ছবি : সংগৃহীত
আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে প্রকৃত অর্থেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এটিই প্রথম এমন নির্বাচন এবং দেশের ইতিহাসে প্রথমবার ব্যালটে থাকছে না আওয়ামী লীগ।
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন যে গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন, তা শুধু শাসকই বদল করেনি; বরং দেশের পুরো রাজনৈতিক মানচিত্রই বদলে দিয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট থেকে শুরু করে ইনোভিশন কনসাল্টিংয়ের মতো সাতটি প্রধান জাতীয় জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের পূর্বাভাস বলছে, অত্যাসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান ও অনিশ্চয়তা অনেকের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি।
জরিপগুলোর তথ্য কী বলছে, কী আড়াল করছে এবং বাংলাদেশের ‘ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট’ (এমন এক নির্বাচনী ব্যবস্থা, যেখানে যে প্রার্থী সবচেয়ে বেশি ভোট পান, তিনিই জয়ী হন। ভোটের ব্যবধান যা-ই হোক) নির্বাচনী ব্যবস্থা কেন সামান্য ভোটের ব্যবধানকেও আসনের বড় ব্যবধানে রূপান্তর করবে; সেটির একটি বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো-
জরিপ ও তথ্যের ব্যবধান
হাসিনা সরকারের পতনের পর পরিচালিত প্রতিটি জরিপেই জামায়াতে ইসলামীর চেয়ে বিএনপিকে এগিয়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে এ ব্যবধানের মাত্রা একেক জরিপে একেক রকম, যেমন ন্যারেটিভ/ আইআইএলডির জরিপে দুই দলের ব্যবধান মাত্র ১ দশমিক ১ শতাংশ, আবার ইনোভিশনের সর্বশেষ প্যানেল স্টাডিতে বিএনপি ২১ দশমিক ৮ পয়েন্টে এগিয়ে।
জরিপের এই ভিন্নতা এলোমেলো কোনো বিষয় নয়। এটি মূলত ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতির ফলাফল। ২৯৫টি আসনের ২২ হাজার ১৭৪ জন উত্তরদাতার ওপর করা ন্যারেটিভ কনসোর্টিয়ামের জরিপটি একটি নির্দিষ্ট সময়ের চিত্র তুলে ধরেছে।
অন্যদিকে ইনোভিশন আগে সাক্ষাৎকার নেওয়া ৫ হাজার ১৪৭ জনের সঙ্গে আবার যোগাযোগ করেছে। ফলে সময়ের সঙ্গে জনমতের প্রকৃত পরিবর্তন বোঝার ক্ষেত্রে এটি ছিল একমাত্র নির্ভরযোগ্য পন্থা।
আওয়ামী লীগের বিরাট ভোটব্যাংক
এ নির্বাচনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, আওয়ামী লীগের ভোট। দলটি নিয়মিতভাবে মোট ভোটের ৩৫ থেকে ৪৮ শতাংশ পেয়ে আসছিল। এখন দলটির কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় প্রায় ৪ কোটি ভোটারকে নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজতে হচ্ছে। সিআরএফ/ বিইপিওএস জরিপ অনুযায়ী, এই ভোটারের প্রায় অর্ধেকই বিএনপির দিকে যাচ্ছে। রাজনৈতিক শক্তির এই বিশাল কাঠামোগত স্থানান্তরই বিএনপিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা এনে দিতে পারে।
তবে জামায়াতও এ ভোটব্যাংকের দ্বিতীয় সুবিধাভোগী। আওয়ামী লীগকে আগে যাঁরা ভোট দিতেন; তাঁদের প্রায় ৩০ শতাংশ বলছেন, তাঁরা একটি ইসলামপন্থী দলকে ভোট দেবেন। ইসলামপন্থী দলটিকে শেখ হাসিনার আমলে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল এবং তাঁদের শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি দেওয়া ও গুম করা হয়েছিল। ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান এর দুটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। প্রথমত, স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের প্রতি বিএনপির কঠোর আচরণের কারণে তাঁরা জামায়াতকে ‘মন্দের ভালো’ হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। দ্বিতীয়ত, কিছু আওয়ামী ভোটার হয়তো জামায়াতকে বেছে নিচ্ছেন হাসিনার সেই দাবিকে প্রমাণ করতে যে তিনি ছাড়া বাংলাদেশ একটি মৌলবাদী রাষ্ট্রে পরিণত হবে।
এফপিটিপি নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রভাব
বাংলাদেশের ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট (এফপিটিপি) নির্বাচনী ব্যবস্থা বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম ভারসাম্যহীন ব্যবস্থা। এখানে ৩০০টি একক নির্বাচনী এলাকায় যে প্রার্থী সবচেয়ে বেশি ভোট পান, তিনিই জয়ী হন। এ ব্যবস্থা দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা দলকে কঠোরভাবে ‘শাস্তি’ দেয় এবং সুনির্দিষ্ট এলাকায় কেন্দ্রীভূত সমর্থনের চেয়ে দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সমর্থনকে বেশি পুরস্কৃত করে।
২০২৬ সালের নির্বাচনের জন্য এর প্রভাব হবে অত্যন্ত প্রকট। ন্যারেটিভ জরিপের দাবি অনুযায়ী, যদি জাতীয়ভাবে জামায়াত বিএনপির চেয়ে মাত্র ৩-৫ শতাংশ ভোটে পিছিয়েও থাকে, তবু নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে আসনের ব্যবধান ৬০ থেকে ১০০ পর্যন্ত হতে পারে।
জামায়াতের ভোট মূলত উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নির্দিষ্ট ঘাঁটিতে কেন্দ্রীভূত। অন্যদিকে বিএনপির সমর্থন সারা দেশে সুষমভাবে ছড়িয়ে আছে; যা এফপিটিপি নির্বাচনী ব্যবস্থায় আসন জয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সুবিধা।
জামায়াত কখনো সংসদে ১৮টির বেশি আসন পায়নি এবং তাদের ভোটের হার ১২ শতাংশ অতিক্রম করেনি। তাই বর্তমান জরিপগুলোতে তাদের ২৯-৩৪ শতাংশ সমর্থনের যে দাবি করা হচ্ছে, তা এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর অর্থ হলো, হয় বাংলাদেশে কোনো প্রকৃত ‘রাজনৈতিক ভূমিকম্প’ ঘটছে অথবা কিছু জরিপে জামায়াতের সমর্থনকে বাড়িয়ে দেখানো হচ্ছে।
ফলাফল নির্ধারণ করবে তিন সমীকরণ
১. বিদ্রোহী প্রার্থী
বর্তমানে বিএনপির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো, দলটির অভ্যন্তরীণ কোন্দল। দলের মনোনয়ন না পেয়ে ৯২ জন নেতা ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় স্বতন্ত্র বা ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই সাবেক সংসদ সদস্য বা জেলা পর্যায়ের জ্যেষ্ঠ নেতা।
অন্তত ৪৬টি আসনে এই বিদ্রোহীদের শক্তিশালী নিজস্ব ভোটব্যাংক রয়েছে। নির্বাচনী পাটিগণিত খুব সহজ—যেখানে লড়াই শুধু বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে; সেখানে বিএনপি অনায়াসে জিতবে। কিন্তু যেখানে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ভোট ভাগ করবেন, সেখানে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সুযোগে মাত্র ৩৫ শতাংশ ভোট পেলেই জামায়াত জয়ী হতে পারে। গাণিতিক মডেল বলছে, এ বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে বিএনপি ১৫ থেকে ৩০টি আসন হারাতে পারে।
২. তরুণ ভোটারের উপস্থিতি
জামায়াতের ছাত্রসংগঠন দেশের প্রধান চারটি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে। প্রথমবার ভোট দেবেন, এমন তরুণদের মধ্যে ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশের পছন্দ জামায়াত। বর্তমানে মোট ভোটারের ৪৪ শতাংশই জেন-জি বা তরুণ প্রজন্ম; সংখ্যায় যা প্রায় ৫ কোটি ৬০ লাখ। যদি তরুণদের ভোট দেওয়ার হার জাতীয় গড়ের চেয়ে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বেশি হয়, তবে জামায়াতের আসনসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। আর এই তরুণ ভোটাররা যদি ভোটকেন্দ্রে না আসেন, তবে দলটির আসনসংখ্যা বড় ব্যবধানে কমে যাবে।
৩. অনিশ্চিত বা দোদুল্যমান ভোটার
প্রতিটি জরিপেই দেখা গেছে, ১৫ থেকে ৩৫ শতাংশ উত্তরদাতা এখনো সিদ্ধান্ত নেননি কিংবা তাঁদের পছন্দের কথা প্রকাশ করতে রাজি হননি। ন্যারেটিভের জরিপে ১৭ শতাংশ ভোটার এখনো দোদুল্যমান। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, তাঁরা কোনো রাজনৈতিক দলকে বিশ্বাস করেন না। এই ভোটাররাই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা। তাঁরা যদি সব দলের মধ্যে সমানভাবে ভাগ হয়ে যান, তবে বিএনপির বর্তমান লিড বজায় থাকবে। কিন্তু তাঁরা যদি ২:১ অনুপাতে জামায়াতের দিকে ঝুঁকে পড়েন, তবে ভোটের লড়াই তীব্র হয়ে উঠবে নাটকীয়ভাবে।
আসন পূর্বাভাস
—সংসদের আসন: ৩০০
—একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা: ১৫১
—বিএনপি ও জোট: ১৫৫–২১৫
—জামায়াত ও এনসিপি: ৫৫–১১০
—জাতীয় পার্টি: ৫–১৮
—ইসলামী আন্দোলন: ২–১০
—অন্যান্য/স্বতন্ত্র: ১০–৩৫
ভোটের গড় হার, ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট মডেল এবং বিদ্রোহী প্রার্থী ও ভোটার উপস্থিতির প্রভাব সমন্বয় করে এ পূর্বাভাস তৈরি করা হয়েছে।
সবচেয়ে সম্ভাব্য আসনসংখ্যা (কেন্দ্রীয় প্রাক্কলন)
—বিএনপি ও জোট: ১৮৫
—জামায়াত ও এনসিপি: ৮০
—জাতীয় পার্টি: ১০
—ইসলামী আন্দোলন: ৫
—অন্যান্য/ স্বতন্ত্র: ২০
সম্ভাব্য চারটি চিত্র
১. বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (সম্ভাবনা ৫০%)
এ সমীকরণে বড় জনসমর্থন নিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন। এখানে মূলত ইনোভিশনের প্যানেল ডেটা বা জরিপের তথ্যের প্রতিফলন ঘটবে। ভোটার উপস্থিতি ৭০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে এবং বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর সৃষ্ট আবেগ দোদুল্যমান ভোটারদের বিএনপির পক্ষে টানবে। পূর্বাভাস: বিএনপি ১৮৫-২১৫ আসন। জামায়াত ৫৫-৮০ আসন।
২. বিএনপির সামান্য ব্যবধানে জয় (সম্ভাবনা ২০%)
বিদ্রোহী প্রার্থী এবং তৃণমূল পর্যায়ে জামায়াতের শক্তিশালী প্রচারের কারণে ৩০ থেকে ৪০ আসনে বিএনপির জয়ের সম্ভাবনা কমবে। তারা সরকার গঠন করবে ঠিক, তবে হাতে খুব বেশি বাড়তি আসন থাকবে না। ফলে সরকার পরিচালনায় জোটসঙ্গীদের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে। পূর্বাভাস: বিএনপি ১৫৫-১৮৫ আসন। জামায়াত ৮০-১০০ আসন।
৩. ঝুলন্ত সংসদ (সম্ভাবনা ২০%)
যদি ন্যারেটিভ/ আইআইএলডির জরিপ সঠিক হয়, তবে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা এখানে দলটির সর্বোচ্চ ক্ষতি করবেন এবং তরুণ ভোটারদের মধ্যে জামায়াতের জোয়ার বাস্তবে রূপ নেবে। কোনো জোটই সরকার গঠনের মতো প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। ফলে শুরু হবে জোট গঠনের দর–কষাকষি ও রাজনীতি। পূর্বাভাস: বিএনপি ১৩০-১৫৫ আসন। জামায়াত ৯০-১১০ আসন।
৪. জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের জয় (সম্ভাবনা ১০%)
সবকিছু যদি জামায়াতের অনুকূলে যায়, তবেই এমনটি ঘটা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি ব্যাপক বাড়বে, ৫০টির বেশি আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীরা বিএনপির ভোট ব্যাপকভাবে ভাগ করবেন এবং আওয়ামী লীগের সাবেক ভোটাররা কেন্দ্রে যাবেন না; যদিও এটি ঐতিহাসিকভাবে নজিরবিহীন। তবে এবারের নির্বাচন যেকোনো নজিরবিহীন ঘটনার জন্য প্রস্তুত। পূর্বাভাস: বিএনপি<১৩০ আসন। জামায়াত ১৩০+ আসন।
শেষ কথা
আমাদের (দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়াল কর্তৃপক্ষের) মূল পূর্বাভাস বলছে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে দেশের পরবর্তী সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী তাদের ইতিহাসের সেরা ফলাফল অর্জন করতে পারে।
তাদের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা হতে পারে ৬০ থেকে ১০০টি। এর মাধ্যমে দলটি নিজেকে দেশের প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে; যা আগামী এক প্রজন্মের জন্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্রকে নতুন করে বদলে দেবে।
তবে নির্বাচনের গভীর অনিশ্চয়তা কে জিতবে তা নিয়ে নয়; বরং জয়ের ব্যবধান কতটা হবে, তা নিয়ে। বিএনপির ২১০-এর বেশি আসনের নিরঙ্কুশ সমর্থন আর ১৫৫ আসনের নড়বড়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতার মধ্যবর্তী ব্যবধানটুকুই হলো বিশ্লেষণের প্রকৃত ক্ষেত্র। আর এটি নির্ধারিত হবে মূলত তিন নিয়ামকের ওপর; যা কোনো জরিপেই পুরোপুরি ধরা সম্ভব নয়।
এ নিয়ামক হলো-১৭ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, বিএনপির ৯২ জন বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রভাব ও জামায়াতের একনিষ্ঠ তরুণ ভোটাররা শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রে উপস্থিত হন কি না, সেই বিষয়।
বাংলাদেশের ১২ কোটি ৮০ লাখ ভোটার এমন এক রায় দিতে যাচ্ছেন; যা আগামী এক প্রজন্মের জন্য দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিকে প্রভাবিত করবে। তথ্য-উপাত্ত বলছে, পাল্লা বিএনপির দিকেই ভারী। তবে এ তথ্য-উপাত্ত একই সঙ্গে এ-ও বলছে, যেকোনো অভাবনীয় পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকুন।
প্রতীকী ছবি
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গত একদিনে ডেঙ্গু নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ২৯৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু-বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) দুজন ও ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) একজনের মৃত্যু হয়েছে।
এতে চলতি বছর মশাবাহিত রোগটিতে এ পর্যন্ত মোট প্রাণহানি ৩৭১ জনে দাঁড়াল।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাহিরে) সবচেয়ে বেশি ২৭৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পাশাপাশি এই সময়ে বরিশাল বিভাগে ১৫৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২১৯, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১১৬, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩১, খুলনা বিভাগে ১৪৭, ময়মনসিংহ বিভাগে ১০০, রাজশাহী বিভাগে ১১৩ ও রংপুর বিভাগে ৩৮ ও সিলেট বিভাগে দুইজন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
সবমিলিয়ে চলতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে আজ শুক্রবার পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ৩৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনসহ শুধু ঢাকা বিভাগেই ডেঙ্গুতে ১৭৯ জন মারা গেছেন।
এ ছাড়া উল্লেখিত সময়ে খুলনা বিভাগে ৬৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩০ জন, বরিশাল বিভাগে ২৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৩ জন, রংপুরে ৭ জন ও সিলেট বিভাগে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রতীকী ছবি
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২১৪ জনে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।
বুলেটিনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেট বিভাগেই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ১৩৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৫৫৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১৯৪ জন, বরিশালে ১১৫ জন, সিলেটে ৯৪ জন, ময়মনসিংহে ৬৫ জন, খুলনায় ৬০ জন, রংপুরে ২৪ জন এবং রাজশাহীতে ২০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬৩৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ৮৬ হাজার ৭৯৮ জন।
এদিকে, ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৮৭০ জনে। তাদের মধ্যে ২৩ হাজার ২৭৩ জনের শরীরে হাম নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খানকে দেখে এলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বঙ্গভবন জানিয়েছে, শুক্রবার সকালে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে যান রাষ্ট্রপতি। তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর স্ত্রী অ্যাডভোকেট রোকসানা খন্দকার এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
এভারকেয়ার হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সাহাবুদ্দিন তালুকদারসহ চিকিৎসকরা আবদুল মঈন খানের সর্বশেষ অবস্থা রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।
গত বুধবার বুকে ব্যথা নিয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন মঈন খান। তিনি শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগে ভুগছেন। চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।
শাহজালাল বিমানবন্দরে যাত্রীরা (ফাইল ছবি)
৩৫ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠিয়েছে ইউরোপের কয়েকটি দেশ। এর মধ্যে ইতালি থেকে ১৯ জন, গ্রিস থেকে ১০ জন এবং সাইপ্রাস থেকে ছয়জন বাংলাদেশি দেশে ফিরছেন।
ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল সোয়া আটটায় একটি বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে (পিভিজি ৯৪৪৫) তারা ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
বিমানবন্দরে সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটি ও প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহযোগিতায় ফেরত আসা বাংলাদেশিদের জরুরি সহায়তা, কাউন্সেলিং এবং নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম। এ সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, একটি বিশেষ বিমানে করে ৩৫ বাংলাদেশি শুক্রবার সকালে ঢাকায় এসেছেন। এর মধ্যে ইতালি থেকে ১৯ জন, গ্রিস থেকে ১০ জন এবং সাইপ্রাস থেকে ছয়জন বাংলাদেশি দেশে ফিরছেন।
তাদের সবাইকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রত্যাশা-২ প্রকল্প থেকে বিমানবন্দরে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে কাউন্সিলিং ও প্রশিক্ষণ শেষে সবাইকে অর্থনৈতিক সহায়তা করা হবে।
বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দোকানপাট ও শপিং মল রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার বিশেষ অনুমতির মেয়াদ শেষ হয়েছে। ফলে আজ শুক্রবার থেকে আগের সময়সূচি অনুযায়ী সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে দোকানপাট, মার্কেট ও বিপণিবিতান।
এতে প্রতিষ্ঠানগুলোর খোলা থাকার সময় দুই ঘণ্টা কমছে। বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রাখতে চলতি বছর কয়েক দফায় দোকানপাট খোলা ও বন্ধের সময় পরিবর্তন করেছে সরকার। সর্বশেষ গত ৫ অক্টোবর দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত রাত ১০টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখার অনুমতি দেয় বিদ্যুৎ বিভাগ।
সেই সময়সীমা শেষ হওয়ায় আজ থেকে পুরোনো নিয়ম কার্যকর হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সকাল ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত শপিং মল, মার্কেট ও দোকানপাট খোলা রাখা যাবে। ২৩ অক্টোবর থেকে আগের নিয়মে সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে হবে।
এ বছর জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে দোকানপাট বন্ধের সময় একাধিকবার পরিবর্তন করা হয়। এপ্রিলের শুরুতে শপিং মল ও দোকানপাট সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরে ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সময় বাড়িয়ে সন্ধ্যা ৭টা করা হয়। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে গত ১২ মে সাময়িকভাবে রাত ১০টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়।
এরপর জুনে বন্ধের সময় রাত ৯টা নির্ধারণ করা হয়। পরে ১২ আগস্ট বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সময় আরও এক ঘণ্টা কমিয়ে রাত ৮টা করা হয়। সেই অনুযায়ী সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখার নিয়ম চালু হয়, যা আজ থেকে আবার কার্যকর হলো।
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে নিসচার র্যালি ও সমাবেশ
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর উদ্যোগে আজ সকাল ১১টায় রাজধানীর কাকরাইলে নিসচার কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে জাতীয় প্রেসক্লাব পর্যন্ত এক বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। র্যালিতে নিসচার উপদেষ্টা, আজীবন সদস্য, কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ, সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, সবার জন্য বাংলাদেশ, নিসচা মুন্সীগঞ্জ জেলা শাখা, নিসচা ঢাকা জেলা, বাংলাদেশ সাইকেল লেন, নিসচা ধামরাই উপজেলা,নিসচা পলাশ উপজেলা শাখা, নিসচা নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা, নিসচা লৌহজং উপজেলা শাখা, নিসচা শিবপুর উপজেলা শাখা, নিসচা সাভার উপজেলা শাখা, নিসচা ঠাকুরগাঁও জেলা শাখা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ অনেকে অংশ নেন।
র্যালিটি কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে নির্ধারিত পথ অতিক্রম করে জাতীয় প্রেসক্লাবে গিয়ে শেষ হয়। অংশগ্রহণকারীরা সড়কে শৃঙ্খলা, আইন মানা, চালক ও যাত্রীর নিরাপত্তা এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান। তাঁদের হাতে থাকা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ডে নিরাপদ সড়কের দাবিতে নানা বার্তা তুলে ধরা হয়। র্যালি থেকে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও পঙ্গুত্বের ঝুঁকি কমাতে সরকার, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, পরিবহন খাত, গণমাধ্যম এবং নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
জাতীয় প্রেসক্লাবে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে নিসচার নেতৃবৃন্দ বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা কোনো অনিবার্য ঘটনা নয়। পরিকল্পিত ব্যবস্থা, বিদ্যমান আইন ও বিধির যথাযথ প্রয়োগ, দক্ষ চালক তৈরি এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের সচেতন আচরণের মাধ্যমে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব। এজন্য সড়ক নিরাপত্তাকে বিচ্ছিন্ন কোনো কর্মসূচি হিসেবে না দেখে নিয়মিত ও সমন্বিত জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
নেতৃবৃন্দের বক্তব্যে চালকের যোগ্যতা ও প্রশিক্ষণ, যানবাহনের ফিটনেস, সড়কের নকশা ও রক্ষণাবেক্ষণ, পথচারীর নিরাপত্তা, দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার এবং চিকিৎসা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। তাঁরা বলেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে কেবল আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়, আইন বাস্তবায়ন, তদারকি, তথ্য সংগ্রহ এবং অনিয়মের জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে।
নিসচার দাবি ও সুপারিশ
র্যালি ও সমাবেশ থেকে নিসচার পক্ষ থেকে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কয়েকটি দাবি ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়:
সড়ক নিরাপত্তা আইন ও বিধির কার্যকর প্রয়োগ: ট্রাফিক আইন ভঙ্গ, বিপজ্জনক গতিতে গাড়ি চালানো, ভুল পথে চলা, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, অতিরিক্ত যাত্রী বা মাল বহন এবং যানবাহনের কাগজপত্র ও ফিটনেসসংক্রান্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে নিয়মিত ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা নিতে হবে।
চালকদের দক্ষতা ও যোগ্যতা নিশ্চিত করা: পেশাদার চালকদের প্রশিক্ষণ, পরীক্ষার মান এবং লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করতে হবে। চালকের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা, বিশ্রাম এবং কর্মঘণ্টার বিষয়েও নজর দিতে হবে, যাতে ক্লান্তি বা অদক্ষতার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি না বাড়ে।
যানবাহনের ফিটনেস ও নিরাপত্তা তদারকি: যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানসহ সব ধরনের যানবাহনের নিয়মিত পরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। ত্রুটিপূর্ণ, অনুপযোগী বা অতিরিক্ত ধোঁয়া নির্গমনকারী যান চলাচল বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধারাবাহিক নজরদারি করতে হবে।
সড়ক ও অবকাঠামো নিরাপদ করা: ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, অপর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, অস্পষ্ট বা অনুপস্থিত সাইন-সিগন্যাল এবং বিপজ্জনক প্রবেশপথ চিহ্নিত করে দ্রুত সংস্কার করতে হবে। সড়ক নির্মাণ ও মেরামতের পরিকল্পনায় চালক, যাত্রী, পথচারী, শিশু, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিরাপত্তা বিবেচনায় রাখতে হবে।
পথচারী ও যাত্রী সুরক্ষা: ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা করা, প্রয়োজনীয় স্থানে জেব্রা ক্রসিং ও ট্রাফিক সংকেত স্থাপন এবং বাসস্টপ ও যাত্রী ওঠানামার স্থান সুশৃঙ্খল করা জরুরি। স্কুল, হাসপাতাল, বাজার ও জনবহুল এলাকায় যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
গতিসীমা ও ঝুঁকিপূর্ণ চালনা নিয়ন্ত্রণ: সড়কের ধরন ও পরিবেশ অনুযায়ী গতিসীমা নির্ধারণ করে তা দৃশ্যমানভাবে জানাতে হবে। দ্রুতগতির যান শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং নিয়মিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করার সুপারিশ করা হয়।
দুর্ঘটনার তথ্য ও গবেষণা: দুর্ঘটনার স্থান, সময়, ধরন ও কারণ সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করে নিয়মিত বিশ্লেষণ প্রকাশ করতে হবে। তথ্যের ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
দুর্ঘটনার পর দ্রুত সেবা: দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার, জরুরি চিকিৎসা এবং উপযুক্ত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে। জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং সাধারণ মানুষের জন্য সহজে ব্যবহারযোগ্য জরুরি যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
নিরাপত্তা শিক্ষার বিস্তার: বিদ্যালয়, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, কর্মক্ষেত্র ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে নিয়মিত শিক্ষা ও প্রচার চালাতে হবে। চালক, হেলপার, যাত্রী, পথচারী এবং পরিবহন মালিক—সবার জন্য সচেতনতামূলক কর্মসূচি প্রয়োজন।
সমন্বিত ও জবাবদিহিমূলক উদ্যোগ: সড়ক নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত সরকারি দপ্তর, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠন, বিশেষজ্ঞ এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে। নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করে জনগণের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
নিসচার নেতৃবৃন্দ বলেন, নিরাপদ সড়ক গড়ে তুলতে প্রত্যেকের ভূমিকা রয়েছে। চালককে দায়িত্বশীলভাবে গাড়ি চালাতে হবে, যাত্রীকে নিরাপত্তাবিধি মানতে হবে, পথচারীকে সতর্ক থাকতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিয়ম প্রয়োগ ও নিরাপদ অবকাঠামো নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে পরিবহনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ এবং জনসচেতনতামূলক উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ।
তাঁরা আরও বলেন, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো এবং আহত ব্যক্তিদের যথাযথ সহায়তা দেওয়া মানবিক দায়িত্ব। দুর্ঘটনার কারণ নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান, প্রতিরোধমূলক সুপারিশ বাস্তবায়ন এবং একই ধরনের দুর্ঘটনা যেন পুনরায় না ঘটে সে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের কর্মসূচি থেকে নিসচা দেশের সর্বস্তরের মানুষকে সড়ক আইন মেনে চলা, নিরাপদ গতিতে যানবাহন চালানো, ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ পরিহার করা এবং সড়কে অন্যের অধিকার ও নিরাপত্তার প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের প্রতি সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বাস্তবসম্মত, ধারাবাহিক ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
২২ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে এবারের প্রতিপাদ্য হলো – ‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। আর নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য নিরাপদ নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।