• প্রকাশ : সোমবার ২৯ জুন, ২০২৬, সময় : ২:০৩ এএম
  • আপডেট : সোমবার ২৯ জুন, ২০২৬, সময় : ১১:৪২ এএম

মুস্তাফা মনোয়ার

  • প্রকাশ : সোমবার ২৯ জুন, ২০২৬, সময় : ২:০৩ এএম

দেশের বরেণ্য শিল্পী, চিত্রকর ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই। 


সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার পাশে ছিলেন পরিবারের সদস্যরা। তার দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সহকারী রুবেল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


রুবেল জানান, রাত ৩টা থেকেই তিনি হাসপাতালে ছিলেন। সকালে চিকিৎসকদের কাছ থেকে মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুর খবর পান। তিনি আরও জানান, হাসপাতালের লাইফ সাপোর্ট ইউনিটে স্বজনদের অবস্থানের সুযোগ না থাকায় মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা বাসায় ফিরে যান।


মরদেহের পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পর্কে রুবেল বলেন, প্রথমে মরদেহ গোসল করানো হবে। এরপর ধানমন্ডির ১ নম্বর সড়কের ১৯ নম্বর বাসভবনে নেওয়া হবে। জানাজা ও দাফনের সময় ও স্থান পরে পরিবারের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হবে।


মুস্তাফা মনোয়ারের সঙ্গে রুবেলের সম্পর্ক ছিল দীর্ঘদিনের। তিনি জানান, ১৯৯৪ সাল থেকে তার সঙ্গে পরিচয়। আর গত ২৬-২৭ বছর ধরে তিনি ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। এদিকে মুস্তাফা মনোয়ারের স্ত্রী ও মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে রুবেল বলেন, পরিবারের সদস্যরা গভীর শোকের মধ্যে রয়েছেন।




১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলার নাকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। তার পৈতৃক বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে। তিনি প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফার সন্তান। দীর্ঘ কর্মজীবনে চিত্রকলা, টেলিভিশন, শিশুতোষ অনুষ্ঠান নির্মাণ এবং দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অসামান্য অবদান রাখেন মুস্তাফা মনোয়ার। শিল্প-সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।


মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে দেশের শিল্প, সংস্কৃতি ও গণমাধ্যম অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার দীর্ঘ কর্মজীবনে চিত্রকলা, শিশুতোষ অনুষ্ঠান নির্মাণ, টেলিভিশন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। 


  শহীদ মিনারে সর্বজনের শ্রদ্ধা, বনানীতে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন মুস্তাফা মনোয়ার




প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৫২ পিএম

আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও যদি কোনো গণমাধ্যম আগাম ঘোষণা দিয়ে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার বা সম্প্রচারের খবর প্রকাশ করে, তাহলে তা আদালতের রায়ের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে এবং এ বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি একথা বলেন।


ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, আগেও এ বিষয়ে সরকার গণমাধ্যমের জন্য সতর্কতামূলক নির্দেশনা দিয়েছিল। যদি কেউ আগাম প্রচার করে যে শেখ হাসিনা বক্তব্য দেবেন এবং সেটি প্রকাশ বা সম্প্রচার করে, তবে সেটি আদালতের আদেশ অমান্য করার শামিল হবে।


তিনি বলেন, আমরা আবারও সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেব, কেউ যেন এ ধরনের কাজ না করেন। আদালতের নির্দেশনা মানা প্রত্যেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। সরকারের কাজ হলো আদালতের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।


তিনি ব্যক্তিগত মতামত তুলে ধরে বলেন, আদালতের আদেশ না থাকলে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে বাধা দেওয়া ঠিক হতো না। কেউ যদি আদালতের ওই আদেশের সঙ্গে একমত না হন, তাহলে তিনি আদালতেই গিয়ে সেই রায় চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত আদালতের আদেশ বহাল থাকবে, ততক্ষণ সেটি সবাইকে মেনে চলতে হবে।


সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ বৃহস্পতির জামিন পাওয়ার তথ্য সরকার দুই-তিন দিন পর জানল কেন? একজন সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, এ বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন এবং তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারছেন না।


তিনি বলেন, আমি বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেব এবং তার সঙ্গে কথা বলব। কেন এ ধরনের গ্যাপ হয়েছে, সেটি খতিয়ে দেখা হবে।


প্রশাসনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এখনো আগের সরকারের প্রভাব রয়েছে এমন প্রশ্নের উত্তরে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন ও দেশত্যাগ বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তবে ১৫ বছর ধরে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে যারা দায়িত্বে ছিলেন, তাদের সবাইকে একদিনে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।


তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায়, বিশেষ করে প্রশাসনসহ নানা প্রতিষ্ঠানে আগের সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানুষ এখনো রয়েছেন। চাইলেই এত মানুষকে একসঙ্গে সরিয়ে ফেলা সম্ভব নয়। ১৫ বছরে বিভিন্ন স্তরে যারা উঠে এসেছেন, তাদের পরিবর্তে নতুনদের আনতে সময় লাগে।


তিনি আরও বলেন, শুধু বদলি করলেই হবে না, নতুন কর্মকর্তাদের দক্ষতা অর্জনেরও বিষয় রয়েছে। সরকার ধীরে ধীরে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করছে, তবে এমনভাবে নয় যেন রাষ্ট্রের সেবাদান ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে।


প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, চেষ্টা শুধু নয়, কাজও চলছে। তবে এমনভাবে পরিবর্তন করা হচ্ছে না, যেন ভঙ্গুর সিস্টেম আরও ধ্বংস হয়ে যায়। কারণ শেষ পর্যন্ত মানুষের কাছে সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৩৯ পিএম

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট চলমান মামলাগুলো আগামী এক বছরের মধ্যে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে কাজ করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। বিচারপ্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক সব মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে এবং কোনোভাবেই তাড়াহুড়ো করে বিচার করা হবে না বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।


মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর এ পর্যন্ত ছয়টি মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। এর চেয়েও দ্রুত বিচার শেষ করা সম্ভব হলেও, তাতে বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখেই বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।


চিফ প্রসিকিউটর জানান, বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে জুলাই-সংশ্লিষ্ট ২০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলা আগামী এক বছরের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য প্রসিকিউশন কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি আপিল শুনানির প্রস্তুতিও চলছে।


শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি কোথায় বক্তব্য দিচ্ছেন বা দিচ্ছেন না, সেটি ট্রাইব্যুনালের বিবেচ্য বিষয় নয়। ট্রাইব্যুনালের দায়িত্ব হলো আদালতের রায় কার্যকর করার জন্য তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া। তাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব না হলে রায় বাস্তবায়নে বিলম্ব হতে পারে।


বিচারপ্রক্রিয়ায় বাছাই করে আসামি করা হচ্ছে- এমন অভিযোগও নাকচ করেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তারা স্বাধীনভাবে তদন্ত পরিচালনা করেন এবং প্রসিকিউশন সেই তদন্তে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করে না। কোনো তদন্তে ঘাটতি বা অসঙ্গতি দেখা গেলে সেটি পুনঃতদন্তের জন্য ফেরত পাঠানো হয়।


তিনি বলেন, কারও এমন ধারণা থাকতে পারে যে ইচ্ছামতো আসামি করা হচ্ছে। তবে সেই ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।


চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, সারা দেশে জুলাই-সংশ্লিষ্ট ৫০৯টি ঘটনার তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে যেগুলোর তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে, সেগুলো ধাপে ধাপে ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন করা হচ্ছে।



ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৩২ পিএম

‘জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে উপজীব্য করে আগামী ৫ আগস্ট (বুধবার) সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ উদযাপিত হবে।


দিবসটি উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ সকাল ৬.০১ মিনিটে শাহবাগস্থ জুলাই শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পস্তবক অর্পণ করবেন এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ঢাকার শেরেবাংলা নগরস্থ বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সকাল ১১:০০টায় জুলাই শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এবং সভাপতিত্ব করবেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আহমেদ আযম খান এমপি।


দিবসটি উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি দেশের সকল জেলা, উপজেলা, সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভায় এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের মিশনসমূহে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।


কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এমপি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এমপি এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এমপি। অনুষ্ঠানে জুলাই শহিদ পরিবারের প্রতিনিধি এবং জুলাই যোদ্ধাদের প্রতিনিধিরাও বক্তব্য প্রদান করবেন।


জাতীয় দৈনিকসমূহে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীর বাণী প্রকাশ করা হবে। বিশেষ ক্রোড়পত্র, স্মারক প্রকাশনা ও নিবন্ধ প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার এবং বেসরকারি সম্প্রচার মাধ্যমসমূহে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচারিত হবে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের সকল মিশনে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালিত হবে।


দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়ের পাশাপাশি দেশব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের ৬৪টি জেলায় জুলাই শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, জুলাই শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে। ঢাকা মহানগরসহ সব সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানভিত্তিক আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। দেশের সকল ধর্মীয় উপাসনালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের স্মরণে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।


জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, সামরিক জাদুঘর, জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরসহ দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি বিনোদন কেন্দ্রসমূহ শিশুদের জন্য দিনব্যাপী উন্মুক্ত রাখা হবে। পাশাপাশি দেশের সরকারি হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু পরিবার ও বৃদ্ধাশ্রমে বিশেষ প্রীতিভোজের আয়োজন করা হবে।


রাজধানীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, সরকারি ভবন ও স্মৃতিস্তম্ভ জাতীয় পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন ও আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হবে। দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরতে আলোচনা সভার পাশাপাশি রচনা, আবৃত্তি এবং চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।



সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:০৭ পিএম

আগামী বৃহস্পতিবার থেকে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর। জাদুঘরে প্রবেশে টিকিটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য টিকিটের মূল্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের আগে থেকেই অনলাইনে বুকিং করতে হবে। আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।


তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে নির্মিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ আগামীকাল বুধবার উদ্বোধন করা হবে। সকাল ৯টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাদুঘরটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের জন্য জাদুঘর পরিদর্শনের সুযোগ রাখা হবে।


সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী এলে ব্যবস্থাপনা কঠিন হতে পারে। এ কারণে নির্দিষ্ট সময়ভিত্তিক (স্লট) প্রবেশের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তাই দর্শনার্থীদের আগে থেকেই অনলাইনে বুকিং করতে হবে।


সংবাদ সম্মেলনে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে রাজধানীসহ সারা দেশে নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। জাদুঘর উদ্বোধন উপলক্ষে বিকেলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছে।


সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, উদ্বোধনের প্রথম দিন জাদুঘরটি শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। ৬ আগস্ট থেকে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য জাদুঘর খুলে দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ধীরে ধীরে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরকে পরিপূর্ণ করা হবে।



পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় বাংলাদেশ

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:১৫ পিএম

গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট, শ্রমিক অসন্তোষ, কিংবা ব্যাংকিং জটিলতার সাথে যোগ হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক নিয়ে অস্থিরতা-এসব কিছু মিলিয়ে গেল বছরটা ছিল দেশের শিল্পখাতে এক অনিশ্চয়তার অধ্যায়। এত কিছুর পরেও স্বস্তি মিলছে ডবলিউটিওর তথ্যে। 


সংস্থাটির ওয়ার্ল্ড ট্রেড স্ট্যাটিস্টিক্যাল রিভিউ ২০২৫ প্রতিবেদন দেখা যায়, টানা পঞ্চমবারের মতো পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় বাংলাদেশ। 


বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, চীনের এই শেয়ারটা আসলে এতটা ম্যাসিভ যে, এখানে অন্যরা সেই অনুপাতে গ্রো করতে পারেনি। এই গ্রো করতে না পারার কারণে আমরা বলছি যে, দ্বিতীয় স্থানে আছি। দ্বিতীয় আর প্রথমের যে তফাত বা পার্থক্য তো ৩৮ আর ১৫৭ বা ১৫৫। 


ডবলিউটিওর তথ্য বলছে, গেল বছর বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে ৩৮.৮২ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক, যার নিকটতম প্রতিযোগী ভিয়েতনামের চেয়ে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার বেশি। যদিও বছর ব্যবধানে কমেছে বিশ্ববাজারের হিসাব, সেই সাথে বাংলাদেশের যেখানে রপ্তানি বেড়েছে এক শতাংশের মতো সেখানে ভিয়েতনামের প্রায় ১১ শতাংশ।


অর্থনীতিবিদ মাহফুজ কবির বলেন, ভিয়েতনাম কিন্তু খুব দ্রুত এগিয়ে আসছে। আবার এদিকে ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা আছে-এরাই তো মূল প্লেয়ার। কম্বোডিয়াও আস্তে আস্তে এগিয়ে আসছে। তার মানে হলো যে, বাংলাদেশের অবস্থান এখন দ্বিতীয়, এটিকে ধরে রাখতে হবে আরও বেশ কিছুদিন। অন্তত এই জায়গাটা যেন কেউ না নিয়ে যায় এবং আরও দ্রুত আগোতে হবে। সে ক্ষেত্রে আমাদের অটোমেশনটা দরকার।


মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, বাংলাদেশের যে ৩৮ বা ভিয়েতনামের ৩৭, এইযে বাকি যে ব্যবসা আছে, এখানেও কিন্তু কম-বেশি সবই আসলে চায়না থেকেই আসছে, শ্রমটা বাধে।  


বছর ব্যবধানে রপ্তানি কমলেও বরাবরের মতই তৈরি পোশাকে এখনো শীর্ষ অবস্থানে চীন চতুর্থ স্থানে ভারত ও পঞ্চম তুরস্ক। 


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:১১ পিএম

সরকারি-বেসরকারি স্কুলে লটারির পরিবর্তে পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়ার ঘোষণা দিলেও সেখান থেকে সরে আসার চিন্তা করছে সরকার। সেক্ষেত্রে আগামী বছরও স্কুলে ভর্তিতে লটারি ব্যবস্থা বহাল রাখার আভাস দিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা।


শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষস্থানীয় একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে সোমবার রাতে বলেন, “স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি বহাল রাখা যায় কিনা, সে বিষয়ে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।”


ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় শিশুদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টির আশঙ্কা থেকে লটারি ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।


তার ভাষ্য, “চলতি মাসেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।”


এদিকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের এক শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে এদিন রাতে বলেন, “ভর্তিতে পরীক্ষার বদলে লটারি বহাল রাখার বিষয়ে ভাবা হচ্ছে। লটারি বহাল রাখা যায় কিনা বা কোন কোন শ্রেণিতে লটারি বহাল রাখায় যায়, সে বিষয়ে ভর্তি কমিটিকে আলোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আশা করছি ১০ অগাস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।”


গত মার্চে লটারি প্রথা বাতিলের ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


গত ১৬ মার্চ এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, "বছরের প্রথমে অ্যাডমিশন যেটা হয়, সেখানে আমরা লটারির পরিবর্তে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করতে যাচ্ছি। আগাম জানিয়ে দিলাম, যেন সবাই সুযোগ পায়।


"আমরা লটারি সিস্টেম উইথড্র করলাম,দ্যাটস ইট।"