পোশাক শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়েছে পুলিশ

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:৪৩ এএম

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে আজ মঙ্গলবারও সড়কে নেমে বিক্ষোভ করছেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। বিক্ষোভের সময় পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। 



এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে টিয়ার গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করতে দেখা গেছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় শ্রমিকেরা বিভিন্ন দিক থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। 

বিক্ষোভ দমাতে পোশাকশ্রমিকদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে পুলিশ

সকাল থেকে পল্লবী শিল্পাঞ্চলে বিভিন্ন পোশাক কারখানার সামনে কয়েক হাজার শ্রমিক জড়ো হন। এ সময় তাদের অনেকের হাতে লাঠিসোঁটা দেখা যায়। পরে শ্রমিকেরা সড়কে নেমে এলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে শ্রমিকেরা উত্তেজিত হয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। এতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।


মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে সংঘর্ষ চলতে থাকায় স্টেশনের ভেতরে অনেক যাত্রী আটকা পড়েছেন। বর্তমানে মিরপুর-১১ নম্বর স্টেশনে কোনো ট্রেন থামছে না এবং যাত্রী ওঠানামাও করানো হচ্ছে না।


এমআরটি পুলিশ কন্ট্রোল রুম জানায়, সকাল থেকেই মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনে পোশাক শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেওয়ায় মেট্রোরেলের যাত্রী ও স্টেশনের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে স্টেশনটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে কয়েক দিন ধরে বিক্ষোভ করে আসছেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। শনিবার ও রোববার শ্রমিকেরা মিরপুর-১০, ১১ ও ১২ নম্বরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন। রোববার মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। 

সড়কে কাঠের আসবাবপত্রে আগুন ধরিয়ে বিক্ষোভ করেন পোশাক শ্রমিকরা

একপর্যায়ে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোস্টেশনের নিচে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। এই ঘটনায় বিভিন্ন স্থান থেকে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।  সোমবারও মিরপুরের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে শ্রমিকেরা সড়কে নামার চেষ্টা করেন। পুলিশ তাদের বাধা দেয়। কয়েকটি স্থানে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। আজ আবার মিরপুরে সড়কে নেমে বিক্ষোভ করছেন শ্রমিকেরা।





মিরপুরে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ, বন্ধ মেট্রোরেল স্টেশন। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:৫০ এএম

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশন।মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল থেকে মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় সড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন পোশাক শ্রমিকেরা। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।


মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ রাখার বিষয়টি এমআরটি পুলিশের কন্ট্রোল রুম থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।


এমআরটি পুলিশ কন্ট্রোল রুম জানায়, সকাল থেকেই মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনে পোশাক শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেওয়ায় মেট্রোরেলের যাত্রী ও স্টেশনের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে স্টেশনটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


বর্তমানে মিরপুর-১১ নম্বর স্টেশনে কোনো ট্রেন থামছে না এবং যাত্রী ওঠানামাও করানো হচ্ছে না। তবে মেট্রোরেলের অন্য স্টেশনগুলোতে ট্রেন চলাচল আপাতত স্বাভাবিক রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মিরপুর-১১ নম্বর স্টেশনটি পুনরায় চালু করা হবে বলে জানিয়েছে এমআরটি পুলিশ কন্ট্রোল রুম।


  • প্রকাশ : সোমবার ০২ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:২৫ পিএম

‎পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে টানা দুই দিনের বিক্ষোভ, সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় পাঁচটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করা হয়েছে। 


মামলায় এখন পর্যন্ত ৪৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সহিংসতার ঘটনায় পল্লবী থানায় তিনটি, মিরপুর মডেল থানায় একটি এবং কাফরুল থানায় একটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় এখন পর্যন্ত ৪৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

‎

‎পুলিশ জানায়, মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে ট্রাফিক বক্স ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। এতে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। 


‎এদিকে মিরপুর ১১ নম্বরে পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা ও ট্রাফিক বক্স ভাঙচুরের অভিযোগে থানায় তিনটি মামলা হয়েছে। এসব মামলার বাদী পুলিশ। কাফরুল থানায় আরেকটি মামলা হয়েছে। প্রতিটি মামলায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করা হয়েছে।


মিরপুরে সোমবার সকালেও পোশাকশ্রমিকেরা জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেছেন। সকাল ৯টার দিকে মিরপুর-১৪ নম্বর এলাকা থেকে শ্রমিকদের একটি দল মিছিল নিয়ে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। একই সময়ে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরেও শ্রমিকদের আরেকটি দল জড়ো হয়। একপর্যায়ে পুলিশ ধাওয়া দিলে শ্রমিকেরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে মিরপুর-১৪ নম্বর এলাকার কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা রাস্তায় নামেন। তারা মিছিল নিয়ে মিরপুর-১০ নম্বরের দিকে অগ্রসর হতে চাইলে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া পুলিশ সদস্যরা তাদের বাধা দেন। শ্রমিকেরা বাধা অতিক্রমের চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ধাওয়া দেয়।


একই সময়ে মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় শ্রমিকদের আরেকটি দল জড়ো হয়। এতে কিছুক্ষণের জন্য যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ ধাওয়া দিলে শ্রমিকেরা মিরপুর-১১ নম্বরের দিকে সরে যান। এরপর ওই এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।


রোববার সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করা পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

সকাল আটটার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। এতে ওই এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। অবরোধের কারণে মিরপুর-১০ নম্বর মেট্রো স্টেশনের প্রবেশপথও বন্ধ করে দেওয়া হয়।


রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে বাস রুট রেশনালাইজেশনের আওতায় ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতিতে বাস চলাচল কার্যক্রম উদ্বোধন

  • প্রকাশ : রবিবার ০১ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:২৬ পিএম

বাস রুট রেশনালাইজেশনের আওতায় ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতিতে (কোম্পানিভিত্তিক) বাস চালু করা হয়েছে রাজধানী ঢাকায়। রোববার ছয়টি রুটে নতুন পদ্ধতিতে এই বাস সেবা চালু করা হয়। যদিও আগে থেকে চলা পুরনো বাস দিয়ে কোম্পানিভিত্তিক এই পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। বেলা ১১টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী শামসুর রহমান বিশ্বাস শিমুল। এই শ্রমিক নেতা পাবনা-৫ আসনের বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য। 


ঢাকার বিশৃঙ্খল বাস রুট সুশৃঙ্খল করতে ২০১৫ সালে রেশনালাইজেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১১ বছরেও তা চালু করা যায়নি পরিবহন মালিক শ্রমিকদের বিরোধিতায়। ২০২১ সালে কেরানীগঞ্জের ঘাটারচর থেকে যাত্রাবাড়ীর সাইনবোর্ড পর্যন্ত রুটে কোম্পানিভিত্তিক চালু হলেও, তা বন্ধ হয়ে যায় লোকসানে। 


ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতিতে  একটি রুটে একটি নির্দিষ্ট কোম্পানির বাস চলে। এ জন্য বর্তমানে যেসব কোম্পানির বাস চলছে সেগুলোকে একীভূত করে একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হবে। ঢাকায় অনুমোদিত রুটের সংখ্যা ৪১৮। সক্রিয় রয়েছে ৯৮টি। একই রুটে ৮-১০টি কোম্পানির বাস চলে। বাসে বাসে প্রতিযোগিতায় যানজট, সড়ক দখল এবং বিশৃঙ্খলা হয়। তাই রেশনালাইজেশনের (পুনর্বিন্যাস) মাধ্যমে রুটের সংখ্যা কমিয়ে ৩২টি করা হবে। 


গত ৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সভা থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয় ছয় মাসের মধ্যে ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতি চালু করতে হবে। 


উদ্বোধন অনুষ্ঠানে শিমুল বিশ্বাস বলেন, বাকি ২৬টি রুটে এই সময়ের মধ্যে কোম্পানিভিত্তিক বাস চালু করা হবে। প্রত্যেক রুটের বাসের রঙে হবে। কায়েমি শক্তিকে প্রশ্রয় দেওয়ায় অতীতের সরকারগুলো চাইলেও কোম্পানিভিত্তিক বাস চালু করা যায়নি। প্রথম দিনে পুরনো বাস দিয়ে চালু করা হয় নতুন পদ্ধতিতে। 


মালিকরা অনুষ্ঠানে জানান, ধীরে ধীরে নতুন বাস প্রতিস্থাপন করা হবে। গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলনে মিরপুর, গাজীপুর থেকে চলাচল করা বাসগুলো প্রথম দিনেই দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল। 


রোববার চালু হওয়া রুটগুলো হচ্ছে—গাজীপুরের শিববাড়ী থেকে ঢাকার আজিমপুর, মিরপুর থেকে কেরাণীগঞ্জ, ঘাটারচর থেকে ডেমরা, ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর, ঘাটারচর থেকে ধউর ও টঙ্গী থেকে আজিমপুর। এছাড়া মিরপুর-১ থেকে কচুক্ষেত, সৈনিক ক্লাব, জাহাঙ্গীর গেইট, আগারগাঁও হয়ে আনসার ক্যাম্প রুটে চক্রাকার বাস চালু করা হয়েছে।


অনুষ্ঠানে শিমুল বিশ্বাস বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে চালু হওয়া সাতটি রুটের কোনো কোনোটিতে ৩০০টি করে বাস রয়েছে। শুধু ফটোসেশন করলাম আর পরে বন্ধ হয়ে যাবে— এমনটা হবে না। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কঠোর অবস্থান নিয়ে সবাইকে জবাবদিহির আওতায় এনেছেন। 


সড়কে বিশৃঙ্খলার কারণে অল্প কিছু মানুষের লাভ হয় বলেও মন্তব্য করেন শিমুল বিশ্বাস। তিনি বলেছেন, ব্যাটারিচালিত রিকশা বা টেসলা বাহিনী এবং রিকশা গোটা ঢাকা দখল করে রেখেছে। গরিব মানুষের জন্য এগুলোর প্রয়োজন থাকলেও যানজটে আমাদের কত শ্রমঘণ্টা, সময় ও অর্থ নষ্ট হচ্ছে, তার হিসাব করলে মাথা ব্যথা হয়ে যাবে। 


ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, সড়কে অসুস্থ প্রতিযোগিতা ও দুর্ঘটনা রোধে ঢাকার ৯৮টি বাস রুটকে ৩২টি মূল রুটে নামিয়ে আনা হয়েছে, যার মধ্যে আজ কম-বেশি ১৮টি কোম্পানির বাসকে ছয়টি কোম্পানির অধীনে এনে ছয়টি রুট চালু করা হলো। নির্ধারিত ২৫টি চক্রাকার রুটের মধ্যে পাঁচটি অনুমোদিত হয়েছে। মিরপুর-১ থেকে আনসার ক্যাম্প রুটে এসি বাস চালু হবে। বাকি চারটি রুটের জন্য ২৭ আসনের মিনিবাস দুই মাসের মধ্যে চালু হবে।


সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম বলেন, ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতিতে চালকরা নির্দিষ্ট বেতনে বাস চালাবেন।  দ্রুতই ৩২টি রুটের বাসে আলাদা রং, রুট নম্বর ও ডিজিটাল বোর্ড যুক্ত করা হবে।


ঢাকা সড়ক পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান বলেন, এবার পাইলট প্রজেক্ট নয়,  চূড়ান্ত বাস্তবায়ন হিসেবে ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতিতে বাস চালু হয়েছে। নতুন উদ্যোগের বিরোধিতায় যারা সড়কে বাস দাঁড় করিয়ে রাখবে, তাদের বিরুদ্ধে  ট্রাফিক পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে হবে। 


ডিটিসিএ এ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান, ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি এম এ বাতেনসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং পরিবহন খাতের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


মেট্রোরেল স্টেশনের একটি গেট বন্ধ

  • প্রকাশ : রবিবার ০১ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৫১ পিএম

রাজধানীর মিরপুর ১০,১১ ও পল্লবী মেট্রোরেল স্টেশন আজ রোববার বন্ধ ছিল আড়াই ঘণ্টা। ট্রেন চলাচল করলেও বেলা ১২টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত এই তিন স্টেশনে ট্রেন থামেনি, যাত্রীও ওঠানামা করেনি। বেলা আড়াইটার পর এসব স্টেশনে ট্রেন থামে। যাত্রীরা ওঠানামা করেন। তবে সব গেট খুলে দেওয়া হয়নি। কিছু কিছু গেট বন্ধ রয়েছে। 


মিরপুর ১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ২০১ ও ২০২ পিলারের মাঝে রাস্তার ওপর পুলিশের একটি পিকআপে আগুন দেওয়া হয়। আগুনের তাপে স্টেশনের পানির লাইনের পাইপ পুড়ে গেছে। সেখান থেকে পানি চুইয়ে ডিভাইডার থেকে রাস্তায় গড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে। মিরপুর ১১ স্টেশনের এ এবং সি নম্বর গেট এখনো বন্ধ রয়েছে। বি ও ডি নম্বর গেট দিয়ে যাত্রী ওঠানামা করছে।


মিরপুর ১১ মেট্রো স্টেশনের নিরাপত্তাকর্মী খালিদ হাসান বলেন, ‘আন্দোলনের সময় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এরপর স্টেশনে ওঠানামার সব গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। দুপুর আড়াইটার পর ২টা গেট খুলে দেওয়া হয়। এরপর থেকে এই স্টেশনে যাত্রী ওঠানামা শুরু হয়েছে। তবে ২টা গেট এখনও বন্ধ রয়েছে। 


পল্লবী থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মোহাম্মদ হানিফ জানান, রোববার দুপুর ১টার পর আন্দোলনকারীরা চলে গেছে। এরপর থেকে সড়কে চলাচল স্বাভাবিক হয়।


মিরপুর ১১ নম্বরে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা

  • প্রকাশ : রবিবার ০১ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:০৮ পিএম

রাজধানীর মিরপুর এলাকায় পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় মেট্রোরেলের তিনটি স্টেশন বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। রোববার (১ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে সংঘর্ষের পর থেকে মিরপুর-১০, মিরপুর-১১ ও পল্লবী স্টেশনে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।


মেট্রোরেল পুলিশের (এমআরটি পুলিশ) অপারেশন বিভাগের পরিদর্শক মো. মহসীন শেখ এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


এদিকে, মিরপুর ১১ এলাকায় পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।


আগুন নেভাতে তাদের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে রওনা হয়েছে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার হামিদুর রহমান।


মিরপুর ১১ নম্বরে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা

  • প্রকাশ : রবিবার ০১ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৪২ পিএম

রাজধানীর মিরপুরে ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করা পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। রোববার সকাল আটটার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। এতে ওই এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। অবরোধের কারণে মিরপুর-১০ নম্বর মেট্রো স্টেশনের প্রবেশপথও বন্ধ করে দেওয়া হয়।


প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল থেকে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছিলেন শ্রমিকেরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশ শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরে যেতে বললে বেলা সোয়া ১১টার দিকে তারা পুলিশের দিকে ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করেন। এরপর পুলিশ লাঠিপেটা করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে।


এ সময় পুলিশ জলকামান দিয়ে পানি ছোড়ে। পাশাপাশি কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে শ্রমিকেরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। পরে তারা আবার সংগঠিত হয়ে বিভিন্ন অলিগলির মুখে অবস্থান নেন এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।


সোয়া ১২টার দিকে আন্দোলনকারীরা রাস্তা ছেড়ে চলে যান। এরপর যান চলাচল স্বাভাবিক হতে থাকে। তবে এ সময় পর্যন্ত বিভিন্ন অলিগলিতে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি চলছিল।


এদিকে মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।


একই দাবিতে শনিবারও মিরপুরে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন পোশাকশ্রমিকেরা। সেদিন মিরপুর-১০, ১১ ও ১২ নম্বরসহ আশপাশের এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একপর্যায়ে মিরপুর-১ নম্বরের শাহ আলী এলাকায় কয়েকটি মার্কেট ও পোশাক কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।


এদিকে পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে আজ মজুরি বোর্ড গঠনের কথা জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।