রাজধানীর কারওয়ানবাজারে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চলছে। এর মধ্যে ডেইলি স্টার ভবনে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে প্রথম আলোর অফিসে হামলা শুরু হয়। পরে ডেইলি স্টারে হামলা চালানো হয়।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুর সংবাদ আসার পর একদল লোক পত্রিকাগুলোর অফিসের সামনে গিয়ে জড়ো হয় এবং হামলা চালায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া লাইভ ভিডিওতে লাঠিসোটা নিয়ে হামলা, ভাঙচুর করতে দেখা যায়। প্রথম আলোর সামনের সড়কেও আগুন জ্বালাতে দেখা গেছে।
এছাড়া, অফিস দুইটির মধ্যে কয়েকজন কর্মী আটকা পড়েছেন বলে জানা যাচ্ছে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। পুরোনো ছবি
রাজধানীর বারিধারায় বাসভবনে শর্টসার্কিট থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে আহত হয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও তার স্ত্রী নাইমা ইমরান। তাদের রাজধানীর গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতে এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে দুজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর পর থেকে তারা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রাথমিক তথ্যে জানা যায়, ভোর আনুমানিক ৪টা ৫৫ মিনিটে বারিধারার পাকিস্তান হাইকমিশনারের বাসভবনে শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনের ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে হাইকমিশনার ও তার স্ত্রী হাসপাতালে ভর্তি হন।
এ ছাড়া চিকিৎসক ডা. আমিনা সুলতানার তত্ত্বাবধানে তাদের চিকিৎসা চলছে। বর্তমানে দুজনের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার বিষয়ে তাৎক্ষণিক বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর উত্তরখানে পরিচ্ছন্নকর্মীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে উপস্থিত হওয়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান এবং স্থানীয় এমপি জাহাঙ্গীর হোসেনের উপর ‘হামলার’ অভিযোগ উঠেছে।
আজ রোববার ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন এক জরুরি বার্তায় সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য দিয়েছেন।
উত্তর সিটির অঞ্চল-৮ এর অধীন ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তরখান রাজাবাড়ি এসটিএস (সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন) এলাকায় দুপুরের দিকে এ ঘটনা ঘটে। ।
জরুরি বার্তায় বলা হয়, “উত্তরখান রাজাবাড়ি এসটিএস এলাকায় ডিএনসিসির পরিচ্ছন্নকর্মীদের ওপর স্থানীয় কিছু 'সন্ত্রাসী' অতর্কিত আক্রমণ করে। খবর পেয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে ছুটে যান ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন এবং পুলিশের সংশ্লিষ্ট বিভাগের উপকমিশনার।
“কিন্তু সেখানে হামলাকারীরা প্রশাসক ও সংসদ সদস্যের ওপরও চড়াও হয় এবং হামলা চালায়।”
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পাওয়া ‘বোমাসদৃশ’ দুটি পরিত্যক্ত বস্তু পাওয়া যাওয়ার খবরে জনমনে সাময়িক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে। পরে বস্তা খুলে দেখা যায়, বোমা নেই তাতে।
ডিএমপি জানিয়েছে, মিরপুর-১০ স্টেশনের নিচে পাওয়া বস্তায় ছিল জর্দার কৌটা ও পান। আর ফার্মগেট এলাকায় পাওয়া বস্তায় কোনো ধরনের বিস্ফোরক বা বিপজ্জনক বস্তু পাওয়া যায়নি।
আজ শনিবার ডিএমপির মিডিয়া শাখা জানায়, মিরপুর-১০ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে সন্দেহজনক একটি ব্যাগ পড়ে থাকার খবর পেয়ে সিটিটিসির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সেখানে যায়। প্রাথমিকভাবে ব্যাগটি এক্স-রে পরীক্ষার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হয়। এতে কৌটাসদৃশ একটি বস্তুর ছবি দেখা যায়।
পরে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুসরণ করে ফ্র্যাঞ্জিবল ডিসরাপ্টর ব্যবহার করে বস্তুটি নিষ্ক্রিয় করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এরপর ব্যাগটি খুলে দেখা যায়, এর ভেতরে জর্দার একটি কৌটা ও পান রয়েছে। সেখানে কোনো বিস্ফোরক বা ক্ষতিকর বস্তু পাওয়া যায়নি।
ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনের বস্তার ঘটনায় ডিএমপি জানায়, তেজগাঁও থানার ফার্মগেট এলাকায় পরিত্যক্ত একটি বস্তাকে ঘিরেও বোমা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে সিটিটিসির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। পরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে হ্যান্ড এন্ট্রির মাধ্যমে বস্তাটি পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষা শেষে নিশ্চিত হওয়া যায়, ওই বস্তার ভেতরেও কোনো বিস্ফোরক বা বিপজ্জনক বস্তু ছিল না।
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর ও ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনের নিচে ‘বোমা সদৃশ’ বস্তু পাওয়ার খবরে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করেছে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সদস্যরা।
শনিবার দুপুরে সিটিটিসির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শামসুল হক বলেন, মিরপুর ও তেজগাঁও-দুই জায়গায় একসঙ্গে বোমা পাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি যাচাই করতে পুলিশের দল কাজ করছে।
মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোস্তাক সরকার জানান, মিরপুর ১০ নম্বর মেট্রো স্টেশনের নিচে সন্দেহজনক একটি বস্তু পাওয়ার খবর পেয়েছেন তারা। সিটিটিসির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি পরীক্ষা করছেন। এটি আইইডি কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
অন্যদিকে, ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনের নিচে একটি পিলারের কাছে একটি বস্তা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন তেজগাঁও বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান। সন্দেহজনক হওয়ায় সেখানে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটকে ডাকা হয়েছে।
ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিমসহ তেজগাঁও থানার ওসি ক্যশৈনু মারমা উপস্থিত রয়েছেন।
এর মধ্যে বেলা ১টা ২৮ মিনিটে ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের একটি টিম ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে এখনো পাশ দিয়ে সাধারণের চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
রাজধানীর সড়কে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর
রাজধানী ঢাকাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও ‘ক্লিন সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার অংশ হিসেবে উত্তর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন সড়ক পুনরায় ঘুরে দেখেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী নিজেই গাড়ি চালিয়ে গুলশান, শ্যামলীসহ বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করেন। তার উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
উপ-প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিকেল ৪টা ৫ মিনিটে গুলশানের বাসভবন থেকে বের হন। তিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে উত্তর সিটির বিভিন্ন সড়কের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বাস্তব চিত্র পর্যবেক্ষণ করেন। বিকেল ৬টা ১০ মিনিটের দিকে প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি শ্যামলী এলাকা অতিক্রম করতে দেখা যায়।
প্রধানমন্ত্রী বারবার তাগিদ দিয়েছেন যে তিনি ঢাকাকে আধুনিক ও ‘ক্লিন সিটি’ হিসেবে দেখতে চান। সেই প্রতিশ্রুতি থেকেই রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম কেমন চলছে, তা দেখতে তিনি নিজেই সরেজমিনে বের হন।
পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িতে তার সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, বিএনপির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব মেহেদুল ইসলাম এবং সহকারী একান্ত সচিব আব্দুর রহমান সানী।
রাতের ঢাকা ঘুরে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী
রাজধানীর নাগরিক সেবার বাস্তব চিত্র সরেজমিনে দেখতে আবারো গভীর রাতে আকস্মিক পরিদর্শনে বের হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন। রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী নিজেই গাড়ি চালান।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) গভীর রাতে এ পরিদর্শনে রাজধানীর প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন এলাকার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ফুটপাতের অবস্থা, সড়কবাতির কার্যকারিতা, রাতের যান চলাচল এবং নগরসেবার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
সফরের একাধিক পর্যায়ে তিনি কয়েকটি স্থানে গাড়ি থামিয়ে দায়িত্বরত পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেন। মাঠপর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেন।
প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীর রাতের বর্জ্য অপসারণ ও নগর ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম বাস্তবে কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তা সরাসরি দেখতে এবং সেবাদান কার্যক্রমের কার্যকারিতা যাচাই করতেই এই আকস্মিক পরিদর্শনে বের হন প্রধানমন্ত্রী। কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই তিনি মাঠপর্যায়ে গিয়ে বিভিন্ন সেবার মান, কর্মপরিবেশ এবং দায়িত্ব পালনের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন।
জানা যায়, নগরবাসীর ভোগান্তি কমিয়ে নাগরিক সেবার মান আরও উন্নত করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শুরু থেকেই গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। এ কারণে মাঠপর্যায়ে কোথাও কোনো গাফিলতি, সমন্বয়হীনতা বা সেবা প্রদানে ঘাটতি রয়েছে কি না, তা সরাসরি যাচাই করার উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। পরিদর্শনের সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।
এর আগে পবিত্র ঈদুল আজহার সময়ও একইভাবে গভীর রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওই সময় কোরবানির পশুর বর্জ্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অপসারণে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্তের নির্দেশ দেন তিনি।