মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, একুশে পদকপ্রাপ্ত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, একুশে পদকপ্রাপ্ত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহর ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগ বাতিল এবং ওই পদে পাওয়া সব বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে একজন প্রবীণ চিকিৎসক ও শিক্ষকের প্রতি অসম্মানজনক হিসেবে দেখছেন চিকিৎসক সমাজ, শিক্ষাবিদ, সাবেক শিক্ষার্থী, বিভিন্ন পেশাজীবী এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহারকারীদের বড় একটি অংশ।
তারা বলেছেন, প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় কোনো ত্রুটি থাকলেও তার দায় একজন ইমেরিটাস অধ্যাপকের ওপর চাপানো উচিত নয়। প্রশাসনিক কোনো ত্রুটি থাকলেও একজন গুণী শিক্ষক ও চিকিৎসকের সম্মান ক্ষুণ্ন না করেই বিষয়টির সমাধান করা যেত।
গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তফা কামাল স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বলা হয়, অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহকে আজীবনের জন্য ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া বিধিবহির্ভূত ছিল। এ কারণে তার আজীবন নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৪ সালের ২০ জুন থেকে ওই পদে উত্তোলিত সব বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে গত দুই দিন ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চিকিৎসক, সাংবাদিক, গবেষক এবং সাধারণ মানুষের দেওয়া পোস্টে ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহর দীর্ঘ চিকিৎসাসেবা, শিক্ষকতা, ব্যক্তিগত সততা এবং সাধারণ মানুষের প্রতি তার দায়বদ্ধতার কথা উঠে এসেছে। ডা. আব্দুল্লাহর আজীবন ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগ বাতিলের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া অধিকাংশ পোস্টেই তাকে ‘দল-মতের ঊর্ধ্বে একজন চিকিৎসক’, ‘গরিবের ডাক্তার’ এবং ‘জাতীয় সম্পদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই লিখেছেন, একজন চিকিৎসক হিসেবে ডা. আব্দুল্লাহ কখনো রাজনৈতিক পরিচয়ে নয়, বরং তার পেশাগত সততা ও মানবিকতার জন্য মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়েছেন। অনেকে লিখেছেন, জাতীয় অধ্যাপক কোনো চাকরি নয়; এটি একজন শিক্ষকের সারাজীবনের গবেষণা, শিক্ষা ও একাডেমিক অবদানের স্বীকৃতি। ফলে এমন সম্মান প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে আরও সংবেদনশীলতা প্রয়োজন ছিল। তাদের মতে, এসব সম্মান দেওয়ার ক্ষেত্রেও যেমন যোগ্যতাই একমাত্র মানদণ্ড হওয়া উচিত, তেমনি কোনো প্রশাসনিক ত্রুটি থাকলেও তা সংশোধনের সময় একজন গুণী মানুষের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। দেশের লাখো মানুষের আস্থার প্রতীক হিসেবে পরিচিত একজন চিকিৎসককে এভাবে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মুখোমুখি করা জাতির জন্য সুখকর বার্তা নয়।
সবচেয়ে বেশি সমালোচনা তার ভাতা ফেরতের নির্দেশকে ঘিরে। ভাতা ফেরতের নিদের্শের সমালোচনা করে চিকিৎসকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ বলেছেন, ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে যে সম্মান ও ভাতা তিনি পেয়েছেন, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈধ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই গ্রহণ করেছেন। এখন সেই অর্থ ফেরত চাওয়া আইনগতভাবে কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অনেকে বলেছেন, কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত পরে বাতিল হলেও এরই মধ্যে প্রদত্ত সম্মানী বা আর্থিক সুবিধা ফেরত চাওয়ার নিচু মানসিকতার পরিচয়। এক্ষেত্রে সুস্পষ্ট আইনগত ভিত্তি থাকা প্রয়োজন।
বহু চিকিৎসক লিখেছেন, অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ছিলেন মূলত তার পেশাগত দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং চিকিৎসক হিসেবে গ্রহণযোগ্যতার কারণে। একজন রাষ্ট্রপ্রধান তার চিকিৎসক হিসেবে যাকে বেছে নেন, সেটি রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে পেশাগত আস্থার বিষয় বলেই তারা মনে করেন। একজন চিকিৎসক ফেসবুকে লেখেন, ‘ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ স্যারের মতো একজন মানুষের সারাজীবনের অবদানকে মূল্যায়ন না করে কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত দিয়ে বিচার করা ঠিক নয়।’
যদিও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, বিষয়টি কোনো ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে নয়; বরং বিধিবহির্ভূতভাবে গৃহীত একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত সংশোধনের অংশ। তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন সমালোচকরা। তাদের মতে, প্রশাসনিক শুদ্ধতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি একজন বরেণ্য চিকিৎসক, শিক্ষক ও গবেষকের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার বিকল্প পথও বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে খোলা ছিল। তাদের মতে, গুণী মানুষকে সম্মান জানানো শুধু একজন ব্যক্তিকে সম্মান জানানো নয়; গুণীজনদের মূল্যায়ন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে সেটি শুধু একজন ব্যক্তির নয়, রাষ্ট্রের মূল্যবোধ নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করে।
গুণী মানুষের মর্যাদাহারি এবং গরিবের ডাক্তারকে অসম্মান হিসেবেও দেখছেন অনেকে। তাদের মতে, ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ দীর্ঘদিন কম টাকায় রোগী দেখা, দরিদ্র মানুষের চিকিৎসক এবং শিক্ষার্থীদের কাছে সহজপ্রাপ্য শিক্ষক হিসেবে পরিচিত। তার সাবেক শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের অনেকে লিখেছেন, চিকিৎসক হিসেবে ব্যক্তিগত সততা, সাদাসিধে জীবনযাপন এবং মানবিক আচরণের কারণে তিনি দেশের অন্যতম গ্রহণযোগ্য চিকিৎসকে পরিণত হয়েছেন। তার মতো এমন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিকিৎসকের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সময় তার সারাজীবনের অবদানকে বিবেচনায় নেওয়া উচিত ছিল।
রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি নিয়েও প্রশ্ন: সমালোচকদের একটি অংশ মনে করছে, বিষয়টি এখন আর শুধু একজন অধ্যাপকের নিয়োগ বাতিলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি রাষ্ট্র ও বিশ্ববিদ্যালয় কীভাবে তাদের গুণী মানুষদের মূল্যায়ন করে, সেই প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে। জাতীয় অধ্যাপক ও ইমেরিটাস অধ্যাপক হওয়ার মতো সম্মান একজন শিক্ষক জীবনের দীর্ঘ সাধনা, গবেষণা ও শিক্ষাদানের মাধ্যমে অর্জন করেন। তখন তার ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দেশের জন্য তার অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞাই বড় সম্পদ হয়ে ওঠে। তাই এসব পদে নিয়োগ কিংবা পদ বাতিলের ক্ষেত্রে দল, মত বা রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তে একজন শিক্ষকের সামগ্রিক অবদানই প্রধান বিবেচ্য হওয়া উচিত।
সামজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একজন লিখেছেন, এটি কোনো ভালো সিদ্ধান্ত নয়। তিনি শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ছিলেন মূলত উনার পেশাগত উৎকর্ষতার কারণে। দলীয় পরিচয়ে নয়। রাজনৈতিক বিবেচনায় তাকে অসম্মান করা দেশের জন্য অসম্মান। দলীয় প্রতিহিংসার কারণে উনার নিয়োগ বাতিল করলেও উত্তোলিত অর্থ ফেরত চাওয়া প্রচলিত আইন ও বিধির পরিপন্থি।
আরেকজন লিখেছেন, জানি না, কে বা কার পরামর্শে এমন একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে আমার কাছে এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও অপ্রয়োজনীয় বলে মনে হয়েছে। অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ আমাদের জাতীয় সম্পদ। তিনি সারা জীবন মানুষের সেবা, চিকিৎসা শিক্ষা এবং মানবকল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। অর্থ-বিত্ত বা রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা—কোনোটিই কখনো তার পরিচয়ের অংশ হয়ে ওঠেনি। একজন অধ্যাপক হয়েও তিনি আজীবন সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থেকেছেন। তিনি রোগী দেখার জন্য কত সামান্য ফি নিতেন, কত অসহায় মানুষকে বিনা পারিশ্রমিকে চিকিৎসা দিয়েছেন—এসব দেশের মানুষ ভালো করেই জানে। এমন একজন সহজ সরল সাদা মনের মানব হিতৈশী দেশপ্রেমিক ডাক্তারকে অসম্মানিত করে আমরা খুবই ছোট মনের পরিচয় দিলাম।
এক চিকিৎসক লিখেছেন, অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কাছে দলমতের ঊর্ধ্বে একজন গ্রহণযোগ্য চিকিৎসা ব্যক্তিত্ব। বহু অধ্যাপকের শিক্ষক। তার এমিরেটাস অধ্যাপক পদ বাতিলের বিষয়টি একেবারেই অপ্রয়োজনীয় এবং ব্যক্তিগত আক্রোশের ফল বলে মনে হয়। এই অনর্থক সিদ্ধান্তের কারণে বিএমইউ ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে আমি মনে করি।
এক গণমাধ্যমকর্মী লিখেছেন, অসম্ভব জ্ঞানী (মেডিকেল বিষয়ে), গুণী, বিনয়ী এবং সত্যিকারের সেবার ব্রত আছে তার মধ্যে। তার চেম্বারে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত নামে পৃথক প্রেসক্রিপশন হতো বলে জানা নেই! সেই প্রেসক্রিপশনও আবার ৩০০ টাকার বিনিময়ে! গুণী মানুষ ‘কদর’ পায় না এদেশে। আগেও পায়নি, এখনো না এবং নিশ্চিত করে বলতে পারি দলীয় নষ্টামির এই প্র্যাকটিস চলতে থাকবে। সে কারণেই যোগ্যরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে বাঁচে। কী বা করবে! এ বি এম আব্দুল্লাহ, কষ্ট নেবেন না। নষ্ট দেশের ভ্রষ্ট আর অযোগ্যরা, তাদের চারপাশে কেবল সমমানের মানুষগুলোকেই দেখতে চায়। সরি, স্যার। ভালো থাকবেন।
অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ দেশের চিকিৎসা অঙ্গনের অন্যতম উজ্জ্বল নাম: অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ দেশের চিকিৎসা জগতের অন্যতম পরিচিত ব্যক্তিত্ব। ১৯৯৫ সালে তৎকালীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দিয়ে তিনি অধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান এবং মেডিসিন অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার তত্ত্বাবধানে দেশের শত শত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ তৈরি হয়েছেন।
চিকিৎসাসেবা, গবেষণা এবং চিকিৎসা শিক্ষায় অবদানের জন্য তিনি দেশি-বিদেশি বহু সম্মাননা অর্জন করেছেন। ২০১৬ সালে একুশে পদক, ২০১৭ সালে বাংলা একাডেমির সম্মানসূচক ফেলোশিপ, ইউজিসি প্রফেসরশিপ, রোটারি ইন্টারন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড, মেহের কবীর বিজ্ঞানসাহিত্য পুরস্কারসহ বহু স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি। মেডিসিনের আন্তর্জাতিক পাঠ্যপুস্তক ডেভিডসনস প্রিন্সিপলস অ্যান্ড প্র্যাকটিস অব মেডিসিনের ২৪তম সংস্করণের উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্যও ছিলেন তিনি।
করোনা মহামারির সময় গণমাধ্যমে নিয়মিত স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ দিয়ে এবং সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি ব্যাপক প্রশংসীত হয়েছিলেন। কম খরেচ রোগী দেখা ও দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কারণে তিনি ‘গরিবের ডাক্তার’ হিসেবেও পরিচিত। ২০২২ সালে তাকে তিন বছরের জন্য বিএসএমএমইউর ইমেরিটাস অধ্যাপক করা হয়। এরপর ২০২৪ সালের মে মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট তাকে আজীবনের জন্য ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে তিনিই প্রথম এই সম্মান অর্জন করেন। তখন তিনি বলেছিলেন, এই স্বীকৃতি তাকে শিক্ষা, গবেষণা ও লেখালেখিতে আরও বেশি অবদান রাখতে উৎসাহিত করবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর শুধু জুলাই গণঅভ্যুত্থান নয়, বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতিচ্ছবি। এই জাদুঘর ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর আগামী প্রজন্মের সামনে বিতাড়িত ফ্যাসিস্টদের মুখোশ উন্মোচ করবে। এই জাদুঘর আমাদের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ আর সাহসকে জাতীয় স্মৃতিতে ধারণ করার এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ।’
তিনি বলেন, ‘আজকের এই দিনটি দেশের জন্য যুগান্তকারী মাইলফলক। সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।’
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সেই ইতিহাস তুলে ধরার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের আমলে গুম-খুনকে স্বাভাবিক করে ফেলা হয়েছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইতিহাস স্বাক্ষী, বিতাড়িত ফ্যাসিবাদ চক্র দেশে গণতান্ত্রিক শাসন মেনে নিতে পারেনি।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, উপদেষ্টা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ড নিয়ে ভারতে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বার্ষিকীর দিনে দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
বুধবার রাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এমন প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলা হয়, পলাতক অভিযুক্ত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনাকে আজ (বুধবার) বিকেলে নয়া দিল্লিতে সরাসরি গণমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ দেওয়ায় বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ হয়েছে। যেখানে তিনি এবং অনুচররা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও এর জনগণের বিরুদ্ধে বিষাক্ত ঘৃণা ছড়িয়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের এ অনুষ্ঠানের প্রভাব নিয়ে আগে থেকে ভারত সরকারের কাছে উদ্বেগ জানানোর পরও তা হতে দেওয়ায় গভীর ক্ষোভ জানাচ্ছে ঢাকা।
জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের সরকার পতনের দ্বিতীয় বার্ষকীতে বুধবার বিকালে দিল্লিতে দক্ষিণ এশিয়ার ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা।
এতে বলা হয়, আত্মগোপনে থাকা দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনাকে আজ সন্ধ্যায় নয়াদিল্লিতে গণমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি আলাপচারিতার অনুমতি দেওয়ায় বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ। ঢাকা গভীরভাবে দুঃখ প্রকাশ করে যে, আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পুনর্গঠনে এই ঘটনার সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে ভারত সরকারকে উদ্বেগ জানানো সত্ত্বেও এই প্রকাশ্য অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার এই আলাপচারিতা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি মারাত্মক অপমান। ফ্যাসিবাদী শাসন দ্বারা ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে শিশুসহ নিরীহ বেসামরিক লোকদের নৃশংস হত্যাকাণ্ড-সংক্রান্ত জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত তথ্য অস্বীকার করা পলাতক দোষী সাব্যস্ত গণহত্যাকারী হাসিনা এবং তার অপরাধী সহযোগীদের ইতিহাসের জোয়ারকে বিপরীত করার একটি বৃথা প্রচেষ্টা। বাংলাদেশের জনগণ অতীতে এ ধরনের জঘন্য প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছিল এবং এখনও করছে। প্রবাসসংবাদ
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে সমুন্নত রেখে দেশের জনগণ দৃঢ় সংকল্প নিয়েছে যে, জাতি আর কখনও ফ্যাসিবাদের অন্ধকার দিনগুলোতে ফিরে যাবে না এবং বাংলাদেশ কখনও ক্লায়েন্ট রাষ্ট্র হবে না। সাজাপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনা ও তার মাফিয়া প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের রাজনীতিতে কখনও স্থান পাবে না।
এতে আরও বলা হয়, সার্বভৌম সাম্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ও দূরদর্শী সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় বাংলাদেশ। দুঃখজনকভাবে, ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তির অধীনে দোষী সাব্যস্ত অপরাধী হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারত সরকারের কাছে বারবার অনুরোধ করা হলেও এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিপরীতে, যেকোনও অজুহাতে তাকে গণমাধ্যমের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলার সুযোগ দেওয়া আমাদের জনগণের অনুভূতির জন্য গভীরভাবে ক্ষতিকর এবং বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিকাশের জন্যও ক্ষতিকর।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
‘স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্তির পর আমরা যদি বলি জুলাই কার, জুলাই কার? জুলাই আমাদের কারোই থাকবে না।’ রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে এ কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
বেঁচে থাকার কথা ছিল না উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পৃথিবীর জঘন্যতম ও ঘৃণ্যতম হত্যাকাণ্ড এবং জঘন্যতম স্বৈরাচারকে আমরা দেখেছি। যদি আমরা আয়না ঘরে যাই, যেখানে আমার ৬১ দিনের অভিজ্ঞতা আছে। সেখানে একটা জানোয়ার ২৪ ঘণ্টা থাকতে পারে না, আমরা সেখানে থেকেছি। আমার ভাই মীর কাসেম, তার ছেলে ব্যারিস্টার আরমান এখনো ট্রমাটাইজড। ওর বাবার বন্ধু ছিলাম, একসঙ্গে জেল খেটেছি... আমি বললাম, ভাই কেন ফেরত আসলেন?
তিনি বললেন, আমি যদি না আসি আমার ছেলেটাকে ধরে নিয়ে যাবে। ফাঁসি তো তার হলো, কিন্তু ছেলেকেও তো ধরে নিয়ে গেল। আমি একটা জীবন্ত ইতিহাস... বাবা এ জন্য ফিরে এসেছিলেন তার সন্তানকে রক্ষা করবেন, কিন্তু সন্তানকে রক্ষা করতে পারেননি।’
‘সে রকম একটা স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্তির পরে আমরা যদি বলি জুলাই কার? জুলাই কার? তাহলে জুলাই আমাদের কারোই থাকবে না। এই অবস্থা থেকে আমাদের মুক্তি পেতে হবে। পৃথিবীতে অনেক জাতি আছে, স্বাধীনতার জন্য শতবর্ষ সংগ্রাম করে। কোনোদিন স্বাধীনতা পায় না। শতাব্দীর পর শতাব্দী চলে যায়।
মহামতি লেলিন বলেছিলেন, “দেয়ার আর ডিকেডস, নাথিং হ্যাপেনস দেয়ার। বাট দেয়ার আর ডেইস অ্যান্ড উইকস ডিকেডস হ্যাপেনস দেয়ার।” আমরা সেই শতাব্দীকে নিয়ে এসেছি। নিউটনের কোনো আপেল নয় আন্দোলন-বিপ্লব-গণঅভ্যুত্থান...সেই আপেলকে পেড়ে নিতে হয়েছে। পাকাতে হয়েছে। আমরা সেই আপেলকে নিয়ে এসেছি। দলীয়করণ করা যাবে না কোথাও,’ যোগ করেন তিনি।
প্রতীকী ছবি
দেশে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ৮৩ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা ১২৪।
বুধবার হাম পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৮৬৫ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আর চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছে ৯৯৮ শিশু।
গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মারা গেছে ৭৫৮ শিশু। একই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ৯৬ শিশু। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৫৪ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৩২ হাজার ৯০৫। এর মধ্যে ১৬ হাজার ৬৫৫ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। এ সময়ে মোট এক লাখ ১৫ হাজার ২৩৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং তাদের মধ্যে এক লাখ ১১ হাজার ৫ জন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রামাণ্যচিত্র নিয়ে হট্টগোল ও একদল অংশগ্রহণকারীর অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে যাওয়ার ঘটনায় ‘লজ্জিত ও ব্যথিত’ হওয়ার কথা বলেছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। প্রদর্শিত প্রামাণ্যচিত্রে জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রতীক আবু সাঈদ এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছবি না থাকাকে ‘ভুল’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তিনি।
তবে ভুলের জন্য মন্ত্রী ক্ষমা চাওয়ার পরও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে হট্টগোল অব্যাহত রাখা এবং সংসদের মতো ‘ওয়াকআউট’ করাকে হাফিজ উদ্দিন আহমদ অনাকাঙ্ক্ষিত বলেছেন।
বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়।
প্রামাণ্যচিত্র শেষ হওয়ার পর জুলাই অভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তি, শহীদ পরিবারের সদস্য এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির নেতাকর্মীদের একাংশ বিভিন্ন ঘটনা ও ব্যক্তির যথাযথ প্রতিনিধিত্ব না থাকার অভিযোগ তোলেন।
একপর্যায়ে তারা ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দেন। পরে এনসিপির সদস্য সচিব, সংসদ সদস্য আখতার হোসেন মঞ্চে উঠে প্রামাণ্যচিত্রের অসংগতি সংশোধনের দাবি জানান।মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান ভুল হয়ে থাকলে তা সংশোধনের আশ্বাস দেন। তিনি দুঃখও প্রকাশ করেন।
হট্টগোলের একপর্যায়ে রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তায় নিয়োজিত সদস্যরা মঞ্চের সামনে অবস্থান নেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে আবার অনুষ্ঠান শুরু হয়।
হট্টগোলের মধ্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত কয়েকজন বিদেশি অতিথিকে অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে যেতে দেখা যায়। পরে রাষ্ট্রপতিও তার বক্তব্যে বিষয়টি তুলে ধরেন।
গেল ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করায় এই পদের কার্যভার পান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবারের মত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি।
হাফিজ উদ্দিন বলেন, “আজ এই অনুষ্ঠানটি একটি জাতীয় অনুষ্ঠান। জুলাই যোদ্ধাদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করার জন্যই রাষ্ট্র এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। কিন্তু যে দৃশ্য এখানে দেখলাম, সেটিতে অত্যন্ত দুঃখিত এবং লজ্জিত হয়েছি, ব্যথিত হয়েছি।”
সকালে জুলাই জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘জাতীয় ঐক্যের প্রতিফলন’ দেখা গেলেও বিকালের অনুষ্ঠানে তা দেখা যায়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রামাণ্যচিত্রের ভুল স্বীকার করে হাফিজ উদ্দিন বলেন, “নিশ্চয়ই এখানে ডকুমেন্টারিতে অনেক ভুল আছে। প্রথম ভুল আমি যেখানে দেখেছি, সেখানে তো আবু সাঈদের ছবিই নাই। আবু সাঈদ এই বিপ্লবের প্রতিচ্ছবি, প্রতীক। তার ছবি না থাকলে এটা কোনো ডকুমেন্টারি হল না। সেখানে আরো নাই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছবিও তো নাই।”
ভুলের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ক্ষমা চাওয়ার পর সবাইকে শান্ত হওয়া উচিত ছিল, বলেন তিনি।
“সুতরাং কিছু ভুল হয়েছে এবং এই ভুল মাননীয় মন্ত্রী জোড় হাতে স্বীকার করেছেন, ক্ষমা চেয়েছেন, বারংবার ক্ষমা চেয়েছেন। তারপর তো শান্ত হওয়া উচিত। এ ধরনের একটা জাতীয় অনুষ্ঠানে এটাকে পুষে সংসদের মতো একটা ওয়াকআউট, এটি বাঞ্ছনীয় নয়।”
আখতার হোসেন তার অনুসারীদের শান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন বলেও তুলে ধরেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি।
তিনি বলেন, “আমি লক্ষ্য করেছি মাননীয় সংসদ সদস্য আখতার, তিনি তার অনুসারীদের প্রশমিত করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বাংলাদেশে নেতাকে তো মানে না সহজে অনুসারীরা। প্রতি মুহূর্তেই তারা যে নেতার চেয়ে বড়, এটা প্রমাণ দেওয়ার জন্য মুখিয়ে থাকে।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিদেশি অতিথিরা চলে যাওয়ার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, “এখানে যারা বিদেশি বসা ছিল...কিন্তু তারা তো চলেই গিয়েছে।”
বিদেশি অতিথিদের সামনে এ ধরনের ঘটনা ঘটায় দেশের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে, বলেন তিনি।
হাফিজ উদ্দিন বলেন, “জাতীয় অনুষ্ঠানে এই ধরনের বিশৃঙ্খলা মোটেই কাম্য ছিল না।”
নির্বাচিত সরকারকে প্রয়োজনীয় সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “ভাই, আমরা তো জনগণের ভোট নিয়ে এখানে এসেছি। জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি আমরা। হাওয়া থেকে উড়ে এসে বসি নাই এখানে। সুতরাং এই সরকার নির্বাচিত একটি সরকার, এটুকু শ্রদ্ধা-সম্মান প্রাপ্য।”
সরকার ভুল করলে তার জন্য জবাবদিহি করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
“ভুল তো আমরা করি। আরো হয়তো সামনে আরো ভুল করব। সেই ভুল করলে তার জন্য মাসুলও দেব। কিন্তু সবাই মিলে ভুল সংশোধন করতে চাই।”
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়া একজন দৃষ্টিহীন জুলাই যোদ্ধা ও তার মায়ের কথা তুলে ধরে আবেগাপ্লুত হন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি।
তিনি বলেন, “মা তার অন্ধ ছেলেকে নিয়ে এখানে দাঁড়িয়েছেন। তার ছেলেটি চোখ হারিয়েছে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য, আইনের শাসন কায়েম করার জন্য।”
জুলাই যোদ্ধাদের প্রয়োজন মেটাতে মন্ত্রীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হলে তা জাতির জন্য লজ্জার হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
“আজকে তারা আমাদের সামনে এসে দাঁড়িয়ে যদি মর্যাদাই না পান, তাদেরকে যদি আবারও ছোটখাটো চাওয়া-পাওয়ার জন্য মন্ত্রীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়, সেটি জাতির জন্য লজ্জা।”
সরকার জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার এবং আহতদের দায়িত্ব নেবে বলেও আশ্বস্ত করেন হাফিজ উদ্দিন।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের এই সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ জুলাইতে যারা আত্মাহুতি দিয়েছেন, সেইসব পরিবারের রক্ষণাবেক্ষণ করা। এটাই সবচেয়ে পবিত্র দায়িত্ব। যারা আহত, চোখের দৃষ্টি হারিয়েছেন, অঙ্গ হারিয়েছেন, তাদেরকে সুস্থ করে তোলা এই সরকারের পবিত্র দায়িত্ব।”
সরকার আওয়ামী লীগের মতো হতে চায় না, এ কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা তো আর আওয়ামী লীগ হতে পারব না। হতেও চাই না।”
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে হাফিজ উদ্দিন বলেন, “(শেখ হাসিনা) আবার বলে যে ডিসেম্বর মাসে আসবেন, দেশে এসে পদার্পণ করবেন। আমরা অপেক্ষা করে আছি। আসেন দেশে। দেখা হবে ইনশাআল্লাহ রাজপথে।”
তিনি বলেন, “২৭ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধ করেছি। এখন ৮২ বছর বয়সে আরেকটা করব বাংলাদেশের জন্য। বাংলাদেশের জনগণের শাসন, গণতন্ত্র চিরস্থায়ী করে যাব আমরা।”
জুলাই অভ্যুত্থান রাষ্ট্র পুনর্গঠনের সুযোগ এনে দিয়েছে তুলে ধরে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠন করতে হবে। সেখানে প্রত্যেক নাগরিক সমান অধিকার ও মর্যাদা পাবেন।
মতের ভিন্নতা থাকলেও জাতীয় স্বার্থ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
হাফিজ উদ্দিন বলেন, “আমাদের সজাগ থাকতে হবে, যাতে কোনো বিভাজন, কোনো বিদ্বেষ বা কোনো সংকীর্ণ স্বার্থ যেন আমাদের জাতীয় অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে না পারে।”
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “কেউ কাউকে বলতে শুনেছি, আমরা কি নির্বাচনের জন্য জীবন বিসর্জন দিয়েছি নাকি? নির্বাচন তো গণতন্ত্রের অনুষঙ্গ।”
“এই দেশে যতদিন গণতন্ত্র থাকবে, সাধারণ মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, ততদিনই আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন থাকবে। সুতরাং গণতন্ত্র কোনো হেলাফেলার জিনিস নয়।”
রাষ্ট্রপতি পদের মর্যাদা রক্ষায় সচেতন থাকার কথাও বলেন হাফিজ উদ্দিন। তিনি বলেন, “আমি ক্ষুদ্র ব্যক্তি। কিন্তু একটি বড় চেয়ার আপনারাই দিয়েছেন। সেখানে বসে আছি। চেয়ারের মর্যাদা যাতে সবসময় থাকে, সেই জন্য আমার জন্য নয়, চেয়ারের মর্যাদা রক্ষার জন্য, বাংলাদেশের মর্যাদা রক্ষার জন্য আমরা প্রত্যেকটি নাগরিক সচেতন থাকব।”
ছবি : সংগৃহীত
গণ-অভ্যুত্থানের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত যাত্রা নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনার মধ্যে সামনে এসেছে নতুন তথ্য। তাকে দেশত্যাগে সহায়তাকারী সামরিক কর্মকর্তা, ব্যবহৃত হেলিকপ্টার ও বিমান, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এবং পুরো রেসকিউ মিশনের বিভিন্ন দিক নিয়ে একাধিক সূত্রের বরাতে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। যদিও এসব বিষয়ে এখনো সরকার বা সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি।
সাবেক ও বর্তমান সামরিক সূত্রগুলোর সঙ্গে কথা বলে হাসিনার ভারত যাত্রা সম্পর্কে বিচ্ছিন্নভাবে বেশকিছু তথ্য পাওয়া যায়। তবে এ বিষয়ে সশস্ত্র বাহিনী কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কারোরই আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া স্পর্শকাতর বেশকিছু তথ্য পাওয়া গেলেও যুগান্তরের পক্ষ থেকে স্বাধীনভাবে সেগুলো যাচাই করাও সম্ভব হয়নি।
৫ আগস্ট সকাল ১০টা। শহরের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে লাখো মানুষ প্রবেশ করে রাজধানীতে। একপর্যায়ে পুলিশের গুলি উপেক্ষা করে গণভবনের দিকে অগ্রসর হয় জনস্রোত। দুপুরের আগেই পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয়। অবস্থা বেগতিক দেখে হাসিনাকে মাত্র ৩০ মিনিট সময় বেঁধে দিয়ে দ্রুত গণভবন ত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপরই বাণিজ্যমেলার কাছাকাছি এসে নামে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টার (এমআই-১৭)। সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থানের পর হাসিনা ও তার বোন রেহানাকে নিয়ে হেলিকপ্টারটি পূর্বনির্ধারিত গন্তব্যের উদ্দেশে উড়াল দেয়।
সূত্র জানায়, গণভবন থেকে হাসিনা ও তার বোনকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হেলিকপ্টারের পাইলট এবং কো-পাইলট ছিলেন যথাক্রমে এয়ার কমোডর আব্বাস ও গ্রুপ ক্যাপ্টেন রায়হান কবির। বিকাল তিনটা নাগাদ হেলিকপ্টারটি কুর্মিটোলা এয়ার বেইজে অবতরণ করে। এ সময় তেজগাঁও বিমানবন্দরে কর্তব্যরত উইং কমান্ডার কানিজ ফাতেমা সংক্ষিপ্ত বেতার বার্তায় রেসকিউ মিশনের অধীনে সামরিক হেলিকপ্টার উড্ডয়নের বিষয়টি ঢাকা ট্রাফিক কন্ট্রোলে জানান।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, হাসিনার দেশত্যাগের পরপরই এয়ার কমোডর আব্বাসকে একটি প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশগ্রহণের জন্য পাকিস্তানে পাঠানো হয়। সেখানে নির্ধারিত সময় শেষ হলে যথারীতি তিনি ঢাকায় ফিরে আসেন। পরে তাকে নিয়মিত পোস্টিং দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি বিমানবাহিনী সদর দপ্তরে এয়ার হেডকোয়ার্টার ইউনিটের অধিনায়ক হিসাবে কর্মরত। এছাড়া কো-পাইলটের দায়িত্ব পালনকারী গ্রুপ ক্যাপ্টেন রায়হান কবির বর্তমানে বাশার এয়ার বেইজের ওসি (অ্যাডমিন) হিসাবে নিযুক্ত।
সংশ্লিষ্টরা জানান, হাসিনার দেশত্যাগের বিষয়টি ছিল কঠোর গোপনীয়তায় ঘেরা। বিশেষ করে তাকে গণভবন থেকে নিরাপদে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি মাত্র হাতেগোনা কয়েকজন অতি বিশ্বস্ত সেনা কর্মকর্তাকে জানানো হয়। মিশন বাস্তবায়নে বিমানবাহিনীর স্পেশাল ফ্লাইং ইউনিটের ডাক পড়ে। এছাড়া হাসিনা ও তার বোনকে রিসিভ করতে কুর্মিটোলা এয়ার বেইজের তৎকালীন কমান্ডার নিজেও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
নিরাপত্তা সূত্রগুলো বলছে, কুর্মিটোলা এয়ার বেইজে আগে থেকেই ইঞ্জিন চালু অবস্থায় একটি সামরিক পরিবহণ বিমান (সি-১৩০ জুলিয়েট) অপেক্ষমাণ ছিল। এ সময় বিমানের ভেতরে অবস্থান করছিলেন হাসিনার তৎকালীন নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও ঘনিষ্ঠ আত্মীয় মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, তার স্ত্রী শাহিন সিদ্দিকী, তাদের দুকন্যা এবং জামাতা।
অবতরণের পর হেলিকপ্টার থেকে নেমে শেখ হাসিনা উপস্থিত কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কয়েক মিনিট কথা বলেন। তিনি আন্দোলনের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান। এ সময় তাকে গণভবনমুখী জনস্রোত এবং অভ্যুত্থান সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণা দেওয়া হয়। ফলে দেশের মাটিতে দাঁড়িয়েই শেখ হাসিনা তার দীর্ঘ দেড় যুগেরও বেশি স্বৈরশাসন অবসানের খবর পেয়ে যান।
তবে অন্য একটি সামরিক সূত্র বলছে, হাসিনার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের পাঠিয়ে দিলেও অজ্ঞাত কারণে তারিক সিদ্দিকী নিজে ওই বিমানে ওঠেননি। পরদিন গোপনে তিনি চট্টগ্রাম চলে যান। একপর্যায়ে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে নৌপথে দেশত্যাগ করেন। পরে ঘটনা জানাজানি হয়ে গেলে তারিক সিদ্দিকীকে দেশত্যাগে সহায়তার অভিযোগে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তৎকালীন চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম সোহায়েলকে গ্রেফতার করা হয়।
সূত্র জানায়, ভারতের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগের প্রস্তুতির অংশ হিসাবে বিমানবাহিনীর পরিবহণ বিমানটির ককপিটে আগে থেকেই পাইলট এবং কো-পাইলট নিজ নিজ আসনে বসা ছিলেন। পাইলটের আসনে ছিলেন এয়ার কমোডর শামীম রেজা এবং কো-পাইলটের আসনে ছিলেন উইং কমান্ডার মাহফুজ। বিমানটি ৫ আগস্ট বিকাল ৬টা ১৫ মিনিটে দিল্লির উপকণ্ঠে হিন্দন বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে।
তবে নিরাপত্তা কৌশলের অংশ হিসাবে উড্ডয়নের সময় বিমানের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখা হয়। প্রচলিত রুট ব্যবহার না করে কিছুটা ঘুরে বিমানটি দিল্লির পথে যাত্রা করে। ফলে বাংলাদেশের সীমান্ত অতিক্রমের আগ পর্যন্ত বিমানটি রাডারে শনাক্ত হয়নি। ভারতের আকাশসীমায় প্রবেশের পর পাইলট কলকাতা বিমানবন্দরের এটিসি (এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল) টাওয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। ভারতে অবতরণের পর দেশটির নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালসহ কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা শেখ হাসিনাকে অভ্যর্থনা জানান।
সূত্র জানায়, শেখ হাসিনাকে নিরাপদে ভারতে পৌঁছে দেওয়ার পর ক্রু এবং নিরাপত্তাকর্মীদের নিয়ে বিমানটি পুনরায় ঢাকায় ফিরে আসে। পরে পাইলট এয়ার কমোডর শামীম রেজাকে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক কোর্সে অংশগ্রহণের জন্য ফিলিপাইনে পাঠানো হয়। তবে কো-পাইলট উইং কমান্ডার মাহফুজ বর্তমানে বিমানবাহিনীর গোয়েন্দা পরিদপ্তরে কর্মরত রয়েছেন।
একটি সামরিক সূত্র যুগান্তরকে জানায়, গণভবন থেকে হাসিনার রেসকিউ মিশন প্রধানত দুটি অংশে পরিচালিত হয়। প্রথম ভাগে হেলিকপ্টারে উড়িয়ে নিরাপদে কুর্মিটোলা এয়ার বেইজে স্থানান্তর। এরপর সেখান থেকে তাকে সামরিক বিমানে করে ভারতে পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত রেসকিউ মিশনের সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন বিমানবাহিনীর তৎকালীন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা গ্রুপ ক্যাপ্টেন আবু সালেহ মান্নাফি। তিনি ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) আওয়ামী লীগের তৎকালীন সহসভাপতি আবু আহমেদ মান্নাফির ছেলে।
৫ আগস্ট সরকার পতনের পর আবু আহমেদ মান্নাফি নিজেও সেনানিবাসে আশ্রয় নেন। এ সময় তার সঙ্গে ছোট ছেলে সিটি করপোরেশনের সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর গৌরবসহ পরিবারের সদস্যরা ছিলেন। পরে তাদের বিমানবাহিনীর কর্মকর্তাদের জন্য নির্ধারিত সরকারি কোয়ার্টার চন্দ্রিকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার একটি ফ্ল্যাটে দীর্ঘদিন ধরে তারা আত্মগোপনে ছিলেন।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগ ও রেসকিউ মিশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দায়-দায়িত্ব প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী এবং সাবেক সামরিক কর্মকর্তা মেজর (অব.) এম সরোয়ার হোসেন মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, আইন অনুযায়ী পদত্যাগের পরও সাবেক রাষ্ট্র এবং সরকারপ্রধান একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত এসএসএফ’র নিরাপত্তা পেয়ে থাকেন। ফলে পদত্যাগ করে ভারতে চলে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরাপত্তায় নিয়োজিত এসএসএফ সদস্য এবং সামরিক কর্মকর্তারা মূলত তাদের ওপর অর্পিত রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করেছেন। এক্ষেত্রে তারা কোনো ধরনের বে-আইনি কিছু করেননি। তবে সংবিধানের আর্টিকেল ২১ অনুযায়ী সে সময় ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাকে যে কেউ গ্রেফতার করে আইনের হাতে সোপর্দ করতে পারতেন। বরং সেটাই গণ-অভ্যুত্থানের স্পিরিটের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হতো।