তারেক রহমান ও নরেন্দ্র মোদি

  • প্রকাশ : বুধবার ১৮ মার্চ, ২০২৬, সময় : ১:৩৯ এএম

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার ঠিক এক মাস পূর্ণ হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের শাসনামলে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে যে এক ধরনের স্থবিরতা বা শীতলতা ছিল, তাতেও লক্ষ্য করা যাচ্ছে পরিবর্তনের ইঙ্গিত। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকায় শেখ হাসিনার পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে যে সরকার ক্ষমতায় আসে, ভারতের চোখে সেটি ছিল একটি 'অনির্বাচিত' সরকার –দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করা ছাড়া তাদের আর কোনো ম্যান্ডেট নেই, এমন দাবিও দিল্লির পক্ষ থেকে তখন একাধিকবার করা হয়েছে।


সেই যুক্তিতেই দিল্লি ঢাকার সঙ্গে ‘এনগেজমেন্ট’ কার্যত স্থগিত রেখেছিল। গুরুত্বপূর্ণ সব দ্বিপাক্ষিক আলোচনা থমকে গিয়েছিল, হাই-প্রোফাইল সফরগুলোও বন্ধ ছিল – এমন কী দুই দেশ পরস্পরের বিরুদ্ধে নানা ধরনের বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ আরোপের রাস্তাতেও হেঁটেছিল। সে সময় ভারতের ঘোষিত অবস্থান ছিল, আগে বাংলাদেশে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় আসুক – আর সেটা যে দলেরই সরকার হোক না কেন, তাদের সঙ্গে 'ডিল' করতে দিল্লির কোনো আপত্তি নেই। এখন গত ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে যে সাধারণ নির্বাচন হয়েছে তা আন্তর্জাতিক স্তরেও রীতিমতো গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে – এবং সেই ভোটে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি গরিষ্ঠতা অর্জন করে এককভাবে সরকার গঠন করেছে বিএনপি।


১৩ ফেব্রুয়ারি সকালে বিএনপি-র নিরঙ্কুশ বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পরই প্রথম যে বিশ্বনেতারা ভাবী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান, তাদের মধ্যে ছিলেন নরেন্দ্র মোদী। শুধু তাই নয়, সে দিন বিকেলে তিনি টেলিফোনেও মি রহমানের সঙ্গে কথা বলেন। দেড় বছরের একটা 'পজ' বা বিরতির অবসানে দিল্লি যে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক আবার সহজ করে তুলতে চাইছে, সেই ইঙ্গিত সে দিনই পাওয়া গিয়েছিল। এমন কী দল হিসেবে বিএনপি-র সঙ্গে ভারতের একদা অস্বস্তিকর সম্পর্কও আপাতদৃষ্টিতে তাতে বাধা হয়নি। কিন্তু বরফ গলার মধ্যে দিয়ে যে নতুন করে যে সম্পর্কের যাত্রা শুরু, তা কি সত্যিই শেষমেশ প্রত্যাশিত পথে এগোবে?


ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে দু'পক্ষেরই বিপুল পরিমাণে 'স্টেক' বা স্বার্থ আছে তাতে যেমন কোনো সন্দেহ নেই, তেমনি দুটো দেশের রাজনীতিতেই অন্য দেশের গভীর ছায়াপাতও একটি বাস্তবতা। মানে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে যেমন 'ইন্ডিয়া ফ্যাক্টরে'র গুরুত্ব অস্বীকার করা যাবে না, তেমনি ভারতের রাজনীতিতে – বিশেষ করে পূর্ব সীমান্তের রাজ্যগুলিতে – বাংলাদেশও বরাবরই একটি আলোচিত ও প্রাসঙ্গিক ইস্যু। ফলে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক বাস্তবতা – না কি অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বাধ্যবাধকতা – কোন বিষয়টি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বেশি প্রভাব ফেলে সেটাও একটা দেখার বিষয় হবে অবধারিতভাবে। এই পটভূমিতে ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আগামী দিনগুলোতে কোন পথে যেতে পারে, তা অবশ্যই কয়েকটি নির্দিষ্ট 'ইন্ডিকেটর' বা সূচক দিয়ে পরিমাপ করা যেতে পারে। পরবর্তী কয়েক মাসে এ রকমই পাঁচটি সূচক বা লক্ষণ কী কী হতে পারে, তা থাকছে এই প্রতিবেদনে।


ভিসা কার্যক্রম কি স্বাভাবিক হবে?


বাইরের যে দেশটি থেকে সবচেয়ে বেশি বিদেশি পর্যটক ভারতে আসতেন, বিলেত-আমেরিকাকে ছাপিয়ে টানা বেশ কয়েক বছর ধরে সেই স্থানটি ছিল বাংলাদেশের দখলে। কোভিড মহামারির ঠিক আগের বছরেও চিকিৎসা, পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য বা কেনাকেটা-সহ নানা কারণে প্রায় বিশ লক্ষ বাংলাদেশি ভারতে এসেছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালের অগাস্টে ভারত বাংলাদেশে তাদের ভিসা কার্যক্রম কার্যত বন্ধ করে দেওয়ার ফলে সেই পরিসংখ্যান হু হু করে কমে আসে।


বাংলাদেশে গত দেড় বছরে ভারত শুধুমাত্র কিছু মেডিকেল বা ইমার্জেন্সি ভিসাই ইস্যু করেছে, আর সেই সঙ্গে কিছু সংখ্যক 'ডাবল এন্ট্রি' ভিসা – ইউরোপগামী ও ওয়ার্ক পারমিট-প্রত্যাশী বহু বাংলাদেশি নাগরিকের ভারতে এসে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসে ভিসার আবেদন করতে যেটির প্রয়োজন হয়। এই ধরনের ভিসার সংখ্যাও আগের তুলনায় ছিল একেবারেই কম। তবে গত এক মাসে বাংলাদেশে নিযুক্ত একাধিক ভারতীয় কূটনীতিক প্রকাশ্যেই বলেছেন, ভারত এবারে ধীরে ধীরে ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার পথে এগোবে – এবং পর্যটন ভিসা দেওয়াও শুরু করবে। সত্যিই যদি সেটা আগামী কিছুদিনের ভেতরে হয়, তাহলে বোঝা যাবে ভারতের তরফ থেকেও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সহজ করার একটা তাগিদ দেখা যাচ্ছে।


তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর কোথায়?


যখন কোনো দেশের নতুন সরকারপ্রধান বা রাষ্ট্রপ্রধান দায়িত্ব নেন, তখন তিনি তার প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য হিসেবে কোন দেশটিকে বেছে নেন, সেটা ওই সরকারের পররাষ্ট্রনীতি বা কূটনীতির অগ্রাধিকার নিয়ে অবশ্যই একটা জোরালো বার্তা দেয়। বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর প্রথম দ্বিপাক্ষিক বিদেশ সফরে কোথায় যান, সেটাও ঠিক এই কারণেই দেখার বিষয় হবে। তিনি যদি প্রথম সফরে দিল্লিতে আসেন, তাহলে বোঝাই যাবে বিএনপি-র রাজনীতির সঙ্গে যে ভারত-বিরোধিতার তকমাটা এর আগে জুড়ে ছিল সেটা থেকে তার সরকার বেরোনোর চেষ্টা করছে।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অবশ্য দিল্লি না এসে প্রথম সফরে সৌদি আরব, বেজিং, ওয়াশিংটন বা এমন কী কাঠমান্ডু, কলম্বো বা ইসলামাবাদেও যেতে পারেন – আর তার প্রতিটি ক্ষেত্রেই সেই পদক্ষেপ নিয়ে অবশ্যই কাটাছেঁড়া হবে। আবার এমনও হতে পারে, তিনি নিজে প্রথমেই ভারত সফরে না গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেই বাংলাদেশ সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানালেন। প্রথম সারির বিশ্বনেতাদের মধ্যে নরেন্দ্র মোদীই যদি ঢাকায় নতুন সরকারের প্রথম অতিথি হন, সেটাও কম তাৎপর্যপূর্ণ হবে না। বস্তুত ১৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর পরই নরেন্দ্র মোদী ও তারেক রহমানের মধ্যে টেলিফোনে কথা হয়েছে, কিন্তু সেখানে ইতিমধ্যেই পারস্পরিক সফর নিয়ে কোনো আলাপ-আলোচনা হয়েছে কি না আমাদের জানা নেই। তবে তারেক রহমান যদি সত্যিই ভারত সফরে আসেন, সেটা মে মাসে পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের কয়েকটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের পর্ব মেটার আগে নয় – দিল্লিতে কূটনৈতিক সূত্রে আপাতত এমনই আভাস পাওয়া যাচ্ছে।


বাংলাদেশ সফরে আসবে ভারতের ক্রিকেট দল?


গত বছরের (২০২৫) অগাস্টে তিনটি ওয়ান ডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক খেলতে ভারতীয় ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফরে যাওয়ার কথা ছিল – যে সফর শেষ মুহুর্তে বাতিল করা হয়। বিবিসিআই (ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড) তখন বিসিবি বা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে জানিয়েছিল, অনিবার্য কারণে এখন ভারতের পক্ষে বাংলাদেশে খেলতে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না – এই সফরটি বরং আগামী বছরে রিশিডিউল করা হোক।



বিসিসিআই যে নিজে থেকে এই সিদ্ধান্ত নেয়নি, বরং ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের ইশারাতেই সেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল – এ কথাও ছিল 'ওপেন সিক্রেট'। অর্থাৎ সফর পিছোনোর কারণ ছিল পুরোপুরি রাজনৈতিক। এখন দিনকয়েক পরেই ভারতে শুরু হচ্ছে আইপিএল টুর্নামেন্টের মরশুম, ফলে ভারতীয় দলের বাংলাদেশ সফরে যেতে হলে আগামী জুনের আগে তা সম্ভব নয়।কিন্তু চলতি বছরে সেই প্রস্তাবিত 'রিশিডিউলড' সফরটি আদৌ হবে কি না, এবং ভারতীয় বোর্ড বাংলাদেশকে দেওয়া তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে কি না – সেটা এখনো পুরোপিুরি নিশ্চিত নয়। এর মাঝে ঢাকায় অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ক্রিকেটকে কেন্দ্র করে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কে আরও অবনতি হয়েছে – ভারতীয় বোর্ড কলকাতা নাইট রাইডার্স স্কোয়াড থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দিতে বলার পর বাংলাদেশ ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতেই অস্বীকার করেছে, যার কারণে শেষ পর্যন্ত পুরো টুর্নামেন্ট থেকেই তাদের বাইরে থাকতে হয়েছে।


সেই তিক্ত ঘটনাপ্রবাহের জেরে ভারতীয় দলের পরবর্তী বাংলাদেশ সফর নিয়েও একটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে ভারত যখন ২০২৬-এর জুন নাগাদ সফরটি 'রিশিডিউল' করার প্রস্তাব দিয়েছিল তখন তাদের ধারণা ছিল ওই সময়ের মধ্যে ঢাকায় একটি নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় এসে যাবে এবং সফরের পরিবেশও অনেক অনুকূল থাকবে। সেই ধারণা ইতিমধ্যেই সত্যি প্রমাণিত হয়েছে, এখন ভারত যদি তাদের কথা রাখে – তাতেও বোঝা যাবে দুই দেশের সম্পর্কের গ্রাফও ইতিবাচক দিকেই মোড় নিচ্ছে।


কী হবে কানেক্টিভিটি প্রকল্পগুলোর


গত দেড় বছরের ওপর ধরে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ। কলকাতা-ঢাকার মধ্যে চলাচলকারী মৈত্রী এক্সপ্রেস, কলকাতা ও খুলনার মধ্যেকার বন্ধন এক্সপ্রেস বা কমলাপুর-নিউ জলপাইগুড়ির মধ্যে চলাচলকারী মিতালি এক্সপ্রেসের চাকাই রেললাইনে গড়ায়নি সেই ২০২৪-র জুলাই থেকে। আন্তর্জাতিক বাস পরিষেবাও তখন থেকেই বন্ধ – যদিও অতি সম্প্রতি ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা থেকে ঢাকা পর্যন্ত বাস চলাচল আবার খুব সীমিত আকারে শুরু হয়েছে। অথচ এই সংযোগগুলো দুই দেশের মানুষে মানুষে সম্পর্ক (পিপল টু পিপল কনট্যাক্ট) শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।


ভারত আর একটি যে কানেক্টিভিটি প্রকল্পের দিকে অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে, সেটি হল আগরতলা ও আখাউড়ার মধ্যে রেল সংযোগ স্থাপন। এই রেললাইনটুকু তৈরি হয়ে গেলে কলকাতা থেকে বাংলাদেশের ভূখন্ড দিয়ে সরাসরি আগরতলায় ট্রেনে চেপে যাওয়া যাবে মাত্র কয়েক ঘন্টাতেই – প্রায় চল্লিশ ঘন্টার জার্নি এক ধাক্কায় কমে আসবে মাত্র আট-দশ ঘন্টায়। ভারত এই কারণেই আগরতলা-আখাউড়া রেল সংযোগকে তাদের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জন্য একটি 'গেমচেঞ্জার' হিসেবে দেখে থাকে। কিন্তু দিল্লির জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পটির কাজও থমকে আছে বহু মাস ধরে। অথচ সীমান্তে প্রকল্পের অতি সামান্য অংশের কাজই বাকি – বাকি কাজ ২০২৩/২০২৪ নাগাদই শেষ হয়ে গিয়েছিল। এখন তারেক রহমানের নতুন সরকারের আমলে এই 'সামান্য অসমাপ্ত' প্রকল্পটি শেষ হয় কি না, এবং হলে কত তাড়াতাড়ি হয় – সেটা অবশ্যই দেখার বিষয় হবে।


ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে 'কানেক্টিভিটি'-কে ভারত বরাবর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে এসেছে এবং এই খাতে বিপুল বিনিয়োগও করেছে, কারণ বিশেষ করে ভারতের জন্য এই সংযোগ নানা কারণে খুব প্রয়োজন। এখন সেই কানেক্টিভিটি প্রকল্পগুলোর কী গতি হয় এবং দুই দেশের মধ্যে ট্রেন-বাস চলাচল আবার কবে শুরু হয় – সেটাও দুই সরকারের মধ্যে সম্পর্কের রূপরেখা নিয়ে স্পষ্ট একটা বার্তা দেবে।


কবে হবে গঙ্গা পানি চুক্তির নবায়ন


ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ১৯৯৬ সালের ডিসেম্বরে যে গঙ্গা জল চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তার তিরিশ বছরের মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি বছরের (২০২৬) ডিসেম্বরেই। এখন এই অতি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিটি কোন শর্তে নবায়ন হবে – আগের আকারেই সেটি বহাল থাকবে না কি দুই দেশই চুক্তির শর্তে পরিবর্তন চাইবে–সেই আলোচনাও কিন্তু থমকে আছে বহুদিন ধরে। এখন যেটা চলছে তা হল নেহাত টেকনিক্যাল আলোচনা ও দু'দেশের মধ্যে নিয়মমাফিক তথ্যের আদানপ্রদান। কিন্তু চুক্তির নবায়ন করতে হলে যে রাজনৈতিক পর্যায়ের অংশগ্রহণ দরকার, সেটি এখনও হয়ে ওঠেনি। অথচ দুই দেশেরই জানা আছে, সময়মতো চুক্তিটির নবায়ন না হলে গঙ্গার জল ভাগাভাগি নিয়ে বিরাট জটিলতার সৃষ্টি হবে।


এখন তারেক রহমান ও নরেন্দ্র মোদী সরকারের মধ্যে পরবর্তী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যদি সেই আলোচনা শুরু হয় (কারণ হাতে সময় মাত্রই কয়েক মাস), তাহলে সেটা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একটা গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে। বোঝা যাবে যে, একটি জটিল সমস্যার নিষ্পত্তিতে দুই সরকারের দিক থেকেই তাগিদ আছে এবং তারা একে অন্যের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ এনগেজমেন্টগুলো করতে প্রস্তুত।


এদিকে ভারতের পার্লামেন্টে তৃণমূল কংগ্রেসের এমপি-রা সম্প্রতি গঙ্গা চুক্তি নিয়ে যে সব প্রস্তাব এনেছেন বা প্রশ্ন তুলেছেন, তা থেকে স্পষ্ট চুক্তি নবায়নের আলোচনায় তারাও অংশ হতে চায়।


পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভার নির্বাচনও একেবারে দোরগোড়ায়, রাজ্যের ক্ষমতায় যদি ভোটের পর তৃণমূল কংগ্রেসই থাকে তাহলে গঙ্গা চুক্তির আলোচনায় তাদের মতামত উপেক্ষা করা কেন্দ্রের পক্ষে কঠিন হবে। বাংলাদেশ সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুতে বিজেপি বা তৃণমূল কংগ্রেসের যে অবস্থান – পশ্চিমবঙ্গের ভোট মেটার আগে তাতে খুব একটা পরিবর্তন হবে না বলেই ধরে নেওয়া যায়।




প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:২২ পিএম

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২১৪ জনে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।


বুলেটিনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেট বিভাগেই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ১৩৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।


বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৫৫৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১৯৪ জন, বরিশালে ১১৫ জন, সিলেটে ৯৪ জন, ময়মনসিংহে ৬৫ জন, খুলনায় ৬০ জন, রংপুরে ২৪ জন এবং রাজশাহীতে ২০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬৩৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ৮৬ হাজার ৭৯৮ জন।


এদিকে, ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৮৭০ জনে। তাদের মধ্যে ২৩ হাজার ২৭৩ জনের শরীরে হাম নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে।








ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:২৫ পিএম

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খানকে দেখে এলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।


বঙ্গভবন জানিয়েছে, শুক্রবার সকালে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে যান রাষ্ট্রপতি। তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।


স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর স্ত্রী অ্যাডভোকেট রোকসানা খন্দকার এ সময় উপস্থিত ছিলেন।


এভারকেয়ার হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সাহাবুদ্দিন তালুকদারসহ চিকিৎসকরা আবদুল মঈন খানের সর্বশেষ অবস্থা রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।


গত বুধবার বুকে ব্যথা নিয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন মঈন খান। তিনি শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগে ভুগছেন। চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।


শাহজালাল বিমানবন্দরে যাত্রীরা (ফাইল ছবি)

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:১০ পিএম

৩৫ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠিয়েছে ইউরোপের কয়েকটি দেশ। এর মধ্যে ইতালি থেকে ১৯ জন, গ্রিস থেকে ১০ জন এবং সাইপ্রাস থেকে ছয়জন বাংলাদেশি দেশে ফিরছেন। 


ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল সোয়া আটটায় একটি বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে (পিভিজি ৯৪৪৫) তারা ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।


বিমানবন্দরে সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটি ও প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহযোগিতায় ফেরত আসা বাংলাদেশিদের জরুরি সহায়তা, কাউন্সেলিং এবং নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম। এ সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।


বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, একটি বিশেষ বিমানে করে ৩৫ বাংলাদেশি শুক্রবার সকালে ঢাকায় এসেছেন। এর মধ্যে ইতালি থেকে ১৯ জন, গ্রিস থেকে ১০ জন এবং সাইপ্রাস থেকে ছয়জন বাংলাদেশি দেশে ফিরছেন। 


তাদের সবাইকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রত্যাশা-২ প্রকল্প থেকে বিমানবন্দরে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে কাউন্সিলিং ও প্রশিক্ষণ শেষে সবাইকে অর্থনৈতিক সহায়তা করা হবে।


বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:০৩ পিএম

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দোকানপাট ও শপিং মল রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার বিশেষ অনুমতির মেয়াদ শেষ হয়েছে। ফলে আজ শুক্রবার থেকে আগের সময়সূচি অনুযায়ী সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে দোকানপাট, মার্কেট ও বিপণিবিতান। 



এতে প্রতিষ্ঠানগুলোর খোলা থাকার সময় দুই ঘণ্টা কমছে। বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রাখতে চলতি বছর কয়েক দফায় দোকানপাট খোলা ও বন্ধের সময় পরিবর্তন করেছে সরকার। সর্বশেষ গত ৫ অক্টোবর দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত রাত ১০টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখার অনুমতি দেয় বিদ্যুৎ বিভাগ। 



সেই সময়সীমা শেষ হওয়ায় আজ থেকে পুরোনো নিয়ম কার্যকর হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সকাল ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত শপিং মল, মার্কেট ও দোকানপাট খোলা রাখা যাবে। ২৩ অক্টোবর থেকে আগের নিয়মে সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে হবে।


এ বছর জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে দোকানপাট বন্ধের সময় একাধিকবার পরিবর্তন করা হয়। এপ্রিলের শুরুতে শপিং মল ও দোকানপাট সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরে ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সময় বাড়িয়ে সন্ধ্যা ৭টা করা হয়। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে গত ১২ মে সাময়িকভাবে রাত ১০টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়। 


এরপর জুনে বন্ধের সময় রাত ৯টা নির্ধারণ করা হয়। পরে ১২ আগস্ট বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সময় আরও এক ঘণ্টা কমিয়ে রাত ৮টা করা হয়। সেই অনুযায়ী সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখার নিয়ম চালু হয়, যা আজ থেকে আবার কার্যকর হলো।


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৫৯ পিএম
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৫৯ এএম


জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে নিসচার র‍্যালি ও সমাবেশ

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৫৯ পিএম

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর উদ্যোগে আজ সকাল ১১টায় রাজধানীর কাকরাইলে নিসচার কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে জাতীয় প্রেসক্লাব পর্যন্ত এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। র‍্যালিতে নিসচার উপদেষ্টা, আজীবন সদস্য, কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ, সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, সবার জন্য বাংলাদেশ, নিসচা মুন্সীগঞ্জ জেলা শাখা, নিসচা ঢাকা জেলা, বাংলাদেশ সাইকেল লেন, নিসচা ধামরাই উপজেলা,নিসচা পলাশ উপজেলা শাখা, নিসচা নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা, নিসচা লৌহজং উপজেলা শাখা, নিসচা শিবপুর উপজেলা শাখা, নিসচা সাভার উপজেলা শাখা, নিসচা ঠাকুরগাঁও জেলা শাখা  এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ অনেকে অংশ নেন।


 


র‍্যালিটি কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে নির্ধারিত পথ অতিক্রম করে জাতীয় প্রেসক্লাবে গিয়ে শেষ হয়। অংশগ্রহণকারীরা সড়কে শৃঙ্খলা, আইন মানা, চালক ও যাত্রীর নিরাপত্তা এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান। তাঁদের হাতে থাকা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ডে নিরাপদ সড়কের দাবিতে নানা বার্তা তুলে ধরা হয়। র‍্যালি থেকে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও পঙ্গুত্বের ঝুঁকি কমাতে সরকার, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, পরিবহন খাত, গণমাধ্যম এবং নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।


 


জাতীয় প্রেসক্লাবে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে নিসচার নেতৃবৃন্দ বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা কোনো অনিবার্য ঘটনা নয়। পরিকল্পিত ব্যবস্থা, বিদ্যমান আইন ও বিধির যথাযথ প্রয়োগ, দক্ষ চালক তৈরি এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের সচেতন আচরণের মাধ্যমে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব। এজন্য সড়ক নিরাপত্তাকে বিচ্ছিন্ন কোনো কর্মসূচি হিসেবে না দেখে নিয়মিত ও সমন্বিত জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।


 


নেতৃবৃন্দের বক্তব্যে চালকের যোগ্যতা ও প্রশিক্ষণ, যানবাহনের ফিটনেস, সড়কের নকশা ও রক্ষণাবেক্ষণ, পথচারীর নিরাপত্তা, দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার এবং চিকিৎসা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। তাঁরা বলেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে কেবল আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়, আইন বাস্তবায়ন, তদারকি, তথ্য সংগ্রহ এবং অনিয়মের জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে।


 


নিসচার দাবি ও সুপারিশ

র‍্যালি ও সমাবেশ থেকে নিসচার পক্ষ থেকে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কয়েকটি দাবি ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়:


 


সড়ক নিরাপত্তা আইন ও বিধির কার্যকর প্রয়োগ: ট্রাফিক আইন ভঙ্গ, বিপজ্জনক গতিতে গাড়ি চালানো, ভুল পথে চলা, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, অতিরিক্ত যাত্রী বা মাল বহন এবং যানবাহনের কাগজপত্র ও ফিটনেসসংক্রান্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে নিয়মিত ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা নিতে হবে।


চালকদের দক্ষতা ও যোগ্যতা নিশ্চিত করা: পেশাদার চালকদের প্রশিক্ষণ, পরীক্ষার মান এবং লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করতে হবে। চালকের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা, বিশ্রাম এবং কর্মঘণ্টার বিষয়েও নজর দিতে হবে, যাতে ক্লান্তি বা অদক্ষতার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি না বাড়ে।


যানবাহনের ফিটনেস ও নিরাপত্তা তদারকি: যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানসহ সব ধরনের যানবাহনের নিয়মিত পরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। ত্রুটিপূর্ণ, অনুপযোগী বা অতিরিক্ত ধোঁয়া নির্গমনকারী যান চলাচল বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধারাবাহিক নজরদারি করতে হবে।


সড়ক ও অবকাঠামো নিরাপদ করা: ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, অপর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, অস্পষ্ট বা অনুপস্থিত সাইন-সিগন্যাল এবং বিপজ্জনক প্রবেশপথ চিহ্নিত করে দ্রুত সংস্কার করতে হবে। সড়ক নির্মাণ ও মেরামতের পরিকল্পনায় চালক, যাত্রী, পথচারী, শিশু, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিরাপত্তা বিবেচনায় রাখতে হবে।


পথচারী ও যাত্রী সুরক্ষা: ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা করা, প্রয়োজনীয় স্থানে জেব্রা ক্রসিং ও ট্রাফিক সংকেত স্থাপন এবং বাসস্টপ ও যাত্রী ওঠানামার স্থান সুশৃঙ্খল করা জরুরি। স্কুল, হাসপাতাল, বাজার ও জনবহুল এলাকায় যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।


গতিসীমা ও ঝুঁকিপূর্ণ চালনা নিয়ন্ত্রণ: সড়কের ধরন ও পরিবেশ অনুযায়ী গতিসীমা নির্ধারণ করে তা দৃশ্যমানভাবে জানাতে হবে। দ্রুতগতির যান শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং নিয়মিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করার সুপারিশ করা হয়।


দুর্ঘটনার তথ্য ও গবেষণা: দুর্ঘটনার স্থান, সময়, ধরন ও কারণ সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করে নিয়মিত বিশ্লেষণ প্রকাশ করতে হবে। তথ্যের ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।


দুর্ঘটনার পর দ্রুত সেবা: দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার, জরুরি চিকিৎসা এবং উপযুক্ত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে। জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং সাধারণ মানুষের জন্য সহজে ব্যবহারযোগ্য জরুরি যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।


নিরাপত্তা শিক্ষার বিস্তার: বিদ্যালয়, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, কর্মক্ষেত্র ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে নিয়মিত শিক্ষা ও প্রচার চালাতে হবে। চালক, হেলপার, যাত্রী, পথচারী এবং পরিবহন মালিক—সবার জন্য সচেতনতামূলক কর্মসূচি প্রয়োজন।


সমন্বিত ও জবাবদিহিমূলক উদ্যোগ: সড়ক নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত সরকারি দপ্তর, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠন, বিশেষজ্ঞ এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে। নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করে জনগণের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।


 


নিসচার নেতৃবৃন্দ বলেন, নিরাপদ সড়ক গড়ে তুলতে প্রত্যেকের ভূমিকা রয়েছে। চালককে দায়িত্বশীলভাবে গাড়ি চালাতে হবে, যাত্রীকে নিরাপত্তাবিধি মানতে হবে, পথচারীকে সতর্ক থাকতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিয়ম প্রয়োগ ও নিরাপদ অবকাঠামো নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে পরিবহনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ এবং জনসচেতনতামূলক উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ।


 


তাঁরা আরও বলেন, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো এবং আহত ব্যক্তিদের যথাযথ সহায়তা দেওয়া মানবিক দায়িত্ব। দুর্ঘটনার কারণ নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান, প্রতিরোধমূলক সুপারিশ বাস্তবায়ন এবং একই ধরনের দুর্ঘটনা যেন পুনরায় না ঘটে সে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।


 


জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের কর্মসূচি থেকে নিসচা দেশের সর্বস্তরের মানুষকে সড়ক আইন মেনে চলা, নিরাপদ গতিতে যানবাহন চালানো, ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ পরিহার করা এবং সড়কে অন্যের অধিকার ও নিরাপত্তার প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের প্রতি সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বাস্তবসম্মত, ধারাবাহিক ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।


 


২২ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে এবারের প্রতিপাদ্য হলো – ‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। আর নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য নিরাপদ নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি। 


 



প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৩৮ পিএম

দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যু অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত রোগটিতে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। 


একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৫১২ জন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬৮ জনে। আজ বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক হালনাগাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। 


এতে গতকাল বুধবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার হিসাব তুলে ধরা হয়েছে।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন ময়মনসিংহের এবং একজন করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল।


গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি নতুন রোগীদের মধ্যে ডিএসসিসির এলাকায় ১১১ জন ও ডিএনসিসির এলাকায় ১৪৬ জন রয়েছে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ২৫৫ জন।


বিভাগভিত্তিক হিসাবে, ঢাকার বাইরে সবচেয়ে বেশি ২৯৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছে চট্টগ্রামে। এ ছাড়া বরিশালে ২৩১ জন, খুলনায় ২০৬, রাজশাহীতে ১৬২, ময়মনসিংহে ৬০, রংপুরে ৪৪ ও সিলেটে আটজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাসভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ডেঙ্গুতে দুজন করে মারা যায়। মে মাসে মারা যায় একজন। এরপর জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬, আগস্টে ৪৩ ও সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়। অক্টোবরে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ১২৩ জন।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার ৫০২ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ১১১ জন।


চলতি বছর ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৫২ দশমিক ৯ শতাংশ নারী ও ৪৭ দশমিক ১ শতাংশ পুরুষ। অন্যদিকে, হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে ৩৭ দশমিক ৯ শতাংশ নারী ও ৬২ দশমিক ১ শতাংশ পুরুষ।