কামরুল হাসান টিটু, রংপুর ব্যুরো

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০১ আগস্ট, ২০২৫, সময় : ২:০০ পিএম

প্রতিষ্ঠার ১৭ বছরেও রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি)তে কখনো হয়নি কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ নির্বাচন (ব্রাকসু) ।


২০০৮ সালের ১২ অক্টোবর যাত্রা শুরুর পর থেকেই আওয়ামী শাসনামল হওয়ায় ক্ষমতার জোরে সরকারি দলের ছাত্র সংগঠনের আধিপত্য দেখা গেছে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে। তাদের হাতে নির্যাতন, হয়রানি ও চাঁদাবাজির স্বীকার হয়েছে অসংখ্য শিক্ষার্থী।


গত বছরের ১৬ জুলাই বৈষমবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বেরোবির ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার সাথে ছাত্রলীগ নেতা কর্মীদের জড়িত থাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৮তম সিন্ডিকেট সভায় লেজুড় বৃত্তিক ছাত্র-শিক্ষকসহ সকল ধরনের রাজনীতি নিষিদ্ধের  সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। এবং লেজুড় বৃত্তিক রাজনৈতিক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষে প্রামাণিত হলে ১১১তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী “সর্বোচ্চ শাস্তি আজীবন বহিঃস্কার ও ছাত্রত্ব বাতিল” করা যেতে পারে, প্রয়োজনে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী শাস্তি বিধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।


বেরোবির সাধারণ শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন যাবৎ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে তাদের অধিকার আদায়, গণতান্ত্রিক চর্চা, ন্যায্য দাবি, আদায়সহ বিভিন্ন কারণে ছাত্রসংসদের দাবি জানিয়ে আসছে। গত মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর শহীদ আবু সাঈদের এই বিশ্ববিদ্যালয়টিতেও কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিটি আরও জোরালো হয়ে উঠেছে ‌।


বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের ৮ এপ্রিল জাতীয় সংসদে পাস হওয়া বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় আইনে ছাত্র সংসদের কোনো বিধান রাখা হয়নি। যার কারণে নির্বাচন করতে হলে প্রথমে ছাত্র সংসদ আইনের খসড়া একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটে পাস করে তা অনুমোদনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাতে হবে। বিধানটি বিশ্ববিদ্যালয় আইনে সংযুক্ত হলে তারপরেই ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হবে। এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় আইনের-২০০৯ এ ছাত্র সংসদ নির্বাচনের নীতিমালা যুক্ত করার জন্য কাজ শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।


বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে জানা যায়, ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট কর্তৃক ‘বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ’ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। এই নীতিমালা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় চ্যান্সেলর মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক অনুমোদনের জন্য ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনে প্রেরণ করা হয়েছে। এই মুহুর্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছাত্র সংসদ নির্বাচনের নিমিত্তে ছাত্র সংসদ সংক্রান্ত স্বতন্ত্র ব্যাংক হিসাব নম্বরে অর্থ সংরক্ষণ করা, ভোটার তালিকা প্রণয়নসহ যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। নীতিমালা অনুমোদন হলে যথা শীঘ্রই ছাত্র সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করা হবে।


এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদ নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকার সচেতন সাধারণ শিক্ষার্থীরাও ছাত্রসংসদ নির্বাচন নিয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। তাদের অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন সভা, সেমিনার ও সমাবেশে ছাত্রসংসদ নির্বাচনের জোরালো দাবি তুলে ধরছেন।


এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের শিক্ষার্থী আহমাদুল হক আলবির বলেন, “ক্যাম্পাসে সহিংসতা, দখলদারিত্ব এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো ঘটনাগুলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতি ও অনীহা সৃষ্টি করেছে। ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসগুলোতে আধিপত্য বিস্তার করতে বিরোধীদের দমন এবং ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ করে রেখেছিল। ছাত্র সংসদ নির্বাচন চালু থাকলে, ক্যাম্পাসে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের মধ্যে একটি ভারসাম্য তৈরি হতো এবং একক আধিপত্য বিস্তার করা কঠিন হতো। এতে ক্যাম্পাসে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় থাকবে এবং শিক্ষার্থীরা তাদের মতামত প্রকাশ করার সুযোগ পাবে। এর মাধ্যমে ক্যাম্পাসে ‘আওয়ামী জাহেলিয়াতের’ মতো পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আশ্বাস দিলেও দীর্ঘদিন সময় নিয়ে ছাত্রসংসদের বিষয় অগ্রসরমান কিছু না দেখিয়ে ওনাদের ব্যার্থতা প্রকাশ করছে। প্রশাসনের উচিত শিক্ষার্থীদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা এবং ছাত্র সংসদ নির্বাচনের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া”।


শিক্ষার্থী এস এম আশিকুর রহমান বলেন, ৫ আগস্ট এর পর শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবী ছিলো ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ এবং ছাত্র সংসদ নির্বাচন।বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ হলে ও ছাত্র সংসদ নির্বাচন এর রোড ম্যাপ এখনো দেওয়া হয় নি।ছাত্রদের অধিকার নিয়ে কথা বলার জন্য ছাত্র সংসদ এর বিকল্প নেই। অতি দ্রুত সকল জটিলতা কাটিয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের জোর দাবি জানাচ্ছি।


শিক্ষার্থী তানভীর হাসান দিপু বলেন, একটি দেশের পার্লামেন্ট যেমন গুরুত্বপূর্ণ, এবং পার্লামেন্ট দেশের মানুষের জন্য যতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে আমি মনে করি একটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের জন্য ছাত্র সংসদ ঠিক ততটাই ভূমিকা রাখে।


আরেক শিক্ষার্থী মো. শামসুর রহমান সুমন বলেন, অভ্যুত্থান পরবর্তী বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় দেশের বিপ্লবী ধারায় উজ্জীবিত এক অনন্য ক্যাম্পাস। লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ হয়েছে আমরা সেটিকে সাধুবাদ জানাই। কিন্তু গণতান্ত্রিক চর্চা ও শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের জন্য আগামী ক্যাম্পাসে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দেয়ার দাবি জানাই।


এবিষয়ে বেরোবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী বলেন, ছাত্র সংসদ করার জন্য কোন সংবিধি ছিল না তাই নতুন সংবিধি প্রণয়নের জন্য একটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়। কমিটি সকল স্টেক হোল্ডারদের সাথে কথা বলে একটি খসড়া সংবিধি দেয় সেটি ছাত্র, শিক্ষক, শিক্ষার্থী কর্মকর্তাসহ সকলের সম্মতিক্রমে পরিবর্তন পরিমার্জন করা হয় এবং আমরা সেটি সিন্ডিকেটে পাশ করি। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনে পাঠিয়েছি সেটি মঞ্জুরি কমিশনে আছে।


তিনি শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, একটি সংবিধি নতুনভাবে সংযোজন করতে হলে তার  অনেকগুলো প্রক্রিয়া পার করতে হয়। আমাদের প্রক্রিয়া শিক্ষার্থীদের দাবির আগেই শুরু করেছি। আমরা আশা করি অতি শীঘ্রই এটি সম্পন্ন করতে পারব। এবং ছাত্র সংসদের সংবিধি পূর্ণাঙ্গ পাশ হয়ে আসবে ।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:০৮ পিএম

দেশব্যাপী বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠন কর্তৃক জাতীয় নাগরিক পার্টি ও জুলাইয়ের সম্মুখসারীর নেতা-কর্মীদের উপর সন্ত্রাসী হামলা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।


শুক্রবার (৩১ জুলাই) বাদ জুম্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে মানববন্ধন করেন তারা। এসময় আলিফ হামলার প্রতিবাদসরূপ তারা নিজেদের চোখে ব্যান্ডেজ লাগান।


মানববন্ধনে "আলিফের চোখ ফিরিয়ে দাও, নইলে গদি ছেড়ে দেও", "তারেক জিয়া জানে না, বিপ্লবীরা হারে না", "তারেক জিয়া হাসিনা, ফ্যাসিবাদ মানি না", "আবু সাঈদ-মুগ্ধ, শেষ হয় নি যুদ্ধ।" ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।


এসময় বক্তারা বলেন, "১৮ বছর বয়সের একটা ছেলেকে নির্মমভাবে রড দিয়ে হামলা করে তার একটা চোখ নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য একজন কলেজ পড়ুয়া ছাত্রকে এই বয়সে  তার চোখ হারাতে হবে জুলাই পরবর্তী সময়ে আমরা এটা  প্রত্যাশা করতে পারি না। প্রকৃতপক্ষে জুলাই বিপ্লব পরবর্তীতে আমরা কোন পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি না। আমরা ফ্যাসিবাদের আরেকটা পুনরাবৃত্তি দেখতে পাচ্ছি। এখনো এই দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয় নি। যদি গণতন্ত্র সত্যিকার অর্থে প্রতিষ্ঠা হতো তাহলে বিরোধীদলের রাজনীতিকে দমন করার জন্য এইভাবে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা করা হতো না।


এই হামলাকাণ্ড যদি শুধু এক জায়গায় সীমাবদ্ধ থাকতো তাহলেও একটা কথা ছিল। কিন্তু তারা হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর ও পঞ্চগড়- সহ যেখানেই এনসিপি ও জুলাইয়ের অগ্রনায়করা প্রতিবাদ করতে নেমেছে সেখানেই বিএনপির সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে।"


সর্বশেষ তারা বলেন, "এনসিপি যে তিন দফা দাবি দিয়েছে সেটা অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে।  যদি বাস্তবায়ন না করা হয় তাহলে আমাদের এই আন্দোলন আরও তীব্রতর হবে যেটা আপনারা জুলাই বিপ্লবের সময় দেখেছেন।"

সর্বশেষ সব খবর

ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৩:৫০ পিএম

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি)  অন্যতম সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদ উপ-উপাচার্য (প্রো-ভিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাদা দল’-এর সভাপতির পদে বহাল রয়েছেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি পূর্ণকালীন ও নিরপেক্ষ প্রশাসনিক দায়িত্বে থেকে দলীয় শিক্ষক সংগঠনের শীর্ষ পদে থাকা এবং সভাপতি হিসেবে তার স্বাক্ষরিত কিছু বিজ্ঞপ্তি নিয়ে তৈরি হয়েছে নানান বিতর্ক। 


বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য একটি স্বায়ত্তশাসিত, পূর্ণকালীন ও নীতি-নির্ধারণী প্রশাসনিক পদ। এ পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিভাবক হিসেবে কাজ করেন। কিন্তু তিনি সরাসরি দলীয় শিক্ষক সংগঠনের সভাপতির পদে আসীন থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং ‘স্বার্থের সংঘাত’ এড়ানো কতটা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।


পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভিসি, প্রো-ভিসি ও ট্রেজারার পদে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরকার বা মহামান্য রাষ্ট্রপতি নিয়োগ প্রদান করেন। ফলে তাঁরা সরকারি পদের প্রশাসনিক মর্যাদা ধারণ করেন। সরকারি কর্মকর্তা (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ এর বিধি ২৫(১) এ বলা আছে "কোনো সরকারি কর্মচারী কোনো রাজনৈতিক দলের বা রাজনৈতিক কাজ করে এমন কোনো সংগঠনের সদস্য হতে পারবেন না, কিংবা অন্য কোনো উপায়ে তার সঙ্গে নিজেকে সংশ্লিষ্ট করতে পারবেন না।"


এছাড়াও , বিধি ২৫(২) এ বলা হয়েছে সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বে থাকা কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিক দলের প্রচার-প্রচারণা, নির্বাচনে অংশগ্রহণ বা দলীয় পদের দায়িত্ব সামলাতে পারবেন না।


তাছাড়া ,বিশ্ববিদ্যালয় আইন ও ইউজিসি অনুযায়ী, ভিসি (উপাচার্য), প্রো-ভিসি (উপ-উপাচার্য) এবং ট্রেজারার (কোষাধ্যক্ষ) পদগুলো হলো সার্বক্ষণিক প্রাধিকারভুক্ত প্রশাসনিক পদ।একজন সাধারণ শিক্ষক ক্লাসের বাইরে শিক্ষক রাজনীতি করতে পারলেও, তিনি যখন ইউজিসি ও সরকারের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে 'প্রো-ভিসি' হিসেবে দায়িত্ব পান, তখন তাঁর প্রধান আইনি বাধ্যবাধকতা হয় সার্বক্ষণিক প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীর জন্য নিরপেক্ষ অভিভাবক হিসেবে কাজ করা। দলীয় শিক্ষক সংগঠনের যেকোন পদে বহাল থাকা অবস্থায় প্রশাসনিক উপ-উপাচার্যের দায়িত্বে থাকলে সরাসরি 'Conflict of Interest' বা স্বার্থের সংঘাত তৈরি হয়।


এছাড়াও , ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট অনুষ্ঠিত রিজেন্ট বোর্ডের জরুরি সভায় দেশের তৎকালীন পরিস্থিতি বিবেচনায় নোবিপ্রবিতে রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ জারি করে।


ওই আদেশে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা এবং শিক্ষক, শিক্ষার্থী ,কর্মকর্তা, কর্মচারীর নিরাপত্তার স্বার্থে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা কোনো দলীয় রাজনৈতিক সংগঠন, সহযোগী সংগঠন, অঙ্গ সংগঠন বা ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সঙ্গে প্রকাশ্যে কিংবা অপ্রকাশ্যে সম্পৃক্ত হয়ে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন না। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে সব ধরনের দলাদলি নিষিদ্ধ করা হয়।


এছাড়াও , নোবিপ্রবি আইন ২০০১-এর ধারা ৪৭ (৫) ও (৬) এর উদ্ধৃতি দিয়ে প্রশাসনের ওই আদেশে উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কোনো দলীয় রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন না এবং রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রচারেও অংশ নিতে পারবেন না। 


তবে এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, "এটা তো কোনো দলীয় রাজনৈতিক দল না। আমরা এমনিতেই আমাদের সাদাদলের পক্ষ থেকে তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছি "। 


তিনি আরও বলেন , এ ব্যাপারে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। 


বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রাব্বানী বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসাশনিক পদে থেকে এধরনের সংগঠনের সাথে যুক্ত না থাকাই ভালো"

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:২০ এএম

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রীয় নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল ১১টায় শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীনবরণ কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন কমিটির উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

নবীনবরণ কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হকের সভাপতিত্বে এবং সহযোগী ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. ফজলুল হক ভূঁইয়া।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিন পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান, প্রভোস্ট পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. রুহুল আমিন, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম এবং রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হেলাল উদ্দীন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে নবীন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানান সহযোগী ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। পরে ফুল দিয়ে নবীনদের বরণ করে নেওয়া হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিভিন্ন অর্জন ও কার্যক্রম তুলে ধরে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

পরবর্তীতে রেজিস্ট্রার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শাখার পরিচালক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নবীনদের পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর প্রক্টর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম-শৃঙ্খলা সম্পর্কে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। প্রভোস্ট পরিষদের আহ্বায়ক বিভিন্ন আবাসিক হলের প্রভোস্টদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং ডিন পরিষদের আহ্বায়ক বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও বিভাগীয় প্রধানদের সঙ্গে নবীনদের পরিচয় করিয়ে দেন।

পরিচয় পর্ব শেষে নবীনদের উদ্দেশ্যে প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, 'আমাদের গ্ৰাজুয়েটরা পুরো বিশ্বে দাপটের সাথে সকল সেক্টরে কাজ করে যাচ্ছে। তোমাদেরও দক্ষ ও জ্ঞানসম্পন্ন গ্ৰাজুয়েট হিসেবে বাকৃবি থেকে বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সম্মান অক্ষুন্ন রাখতে হবে। শুধু প্রিন্ট করা শীট বা বিভিন্ন এআই টুলসের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে পাঠ্যপুস্তক নির্ভর হতে হবে। দেশের কৃষি ও কৃষকদের ভরসাস্থল হতে হবে এবং তাদের পাশে থাকতে হবে।'

প্রধান অতিথি ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন,'বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। কৃষির উন্নতি, দেশের উন্নতিতে সবচাইতে বেশি বুদ্ধিবৃত্তিক, গবেষণালব্ধ সহযোগিতা যে প্রতিষ্ঠান করেছে সেটি হচ্ছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। তোমরা সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তোমরা এই দেশের কৃষির ঐতিহ্যকে ধারণ ও বহন করবে এবং এই ক্ষেত্রকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।'

ছাত্র-শিক্ষার্থীদের সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, 'শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীর মাঝে সম্পর্ক থাকবে অসাধারণ। যদি ছাত্র ও শিক্ষকের মাঝে সুসম্পর্ক না থাকে কোনভাবেই একটি প্রতিষ্ঠান এগিয়ে নেওয়া সম্ভব না।'

ইউজিসির বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, 'আমাদের অনেকগুলো প্রচেষ্টার মধ্যে একটি হলো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ডিজিটালে রূপান্তরিত করা। ​প্রত্যেকটা বিশ্ববিদ্যালয়ে হাই স্পিড ইন্টারনেট, ওয়াইফাই সিস্টেম ও স্মার্ট ক্লাসরুম থাকবে। সেই সাথে আমাদের বড় একটি পরিকল্পনা যে প্রত্যেকটা বিশ্ববিদ্যালয়কে আগামী ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে স্মার্ট ক্যাম্পাস হিসেবে নিশ্চিত করা। যেকোনো শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রথম দিন থেকে বের হয়ে যাওয়া পর্যন্ত এবং এরপরেও প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসেবে ডিজিটালি সংযুক্ত থাকবে।'

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৮:১৪ পিএম


বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) প্রদর্শিত হলো শিক্ষামূলক ও অনুপ্রেরণাদায়ী প্রামাণ্য তথ্যচিত্র ‘পায়ের ছাপ’। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় এই প্রদর্শনী।


সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা মুকিত মজুমদার বাবু, ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স পিএলসির চেয়ারম্যান এ টি এম ওহিদুজ্জামান এবং ‘পায়ের ছাপ’ তথ্যচিত্রের পরিচালক ও চ্যানেল আইয়ের বিশেষ প্রতিনিধি মোস্তফা মল্লিক।


অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন বুটেক্সের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন। অনুষ্ঠানে তেজগাঁও শিল্প এলাকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শহীদ মনু মিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এবং বিজি প্রেস উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। তাঁদের জন্য বিশেষভাবে ‘পায়ের ছাপ’ ও ‘সুতোর মহাকাব্য’ প্রামাণ্য তথ্যচিত্র দুটি প্রদর্শন করা হয়।


অনুষ্ঠানে প্রদর্শন করা হয় শারীরিক প্রতিবন্ধী আয়শা আক্তারের জীবনের গল্প নিয়ে প্রামাণ্য তথ্যচিত্র ‘পায়ের ছাপ’ ও বুটেক্সকে নিয়ে ‘সুতোর মহাকাব্য’। জন্ম থেকেই তার দুটি হাত নেই, অভাবের তাড়নায় বাবা একসময় তাকে সার্কাসে বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সেই আয়েশা আক্তার আজ বাংলাদেশের অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক অনন্য প্রতীক। সমাজের নানা প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে সব বাধা জয় করে, পা দিয়ে লিখে সদ্য মাস্টার্স পরীক্ষায় প্রথম বিভাগ অর্জন করেছেন গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কচুয়াহাট গ্রামের এই তরুণী।


‘পায়ের ছাপ’ তথ্যচিত্রটিতে উঠে এসেছে, কীভাবে শৈশবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা আয়েশা আক্তারকে ভর্তি নিতে চাননি। কিন্তু স্থানীয় এক শিক্ষকের সাহায্যে আয়েশা বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান। ২০১২ সালে এসএসসি ও ২০১৪ সালে এইচএসসি পাসের পর আয়েশার জীবন বদলে যায় চ্যানেল আইয়ে প্রচারিত একটি প্রতিবেদনের মাধ্যমে। প্রতিবেদন প্রকাশের পর আয়েশা প্রথম ঢাকায় এসে ‘কিংবদন্তি অ্যাওয়ার্ড’ পান এবং এককালীন দুই লাখ টাকা অনুদান লাভ করেন। পরবর্তী সময় একজন ফ্রান্সপ্রবাসী ব্যবসায়ীর সহায়তায় আয়েশা উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যান এবং ২০২৫ সালে মাস্টার্সে প্রথম বিভাগ অর্জন করেন।


‘সুতোর মহাকাব্য’ প্রামাণ্য তথ্যচিত্রটিতে প্রদর্শিত হয়েছে বুটেক্সের সমৃদ্ধ ইতিহাস, বিভিন্ন অনুষদ ও বিভাগগুলোর একটি সুস্পষ্ট ধারণা তুলে ধরা হয়। ১৯২১ সালে ঢাকার নারিন্দায় প্রতিষ্ঠিত উইভিং স্কুল থেকে শুরু করে ২০১০ সালে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আত্মপ্রকাশের ঐতিহাসিক যাত্রা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এছাড়া তথ্যচিত্রে বিশ্বমানের আধুনিক ল্যাবরেটরি সুবিধা, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন এবং বাংলাদেশের টেক্সটাইল সেক্টরে বুটেক্সের বলিষ্ঠ ভূমিকা প্রদর্শন করা হয়। তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতের মাধ্যমে দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে বুটেক্সের গ্র্যাজুয়েটরা কীভাবে অবদান রেখে চলেছেন, তা উল্লেখ করা হয়েছে।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ববি হাজ্জাজ বলেন, “এই ডকুমেন্টারির মাধ্যমে মানুষের অদম্য ইচ্ছাশক্তি যে কতখানি অদম্য হতে পারে সেটা দেখলাম। আপনারা যে স্বপ্ন দেখেন, সেই স্বপ্নটা বাস্তবায়ন করা অসম্ভব না। শুধু আপনাদের একটু কষ্ট করে কাজ করতে হবে। সবচেয়ে বেশি কাজ যেটা করতে হবে, সেটা হলো আপনাদের পড়াশোনা। অনেক ভালো করে পড়তে হবে। আপনারা একটু মনোযোগ দিয়ে যদি পড়াশোনা করেন, কোনোটাই আপনাদের হাতের বাইরে না।”


বুটেক্সকে উদ্দেশ্য করে ববি হাজ্জাজ বলেন, “আগামী দিনগুলোতে আমার মনে হয় বুটেক্সের জায়গাটা অনেক বড়। আজ থেকে ২৫০ বছর আগে সমগ্র বিশ্বের অর্থনীতিতে ১০ শতাংশ ছিল এই বাংলায়। এটার মূল কারণ ছিল আমাদের টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি। বর্তমানে তৈরি পোশাক শিল্পে আমরা বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে। কিন্তু বিশ্বের এই ১০ শতাংশ অর্থনীতি আমাদের এখানে আনতে বুটেক্সের অনেক বড় অবদান রাখার সুযোগ আছে।”


‘পায়ের ছাপ’ তথ্যচিত্রের পরিচালক মোস্তফা মল্লিক স্কুল শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “তোমরা সবাই আয়শাকে ছাড়িয়ে যাও, প্রধানমন্ত্রীকেও ছাড়িয়ে যাও, স্পিকারকেও ছাড়িয়ে যাও, ভিআইপিদের ছাড়িয়ে যাও এই আশা আমরা করি। তোমাদের ভালো রেজাল্ট করতে হবে, বাবা-মাকে সম্মান করতে হবে। ভালো করে পড়াশোনা করে বাংলাদেশের সেবা করতে হবে”


সভাপতির বক্তব্যে বুটেক্সের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, “আয়শা অদম্য, সে দুইটি হাত না থাকার পরেও সে দুইটি পায়ের মাধ্যমেই হাতের কাজটি সম্পন্ন করেছে। সে দুর্গম অঞ্চলে পায়ে হেঁটে দীর্ঘ সময় ব্যয় করে সে স্কুলে গিয়েছে, স্কুলে পড়াশোনা করেছে এবং সে বিভিন্ন পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করেছে। সর্বশেষ পরিণতি যে আজকে তার একটি চাকরি হয়েছে এবং সে তার জীবনে সফলতা অর্জন করেছে।”


শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “এখনই তোমাদের শিক্ষার মুল ভিত্তি তৈরি করার সময়। এই মুহূর্তে তোমরা যারা প্রাইমারি বা হাইস্কুলে পড়াশোনা করছ, তোমাদের শিক্ষাটা সত্যিই একটা শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করতে হবে। সেজন্য তোমাদের পরিশ্রম করতে হবে।”

সর্বশেষ সব খবর

মোহাম্মদ আমিনুর বিশ্বাস ও পার্থ সরকার

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:৩৩ এএম

দীর্ঘসময় পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ঘোষিত নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের দুই সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আমিনুর বিশ্বাস। সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী পার্থ সরকারকে।


মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে আগামী দুই মাসের মধ্যে ত্যাগী ও নির্যাতিত কর্মীদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য প্রস্তাবিত তালিকা কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

নবগঠিত কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আমিনুর বিশ্বাস বলেন, 'আমি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। বিশেষ করে সংগঠনের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। দীর্ঘদিন পর তারা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন নেতৃত্বের ওপর আস্থা রেখেছেন। আমাদের অভিভাবক সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। দীর্ঘদিন পর কমিটি গঠিত হওয়ায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী ও রাজপথের কর্মীদের মধ্যে যে উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে, সেটিকে আমরা ইতিবাচক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে কাজে লাগাতে চাই।'




সর্বশেষ সব খবর

দুই মাসে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোট ২১ দিন ছুটি থাকবে

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:২৬ পিএম

আসছে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে লম্বা ছুটি পেতে যাচ্ছে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। আগামী দুই মাসে সাপ্তাহিক ছুটি ও বিভিন্ন সরকারি ছুটি মিলিয়ে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোট ২১ দিন ছুটি থাকবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এই ছুটি উপভোগ করবেন।


আগস্ট মাসে ছুটি


  • আগস্ট মাসে সাপ্তাহিক ছুটি রয়েছে ৯ দিন।
  • ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস (১ দিন)।
  • ১২ আগস্ট আখেরি সাহার শোম্বা (১ দিন)
  • ২৬ আগস্ট ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে (১ দিন)

সব মিলিয়ে আগস্ট মাসে মোট ছুটি থাকবে ১২ দিন।


সেপ্টেম্বর মাস


  • সাপ্তাহিক ছুটি রয়েছে ৮ দিন।
  • ২৪ সেপ্টেম্বর ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম (১ দিন)।


মধু পূর্ণিমা ও শুভ মহালয়া উপলক্ষে ছুটি থাকলেও তা শনিবার পড়ায় এ উপলক্ষে অতিরিক্ত ছুটি মিলবে না। ফলে সেপ্টেম্বর মাসে ছুটি থাকবে মোট ৯ দিন। দুই মাসে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মোট ২১ দিনের ছুটি পেতে যাচ্ছেন।


সর্বশেষ সব খবর