ছবি: পিএসসি
সরকারি চাকরির নিয়োগবিধিতে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর বাড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি লিখিত পরীক্ষার পাস নম্বর কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত বিধিমালা এরই মধ্যে অনুমোদন করেছে প্রশাসনিক উন্নয়ন-সংক্রান্ত সচিব কমিটি। এখন সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। আর লিখিত পরীক্ষার পাস নম্বর ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমবে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সব চাকরিতে এক মানবণ্টনে পরীক্ষা হবে। এর মাধ্যমে নিয়োগ পরীক্ষায় ‘প্রক্সি’ ঠেকানো যাবে।
তবে বিরোধী দলের অভিযোগ, সরকারের পছন্দের প্রার্থীদের সুবিধা দিতে এমন পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এতে নিয়োগ দুর্নীতির পথ খুলবে। প্রস্তাবিত পদ্ধতির প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ জানিয়েছেন চাকরিপ্রত্যাশীরা। বিষয়টি গতকাল সংসদেও উঠেছে। তবে স্পিকার পয়েন্ট অব অর্ডার গ্রহণ করেননি। আলোচনা চেয়ে নোটিশ দিয়েছেন এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। সরকারি চাকরিতে প্রথম থেকে নবম গ্রেড পর্যন্ত নিয়োগ পরীক্ষা নেয় সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ১০-১৩ গ্রেডের নন-ক্যাডার পদে নিয়োগের সুপারিশ করে পিএসসি।
এর বাইরে মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, পরিদপ্তরসহ সরকারি সংস্থাগুলোর ১০ থেকে ২০ গ্রেডে নিয়োগ হয় সরাসরি। নিজেরা পরীক্ষা নিয়ে জনবল নিয়োগ দেয়। এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। নিম্ন গ্রেডের চাকরিতে একজনের লিখিত পরীক্ষা আরেকজনকে দেওয়ানোর মতো ঘটনা ধরা পড়েছে। এই যুক্তিতে সচিব কমিটি ভাইভার নম্বর বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সেনা, নৌ, বিমান, পুলিশ, বিজিবি, কোস্টগার্ড, আনসারের মতো শৃঙ্খলা বাহিনী বাদে সরকারি বাকি প্রতিষ্ঠানের ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিতে নিয়োগ পরীক্ষায় অভিন্ন নম্বর বণ্টন বিধিমালা করতে যাচ্ছে সরকার। গত রোববার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে ‘প্রশাসনিক উন্নয়ন-সংক্রান্ত সচিব কমিটির বৈঠকে মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ও এর আওতাধীন অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, দপ্তর এবং সংস্থাগুলোর ১১-২০তম গ্রেডে সরাসরি নিয়োগের জন্য পরীক্ষার মানবণ্টন (বিশেষ বিধান) বিধিমালা, ২০২৬-এর খসড়া অনুমোদন করা হয়।
প্রস্তাবিত বিধিমালায় ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। বর্তমানে মন্ত্রণালয়-বিভাগ, অধিদপ্তর-পরিদপ্তরসহ বিভিন্ন সংস্থার নিয়োগ পরীক্ষার নম্বর বণ্টন একেক রকম।
অধিদপ্তরে কী আছে, কী হতে যাচ্ছে
সংযুক্ত অধিদপ্তর, পরিদপ্তর এবং দপ্তরের কমন পদ নিয়োগ বিধিমালা, ২০১৯-এ ১১টি পদের জন্য নিয়োগের যোগ্যতা ও পরীক্ষার ধরন নির্ধারণ রয়েছে। এসব পদের ক্ষেত্রে লিখিত, মৌখিক এবং পদভেদে সাঁটলিপি ও কম্পিউটার মুদ্রাক্ষর পরীক্ষা নেওয়ার বিধান রয়েছে। এগুলো ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের পদ। বিধিমালার তপশিল-২ অনুযায়ী এই ১১টি পদে লিখিত পরীক্ষায় মোট ৭০ নম্বর এবং মৌখিক পরীক্ষায় ৩০ নম্বর রাখা হয়েছে। লিখিত পরীক্ষায় বাংলা ২০, ইংরেজি ২০, গণিত ১৫ এবং সাধারণ জ্ঞান ১৫ নম্বর। লিখিত পরীক্ষায় ন্যূনতম পাস নম্বর ৫০ শতাংশ এবং সময় ৯০ মিনিট। সব মিলিয়ে পরীক্ষা ১০০ নম্বরের। লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর ৫০ শতাংশ।
অনুমোদিত খসড়া বিধিমালা অনুযায়ী, ১১ থেকে ১২ গ্রেডের নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা হবে ১০০ নম্বরে। মৌখিক পরীক্ষা হবে ৫০ নম্বরে। ১৩ থেকে ১৬ গ্রেডে লিখিত পরীক্ষা হবে ৬০ নম্বরে। মৌখিক পরীক্ষা হবে ৪০ নম্বরে। ১৭ থেকে ২০ গ্রেডের লিখিত পরীক্ষা হবে ২৫ নম্বরে। মৌখিক পরীক্ষা হবে ২৫ নম্বরের। বর্তমানে ১১ থেকে ১৬তম গ্রেডের নিয়োগে লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর ৫০ শতাংশ। কমিটির অনুমোদিত খসড়ায় ১১ থেকে ১২ গ্রেডের ক্ষেত্রে তা কমিয়ে ৩৫ শতাংশ এবং ১৩ থেকে ১৬ গ্রেডের ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, মৌখিক পরীক্ষায় মুখে চিনে নম্বর দেওয়ার আশঙ্কা ও নজির রয়েছে। যেমন– ১১ থেকে ১২ গ্রেডের নিয়োগে একজন প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় ১০০ এর মধ্যে ৬০ পেল। আরেকজন ৪০ পেল। কিন্তু ‘বিশেষ কারণে’ যদি ৪০ পাওয়া প্রার্থীকে নিয়োগ নিতে চায় কর্তৃপক্ষ, সে ক্ষেত্রে তাঁকে মৌখিকে ৪০ নম্বর দিয়ে এগিয়ে দেওয়া হবে। লিখিত পরীক্ষায় ৬০ পাওয়া প্রার্থীকে মৌখিকে ১৯ দিয়ে পিছিয়ে দেওয়া হবে। তাই এই নম্বর বণ্টন গ্রহণযোগ্য নয়।
অধিদপ্তরে সাঁটলিপিকার ও সাঁটমুদ্রাক্ষরিকসহ সংশ্লিষ্ট পদে সাঁটলিপি ও কম্পিউটার মুদ্রাক্ষর পরীক্ষার জন্য আলাদা নম্বর ও গতি নির্ধারণ করা হয়েছে। সাঁটলিপিকার-কাম-কম্পিউটার অপারেটর পদের ক্ষেত্রে ইংরেজি সাঁটলিপিতে মিনিটে ৮০ শব্দ এবং বাংলায় ৫০ শব্দ লেখার গতি নির্ধারিত। উভয় পরীক্ষার মোট নম্বর ১০০ করে এবং ন্যূনতম পাস নম্বর ৮০ শতাংশ।
মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ পরীক্ষা
সচিবালয় (ক্যাডারবহির্ভূত গেজেটেড কর্মকর্তা এবং নন-গেজেটেড কর্মচারী) নিয়োগ বিধিমালা-২০১৪ অনুযায়ী মন্ত্রণালয় ও বিভাগে নিয়োগ হয়। বিধিমালার তপশিল অনুযায়ী, ১০ম গ্রেডের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বা প্রটোকল অফিসার পদে সরাসরি নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা হয় ২০০ নম্বরে। এর মধ্যে বাংলায় ৭৫, ইংরেজিতে ৭৫, গণিতে ২৫ এবং সাধারণ জ্ঞানে ২৫ নম্বর। লিখিত পরীক্ষায় ন্যূনতম পাস নম্বর ৫০ শতাংশ। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ২৫ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়।
অন্যদিকে ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর, অফিস সহকারী, অফিস সহকারী-কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, ইলেকট্রিশিয়ান ও প্লেইন পেপার কপিয়ার পদে সরাসরি নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা ১০০ নম্বরের। বাংলায় ৩০, ইংরেজিতে ৩০, গণিতে ২০ এবং সাধারণ জ্ঞানে ২০ নম্বর রাখা হয়েছে। লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর ৫০ শতাংশ। এর সঙ্গে ১০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা থাকায় মোট নম্বর ১১০। এগুলো ১০ থেকে ১৬ গ্রেডের পদ।
সচিব কমিটির অনুমোদিত খসড়া বিধিমালা অনুযায়ী, ১১ থেকে ১২ গ্রেডের নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা হবে ১০০ নম্বরে। মৌখিক পরীক্ষা হবে ৫০ নম্বরের। ১৩ থেকে ১৬ গ্রেডে লিখিত পরীক্ষা হবে ৬০ নম্বরে। মৌখিক পরীক্ষা হবে ৪০ নম্বরে।
মন্ত্রণালয়ে ১৭ থেকে ২০ গ্রেডের অফিস সহায়ক ও ডুপ্লিকেটিং মেশিন অপারেটর পদের সরাসরি নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত পরীক্ষা ৪০ নম্বরের—বাংলা ১৫, ইংরেজি ১৫ ও গণিত ১০ নম্বর। এর সঙ্গে ১০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা রয়েছে। সচিব কমিটির অনুমোদিত খসড়া বিধিমালা অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষা হবে ২৫ নম্বরে। মৌখিক পরীক্ষা হবে ২৫ নম্বরের।
অন্যান্য অধিদপ্তর, পরিদপ্তর ও দপ্তর তাদের নিজস্ব নিয়োগবিধি অনুযায়ী নিয়োগ পরীক্ষা নেয়। কিছু অধিদপ্তর, পরিদপ্তর ও দপ্তরে নিজস্ব নিয়োগবিধি থাকলেও এখনও নম্বর বণ্টন হয়নি। বিভাগীয় নিয়োগ বা পদোন্নতি কমিটি (ডিপিসি) পরীক্ষার আগে নম্বর নির্ধারণ করে। ফলে এসব দপ্তর নিয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে।
জানতে চাইলে সাবেক সচিব আব্দুল আওয়াল মজুমদার বলেন, নিয়োগ পরীক্ষার জন্য এমন বিশেষ মানবণ্টন বিধিমালা করা ভালো হবে না। কারণ, এতে সরকারের প্রতি মানুষের অনাস্থা ও অবিশ্বাস তৈরি হবে এবং বিতর্ক বাড়বে। দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির সুযোগ বাড়বে।
সরকার যা বলছে
নতুন বিধিমালায় কারিগরি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও পৃথক বিধান রাখা হয়েছে। কোনো প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে তাঁকে ব্যবহারিক পরীক্ষায়ও পাস করতে হবে। এতে উত্তীর্ণ হলে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হলে নিয়োগ হবে না।
মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বৃদ্ধি এবং লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর কমানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, ভালো মনে হয়েছে বলে সরকার বাস্তবায়ন করছে। নিয়োগের মানোন্নয়নের জন্য মৌখিক পরীক্ষায় বেশি নম্বর রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
মৌখিক পরীক্ষায় বেশি নম্বর রাখার ফলে লিখিত পরীক্ষায় বেশি নম্বর পাওয়া প্রার্থীকে পিছিয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়– সাংবাদিকের এমন যুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে উপদেষ্টা বলেন, ‘ভাইভা যেহেতু সাবজেক্টিভ, তাই সেখানে কারসাজি বা পছন্দের কাউকে সুবিধা দেওয়ার সুযোগ তুলনামূলকভাবে বেশি। এ বিষয়ে দ্বিমত করছি না।’
তাহলে কেন ভাইভায় নম্বর বাড়ানো হচ্ছে প্রশ্নে জাহেদ উর রহমান বলেন, চাকরির জন্য শুধু বইয়ের জ্ঞান যথেষ্ট নয়। একজন প্রার্থীর অন্যান্য যোগ্যতাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। কোনো নিয়োগে সুনির্দিষ্ট অনিয়ম বা অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গণমাধ্যমকে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
বিরোধিতা-বিক্ষোভ
গতকাল সংসদের বৈঠকে পয়েন্ট অব অর্ডারে পটুয়াখালী-২ আসনের জামায়াতদলীয় সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বৃদ্ধি এবং লিখিত পরীক্ষার পাস নম্বর কমানো মেধার পরিবর্তে কোটার দিকে ধাবিত হওয়া।
পছন্দের প্রার্থীকে ভাইভায় নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ায় দুর্নীতি হবে আশঙ্কা করে এই এমপি বলেন, প্রক্সি পরীক্ষা বা জালিয়াতি প্রতিরোধের যুক্তি দেখালেও এতে প্রশাসনের দুর্নীতি, অনিয়ম ও দলীয়করণের রাস্তা সুগম হবে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রুলিং দিয়ে বলেন, সংসদে চলমান নয়, এমন বিষয়ে পয়েন্ট অব অর্ডার হয় না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ভাইভার নম্বর বৃদ্ধিকে ‘নব্য কোটা’ আখ্যা দিয়ে মঙ্গলবার রাতে বিক্ষোভ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। ডাকসু ভিপি আবু সাদিক কায়েম এতে নেতৃত্ব দেন। ‘বেশি মার্ক ভাইভায়, দলের লোকে চাকরি পায়’, ‘নব্য কোটার নাম কী, ভাইভা ছাড়া আর কী?’ ‘বেশি মার্ক ভাইভায়, চাকরি হয় পয়সায়’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জানিয়েছেন, মৌখিক পরীক্ষায় নম্বর বাড়ানোর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
সৌদি আরবে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের অব্যাহত হামলায় আবারও নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। এসব হামলায় বাংলাদেশি নাগরিক নিহত ও বেশ কয়েকজন হতাহতের ঘটনাও রয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নিন্দা জানানো হয়। দাম্মামের বাদশা ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশি আহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে সরকারের এই অবস্থান তুলে ধরে মন্ত্রণালয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি সরকার ও জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে।
গত বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় দাম্মামের বাদশা ফাহাদ বিমানবন্দরে হামলা হয়। হামলায় এক ভারতীয় ও একজন সৌদি নাগরিক নিহত হওয়ার খবর বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমে এসেছে।
আহতদের মধ্যে ২ বাংলাদেশি ছাড়াও দুই ভারতীয়, দুই ইয়েমেনি, এক সৌদি ও এক নেপালি নাগরিক রয়েছেন বলে সৌদি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা সঙ্কটজনক।
বাংলাদেশ সব ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। একইসঙ্গে সব ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ এবং কূটনীতির মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানেরও আহ্বান জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।
এর আগে গত ১০ অক্টোবর বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২ বাংলাদেশি নিহত হন। এর পরদিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে হামলার তীব্র নিন্দা জানায়।
ছবি : সংগৃহীত
আসছে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রা কমে ঢাকাসহ সারাদেশে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এরইমধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির শুক্রবার বলেন, “উত্তরের দিকে তাপমাত্রা কিছুটা কমছে। রংপুর বিভাগের কথা চিন্তা করলে তেঁতুলিয়ায় দিন ও রাতের তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রয়েছে। রাজারহাট ও দিনাজপুরেও তাপমাত্রা ২০ থেকে ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে আছে। রাজশাহী ও ঈশ্বরদীতেও তাপমাত্রা কমেছে।
“সামনের সপ্তাহে আবহাওয়ার বর্তমান ব্যবস্থাটি কেটে গেলে তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তখন ঢাকাসহ সারাদেশে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে।”
এদিকে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে তথ্য দিয়ে এই আবহাওয়াবিদ বলেন, “পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটি আরও ঘনীভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শনিবার এটি নিম্নচাপে এবং পরে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।
“এই মুহূর্তে এর কোনো প্রভাব আমাদের ওপর নেই। তবে ২৫ অক্টোবরের পর উপকূলীয় এলাকায় কিছুটা বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।”
আগামী কয়েক দিনের আবহাওয়া পরিস্থিতি সম্পর্কে তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, “আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় দেশে বৃষ্টিপাতের তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই। পুরো দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে।”
প্রতীকী ছবি
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গত একদিনে ডেঙ্গু নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ২৯৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু-বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) দুজন ও ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) একজনের মৃত্যু হয়েছে।
এতে চলতি বছর মশাবাহিত রোগটিতে এ পর্যন্ত মোট প্রাণহানি ৩৭১ জনে দাঁড়াল।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাহিরে) সবচেয়ে বেশি ২৭৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পাশাপাশি এই সময়ে বরিশাল বিভাগে ১৫৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২১৯, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১১৬, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩১, খুলনা বিভাগে ১৪৭, ময়মনসিংহ বিভাগে ১০০, রাজশাহী বিভাগে ১১৩ ও রংপুর বিভাগে ৩৮ ও সিলেট বিভাগে দুইজন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
সবমিলিয়ে চলতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে আজ শুক্রবার পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ৩৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনসহ শুধু ঢাকা বিভাগেই ডেঙ্গুতে ১৭৯ জন মারা গেছেন।
এ ছাড়া উল্লেখিত সময়ে খুলনা বিভাগে ৬৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩০ জন, বরিশাল বিভাগে ২৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৩ জন, রংপুরে ৭ জন ও সিলেট বিভাগে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রতীকী ছবি
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২১৪ জনে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।
বুলেটিনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেট বিভাগেই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ১৩৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৫৫৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১৯৪ জন, বরিশালে ১১৫ জন, সিলেটে ৯৪ জন, ময়মনসিংহে ৬৫ জন, খুলনায় ৬০ জন, রংপুরে ২৪ জন এবং রাজশাহীতে ২০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬৩৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ৮৬ হাজার ৭৯৮ জন।
এদিকে, ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৮৭০ জনে। তাদের মধ্যে ২৩ হাজার ২৭৩ জনের শরীরে হাম নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খানকে দেখে এলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বঙ্গভবন জানিয়েছে, শুক্রবার সকালে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে যান রাষ্ট্রপতি। তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর স্ত্রী অ্যাডভোকেট রোকসানা খন্দকার এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
এভারকেয়ার হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সাহাবুদ্দিন তালুকদারসহ চিকিৎসকরা আবদুল মঈন খানের সর্বশেষ অবস্থা রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।
গত বুধবার বুকে ব্যথা নিয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন মঈন খান। তিনি শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগে ভুগছেন। চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।
শাহজালাল বিমানবন্দরে যাত্রীরা (ফাইল ছবি)
৩৫ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠিয়েছে ইউরোপের কয়েকটি দেশ। এর মধ্যে ইতালি থেকে ১৯ জন, গ্রিস থেকে ১০ জন এবং সাইপ্রাস থেকে ছয়জন বাংলাদেশি দেশে ফিরছেন।
ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল সোয়া আটটায় একটি বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে (পিভিজি ৯৪৪৫) তারা ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
বিমানবন্দরে সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটি ও প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহযোগিতায় ফেরত আসা বাংলাদেশিদের জরুরি সহায়তা, কাউন্সেলিং এবং নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম। এ সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, একটি বিশেষ বিমানে করে ৩৫ বাংলাদেশি শুক্রবার সকালে ঢাকায় এসেছেন। এর মধ্যে ইতালি থেকে ১৯ জন, গ্রিস থেকে ১০ জন এবং সাইপ্রাস থেকে ছয়জন বাংলাদেশি দেশে ফিরছেন।
তাদের সবাইকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রত্যাশা-২ প্রকল্প থেকে বিমানবন্দরে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে কাউন্সিলিং ও প্রশিক্ষণ শেষে সবাইকে অর্থনৈতিক সহায়তা করা হবে।