ছবি: সংগৃহীত।

  • প্রকাশ : সোমবার ০২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ২:১২ এএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সব ধরনের যান চলাচলে বিধি-নিষেধ আরোপ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।


এতে বলা হয়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশন ১১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত (একদিন) ট্যাক্সি ক্যাব, পিক আপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচলের জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।


একই সঙ্গে ১০ ফেব্রুয়ারি দিনগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত (তিন দিন) মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে বলেও প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়।


আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।


যেসব ক্ষেত্রে শিথিল থাকবে নিষেধাজ্ঞা


১. আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন ও অনুমতিপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক।


২. জরুরি সেবা কাজে নিয়োজিত যানবাহন এবং ওষুধ, স্বাস্থ্য-চিকিৎসা ও অনুরূপ কাজে ব্যবহৃত দ্রব্যাদি ও সংবাদপত্র বহনকারী সব ধরনের যানবাহন।


৩. আত্মীয়স্বজনের জন্য বিমানবন্দরে যাওয়া, বিমানবন্দর থেকে যাত্রী বা আত্মীয়স্বজনসহ নিজ বাসস্থানে বা আত্মীয়স্বজনের বাসায় ফিরে যাওয়ার জন্য ব্যবহৃত যানবাহন (টিকিট বা অনুরূপ প্রমাণ প্রদর্শন) এবং দূরপাল্লার যাত্রী বহনকারী বা দূরপাল্লার যাত্রী হিসাবে স্থানীয় পর্যায়ে যাতায়াতের জন্য যে কোনো যানবাহন।


৪. প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর জন্য একটি, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নির্বাচনি এজেন্ট (যথাযথ নিয়োগপত্র/পরিচয়পত্র থাকা সাপেক্ষে)- এর জন্য একটি গাড়ি (জিপ, কার, মাইক্রোবাস ইত্যাদি ছোট আকৃতির যানবাহন) রিটার্নিং অফিসারের অনুমোদন ও গাড়িতে স্টিকার প্রদর্শন সাপেক্ষে।


৫. সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক বা জরুরি কোনো কাজে ব্যবহৃত যানবাহন/ মোটরসাইকেল নির্বাচন কমিশন/ রিটার্নিং অফিসারের অনুমোদন সাপেক্ষে।


৬. নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে নির্বাচনি কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা/ কর্মচারী বা অন্য কোনো ব্যক্তির জন্য মোটরসাইকেল।


৭. টেলিযোগাযোগ সেবাকে জরুরি সেবা হিসেবে বিবেচনা করে বিটিআরসি এবং বিটিআরসি থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের যানবাহন।


৮. জাতীয় মহাসড়ক, বন্দর ছাড়াও আন্তঃজেলা বা মহানগর থেকে বাইর বা প্রবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মহাসড়ক ও প্রধান প্রধান রাস্তার সংযোগ সড়ক বা এমন সব রাস্তায় নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।


এছাড়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে উল্লিখিত যানবাহন ছাড়া অন্যান্য যানবাহনের ওপরেও বর্ণিত সময়সূচি অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা শিথিলের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারকে ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছে বলেও প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়।



সর্বশেষ সব খবর

প্রাথমিক-গণশিক্ষা-মন্ত্রণালয়

  • প্রকাশ : রবিবার ০২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:০৫ পিএম

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের যোগদানের দিনক্ষণ জানিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। আজ রোববার (২ আগস্ট) বেলা ১১টায় প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব রাজীব কুমার সরকারের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫’-এর নিয়োগযোগ্য শূন্য পদে নির্বাচিত প্রার্থীরা আগামী ১ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করবেন।


এতে আরও বলা হয়, চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের যথাসময়ে নিয়োগপত্র পাঠানো হবে। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের যোগদানের পর পদায়ন এবং পরবর্তী সময়ে প্রশিক্ষণে পাঠানো হবে। বিষয়টি সকলের অবগতির জন্য পাঠানো হলো।


এদিকে চলতি আগস্ট মাসের মধ্যেই যোগদান ও বিদ্যালয়ের পদায়ন চান সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা। এ দাবিতে আজ রোববার বেলা ১১টা থেকে রাজধানীর শাহবাগে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরুর কথা রয়েছে তাদের।


এদিন সকাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জডড়ো হতে শুরু করেন প্রাথমিকের সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা। তারা জানিয়েছেন কিছুক্ষণের মধ্যেই শাহবাগ মোড়ে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করবেন।

সর্বশেষ সব খবর

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়

  • প্রকাশ : রবিবার ০২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:২২ এএম

প্রশাসন সংস্কার ও মেধাভিত্তিক পদোন্নতির প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে বাড়ছে আন্তঃক্যাডার বৈষম্য, ওএসডি ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ। জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে পদোন্নতি দেওয়া এবং মেধাবী কর্মকর্তাদের বঞ্চিত করার অভিযোগের পাশাপাশি দণ্ডপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ঘটনা ঘটছে। এতে প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। 


স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব কাজী আনোয়ার হোসেনকে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রায়হান কাওছারকে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয় গত ২৫ মার্চ। পরে তাদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত (ওএসডি) করা হয়। 


বিএনপি সরকারের গত সাড়ে পাঁচ মাসে নানা কারণে ১১ জন সচিবকে জনপ্রশাসনে সংযুক্ত করা হয়েছে। পদোন্নতি পেলেও তাদের কোথাও কাজে লাগাতে পারছে না সরকার।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ জুলাই উপসচিব থেকে যুগ্ম সচিব করা হয় ১৭৯ জনকে। তাদের মধ্যে দণ্ডপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও রয়েছেন। কিন্তু ২৪ ও ২৫ ব্যাচে মেধা তালিকায় প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা চার কর্মকর্তার পদোন্নতি হয়নি। 


২৪ ব্যাচের দুই কর্মকর্তা দুই দফায় বঞ্চিত হয়েছেন। অন্যান্য ক্যাডার কর্মকর্তাকে যুগ্ম সচিবে পদোন্নতির ক্ষেত্রেও জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করা হযেছে। মেধা তালিকা মানা হয়নি। আন্তঃক্যাডার কর্মকর্তাদের বৈষম্য আরও বেড়েছে। 


আগের চেয়ে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগও বেড়েছে। নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিএনপির নেতাদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।


শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব পদ থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত হওয়া কর্মকর্তা মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গত ১৭ বছর কোনো পদোন্নতি পাইনি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সচিব হিসেবে পদোন্নতির পর কেন জনপ্রশাসনে সংযুক্ত হলাম- কিছুই বুঝতে পারছি না।’ 


সাবেক সচিব, জনপ্রশাসন সংস্কার ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো তাদের ইশতেহারে মেধাভিত্তিক জনপ্রশাসন প্রতিষ্ঠার কথা বলেছে। বিএনপির ইশতেহারে বলা হয়েছে, নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে যোগ্যতাকে একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এটা অনেক ভালো দিক। কিন্তু এই সংস্কারে আমলাতন্ত্রই প্রধান বাধা। কারণ তারা নতুন কিছু চায় না।


তিনি বলেন, সরকারের এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে আমলাদের আন্তরিকতার সঙ্গে ফাইল উপস্থাপন করতে হবে। এর পর মন্ত্রী-এমপিরা সিদ্ধান্ত দেবেন। কিন্তু আমলারা সংস্কারের সেই প্রস্তাব উপস্থাপনই করেন না। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যেসব সংস্কার বাস্তবায়নের উদ্যোগ ছিল, সেগুলোর মধ্যে অনেক প্রস্তাব তারা বাদ দিয়েছে। তিনি বলেন, প্রশাসনকে পরিবর্তন করতে হলে সরকারপ্রধানকে সরাসরি তদারক ও সমন্বয় করতে হবে।   


সংস্কারের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নেই


জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সুপারিশে মেধাভিত্তিক নিয়োগ-পদোন্নতি, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত প্রশাসন এবং জবাবদিহিমূলক কাঠামোর কথা বলা হয়েছিল। একই ধরনের অঙ্গীকার রয়েছে জুলাই ঘোষণাপত্র, ৩১ দফা এবং বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারেও। কিন্তু প্রশাসনের বর্তমান চিত্রে এসব প্রতিশ্রুতির বাস্তব প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


জনপ্রশাসন বিশ্লেষকদের মতে, কেবল সরকার পরিবর্তন করলেই প্রশাসনের চরিত্র বদলায় না। পদোন্নতি, পদায়ন, মূল্যায়ন ও জবাবদিহির কাঠামোয় মৌলিক সংস্কার ছাড়া একই ধরনের সংকট বারবার ফিরে আসবে।


বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে বলা হয়েছে, ‘মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ’ বিনির্মাণ: মেধা, সততা, সৃজনশীলতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ, বেসামরিক ও সামরিক প্রশাসনে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে যোগ্যতাই একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হবে। কেউ যাতে অন্যায়ভাবে বঞ্চিত না হয়, সেটাও নিশ্চিত করা হবে। 


এদিকে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের কম সময়ে বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশের অগ্রগতি নেই। জনপ্রশাসন সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের রোডম্যাপ; সরকারি কর্মচারীর জন্য নতুন আচরণবিধি প্রণয়ন; সরকারি চাকরিতে যোগদানের সময় হলফনামায় সই করার মতো সুপারিশের বাস্তবায়ন নেই। 


দণ্ডপ্রাপ্তরা পেলেন পদোন্নতি


আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদের সমন্বয়ক মুহম্মদ মফিজুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আন্তঃক্যাডার বৈষম্য কমেনি বরং আরও বেড়েছে। কারণ শিক্ষা ক্যাডারের বদলি নীতিমালা-২০২৬ এ প্রশাসন ক্যাডারের ক্ষমতা বেড়েছে। আঞ্চলিক পর্যায়ে এডিসি শিক্ষা কর্মকর্তাকে বদলির ক্ষমতায় যুক্ত করা হয়েছে। 


মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরেও শিক্ষা ক্যাডারের বদলিতে প্রশাসন ক্যাডারের হস্তক্ষেপ রয়েছে। যুগ্ম সচিবের পদোন্নতির তালিকায় থাকা দণ্ডপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে আছেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত উপসচিব মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। ডেমরার সহকারী কমিশনার (ভূমি) থাকাকালে অসদাচরণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন। তাঁকে তিন বছরের জন্য বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিতের লঘুদণ্ড দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির কাছে আপিল করলেও তাঁর দণ্ড বহাল রাখা হয়েছিল।


সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উপসচিব মো. শাহীনুর ইসলামকে বালুমহাল কেলেংকারিতে লঘুদণ্ড দেওয়া হয়। নীলফামারীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) থাকাকালে তিস্তা নদীর বালুমহালের ইজারা গ্রহীতার চেক ব্যাংকে জমা না দিয়ে অর্থপ্রাপ্তির ভুয়া চুক্তি করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে এক বছরের জন্য বেতন গ্রেডের সর্বনিম্ন ধাপে অবনমিতকরণের দণ্ড দেওয়া হয়। তিনিও পদোন্নতি পেয়েছেন। 


স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের উপসচিব মুহাম্মদ মকবুল হোসেনকে ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডে দুর্নীতির দায়ে শাস্তি দেওয়া হয়। রংপুর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডে কর্মরত থাকাকালে নির্মাণকাজে দুর্নীতি ও অসদাচরণের দায়ে তাঁকে দুই বছরের জন্য দুটি বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত রাখার দণ্ড দেওয়া হয়। পরে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল তাঁর এ দণ্ড বাতিল করেন। তিনিও আছেন পদোন্নতিপ্রাপ্তদের মধ্যে।


কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে


প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি, মেধাভিত্তিক প্রশাসন গঠন এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত জনপ্রশাসনের অঙ্গীকার- এসব প্রত্যাশা নিয়ে প্রশাসনে পরিবর্তনের অপেক্ষায় ছিলেন কর্মকর্তারা। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। পদোন্নতি, পদায়ন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে আগের সরকারের সময়কার বিতর্কিত ধারা বহুলাংশে বহাল রয়ে গেছে।  


মেধা ও কর্মদক্ষতার বদলে নানা বিবেচনায় পদোন্নতির অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে। এতে যোগ্য ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ আবারও বঞ্চিত। অনেকে দ্বিতীয় দফায় ওএসডি হয়েছেন।


অন্যদিকে দুর্নীতির অভিযোগ থাকা বা বিতর্কিত হিসেবে পরিচিত কয়েকজন কর্মকর্তার যুগ্ম সচিবে পদোন্নতি প্রশাসনের ভেতরে নতুন অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।


জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং মাঠ প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, প্রশাসনের সংস্কার নিয়ে যত আলোচনা হয়েছে, বাস্তবে তার প্রতিফলন খুবই সীমিত। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।


চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাড়ছে 


একদিকে নিয়মিত পদোন্নতি ও পদায়নে জটিলতা, অন্যদিকে অবসরে যাওয়া কর্মকর্তাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমানে শুধু সচিব পদে ২২ জন কর্মকর্তা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন। এতে অপেক্ষমাণ কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ আরও বাড়ছে। তাদের অভিযোগ, নিয়মিত কর্মকর্তাদের পদোন্নতির সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে। 


নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন অতিরিক্ত সচিব বলেন, অবসরোত্তর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ব্যতিক্রম হওয়ার কথা থাকলেও এখন তা অনেক ক্ষেত্রেই নিয়মে পরিণত হচ্ছে।


এসএসবির কার্যকারিতা প্রশ্নের মুখে


পদোন্নতির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কমিটি সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের (এসএসবি) কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বোর্ডের কার্যক্রম যথেষ্ট স্বচ্ছ নয়। মূল্যায়নের সুস্পষ্ট মানদণ্ড প্রকাশ না হওয়ায় পদোন্নতি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হচ্ছে। সম্প্রতি অবসরপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তাকে যুগ্ম সচিবে পদোন্নতি দেওয়ার পর তা বাতিল করা হয়।


প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, মেধা, জ্যেষ্ঠতা, কর্মদক্ষতা, সততা ও পেশাগত সাফল্যের ভিত্তিতে মূল্যায়নের পরিবর্তে অন্য বিবেচনা প্রাধান্য পাচ্ছে- এমন ধারণা প্রশাসনের ভেতরে জোরালো হচ্ছে। বাড়ছে বঞ্চনাবোধ।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : রবিবার ০২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৫৩ এএম

রাজধানীর জিগাতলায় ট্যানারি মোড়ের সন্দীপন স্কুলে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পড়াশোনা ও দিবাযত্নের ব্যবস্থা রয়েছে। এ বিদ্যালয়ে ৪ বছর বয়সী শিশুরাও পড়ে। অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীকে দুপুরের খাবার দেওয়া হয় বিদ্যালয় থেকেই।


গ্যাস সংকটের আগে খাবার রান্না করা হতো সকাল ১০টার পর থেকে। চুলায় গ্যাসের চাপ না থাকায় নিভু নিভু আগুনে এখন আর দিনের বেলায় রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। পরিস্থিতি সামাল দিতে কয়েক দিন বিদ্যালয়ের সামনের ভবনের পার্কিংয়ের স্থানে লাকড়ির চুলায় রান্না করা হয়। 


তবে বিষয়টি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় গত কয়েক দিন ধরে গভীর রাতে রান্না করা হচ্ছে। কারণ, তখন গ্যাসের চাহিদা কম থাকায় চুলায় কিছুটা চাপ বাড়ে।


বিদ্যালয়ের বাবুর্চি রহিমা বেগম জানান, রাত ২টার দিকে রান্না শুরু হয় এবং ভোরের আগেই তা সম্পন্ন করতে হয়। এরপর আর গ্যাস থাকে না। এই খাবারই শিশুদের দুপুরে ‘মিড-ডে মিল’ হিসেবে দেওয়া হয়। সারারাত জেগে রান্না করার কারণে শরীরের ওপর চরম ধকল যাচ্ছে বলে জানান এ বৃদ্ধা।


দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে গৃহিণীদের প্রাত্যহিক রুটিন আগের মতো নেই। পারিবারিক বাজেটেও চাপ পড়েছে। দিনের বেলা একদম গ্যাস না থাকায় অধিকাংশ গৃহিণীকে বাধ্য হয়ে মাঝরাতে ঘুম থেকে উঠে রান্না সেরে রাখতে হচ্ছে। অনিদ্রার কারণে অনেকের শারীরিক অসুস্থতা বাড়ছে। অনেক সময় সকালের নাশতা বা দুপুরের খাবার অর্ধেক রান্না হতেই গ্যাসের চাপ মিলিয়ে যাওয়ায় থমকে যাচ্ছে পুরো সংসারের কাজ।


কেউ কেউ হোটেল থেকে খাবার কিনে কিংবা আত্মীয়স্বজনের বাসায় রান্না করে কোনো রকমে দিন কাটাচ্ছেন। বহুতল ভবনের বারান্দা কিংবা ছাদে লাকড়ির চুলায় রান্না করতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে। কেউ কেউ ঝুঁকছেন এলপিজি সিলিন্ডার কিংবা ইনডাকশন চুলার মতো বিকল্প পদ্ধতিতে। বাজারে সিলিন্ডারের কৃত্রিম সংকট এবং বিদ্যুতের অতিরিক্ত ব্যবহারে খরচের বোঝা দ্বিগুণ হয়ে গেছে।


একদিকে মাসের শেষে লাইনের গ্যাসের বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে, অন্যদিকে সিলিন্ডার, বিদ্যুৎ ও হোটেল থেকে কেনা খাবারের পেছনে চলে যাচ্ছে আয়ের বড় অংশ। আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবারের কারণে পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।


গত ২১ জুলাই মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর দেশজুড়ে গ্যাস সরবরাহে তৈরি হওয়া সংকট এখন আরও তীব্র হয়েছে। ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর প্রভাব পড়েছে।


রাজধানীর মিরপুরের পূর্ব শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা বিজৎ পাল শনিবার জানান, সম্প্রতি গ্যাসের যে সংকট শুরু হয়েছে তা সামলাতে তিনি স্ত্রীকে গ্রামের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন। নিজে হোটেলে খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন। কিন্তু হোটেলের খাবারে অতিরিক্ত তেল থাকায় পেটের পীড়ায় ভুগছেন। আদাবরের বাসিন্দা অরুণিমা জানান, গ্যাস না থাকায় শ্যামলীতে ভাইয়ের বাসা থেকে রান্না করে এনে ফ্রিজে রেখে খেতে হচ্ছে। তাঁর ভাইয়ের বাসায় এলপি গ্যাসের চুলা আছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগার পর সেটি বন্ধ হয়ে যায়। এ কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। এই দুর্ঘটনার আগে দৈনিক প্রায় ২৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো। 


এর মধ্যে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে ৯০ থেকে ১১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়। একটি টার্মিনাল বন্ধ হওয়ায় সরবরাহ কমেছে প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট। বর্তমানে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ নেমে এসেছে ২১৫ কোটি ঘনফুটে।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, ‘প্রকৌশলীরা দিন-রাত কাজ করছেন টার্মিনাল মেরামতে। বিশেষভাবে প্রস্তুত যন্ত্রপাতি হাতে এসেছে। আশা করছি, আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে টার্মিনালটি চালু করা সম্ভব হবে।’

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:২০ পিএম

দেশের সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, যানবাহনের চলাচল পর্যবেক্ষণ এবং রুট ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে আজ (১ আগস্ট) থেকে সব গণপরিবহনে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) ডিভাইস সংযোজন ও সচল রাখা বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। 


একই সঙ্গে জিপিএস সংযুক্ত না থাকলে কোনো গণপরিবহনের নতুন নিবন্ধন দেওয়া কিংবা ফিটনেস সনদ প্রদান বা নবায়ন করা হবে না। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিরাপদ সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ১১ জুন এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। ১ আগস্ট থেকে গণপরিবহনের রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস সনদ প্রদান বা নবায়নের সময় জিপিএস সংযোজনের প্রমাণপত্র এবং সংশ্লিষ্ট মোবাইল অ্যাপে ডিভাইস সচল থাকার তথ্য বিআরটিএ কার্যালয়ে প্রদর্শন করতে হবে।


জিপিএস ডিভাইসের কারিগরি বিবরণ বিআরটিএর স্থানীয় কার্যালয় এবং সংস্থাটির ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।


সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ধারা ২৫ এবং সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর বিধি ৫৫ অনুযায়ী জিপিএস সংযুক্তি নিশ্চিত হওয়ার পরই গণপরিবহনের রেজিস্ট্রেশন প্রদান ও ফিটনেস সনদ নবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছে বিআরটিএ। এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেছে সংস্থাটি।

সর্বশেষ সব খবর

চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৩৭ পিএম

‎আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, ‘আয়নাঘরের’ অনেক আলামত নষ্ট করা হয়েছে, নতুন করে স্থাপনা করা হয়েছে। যারা এসব আলামত নষ্টের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর উত্তরায় র‍্যাব-১ সদরদপ্তরে অবস্থিত টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল বা গোপন বন্দিশালা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।


চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তদন্ত সংস্থা যখন কাজ শুরু করে তখন একটা ক্যামোফ্লেক্স তৈরি করা হলো। ভিকটিমদের কথার সঙ্গে বন্দিশালার মিল পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি খুঁজতে গিয়ে তদন্ত সংস্থা দেখল কিছু জায়গায় দেয়াল দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। তবে সেই দেয়াল সরিয়ে ফেলার পর সেখানে ২৯টি রুমের দেখা মিলল, যা ভয়াবহ। এছাড়াও সেই রুমগুলোর নিচে একটি ডেথ সেল আছে। সেটাও অনেক ভয়াবহ। এ বিষয়ে তৎকালীন অনেকের দায় আছে, সংশ্লিষ্টদের এর ব্যাখ্যা দিতে হবে। পরবর্তীতে যারা দেয়াল টেনে আয়নাঘর ঢেকে দিয়েছে তাদেরও বিচারের আওতায় আনছি।


তিনি বলেন, র‍্যাব-১ ‘আয়নাঘর’ নামে যে টর্চার সেল ছিল সেটি পরিদর্শন করেছি। সেখানে ভয়াবহ চিত্র দেখেছি। ছোট বড় মোট ২৯টি কামরা রয়েছে। এখানে ভুক্তভোগীদের অত্যন্ত মানবেতরভাবে রাখা হতো।


এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর তিন বিচারক, প্রসিকিউটর এবং আসামি পক্ষের আইনজীবীরা এই স্থান পরিদর্শন করেন। ট্রাইব্যাুনালে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগ সংক্রান্ত মামলার বিচারিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থলের বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহের জন্য এই পরিদর্শনে আসেন তারা।


‎চিফ প্রসিকিউটর বলেন, যাদের ধরে নিয়ে আসা হতো তাদের দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর রাখা হতো।‎কামরাগুলো এতটাই ছোট ছিল যে সেখানে শুয়ে থাকার কোনো ব্যবস্থা ছিল না, বসেই দিনের পর দিন, মাসের পর মাস কাটাতে হতো। এভাবেই তাদের উপর নির্যাতন করা হতো। কাউকে দীর্ঘদিন পর মিথ্যা মামলা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হতো। যা প্রসিকিউশনে দেওয়া ভুক্তভোগীদের বর্ণনার সঙ্গে মিল পাওয়া যায়।

‎তিনি বলেন, এই সেলে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, বর্তমান সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আরমানকেও (মীর আহমদ) রাখা হয়েছিল। ‎গুম হওয়া প্রায় ২৫০ ব্যক্তির সন্ধ্যান এখনো পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।


‎আসামি পক্ষের আইনজীবী মো. তাবারক হোসেন ভূইয়া বলেন, এখানে পরিদর্শন আইন অনুযায়ী হয়েছে। তবে আমরা টিএফআই সেল দেখতে আসিনি। টিএফআই একটি ধারণা, এটি সুনির্দিষ্ট স্থান না।


পরিদর্শনে মানবাধিকার কর্মী নুর খান লিটন, মায়ের ডাকের সমন্বয়ক ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি উপস্থিত ছিলেন। এসময় সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, শুধু ভিন্ন মত ও রাজনীতি করার কারণে মানুষকে গুম করে এখানে নির্দয়ভাবে রাখা হতো।

সর্বশেষ সব খবর

জামায়াতের ইসলামী ও এনসিপির দলীয় মনোগ্রাম

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:১১ পিএম

এনসিপির কর্মসূচিতে বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী কড়া প্রতিক্রিয়া না দেখানোর কারণে বাহাস চলছে ফেসবুকে। জামায়াত এবং এনসিপির নেতাকর্মীরা পাল্টাপাল্টি মন্তব্যে বিতর্কে জড়িয়েছেন। জোটেও চলছে মন কষাকষির গুঞ্জন। 


যদিও দল দুটির জ্যেষ্ঠ নেতারা বলেছেন, সামাজিক মাধ্যমের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের গুরুত্ব রাজনীতিতে নেই। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জে এনসিপির জুলাই পদযাত্রার কর্মসূচিতে হামলা হয়। 


দলটির মুখ্য সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্য সরকারি দলের মন্ত্রী, এমপিদের প্রতি অবমাননাকর বলে অভিযোগ করে ছাত্রদল হামলা করে। এতে আলিফ চৌধুরী নামে এনসিপির স্থানীয় এক কর্মীর বাঁ চোখ নষ্ট হয়েছে। 


এ ঘটনায় ইসলামী ছাত্রশিবির সেই রাতেই বিবৃতিতে প্রতিবাদ জানায়। একে একে প্রতিবাদ জানায় জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এবি পার্টি, নেজামে ইসলাম পার্টি, জোটের কর্মসূচি থেকে দূরে থাকা খেলাফত মজলিস। ২৮ ঘণ্টা পর বিবৃতি দিয়ে প্রতিবাদ জানায় জামায়াত। 


ওই দিন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা হবিগঞ্জ যাওয়ার পথে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন। পরের দিন সিলেট এবং কুড়িগ্রামে এনসিপির পদযাত্রা, মিছিলে হামলা করে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। রাতে ১১ দলের বৈঠক থেকে এসব হামলার নিন্দা করা হয়। 


তবে এনসিপির কর্মী-সমর্থকরা গত কয়েক মাসের ধারাবাহিকতায় ফেসবুকে আবার অভিযোগ তোলেন, জোটসঙ্গী জামায়াত কড়া ভাষায় প্রতিবাদ করছে না। বিএনপির প্রতি অনেকটাই নমনীয়, প্রধান বিরোধী দল। সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করে চলছে জামায়াত। 


বিপরীতে জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা অভিযোগ তুলেছেন, বিএনপির সঙ্গে এনসিপির এই বিরোধ লোক দেখানো। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাসে এনসিপিকে আলোচনায় রাখতে বিএনপি এসব হামলা করছে। যাতে মনে হতে পারে, জামায়াত নয় এনসিপিই প্রধান বিরোধী দল। 


শিবিরের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকের প্রোফাইলে লেখেন,  ‘হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে হামলার ঘটনাগুলো খুবই সুপরিকল্পিত বলে মনে হচ্ছে। উদ্দেশ্য যা হতে পারে– জুলাই মাসে জামায়াতকে যতটা সম্ভব আলোচনার বাইরে রাখা এবং এনসিপির প্রতি জনসমর্থন তৈরি করা। গুড প্ল্যান, গুড মুভ। (ডিপ পাওয়ার)।’ 


এতে জামায়াতের অনেকে সমর্থন করেন। তাদের ভাষ্য, এনসিপিকে আলোচনায় রাখতেই বিএনপি পরিকল্পিতভাবে এসব হামলা করছে। যদিও ঘণ্টাখানেকের মধ্যে এই পোস্ট ডিলিট করেন জাহিদুল। 


তবে জবাবে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন লেখেন, ‘জামায়াতের ৬০ বছর বয়সী সংসদ সদস্য ১৭ বছরের কিশোরীকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে যে কেলেঙ্কারির জন্ম দিয়েছেন সেটা এই জুলাই মাসেই ছিল। ঘটনা শুধু আলোচনাতেই ছিলেন না; বরং বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। কিছু মানুষ দেখলাম, যারা হামলার প্রতিবাদ না জানিয়ে এর মধ্যে গভীর পরিকল্পনার গন্ধ পাচ্ছে। এনসিপির রাজনীতি দাঁড়ালে কারও কারও অসুবিধা হবে, এটাই স্বাভাবিক।’


এই বক্তব্যে সমর্থন করেন এনসিপির কর্মী-সমর্থকরা। জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা পাল্টা লেখেন, হবিগঞ্জে এনসিপির ওপর হামলার পর জামায়াতই নিরাপত্তা দিয়েছে। সিলেটের জকিগঞ্জে হামলার পর জামায়াত নেতাকর্মীরা এনসিপিকে নিরাপত্তা দেয়। একে ‘খোটা’ আখ্যা দিয়ে পাল্টাপাল্টি চলছে ফেসবুকে।  যদিও বাস্তব দুনিয়ায় এর প্রভাব খুব বেশি দেখা যাচ্ছে না। রাজধানীর জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন চোখ হারানো এনসিপিকর্মী আলিফ চৌধুরীকে দেখতে যান জামায়াত আমির শফিকুর রহমান। তিনি এ হামলার বিচার দাবি করেন। আগের রাতে বৈঠক করে ১১ দলীয় জোট এনসিপির পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দেয়। 


জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান সমকালকে বলেন, সামাজিক মাধ্যমে তো কত কথাই হয়। এর কী গুরুত্ব আছে? দল আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে কী বলছে, তা গুরুত্বপূর্ণ। জোটসঙ্গী এনসিপির ওপর হামলাকে জামায়াত কঠোর ভাষায় প্রতিবাদ করেছে। 

সর্বশেষ সব খবর