• প্রকাশ : রবিবার ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ৭:১৩ এএম

সিআইজিআর ইঞ্জিনিয়ারিং স্টুডেন্ট আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ২০২৫–২৬-এ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শহীদ নাজমুল আহসান হলের চার শিক্ষার্থী আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। ওই প্রতিযোগিতাটি ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অব এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড বায়োসিস্টেমস ইঞ্জিনিয়ারিং (সিআইজিআর) আয়োজন করেছিল। 


শিক্ষার্থীদের এই সাফল্যে তাদের সংবর্ধনা প্রদান করেছে বাকৃবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি। অনুষ্ঠানে সংগঠনটির সদস্য-সচিব মো. শফিকুল ইসলাম বিজয়ীদের সংবর্ধনা প্রদান করেন। এসময় শহীদ নাজমুল আহসান হলের বিভিন্ন হল থেকে আমন্ত্রিত ছাত্রদলের নেতাকর্মী, জুনিয়র শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে প্রীতি ভোজ অনুষ্ঠিত হয়। 


সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শাখা ছাত্রদলের সদস্য-সচিব মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান দেশের মেধাবীদের সবসময় অনুপ্রাণিত করে আসছেন। তারই ধারাবাহিকতায় আজকের এই প্রীতিভোজের মাধ্যমে আমরা শিক্ষার্থীদের মাঝে পারস্পরিক সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সৌহার্দ্য আরও দৃঢ় করতে চাই। পাশাপাশি কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অন্যদের ভালো করার অনুপ্রেরণা জোগাবে। আমরা চাই মেধাবীরা দেশ পরিচালনায় সক্রিয় ভূমিকা রাখুক। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে বাকৃবি ছাত্রদলের এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।


জানা যায়, ওই প্রতিযোগিতায় 'সিস্টেম ম্যানেজমেন্ট' বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন তানভীর হোসেন। 'এনার্জি ইন এগ্রিকালচার' বিভাগে যৌথভাবে প্রথম হয়েছেন আবু হোরাইরা রিজন ও শোয়াইব আহমেদ সতেজ । এছাড়া 'স্ট্রাকচার এন্ড এনভায়রনমেন্ট' বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন সাবিদুর রহমান শেজান।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : রবিবার ০২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:১০ পিএম


বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে প্রভাষক নিয়োগকে ঘিরে অনিয়মের নানা গুঞ্জন শুনা যাচ্ছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট মহলে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।


বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২১ মে প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উক্ত বিভাগে দুইজন প্রভাষক নিয়োগের কথা উল্লেখ ছিল। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন হলেও এখনো চূড়ান্ত ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।


এদিকে, নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে আলোচনায় উঠে এসেছে দুই প্রার্থী—৪৪তম ব্যাচের মো. ইয়াসিন এবং ৪৬তম ব্যাচের নাফিস মাহমুদ অর্নব। সংশ্লিষ্টদের দাবি, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার দিক থেকে ইয়াসিন তুলনামূলকভাবে এগিয়ে রয়েছেন।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, লিখিত পরীক্ষায় ইয়াসিন অর্নবের তুলনায় বেশি নম্বর পেয়েছিলেন। মৌখিক পরীক্ষাতেও তার পারফরম্যান্স সন্তোষজনক ছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত ফলাফলে সেই প্রতিফলন দেখা যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।


নিয়োগ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পাঁচ সদস্যের একটি ভাইভা বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিনসহ ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. ইমদাদ সরকার, অনুষদের ডিন অধ্যাপক শিল্পী আক্তার এবং মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. আবু বকর সিদ্দিকী ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. মাহাবুব উপস্থিত ছিলেন।


বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ভাইভা বোর্ডে উপাচার্যের হস্তক্ষেপে নম্বরায়ণের সময় ইয়াসিনকে তুলনামূলকভাবে কম নম্বর প্রদান করে দ্বিতীয় থেকে তৃতীয় অবস্থানে আনা হয়। এমনকি প্রাথমিকভাবে বেশি নম্বর থাকা সত্ত্বেও পরবর্তীতে তা পুনর্বিন্যাস করে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও শিক্ষক নিয়োগের সময় নিয়োগ বোর্ডে উপস্থিত ২জন বিভাগীয় শিক্ষকের মতামতকে প্রাধান্য দেয়া হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে। 


এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভাইভা বোর্ডের অভ্যন্তরে মতবিরোধ ও বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয় বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। পরবর্তীতে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় উপস্থাপিত হয় এবং সেখানে অর্নবকে চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানা গেলেও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।


ভাইভা বোর্ডে উপস্থিত শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগগুলোর প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এছাড়া অভিযোগ উঠেছে, প্রভাবশালী ব্যক্তির সুপারিশের কারণে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মেধার যথাযথ মূল্যায়ন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।




ভুক্তভোগী মো. ইয়াসিন বলেন, “নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত পরীক্ষা, ডেমোনস্ট্রেশন এবং মৌখিক পরীক্ষা—প্রতিটি ধাপেই আমি সর্বোচ্চ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেছিলাম। ভাইভা বোর্ডে প্রবেশের পর ভিসি স্যার আমাকে প্রেজেন্টেশন দিতে নির্দেশ দেন। কিন্তু আমি প্রেজেন্টেশন শুরু করার পরপরই কোনো এক অজানা কারনে তিনি কক্ষ ত্যাগ করেন। প্রেজেন্টেশন শেষ হওয়ার পর ভাইভা শুরু হলে কিছুক্ষণ পর তিনি পুনরায় বোর্ডে যোগ দেন। ভাইভা চলাকালে শুরুতে এক্সটার্নাল পরীক্ষকদের ধারাবাহিক প্রশ্নের উত্তর আমি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিস্তারিতভাবে প্রদান করি। আমার উত্তর শুনে একজন এক্সটার্নাল পরীক্ষক সন্তুষ্টি প্রকাশ করে। পুরো সময়জুড়ে আমি জড়তাহীন ও সাবলীলভাবে প্রতিটি প্রশ্নের নির্ভুল উত্তর প্রদান করেছি। পরবর্তীতে অধ্যাপক ইমদাদ স্যার আমাকে একটি প্রশ্নের উত্তর বোর্ডে গিয়ে প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করতে বলেন। কিন্তু ঠিক সেই সময় উপাচার্য হঠাৎ আমাকে প্রেজেন্টেশন দিতে বাধা দেন এবং উপস্থিত শিক্ষকদের সময়স্বল্পতার কথা উল্লেখ করে কেবল মৌখিক প্রশ্নোত্তর চালিয়ে যেতে বলেন এবং একটি বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। তখন বিষয়টি আমার কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়নি। তবে পরবর্তীতে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর পর পুরো বিষয়টি আমার কাছে যথেষ্ট সন্দেহজনক বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।"


এই ঘটনায় আইনি সহায়তা নেবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "আমার প্রতি যে অবিচার হয়েছে, তা নিয়ে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথা বলছেন। আমিও প্রকৃত সত্য উদঘাটন করতে চাই। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে অবশ্যই আইনি সহায়তা নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব। আমি আমার জীবনের সাতটি মূল্যবান বছর শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য ব্যয় করেছি।"



নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, “ইয়াসিন লিখিত পরীক্ষায় ৫০ শতাংশের বেশি নম্বর এবং অর্ণব ৪৪ শতাংশ নম্বর পায়। ইয়াসিনের ভাইভায় খুবই ভালো পারফরম্যান্স ছিলো এবং কোনো প্রশ্নে তাঁকে আটকানো যায়নি। কিন্তু অর্ণবের ভাইভা ইয়াসিনের মতো ভালো হয়নি। এখানে উপাচার্য হঠাৎ অর্ণবকে ৯০ শতাংশ নম্বর দেয়ার কথা বলে এবং বাকি সদস্যরা সেটা সায় দেয়। তারপর লিখিত পরীক্ষার নম্বর বের করে সেটাও ম্যানুপুলেট করা হয়। ভাইবার সময়ে অর্নবকে বেশি সুবিধা দেয়া হচ্ছিল। সে ঠিকভাবে ইংরেজিতে কথা বলতে পারছিল না এবং প্রশ্নের উত্তরগুলো দেয়ার ক্ষেত্রে আটকে যাচ্ছিল। অধ্যাপক শিল্পী আক্তার অভিজ্ঞতার দিক থেকে বিবেচনা করে ইয়াসিনকে সুপারিশ করলেও উপাচার্য তাতে রাজি হননি।”





নিয়োগ বোর্ডে উপস্থিত থাকা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টির ডিন অধ্যাপক ড.শিল্পী আক্তার বলেন, “যারা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল প্রত্যেকেই মেধাবী ছিল। এদের মধ্য থেকে যার উপস্থাপনা বা অন্যান্য দক্ষতা ভালো ছিল বাকীদের তুলনায় তাকেই বাছাই করা হয়েছে।”


শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম পাওয়ার অভিযোগের ব্যাপারে তিনি বলেন, “বাহিরে কে কী বলছে তা জানা নেই। তবে নিয়োগ বোর্ডে যে পাঁচজন ছিলেন তাদের সকলের সম্মতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং কেউ কোন আপত্তি তুলে নেই। যেহেতু সকলের সম্মতিতে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে তাই এখানে অনিয়মের প্রশ্ন আসছে না।”



নিয়োগ বোর্ডের সদস্য ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক  অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুল হক বলেন, “আমি এই অভিযোগের বিষয়ে কিছুই জানি না। আমরা ভাইভা বোর্ডে যেটা করেছি, সেটা সবাই মিলে করেছি এবং সবাই সই করেছি। যাদেরকে নিয়োগের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে, বোর্ড তাদেরকেই উপযুক্ত মনে করেছে। ভিসির এখতিয়ার আছে শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বাস্তবতায় ভিসি যদি মনে করেন কোনো প্রার্থী ভবিষ্যতে বিভাগের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে বা অন্য কোনো কারণে উপযুক্ত নয়, তাহলে তাকে বাদ দেওয়ার এখতিয়ার তার রয়েছে। এটা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নতুন কিছু নয়। আমি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করেছি, বহু নিয়োগ বোর্ডে ছিলাম। এমন ঘটনা আগেও বহুবার ঘটেছে, যেখানে ভিসি নিজের বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাই এসব বিষয়কে অস্বাভাবিক মনে করি না।”



বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন নিয়োগে আনা অভিযোগ নিয়ে বলেন, “এখানে একজন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে অভিযোগটি এনেছে। যাদের লিখিত ও ভাইভায় সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছে তাঁরাই নির্বাচিত হয়েছে। এখানে কারো পক্ষে-বিপক্ষে যাওয়ার সুযোগ নেই। ভাইভা বোর্ডে পাঁচজন সদস্য ছিলো এবং সেখানে সবার স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এখানে দুর্নীতির কোনো বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই।”



নিয়োগ পরীক্ষায় উক্ত দুই প্রার্থীর বিষয়ে বলেন, “এখানে যাকে ভুক্তভোগী হিসেবে আনা হচ্ছে তার চেয়েও লিখিত পরীক্ষায় বেশি নম্বর পেয়েছে এমন পরীক্ষার্থী নির্বাচিত হয়নি। যাকে দ্বিতীয় স্থানে রাখা হয়েছে তাঁর লিখিত পরীক্ষায় কিছু নম্বর কম থাকলেও ডেমো ও ভাইভায় পারফরম্যান্স খুব ভালো ছিলো যার জন্য সে নির্বাচিত হয়েছে।”



নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “যারা নিয়োগ পেয়েছে তাদের আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। যাকে ভুক্তভোগী বানানো হয়েছে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে। নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয় কেউ আমাকে কোনো সুপারিশ করেনি এবং আমি স্বচ্ছতার ভিত্তিতে কাজ করেছি।”



উল্লেখ্য, মো. ইয়াসিন ২০২৩ সালে ৩.৯৬ সিজিপিএ অর্জন করে স্নাতক সম্পন্ন করেন এবং বর্তমানে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়নরত। তার পেশাগত অভিজ্ঞতার মধ্যে রয়েছে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড রিসার্চ (নিটার)-এ ছয় মাস প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন, বুটেক্সে সাত মাস রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ এবং ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে দুই সেমিস্টার পার্ট-টাইম প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতা। এছাড়া প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বল্প সময়ের জন্য প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন ও শিল্পখাতে প্রায় এক বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।


অন্যদিকে, নাফিস মাহমুদ অর্নব ২০২৫ সালে ৩.৮১ সিজিপিএ অর্জন করে স্নাতক সম্পন্ন করেন। তার অভিজ্ঞতার মধ্যে রয়েছে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সাত মাস ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : রবিবার ০২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:১০ এএম


জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে ও তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় ‘দি ইনস্টিটিউশন অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্টস’ (আইটিইটি), বাংলাদেশের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।


শনিবার (১ আগস্ট) বাদ মাগরিব রাজধানীর উত্তরায় আইটিইটি'র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন। এতে সভাপতিত্ব করেন আইটিইটি'র সভাপতি প্রকৌশলী মোহাম্মদ এনায়েত হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আরফান আলী প্রামানিক। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন আইটিইটি'র নেতৃবৃন্দ, সদস্য ও শিক্ষার্থীরা। 


এ আয়োজনের আহ্বায়ক হিসেবে সংগঠনের নির্বাহী সদস্য প্রকৌশলী মো. সাইদুর রহমান (রবিন), সদস্য সচিব সংগঠনের সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আরফান আলী প্রামানিক এবং সহ-সদস্য সচিব  সংগঠনের সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী মো. মাহমুদুল ইসলাম সাদ্দাম ছিলেন।


আয়োজনের আহ্বায়ক প্রকৌশলী মো. সাইদুর রহমান (রবিন) বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগের কারণেই আজ সবাই একসঙ্গে মিলিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তাঁদের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন ও আত্মত্যাগকে ভিত্তি করে বর্তমান কমিটি কাজ করবে বলেও জানান তিনি।

 

মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে পরস্পরের পরিপূরক উল্লেখ করে আইটিইটি'র সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী মো. মইদুল ইসলাম (মঈদ) বলেন, ১৯৭১ সালে অর্জিত স্বাধীনতার পর দলীয়করণ ও ফ্যাসিবাদের কারণে যে অন্যায়ের সৃষ্টি হয়েছিল, জুলাইয়ের আন্দোলন ছিল তার বিরুদ্ধে সুদৃঢ় প্রতিবাদ।


তিনি আরো বলেন, দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করতে হবে। আইটিইটি পরিবারের পক্ষ থেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কথাও জানান তিনি।


আইটিইটি'র মহাসচিব প্রকৌশলী এ এস এম হাফিজুর রহমান নিক্সন বলেন, “জুলাই কোনো নির্দিষ্ট দিনের নাম নয়, জুলাই হলো প্রতিবাদের ভাষা।” ১৯৫২, ১৯৭১ ও ১৯৯০-এর মতো ২০২৪-এর আন্দোলনও পুঞ্জীভূত অন্যায়ের বিরুদ্ধে বাঙালির প্রতিবাদ বলে উল্লেখ করেন তিনি।


বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের অগ্রগতি ধরে রাখতে উদ্ভাবনে জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রপ্তানিতে বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকলেও ইনোভেশনে গুরুত্ব না দিলে এ অবস্থান ধরে রাখা কঠিন হবে। এ জন্য অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকে সবাইকে দেশের উন্নয়নে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।


বুটেক্সের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা ও পতাকা অর্জনের সংগ্রাম, আর ২০২৪-এর আন্দোলন ছিল গণতান্ত্রিক ধারা ফিরিয়ে আনার আন্দোলন। শিশু থেকে বৃদ্ধ, পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের নজিরবিহীন অংশগ্রহণে এ আন্দোলন সফল হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আন্দোলন দমনে শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালানো ব্যক্তিদের বিচারের দাবি জানিয়ে উপাচার্য বলেন, বৈষম্যবিরোধী চেতনাকে সর্বক্ষেত্রে ধারণ করে শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে কাজ করতে হবে।


সভায় আইটিইটি'র সভাপতি প্রকৌশলী মোহাম্মদ এনায়েত হোসেন বলেন, “আমরা সবাই জুলাই যোদ্ধা এবং আমাদের সবার ভেতরে জুলাইয়ের চেতনা ও স্পিরিট থাকা উচিত। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের এই চেতনা আমরা সবসময় ধরে রাখতে চাই।”


তিনি বলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা কোনো ক্ষমতা পাননি, বরং দায়িত্ব পেয়েছেন। সেই দায়িত্ব সসম্মানে পরবর্তী কমিটির কাছে হস্তান্তর করতে পারলেই শহীদদের আত্মত্যাগের কিছুটা প্রতিদান দেওয়া সম্ভব হবে।


পরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এসময় আইটিইটির কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দসহ বিপুলসংখ্যক টেক্সটাইল প্রকৌশলী ও সংগঠনের সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর

ইউজিসি চেয়ারম্যান

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:৫১ পিএম

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে শুধু সনদ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নয় বরং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। উচ্চশিক্ষাকে কর্মসংস্থানের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করতে বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ চালু করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়ার আগেই শিক্ষার্থীদের বাস্তব কর্মপরিবেশের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দিতে হবে।


আজ শনিবার (০১ আগস্ট) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রীয় ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


ড. মামুন আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়া প্রতিটি শিক্ষার্থীর মধ্যে ডিজিটাল সাক্ষরতা, যোগাযোগ দক্ষতা ও সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তির মতো সফট স্কিল থাকতে হবে। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার ও ইউজিসি যৌথভাবে কাজ করছে এবং শিগগিরই সারা দেশে সফট স্কিল উন্নয়ন কর্মসূচি চালু করা হবে।


তিনি বলেছেন, “আমরা চাই, দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি জায়গায় পরিণত হোক, যেখানে একজন শিক্ষার্থী শুধু ডিগ্রি নয়, কর্মজীবনে সফল হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতাও অর্জন করবে। এজন্য শিক্ষাব্যবস্থাকে সময়োপযোগী ও প্রযুক্তি নির্ভর করে গড়ে তোলা হচ্ছে।”


তিনি জানান, দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়কে পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল রূপান্তরের আওতায় আনা হবে। প্রতিটি ক্যাম্পাসে নিরবচ্ছিন্ন ওয়াই-ফাই সংযোগ নিশ্চিত করে প্রথমে ডিজিটাল শ্রেণিকক্ষ এবং পরে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ক্যাম্পাস গড়ে তোলা হবে। এর মাধ্যমে দেশের সব শিক্ষার্থী সমান সুযোগ-সুবিধা পাবে এবং বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের জ্ঞান, গবেষণা ও শিক্ষার সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে পারবে।


ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাতন্ত্র্য তুলে ধরে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, আধুনিক শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং ইসলামী শিক্ষা ও মূল্যবোধের সমন্বয় এই বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের উচ্চশিক্ষায় একটি অনন্য অবস্থান এনে দিয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ বৈশিষ্ট্যের কারণেই বিশ্ববিদ্যালয়টি উচ্চশিক্ষার মানচিত্রে বিশেষ স্থান অর্জন করেছে।


নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মেধার সঙ্গে নিয়মিত পরিশ্রম ও চর্চার কোনো বিকল্প নেই। পরিবার, সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্বশীল থেকে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। সরকার ও ইউজিসি এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে, যাতে শিক্ষার্থীরা আত্মমর্যাদা নিয়ে নিরাপদে পড়াশোনা করতে পারে এবং সবাই সমান সুযোগ পায়।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।


ওরিয়েন্টেশন বক্তা ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল আওয়াল। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তোফাজ্জেল হোসেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী। 


বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মঞ্জুরুল হক, নবীনবরণ অনুষ্ঠান আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান, অধ্যাপক ড. আলীনুর রহমান এবং মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ উন্নয়ন ও বাণিজ্য সম্পর্ক অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আলম শাহ।

সর্বশেষ সব খবর

ইবিতে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের কেন্দ্রীয় নবীনবরণ অনুষ্ঠিত

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:৫৩ পিএম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) স্নাতক ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদেরকে বরণ করে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আজ শনিবার (১ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে দুই পর্বে দুই সহস্রাধিক শিক্ষার্থী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 


বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মতিনুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালী বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল আওয়াল, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন, ইবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী এবং মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ উন্নয়ন ও বাণিজ্য সম্পর্ক অ্যাসোসিয়শনের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আলম শাহ। এছাড়াও বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের শিক্ষক শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




অনুষ্ঠানের শুরুতে ধর্মীয় গ্রন্থ পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে জাতীয় সংগীত পরিবেশনা, জুলাই শহিদদের স্মরণে নিরবতা পালন, নবীনদের ফুল বরণ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। 


অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বলেন, "ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় মহান একটি ব্রত নিয়ে স্থাপিত হয়েছে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যলয়ের চেয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি স্বতন্ত্র। আমি বিশ্বাস করি আমাদের যারা গ্রাজুয়েট তারা দেশে এবং দেশের বাইরে কৃতিত্বের সাথে, যোগ্যতা ও দক্ষতার সাথে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে চলেছে।"


তিনি আরও বলেন, "নীতি নৈতিকতা মূল্যবোধের দিক থেকে আমি বিশ্বাস করি অন্যান্য বিশ্ববিদ্যলয়ের তুলনায় আমাদের বিশ্ববিদ্যলয়ের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে। আমি বিশ্বাস করি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের যে পরিকল্পনা সেখানে তিনি বহু ভাষিক অর্থাৎ থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ কে গুরুত্ব দিয়েছে এবং আমরা খুব দ্রুত জাপানিজ এবং চাইনিজ ভাষার কার্যক্রম খুব দ্রুত শুরু করব।"



ভার্চুয়ালী যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথি'র বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, "ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় একটি ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়টি যখন প্রতিষ্ঠা হয়েছিল, তখন কথা হয়েছিল এটি একটি আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় হবে। পরবর্তীকালে মাহাথির মোহাম্মদ ওআইসি থেকে সেই বিশ্ববিদ্যালয় মালয়েশিয়াতে স্থাপন করেছিল। সেই বিশ্ববিদ্যালয়টি বর্তমানে ওয়াল্ড র‍্যাঙ্কিং এ ভালো পজিশনে রয়েছে। আমাদের দেশের অনেক শিক্ষার্থী বর্তমানে সেখানে পড়াশোনা করছে। সেখানে ইসলামী শিক্ষার পাশাপাশি সোশ্যাল সাইন্স, মেডিকেল সাইন্স ইত্যাদিসহ সকল সাবজেক্ট সেখানে রয়েছে। আমাদের কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিকেল সাইন্স বা অন্যান্য সাবজেক্টগুলোর স্বল্পতা রয়েছে। 


শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "তোমরা যারা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছো তোমরা বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আগামী দিনে বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব তোমাদের। তোমাদের বুঝতে হবে  তোমরা যে সময়টা বিশ্ববিদ্যালয়ে কাটাচ্ছো এটা তোমাদের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়। জীবনে এই সময়টাকে সদা সর্বদা কাজে লাগাবে। তোমার পরিবার, দেশ ও জাতি তোমাদের ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছে। সময়কে সঠিকভাবে ব্যবহার করবে, ভালোভাবে লেখাপড়া করবে এবং দেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে আগামী দিনে এগিয়ে যাবে।"

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৩০ এএম

জুলাই বিপ্লবকে সামনে রেখে আজ ৩১ জুলাই (শুক্রবার) নোবিপ্রবি ডিবেটিং সোসাইটি কর্তৃক অনুষ্ঠিত হলো '৩৬ জুলাই আন্তঃহল বিতর্ক প্রতিযোগিতা ২০২৬'।


এই টুর্নামেন্টের প্রতিপাদ্য ছিল 'যুক্তির ঝড়ে ভাঙুক অন্যায়ের দেয়াল'। উক্ত টুর্নামেন্টে কনভেনরের দায়িত্ব পালন করেন ডিবেটিং সোসাইটির ভাইস প্রেসিডেন্ট(বাংলা বিতর্ক) নুসাইবা চৌধুরী।


টুর্নামেন্টের মূল পরিচালক ও কনভেনর হিসেবে তিনি বলেন, "আমরা প্রথমে চেয়েছিলাম, আমাদের ক্লাব থেকে জুলাইকে কেন্দ্র করে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করতে। এরপর আমরা ভাবলাম, 'হল টুর্নামেন্ট' আমাদের ক্লাবের একটি সিগনেচার ইভেন্ট। তাই হল টুর্নামেন্ট এবং জুলাইএই দুই বিষয়কে সমন্বয় করে আমরা পাঁচটি ক্লাব থেকে ২০টি দল নিয়ে আজকের এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছি।"


এই টুর্নামেন্টের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে আলোচনা ও যুক্তিবিনিময়ের মাধ্যমে স্মরণ এবং চর্চার সুযোগ সৃষ্টি করা। আয়োজকদের মতে, বিতর্ক এমন একটি মাধ্যম, যেখানে কোনো বিষয়ের পক্ষে ও বিপক্ষে যুক্তি উপস্থাপনের মাধ্যমে বিষয়টির বিভিন্ন দিক, সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাবনা উঠে আসে। একইভাবে, জুলাই আন্দোলন ও জুলাই বিপ্লবকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত বিতর্কগুলো অংশগ্রহণকারীদের এ বিষয়ে গভীরভাবে ভাবতে ও বিশ্লেষণ করতে উৎসাহিত করেছে। এ ছাড়া, ক্লাবের সিগনেচার ইভেন্টের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি নতুন ও পুরোনো বিতার্কিকদের নিয়মিত বিতর্কচর্চায় উৎসাহিত করাও ছিল এই টুর্নামেন্টের আরেকটি প্রধান লক্ষ্য।


শুক্রবার টুর্নামেন্টের ট্যাব রাউন্ড এবং কোয়ার্টার ফাইনাল রাউন্ড সম্পন্ন হয়েছে। কোয়ার্টার ফাইনালে 'টিম ব্রেক' পাওয়া দলগুলোর মধ্যে ছিল 'MUH কাপল রোড', 'MUH গোল চত্বর', 'MUH পাঁচগণ্ডা' সহ আরও পাঁচটি দল। প্রথম স্পিকার নির্বাচিতদের মধ্যে ছিলেন জাহিদ হোসাইন, মো. আকরাম হোসাইন, সামিয়া ইসলাম এবং নিশাত তামিম।


কনভেনর তাঁর প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, আগামী ৫ আগস্ট, অর্থাৎ '৩৬ জুলাই', উক্ত টুর্নামেন্টের ফাইনাল রাউন্ড সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা করছেন।


বিতর্ক কেবল বক্তব্য উপস্থাপনের বিষয় নয়; বরং যুক্তি, পাল্টা-যুক্তি এবং গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে যেকোনো বিষয়কে গভীরভাবে বিশ্লেষণের একটি প্রক্রিয়া। নিয়মিত বিতর্কচর্চা ও বিভিন্ন টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস, বিশ্লেষণী দক্ষতা, সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি এবং যুক্তি উপস্থাপনের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:০৮ পিএম

দেশব্যাপী বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠন কর্তৃক জাতীয় নাগরিক পার্টি ও জুলাইয়ের সম্মুখসারীর নেতা-কর্মীদের উপর সন্ত্রাসী হামলা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।


শুক্রবার (৩১ জুলাই) বাদ জুম্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে মানববন্ধন করেন তারা। এসময় আলিফ হামলার প্রতিবাদসরূপ তারা নিজেদের চোখে ব্যান্ডেজ লাগান।


মানববন্ধনে "আলিফের চোখ ফিরিয়ে দাও, নইলে গদি ছেড়ে দেও", "তারেক জিয়া জানে না, বিপ্লবীরা হারে না", "তারেক জিয়া হাসিনা, ফ্যাসিবাদ মানি না", "আবু সাঈদ-মুগ্ধ, শেষ হয় নি যুদ্ধ।" ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।


এসময় বক্তারা বলেন, "১৮ বছর বয়সের একটা ছেলেকে নির্মমভাবে রড দিয়ে হামলা করে তার একটা চোখ নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য একজন কলেজ পড়ুয়া ছাত্রকে এই বয়সে  তার চোখ হারাতে হবে জুলাই পরবর্তী সময়ে আমরা এটা  প্রত্যাশা করতে পারি না। প্রকৃতপক্ষে জুলাই বিপ্লব পরবর্তীতে আমরা কোন পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি না। আমরা ফ্যাসিবাদের আরেকটা পুনরাবৃত্তি দেখতে পাচ্ছি। এখনো এই দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয় নি। যদি গণতন্ত্র সত্যিকার অর্থে প্রতিষ্ঠা হতো তাহলে বিরোধীদলের রাজনীতিকে দমন করার জন্য এইভাবে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা করা হতো না।


এই হামলাকাণ্ড যদি শুধু এক জায়গায় সীমাবদ্ধ থাকতো তাহলেও একটা কথা ছিল। কিন্তু তারা হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর ও পঞ্চগড়- সহ যেখানেই এনসিপি ও জুলাইয়ের অগ্রনায়করা প্রতিবাদ করতে নেমেছে সেখানেই বিএনপির সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে।"


সর্বশেষ তারা বলেন, "এনসিপি যে তিন দফা দাবি দিয়েছে সেটা অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে।  যদি বাস্তবায়ন না করা হয় তাহলে আমাদের এই আন্দোলন আরও তীব্রতর হবে যেটা আপনারা জুলাই বিপ্লবের সময় দেখেছেন।"

সর্বশেষ সব খবর