বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হওয়ায় গ্রামে তীব্র লোডশেডিং
জ্বালানি সংকট ও মেরামতের কারণে দেশের ৪১টি বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ আছে। চালু থাকা কেন্দ্রগুলোর অধিকাংশই সক্ষমতা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে না। এই পরিস্থিতিতে রাজধানীর বাইরে শিল্পাঞ্চলগুলোতেও উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। গ্রামের অবস্থা আরও খারাপ। কোথাও ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ যাচ্ছে। কোথাও একবার গেলে কয়েক ঘণ্টায়ও আসছে না। তীব্র গরমে মানুষ চরম ভোগান্তিতে আছে।
বিতরণ কোম্পানির সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে লোডশেডিং আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। গড়ে প্রায় তিন হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং হচ্ছে। মাত্র ১০ ঘণ্টার ব্যবধানে আগের রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড হয়েছে। গত রোববার বিকেল ৩টায় সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল তিন হাজার ৬৭১ মেগাওয়াট। রাত ১টায় তা বেড়ে দাঁড়ায় তিন হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াটে।
এর আগে ৩ আগস্ট রাত ১টায় সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছিল তিন হাজার ৫১২ মেগাওয়াট। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০২৩ সালের ২৭ জুন সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছিল তিন হাজার ৪১৯ মেগাওয়াট।
লোডশেডিংয়ের মূল কারণ গ্যাসের ঘাটতি। চাহিদার তুলনায় এক-তৃতীয়াংশের কম গ্যাস পাচ্ছে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কয়লা সরবরাহের সংকট। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
গ্যাস নেই, বন্ধ বিদ্যুৎকেন্দ্র
দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় একটি অংশ এখনও গ্যাসনির্ভর। ফলে গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি হলে সরাসরি প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ২৫২ কোটি ঘনফুট। লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণে রাখতে অন্তত ১০০ থেকে ১১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৭০ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ চাহিদার এক-তৃতীয়াংশেরও কম গ্যাস পাচ্ছে কেন্দ্রগুলো। জ্বালানি সংকট ও মেরামতের জন্য ৪১টি বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ। চালু থাকা কেন্দ্রগুলোর অধিকাংশই চলছে আংশিক সক্ষমতায়।
একসময় গ্যাস থেকে প্রায় পাঁচ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো। এখন তা নেমে এসেছে সাড়ে তিন থেকে চার হাজার মেগাওয়াটে। কিছুদিন আগেও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল সাড়ে পাঁচ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ও অবকাঠামো থাকলেও জ্বালানির অভাবে তার পুরোটা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
পূর্ণ সক্ষমতায় ফেরেনি এলএনজি টার্মিনাল
গ্যাস সংকটের বড় ধাক্কাটি আসে গত ২১ জুলাই। কক্সবাজারের মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকেই গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়।
টার্মিনালটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর দৈনিক প্রায় ৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ২১৪ কোটি ঘনফুটে। ১৫ দিন পর আংশিক মেরামতের মাধ্যমে ২৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। তবে টার্মিনালটি এখনও পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরতে পারেনি।
পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন) প্রকৌশলী মো. শোয়েব জানিয়েছেন, টার্মিনালটির মেরামত শেষ হতে দুই-তিন দিন লাগতে পারে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি সপ্তাহেই গ্যাস সরবরাহ বাড়বে। টার্মিনালটি পুরোপুরি সচল হলে আরও ৩০ থেকে ৩৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হবে। এতে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। তবে এটিই সংকটের শেষ নয়। দেশীয় গ্যাস উৎপাদন ক্রমেই কমছে। একই সঙ্গে আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তার কারণে গ্যাস সরবরাহে সামান্য ব্যাঘাত ঘটলেই এর সরাসরি প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ খাতে।
কয়লাতেও সংকট
বিদ্যুৎ সংকটকে আরও তীব্র করেছে কয়লা সরবরাহের জটিলতা। এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার পটুয়াখালী তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে।
সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ার কারণে কুতুবদিয়ায় বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে কয়লা খালাসে বিলম্ব হচ্ছে। ফলে কয়লা কেন্দ্রে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় লাগছে।
ভারতের ঝাড়খণ্ডে আদানি পাওয়ারের কেন্দ্র থেকেও বিদ্যুৎ সরবরাহ কমেছে। বাংলাদেশে কেন্দ্রটি প্রায় এক হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করলেও কয়েক দিন ধরে তা নেমে এসেছে ৮০০ থেকে এক হাজার মেগাওয়াটে। ঝাড়খণ্ডে বন্যার কারণে কয়লা ভিজে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
তবে আদানি পাওয়ার জানিয়েছে, আজ মঙ্গলবার কয়লা সরবরাহ স্বাভাবিক হলে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন সম্ভব হতে পারে।
দেশে বর্তমানে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট সক্ষমতা প্রায় সাত হাজার ৯৪৫ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে উৎপাদন হচ্ছে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার মেগাওয়াট। রক্ষণাবেক্ষণ শেষে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট চালু হওয়ায় উৎপাদন কিছুটা বেড়েছে। তবে রামপাল ও বড়পুকুরিয়ায় উৎপাদন কমেছে। বড়পুকুরিয়ার তিনটি ইউনিটের মধ্যে দুটি কারিগরি কারণে বন্ধ রয়েছে।
বিদ্যুৎ সংকটে নাকাল মানুষ
বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘাটতির খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ গ্রাহকদের। অনেক এলাকায় দিন-রাতে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। তীব্র গরমে ফ্যান-এসি চালানো কিংবা পানির পাম্প চালানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও অনলাইনভিত্তিক কাজ। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা।
সিলেটে গতকাল সোমবার ২৪৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া গেছে ২০২ মেগাওয়াট। ঘাটতি ছিল ৪৫ মেগাওয়াট। আগের দিন ঘাটতি ছিল ৫৬ মেগাওয়াট। তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে রোববার রাতে সিলেটের টুকের বাজারে সড়ক আটকে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা।
বগুড়ার সান্তাহারেও চাহিদার তুলনায় অর্ধেকের কম বিদ্যুৎ সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে। সন্ধ্যার পর লোডশেডিং বাড়ায় চিকিৎসা, শিক্ষা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাঘাত ঘটছে। শিল্পাঞ্চলেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। গ্যাস সংকট আগে থেকেই ছিল। এর সঙ্গে বিদ্যুৎ ঘাটতি যোগ হয়ে তৈরি হয়েছে দ্বিমুখী চাপ। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ চলে গেলে উৎপাদন লাইন বন্ধ হয়ে যায়।
আবার বিদ্যুৎ এলে মেশিন স্বাভাবিক করতে সময় লাগে। উৎপাদন সচল রাখতে বাধ্য হয়ে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে। এতে জ্বালানি ব্যয় বাড়ছে। বাড়ছে উৎপাদন খরচও।
গ্যাস বাড়াতে তাগাদা
লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো হয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, বিদ্যুৎ সচিব পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানকে ফোন করে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাসের বরাদ্দ বাড়ানোর অনুরোধ করেছেন। যেসব কেন্দ্র দ্রুত জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়াতে পারবে, সেগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদনও বাড়বে। এতে লোডশেডিং কমানো সম্ভব হবে। তবে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি এখনও সন্তোষজনক নয়।
তেল দিয়ে ঘাটতি মেটানোর চেষ্টা
গ্যাস ও কয়লার সংকট সামাল দিতে ব্যয়বহুল তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। তবে এতে উৎপাদন ব্যয় ও সরকারি ভর্তুকির চাপ বাড়ে। তা ছাড়া বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া পরিশোধ না হওয়ায় জ্বালানি তেল আমদানিতেও চাপ তৈরি হয়েছে।
পিডিবির কর্মকর্তারা বলছেন, বিদ্যুতের ঘাটতি কমাতে তেলভিত্তিক কেন্দ্র থেকে উৎপাদন বাড়ানো হলেও দীর্ঘ সময় এভাবে চালানো ব্যয়বহুল। তাই গ্যাস ও কয়লা সরবরাহ স্বাভাবিক করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।
দুই-তিন দিনে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম আশা করছেন, এক-দুই দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হবে। তিনি জানান, গ্যাস সংকটের পাশাপাশি কয়লা সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় লোডশেডিং বেড়েছে। পটুয়াখালী তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র ও আদানি পাওয়ারের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক হয়েছে।
অন্যদিকে পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা বলছেন, এলএনজি টার্মিনাল পুরোপুরি সচল হলে দুই-তিন দিনের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ বাড়তে পারে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, লোডশেডিং পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ তাপমাত্রা বাড়লে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ে। ফলে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে লোডশেডিং পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে।
পুরোনো সমস্যার নতুন বিস্ফোরণ
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সংকট আকস্মিক নয়। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন হ্রাস, আমদানিনির্ভর এলএনজির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা, জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা এবং বিদ্যুৎ খাতের অতিরিক্ত সক্ষমতার চাপের পুঞ্জীভূত ফল হিসেবেই সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাময়িকভাবে কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে বাড়তি গ্যাস সরবরাহ করে লোডশেডিং কমানো গেলেও স্থায়ী সমাধান হবে না। দীর্ঘ মেয়াদে অযৌক্তিক ব্যয় কমানো, সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো, কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা, গ্যাস ও বিদ্যুতের অপচয় রোধ এবং দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দিতে হবে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, ‘দেশের জ্বালানি সংকট এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা। দ্রুত এ অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। তবে শিল্প ও বিদ্যুৎ খাত সচল রাখতে প্রয়োজনে এলএনজি আমদানি বাড়ানোর পাশাপাশি দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দিতে হবে।’
স্থানীয় অবকাঠামোর দুর্বলতাও ভোগাচ্ছে
জাতীয় গ্রিডে ঘাটতির পাশাপাশি স্থানীয় সঞ্চালন ব্যবস্থার দুর্বলতাও ভোগান্তি বাড়াচ্ছে। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজারে প্রায় ২০০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ১৪০ মেগাওয়াট। ঘাটতি থাকছে প্রায় ৬০ মেগাওয়াট।
আড়াইহাজারে ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্রের নির্মাণকাজ ২০২০ সালে শুরু হয়। ২০২৩ সালে এটি চালুর কথা থাকলেও এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি। কোরিয়া থেকে বিশেষায়িত প্রকৌশলী দল এলে সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যে অবশিষ্ট কাজ শেষ করা সম্ভব হতে পারে।
নতুন গ্রিডটি চালু হলে ভূলতা গ্রিডের ওপর চাপ কমবে। তৈরি হবে বিকল্প সঞ্চালন পথ। এতে রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজারের স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে। তবে জাতীয় গ্রিডে উৎপাদন ঘাটতি থাকলে শুধু স্থানীয় অবকাঠামো শক্তিশালী করে লোডশেডিং পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়।
প্রতীকী ছবি
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২১৪ জনে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।
বুলেটিনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেট বিভাগেই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ১৩৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৫৫৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১৯৪ জন, বরিশালে ১১৫ জন, সিলেটে ৯৪ জন, ময়মনসিংহে ৬৫ জন, খুলনায় ৬০ জন, রংপুরে ২৪ জন এবং রাজশাহীতে ২০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬৩৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ৮৬ হাজার ৭৯৮ জন।
এদিকে, ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৮৭০ জনে। তাদের মধ্যে ২৩ হাজার ২৭৩ জনের শরীরে হাম নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খানকে দেখে এলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বঙ্গভবন জানিয়েছে, শুক্রবার সকালে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে যান রাষ্ট্রপতি। তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর স্ত্রী অ্যাডভোকেট রোকসানা খন্দকার এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
এভারকেয়ার হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সাহাবুদ্দিন তালুকদারসহ চিকিৎসকরা আবদুল মঈন খানের সর্বশেষ অবস্থা রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।
গত বুধবার বুকে ব্যথা নিয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন মঈন খান। তিনি শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগে ভুগছেন। চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।
শাহজালাল বিমানবন্দরে যাত্রীরা (ফাইল ছবি)
৩৫ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠিয়েছে ইউরোপের কয়েকটি দেশ। এর মধ্যে ইতালি থেকে ১৯ জন, গ্রিস থেকে ১০ জন এবং সাইপ্রাস থেকে ছয়জন বাংলাদেশি দেশে ফিরছেন।
ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল সোয়া আটটায় একটি বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে (পিভিজি ৯৪৪৫) তারা ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
বিমানবন্দরে সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটি ও প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহযোগিতায় ফেরত আসা বাংলাদেশিদের জরুরি সহায়তা, কাউন্সেলিং এবং নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম। এ সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, একটি বিশেষ বিমানে করে ৩৫ বাংলাদেশি শুক্রবার সকালে ঢাকায় এসেছেন। এর মধ্যে ইতালি থেকে ১৯ জন, গ্রিস থেকে ১০ জন এবং সাইপ্রাস থেকে ছয়জন বাংলাদেশি দেশে ফিরছেন।
তাদের সবাইকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রত্যাশা-২ প্রকল্প থেকে বিমানবন্দরে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে কাউন্সিলিং ও প্রশিক্ষণ শেষে সবাইকে অর্থনৈতিক সহায়তা করা হবে।
বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দোকানপাট ও শপিং মল রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার বিশেষ অনুমতির মেয়াদ শেষ হয়েছে। ফলে আজ শুক্রবার থেকে আগের সময়সূচি অনুযায়ী সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে দোকানপাট, মার্কেট ও বিপণিবিতান।
এতে প্রতিষ্ঠানগুলোর খোলা থাকার সময় দুই ঘণ্টা কমছে। বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রাখতে চলতি বছর কয়েক দফায় দোকানপাট খোলা ও বন্ধের সময় পরিবর্তন করেছে সরকার। সর্বশেষ গত ৫ অক্টোবর দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত রাত ১০টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখার অনুমতি দেয় বিদ্যুৎ বিভাগ।
সেই সময়সীমা শেষ হওয়ায় আজ থেকে পুরোনো নিয়ম কার্যকর হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সকাল ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত শপিং মল, মার্কেট ও দোকানপাট খোলা রাখা যাবে। ২৩ অক্টোবর থেকে আগের নিয়মে সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে হবে।
এ বছর জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে দোকানপাট বন্ধের সময় একাধিকবার পরিবর্তন করা হয়। এপ্রিলের শুরুতে শপিং মল ও দোকানপাট সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরে ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সময় বাড়িয়ে সন্ধ্যা ৭টা করা হয়। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে গত ১২ মে সাময়িকভাবে রাত ১০টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়।
এরপর জুনে বন্ধের সময় রাত ৯টা নির্ধারণ করা হয়। পরে ১২ আগস্ট বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সময় আরও এক ঘণ্টা কমিয়ে রাত ৮টা করা হয়। সেই অনুযায়ী সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখার নিয়ম চালু হয়, যা আজ থেকে আবার কার্যকর হলো।
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে নিসচার র্যালি ও সমাবেশ
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর উদ্যোগে আজ সকাল ১১টায় রাজধানীর কাকরাইলে নিসচার কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে জাতীয় প্রেসক্লাব পর্যন্ত এক বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। র্যালিতে নিসচার উপদেষ্টা, আজীবন সদস্য, কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ, সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, সবার জন্য বাংলাদেশ, নিসচা মুন্সীগঞ্জ জেলা শাখা, নিসচা ঢাকা জেলা, বাংলাদেশ সাইকেল লেন, নিসচা ধামরাই উপজেলা,নিসচা পলাশ উপজেলা শাখা, নিসচা নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা, নিসচা লৌহজং উপজেলা শাখা, নিসচা শিবপুর উপজেলা শাখা, নিসচা সাভার উপজেলা শাখা, নিসচা ঠাকুরগাঁও জেলা শাখা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ অনেকে অংশ নেন।
র্যালিটি কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে নির্ধারিত পথ অতিক্রম করে জাতীয় প্রেসক্লাবে গিয়ে শেষ হয়। অংশগ্রহণকারীরা সড়কে শৃঙ্খলা, আইন মানা, চালক ও যাত্রীর নিরাপত্তা এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান। তাঁদের হাতে থাকা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ডে নিরাপদ সড়কের দাবিতে নানা বার্তা তুলে ধরা হয়। র্যালি থেকে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও পঙ্গুত্বের ঝুঁকি কমাতে সরকার, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, পরিবহন খাত, গণমাধ্যম এবং নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
জাতীয় প্রেসক্লাবে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে নিসচার নেতৃবৃন্দ বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা কোনো অনিবার্য ঘটনা নয়। পরিকল্পিত ব্যবস্থা, বিদ্যমান আইন ও বিধির যথাযথ প্রয়োগ, দক্ষ চালক তৈরি এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের সচেতন আচরণের মাধ্যমে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব। এজন্য সড়ক নিরাপত্তাকে বিচ্ছিন্ন কোনো কর্মসূচি হিসেবে না দেখে নিয়মিত ও সমন্বিত জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
নেতৃবৃন্দের বক্তব্যে চালকের যোগ্যতা ও প্রশিক্ষণ, যানবাহনের ফিটনেস, সড়কের নকশা ও রক্ষণাবেক্ষণ, পথচারীর নিরাপত্তা, দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার এবং চিকিৎসা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। তাঁরা বলেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে কেবল আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়, আইন বাস্তবায়ন, তদারকি, তথ্য সংগ্রহ এবং অনিয়মের জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে।
নিসচার দাবি ও সুপারিশ
র্যালি ও সমাবেশ থেকে নিসচার পক্ষ থেকে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কয়েকটি দাবি ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়:
সড়ক নিরাপত্তা আইন ও বিধির কার্যকর প্রয়োগ: ট্রাফিক আইন ভঙ্গ, বিপজ্জনক গতিতে গাড়ি চালানো, ভুল পথে চলা, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, অতিরিক্ত যাত্রী বা মাল বহন এবং যানবাহনের কাগজপত্র ও ফিটনেসসংক্রান্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে নিয়মিত ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা নিতে হবে।
চালকদের দক্ষতা ও যোগ্যতা নিশ্চিত করা: পেশাদার চালকদের প্রশিক্ষণ, পরীক্ষার মান এবং লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করতে হবে। চালকের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা, বিশ্রাম এবং কর্মঘণ্টার বিষয়েও নজর দিতে হবে, যাতে ক্লান্তি বা অদক্ষতার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি না বাড়ে।
যানবাহনের ফিটনেস ও নিরাপত্তা তদারকি: যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানসহ সব ধরনের যানবাহনের নিয়মিত পরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। ত্রুটিপূর্ণ, অনুপযোগী বা অতিরিক্ত ধোঁয়া নির্গমনকারী যান চলাচল বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধারাবাহিক নজরদারি করতে হবে।
সড়ক ও অবকাঠামো নিরাপদ করা: ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, অপর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, অস্পষ্ট বা অনুপস্থিত সাইন-সিগন্যাল এবং বিপজ্জনক প্রবেশপথ চিহ্নিত করে দ্রুত সংস্কার করতে হবে। সড়ক নির্মাণ ও মেরামতের পরিকল্পনায় চালক, যাত্রী, পথচারী, শিশু, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিরাপত্তা বিবেচনায় রাখতে হবে।
পথচারী ও যাত্রী সুরক্ষা: ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা করা, প্রয়োজনীয় স্থানে জেব্রা ক্রসিং ও ট্রাফিক সংকেত স্থাপন এবং বাসস্টপ ও যাত্রী ওঠানামার স্থান সুশৃঙ্খল করা জরুরি। স্কুল, হাসপাতাল, বাজার ও জনবহুল এলাকায় যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
গতিসীমা ও ঝুঁকিপূর্ণ চালনা নিয়ন্ত্রণ: সড়কের ধরন ও পরিবেশ অনুযায়ী গতিসীমা নির্ধারণ করে তা দৃশ্যমানভাবে জানাতে হবে। দ্রুতগতির যান শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং নিয়মিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করার সুপারিশ করা হয়।
দুর্ঘটনার তথ্য ও গবেষণা: দুর্ঘটনার স্থান, সময়, ধরন ও কারণ সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করে নিয়মিত বিশ্লেষণ প্রকাশ করতে হবে। তথ্যের ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
দুর্ঘটনার পর দ্রুত সেবা: দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার, জরুরি চিকিৎসা এবং উপযুক্ত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে। জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং সাধারণ মানুষের জন্য সহজে ব্যবহারযোগ্য জরুরি যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
নিরাপত্তা শিক্ষার বিস্তার: বিদ্যালয়, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, কর্মক্ষেত্র ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে নিয়মিত শিক্ষা ও প্রচার চালাতে হবে। চালক, হেলপার, যাত্রী, পথচারী এবং পরিবহন মালিক—সবার জন্য সচেতনতামূলক কর্মসূচি প্রয়োজন।
সমন্বিত ও জবাবদিহিমূলক উদ্যোগ: সড়ক নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত সরকারি দপ্তর, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠন, বিশেষজ্ঞ এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে। নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করে জনগণের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
নিসচার নেতৃবৃন্দ বলেন, নিরাপদ সড়ক গড়ে তুলতে প্রত্যেকের ভূমিকা রয়েছে। চালককে দায়িত্বশীলভাবে গাড়ি চালাতে হবে, যাত্রীকে নিরাপত্তাবিধি মানতে হবে, পথচারীকে সতর্ক থাকতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিয়ম প্রয়োগ ও নিরাপদ অবকাঠামো নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে পরিবহনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ এবং জনসচেতনতামূলক উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ।
তাঁরা আরও বলেন, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো এবং আহত ব্যক্তিদের যথাযথ সহায়তা দেওয়া মানবিক দায়িত্ব। দুর্ঘটনার কারণ নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান, প্রতিরোধমূলক সুপারিশ বাস্তবায়ন এবং একই ধরনের দুর্ঘটনা যেন পুনরায় না ঘটে সে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের কর্মসূচি থেকে নিসচা দেশের সর্বস্তরের মানুষকে সড়ক আইন মেনে চলা, নিরাপদ গতিতে যানবাহন চালানো, ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ পরিহার করা এবং সড়কে অন্যের অধিকার ও নিরাপত্তার প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের প্রতি সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বাস্তবসম্মত, ধারাবাহিক ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
২২ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে এবারের প্রতিপাদ্য হলো – ‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। আর নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য নিরাপদ নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।
প্রতীকী ছবি
দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যু অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত রোগটিতে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে।
একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৫১২ জন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬৮ জনে। আজ বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক হালনাগাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে গতকাল বুধবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার হিসাব তুলে ধরা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন ময়মনসিংহের এবং একজন করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল।
গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি নতুন রোগীদের মধ্যে ডিএসসিসির এলাকায় ১১১ জন ও ডিএনসিসির এলাকায় ১৪৬ জন রয়েছে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ২৫৫ জন।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে, ঢাকার বাইরে সবচেয়ে বেশি ২৯৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছে চট্টগ্রামে। এ ছাড়া বরিশালে ২৩১ জন, খুলনায় ২০৬, রাজশাহীতে ১৬২, ময়মনসিংহে ৬০, রংপুরে ৪৪ ও সিলেটে আটজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাসভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ডেঙ্গুতে দুজন করে মারা যায়। মে মাসে মারা যায় একজন। এরপর জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬, আগস্টে ৪৩ ও সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়। অক্টোবরে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ১২৩ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার ৫০২ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ১১১ জন।
চলতি বছর ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৫২ দশমিক ৯ শতাংশ নারী ও ৪৭ দশমিক ১ শতাংশ পুরুষ। অন্যদিকে, হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে ৩৭ দশমিক ৯ শতাংশ নারী ও ৬২ দশমিক ১ শতাংশ পুরুষ।