ছবি : সংগৃহীত
জাতিসংঘ নির্বাচন: বাংলাদেশকে সৌদিসহ একাধিক মুসলিম দেশের সমর্থনের আশ্বাস
পাকিস্তান, ফিলিস্তিন, তুরস্ক, সৌদি আরব, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, জাতিসংঘ
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে সৌদি আরব, পাকিস্তান, তুরস্ক, ফিলিস্তিনসহ বেশ কয়েকটি দেশ।
আজ শুক্রবার জেদ্দায় ওআইসির জরুরি অধিবেশনের ফাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকের সময় পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, সৌদি আরবের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ আল এলখেরেজি, তুরস্কের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসা কুলাকিলিকায়া, ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারসেন আগাবেকিয়ান এবং গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরিং মোদাও নিয়ে এ আশ্বাস দেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, জেদ্দায় ফিলিস্তিনবিষয়ক ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) জরুরি বৈঠকের ফাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিদলের নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
জুন মাসে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে সরকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে মনোনীত করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ওআইসি প্রতিনিধিদলগুলোর নেতারা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ব্যাপক বিজয় ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন যে প্রধানমন্ত্রীর দক্ষ নেতৃত্বে বাংলাদেশ দ্রুত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন করবে এবং উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। তাঁরা ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাংলাদেশের অবিচল অঙ্গীকারেরও প্রশংসা করেন। নেতৃবৃন্দ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গত বছর প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাঁর বৈঠকের কথা উষ্ণতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি জানান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানাতে বাংলাদেশ সফরের প্রত্যাশায় রয়েছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার আশা প্রকাশ করেন যে ঢাকায় নতুন সরকারের অধীনে দুই দেশের সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে উন্নত হবে।
তুরস্কের উপমন্ত্রী মুসা কুলাকিলিকায়া তুরস্ক ও বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে বলেন, আগামী দিনে বিভিন্ন খাতে এ সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হবে বলে তিনি আশাবাদী। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তায় তুরস্কের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান। দুই পক্ষ রোহিঙ্গা-সংকটের দ্রুত সমাধানে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। খলিলুর রহমান পবিত্র রমজানের পর বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিকেনের জন্য একটি আমন্ত্রণপত্র তুর্কি উপমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন।
এদিকে সৌদি আরবের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ আল এলখেরেজি আশা প্রকাশ করেন যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুবিধাজনক সময়ে শিগগিরই সৌদি আরব সফর করবেন। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকেও রিয়াদ সফরের আমন্ত্রণ জানান। তিনি বলেন, সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশের জন্য ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি করেছে এবং এ ক্ষেত্রে সৌদি সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান উল্লেখ করেন, বাংলাদেশেও সৌদি আরবের বিনিয়োগের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ রয়েছে। উভয় পক্ষ এসব সম্ভাবনা বাস্তবায়নে একসঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন। এলখরেইজি ওআইসি সচিবালয়ের কার্যকারিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার উদ্যোগে বাংলাদেশের সমর্থন কামনা করেন।
ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারসেন আগাবেকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায্য অধিকারের পক্ষে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ১৯৬৭-পূর্ব সীমান্তের ভিত্তিতে ও পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই এ সমস্যার একমাত্র সমাধান। ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাংলাদেশের দৃঢ় ও ধারাবাহিক সমর্থনের প্রশংসা করেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতিত্বের প্রশ্নে ফিলিস্তিন প্রার্থী না হলেও, বাংলাদেশ নির্বাচিত হলে ফিলিস্তিনের ন্যায্য দাবি যথাযথভাবে সমুন্নত রাখবে। ফিলিস্তিনি মন্ত্রী জানান, আরব-ইসলামিক দেশগুলো বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন করবে।
এদিকে গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরিং মোদাওয়ের সঙ্গে বৈঠকে খলিলুর রহমান রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পক্ষে গাম্বিয়া সরকারের ধারাবাহিক ও সক্রিয় সমর্থনের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) দায়ের করা মামলায় গাম্বিয়ার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে গাম্বিয়ার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগে বাংলাদেশ সর্বাত্মক সহায়তা দিতে প্রস্তুত। উভয় পক্ষ চলতি বছরের এপ্রিলে বাগদাদে অনুষ্ঠেয় ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের বৈঠকের সময় রোহিঙ্গা ইস্যুতে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়ে সম্মত হন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিজি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতিত্বে বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন এবং এ বিষয়ে অন্যান্য আফ্রিকান দেশের সমর্থন আদায়ে কাজ করার আশ্বাস দেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকগুলোতে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন
রাজধানীর ইংলিশ রোডের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সরকারি অফিস চলাকালে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করার অভিযোগে এক সরকারি চিকিৎসকের লাইসেন্স বাতিল ও চাকরি থেকে বরখাস্তের নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে পুরান ঢাকার ইংলিশ রোডে অবস্থিত পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আকস্মিক অভিযান চালিয়ে নরসিংদীর বেলাবো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মইনুল হাসান চিশতীকে রোগী দেখার সময় হাতেনাতে আটক করেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, সরকারি চাকরিতে কর্মরত অবস্থায় অফিস চলাকালে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাসেবা দেয়া সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত। দীর্ঘদিন ধরে এ অনিয়ম করে আসার অভিযোগে ডা. মইনুল হাসান চিশতীর বিরুদ্ধে লাইসেন্স বাতিল এবং চাকরি থেকে বরখাস্তের ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটকেও নির্দেশ দেন তিনি।
অভিযানকালে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের কাগজপত্র যাচাই করে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সরকারি চাকরি থেকে অব্যাহতির (রেজিগনেশন) কোনো কাগজপত্র বা অনাপত্তিপত্র (এনওসি) সংরক্ষণ করেনি প্রতিষ্ঠানটি। এ নিয়ে পপুলার ডায়াগনস্টিকের ম্যানেজারকে তীব্র ভর্ৎসনা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, একজন সরকারি চিকিৎসক চাকরি পরিবর্তন বা অন্য কোথাও কাজ করতে চাইলে তার রেজিগনেশন লেটার ও এনওসি বাধ্যতামূলক। কেবল চিকিৎসকের কথার ভিত্তিতে তাকে রোগী দেখার সুযোগ দেওয়া আইনসম্মত নয়। লাভের আশায় এ ধরনের অনৈতিক কার্যক্রমকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় ম্যানেজার নিজের ভুল স্বীকার করে বলেন, চিকিৎসকের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ না করা তাদের ভুল হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
অভিযান শেষে সাংবাদিকদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক রেখে জনগণের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকার বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। অথচ কেউ যদি সরকারি দায়িত্ব ফেলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে রোগী দেখেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। এ ধরনের অনিয়মে জড়িত চিকিৎসক ও প্রতিষ্ঠান—উভয়ের বিরুদ্ধেই কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এক দিনের সরকারি সফরে আগামী ৯ আগস্ট (রোববার) কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী। সফরে তিনি মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প পরিদর্শনের পাশাপাশি চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত মানুষের পুনর্বাসন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। এছাড়া ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ, কবর জিয়ারত এবং একটি সাংগঠনিক সভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ মো. উজ্জ্বল হোসেন স্বাক্ষরিত সফরসূচি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী সকাল ৯টায় তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারযোগে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। সেখানে তিনি মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন।
দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে তিনি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পশ্চিম বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে পুনর্বাসন সহায়তা বিতরণ করবেন।
এরপর দুপুর ২টায় ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় গিয়ে আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে হাটহাজারীর আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় গিয়ে মরহুম আল্লামা শাহ আহমদ শফী (রহ.)-এর কবর জিয়ারত করবেন। পরে বিকেল ৫টায় হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে বন্যাদুর্গতদের পুনর্বাসন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
দিনের শেষ কর্মসূচিতে সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে চট্টগ্রাম নগরের রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউ হোটেলের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত একটি সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
সফর শেষে রাত ৯টা ২০ মিনিটে তিনি চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। সেখান থেকে বিমানযোগে ঢাকায় ফিরবেন। রাত ১০টা ৪০ মিনিটে তার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ভোট গ্রহণের তারিখ ২০ আগস্ট। একাধিক প্রার্থী থাকলে সেদিন বেলা দুইটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশনকক্ষে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ইসি সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। এই নির্বাচনে নির্বাচনী কর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের তারিখ ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ১৬ আগস্ট। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৮ আগস্ট। আর ভোট গ্রহণ ২০ আগস্ট।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সাধারণত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সরকারি দলের দেওয়া একক প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হন। এ ক্ষেত্রে ভোট গ্রহণের প্রয়োজন হয় না। একক প্রার্থী থাকলে ১৮ আগস্ট নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে যাবেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী, প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক এবং আরেকজনকে সমর্থক হতে হবে। প্রার্থীর নিজেরও সম্মতিসূচক স্বাক্ষর থাকতে হবে।
প্রার্থীর সংখ্যা একজনের বেশি না হলে তাঁকেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে। আর একাধিক প্রার্থী হলে সংসদের অধিবেশনকক্ষে বিধিমালা অনুযায়ী ভোট হবে।
সংসদীয় গণতন্ত্র চালুর পর ১৯৯১ সালে একাধিক প্রার্থী হওয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট করতে হয়েছিল। পরে প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দল মনোনীত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে আসছেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন সংসদ সদস্যদের ভোটে। আর প্রধান নির্বাচন কমিশনার তাতে ‘নির্বাচনী কর্তা’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয় হবে মনোনয়নপত্র জমা, বাছাইয়ের স্থান। ভোটের স্থান হবে সংসদের অধিবেশনকক্ষ।
রাষ্ট্রপতির পদ থেকে গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। নিয়ম অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে ইসিকে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আয়োজন করতে হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর শুধু জুলাই গণঅভ্যুত্থান নয়, বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতিচ্ছবি। এই জাদুঘর ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর আগামী প্রজন্মের সামনে বিতাড়িত ফ্যাসিস্টদের মুখোশ উন্মোচ করবে। এই জাদুঘর আমাদের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ আর সাহসকে জাতীয় স্মৃতিতে ধারণ করার এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ।’
তিনি বলেন, ‘আজকের এই দিনটি দেশের জন্য যুগান্তকারী মাইলফলক। সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।’
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সেই ইতিহাস তুলে ধরার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের আমলে গুম-খুনকে স্বাভাবিক করে ফেলা হয়েছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইতিহাস স্বাক্ষী, বিতাড়িত ফ্যাসিবাদ চক্র দেশে গণতান্ত্রিক শাসন মেনে নিতে পারেনি।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, উপদেষ্টা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ড নিয়ে ভারতে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বার্ষিকীর দিনে দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
বুধবার রাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এমন প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলা হয়, পলাতক অভিযুক্ত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনাকে আজ (বুধবার) বিকেলে নয়া দিল্লিতে সরাসরি গণমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ দেওয়ায় বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ হয়েছে। যেখানে তিনি এবং অনুচররা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও এর জনগণের বিরুদ্ধে বিষাক্ত ঘৃণা ছড়িয়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের এ অনুষ্ঠানের প্রভাব নিয়ে আগে থেকে ভারত সরকারের কাছে উদ্বেগ জানানোর পরও তা হতে দেওয়ায় গভীর ক্ষোভ জানাচ্ছে ঢাকা।
জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের সরকার পতনের দ্বিতীয় বার্ষকীতে বুধবার বিকালে দিল্লিতে দক্ষিণ এশিয়ার ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা।
এতে বলা হয়, আত্মগোপনে থাকা দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনাকে আজ সন্ধ্যায় নয়াদিল্লিতে গণমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি আলাপচারিতার অনুমতি দেওয়ায় বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ। ঢাকা গভীরভাবে দুঃখ প্রকাশ করে যে, আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পুনর্গঠনে এই ঘটনার সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে ভারত সরকারকে উদ্বেগ জানানো সত্ত্বেও এই প্রকাশ্য অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার এই আলাপচারিতা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি মারাত্মক অপমান। ফ্যাসিবাদী শাসন দ্বারা ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে শিশুসহ নিরীহ বেসামরিক লোকদের নৃশংস হত্যাকাণ্ড-সংক্রান্ত জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত তথ্য অস্বীকার করা পলাতক দোষী সাব্যস্ত গণহত্যাকারী হাসিনা এবং তার অপরাধী সহযোগীদের ইতিহাসের জোয়ারকে বিপরীত করার একটি বৃথা প্রচেষ্টা। বাংলাদেশের জনগণ অতীতে এ ধরনের জঘন্য প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছিল এবং এখনও করছে। প্রবাসসংবাদ
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে সমুন্নত রেখে দেশের জনগণ দৃঢ় সংকল্প নিয়েছে যে, জাতি আর কখনও ফ্যাসিবাদের অন্ধকার দিনগুলোতে ফিরে যাবে না এবং বাংলাদেশ কখনও ক্লায়েন্ট রাষ্ট্র হবে না। সাজাপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনা ও তার মাফিয়া প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের রাজনীতিতে কখনও স্থান পাবে না।
এতে আরও বলা হয়, সার্বভৌম সাম্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ও দূরদর্শী সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় বাংলাদেশ। দুঃখজনকভাবে, ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তির অধীনে দোষী সাব্যস্ত অপরাধী হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারত সরকারের কাছে বারবার অনুরোধ করা হলেও এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিপরীতে, যেকোনও অজুহাতে তাকে গণমাধ্যমের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলার সুযোগ দেওয়া আমাদের জনগণের অনুভূতির জন্য গভীরভাবে ক্ষতিকর এবং বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিকাশের জন্যও ক্ষতিকর।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
‘স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্তির পর আমরা যদি বলি জুলাই কার, জুলাই কার? জুলাই আমাদের কারোই থাকবে না।’ রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে এ কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
বেঁচে থাকার কথা ছিল না উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পৃথিবীর জঘন্যতম ও ঘৃণ্যতম হত্যাকাণ্ড এবং জঘন্যতম স্বৈরাচারকে আমরা দেখেছি। যদি আমরা আয়না ঘরে যাই, যেখানে আমার ৬১ দিনের অভিজ্ঞতা আছে। সেখানে একটা জানোয়ার ২৪ ঘণ্টা থাকতে পারে না, আমরা সেখানে থেকেছি। আমার ভাই মীর কাসেম, তার ছেলে ব্যারিস্টার আরমান এখনো ট্রমাটাইজড। ওর বাবার বন্ধু ছিলাম, একসঙ্গে জেল খেটেছি... আমি বললাম, ভাই কেন ফেরত আসলেন?
তিনি বললেন, আমি যদি না আসি আমার ছেলেটাকে ধরে নিয়ে যাবে। ফাঁসি তো তার হলো, কিন্তু ছেলেকেও তো ধরে নিয়ে গেল। আমি একটা জীবন্ত ইতিহাস... বাবা এ জন্য ফিরে এসেছিলেন তার সন্তানকে রক্ষা করবেন, কিন্তু সন্তানকে রক্ষা করতে পারেননি।’
‘সে রকম একটা স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্তির পরে আমরা যদি বলি জুলাই কার? জুলাই কার? তাহলে জুলাই আমাদের কারোই থাকবে না। এই অবস্থা থেকে আমাদের মুক্তি পেতে হবে। পৃথিবীতে অনেক জাতি আছে, স্বাধীনতার জন্য শতবর্ষ সংগ্রাম করে। কোনোদিন স্বাধীনতা পায় না। শতাব্দীর পর শতাব্দী চলে যায়।
মহামতি লেলিন বলেছিলেন, “দেয়ার আর ডিকেডস, নাথিং হ্যাপেনস দেয়ার। বাট দেয়ার আর ডেইস অ্যান্ড উইকস ডিকেডস হ্যাপেনস দেয়ার।” আমরা সেই শতাব্দীকে নিয়ে এসেছি। নিউটনের কোনো আপেল নয় আন্দোলন-বিপ্লব-গণঅভ্যুত্থান...সেই আপেলকে পেড়ে নিতে হয়েছে। পাকাতে হয়েছে। আমরা সেই আপেলকে নিয়ে এসেছি। দলীয়করণ করা যাবে না কোথাও,’ যোগ করেন তিনি।