জাতীয় সংসদের অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছেন বিরোধী দলের সদস্যরা
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছেন বিরোধী দলের সদস্যরা। আজ বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেলে সংসদ অধিবেশনে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের প্রশ্নে সংসদে গতকাল দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হলেও বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়ায় এবং এ ব্যাপারে কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় ওয়াকআউট করে বিরোধী দল। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম তাদের ওয়াকআউট না করে সংসদে উত্থাপিত আরেকটি নোটিশের আলোচনায় অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানালেও তাতে সায় দেননি বিরোধীদলীয় নেতা।
অনির্ধারিত আলোচনায় আজ সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, আইনমন্ত্রী সম্ভবত আমার বক্তব্যটি সঠিকভাবে খেয়াল করেননি।
তবে আমি বিশ্বাস করতে চাই না যে তিনি এটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে করেছেন। মূলত গতকাল আমাদের আলোচনার প্রধান বিষয় ছিল গণভোট এবং সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত প্রস্তাবিত পরিষদের সভা আহ্বান করা।
আলোচনার একপর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া একটি প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে আমি বলেছিলাম সংস্কার পরিষদকে কেন্দ্র করে যদি কোনো বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়, তবে আমরা সেটিকে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করব। সেই সঙ্গে আমি প্রস্তাব দিয়েছিলাম যে, সংকট নিরসনের লক্ষ্যে গঠিত এই কমিটিতে সরকারি ও বিরোধী দল থেকে সমান সংখ্যক সদস্য রাখা হলে তা অনেক বেশি অর্থবহ ও কার্যকর হবে। আমরা এখানে এসেছি বিদ্যমান সংকট সমাধানের জন্য, নতুন কোনো সংকট তৈরির জন্য নয়।
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আইনমন্ত্রী মহোদয় তার বক্তব্যে আমার আগের কথার প্রেক্ষিতে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন। যেহেতু আমার বক্তব্য আগেই শেষ হয়েছিল, তাই বিষয়টি আমি পুনরায় স্পষ্ট করলাম। এটি জনআকাঙ্ক্ষা ও গণভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যেখানে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের রায়ের প্রশ্ন জড়িত। আমরা আশা করেছিলাম স্পিকারের মাধ্যমে এর একটি সুনির্দিষ্ট প্রতিকার বা সিদ্ধান্ত পাব। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হলো কি না, তা আমার কাছে স্পষ্ট নয়। আমি আপনার কাছ থেকে এ বিষয়ে একটি পরিষ্কার ব্যাখ্যা প্রত্যাশা করছি।
উত্তরে স্পিকার বলেন, গতকালের প্রস্তাবটি ছিল একটি মুলতবি প্রস্তাব, যা আমার অনুপস্থিতিতে গৃহীত হয়েছিল। বাংলাদেশের ৫৩ বছরের সংসদীয় ইতিহাসে এ পর্যন্ত মাত্র তিনটি মুলতবি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে, যার একটি ছিল আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর, দ্বিতীয়টি গ্রেনেড হামলা এবং তৃতীয়টি নূরুল ইসলাম মণির কোস্টগার্ড সংক্রান্ত প্রস্তাব। সাধারণত বছরের পর বছর পার হলেও সংসদে কোনো মুলতবি প্রস্তাব গৃহীত হয় না। তা সত্ত্বেও, সংসদে প্রাণবন্ত আলোচনার সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, আপনারা জানেন, যে সমস্যার সমাধান কেবল আইন প্রণয়নের মাধ্যমেই সম্ভব, তা নিয়ে সাধারণত মুলতবি প্রস্তাব হয় না। তবুও বিরোধী দলকে উদারভাবে কথা বলার সুযোগ দিতেই এটি গ্রহণ করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত আরও একটি নোটিশ আজ আমরা বিবেচনা করব। আপনাদের কোনো বক্তব্য বাকি থাকলে আজ অথবা আগামীকাল আলোচনার অবারিত সুযোগ পাবেন। এটি জনগণের মহান সংসদ; এখানে জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন যেকোনো বিষয়ে সরকারি ও বিরোধী দল মিলে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। আমরা যেন সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি (রুলস অব প্রসিডিউর) অনুসরণ করে আলোচনা ফলপ্রসূ করতে পারি, সেই দায়িত্ব আপনাদেরই।
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মাননীয় স্পিকার, আমরা একটি সুনির্দিষ্ট প্রতিকার চেয়েছিলাম। বিষয়টি কোনো বিশেষ দলের স্বার্থে নয়। নির্বাচনের আগে সরকারি ও বিরোধী দল, উভয় পক্ষই এই বিষয়ের পক্ষে একমত হয়ে প্রচারণা চালিয়েছিল। আমরা যেহেতু কোনো প্রতিকার পেলাম না, তাই মনে করছি দেশবাসীর রায়ের সঠিক প্রতিফলন বা মূল্যায়ন এখানে হলো না। বিরোধী দলে থেকে জনগণের এই অবমূল্যায়ন আমরা মেনে নিতে পারি না। এর প্রতিবাদে আমরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করছি।
উত্তরে স্পিকার বলেন, আপনি তো আমাকে বক্তব্য শেষ করার সুযোগ দিলেন না। আমি আপনার প্রতিটি কথা ধৈর্য ধরে শুনেছি। ওয়াকআউট করা আপনাদের গণতান্ত্রিক অধিকার, তবে আমার অনুরোধ, একটু অপেক্ষা করুন।
কিছুক্ষণ পরেই আরেকটি মুলতবি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে, যেখানে আপনারা আপনাদের প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাবেন এবং নিজেদের বক্তব্য পেশ করার অবারিত সুযোগ থাকবে। তাই আমার পরামর্শ হলো, সেই প্রস্তাবটির পরিণতি কী হয়, তা দেখার জন্য অন্তত কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। এরপরও যদি আপনারা ওয়াকআউট করতে চান, তবে অবশ্যই করতে পারেন।
পরবর্তীতে বিরোধীদলীয় নেতা পুনরায় বলেন, পরবর্তী যে নোটিশটির কথা আপনি বলছেন, সেটি আমাদের নজরে এসেছে। আমাদের মনে হচ্ছে, মূল নোটিশটিকে ধামাচাপা দেওয়ার লক্ষ্যেই এই নতুন নোটিশটি সামনে আনা হয়েছে। তাই মূল বিষয়ের অবমূল্যায়ন এবং এই কৌশলের প্রতিবাদে আমরা সংসদ থেকে আপাতত ওয়াকআউট করছি।
স্পিকার বিরোধীদলীয় নেতার উদ্দেশ্যে বলেন, নোটিশটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপনই করা হয়নি, তার আগেই আপনারা কীভাবে বুঝলেন যে এটি অন্য কোনো বিষয়কে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য আনা হয়েছে? আমি অনুরোধ করছি, একটু ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করুন এবং নোটিশের বিষয়বস্তু শুনুন। এরপর আপনারা চাইলে অবশ্যই ওয়াকআউট করতে পারেন।
উত্তরে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মাননীয় স্পিকার, আপনার অনুপস্থিতিতে এই হাউসে সংশ্লিষ্ট সদস্য নোটিশটি পাঠ করেছেন এবং আমরা তা শুনেছি। আমরা জেনেশুনেই বলছি যে, মূল বিষয়টিকে পাশ কাটানোর এই প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে আমরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করছি।
জবাবে স্পিকার বলেন, সংসদীয় রীতি অনুযায়ী ওয়াকআউট করা আপনাদের অধিকার, আপনারা চাইলে তা করতে পারেন। এরপর এক যোগে বিরোধী দলের সদস্যরা সংসদ ত্যাগ করেন।
পরে বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, উত্থাপিত মুলতবি প্রস্তাবটি প্রক্রিয়াগতভাবে সঠিক ছিল না। সংসদীয় রীতিনীতি অনুযায়ী, যে বিষয় কেবল আইন প্রণয়নের মাধ্যমে নিষ্পত্তিযোগ্য, তা মুলতবি প্রস্তাবের আওতায় আনা যায় না। এ ধরনের প্রস্তাবের ওপর আলোচনার সুযোগ থাকলেও তা নিয়ে ভোটাভুটির কোনো বিধান নেই।
তিনি আরও বলেন, মাননীয় স্পিকার অত্যন্ত উদারতার পরিচয় দিয়ে বিরোধী দলকে আলোচনার সুযোগ দিয়েছেন। কিন্তু আলোচনার পর এই প্রস্তাবের ওপর ভোটের মাধ্যমে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আইনি সুযোগ নেই।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর স্পিকার দিনের পরবর্তী কার্যসূচি এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
সৌদি আরবে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের অব্যাহত হামলায় আবারও নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। এসব হামলায় বাংলাদেশি নাগরিক নিহত ও বেশ কয়েকজন হতাহতের ঘটনাও রয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নিন্দা জানানো হয়। দাম্মামের বাদশা ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশি আহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে সরকারের এই অবস্থান তুলে ধরে মন্ত্রণালয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি সরকার ও জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে।
গত বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় দাম্মামের বাদশা ফাহাদ বিমানবন্দরে হামলা হয়। হামলায় এক ভারতীয় ও একজন সৌদি নাগরিক নিহত হওয়ার খবর বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমে এসেছে।
আহতদের মধ্যে ২ বাংলাদেশি ছাড়াও দুই ভারতীয়, দুই ইয়েমেনি, এক সৌদি ও এক নেপালি নাগরিক রয়েছেন বলে সৌদি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা সঙ্কটজনক।
বাংলাদেশ সব ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। একইসঙ্গে সব ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ এবং কূটনীতির মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানেরও আহ্বান জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।
এর আগে গত ১০ অক্টোবর বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২ বাংলাদেশি নিহত হন। এর পরদিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে হামলার তীব্র নিন্দা জানায়।
ছবি : সংগৃহীত
আসছে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রা কমে ঢাকাসহ সারাদেশে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এরইমধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির শুক্রবার বলেন, “উত্তরের দিকে তাপমাত্রা কিছুটা কমছে। রংপুর বিভাগের কথা চিন্তা করলে তেঁতুলিয়ায় দিন ও রাতের তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রয়েছে। রাজারহাট ও দিনাজপুরেও তাপমাত্রা ২০ থেকে ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে আছে। রাজশাহী ও ঈশ্বরদীতেও তাপমাত্রা কমেছে।
“সামনের সপ্তাহে আবহাওয়ার বর্তমান ব্যবস্থাটি কেটে গেলে তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তখন ঢাকাসহ সারাদেশে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে।”
এদিকে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে তথ্য দিয়ে এই আবহাওয়াবিদ বলেন, “পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটি আরও ঘনীভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শনিবার এটি নিম্নচাপে এবং পরে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।
“এই মুহূর্তে এর কোনো প্রভাব আমাদের ওপর নেই। তবে ২৫ অক্টোবরের পর উপকূলীয় এলাকায় কিছুটা বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।”
আগামী কয়েক দিনের আবহাওয়া পরিস্থিতি সম্পর্কে তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, “আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় দেশে বৃষ্টিপাতের তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই। পুরো দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে।”
প্রতীকী ছবি
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গত একদিনে ডেঙ্গু নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ২৯৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু-বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) দুজন ও ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) একজনের মৃত্যু হয়েছে।
এতে চলতি বছর মশাবাহিত রোগটিতে এ পর্যন্ত মোট প্রাণহানি ৩৭১ জনে দাঁড়াল।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাহিরে) সবচেয়ে বেশি ২৭৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পাশাপাশি এই সময়ে বরিশাল বিভাগে ১৫৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২১৯, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১১৬, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩১, খুলনা বিভাগে ১৪৭, ময়মনসিংহ বিভাগে ১০০, রাজশাহী বিভাগে ১১৩ ও রংপুর বিভাগে ৩৮ ও সিলেট বিভাগে দুইজন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
সবমিলিয়ে চলতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে আজ শুক্রবার পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ৩৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনসহ শুধু ঢাকা বিভাগেই ডেঙ্গুতে ১৭৯ জন মারা গেছেন।
এ ছাড়া উল্লেখিত সময়ে খুলনা বিভাগে ৬৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩০ জন, বরিশাল বিভাগে ২৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৩ জন, রংপুরে ৭ জন ও সিলেট বিভাগে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রতীকী ছবি
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২১৪ জনে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।
বুলেটিনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেট বিভাগেই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ১৩৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৫৫৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১৯৪ জন, বরিশালে ১১৫ জন, সিলেটে ৯৪ জন, ময়মনসিংহে ৬৫ জন, খুলনায় ৬০ জন, রংপুরে ২৪ জন এবং রাজশাহীতে ২০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬৩৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ৮৬ হাজার ৭৯৮ জন।
এদিকে, ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৮৭০ জনে। তাদের মধ্যে ২৩ হাজার ২৭৩ জনের শরীরে হাম নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খানকে দেখে এলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বঙ্গভবন জানিয়েছে, শুক্রবার সকালে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে যান রাষ্ট্রপতি। তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর স্ত্রী অ্যাডভোকেট রোকসানা খন্দকার এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
এভারকেয়ার হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সাহাবুদ্দিন তালুকদারসহ চিকিৎসকরা আবদুল মঈন খানের সর্বশেষ অবস্থা রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।
গত বুধবার বুকে ব্যথা নিয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন মঈন খান। তিনি শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগে ভুগছেন। চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।
শাহজালাল বিমানবন্দরে যাত্রীরা (ফাইল ছবি)
৩৫ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠিয়েছে ইউরোপের কয়েকটি দেশ। এর মধ্যে ইতালি থেকে ১৯ জন, গ্রিস থেকে ১০ জন এবং সাইপ্রাস থেকে ছয়জন বাংলাদেশি দেশে ফিরছেন।
ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল সোয়া আটটায় একটি বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে (পিভিজি ৯৪৪৫) তারা ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
বিমানবন্দরে সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটি ও প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহযোগিতায় ফেরত আসা বাংলাদেশিদের জরুরি সহায়তা, কাউন্সেলিং এবং নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম। এ সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, একটি বিশেষ বিমানে করে ৩৫ বাংলাদেশি শুক্রবার সকালে ঢাকায় এসেছেন। এর মধ্যে ইতালি থেকে ১৯ জন, গ্রিস থেকে ১০ জন এবং সাইপ্রাস থেকে ছয়জন বাংলাদেশি দেশে ফিরছেন।
তাদের সবাইকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রত্যাশা-২ প্রকল্প থেকে বিমানবন্দরে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে কাউন্সিলিং ও প্রশিক্ষণ শেষে সবাইকে অর্থনৈতিক সহায়তা করা হবে।