ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:৩৪ এএম

প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে কিংবা রাতে ঘুমানোর আগে টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করা মানুষের নিত্য অভ্যাস। শিশু থেকে বয়স্ক– সব বয়সী মানুষের ব্যবহৃত নিত্যপ্রয়োজনীয় টুথপেস্ট নিয়ে এবার উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে। 


দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টুথপেস্টের প্রায় চারটির মধ্যে তিনটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। শুধু প্রাপ্তবয়স্কদের নয়, শিশুদের জন্য বাজারজাত টুথপেস্টেও মিলেছে এই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা।


এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো) এক বছরের গবেষণায় বাজারের ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করে দেখেছে, এর মধ্যে ২৬টিতে, অর্থাৎ ৭৬ দশমিক ৫ শতাংশ নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিক রয়েছে। গবেষণায় প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে সর্বোচ্চ ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। রোববার রাজধানীর লালমাটিয়ায় এসডোর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক ইন টুথপেস্ট’ শীর্ষক গবেষণার ফল প্রকাশ করা হয়। 


সংস্থাটি বলছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি প্রমাণিত হয়েছে। বাংলাদেশে বাজারজাত টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে এটিই প্রথম বৈজ্ঞানিক গবেষণা। গবেষণার উদ্দেশ্য কোনো নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডকে লক্ষ্যবস্তু করা নয়; বরং ভবিষ্যতের নীতিনির্ধারণে ব্যবহারযোগ্য বৈজ্ঞানিক তথ্যভান্ডার তৈরি করা।


এক বছরে সংগ্রহ ও পরীক্ষাগার বিশ্লেষণ

গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে ২০২৫ সালের জুলাই থেকে গত জুন পর্যন্ত। এই সময় দেশের বিভিন্ন সুপারশপ, খুচরা দোকান ও পাইকারি বাজার থেকে স্থানীয় ও আমদানি করা ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি (ইএইচই) গবেষণাগারে এসব নমুনার বিশ্লেষণ করা হয়। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন এলাকার দুই হাজার ৭৬০ জন ভোক্তার ওপর চালানো হয় একটি জরিপ।


পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশে উৎপাদিত ২৫ নমুনার মধ্যে ২২টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। ভিয়েতনাম থেকে আমদানি করা দুটি নমুনার দুটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক মিলেছে। থাইল্যান্ডের দুটি নমুনার একটিতে এবং ভারতের পাঁচটি নমুনার একটিতে এই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে।


কোন টুথপেস্টে সবচেয়ে বেশি

গবেষণায় সবচেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে মেডিপ্লাস ফ্লুরাইড জেল টুথপেস্টে। প্রতি ১০০ গ্রামে এতে ৩২০টি কণা শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া ক্লোজআপ রেড হট ও ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশে ১৬০টি করে, কোদোমো আলট্রা শিল্ড ফর্মুলায় ১৪০টি, সিগন্যাল গ্রিন টিতে ১২০টি, পেপসোডেন্ট অ্যাডভান্স সল্ট ও হিমালয়া কমপ্লিট কেয়ারে ১০০টি করে এবং সেনসোডাইন ফ্রেশ মিন্টে ৮০টি কণা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া পেপসোডেন্ট সেনসিটিভ এক্সপার্ট, হোয়াইট প্লাস রেড, হোয়াইট প্লাস প্রো সেনসিটিভ জেল, মেরিল বেবি স্ট্রবেরি, সিগন্যাল হোয়াইটেনিং ও মেডিপ্লাস টিজিপি ফর্মুলা টুথপেস্টে ৬০টি করে কণা শনাক্ত হয়েছে।


অন্যদিকে এএমপিএম হার্বাল, মেডিপ্লাস ডিএস, পেপসোডেন্ট জার্মিচেক+, মেরিল বেবি অরেঞ্জ, ম্যাজিক হারবাল, মেসওয়াক ও ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশ স্যাশেতে ৪০টি করে কণা পাওয়া গেছে। ডেন্টিন জেল, পেপসোডেন্ট কিডস অরেঞ্জ, ক্লোজআপ লেমন সি সল্ট, ব্রাশআপ হোয়াইটেনিং জেল এবং হোয়াইট প্লাস প্রো সেনসিটিভে পাওয়া গেছে ২০টি করে কণা।


মাইক্রোপ্লাস্টিক মেলেনি আটটিতে

গবেষণায় আটটি টুথপেস্টে কোনো শনাক্তযোগ্য মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি। এগুলো হলো জেনফ্রেশ, প্যারাসুট জাস্ট ফর বেবি (ম্যাঙ্গো), ক্লোজআপ রেড-হট জিংক ফ্রেশ টেকনোলজি, প্যারোডনট্যাক্স এক্সপার্ট গাম কেয়ার, সেনসোডাইন ফ্রেশ জেল, কোলগেট ম্যাক্সফ্রেশ, কোলগেট অ্যাক্টিভ সল্ট এবং কোদোমো অরেঞ্জ।


শিশুদের টুথপেস্টও মুক্ত নয়

শিশুদের জন্য বাজারজাত করা ছয়টি টুথপেস্টও গবেষণার আওতায় আনা হয়। এর মধ্যে চারটিতে অর্থাৎ, প্রায় ৬৭ শতাংশ নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। এসব টুথপেস্টে প্রতি ১০০ গ্রামে ২০ থেকে ১৪০টি পর্যন্ত কণা শনাক্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ১৪০টি কণা পাওয়া যায় কোদোমো আলট্রা শিল্ড ফর্মুলায়। মেরিল বেবি স্ট্রবেরিতে পাওয়া গেছে ৬০টি, মেরিল বেবি অরেঞ্জে ৪০টি এবং পেপসোডেন্ট কিডস অরেঞ্জে ২০টি কণা। তবে প্যারাসুট জাস্ট ফর বেবি ও কোদোমো অরেঞ্জে কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি।


মোড়কে নেই কোনো তথ্য

গবেষণায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে। পরীক্ষা করা কোনো টুথপেস্টের মোড়কে মাইক্রোপ্লাস্টিক কিংবা ব্যবহৃত সিনথেটিক পলিমারের তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। এসডো বলছে, এর ফলে ভোক্তারা সচেতনভাবে পণ্য বেছে নেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর জন্যও বাজার তদারকি কঠিন হয়ে পড়ছে।


সংবাদ সম্মেলনে এসডোর মহাসচিব ও সিনিয়র টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার ড. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, গবেষণায় ব্যবহৃত সব নমুনা সরাসরি সুপারশপ, খুচরা বিক্রেতা ও বাজার থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। ফলে নকল বা ভেজাল পণ্য গবেষণার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ ছিল না। তিনি বলেন, প্রতিদিন ব্যবহৃত একটি পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকতে পারে এ বিষয়টি অধিকাংশ ভোক্তারই অজানা। তাই টুথপেস্টের উপাদান লেবেলে উল্লেখ বাধ্যতামূলক করা, জনসচেতনতা বাড়ানো এবং নিয়ন্ত্রক তদারকি জোরদার করা জরুরি।


ভোক্তাদের সচেতনতা সীমিত

গবেষণার অংশ হিসেবে পরিচালিত ভোক্তা জরিপে দেখা গেছে, টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের সচেতনতা এখনও খুবই সীমিত। জরিপে অংশ নেওয়া ৪১ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ বলেছেন, তারা আগে কখনও এ বিষয়ে শোনেননি। ৩১ দশমিক ৩ শতাংশ বলেছেন, শুনেছেন তবে বিস্তারিত জানেন না। মাত্র ২৬ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তারা এ বিষয়ে সচেতন। জরিপে আরও দেখা গেছে, ৮২ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতা নিয়মিত টুথপেস্ট ব্যবহার করেন এবং ৯০ দশমিক ৬ শতাংশ নিয়মিত টুথব্রাশ ব্যবহার করেন। ৫৬ দশমিক ৯ শতাংশ দিনে একবার এবং ৪০ দশমিক ৬ শতাংশ দিনে দুইবার দাঁত ব্রাশ করেন।


টুথপেস্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্র্যান্ড হিসেবে উঠে এসেছে মেডিপ্লাস। জরিপে অংশ নেওয়া ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতা এই ব্র্যান্ড ব্যবহার করেন। এর পর রয়েছে ক্লোজআপ ও পেপসোডেন্ট, যেগুলো ব্যবহার করেন ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ করে উত্তরদাতা। কোলগেট ব্যবহার করেন ১১ দশমিক ৩ শতাংশ।


মান সংশোধনের উদ্যোগ নেবে বিএসটিআই

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউটের (বিএসটিআই) উপপরিচালক (রসায়ন) মো. মনজুরুল করিম বলেন, বর্তমানে টুথপেস্টের জাতীয় মানে ৪০টি অনুমোদিত উপাদান এবং কণার আকারের সীমা নির্ধারণ রয়েছে। কিছু উৎপাদক কম খরচে ওজন বাড়ানোর উদ্দেশ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহার করতে পারেন, যা একটি খারাপ চর্চা। তিনি জানান, ২০১৯ সাল থেকেই প্রসাধনী পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহারের বিষয়টি বিএসটিআইয়ের নজরে রয়েছে। ইতোমধ্যে ফেসওয়াশ ও ফেসপ্যাকের মান সংশোধন করা হয়েছে। এখন টুথপেস্টের মানেও একই ধরনের সংশোধনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।


নীতিমালা নেই, বাধ্যতামূলক নয় পরীক্ষা

এসডো বলছে, বাংলাদেশে বর্তমানে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের জন্য কোনো জাতীয় মানদণ্ড, অনুমোদিত সীমা, পরীক্ষার পদ্ধতি কিংবা বাধ্যতামূলক লেবেলিং নীতি নেই। ফলে উৎপাদকরা এ বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশে বাধ্য নন এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থারও কার্যকর নজরদারির সুযোগ সীমিত।


সংস্থাটির চেয়ারম্যান সৈয়দ মারগুব মোরশেদ বলেন, বিশ্বাসযোগ্য বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতেই কার্যকর জননীতি প্রণয়ন করা উচিত। এই গবেষণা টুথপেস্টের মানদণ্ড উন্নয়ন, নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা জোরদার এবং ভোক্তা ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


স্বাস্থ্য ও পরিবেশে সম্ভাব্য ঝুঁকি

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দাঁত ব্রাশের সময় টুথপেস্টের সঙ্গে বেরিয়ে যাওয়া মাইক্রোপ্লাস্টিক বর্জ্য পানির মাধ্যমে পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে। পরে তা নদী, জলাশয় ও খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করতে পারে। খাদ্য ও পানীয়ের মাধ্যমে এসব ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা মানবদেহেও প্রবেশের শঙ্কা রয়েছে। 


আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের সংস্পর্শের সঙ্গে শ্বাসতন্ত্র, পরিপাকতন্ত্র, রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা, হৃদরোগ, স্নায়ুতন্ত্র ও প্রজননস্বাস্থ্যের সম্ভাব্য ঝুঁকির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে এসব প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।


গবেষণার ফল প্রকাশের পর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় একটি পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শুধু ভোক্তার স্বাস্থ্য নয়, পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টিকেও সামনে নিয়ে এসেছে। তাই দ্রুত জাতীয় মানদণ্ড প্রণয়ন, বাধ্যতামূলক লেবেলিং, নিয়মিত পরীক্ষাগার তদারকি এবং উৎপাদকদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।


এসডোর নির্বাহী পরিচালক সিদ্দীকা সুলতানা বলেন, এই গবেষণার মাধ্যমে বাংলাদেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক শূন্যতা পূরণ হয়েছে। এর ফলাফল ভবিষ্যতে ওরাল কেয়ার পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের মানদণ্ড নির্ধারণ, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং তথ্যভিত্তিক নীতিমালা প্রণয়নে সহায়ক হবে।


স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক লাইন ডিরেক্টর দন্ত চিকিৎসক অধ্যাপক মো. মোশাররফ হোসেন খন্দকার বলেন, মুখ পরিষ্কারে ব্যবহৃত পণ্যগুলোতে এ ধরনের ক্ষতিকর উপাদান থাকা উচিত নয়। দাঁতের সুরক্ষায় ফ্লোরাইড, কার্বনেট ও সিলিকাকে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় মনে করা হয়। মাইক্রোপ্লাস্টিক তার ঘর্ষণ ক্ষমতার কারণে দাঁত সাদা করতে পারলেও, এটি দাঁতের এনামেলের ওপর বিরূপ ও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।


পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মাহমুদা তামান্না খান বলেন, গবেষণায় যে বিষয়টি উন্মোচিত করেছি, এর ওপর ভিত্তি করে আমরা কাজ করতে আগ্রহী। বিএসটিআইকে সব ধরনের সহায়তা দিতে আমরা প্রস্তুত। সরকারি সংস্থা ও এনজিওগুলো একযোগে কাজ করলেই ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।



সর্বশেষ সব খবর

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:৩২ পিএম

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে ধর্মের নামে বিভাজনের কোনো সুযোগ নেই। এ দেশ হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার ও মর্যাদার দেশ। ধর্মকে কেন্দ্র করে বিভেদ সৃষ্টি করে কেউ যেন সমাজে অস্থিরতা তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। শুক্রবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সম্মিলিত সনাতন পরিষদের আয়োজনে ‘সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বিধান’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা ও প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, একাত্তরকে সামনে আনার অর্থ চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানকে পেছনে রাখা নয়; বরং একাত্তরকে সামনে আনার পাশাপাশি জুলাইকেও সামনে আনতে হবে।

 

তিনি বলেন, আমরা জুলাইকেও অস্বীকার করতে পারি না। এ জন্য যে আমাদের অসংখ্য সন্তান, তারা বাংলাদেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য প্রাণ দিয়েছে। একটা ফ্যাসিস্ট সরকারকে দেশ থেকে চলে যেতে বাধ্য করেছে। একাত্তর ও চব্বিশ কোনোটিকেই বিএনপি ছোট করে দেখে না বলে উল্লেখ করেন দলটির মহাসচিব।


একটি গোষ্ঠী সচেতনভাবে ধর্মের নামে দেশকে বিভাজনের দিকে ঠেলে দিতে চায় বলে অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ধর্মের নামে যারা দেশকে বিভাজনের দিকে নিয়ে যেতে চায়, তাদের অবশ্যই রুখে দিতে হবে।


মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা এখানে উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দিতে পারি না। মৌলবাদকে প্রশ্রয় দিতে পারি না। আমরা এখানে উদারপন্থী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নির্মাণ করতে চাই।


ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টিকারীদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে উগ্রবাদ ও মৌলবাদ রুখে দেওয়ার আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার রয়েছে। বিএনপি কাউকে ‘সংখ্যালঘু’ মনে করে না, তাই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিজেদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান তিনি।


বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রতি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তাদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে দল ও ভবিষ্যৎ সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে। এ জন্য হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের বিএনপির সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা অব্যাহত রাখার অনুরোধ করেন তিনি।


অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, বিএনপির সরকার গঠনের পেছনে এবার সংখ্যালঘুদের ভোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও সেই কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে লালন করেন। সরকারের কাছে দেশের সব নাগরিক সমান। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কিংবা যেকোনো মতের মানুষ সমান অধিকার ভোগ করবে, বিএনপি সরকার সেই অধিকার রক্ষায় আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে।


যেকোনো পরিস্থিতির বিশ্লেষণে পক্ষপাত না করে নিরপেক্ষ ও সঠিক তথ্য তুলে ধরার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার। তিনি বলেন, রাজনৈতিক বা সামাজিক পটভূমি বিচারে শুধু সাম্প্রতিক দু-এক বছর নয়; বরং আগের সব ইতিহাস বিবেচনায় নেওয়া উচিত। 


সভা সঞ্চালনা করেন সম্মিলিত সনাতন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার আচার্য। সভাপতিত্ব করেন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক হীরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস। আরও বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ– ৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদার, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী প্রমুখ।


সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৪৬টি সংগঠনের প্রতিনিধি অশোক তরু সাহা মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর যে হারে নির্যাতন বেড়েছে, সেটা যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। তিনি অবিলম্বে সরকারকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষায় বিশেষ ভূমিকা রাখার দাবি জানান।


মতবিনিময় সভায় সম্মিলিত সনাতন পরিষদের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে বেশ কিছু দাবি উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ছিল সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা ও জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন করা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হওয়া হামলা ও নির্যাতনের বিচার নিশ্চিত করা, হিন্দুধর্মীয় উৎসবগুলোয় যথাযথ সরকারি ছুটি দেওয়া, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে সরকারি জায়গা বরাদ্দ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার পাশাপাশি এই ট্রাস্টকে ফাউন্ডেশন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা প্রভৃতি।

সর্বশেষ সব খবর

প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৮:৪৩ পিএম

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৮৫টি শিশু। শুক্রবার (৩১ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।


এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৭৪০টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৭টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৮৩৭টি শিশু মারা গেছে।


এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ১৮৫টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৯০০। এই সময়ে ৮০৫টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৮০৬টি শিশু।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২৮ হাজার ৩১০, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৬ হাজার ৫৯। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ১০ হাজার ৯৮৭ রোগী, যাদের মধ্যে ১ লাখ ৬ হাজার ৮৫৯ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।


সর্বশেষ সব খবর

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৬:২০ পিএম

বর্তমানে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মীদের জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। তারা বিদেশে কীভাবে চলাচল করবে সে বিষয়ে ১০ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বেশকিছু করণীয় ও বর্জনীয় বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।


প্রবাসীদের জন্য সরকারের জরুরি নির্দেশনা:


কর্মরত দেশের আইন, বিধি-বিধান, কর্মস্থলের নীতিমালা, স্থানীয় সাইবার আইন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ, ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ মেনে চলা; পরিবার, বন্ধু ও ইতিবাচক যোগাযোগের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করা; চাকরি, নিয়োগকর্তা বা কর্মস্থল-সংক্রান্ত কোনো তথ্য, ছবি বা ভিডিও শেয়ারের আগে প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুসরণ করা; অপরিচিত ব্যক্তি, অজানা লিংক, ফাইল বা বার্তার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা এবং প্রতারণা (Scam) ও ফিশিং (Phishing) থেকে সাবধান থাকা; সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করা। পাশাপাশি তথ্য, ছবি বা ভিডিও শেয়ারের আগে সত্যতা যাচাই করা এবং সন্দেহজনক বা উসকানিমূলক অনলাইন কার্যক্রম থেকে বিরত থাকা।


এ ছাড়াও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ওই বিজ্ঞপ্তিতে প্রবাসে অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বর্জনীয় কিছু বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছে। এগুলো হলো:


সন্ত্রাসবাদ, উগ্রবাদ বা নিষিদ্ধ সংগঠন-সংশ্লিষ্ট পোস্ট, ছবি, ভিডিও বা বার্তা শেয়ার, লাইক, মন্তব্য বা প্রচার না করা এবং গুজব, ভুয়া তথ্য বা বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচার না করা; ইসরায়েল-ফিলিস্তিন, ইরান-ইসরায়েল বা অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংঘাত নিয়ে স্থানীয় আইন লঙ্ঘন করতে পারে এমন উসকানিমূলক বা বিতর্কিত পোস্ট শেয়ার বা প্রচার না করা; কর্মরত দেশে নিষিদ্ধ কোনো রাজনৈতিক বা অনলাইন প্রচারণায় অংশগ্রহণ না করা; যথাযথ যাচাই ছাড়া কোনো ব্যক্তি, সংগঠন বা অনলাইন তহবিলে অনুদান (Donation) না দেওয়া; কর্মস্থল, বিমানবন্দর, বন্দর, সরকারি স্থাপনা বা নিরাপত্তা-সংক্রান্ত স্থানের ছবি বা ভিডিও ধারণ বা প্রকাশ না করা; নিজের বা অন্যের পাসপোর্ট, ভিসা, জাতীয় পরিচয়পত্র বা আইডি, ব্যাংক তথ্য বা অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ না করা; ধর্মীয়, জাতিগত বা বর্ণগত বিদ্বেষ উসকে দিতে পারে এমন পোস্ট, মন্তব্য বা বিতর্কে অংশ না নেওয়া; ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন, অবৈধ ভিসা, দ্রুত আয়ের প্রলোভন বা সন্দেহজনক বিনিয়োগ বা ক্রিপ্টোকারেন্সি-সংক্রান্ত প্রতারণায় জড়িত না হওয়া; কোনো অপরাধ, সহিংসতা বা অবৈধ কার্যক্রমকে সমর্থন বা প্রশংসা করে পোস্ট, মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া না দেওয়া।

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:৫২ পিএম
  • আপডেট : শুক্রবার ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:৫২ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


মো. ফজলুর রহমান

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:৫২ পিএম

নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের পুনর্গঠিত নির্বাহী কমিটিতে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। 


প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০১৮-এর ১৩ ধারার বিধান অনুযায়ী নির্বাহী কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে।


প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পুনর্গঠিত নির্বাহী কমিটি ট্রাস্টের আইন, বিধিমালা এবং ট্রাস্টি বোর্ডের অর্পিত দায়িত্ব ও নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবে। একই সঙ্গে ট্রাস্টের সার্বিক কার্যক্রম তদারকি, ট্রাস্ট ও এর অধীন বাণিজ্যিক ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ, হিসাব নিরীক্ষা, ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণ এবং ট্রাস্টি বোর্ডের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করবে।


সরকার আশা করছে, পুনর্গঠিত এই নির্বাহী কমিটির মাধ্যমে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও ফলপ্রসূ হবে।


নতুন কমিটির সভাপতি করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানকে। পুনর্গঠিত এ কমিটিতে ফজলুর রহমান ছাড়াও সদস্য হিসেবে রয়েছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী এবং নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক।


এ ছাড়া অর্থ বিভাগের সচিব, শিল্প সচিব এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব পদাধিকারবলে কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।


নতুন নির্বাহী কমিটি ট্রাস্টের আইন, বিধিমালা ও ট্রাস্টি বোর্ডের অর্পিত দায়িত্ব বাস্তবায়নের পাশাপাশি ট্রাস্টের সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করবে। এ ছাড়া উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, অধীনস্থ বাণিজ্যিক ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, প্রকল্পের অগ্রগতি মূল্যায়ন, হিসাব নিরীক্ষা এবং ট্রাস্টি বোর্ডের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্বও পালন করবে।

সর্বশেষ সব খবর

যুক্তরাষ্ট্রের বিবেচনায় বাংলাদেশ এখন ‘ভ্রমণের জন্য আরও নিরাপদ’

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:৩৬ এএম

বাংলাদেশের জন্য জারি করা ভ্রমণ সতর্কতা (ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি) হালনাগাদ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। 


নতুন মূল্যায়নে দেশের সামগ্রিক সতর্কতার মাত্রা লেভেল-৩ (ভ্রমণের আগে পুনর্বিবেচনা করুন) থেকে কমিয়ে লেভেল-২ (অতিরিক্ত সতর্কতার সঙ্গে ভ্রমণ করুন) নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ মূল্যায়নে বাংলাদেশকে আগের তুলনায় ‘ভ্রমণের জন্য অপেক্ষাকৃত নিরাপদ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।


সরকারি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গরের বৈঠকের পর এই অগ্রগতির বিষয়টি জানানো হয়। বৈঠক শেষে সার্জিও গর খুদে বার্তার মাধ্যমে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবহিত করেন।


বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত ছিলেন।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভ্রমণ সতর্কতার স্তর কমানোর সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও স্থিতিশীলতার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তে থাকা আস্থার প্রতিফলন। এতে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ছয় মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন করেছে। পাশাপাশি এ সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ইতিবাচক ধারায় এগিয়ে যাওয়ারও ইঙ্গিত বহন করে।


সরকারের মতে, ভ্রমণ সতর্কতার এই উন্নয়ন দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারে নেওয়া পদক্ষেপের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক ভ্রমণ, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।


সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৬:৫৪ পিএম

মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এ মামলায় তাকে হাতকড়া পরানো নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তার ছোট ভাই, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদের সিদ্দিকী (বীর উত্তম)। আজ বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। 


হাতকড়া প্রসঙ্গে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘এ নিয়ে কোনো কথা বলার নেই। এটা সরকার বুঝবে। আমাদের হাতে বহুবার হাতকড়া পড়েছে। এতে আমরা খারাপ কিছু মনে করি না। বিয়ের সময় মেয়ের হাতে যেমন চুড়ি পরানো হয়, আমরা হাতকড়াকেও তেমনই মনে করি।’


তিনি বলেন, ‘নিষ্পাপ একজন মানুষকে অন্যায়ভাবে আসামি করায় প্রতিবাদ জানাতে এসেছি। আদালতে প্রত্যেক অভিযুক্তের কথা বলার অধিকার আছে। লতিফ সিদ্দিকীও কথা বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাকে সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি।’


লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘তার বয়স এখন ৮৭ বছর। তিনি যদি এমন অপরাধে ফাঁসির দণ্ড পান, যা তিনি করেননি, তাহলে দুনিয়ায় যে ভুল-ত্রুটি করেছেন, সেগুলো থেকে তিনি মাফ পাবেন। আমরাও তা সাদরে গ্রহণ করব। কারণ শেষ বিচারে আল্লাহ তাআলা তাকে মুক্তি দেবেন।’


শাপলা চত্বরে গণহত্যার পরিকল্পনাকারী হিসেবে লতিফ সিদ্দিকীকে আসামি করা হয়েছে- এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে কাদের সিদ্দিকী বলেন, তাকে পরিকল্পনাকারী বলা যায় না। কারণ তিনি তখন ‘কিচেন কেবিনেটের’ সদস্য ছিলেন না। তিনি পাটমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। ‘পাট নিয়ে হত্যা চলে না। ওই সময় বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে তিনি আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার কাছে বিতর্কিত ছিলেন। পরে তাকে আওয়ামী লীগ থেকেও বহিষ্কার করা হয়’।


আওয়ামী লীগের শাসনামলের ঘটনার বিচার এখন তার ভাইকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে- এ বিষয়ে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা আইনের মাধ্যমেই লড়াই চালিয়ে যাব।’

সর্বশেষ সব খবর