প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোববার চট্টগ্রামের বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। ছবি: পিএমও

  • প্রকাশ : রবিবার ০৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:১৪ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের ব্যাপারে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।


তিনি বলেন, ‘বিগত কিছুদিন ধরে কিছু মানুষ বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, যেন তারা কোনোভাবে বিশৃঙ্খলা বা বিভ্রান্তি সৃষ্টির সুযোগ না পায়। বিভ্রান্তকারীরা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে নিজেদের মতো চলে যাবে, কিন্তু দিনশেষে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের জনগণ।’


আজ রোববার চট্টগ্রামের বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে চট্টগ্রাম জেলার সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের লক্ষ্যে আয়োজিত ‘গৃহ হস্তান্তর, অনুদান ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


সংসদে সরকারের পরিকল্পনা উপস্থাপনের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সরকার জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎ, জ্বালানিসহ সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনা উপস্থাপন করবে। বিরোধী দল বা অন্য কারও যদি কোনো পরিকল্পনা থাকে, তা জনগণের সামনে উপস্থাপন করুন। কিন্তু বিভ্রান্তিকর কথা বলে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করবেন না এবং জনগণের শান্তি নষ্ট করবেন না। দেশ স্বাধীন হয়েছে ৫০ বছরের বেশি সময় আগে; এখন আর পেছনে তাকানোর সুযোগ নেই, এখন কাজ করার ও দেশ গড়ার সময়।’


দেশের প্রতিটি পরিবারের সার্বিক কল্যাণ ও সামাজিক সুরক্ষার কথা তুলে ধরে সরকার প্রধান বলেন, ‘জনগণ আমাদের নির্বাচিত করেছে, তাই সরকারের মূল দায়িত্ব হলো জনগণের পাশে থাকা। সুখে-দুঃখে দেশের মানুষের পাশে থাকা, মা-বোনদের পাশে থাকা, দেশের সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা করা, অসুস্থ মানুষদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং নারী-পুরুষ নির্বিশেষে তরুণ-যুব সমাজের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।’


তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই আমরা তার বাস্তবায়ন শুরু করেছি। ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রকল্পের কাজ সফলভাবে শেষ হয়েছে এবং চলতি মাসের ১৬ তারিখ থেকে মূল কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের প্রায় ৪১ লাখ পরিবারের প্রধান নারীদের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়া হবে। বাঁশখালী উপজেলাতেও প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবার এই সুবিধার আওতায় আসবে।’


প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘মা-বোনদের জন্য ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি কৃষকদের জন্যও চালু করা হচ্ছে কৃষক কার্ড, যা সাধারণ কৃষকের পাশাপাশি লবণ চাষীরাও পাবেন। লবণ চাষীদের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ফেরাতে লবণের নতুন মূল্য নির্ধারণের ঘোষণাও শিগগিরই দেওয়া হবে। যার ফলে লবণ চাষী ভাইদের আর আগের মতো কষ্ট পোহাতে হবে না।’


চট্টগ্রামকে অর্থনৈতিক করিডোর হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ সকালে আমি মাতারবাড়ীসহ চট্টগ্রামের মহেশখালী ও মীরসরাই অঞ্চল পরিদর্শন করেছি। বিশাল সমুদ্র আমাদের জাতীয় সম্পদ। চট্টগ্রাম অঞ্চলকে কেন্দ্র করে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা হচ্ছে। সম্প্রতি চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ অঞ্চলের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেখানে বহু শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে এবং হাজার হাজার যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।’


স্বাস্থ্যসেবা খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে উপজেলা পর্যায়ে থাকা ৫০ শয্যার হাসপাতালগুলোকে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে, যাতে তৃণমূলের মানুষ পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা পান।’


বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘বিগত স্বৈরাচার আমলে এই দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতকে হাতে গোনা কিছু ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল, যা এই দেশের মানুষের পক্ষে ছিল না। কিছু মানুষের সুবিধার জন্য অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা এই ব্যবস্থাকে জনগণের স্বার্থে পুনর্গঠন করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। আমরা এরই মধ্যে এই কাজ শুরু করেছি। ইনশাআল্লাহ, আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা কেমন হবে- সেই প্রস্তাবনা আমরা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করব।"


 হেফাজতের আমির বাবুনগরীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ


তিনি বলেন, আমরা এমন পরিকল্পনা নিচ্ছি, যাতে স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, মিল-কারখানা কিংবা বাসাবাড়ি- সব জায়গায় মানুষ যেন ঠিকভাবে বিদ্যুৎ পায়, এবং গাড়ি-মোটরসাইকেলসহ সবকিছুতে মানুষ যেন সহজে গ্যাস পেতে পারে।


সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে চট্টগ্রামের নেতৃত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্থানীয়দের ধৈর্য ধারণ ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আপনাদের চট্টগ্রাম থেকে আমরা দুইজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে সরকারের দুইটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছি- একটি অর্থ মন্ত্রণালয়, আরেকটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। যে অঞ্চলের দুইজন ব্যক্তি এত গুরুত্বপূর্ণ দু’টি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন, সেই এলাকার উন্নয়ন কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না, ইনশাআল্লাহ।’


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আর পিছনে পড়ে থাকা যাবে না। এখন একটি লক্ষ্য, একটি উদ্দেশ্য, তা হলো জনগণের জীবনমান উন্নত করা। দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করা। আমরা জনগণের জন্য যেসব পরিকল্পনা গ্রহন করেছি তাতে আপনাদের সমর্থন থাকতে হবে। কারণ আমরা সবসময় বলি, বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস হচ্ছে জনগণ। জনগণের সমর্থন থাকলে আমরা জনগণের স্বার্থে যতগুলো কর্মসূচি নিয়েছি সবগুলো বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হব।’


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি শ্রমিকের হাতকে কর্মশক্তিতে রূপান্তর করতে। যাতে করে প্রত্যেকটি মানুষ দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে, যাতে করে প্রত্যেকটি মানুষ পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের এবং পরিবারের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারে।’


তিনি বলেন, ‘আসুন আজকের এই জনসভায় আমরা সেই শপথ গ্রহণ করে প্রতিজ্ঞা করি যে বাংলাদেশের মানুষ আর বিভ্রান্ত হবে না। বাংলাদেশের মানুষ এখন সামনের দিকে যাবে বাংলাদেশের মানুষ নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন করবে।’


অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং ত্রাণ ও দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। এছাড়া বিএনপির ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।


‘গৃহ হস্তান্তর, অনুদান ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ’ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য নতুন বাসগৃহ নির্মাণ কর্মসূচির আওতায় বাঁশখালীর বাহারছড়া গ্রামের একটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে নতুন বাড়ির চাবি হস্তান্তর করেন।


নতুন বাড়ির আঙিনায় একটি মেহগনি গাছের চারাও রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ও হাঁস-মুরগি প্রদান করেন তিনি।



সর্বশেষ সব খবর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি

  • প্রকাশ : শনিবার ০৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:০৮ পিএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম সফরে যাচ্ছেন। এ সময় কক্সবাজার জেলাও সফর করবেন তিনি।


আগামীকাল (রোববার) সকালে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে করে প্রথমে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী যাবেন।


প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি আজ (শনিবার) বিকেলে এ কথা জানান।


প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সফরসূচি অনুযায়ী, কাল সকাল সাড়ে ১০টায় মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) কার্যক্রম পরিদর্শনের কথা রয়েছে তাঁর।


এরপর সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বাহারছড়া ইউনিয়নের পশ্চিম বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তারেক রহমান।


দুপুর দেড়টার দিকে ফটিকছড়ি উপজেলার পেহেলগাজী দিঘির মাঠে অবতরণ করে আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। সেখানে আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এরপর মরহুম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করবেন তিনি।


সফরসূচি অনুযায়ী বিকেল পৌনে ৪টায় হাটহাজারী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোতে বিরতি নেবেন তারেক রহমান। এরপর সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বিকেল ৫টায় হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।


সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু হোটেলের অডিটরিয়ামে আয়োজিত সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।


দিনের কর্মসূচি শেষে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। রাতে রাজধানীতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।

সর্বশেষ সব খবর

ড্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চিকিৎসক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : শনিবার ০৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:২৬ পিএম

সরকার জ্বালানি খাতের সংকট মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘আগের অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তের কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সংকট তৈরি হয়েছে। বর্তমান সরকার দেশ ও দেশের মানুষকে এই সংকট থেকে রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।’


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্র, রাজনীতি ও প্রশাসনে ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগীরা বসে নেই। এই চক্র কৌশলে দেশের জ্বালানি বা বিদ্যুৎ খাতকে অস্থিতিশীল করতে বেশ সক্রিয় রয়েছে। তারা বিভিন্নভাবে সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ খাত নিয়ে তারা নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে।’


শনিবার (৮ আগস্ট) জাতীয় সংসদের এলডি হলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।


এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হল প্রাঙ্গণে নিম ও অর্জুন গাছের চারা রোপণ করেন। প্রধানমন্ত্রী পরে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে চিকিৎসক সমাবেশের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।


সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার অস্বীকার করেনি যে বর্তমানে দেশের মানুষ বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকটে রয়েছে। কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দিতে পূর্বে যে অপরিকল্পিত উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল, তার খেসারত এখন দেশ, দেশের মানুষ ও সরকারকে দিতে হচ্ছে।’


তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অবস্থায় দেশকে পেয়েছে। নানা সংকট কাটিয়ে সেই অবস্থা থেকে উত্তরণে ইতোমধ্যে আমরা নানা কাজ শুরু করেছি। পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে যেন গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানি সংকট থেকে মানুষকে ধীরে ধীরে বের করে আনা যায়।’


এর আগে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ও মোনাজাতের মাধ্যমে চিকিৎসক সমাবেশ শুরু হয়। এ সমাবেশে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ড্যাবের নেতাকর্মী ও চিকিৎসকেরা অংশ নেন।


ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, ড্যাব মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল প্রমুখ।

সর্বশেষ সব খবর

সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলা

  • প্রকাশ : শনিবার ০৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:৫৮ পিএম

কুমিল্লার সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিতের পর গ্রেপ্তার অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য হাফিজুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।


আজ শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল আটটার দিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে হাজির করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত -৫ এর বিচারক তৈয়ব উদ্দিন এই নির্দেশ দেন। আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিলেও তিনি তা পালন করেননি।


সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানছবি: সংগৃহীত


বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম।


তিনি বলেন, ‘আসামি যাতে পালিয়ে যেতে না পারেন, সেই উদ্দেশ্যে ও আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে তার নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে নিয়ম অনুযায়ী তাকে আদালতে হাজির করলে বিচারে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।


দুপুরে পিবিআই রাজধানীর দক্ষিণ কল্যাণপুরের (অর্গানাইজড ক্রাইম-উত্তর) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও হাফিজুর রহমানকে আবার গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানানো হয়েছে।


তনু হত্যা মামলা : ১০ বছর পর প্রথম গ্রেপ্তার


এর আগে গত ২ আগস্ট হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর ৪ আগস্ট কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান হাফিজুর রহমান। পরে ওই জামিনাদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিল করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৬ আগস্ট আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালত হাইকোর্টের দেয়া জামিন ৯ আগস্ট পর্যন্ত স্থগিত করেন। একই সঙ্গে হাফিজুর রহমানকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়া হয় এবং আত্মসমর্পণ না করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন আদালত।


তবে আদালতের দেয়া নির্ধারিত সময় অর্থাৎ গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত হাফিজুর রহমান আত্মসমর্পণ করেননি বলে জানান কুমিল্লা আদালত পুলিশের পরিদর্শক সাদেকুর রহমান ও কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শাহ আলম খান।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২ আগস্ট হাইকোর্ট থেকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান হাফিজুর রহমান। পরে ৪ আগস্ট সন্ধ্যা সাতটায় কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান। গত বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করে।


ওই দিন সন্ধ্যা ছয়টার দিকে চেম্বার আদালতের বিশেষ অনুমতি নিয়ে আবেদনটি মুভ (পরিচালনা) করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। পরে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক জামিন স্থগিত করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন।


রিমান্ড শেষে কারাগারে তনু হত্যা মামলার আসামি


হাফিজুর রহমান সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার। চলতি বছরের ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জের বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। পরদিন তাঁর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পর আদালতে হাজির করা হলে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ২৫ এপ্রিল তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। তনু হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন। ৪ আগস্ট জামিনে মুক্তির আগপর্যন্ত তিনি কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলেন।


উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু। ওই রাতেই সেনানিবাসের পাওয়ার হাউস সংলগ্ন ঝোপ থেকে তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটির তদন্তের একপর্যায়ে গত ২১ এপ্রিল রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে প্রথমবার হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছিল পিবিআই।


২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি সোহাগী জাহান তনু। পরে খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে ঝোপের মধ্যে তনুর লাশ পাওয়া যায়। তাঁকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়। পরদিন তাঁর বাবা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। ২০১৬ সালের ৪ এপ্রিল ও ১২ জুন দুই দফা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে তনুর মৃত্যুর কারণ খুঁজে না পাওয়ার তথ্য জানায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ।


এই হত্যাকাণ্ডের শেষ ভরসা ছিল ডিএনএ প্রতিবেদন। ২০১৭ সালের মে মাসে সিআইডি তনুর পোশাক থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে তিনজন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়ার কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল। এ ছাড়া তনুর মায়ের সন্দেহ করা তিনজনকে ২০১৭ সালের ২৫ থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত সিআইডির একটি দল ঢাকা সেনানিবাসে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। তবে ওই সময়ে তাঁদের নাম গণমাধ্যমকে জানায়নি সিআইডি।


চলতি বছরের মে মাসে পিবিআই জানায়, তনুর পোশাক থেকে পাওয়া নমুনায় আরেকজনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এ নিয়ে ডিএনএ পরীক্ষায় তনুর পোশাকে চারজনের নমুনা মিলেছে। আগের তিনজনের শুক্রাণু পাওয়ার তথ্য সামনে এলেও নতুন করে তথ্য আসা ব্যক্তির রক্তের নমুনা মিলেছে তনুর পোশাকে।


কিশোরী মায়ের জিম্মায় শিশু, ফেসবুক-টিকটক থেকে বিরত থাকার পরামর্শ


সর্বশেষ সব খবর

গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও গুরুতর আহত ১০ ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ০৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:২৮ পিএম

সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে দেশের মানুষের আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য ছিল একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে মানুষ আরও ভালোভাবে বসবাস করতে পারবে।


শনিবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও গুরুতর আহত ১০ ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে উপস্থিত আপনারা কেউ জুলাইয়ের আন্দোলনে সরাসরি অংশ নিয়েছেন, আবার কারও আপনজন এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। আপনাদের নিজেদের বা আপনজনদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজ বাংলাদেশের মানুষ একটি মুক্ত পরিবেশে থাকতে পারছে।’


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মানুষের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এসব আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে দেশের মানুষ আরও ভালোভাবে বসবাস করতে পারবে।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যাঁদের আমরা হারিয়েছি, যাঁরা শারীরিকভাবে আহত হয়েছেন কিংবা অন্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের সবার আত্মত্যাগের পেছনে একটি আকাক্সক্ষা ছিল; সেটি হলো বাংলাদেশকে আরও ভালো করা।’


প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্র ও সরকারের নানা সীমাবদ্ধতার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সীমাবদ্ধতার মধ্যেও দেশকে বাস্তবতার নিরিখে এগিয়ে নিতে হবে।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কী পেলাম, সেটিই সবচেয়ে বড় কথা নয়। বরং আমরা দেশকে কী দিতে পারলাম, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। এই লক্ষ্য সামনে রেখে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে পারলে আগামী দিনে আমরা যে বাংলাদেশ চাই, সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’


প্রধানমন্ত্রী জানান, জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়নের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।


অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও গুরুতর আহত ১০ ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের চাকরির নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শহীদ মো. সোহাগের স্ত্রী সাবিনা আক্তার রিমা, শহীদ মো. শাহরিয়ারের স্ত্রী রাজিয়া খাতুন, শহীদ মো. আব্দুল্লাহ কবিরের স্ত্রী আফসানা আক্তার, শহীদ মো. মোস্তফা কামাল রাজুর স্ত্রী আকলিমা আক্তার, শহীদ মো. জুয়েলের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সুবর্ণা, শহীদ মিরাজের বোন সামিয়া ইসলাম পপি, শহীদ আহসান কবিরের স্ত্রী হাফিজা আক্তার হ্যাপি এবং শহীদ ওমর নুরুল আবছারের স্ত্রী ফারজানা আক্তার রাণী।


এ ছাড়া গুরুতর আহত মো. আব্দুল মতিনের স্ত্রী সাবানা আক্তার এবং গুরুতর আহত মো. জুলফিকার আলমের স্ত্রী মোছা. আরজু আক্তার নিয়োগপত্র পেয়েছেন।


সম্প্রতি চাকরিতে যোগ দিয়ে শহীদ আব্দুল্লাহ বীন জাহিদের মা ফাতেমা তুজ জোহরা ও আহত জুলাই যোদ্ধা সোহেলি তামান্না। অনুষ্ঠানে এসে তারাও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন। অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত জুলাই যোদ্ধারা চাকরি নিয়োগপত্র পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:২২ পিএম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশ ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। সম্প্রতি ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক তথ্য ছড়ানোর বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।


শুক্রবার (৭ আগস্ট) সন্ধ্যায়  বাংলাদেশ পুলিশের ফেসবুক পেইজে এসব জানানো হয়।


বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছে, একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য ছড়িয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সংস্থাটি।


পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অপপ্রচারের পেছনে পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি ও তাদের দেশি-বিদেশি সহযোগীরা জড়িত থাকতে পারে। তারা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করা, পুলিশ বাহিনীর মনোবল দুর্বল করা এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


এছাড়া, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অনৈতিক তদবির উপেক্ষা করায় অসন্তুষ্ট একটি মহল এ ধরনের অপপ্রচারে জড়িয়েছে বলেও দাবি করেছে পুলিশ। অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ফৌজদারি অপরাধে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এবং অর্থ দাবির তথ্য-প্রমাণ থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।


বাংলাদেশ পুলিশ জনগণকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভ্রান্তিকর তথ্য বিশ্বাস, শেয়ার বা প্রচার করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গুজব প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা রাখার জন্যও অনুরোধ করা হয়েছে।


পুলিশ সতর্ক করে বলেছে, ভবিষ্যতেও এ ধরনের অপপ্রচার অব্যাহত থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, জনগণের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক বজায় রেখে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বাহিনী পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে তারা।


সর্বশেষ সব খবর

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। ছবিঃ সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:৩৭ এএম

দেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে ভিআইপি এবং সিআইপিসহ সবার জন্য সমান নিরাপত্তা প্রটোকল বাস্তবায়নের নির্দেশনা এসেছে। পুনর্গঠিত ‘জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটি’র প্রথম সভা থেকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট) রাজধানীর কুর্মিটোলায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদরদপ্তরে ওই সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম।


সভায় আফরোজা খানম বলেন, ‘ভিআইপি এবং সিআইপিসহ সবার জন্যই নিরাপত্তা প্রোটোকল সমান। তাই বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সবাইকে সমানভাবে প্রোটোকল অনুসরণ করতে হবে। আমাদের অগ্রাধিকার হলো যাত্রীসেবা নিশ্চিত করা। তাই প্রবাসী ভাইদের জন্য উন্নত যাত্রীসেবা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’


এসময় দেশের বিমান খাতে নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ও সমন্বয়কারী কমিটির ১৩তম সভার সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন তিনি।


সভায় কমিটির সহসভাপতি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘বিমানবন্দর এলাকায় ড্রোনের উড্ডয়ন বন্ধে এন্টি ড্রোন সিস্টেম স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তাছাড়া নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি ও স্ক্যানার প্রয়োজনীয় সংখ্যার তুলনায় বেশি থাকতে হবে।’


সভায় উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিমানবন্দরে আইনের ব্যত্যয় হলে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।’


ওই সভা সূত্র জানায়, প্রায় ৩ বছর পর অনুষ্ঠিত ওই সভায় দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, সমন্বিত ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডসম্মত করতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে তথ্য বিনিময় ও সমন্বয় জোরদার, জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ, বিমানবন্দরে আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি সংযোজন, বিদ্যমান নিরাপত্তা নীতিমালা পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।


এ ছাড়া সভায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবেশপথে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার, বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে স্থাপিত গাড়ি স্ক্যানিং সিস্টেমকে আরও কার্যকর, দেশের সব বেসামরিক বিমানবন্দরে আকস্মিক কোনো ঘটনা ঘটলে ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।


ওই সভা থেকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ল্যান্ডসাইড এলাকায় ট্রাফিক জট, অনিয়ন্ত্রিত লোকসমাগম, ভিক্ষুকের উপদ্রব এবং অবৈধ লাগেজ র‌্যাপিং কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে বেবিচক, এপিবিএন, পুলিশ, আনসার ও এয়ারপোর্ট ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়।


যাত্রীসেবা, শৃঙ্খলা ও বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা আরও উন্নত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নিতেও সভা থেকে সুপারিশ করা হয়।

সর্বশেষ সব খবর