, চোখসহ ছোট-বড় রক্তনালীর ক্ষতির কারণ হতে পারে। খাবারের পর অন্তত ১০ মিনিট হাঁটাহাঁটি করলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। 


পাশাপাশি খাওয়ার পর যে ক্লান্তি বা অবসাদ অনুভূত হয়, তা কমাতেও এটি কার্যকর। নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করলে শরীরে ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বৃদ্ধি পায়। এর ফলে পেশীগুলো বেশি পরিমাণে গ্লুকোজ ব্যবহার করে শক্তিতে রূপান্তর করতে পারে। এতে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রিত থাকে এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে।


যারা নিয়মিত কায়িক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করেন, তাদের বিশেষ করে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কম থাকে। আর কায়িক পরিশ্রমের সবচেয়ে সহজ ও নিরাপদ উপায় হলো প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ধরে হাঁটাহাঁটি করা।


মানসিক চাপ কমায়


হাঁটাহাঁটি করলে আমাদের শরীরে এন্ডরফিন ও সেরোটোনিন নামক হরমোনের নিঃসরণ বৃদ্ধি পায়, যা মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও হতাশা কমাতে সাহায্য করে। এর ফলে আমাদের আবেগের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ে, আমরা আরও মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে পারি এবং সৃজনশীলতাও বৃদ্ধি পায়।


এছাড়া বাইরে হাঁটতে গেলে চারপাশের প্রকৃতি, পরিবেশ এবং মানুষের জীবনের বৈচিত্র্য আমাদের মনে এক ধরনের প্রশান্তি ও ভালো লাগার অনুভূতি তৈরি করে।


ভালো ঘুমে সহায়তা করে


নিয়মিত হাঁটার ফলে শরীরে পর্যাপ্ত কায়িক পরিশ্রম হয়, যার কারণে রাতে দ্রুত ঘুম আসে এবং ঘুম গভীর হয়। এর ফলে সকালে ঘুম থেকে উঠে শরীর ও মনে সতেজতা অনুভূত হয়। এছাড়াও নিয়মিত হাঁটা ডিমেনশিয়ার মতো রোগের ঝুঁকি কমাতেও সহায়তা করে।


হাঁটার শুরুতে ও শেষে করণীয়


হাঁটা শুরুর আগে ধীর গতিতে হাঁটা শুরু করা উচিত, যাতে শরীরের পেশীগুলো ধীরে ধীরে এই কায়িক পরিশ্রমের জন্য নিজেকে ‘ওয়ার্ম আপ’ করে নিতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে হাঁটার গতি বাড়ানো উচিত। হাঁটার শেষের পাঁচ থেকে ১০ মিনিট গতি কমিয়ে আবার ধীর গতিতে হাঁটা ভালো। 


হাঁটা শেষ করার পর হাত-পা হালকা করে স্ট্রেচ করলে পেশীগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।


হাঁটার সময় হালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরা উচিত, যা অতিরিক্ত গরম ও শরীরের অস্বস্তি থেকে অনেকটাই স্বস্তি দেয়। একটি সুন্দর ও সুস্থ জীবনের জন্য হাঁটা একটি সহজ ও কার্যকর অভ্যাস। তাই আজই সুস্থ জীবনের লক্ষ্যে প্রথম পদক্ষেপটি নিয়ে নিন।


সর্বশেষ সব খবর

লিভার সিরোসিস। প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : রবিবার ১৭ মে, ২০২৬, সময় : ৪:৩৮ এএম

তিলে তিলে শরীরকে শেষ করে দেয় লিভার সিরোসিস। এটি বর্তমান সময়ে একটি অত্যন্ত জটিল স্বাস্থ্য সমস্যা। সঠিক সময়ে সচেতন না হলে এই রোগ প্রাণঘাতী হতে পারে। লিভারের অসুখকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা হয়। যেমন, অ্যাকিউট (স্বল্পমেয়াদী) এবং ক্রণিক (দীর্ঘমেয়াদি) লিভার ডিজিজ।


লিভার সিরোসিস কেন বাড়ছে?


লিভারের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি থেকেই সিরোসিসের সূত্রপাত হয়। এর পেছনে প্রধান কারণগুলো হলো-

লোগোভাইরাল হেপাটাইটিস: হেপাটাইটিস এ, ই, বি এবং সি ভাইরাসের কারণে লিভারের ক্ষতি হয়। এর মধ্যে হেপাটাইটিস এ এবং ই প্রধানত জলবাহিত, যা শরীর সাধারণত নিজেই সারিয়ে তুলতে পারে। কিন্তু হেপাটাইটিস বি এবং সি রক্তবাহিত এবং এগুলো অনেক সময় দীর্ঘমেয়াদী বা ক্রণিক হয়ে দাঁড়ায়।


সংক্রমণের সময়কাল: 


লিভারের দীর্ঘমেয়াদী সংক্রমণ বা প্রদাহ ধীরে ধীরে সিরোসিসের দিকে ঠেলে দেয়। জন্মের সময় মায়ের থেকে শিশুর শরীরে হেপাটাইটিস বি সংক্রমিত হলে তা প্রকাশ পেতে প্রায় ৪০ বছর সময় লাগতে পারে। হেপাটাইটিস সি-এর ক্ষেত্রে সিরোসিস তৈরি হতে ২০ থেকে ৩০ বছর সময় লাগে।


জীবনযাত্রা ও অন্যান্য রোগ:


অতিরিক্ত মদ্যপান, ওবেসিটি (স্থূলতা), ডায়াবেটিস এবং অটোইমিউন লিভার ডিজিজের কারণে লিভারে বারবার আঘাত প্রাপ্ত হলে সিরোসিস হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।


সিরোসিস হলে লিভারে কী ঘটে?


যখন লিভারে বারবার আঘাত বা ইনফেকশনের কারণে যখন প্রদাহ দীর্ঘমেয়াদী হয়, তখন লিভারের কোষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। ক্রমাগত এই ক্ষতির ফলে লিভার শুকিয়ে ছোট হয়ে যায় এবং শক্ত হয়ে যায়। একেই চিকিৎসাবিজ্ঞানে লিভার সিরোসিস বলা হয়। এর ফলে লিভার তার স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।


কী কী লক্ষণ নিয়ে প্রকাশ পায়?


সাধারণভাবে বলতে গেলে সিরোসিসের দুটি ধাপ  -১) কমপেনসেটেড সিরোসিস ২) ডিকমপেনসেটেড সিরোসিস


১) কমপেনসেটেড সিরোসিস: এই ক্ষেত্রে বোগের লক্ষণ প্রায় থাকে না বললেই চলে। রোগটি চিহ্নিত হয় রক্ত পরীক্ষা বা আল্ট্রাসনোগ্রাফি বা এন্ডোসকপি করার পর অথবা কোনও অপারেশন হলে।


২) ডিকমপেনসেটেড সিরোসিস: সিরোসিস অফ লিভার এর পরবর্তী ধাপ ডিকমপেনসেটেড সিরোসিস। এর লক্ষণ গুলি হল, পেটে জল জমার কারণে পেট ফুলে যাওয়া, রক্ত বমি বা কালো পায়খানা হওয়া, ঘোর-ঘোর ভাব ঘুম না হওয়া বা লোক চিনতে না পারা, জন্ডিস - এর মধ্যে যেকোনও একটি লক্ষণ থাকলে তাকে বলা হয় ডিকমপেনসেটেড সিরোসিস।


সিরোসিসের মূল কারণ কী কী?


মদ্যপান: সপ্তাহে ৪০ গ্রাম বা তার বেশি মদ্যপান করলে এই রোগ হতে পারে।

হেপাটাইটিস বি

হেপাটাইটিস সি


আমাদের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের ফলে আমরা এখন অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি তৈলাক্ত এবং মশলাদার খাদ্যের সাথে যা সাথে করে আনে অন্য কিছু রোগ যেমন- -স্থূলতা, মেটাবলিক সিন্ড্রোম, মধুমেহ রোগ। এইসব কারণে লিভারের কর্মক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে এবং হতে পারে সিরোসিস অফ লিভার। এছাড়াও কিছু বিরল রোগের কারণে সিরোসিস অফ লিভার হতে পারে যেমন- অটোইমিউন ডিসিস হিমোক্রোমাটোসিস উইলসনস্ ডিসিস।


চিকিৎসা পদ্ধতি কী?


কমপেনসেটেড সিরোসিস রোগ ধরা পড়লে প্রথমেই যে কারণে লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তার চিকিৎসা করা প্রয়োজন। যদি ওবেসিটি বা ডায়াবেটিস থাকে, তবে তা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। মদ্যপান পুরোপুরি ত্যাগ করতে হবে। হেপাটাইটিস বি বা সি থাকলে তার উপযুক্ত ওষুধ খেতে হবে।


ডিকমপেনসেটেড সিরোসিস


রোগীর মধ্যে যদি অস্বাভাবিক ঘুম-ঘুম ভাব, অসংলগ্ন কথাবার্তা বা মানসিক বিভ্রান্তি দেখা দেয় তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। ওষুধের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে এটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।


পেটে পানি জমা 


এমন হলে খাবারে নুন খাওয়া নিয়ন্ত্রণ করে ও ওষুধের মাধ্যমে এই চিকিৎসা করা হয়। অনেকের ধারণা আছে পেটে জল জমলে জলপানের মাত্রা কমালেই কাজ হবে, এটা ভুল ধারণা। বিশেষ কিছু কারণ ছাড়া জল পানে নিয়ন্ত্রন দরকার নেই।


রক্তবমি-কালো মল


এক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি করে রোগীর আপার জিআই এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়।


লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট বা প্রতিস্থাপন কখন প্রয়োজন?


অ্যাডভান্স স্টেজ এটি। লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট প্রয়োজন, এটি প্রধানত দুইভাবে করা সম্ভব:


লিভিং ডোনার


পরিবারের সুস্থ কোনও সদস্যের লিভারের অংশ বিশেষ গ্রহণ করা (এক্ষেত্রে রক্ত ম্যাচ করা আবশ্যিক)।


ক্যাডাভেরিক ডোনার


ব্রেন ডেথ হয়েছে এমন মৃত ব্যক্তির লিভার পরিবারের সম্মতিতে গ্রহণ করা।


উভয় ক্ষেত্রেই দাতা ও গ্রহীতার ব্লাড গ্রুপ মিলে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি।


সতর্কতা


ওবেসিটি ও ডায়াবেটিস বর্তমানে আমাদের দেশে সিরোসিসের অন্যতম বড় কারণ। তাই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং নিয়মিত শারীরিক পরীক্ষা লিভার সুস্থ রাখার চাবিকাঠি।

বিষয় : লিভার

সর্বশেষ সব খবর

হান্টা ভাইরাস

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৪ মে, ২০২৬, সময় : ১১:২৮ পিএম

সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক ক্রুজ শিপে হান্টা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এবং কয়েকজনের মৃত্যুর খবরে বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও এটি করোনাভাইরাসের মতো দ্রুত ছড়ায় না, তবে এর উচ্চ মৃত্যুঝুঁকি একে অত্যন্ত উদ্বেগজনক করে তুলেছে।


হান্টা ভাইরাস কী


হান্টা ভাইরাস মূলত একটি জুনোটিক বা প্রাণীবাহিত ভাইরাস, যা সাধারণত ইঁদুর বা এ-জাতীয় বন্য প্রাণীর মাধ্যমে মানুষের দেহে সংক্রমিত হয়। 


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, এটি কোনো একক ভাইরাস নয়, বরং একগুচ্ছ ভাইরাস, যা বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নামে পরিচিত।


ইতিহাস


হান্টা ভাইরাসের নামকরণ হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার হান্টান নদীর নামানুসারে। ১৯৫০-এর দশকে কোরিয়ান যুদ্ধের সময় প্রথম এই ভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণ দেখা দেয়।


পরবর্তী সময়ে ১৯৯৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এ ভাইরাসের একটি নতুন রূপ ‘হান্টা ভাইরাস পালমোনারি সিনড্রোম’ (এইচপিএস) শনাক্ত হয়, যা ফুসফুসকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।


কীভাবে ছড়ায়


এটি মূলত ইঁদুরের লালা, মূত্র বা মল থেকে ছড়ায়। যখন ইঁদুরের বর্জ্য শুকিয়ে ধুলার সঙ্গে বাতাসে মিশে যায়, তখন শ্বাসের মাধ্যমে সেই দূষিত বাতাস মানুষের ফুসফুসে প্রবেশ করলে সংক্রমণ ঘটে।


এ ছাড়া আক্রান্ত ইঁদুরের কামড় বা দূষিত কোনো খাবার খেলেও এই রোগ হতে পারে।


বিরল ক্ষেত্রে ‘অ্যান্ডিস ভাইরাস’ নামের হান্টা ভাইরাসের একটি ধরন মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে।


লক্ষণ ও সমস্যা


হান্টা ভাইরাসের প্রধান দুটি রূপ হলো-


১. এইচপিএস (পালমোনারি সিনড্রোম): এতে শ্বাসকষ্ট ও ফুসফুসে পানি জমে যায়।


২. এইচএফআরএস (হেমোরেজিক ফিভার): এতে কিডনি অকেজো হওয়া এবং রক্তক্ষরণের লক্ষণ দেখা দেয়।


প্রাথমিক লক্ষণগুলো অনেকটা সাধারণ ফ্লুর মতো- জ্বর, মাথাব্যথা, পেশিতে ব্যথা ও ক্লান্তি। কয়েক দিন পর শুরু হয় তীব্র শ্বাসকষ্ট, কাশি ও রক্তচাপ কমে যায়। হান্টা ভাইরাস অত্যন্ত প্রাণঘাতী। 


পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে মৃত্যুর হার ৩৮-৫০ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি ১০ জন আক্রান্তের মধ্যে ৪ জনই মারা যেতে পারেন।


ডায়াগনসিস ও চিকিৎসা


রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে এই ভাইরাস শনাক্ত করা হয়। হান্টা ভাইরাসের কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষেধক বা অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই। 


আক্রান্ত রোগীকে দ্রুত হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নিয়ে অক্সিজেন সাপোর্ট ও অন্যান্য সহায়ক চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করার চেষ্টা করা হয়।


প্রতিরোধের উপায়


বাড়িঘর ও কর্মক্ষেত্র ইঁদুরমুক্ত রাখার জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা।


ইঁদুরের উপদ্রব আছে, এমন জায়গা পরিষ্কার করার সময় মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার করা।


খাবার সব সময় ঢেকে রাখা।


অব্যবহৃত বা অন্ধকার ঘর পরিষ্কার করার সময় সরাসরি ঝাড়ু না দিয়ে ব্লিচিং পাউডার-মিশ্রিত পানি ব্যবহার করা, যাতে ধুলা না ওড়ে।


শস্যদানা ও খাবারদাবার নিরাপদে সংরক্ষণ করা। ফাঁদে আটকে কিংবা বিষ দিয়ে কিংবা অন্য কোনো উপায়ে ইঁদুর মারা যাবে না। বরং পরিচ্ছন্নতার দিকে জোর দিতে হবে। কোনো জায়গা পরিপাটি, পরিচ্ছন্ন করে রাখা হলে ইঁদুর থাকে না।

সর্বশেষ সব খবর