• প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৪:৩৮ এএম

২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সারা দেশে কমপক্ষে ৬০০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ১৫৮ জন রাজনৈতিক কর্মী নিহত হয়েছেন। 


ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব সহিংস ঘটনায় সাত হাজার ৮২ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৫৫০টি অর্থাৎ ৯১ দশমিক ৭ শতাংশ ঘটনায় বিএনপির সম্পৃক্ততা ছিল। নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততা ছিল ১২৪টি অর্থাৎ ২০ দশমিক ৭ শতাংশ ঘটনায়। আর জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি যথাক্রমে ৭ দশমিক ৭ ও ১ দশমিক ২ শতাংশ ঘটনায় জড়িত ছিল।


প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ১১ ডিসেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ৩৬ দিনের মধ্যে কমপক্ষে ১৫ জন রাজনৈতিক নেতা ও কর্মী নিহত হয়েছেন। 


গতকাল সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে 'কর্তৃত্ববাদ পতন-পরবর্তী দেড় বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি' শীর্ষক পর্যবেক্ষণভিত্তিক গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।


জুলাই আন্দোলনের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত ৮৩৭টি হত্যা মামলাসহ এক হাজার ৭৮৫টি মামলা ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে দায়ের হয়। এর মধ্যে ৬৬৩টি মামলা ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়, যার মধ্যে ৪৫৩টিই হত্যা মামলা।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্র ১০৬টি মামলায় চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৩১টি হত্যা মামলা রয়েছে, যা তদন্তের ধীর অগ্রগতি নির্দেশ করে। এসব মামলায় এ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের ১২৮ জন সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আন্দোলনের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য এক হাজার ১৬৮ জন কর্মরত এবং সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৭৬১টি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে ৬১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত ৪৫০টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, এর মধ্যে ৪৫টি আমলে নেওয়া হয়েছে। এসব মামলায় ২০৯ জনকে অভিযুক্ত এবং ৮৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে ১০৫ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ১২টি মামলা আইসিটিতে বিচারাধীন।


টিআইবি জানায়, অনেক অভিযুক্ত ব্যক্তি দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। অভিযোগ রয়েছে, সেনাবাহিনী, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তাদের পালাতে সহায়তা করেছেন।


জুলাই আন্দোলনের পর মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে টিআইবি উদ্বেগ জানিয়েছে। প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়েছে, সারা দেশে প্রায় দেড় লাখ লোককে এসব মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। 


প্রতিবেদনে, 'মামলা বাণিজ্য', প্রতিশোধমূলক মামলা, রাজনৈতিক হয়রানি ও চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে মামলায় নামের অন্তর্ভুক্তি কিংবা মামলা থেকে নাম বাদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতির বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত। অনেক ক্ষেত্রে, চাপের কারণে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো যথাযথ তদন্ত ছাড়াই মামলা নিয়েছে।


টিআইবি আইসিটিতে নিযুক্ত বিচারক এবং প্রসিকিউটরদের যোগ্যতা এবং রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে।


এতে আরও বলা হয়েছে, সাংবাদিকদের হত্যা মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে, যা বিচার ব্যবস্থার অপব্যবহার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে।


সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান সতর্ক করে বলেন, মব সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে।


তিনি আরও বলেন যে, বাংলাদেশে মব সহিংসতার ঘটনা 'আসলে সরকারের ভেতর থেকেই শুরু হয়েছিল'। 


তিনি বলেন, সচিবালয়ে প্রথম মবের উৎপত্তি হয়েছিল। সরকারের বাইরের শক্তি যাদের আজ মব বলি, তারা ক্ষমতায়িত হয়েছে সেই মবের কারণে। এতে সরকারের নৈতিক ভিত্তিও দুর্বল হয়েছে।


নির্বাচন-সম্পর্কিত সহিংসতা সম্পর্কে, ইফতেখারুজ্জামান সতর্ক করে বলেন, “আমরা সবাই আশা করি একটিও হত্যাকাণ্ড ঘটবে না, তবে আমরা এর নিশ্চয়তা দিতে পারি না। আমরা মনে করি সহিংসতার ঝুঁকি কেবল ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নয়, পরবর্তী কয়েক দিন পর্যন্তও থাকবে।” 


তিনি বলেন, ‘সরকার ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন এবং তাদের পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা, দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে, তিনি বাংলাদেশের অতীত নির্বাচনী ইতিহাস বিবেচনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে নির্বাচন খুব কমই সম্পূর্ণরূপে সহিংসতামুক্তভাবে হয়েছে, এবার সহিংসতা রোধে পূর্ববর্তী নির্বাচন থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। ’


টিআইবি প্রধান জুলাই-পরবর্তী জবাবদিহিতা প্রক্রিয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আন্দোলনের সময় হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সাংবাদিকদের গণহারে মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


তিনি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এই ধরনের পদক্ষেপ কি ন্যায়বিচারের কাজ নাকি প্রতিশোধের কাজ, তা জানতে চেয়ে সতর্ক করে বলেন, এটি প্রকৃত অপরাধী এবং কর্তৃত্ববাদের দোসরদের শনাক্ত করা কঠিন করে তোলে।


সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রাজনীতিবিদ এবং আমলারা জুলাইয়ের আন্দোলন থেকে কিছুই শেখেননি এবং তারা তাদের নিজস্ব স্বার্থ রক্ষায় মনোনিবেশ করেছেন। ফলস্বরূপ, তারা জনগণের কাছে জবাবদিহিতাপূর্ণ সরকার গঠনের লক্ষ্যে ঐকমত্য কমিশনের সামনে উত্থাপিত প্রস্তাবগুলোর বিরোধিতা করেন।’


তিনি আরও বলেন, যদি নোট অব ডিসেন্টের মৌলিক ধারণা গৃহীত হয়, তাহলে ঐকমত্যের মাধ্যমে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলি এখনো বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।


ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘সংখ্যাগরিষ্ঠদের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়ার রীতি বিশ্বব্যাপী প্রচলিত। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এমনটি হবে কি না, সেটি দেখার বিষয়। গণভোটের রায় 'হ্যাঁ'-এর পক্ষে গেলে সে ক্ষেত্রে যারা সরকারে যাবে, তাদের সদিচ্ছার ওপর সংস্কার বাস্তবায়ন নির্ভর করবে।’


তিনি আরও বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার তাদের সম্পদের বিবরণী জনসমক্ষে প্রকাশ করে একটি উদাহরণ স্থাপন করতে পারত, কিন্তু তা করেনি।’


ইফতেখারুজ্জামান সাম্প্রতিক দুটি অধ্যাদেশ- সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশ এবং মিডিয়া কমিশন অধ্যাদেশের সমালোচনা করে বলেন, গণমাধ্যমকে ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে এবং নতুন ঝুঁকি তৈরি করা হয়েছে।


তিনি প্রশ্ন তোলেন, গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে পেশাদারত্বের সঙ্গে নিরাপদে কাজ করুক- এ চিন্তাভাবনা অন্তর্বর্তী সরকার ধারণ করেছে কি না। দুটি মিডিয়া কমিশন লোকদেখানো পদক্ষেপ ছাড়া আর কিছু নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।


বিচার বিভাগীয় সংস্কার সম্পর্কে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বিচার বিভাগীয় নিয়োগ কমিটি গঠন এবং একটি স্বাধীন বিচার বিভাগীয় সচিবালয়ের দিকে অগ্রসর হওয়া।


তবে, তিনি উল্লেখ করেন, এসব পদক্ষেপ কতটুকু কার্যকর হবে, তার জবাব পরবর্তী সরকারকে দিতে হবে। এ ছাড়া বিচারব্যবস্থার ভেতরে দলীয়করণ এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।


তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং পেশাজীবী সংস্থাগুলোকে রাজনীতিমুক্ত রাখার জন্য দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।




পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:৪৯ পিএম

সৌদি আরবে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের অব্যাহত হামলায় আবারও নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। এসব হামলায় বাংলাদেশি নাগরিক নিহত ও বেশ কয়েকজন হতাহতের ঘটনাও রয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নিন্দা জানানো হয়। দাম্মামের বাদশা ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশি আহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে সরকারের এই অবস্থান তুলে ধরে মন্ত্রণালয়।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি সরকার ও জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে।


গত বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় দাম্মামের বাদশা ফাহাদ বিমানবন্দরে হামলা হয়। হামলায় এক ভারতীয় ও একজন সৌদি নাগরিক নিহত হওয়ার খবর বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমে এসেছে।


আহতদের মধ্যে ২ বাংলাদেশি ছাড়াও দুই ভারতীয়, দুই ইয়েমেনি, এক সৌদি ও এক নেপালি নাগরিক রয়েছেন বলে সৌদি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা সঙ্কটজনক।


বাংলাদেশ সব ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। একইসঙ্গে সব ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ এবং কূটনীতির মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানেরও আহ্বান জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।


এর আগে গত ১০ অক্টোবর বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২ বাংলাদেশি নিহত হন। এর পরদিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে হামলার তীব্র নিন্দা জানায়।






ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:১৮ পিএম

আসছে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রা কমে ঢাকাসহ সারাদেশে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এরইমধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে।


আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির শুক্রবার বলেন, “উত্তরের দিকে তাপমাত্রা কিছুটা কমছে। রংপুর বিভাগের কথা চিন্তা করলে তেঁতুলিয়ায় দিন ও রাতের তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রয়েছে। রাজারহাট ও দিনাজপুরেও তাপমাত্রা ২০ থেকে ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে আছে। রাজশাহী ও ঈশ্বরদীতেও তাপমাত্রা কমেছে।


“সামনের সপ্তাহে আবহাওয়ার বর্তমান ব্যবস্থাটি কেটে গেলে তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তখন ঢাকাসহ সারাদেশে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে।”


এদিকে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে তথ্য দিয়ে এই আবহাওয়াবিদ বলেন, “পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটি আরও ঘনীভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শনিবার এটি নিম্নচাপে এবং পরে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।


“এই মুহূর্তে এর কোনো প্রভাব আমাদের ওপর নেই। তবে ২৫ অক্টোবরের পর উপকূলীয় এলাকায় কিছুটা বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।”


আগামী কয়েক দিনের আবহাওয়া পরিস্থিতি সম্পর্কে তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, “আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় দেশে বৃষ্টিপাতের তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই। পুরো দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে।”



প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৫০ পিএম

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গত একদিনে ডেঙ্গু নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ২৯৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু-বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) দুজন ও ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) একজনের মৃত্যু হয়েছে।


এতে চলতি বছর মশাবাহিত রোগটিতে এ পর্যন্ত মোট প্রাণহানি ৩৭১ জনে দাঁড়াল।


এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাহিরে) সবচেয়ে বেশি ২৭৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পাশাপাশি এই সময়ে বরিশাল বিভাগে ১৫৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২১৯, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১১৬, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩১, খুলনা বিভাগে ১৪৭, ময়মনসিংহ বিভাগে ১০০, রাজশাহী বিভাগে ১১৩ ও রংপুর বিভাগে ৩৮ ও সিলেট বিভাগে দুইজন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।


সবমিলিয়ে চলতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে আজ শুক্রবার পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ৩৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনসহ শুধু ঢাকা বিভাগেই ডেঙ্গুতে ১৭৯ জন মারা গেছেন।


এ ছাড়া উল্লেখিত সময়ে খুলনা বিভাগে ৬৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩০ জন, বরিশাল বিভাগে ২৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৩ জন, রংপুরে ৭ জন ও সিলেট বিভাগে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:২২ পিএম

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২১৪ জনে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।


বুলেটিনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেট বিভাগেই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ১৩৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।


বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৫৫৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১৯৪ জন, বরিশালে ১১৫ জন, সিলেটে ৯৪ জন, ময়মনসিংহে ৬৫ জন, খুলনায় ৬০ জন, রংপুরে ২৪ জন এবং রাজশাহীতে ২০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬৩৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ৮৬ হাজার ৭৯৮ জন।


এদিকে, ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৮৭০ জনে। তাদের মধ্যে ২৩ হাজার ২৭৩ জনের শরীরে হাম নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে।








ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:২৫ পিএম

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খানকে দেখে এলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।


বঙ্গভবন জানিয়েছে, শুক্রবার সকালে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে যান রাষ্ট্রপতি। তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।


স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর স্ত্রী অ্যাডভোকেট রোকসানা খন্দকার এ সময় উপস্থিত ছিলেন।


এভারকেয়ার হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সাহাবুদ্দিন তালুকদারসহ চিকিৎসকরা আবদুল মঈন খানের সর্বশেষ অবস্থা রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।


গত বুধবার বুকে ব্যথা নিয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন মঈন খান। তিনি শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগে ভুগছেন। চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।


শাহজালাল বিমানবন্দরে যাত্রীরা (ফাইল ছবি)

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:১০ পিএম

৩৫ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠিয়েছে ইউরোপের কয়েকটি দেশ। এর মধ্যে ইতালি থেকে ১৯ জন, গ্রিস থেকে ১০ জন এবং সাইপ্রাস থেকে ছয়জন বাংলাদেশি দেশে ফিরছেন। 


ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল সোয়া আটটায় একটি বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে (পিভিজি ৯৪৪৫) তারা ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।


বিমানবন্দরে সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটি ও প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহযোগিতায় ফেরত আসা বাংলাদেশিদের জরুরি সহায়তা, কাউন্সেলিং এবং নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম। এ সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।


বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, একটি বিশেষ বিমানে করে ৩৫ বাংলাদেশি শুক্রবার সকালে ঢাকায় এসেছেন। এর মধ্যে ইতালি থেকে ১৯ জন, গ্রিস থেকে ১০ জন এবং সাইপ্রাস থেকে ছয়জন বাংলাদেশি দেশে ফিরছেন। 


তাদের সবাইকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রত্যাশা-২ প্রকল্প থেকে বিমানবন্দরে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে কাউন্সিলিং ও প্রশিক্ষণ শেষে সবাইকে অর্থনৈতিক সহায়তা করা হবে।