আজ বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রাক্-বাজেট আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেছেন, আমরা কর জরিপের একটা বড় প্রজেক্ট নিতে চাই। আমি আসার পর থেকেই এই চেষ্টাটা করছি, কিন্তু এখনো অগ্রগতি হয়নি। এই প্রজেক্টটা নিতে হবে।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবন সভাকক্ষে আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি আজ বুধবার এসব কথা বলেন।
সভায় এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আমরা কর জরিপের একটা বড় প্রজেক্ট নিতে চাই। আমি আসার পর থেকেই এই চেষ্টাটা করছি, কিন্তু এখনো অগ্রগতি হয়নি। এই প্রজেক্টটা নিতে হবে। সারা বাংলাদেশে আমাদের যদি ১০ বছরও লাগে, ফেজ ওয়াইজ আমরা সারা বাংলাদেশে একদম চিরুনী অভিযান দেবো। তারপরও আমাদের এই জরিপ কার্যক্রম কমপ্লিট করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, হোল্ডিং এর বাইরেও যেমন আমাদের ডেস্কো আছে, ডিপিডিসি আছে, যেখানে ইলেকট্রিক মিটার আছে। আমরা যেটা করবো ট্যাক্স রিটার্নের সঙ্গে এগুলোকে লিঙ্ক করবো। যখন কেউ ট্যাক্স রিটার্ন সাবমিট করতে যাবে তখন দেখা যাবে যে উনাকে জানান দেয়া হবে আপনার নামে এতটা ইলেকট্রিক মিটার আছে। অমুক অমুক জায়গায় এই প্রপার্টিগুলো আছে। এগুলোকে যদি উনি ওনার ওয়েলথ না দেখান অথবা এই প্রপার্টিগুলোর ইনকাম না দেখান। তাহলে উনাকে এটার জন্য এক্সপ্লেইন করতে হবে। নাহলে উনি রিটার্ন সাবমিট করতে পারবে না।
অনলাইন কর নিয়ে আবদুর রহমান খান বলেন, যেহেতু আমরা অনলাইনে কর রিটার্ন শতভাগ কম্পালসারি করেছি। এটা খুবই সাকসেসফুল হয়েছে। আমাদের অলমোস্ট যারা ট্যাক্স রিটার্ন দেওয়ার সবাই রিটার্ন দিয়ে দিয়েছে। কিছু ট্যাক্স পেয়ার সময় চেয়েছেন। আমি গতকালকে দেখলাম ৫ হাজারের মত করছে প্রতিদিন। ফলে কর ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ কিন্তু কমে যাবে।
তিনি আরো বলেন, আমরা ব্যাংকিং সিস্টেমের সঙ্গে ইন্টিগ্রেট করছি। ট্যাক্স পেয়ার যখন রিটার্ন সাবমিট করবে তখন ওনাকে একটা অপশন দেবে। তাকে জিজ্ঞেস করা হবে- আপনার ব্যাংকের যে চারটা ইনফরমেশন লাগে রিটার্ন সাবমিট করার জন্য একটা হচ্ছে ক্লোজিং ব্যালেন্স কত, আরেকটা হচ্ছে মুনাফা কত পেলেন, মুনাফার মধ্যে কত ট্যাক্স কাটলো এবং ব্যাংক আপনাকে কত চার্জ করলো। আপনাকে জিজ্ঞেস করা হবে যে এই তথ্যগুলো কী আপনি অটোমেটিক্যালি ব্যাংক থেকে নিতে চান? আপনি যদি ইয়েস বলেন, তাহলে আপনার ইনফরমেশন সব রিটার্নে চলে আসবে। প্রথমে আমরা ভলেন্টিয়ারি করবো, কারণ আপনার যদি ছয়টা-সাতটা ব্যাংক একাউন্ট থাকে। ছয়-সাত জায়গায় আপনার লোক পাঠানোর দরকার তো নাই। অনেক ব্যাংক আছে স্টেটমেন্টের জন্য আবার আপনাকে চার্জ করে। কোন দরকার নাই, আপনি ক্লিক করবেন আপনার সব তথ্য চলে আসবে। আমরা আবার তখন দেখবো কতজন নিজেরা এটা নিয়ে আসছে, আর কতজন আনে নাই। যারা আনে নাই স্বাভাবিকভাবে তাদের দিকে আমাদের চোখ একটু কিলবিল করবে। আমরা একটু ভালো করে দেখার জন্য ম্যাগনিফাইং গ্লাস লাগাবো। ওনাদেরটা বোঝার জন্য।
আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিত (বিএপিইউএস), বাংলাদেশ পেপার মার্চেন্টস এসোসিয়েশন (বিপিএমএ), বাংলাদেশ পেপার মিলস এসোসিয়েশন (বিপিএমএ), বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতি (বিএমএসএস), বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ফার্নিচার এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন (বিএফইএ)-সহ ১২টি সংগঠনের প্রতিনিধিরা। আলোচনায় তারা তাদের ব্যবহারের জন্য আমদানিকৃতি পণ্যের ওপর কর কমানোর আহ্বান জানায়।
করদাতাদের বার্ষিক করমুক্ত আয়সীমা পাঁচ লাখ টাকা করার সুপারিশ করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। মূল্যস্ফীতির চাপের মধ্যে থাকা করসীমার মধ্যে থাকা সীমিত আয়ের করদাতাদের কিছুটা স্বস্তি দিতে এ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ব্যক্তি করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।
আজ বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রাক্-বাজেট আলোচনায় এমন প্রস্তাব দেন ডিসিসিআই নেতারা। এ সময় ঢাকা ও সিলেট জেলার বিভিন্ন চেম্বার তাদের প্রস্তাব তুলে ধরে। তাদের বিভিন্ন প্রস্তাব বিবেচনার আশ্বাস দেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।
ডিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে প্রস্তাব তুলে ধরেন এ বি এম লুৎফুল হাদি। তিনি নন–লিস্টেড কোম্পানির জন্য করহার ২৫ শতাংশ করার দাবি জানান। বাণিজ্যিক আমদানিতে আগাম করহার সাড়ে ৭ শতাংশের বদলে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রির (বিসিআই) প্রস্তাব তুলে ধরেন চেম্বার সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ। তিনি বলেন, শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি কমছে। তাই শুধু পোশাক খাতের ওপর নির্ভর করে কর্মসংস্থান বাড়ানো যাবে না। অন্য খাতে গুরুত্ব দিতে হবে।
ছোটদের শুল্কের চাপ নিয়ে আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, বড় কোম্পানির প্লাস্টিকের কাঁচামাল আমদানিতে ১ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়। কিন্তু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অগ্রিম কর, আগাম আয়কর, মূসকসহ ৩০ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়। বিষয়টি বিবেচনা করা দরকার।
এ সময় বিসিআই সভাপতি ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানের জন্য করের আলাদা স্তর করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। উদাহরণ দিয়ে বলেন, ১ কোটি টাকার ব্যবসায় বছরে ৫ হাজার বা ১০ হাজার টাকা কর দিতে হবে—এমন স্তর করা যায়।
সভায় সিলেট ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার থেকেও বিভিন্ন প্রস্তাব দেওয়া হয়।
ছবি : সংগৃহীত
দেশের বাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) শুক্রবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন মূল্য ঘোষণা করে। নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
বাজুস জানিয়েছে, খাঁটি স্বর্ণের মূল্য হ্রাস পেয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৬৬৪ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৯ হাজার ৩৪২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৮ হাজার ৩৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৩ হাজার ৮৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নতুন মূল্য ভ্যাটসহ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অলংকারের ডিজাইন ও কারুকাজভেদে মজুরি আলাদাভাবে যুক্ত হবে।
এদিকে অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৩৩ টাকা।
ছবি : সংগৃহীত
এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনাল গত রাত ৩.১০ এ চালু হয়েছে। রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি ( আরপিজিসিএল) সূত্র সকালে দেশ রূপান্তরকে বিষয়টি নিশ্টিত করেছে।
সকাল সাড়ে ৯ টায় ৯ টার্মিনাল ১১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রেডে সরবরাহ করছিল। এই সময় আর এলএনজি থেকে সর্বমোট ৬৬২ মিলিয়ন গ্যাস হচ্ছিল।
বিকেল নাগাদ টার্নালকে সরবরাহ ২০০ থেকে ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট হতে পারে।
আগুনে পুড়ে যাওয়ার পর প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে টার্মিনালটির গ্যাস সরবরাহ বন্ধ ছিল। এতে দেশে ভয়াবহ গ্যাস এবং বিদ্যুতের সংকট শুরু হয়েছে।
আরপিজিসিএল এর চট্টগ্রাম কার্যালয়ের ডিজিএম নাসির উদ্দিন জানান, টার্মিনালটি গত রাত ৩টা ১০ মিনিটে চালু হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ) স্বাক্ষর হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এ চুক্তির হয়। এরপর বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির প্রেস ব্রিফিং করেছেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দ্রুততম সময়ে আমরা বিশ্বের বৃহৎ অর্থনীতির একটি দেশের সঙ্গে চুক্তি করতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের সরকার ৫ মাসের মাথায় প্রথম এ সিএফটিএ করেছে। তিনি বলেন, এ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশি ৯৭ শতাংশ পণ্য অগ্রাধিকার শুল্কনীতি ভিত্তিতে সুবিধা পাবে। কোরিয়া পাবে ৮৭ শতাংশ পণ্যে সুবিধা।
মন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া দুই ট্রিলিয়ন অর্থনীতির একটি দেশ। আমরা একটি বড় দেশকে বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে পাচ্ছি। বাংলাদেশ থেকে অগ্রাধিকার পণ্য হিসেবে এখন তৈরি পোশাক, চামড়া, পাটজাতপণ্যসহ বেশকিছু পণ্য শুল্ক সুবিধা পাবে।
অন্যদিকে কোরিয়া থেকে আমদানির ক্ষেত্রে কৃষিপণ্য, প্লাস্টিক এবং খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানিতে সুবিধা হবে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ২০৩৪ সালে আমরা বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ইকোনমিক সাইজে যেতে চাই। সেজন্য আমাদের ৮ শতাংশ গ্রোথ দরকার। তার জন্য প্রয়োজন বিদেশি বিনিয়োগ। আমরা এসব চুক্তির মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে চাচ্ছি।
দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়ো হান-কু বলেন, কোরিয়া ও বাংলাদেশের একটি দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ৫৬ বছর আগে টেক্সটাইল ব্যবসা দিয়ে এটি শুরু হয়েছিল। কিন্তু বিশ্ব এখন পণ্য বহুমুখীকরণে যাচ্ছে। আমাদের দুই দেশকেও বহুমুখী পণ্য আমদানি-রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত হতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা আশা করি বাংলাদেশের নতুন সরকার দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে। সেখানে আমরা প্রযুক্তি ও সাপ্লাইচেইনে কাজ করতে চাই।
কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এখন কোরিয়ান কোম্পানি চুক্তির ফলে এ দেশে সুবিধারজনকভাবে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হবে।
তথ্য বলছে, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য এখনও তুলনামূলক ছোট হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধারাবাহিক বেড়েছে। দুই দেশের মোট দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য প্রায় এক দশমিক ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যার মধ্যে বাংলাদেশ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানি হয় প্রায় ৪৯১ দশমিক ৭৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। বিপরীতে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বাংলাদেশে আমদানি হয় প্রায় ৯০২ দশমিক ৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য।
অর্থাৎ, বাংলাদেশের প্রায় ৪১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতিতে রয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক (নিট ও ওভেন), হোম টেক্সটাইল, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, জুতা, ওষুধ, পাট ও পাটজাত পণ্য, হিমায়িত খাদ্য ও সিরামিক পণ্য। বিপরীতে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বাংলাদেশে লোহা ও ইস্পাত, যন্ত্রপাতি ও শিল্প মেশিনারি, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, প্লাস্টিক ও প্লাস্টিকজাত পণ্য, রাসায়নিক পদার্থ, কাগজ ও কাগজজাত পণ্য আমদানি করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
আগামী ১৮ আগস্ট রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দ্বিতীয়বারের মতো রাজস্ব সম্মেলন আয়োজন করতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এছাড়া, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সম্মেলনে থাকা বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখবেন প্রধানমন্ত্রী।
বিকেলের পর রাজস্ব সংগ্রহ, রাজস্ব জাল বাড়ানো সম্পর্কিত বিভিন্ন স্টল জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে। এনবিআর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সম্মেলনে প্রায় ১ হাজার ৫০০ অতিথির অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও অর্থমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা, তিন বাহিনীর প্রধান এবং অর্থনীতি, রাজস্ব ও বাণিজ্য খাতের বিভিন্ন পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও বিশেষজ্ঞরা সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন।
এর আগে, ২০২৩ সালে প্রথমবারের মতো রাজস্ব সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ওই দুই দিনব্যাপী সম্মেলনে এনবিআরের কার্যক্রম নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, ভ্যাট, শুল্ক ও আয়কর বিষয়ে পৃথক সেমিনার, তথ্য বুথ এবং রাজস্ব ব্যবস্থার ইতিহাস তুলে ধরতে রেভিনিউ মিউজিয়াম প্রদর্শনের ব্যবস্থা ছিল।
জানা গেছে, সম্মেলনকে সফল করতে এরইমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সাজসজ্জা, নিরাপত্তা, অতিথি আপ্যায়ন, অতিথি তালিকা প্রণয়ন ও অভ্যর্থনাসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের জন্য ছয়টি উপ-কমিটি গঠন করে রােববার অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি সার্বিক তদারকির জন্য ৩১ সদস্যের একটি কেন্দ্রীয় স্টিয়ারিং কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির সভাপতি করা হয়েছে এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিবকে। সদস্য সচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন কর পরিদর্শন পরিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মহিদুল হাসান।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এনবিআর ও রাজস্ব আদায় সম্পর্কে জনগণ ও ব্যবসায়ীদের স্পষ্ট ধারণা প্রদান, এনবিআর সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা কমানো, রাজস্ব পদ্ধতিসহ নানা বিষয় রাজস্ব সম্মেলনে উপস্থাপন করা হবে।
সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং এনবিআরের নতুন চেয়ারম্যান রাজস্ব প্রশাসনের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা ও সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে বক্তব্য রাখবেন বলে জানা গেছে।
আদিল চৌধুরী
আর্থিক সংকটে থাকা ন্যাশনাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আদিল চৌধুরী পদত্যাগ করেছেন। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি চলতি সপ্তাহের শুরুতে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার পর থেকে তিনি নিয়মিত ব্যাংকের কার্যালয়েও যাচ্ছেন না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
গত বছরের ৭ জুলাই তিন বছরের জন্য ন্যাশনাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন আদিল চৌধুরী। এর আগে তিনি ব্যাংক এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তবে ন্যাশনাল ব্যাংকে তার মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত এলো। এর আগেও ব্যাংকটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তৌহিদুল আলম খান মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছিলেন।
আদিল চৌধুরীর পদত্যাগ এমন এক সময়ে হলো, যখন ন্যাশনাল ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। উচ্চ খেলাপি ঋণের বোঝা, ধারাবাহিক লোকসান এবং আমানত প্রত্যাহারের চাপ ব্যাংকটির সামগ্রিক কার্যক্রমকে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে ফেলেছে। ২০২২ সাল থেকে টানা লোকসানে রয়েছে ব্যাংকটি। খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের প্রভাবে ব্যাংকটির পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ প্রায় ৮ হাজার ৯০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
ব্যাংকটির আর্থিক সংকট কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক ঢাকার পান্থপথে নির্মাণাধীন ‘টুইন টাওয়ার’ ভবন ইজারা দেয়ার অনুমতি দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যাংকটির আয় বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
ন্যাশনাল ব্যাংকের মালিকানা ও পরিচালনা নিয়েও গত কয়েক বছরে বড় পরিবর্তন এসেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দীর্ঘদিন সিকদার গ্রুপ ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপের পর গ্রুপটি ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ হারায়। এরপর পুনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদে মাল্টিমোড গ্রুপ, হোসাফ গ্রুপ এবং আর্মানা গ্রুপ সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যরা যুক্ত হন।
এদিকে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদত্যাগের পর ব্যাংকটির নেতৃত্বে কে আসছেন, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। পরিচালনা পর্ষদ পদত্যাগপত্র গ্রহণ এবং নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
মাত্র তিন দিন আগে দাম কমানোর পর দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম এক লাফে দুই হাজার ২১৬ টাকা বেড়ে ভ্যাটসহ দুই লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে নতুন এ মূল্য কার্যকর হয়েছে।
বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধির কারণে সার্বিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ১৩ হাজার ৪৩ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম এক লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম রাখা হয়েছে এক লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ টাকা।
সংগঠনটি জানিয়েছে, পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই মূল্য কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের নকশা ও কারুকাজ অনুযায়ী মজুরি আলাদাভাবে প্রযোজ্য হবে। যেহেতু স্বর্ণ ও রৌপ্য অলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের মধ্যেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকবে, তাই গ্রাহকদের কাছ থেকে পৃথকভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এছাড়া অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি এবং পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে বাজুসের বিদ্যমান নীতিমালা বহাল থাকবে।
এর আগে ২৪ জুলাই স্বর্ণের দাম কমিয়েছিল বাজুস। সেদিন প্রতি ভরিতে তিন হাজার ৩২৪ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভ্যাটসহ দুই লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
তখন ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম ছিল দুই লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম এক লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ছিল এক লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকা