আন্দোলনে দশম শ্রেণির এক ছাত্রকে ওয়াকিটকি ব্যবহার করতে দেখা গেছে

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৪ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:০৯ পিএম

রাজধানীর উত্তরায় এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে করা আন্দোলনে দশম শ্রেণির এক ছাত্রকে ওয়াকিটকি ব্যবহার করতে দেখা গেছে। এই ওয়াকিটকি কীভাবে পেলেন আর কেনই বা ব্যবহার করছেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়রা স্কুলের ছাত্র বলে শনাক্ত করেছেন তাকে।


আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) উত্তরায় সড়ক অবরোধের সময় এক শিক্ষার্থীর ওয়াকিটকি ব্যবহার করার ভিডিয়ো ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এদিকে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন।


এদিকে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ঢাকা বোর্ডসহ বিভিন্ন বোর্ডের সামনে পরীক্ষার্থী পরিচয়ে আন্দোলনরতরা অটোপাসের দাবি তুলছিলেন।


এদিকে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবের মোড়ে আন্দোলনে নামেন বহিরাগত যুবকরা। সেখানে ঢাকা সিটি কলেজের কাছ থেকে হাতেনাতে মেয়েদের আইডি কার্ডসহ ধরা পড়েন এক যুবক। 


মেয়ের আইডি কেনো তার কাছে এমন প্রশ্নের জবাবে ওই যুবক বলেন তিনি আইডি কার্ড গতকাল পরীক্ষার কেন্দ্রে রেখে এসেছেন। আন্দোলনে যোগ দেয়ার জন্য তিনি তার বোনের আইডি কার্ড নিয়ে এসছেন। তোপের মুখে এক পর্যায়ে সিটি কলেজের শিক্ষকদের ডাকা হলে ওই যুবক দৌড়ে পালিয়ে যান।


এছাড়াও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যমতে, আরো কয়েক বহিরাগতকে সেখানে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে তারা তখন অসংলগ্ন উত্তর দেন। পরে পরিচয় যাচাই করে জানা যায়, তারা অনেকেই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র।


এক ছাত্র নিজেকে ক্যামব্রিয়ানে পড়াশোনা করেন বলে দাবি করে। তবে তার কাছে কোনো কলেজের আইডি কার্ড পাওয়া যায়নি।





সর্বশেষ সব খবর

রাজধানীর সড়কে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:১০ পিএম

রাজধানী ঢাকাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও ‘ক্লিন সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার অংশ হিসেবে উত্তর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন সড়ক পুনরায় ঘুরে দেখেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী নিজেই গাড়ি চালিয়ে গুলশান, শ্যামলীসহ বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করেন। তার উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


উপ-প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিকেল ৪টা ৫ মিনিটে গুলশানের বাসভবন থেকে বের হন। তিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে উত্তর সিটির বিভিন্ন সড়কের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বাস্তব চিত্র পর্যবেক্ষণ করেন। বিকেল ৬টা ১০ মিনিটের দিকে প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি শ্যামলী এলাকা অতিক্রম করতে দেখা যায়।


প্রধানমন্ত্রী বারবার তাগিদ দিয়েছেন যে তিনি ঢাকাকে আধুনিক ও ‘ক্লিন সিটি’ হিসেবে দেখতে চান। সেই প্রতিশ্রুতি থেকেই রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম কেমন চলছে, তা দেখতে তিনি নিজেই সরেজমিনে বের হন।


পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িতে তার সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, বিএনপির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব মেহেদুল ইসলাম এবং সহকারী একান্ত সচিব আব্দুর রহমান সানী।

সর্বশেষ সব খবর

রাতের ঢাকা ঘুরে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:২৬ এএম

রাজধানীর নাগরিক সেবার বাস্তব চিত্র সরেজমিনে দেখতে আবারো গভীর রাতে আকস্মিক পরিদর্শনে বের হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন। রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী নিজেই গাড়ি চালান।


বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) গভীর রাতে এ পরিদর্শনে রাজধানীর প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন এলাকার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ফুটপাতের অবস্থা, সড়কবাতির কার্যকারিতা, রাতের যান চলাচল এবং নগরসেবার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী। 


সফরের একাধিক পর্যায়ে তিনি কয়েকটি স্থানে গাড়ি থামিয়ে দায়িত্বরত পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেন। মাঠপর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেন।


প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীর রাতের বর্জ্য অপসারণ ও নগর ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম বাস্তবে কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তা সরাসরি দেখতে এবং সেবাদান কার্যক্রমের কার্যকারিতা যাচাই করতেই এই আকস্মিক পরিদর্শনে বের হন প্রধানমন্ত্রী। কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই তিনি মাঠপর্যায়ে গিয়ে বিভিন্ন সেবার মান, কর্মপরিবেশ এবং দায়িত্ব পালনের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন।


জানা যায়, নগরবাসীর ভোগান্তি কমিয়ে নাগরিক সেবার মান আরও উন্নত করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শুরু থেকেই গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। এ কারণে মাঠপর্যায়ে কোথাও কোনো গাফিলতি, সমন্বয়হীনতা বা সেবা প্রদানে ঘাটতি রয়েছে কি না, তা সরাসরি যাচাই করার উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। পরিদর্শনের সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।


এর আগে পবিত্র ঈদুল আজহার সময়ও একইভাবে গভীর রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওই সময় কোরবানির পশুর বর্জ্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অপসারণে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্তের নির্দেশ দেন তিনি।

সর্বশেষ সব খবর

নাসিমা বেগম

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:১৭ এএম

অভাবের সংসারে কিছু অর্থ বাঁচাতে ঢাকার অনেক নিম্ন আয়ের মানুষ ভরসা করেন টিসিবির পণ্যের ওপর। তাদেরই একজন ছিলেন পরিচ্ছন্নতাকর্মী নাসিমা বেগম (৪৫)।মঙ্গলবার দুপুরে খাবারের বিরতির এক ঘণ্টা সময় কাজে লাগাতে না খেয়েই টিসিবির পণ্য কেনার লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি।


কিন্তু কম দামের চাল তখনও হাতে আসেনি নাসিমার। তার আগেই মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের দেয়াল ধসে চাপা পড়ে মারা যান তিনি। দুপুর ১টা ২৭ মিনিটের দিকে মিরপুর-২ নম্বরের লাভ রোডে কলেজটির পেছনের ৮ ফুট উঁচু সীমানা প্রাচীরের প্রায় ১২০ ফুট অংশ ধসে পড়ে।


ঠিক সেসময় দেয়াল সংলগ্ন সড়কে টিসিবির ট্রাক থেকে পণ্য কেনার লাইনে দাঁড়ানো ছিলেন নাসিমাসহ প্রায় ৫০-৬০ জন নারী। হঠাৎ ধসে পড়া দেয়ালের চাপায় প্রাণ হারান নাসিমাসহ দুজন। আহত হন আরও অন্তত ৬ জন।


মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান জানান, হতাহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে পঙ্গু হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক নাসিমাকে মৃত ঘোষণা করেন।


নাসিমার পরিচয় নিশ্চিত করেন তার মা শাহিদা বেগম।


‘আমারে এখন ক্যাডা খাওয়াইব’

মেয়ের মৃত্যুশোকে কাতর শাহিদা বেগম আর্তনাদ করছিলেন, ‘আমারে এখন ক্যাডা খাওয়াইব।’


মিরপুর-২ জনতা হাউজিং সংলগ্ন এক টিনশেড ঘরে নাসিমা ভাড়া থাকতেন বলে জানান তার মা। ১৩ হাজার টাকা বেতনে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করতেন নাসিমা।


নাসিমার স্বামী আবদুল হানিফ বর্তমানে কুয়েতপ্রবাসী। এ দম্পতির এক ছেলে ও এক মেয়ে আছেন, দুজনই বিবাহিত। ৬ মাস আগে ধার-দেনা করে স্বামীকে বিদেশ পাঠান নাসিমা। 


কিন্তু কুয়েত গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ায় হানিফ নিয়মিত টাকা পাঠাতে পারতেন না। স্বল্প আয় দিয়ে বাসা ভাড়া আর দেনা শোধের পর কোনোরকমে নাসিমা সংসার চালাতেন বলে জানান শাহিদা।


মেয়ের বাসার সামনে দাঁড়িয়ে শাহিদা বেগম জানান, সংসারের খরচ সামলানোর পর মায়ের ভরণপোষণের দায়িত্বও নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন নাসিমা।


শাহিদা বলেন, ‘আজ দুপুরের খাবার খেতে বাসায় আসার পর প্রতিবেশীর কাছে টিসিবির পণ্য বিক্রির ট্রাকের খোঁজ জানতে পারে নাসিমা। খাবারের বিরতির এক ঘণ্টা সময় যেন নষ্ট না হয়, তাই না খেয়েই ওই লাইনে গিয়ে দাঁড়ায় আমার মেয়ে।’


‘দেয়াল চাপায় আমার মেয়ে আর নাই,’ বলেই কাঁদতে থাকেন শাহিদা।


ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রিয়াজুল ব্যাপারী বলেন, ‘কলেজের দেয়ালের অপর পাশে বসে চা খাচ্ছিলাম। দেয়াল ঘেঁষে সড়কে টিসিবির ট্রাক থেকে পণ্য বিতরণ করা হচ্ছিল। হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে তাকিয়ে দেখি কলেজের দেয়াল ধসে পড়েছে। আশপাশে যারা ছিল তারা ইট-সুরকি সরিয়ে অনেককে বের করে। তাদের সবাইকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।’


আরেক প্রত্যক্ষদর্শী মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আরিয়ান বলেন, ‘দেয়াল ভেঙে পড়ার পর মানুষজন দৌড়ে উদ্ধার করতে যায়। কয়েক বছর আগে এই দেয়ালটা করা হয়। হয়তো বৃষ্টিতে দেয়ালটি ধসে পড়তে পারে।’

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৬:৪৭ পিএম

কমলাপুর রেলস্টেশন এবং এর আশপাশের এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার, যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনের লক্ষ্যে র‍্যাব-৩ এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের যৌথ উদ্যোগে একটি বিশেষ নিরাপত্তামূলক টাউনহল মিটিং অনুষ্ঠিত হয়।


আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টায় এ মিটিং অনুষ্ঠিত হয় বলে জানিয়েছেন ইন্ট এন্ড মিডিয়া অফিসার  মোঃ মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী।


উক্ত সভায় ঢাকা বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক এ বি এম কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন র‍্যাব-৩ এর উপ-অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লীডার মোঃ সাইদুর রহমান। এছাড়াও জিআরপি ঢাকা বিভাগীয় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ মাসুক মিয়া, আরএনবি’র কমান্ড্যান্ট, কমলাপুরের স্টেশন ম্যানেজার ও স্টেশন মাস্টারসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ সভায় অংশ নেন।


সভায় উপস্থিত কর্মকর্তাগণ কমলাপুর রেলস্টেশনের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং যাত্রীসেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেন। বিশেষ করে টিকিট কালোবাজারি রোধ, মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ এবং যেকোনো ধরনের নাশকতা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়।


কমলাপুর রেলস্টেশন ও তৎসংলগ্ন এলাকায় মাদকসেবী, মাদক কারবারি, টিকিট কালোবাজারি চক্র এবং চোরাচালানের সাথে জড়িত অপরাধীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে র‍্যাব ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের যৌথ অপারেশন পরিচালনা করা হবে মর্মে টাউনহল মিটিংয়ে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।


এখন থেকে নিয়মিত যৌথ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে কমলাপুর রেলস্টেশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে, যাতে সাধারণ যাত্রীরা নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে যাতায়াত করতে পারেন। আইন শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে র‍্যাব-৩ এর অভিযান চলমান থাকবে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ২:২০ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ঢাকা-১৭ আসনের কড়াইল, সাততলা ও ভাষানটেক বস্তির নিম্নবিত্ত ও প্রান্তিক মানুষ কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপত্র ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষাসহ রোগীদের মাঝে বিনামূল্যে ওষুধও বিতরণ করা হচ্ছে এই হাসপাতাল থেকে।


এছাড়া ‘স্বাস্থ্যসেবা সবার অধিকার’– এই নীতির আওতায় হাসপাতালের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ইউনিটের মতো উন্নত চিকিৎসাসেবা সুবিধাবঞ্চিত এসব মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। হাসপাতালটিতে বস্তিবাসীদের জন্য আলাদা টিকিট কাউন্টার, আট তলায় দুটি পৃথক ওয়ার্ড (পুরুষ ও মহিলা) চালু করা হয়েছে।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুর রহমান রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে জানান, উদ্বোধনের পর গত আড়াই মাসে বহির্বিভাগে ৬১০ জন সেবা নিয়েছেন। ২৩ জন বিভিন্ন জটিল রোগ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সাত জনের অপারেশন করা হয়েছে। আরও তিন জনকে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই অপারেশন করা হবে।


৫ মে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ৫০ শয্যার আইসিইউ বেড উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। একই দিনে তিনি আইসিইউ ইউনিটের পাশাপাশি হাসপাতালটিতে প্যাথলজি প্যাভিলিয়ন ও গ্যাস্ট্রোলিভার সেন্টারের উদ্বোধন করেন।


উদ্বোধন শেষে ডা. জুবাইদা রহমান রাজধানীর তিন বস্তির মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। এরপর থেকেই বস্তির নিম্নআয়ের মানুষ এই সুবিধা ভোগ করছেন।


এর আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার সময় বস্তিবাসীদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেই প্রতিশ্রুতির আলোকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


হাসপাতালে সরেজমিনে রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রান্তিক ও বস্তির সাধারণ মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পেয়ে দীর্ঘদিনের আর্থিক দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেয়েছেন।


তারা বলেছেন, এতদিন অর্থের অভাবে তারা বড় হাসপাতালে বা চিকিৎসকের কাছে যেতে পারতেন না, তারা এখন বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা এবং ওষুধ পেয়ে অত্যন্ত আনন্দিত।


কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ভাসানটেক বস্তির বাসিন্দা আমেনা বেগম বাসসকে বলেন, প্রায় তিন মাস আগে ছানির সমস্যার কারণে এক চোখের অপারেশন করাতে তার ছয় হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। বর্তমানে তিনি অপর চোখের অপারেশনের জন্য আবারও হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে এবার এই চিকিৎসার জন্য তার কোনও টাকা লাগছে না।


বিনামূল্যে এমন উন্নত চিকিৎসাসেবা পেয়ে আবেগাপ্লুত আমেনা বেগম আরও বলেন, ভাগ্য ভালো বলেই আমরা এই বিনামূল্যে সেবা পাচ্ছি। সরকারের এই উদ্যোগ তাদের মতো দরিদ্র মানুষের জন্য অনেক বড় উপকার বয়ে এনেছে।


রাজধানীর কড়াইল বস্তির বাসিন্দা কামরুল ইসলাম বাসসকে বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনী প্রচারের সময় বস্তিবাসীর জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তার সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমার এখন বিনামূল্যে সকল চিকিৎসা পাচ্ছি কুর্মিটোলা হাসপাতালে।


তিনি বলেন, এই হাসপাতালে আমাদের অনেক বেশি সম্মান দেওয়া হচ্ছে। আমাদের যে খাবারটা দেওয়া হচ্ছে, তা বেশ উন্নত।


হাসপাতালের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই তিন বস্তির মানুষ ক্যানাসর ও হৃদরোগের মতো জটিল রোগের চিকিৎসাও এখানে বিনামূল্যে পাচ্ছেন। সেবা নেওয়ার জন্য তাদের কেবল ১০ টাকা মূল্যের একটি টিকিট কাটতে হয়, এরপর বাকি সব ধরনের চিকিৎসাসেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হয়।


সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বস্তির প্রকৃত রোগীদের সহজে শনাক্ত করার জন্য বস্তিগুলোতে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা হয়েছে। একটি সমিতির মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবকেরাই রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে আসেন। এছাড়া হাসপাতালে আসার পর তাদের জন্য আলাদা টিকিট কাউন্টারসহ তাৎক্ষণিক সব ধরনের চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।


হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুর রহমান আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমরা রাজধানীর কড়াইল, সাততলা ও ভাসানটেক– এই তিন বস্তির নিম্নবিত্ত ও প্রান্তিক মানুষকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সেবা দিয়ে যাচ্ছি। এই তিন বস্তির মানুষকে হাসপাতালে এসে শুধু ১০ টাকা দিয়ে একটা টিকিট কাটতে হয়। বাকি সব দায়িত্ব আমাদের।


তিনি বলেন, হাসপাতালটিতে ক্যানসার ও হৃদরোগের মতো জটিল রোগের চিকিৎসাও বিনামূল্যে পাচ্ছেন এসব বস্তির মানুষ। এখানে সবারই সমান এক্সেস রয়েছে। বস্তিতেই ভলেন্টিয়ার নিয়োগ করা আছে। একটা সমিতির মাধ্যমে ওনারাই রোগীদের আমাদের কাছে নিয়ে আসেন। বস্তি থেকে আসা রোগীদের সঙ্গে নিজস্ব কোনও লোক না থাকলেও হাসপাতালের কর্মীরাই দায়িত্ব নিয়ে তাদের সম্পূর্ণ সেবা দেন।



সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : সোমবার ২০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:৫১ পিএম
  • আপডেট : মঙ্গলবার ২১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৫:২৬ পিএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:৫১ পিএম

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর পূর্ণ হলো। গত বছরের ২১ জুলাই দুপুর ১টা ১৮ মিনিটের দিকে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে আছড়ে পড়ে প্রশিক্ষণ বিমান এফ-৭ বিজিআই। যা ভবনের ভেতরে ঢুকে বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় ২৮ জন শিক্ষার্থী, তিনজন শিক্ষিকা, তিনজন অভিভাবক এবং একজন পরিচালকসহ মারা যান ৩৫ জন। এছাড়া ১৭২ জন অগ্নিদগ্ধ হয়েছিলেন। 


বছর শেষ হলেও এখনো মুছে যায়নি সেই ভয়াবহ ও বিভীষিকাময় স্মৃতি। কালো এ দিনটির কথা ভুলতে পারেননি স্বজনহারা পরিবার, অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ দেশের জনগণ।


ঘটনার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে সোমবার (২০ জুলাই) মাইলস্টোন স্কুল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সহপাঠীদের ভালোবাসা ও আবেগে দিনটি পালন করেন মাইলস্টোন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।


মাইলস্টোন স্কুলের দিয়াবাড়ি ক্যাম্পাসের অধ্যক্ষ ক্যাপ্টেন জাহাঙ্গীর বলেন, ‘দুর্ঘটনার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে নিহত ও আহতদের স্মরণে আমরা দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করছি। প্রথম দিনে স্কুলের ১৬টি শাখায় শিক্ষার্থীদের নিয়ে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। দিয়াবাড়ি ক্যাম্পাসে আহত শিক্ষার্থীদের নিয়ে স্মৃতিচারণ ও আলোচনা করা হয়েছে।’


তিনি আরও জানান, দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে মঙ্গলবার দিয়াবাড়ি ক্যাম্পাস ছাড়া মাইলস্টোনের অন্যান্য শাখায় সাধারণ কর্মসূচি পালন করা হবে। এছাড়া দিয়াবাড়ি ক্যাম্পাসে থাকছে দুটি প্রধান আয়োজন।

























































সর্বশেষ সব খবর