টিসিবির ট্রাকে পণ্য পেতে ধাক্কাধাক্কি-গন্ডগোল

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৪ মে, ২০২৬, সময় : ১০:৪৭ পিএম

ঘড়ির কাঁটায় তখনও ১১টা বাজেনি। দক্ষিণ ঢাকার কাজলা ভাঙ্গা প্রেস এলাকার প্রধান সড়কের ওপর টিসিবির ট্রাক পৌঁছাতেই লাইনে জায়গা ধরতে পড়িমরি ছুটছে আশপাশের লোকজন। সময় যত গড়াচ্ছে, ভিড়ও তত বাড়ছে। 


এর মধ্যে হুটহাট হট্টগোল বাধছে। লাইনে কে আগে দাঁড়াবে, তা নিয়ে চলছে লড়াই। গতকাল কাজলার ভাঙ্গা প্রেস এলাকায় টিসিবির ট্রাকসেল পয়েন্টে এমন চিত্রই দেখা গেছে।


বাজারে বাড়তে থাকা নিত্যপণ্যের দামে হাঁসফাঁস দশা নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষের। তাদের কাছে বাজার যেন এখন এক জ্বলন্ত উনুন। তেল, ডাল থেকে শুরু করে মাছ, মাংস, ডিম, এমনকি সবজির বাজারেও খরচের চাপ অনেক বেড়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে করে পণ্য বিক্রি শুরু করেছে সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। 


প্রতিদিন অন্যান্য জেলার পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ভর্তুকি মূল্যে ভোজ্যতেল, ডাল ও চিনি বিক্রি করছে সংস্থাটি। বাজারের চেয়ে অনেক কম দামে পাওয়ায় টিসিবির এসব ট্রাক ঘিরে প্রতিদিন পণ্যপ্রত্যাশীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে।


একটি ট্রাক থেকে একজন ক্রেতা প্যাকেজ আকারে দুই লিটার ভোজ্যতেল, এক কেজি চিনি ও দুই কেজি মসুর ডাল কিনতে পারছেন। এ ক্ষেত্রে ভোজ্যতেল ১৩০ টাকা লিটার, চিনি ৮০ টাকা কেজি ও মসুর ডাল ৭০ টাকা কেজি হিসেবে প্যাকেজের দাম পড়ছে ৪৮০ টাকা। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী এই পরিমাণ পণ্য কিনতে খরচ পড়বে অন্তত ৬৬৫ টাকা। অর্থাৎ টিসিবির প্যাকেজে সাশ্রয় হচ্ছে ১৮৫ টাকা। 


তবে লাইনে দাঁড়ানো নারী-পুরুষ মিলিয়ে শুধু প্রথম ৪০০ জনের কপালেই জুটছে টিসিবির পণ্য। তাই লাইনে আগে জায়গা পেতে মরিয়া অপেক্ষমাণ ক্রেতারা। রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়েও ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে জায়গা ধরে রাখতে লড়াই করতে হচ্ছে তাদের।


সরেজমিন দেখা গেছে, বিক্রয়কর্মীরা সবাইকে সিরিয়াল নম্বর দিলেও লাইনে তর্কাতর্কি থেমে নেই। দুটি লাইনে মধ্যবয়সী নারী-পুরুষের পাশাপাশি রয়েছেন প্রবীণরা। ধাক্কাধাক্কির মাঝে খেই হারিয়ে ফেললেও নিজের জায়গা ধরে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন বৃদ্ধ মো. নবী হোসেন।


কথা হলে তিনি বলেন, ‘গতকাল আইসা পাই নাই। তাই আইজ বৃষ্টি হইলেও আগেভাগে আইসা লাইন ধরছি। কিন্তু জুয়ান ব্যাডাগো লগে ধাক্কাধাক্কিতে পারন যায় না। যাতাযাতিতে দম বাইর হইয়া যায়। তারপরও কষ্ট কইরা দাঁড়াইছি। বাজারের চাইতে দাম কম। বাইচা যাওয়া টাকা সংসারের অন্য কাজে লাগানো যাইবো।’


আরেকজন ক্রেতা মো. দেলোয়ার মিঞা বলেন, ‘বাজারে তো মেলা দাম। এইখানে কষ্ট হইলেও যে টাকা বাঁচে, তা দিয়া এক-দুই দিনের বাজার হইয়া যায়। তাই লাইনে জায়গা ধরতে এই লড়াই করতাছি।’


কাজলার লাইনে দাঁড়ানো রিজিয়া পারভিন নামে এক নারী বলেন, ‘প্রতিবেশীগো লগে সেই রায়েরবাগ থেইকা আইছি। এখন আর ওইদিকে ট্রাক দেহি না। খবর পাইয়া এইখানে আইছি। কিন্তু সিরিয়াল পাইলাম না। ভাবলাম বৃষ্টির মধ্যে লোক কম হইবো। কিন্তু ভিড় তো মেলা। টিসিবির ট্রাক কবে, কোনহানে, কয়টায় আইবো, এইটা যদি জানা যাইত, তাইলে আমগোর কষ্ট কমত।’


রিজিয়ার প্রতিবেশী ফাতেমা খাতুনেরও একই অভিযোগ। তিনি বলেন, ‘আগে থেইকা জানা থাকলে এমনে এইহানে-ওইহানে টাক খাইয়া বেড়ানো লাগত না। বেশি দূরে তো যাইতে পারি না। যাইতে-আইতে ভাড়ায় টাকা খরচ হয়।’


গত সোমবার থেকে চালু হওয়া এ ট্রাকসেল কার্যক্রম চলবে আগামী ২১ মে পর্যন্ত। প্রতিদিন ট্রাকপ্রতি গড়ে ৪০০ মানুষের জন্য পণ্য বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে ২৮ লাখ ৮০ হাজার উপকারভোগীর কাছে ১৩ হাজার ৯৩৯ টন পণ্য পৌঁছাবে টিসিবি। 


কিন্তু উপকারভোগীদের আক্ষেপ, ট্রাকপ্রতি যে বরাদ্দ দেওয়া হয়, তা অল্প সময়ে ফুরিয়ে যায়। রোদ-বৃষ্টির মধ্যে পণ্যের প্রত্যাশায় ছুটে এসেও অনেককে খালি হাতে ফিরে যেতে হয়।


গতকাল দুপুরে মানিকনগর বিশ্বরোডে বাসস্ট্যান্ডের ধারে টিসিবির ট্রাকের সামনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও পণ্য পাননি মো. রহমত উল্লাহ। তিনি বলেন, ‘সকালের দিকে বৃষ্টি, এখন আবার রোদ। এর মধ্যেও চেষ্টা করছি। কিন্তু পণ্য পাই নাই।’ তিনি অভিযোগ করেন, অনেকে পরিবার একাধিক সদস্যকে নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে অতিরিক্ত পণ্য নিচ্ছে। এতে অনেকে পণ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।


জানতে চাইলে এখানকার টিসিবির ডিলার নজরুল স্টোরের মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘তিন ঘণ্টার মধ্যে পণ্য বিক্রি শেষ। হালকা বৃষ্টি থাকলেও পণ্য বিক্রি থেমে থাকেনি। পণ্যের চেয়ে ক্রেতা অনেক বেশি। যারা পণ্য পান না, তাদের অনেক অভিযোগ। কিন্তু আমাদের কিছু করার নেই।’


কাজলায় পণ্য বিক্রয়কারী টিসিবির ডিলার রাশেদ ট্রেডার্সের রাশেদুল করিমও বলেন, ‘আমাদের সীমিত পণ্য। যে পরিমাণ পণ্য পাই, তা তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টার মধ্যে বিক্রি শেষ হয়ে যায়। কিন্তু পণ্য কিনতে মানুষ আসে দ্বিগুণ। তাদের ফিরিয়ে দিতে হয়। অনেক সময় গন্ডগোলও বাধে। এগুলো সামাল দিতেও বেগ পেতে হয়।’


টিসিবি জানিয়েছে, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে ১১ মে থেকে ২১ মে পর্যন্ত ১০ দিন ধরে চলবে এ বিশেষ ট্রাকসেল কার্যক্রম। গত সোমবার থেকে চালু হওয়া এ ট্রাকসেল কার্যক্রম চলবে আগামী ২১ মে পর্যন্ত। কিন্তু বছরজুড়েই ট্রাকসেল অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন উপকারভোগীরা।


মানিকনগর ও কাজলার পণ্যপ্রত্যাশীরা বলছেন, বাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়লে ট্রাকসেলে কিছুটা স্বস্তি মেলে তাদের। তাই সারা বছর এমন কার্যক্রম চললে তাদের টিকে থাকা কিছুটা সহজ হবে বলে জানান তারা। সেই সঙ্গে পণ্যের চেয়ে চাহিদা বেশি হওয়ায় বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি আরও বেশি জায়গায় বিক্রির দাবি জানান তারা।


বাজারে স্বস্তি ফেরানোর তাগিদ দিয়ে ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সাবেক সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, ‘বাজারে সবকিছুর দাম বেড়েছে; মূল্যস্ফীতিও বেশি। এমন পরিস্থিতিতে নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীকে স্বস্তি দিতে ট্রাকসেল চালু অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। তবে এটা কোনো সমাধান নয়। আমাদের বাজারে স্বস্তি ফেরাতে বেশি জোর দিতে হবে। সরবরাহ বাড়িয়ে জিনিসপত্রের দাম কমিয়ে আনতে হবে। যেসব কারণে দাম বেড়েছে, সেগুলোর সমাধান করতে হবে। চাঁদাবাজি, অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয়, প্রতিযোগিতায় ঘাটতি, কারসাজি-এগুলো বন্ধ করতে হবে।’


তিনি আরও বলেন, ‘বাজারে অনেক কষ্টে আছে নিম্ন আয়ের মানুষ। সে তুলনায় টিসিবির পণ্যের মাধ্যমে অল্প সংখ্যক মানুষ কিছুটা উপকৃত হচ্ছেন। এর বরাদ্দ ও পরিধি বাড়াতে পারলে ভালো। তবে বাজারে পণ্যের দাম সহনশীল পর্যায়ে আনতেই হবে। বাজারে নিবিড় মনিটরিংয়ের বিকল্প নেই।’




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:১৮ পিএম

আসছে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রা কমে ঢাকাসহ সারাদেশে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এরইমধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে।


আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির শুক্রবার বলেন, “উত্তরের দিকে তাপমাত্রা কিছুটা কমছে। রংপুর বিভাগের কথা চিন্তা করলে তেঁতুলিয়ায় দিন ও রাতের তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রয়েছে। রাজারহাট ও দিনাজপুরেও তাপমাত্রা ২০ থেকে ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে আছে। রাজশাহী ও ঈশ্বরদীতেও তাপমাত্রা কমেছে।


“সামনের সপ্তাহে আবহাওয়ার বর্তমান ব্যবস্থাটি কেটে গেলে তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তখন ঢাকাসহ সারাদেশে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে।”


এদিকে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে তথ্য দিয়ে এই আবহাওয়াবিদ বলেন, “পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটি আরও ঘনীভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শনিবার এটি নিম্নচাপে এবং পরে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।


“এই মুহূর্তে এর কোনো প্রভাব আমাদের ওপর নেই। তবে ২৫ অক্টোবরের পর উপকূলীয় এলাকায় কিছুটা বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।”


আগামী কয়েক দিনের আবহাওয়া পরিস্থিতি সম্পর্কে তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, “আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় দেশে বৃষ্টিপাতের তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই। পুরো দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে।”



প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৫০ পিএম

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গত একদিনে ডেঙ্গু নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ২৯৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু-বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) দুজন ও ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) একজনের মৃত্যু হয়েছে।


এতে চলতি বছর মশাবাহিত রোগটিতে এ পর্যন্ত মোট প্রাণহানি ৩৭১ জনে দাঁড়াল।


এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাহিরে) সবচেয়ে বেশি ২৭৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পাশাপাশি এই সময়ে বরিশাল বিভাগে ১৫৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২১৯, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১১৬, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩১, খুলনা বিভাগে ১৪৭, ময়মনসিংহ বিভাগে ১০০, রাজশাহী বিভাগে ১১৩ ও রংপুর বিভাগে ৩৮ ও সিলেট বিভাগে দুইজন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।


সবমিলিয়ে চলতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে আজ শুক্রবার পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ৩৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনসহ শুধু ঢাকা বিভাগেই ডেঙ্গুতে ১৭৯ জন মারা গেছেন।


এ ছাড়া উল্লেখিত সময়ে খুলনা বিভাগে ৬৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩০ জন, বরিশাল বিভাগে ২৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৩ জন, রংপুরে ৭ জন ও সিলেট বিভাগে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:২২ পিএম

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২১৪ জনে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।


বুলেটিনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেট বিভাগেই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ১৩৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।


বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৫৫৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১৯৪ জন, বরিশালে ১১৫ জন, সিলেটে ৯৪ জন, ময়মনসিংহে ৬৫ জন, খুলনায় ৬০ জন, রংপুরে ২৪ জন এবং রাজশাহীতে ২০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬৩৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ৮৬ হাজার ৭৯৮ জন।


এদিকে, ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৮৭০ জনে। তাদের মধ্যে ২৩ হাজার ২৭৩ জনের শরীরে হাম নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে।








ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:২৫ পিএম

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খানকে দেখে এলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।


বঙ্গভবন জানিয়েছে, শুক্রবার সকালে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে যান রাষ্ট্রপতি। তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।


স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর স্ত্রী অ্যাডভোকেট রোকসানা খন্দকার এ সময় উপস্থিত ছিলেন।


এভারকেয়ার হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সাহাবুদ্দিন তালুকদারসহ চিকিৎসকরা আবদুল মঈন খানের সর্বশেষ অবস্থা রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।


গত বুধবার বুকে ব্যথা নিয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন মঈন খান। তিনি শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগে ভুগছেন। চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।


শাহজালাল বিমানবন্দরে যাত্রীরা (ফাইল ছবি)

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:১০ পিএম

৩৫ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠিয়েছে ইউরোপের কয়েকটি দেশ। এর মধ্যে ইতালি থেকে ১৯ জন, গ্রিস থেকে ১০ জন এবং সাইপ্রাস থেকে ছয়জন বাংলাদেশি দেশে ফিরছেন। 


ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল সোয়া আটটায় একটি বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে (পিভিজি ৯৪৪৫) তারা ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।


বিমানবন্দরে সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটি ও প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহযোগিতায় ফেরত আসা বাংলাদেশিদের জরুরি সহায়তা, কাউন্সেলিং এবং নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম। এ সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।


বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, একটি বিশেষ বিমানে করে ৩৫ বাংলাদেশি শুক্রবার সকালে ঢাকায় এসেছেন। এর মধ্যে ইতালি থেকে ১৯ জন, গ্রিস থেকে ১০ জন এবং সাইপ্রাস থেকে ছয়জন বাংলাদেশি দেশে ফিরছেন। 


তাদের সবাইকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রত্যাশা-২ প্রকল্প থেকে বিমানবন্দরে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে কাউন্সিলিং ও প্রশিক্ষণ শেষে সবাইকে অর্থনৈতিক সহায়তা করা হবে।


বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:০৩ পিএম

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দোকানপাট ও শপিং মল রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার বিশেষ অনুমতির মেয়াদ শেষ হয়েছে। ফলে আজ শুক্রবার থেকে আগের সময়সূচি অনুযায়ী সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে দোকানপাট, মার্কেট ও বিপণিবিতান। 



এতে প্রতিষ্ঠানগুলোর খোলা থাকার সময় দুই ঘণ্টা কমছে। বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রাখতে চলতি বছর কয়েক দফায় দোকানপাট খোলা ও বন্ধের সময় পরিবর্তন করেছে সরকার। সর্বশেষ গত ৫ অক্টোবর দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত রাত ১০টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখার অনুমতি দেয় বিদ্যুৎ বিভাগ। 



সেই সময়সীমা শেষ হওয়ায় আজ থেকে পুরোনো নিয়ম কার্যকর হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সকাল ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত শপিং মল, মার্কেট ও দোকানপাট খোলা রাখা যাবে। ২৩ অক্টোবর থেকে আগের নিয়মে সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে হবে।


এ বছর জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে দোকানপাট বন্ধের সময় একাধিকবার পরিবর্তন করা হয়। এপ্রিলের শুরুতে শপিং মল ও দোকানপাট সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরে ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সময় বাড়িয়ে সন্ধ্যা ৭টা করা হয়। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে গত ১২ মে সাময়িকভাবে রাত ১০টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়। 


এরপর জুনে বন্ধের সময় রাত ৯টা নির্ধারণ করা হয়। পরে ১২ আগস্ট বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সময় আরও এক ঘণ্টা কমিয়ে রাত ৮টা করা হয়। সেই অনুযায়ী সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখার নিয়ম চালু হয়, যা আজ থেকে আবার কার্যকর হলো।