অর্থনীতিবিদ ও গবেষণা সংস্থা সিপিডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও গবেষণা সংস্থা সিপিডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন, জাতীয় সংসদ ক্রমে প্রভাবশালী ধনী গোষ্ঠীর দখলে চলে গেছে। তারাই রাষ্ট্রের নীতি ঠিক করেছে। এ কারণেই ভঙ্গুর গণতন্ত্র দেখা গেছে। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রক্রিয়া গণতান্ত্রিক করতে না পারলে দেশে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আশা করা কঠিন।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) বার্ষিক উন্নয়ন সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন মত দিয়েছেন রেহমান সোবহান। তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র ও উন্নয়ন নিয়ে আমরা যখন কথা বলি, তখন কোনো বাস্তব অভিজ্ঞতার ওপর বলি না। এর কারণ, আমরা কখনোই কার্যকর গণতন্ত্র পাইনি, যেখানে উন্নয়ন কেমন হবে এবং কোন ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন– তা নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে চিন্তাশীল বিতর্ক হয়। গত ৫০ বছরে এসব আলোচনা কখনোই টেবিলে আসেনি। আর যতক্ষণ পর্যন্ত না এগুলো আলোচনায় আসে, ততক্ষণ সমস্যার সমাধানও সম্ভব নয়।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরও রাজনৈতিক দলের মধ্যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলের মাঝে গণতন্ত্র নেই। কেন্দ্রীয়ভাবে ওহি নাজিলের মাধ্যমে নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নের প্রক্রিয়ার কোনো পরিবর্তন এখনও হয়নি।
আলোচনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসরিয়াল ফেলো সুলতান হাফেজ রহমান, পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. মনজুর হোসেন এবং বিআইডিএসের সাবেক মহাপরিচালক কে এ এস মুরশিদ। বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশে কার্যকর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ছিল না। একটি বড় ধরনের সংস্কার প্যাকেজ এখন দেশের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। এর কিছু হয়তো বর্তমান সরকার করে যেতে পারে, যদিও তাদের হাতে বাস্তবে খুব বেশি সময় নেই। শেষ পর্যন্ত এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করবে একটি নির্বাচিত সরকার। অন্তর্বর্তী সরকারকে কার্যত চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো তেমন কেউ নেই। তারা যেসব সংস্কার প্রস্তাব করছে, তা কতটা গ্রহণ করবে আগামীর নির্বাচিত সরকার– সেই প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। আলোচনার এ পর্যায়ে মঞ্চে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান মনসুরকে ইঙ্গিত করে অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, তিনি এখন বাংলাদেশ ব্যাংকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার করছেন এক ধরনের স্বাধীনতা নিয়েই। সেখানে একজন নির্বাচিত অর্থমন্ত্রী থাকলে এবং একটি পূর্ণ নির্বাচিত সরকার থাকলে একই স্বাধীনতা পাওয়া যেত?
অধ্যাপক রেহমান সোবহান আরও বলেন, ধারণা দেওয়া হয়েছে, সংস্কারগুলো নির্বাচিত সরকারকে আলোকিত করবে। তারা ভালো শাসন ব্যবস্থার পথে এগোবে এবং আমরা একই সঙ্গে ভালো গণতন্ত্র ও ইতিবাচক উন্নয়নের অভিজ্ঞতা অর্জন করব। ধারণাটি আজকাল এক ধরনের রোমান্টিক চিন্তার অংশ হয়ে গেছে, যা একটি সুন্দর ভবিষ্যতের ছবি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, একটি নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এলে তারা আসলে কী করবে? তাদের আচরণগত বৈশিষ্ট্য কী? রাজনৈতিক বাস্তবতার আলোকে প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতেই হবে। কারণ অতীতের অভিজ্ঞতা ভালো নয়।
তিনি বলেন, ‘আমাদের আরেকটি বড় সমস্যা ছিল সংসদের অকার্যকারিতা। আসলে কখনোই এমন সংসদ পাইনি, যেখানে শক্তিশালী বিরোধী দল পাঁচ বছর ধরে সরকারকে জবাবদিহির আওতায় রাখবে এবং নীতিনির্ধারণী সব প্রশ্নে বিতর্ক হবে। এগুলো গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি। আমাদের অভিজ্ঞতা মূলত ‘নির্বাচনী গণতন্ত্র’। ১৯৯১ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত আমরা নির্বাচন প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে সরকার পরিবর্তন করেছি। সেখানেও নানা সমস্যা ছিল। ব্যতিক্রম হলো– ২০০১ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ বিনা বাধায় ক্ষমতা হস্তান্তর করে বিএনপির কাছে। ৫২ বছরের ইতিহাসে এটুকুই আমাদের সাফল্য।
বর্তমান সংস্কার এজেন্ডার ঘাটতি তুলে ধরে তিনি বলেন, নির্বাচনী ব্যবস্থা কীভাবে গণতান্ত্রিক করা যায় এবং কীভাবে এমন অবস্থা তৈরি করা যায় যাতে বিপুল ধন-সম্পদ ছাড়া সাধারণ মানুষও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে–এসব বিষয়ে নির্বাচন সংস্কার কমিশন কিছুই বলেনি। মনে রাখতে হবে, ১৯৭০ সালে যারা নির্বাচন করেছেন, তাদের অনেকেই বাস ও রিকশায় চড়ে এলাকায় যেতেন। তাদের সম্পদ সীমিত ছিল। এখন নিজের ‘পাজেরো’ ছাড়া কেউ নির্বাচন করার কথা কল্পনাও করতে পারেন না।
তাঁর মতে, ‘যতক্ষণ না নির্বাচন এমন হবে যে, সমাজের সব স্তরের মানুষ সীমিত সামর্থ্য নিয়েও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে, ততক্ষণ নির্বাচিত সংসদে একটি নির্দিষ্ট শ্রেণিই আধিপত্য বিস্তার করবে। নীতি প্রণয়ন হবে তাদের স্বার্থকে কেন্দ্র করে। অতএব, বাস্তবতা হলো সংস্কার টেবিলে আসবে, কিছু পাস হবে এবং কিছু বাস্তবায়ন করবে একটি নির্বাচিত সংসদ, যার সদস্যদের পছন্দ-অপছন্দই নির্ধারণ করবে সংস্কারের পরিণতি। আমরা আশা করতে পারি, কিছু সংস্কার অন্তত কার্যকর হবে। কিন্তু দিনের শেষে সংসদের চরিত্র না বদলালে এবং সমাজের বিভিন্ন অংশের প্রতিনিধিত্ব না থাকলে, আমরা আবার একটি এলিট-নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্রের মুখোমুখি হবো। যে গণতন্ত্র আমাদের বহু সমস্যার জন্ম দিয়েছে।
উন্নয়নের সংকট প্রসঙ্গে অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, এর প্রধান কারণগুলোর একটি হলো দুর্বল শাসন ব্যবস্থা। দুর্বল শাসন ব্যবস্থা ও অপশাসন নিয়ে কোনো দিন সংসদে কার্যকর আলোচনা হয়নি। বাজেট পর্যন্ত সংসদে ঠিকভাবে আলোচিত হয়নি। সরকারি অর্থনীতি, উন্নয়ন নীতি এবং দুর্নীতি কোনোটিই সংসদে আলোচিত হয়নি। জিয়াউর রহমানের শাসনামল থেকে বাংলাদেশে যে খেলাপি ঋণের সংকট শুরু হয়েছে এবং এত বছর ধরে চলে আসছে, তা নিয়ে সংসদে কখনও যথাযথ আলোচনা হয়নি। এ নিয়ে কোনো অর্থবহ বা জোরালো বিতর্কও অনুষ্ঠিত হয়নি। এতে বোঝা যায়, বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও উন্নয়নকে সমন্বয় করা কত বড় সমস্যা।
অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, ‘৩৫ বছর আগে যখন শাহাবুদ্দিন সরকারে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পরিকল্পনা উপদেষ্টার দায়িত্ব ছিলাম। তখন বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির আমন্ত্রণে একই বিষয়ে অর্থাৎ গণতন্ত্র ও উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। গত ৩৫ বছরে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় কী মূল্য সংযোজন হলো, তা বুঝতে মূলত এই অধিবেশনে এসেছেন তিনি। যদিও গণতন্ত্র ও উন্নয়নের বিতর্ক বহু পুরোনো। বহু বছর ধরে গণন্ত্র ও উন্নয়নের বিতর্ক চলে আসছে। ভালো উন্নয়নের জন্য গণতন্ত্র প্রয়োজন। গত ১০ থেকে ১৫ বছর বাংলাদেশের উন্নয়নে নিজস্ব একটি বয়ান তৈরি করা হয়েছে। যেখানে উন্নয়নের নামে ভালো অবকাঠামো, জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক সূচকের উন্নয়ন প্রাপ্তি হিসেবে বলা হয়েছে। কিন্তু সুশাসন পাওয়া যায়নি। মন্দ সরকার দিয়ে কীভাবে ভালো উন্নয়ন হতে পারে?
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
সৌদি আরবে একাধিক হুতি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। এসব হামলায় ৩ বাংলাদেশি নিহত ও বেশ কয়েকজন হতাহতের ঘটনাও রয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নিন্দা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি সরকার ও জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে।
বাংলাদেশ সব ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
ছবি : সংগৃহীত
আসছে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রা কমে ঢাকাসহ সারাদেশে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এরইমধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির শুক্রবার বলেন, “উত্তরের দিকে তাপমাত্রা কিছুটা কমছে। রংপুর বিভাগের কথা চিন্তা করলে তেঁতুলিয়ায় দিন ও রাতের তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রয়েছে। রাজারহাট ও দিনাজপুরেও তাপমাত্রা ২০ থেকে ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে আছে। রাজশাহী ও ঈশ্বরদীতেও তাপমাত্রা কমেছে।
“সামনের সপ্তাহে আবহাওয়ার বর্তমান ব্যবস্থাটি কেটে গেলে তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তখন ঢাকাসহ সারাদেশে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে।”
এদিকে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে তথ্য দিয়ে এই আবহাওয়াবিদ বলেন, “পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটি আরও ঘনীভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শনিবার এটি নিম্নচাপে এবং পরে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।
“এই মুহূর্তে এর কোনো প্রভাব আমাদের ওপর নেই। তবে ২৫ অক্টোবরের পর উপকূলীয় এলাকায় কিছুটা বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।”
আগামী কয়েক দিনের আবহাওয়া পরিস্থিতি সম্পর্কে তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, “আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় দেশে বৃষ্টিপাতের তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই। পুরো দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে।”
প্রতীকী ছবি
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গত একদিনে ডেঙ্গু নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ২৯৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু-বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) দুজন ও ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) একজনের মৃত্যু হয়েছে।
এতে চলতি বছর মশাবাহিত রোগটিতে এ পর্যন্ত মোট প্রাণহানি ৩৭১ জনে দাঁড়াল।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাহিরে) সবচেয়ে বেশি ২৭৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পাশাপাশি এই সময়ে বরিশাল বিভাগে ১৫৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২১৯, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১১৬, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩১, খুলনা বিভাগে ১৪৭, ময়মনসিংহ বিভাগে ১০০, রাজশাহী বিভাগে ১১৩ ও রংপুর বিভাগে ৩৮ ও সিলেট বিভাগে দুইজন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
সবমিলিয়ে চলতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে আজ শুক্রবার পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ৩৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনসহ শুধু ঢাকা বিভাগেই ডেঙ্গুতে ১৭৯ জন মারা গেছেন।
এ ছাড়া উল্লেখিত সময়ে খুলনা বিভাগে ৬৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩০ জন, বরিশাল বিভাগে ২৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৩ জন, রংপুরে ৭ জন ও সিলেট বিভাগে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রতীকী ছবি
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২১৪ জনে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।
বুলেটিনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেট বিভাগেই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ১৩৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৫৫৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১৯৪ জন, বরিশালে ১১৫ জন, সিলেটে ৯৪ জন, ময়মনসিংহে ৬৫ জন, খুলনায় ৬০ জন, রংপুরে ২৪ জন এবং রাজশাহীতে ২০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬৩৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ৮৬ হাজার ৭৯৮ জন।
এদিকে, ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৮৭০ জনে। তাদের মধ্যে ২৩ হাজার ২৭৩ জনের শরীরে হাম নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খানকে দেখে এলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বঙ্গভবন জানিয়েছে, শুক্রবার সকালে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে যান রাষ্ট্রপতি। তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর স্ত্রী অ্যাডভোকেট রোকসানা খন্দকার এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
এভারকেয়ার হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সাহাবুদ্দিন তালুকদারসহ চিকিৎসকরা আবদুল মঈন খানের সর্বশেষ অবস্থা রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।
গত বুধবার বুকে ব্যথা নিয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন মঈন খান। তিনি শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগে ভুগছেন। চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।
শাহজালাল বিমানবন্দরে যাত্রীরা (ফাইল ছবি)
৩৫ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠিয়েছে ইউরোপের কয়েকটি দেশ। এর মধ্যে ইতালি থেকে ১৯ জন, গ্রিস থেকে ১০ জন এবং সাইপ্রাস থেকে ছয়জন বাংলাদেশি দেশে ফিরছেন।
ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল সোয়া আটটায় একটি বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে (পিভিজি ৯৪৪৫) তারা ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
বিমানবন্দরে সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটি ও প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহযোগিতায় ফেরত আসা বাংলাদেশিদের জরুরি সহায়তা, কাউন্সেলিং এবং নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম। এ সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, একটি বিশেষ বিমানে করে ৩৫ বাংলাদেশি শুক্রবার সকালে ঢাকায় এসেছেন। এর মধ্যে ইতালি থেকে ১৯ জন, গ্রিস থেকে ১০ জন এবং সাইপ্রাস থেকে ছয়জন বাংলাদেশি দেশে ফিরছেন।
তাদের সবাইকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রত্যাশা-২ প্রকল্প থেকে বিমানবন্দরে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে কাউন্সিলিং ও প্রশিক্ষণ শেষে সবাইকে অর্থনৈতিক সহায়তা করা হবে।