ছবি: সংগৃহীত।
ঢাকা-মালে-ঢাকা সরাসরি ফ্লাইট ফের চালুর ঘোষণা দিয়েছে মালদ্বীপের জাতীয় উড়োজাহাজ সংস্থা মালদিভিয়ান এয়ারলাইন্স। ১২ মার্চ থেকে এ ফ্লাইট শুরু হবে।
সোমবার মালদিভিয়ান এয়ারলাইন্সের ঢাকা সিটি অফিস উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রাথমিক অবস্থায় সপ্তাহে দুই দিন রোববার ও বৃহস্পতিবার এই ফ্লাইট পরিচালিত হবে। রিটার্ন ভাড়া শুরু হচ্ছে ৩৯৯ মার্কিন ডলার (প্রায় ৪৭,৮৮০ টাকা) থেকে। ফ্লাইটগুলো ভোরের দিকে ঢাকায় অবতরণ করবে।
গুলশান অ্যাভিনিউয়ের তাজ ম্যারিয়ট ভবনে মালদিভিয়ান এয়ারলাইন্সের সিটি অফিসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মালদিভিয়ানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. ইব্রাহিম ইয়াস। এ সময় উপস্থিত ছিলেন গ্রাউন্ড অপারেশন পরিচালক আহমেদ ইব্রাহিম, জেনারেল ম্যানেজার (ইন্টারন্যাশনাল কমার্শিয়াল) মোহামেদ সাফাহ এবং বাংলাদেশের জেনারেল সেলস এজেন্ট (জিএসএ) গ্যালাক্সি বাংলাদেশ গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ ইউসুফ ওয়ালিদ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইব্রাহিম ইয়াস বলেন, ঢাকা মালদিভিয়ানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার। এই রুট পুনরায় চালু করা আমাদের প্রতিশ্রুতিরই বহিঃপ্রকাশ—যাতে বাংলাদেশি কর্মী ও মালদ্বীপের ভ্রমণকারীরা নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী ও সুবিধাজনক ভ্রমণ সুবিধা পান। আমরা বিশ্বাস করি, এই সেবা দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে আরও গভীর করবে।
উদ্বোধনের পর মালদিভিয়ানের প্রতিনিধি দল সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও’র সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
মালদিভিয়ান কর্তৃপক্ষ জানায়, মালদ্বীপে কর্মরত বাংলাদেশি নাগরিকদের চাহিদার প্রেক্ষিতে এই রুট পুনরায় চালু করা হয়েছে। রমজান মাসের সমাপ্তি ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে যাত্রী চলাচল বৃদ্ধির সময়কে সামনে রেখেই এই সেবা চালু হচ্ছে, যা বিদেশগামী মালদ্বীপের নাগরিক ও দেশে ফেরা বাংলাদেশিদের জন্য সুবিধাজনক হবে।
যাত্রীরা ৩০ কেজি ব্যাগেজ সুবিধা এবং বিনামূল্যে অনবোর্ড খাবার পাবেন। টিকিট বুকিং এখন মালদিভিয়ানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ এবং কল সেন্টারের (১৬৭১) মাধ্যমে চালু রয়েছে। বর্তমানে মালদিভিয়ানের বহরে রয়েছে ২৬টি উড়োজাহাজ—এর মধ্যে একটি ওয়াইড-বডি এয়ারবাস এ৩৩০, একটি ন্যারো-বডি এয়ারবাস এ৩২০, পাঁচটি এটিআর, আটটি ড্যাশ ৮ এবং এগারোটি ড্যাশ ৬ টুইন অটার বিমান—যেগুলো দিয়ে তারা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করছে।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ভোট গ্রহণের তারিখ ২০ আগস্ট। একাধিক প্রার্থী থাকলে সেদিন বেলা দুইটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশনকক্ষে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ইসি সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। এই নির্বাচনে নির্বাচনী কর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের তারিখ ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ১৬ আগস্ট। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৮ আগস্ট। আর ভোট গ্রহণ ২০ আগস্ট।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সাধারণত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সরকারি দলের দেওয়া একক প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হন। এ ক্ষেত্রে ভোট গ্রহণের প্রয়োজন হয় না। একক প্রার্থী থাকলে ১৮ আগস্ট নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে যাবেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী, প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক এবং আরেকজনকে সমর্থক হতে হবে। প্রার্থীর নিজেরও সম্মতিসূচক স্বাক্ষর থাকতে হবে।
প্রার্থীর সংখ্যা একজনের বেশি না হলে তাঁকেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে। আর একাধিক প্রার্থী হলে সংসদের অধিবেশনকক্ষে বিধিমালা অনুযায়ী ভোট হবে।
সংসদীয় গণতন্ত্র চালুর পর ১৯৯১ সালে একাধিক প্রার্থী হওয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট করতে হয়েছিল। পরে প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দল মনোনীত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে আসছেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন সংসদ সদস্যদের ভোটে। আর প্রধান নির্বাচন কমিশনার তাতে ‘নির্বাচনী কর্তা’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয় হবে মনোনয়নপত্র জমা, বাছাইয়ের স্থান। ভোটের স্থান হবে সংসদের অধিবেশনকক্ষ।
রাষ্ট্রপতির পদ থেকে গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। নিয়ম অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে ইসিকে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আয়োজন করতে হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর শুধু জুলাই গণঅভ্যুত্থান নয়, বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতিচ্ছবি। এই জাদুঘর ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর আগামী প্রজন্মের সামনে বিতাড়িত ফ্যাসিস্টদের মুখোশ উন্মোচ করবে। এই জাদুঘর আমাদের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ আর সাহসকে জাতীয় স্মৃতিতে ধারণ করার এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ।’
তিনি বলেন, ‘আজকের এই দিনটি দেশের জন্য যুগান্তকারী মাইলফলক। সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।’
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সেই ইতিহাস তুলে ধরার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের আমলে গুম-খুনকে স্বাভাবিক করে ফেলা হয়েছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইতিহাস স্বাক্ষী, বিতাড়িত ফ্যাসিবাদ চক্র দেশে গণতান্ত্রিক শাসন মেনে নিতে পারেনি।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, উপদেষ্টা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ড নিয়ে ভারতে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বার্ষিকীর দিনে দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
বুধবার রাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এমন প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলা হয়, পলাতক অভিযুক্ত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনাকে আজ (বুধবার) বিকেলে নয়া দিল্লিতে সরাসরি গণমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ দেওয়ায় বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ হয়েছে। যেখানে তিনি এবং অনুচররা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও এর জনগণের বিরুদ্ধে বিষাক্ত ঘৃণা ছড়িয়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের এ অনুষ্ঠানের প্রভাব নিয়ে আগে থেকে ভারত সরকারের কাছে উদ্বেগ জানানোর পরও তা হতে দেওয়ায় গভীর ক্ষোভ জানাচ্ছে ঢাকা।
জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের সরকার পতনের দ্বিতীয় বার্ষকীতে বুধবার বিকালে দিল্লিতে দক্ষিণ এশিয়ার ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা।
এতে বলা হয়, আত্মগোপনে থাকা দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনাকে আজ সন্ধ্যায় নয়াদিল্লিতে গণমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি আলাপচারিতার অনুমতি দেওয়ায় বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ। ঢাকা গভীরভাবে দুঃখ প্রকাশ করে যে, আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পুনর্গঠনে এই ঘটনার সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে ভারত সরকারকে উদ্বেগ জানানো সত্ত্বেও এই প্রকাশ্য অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার এই আলাপচারিতা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি মারাত্মক অপমান। ফ্যাসিবাদী শাসন দ্বারা ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে শিশুসহ নিরীহ বেসামরিক লোকদের নৃশংস হত্যাকাণ্ড-সংক্রান্ত জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত তথ্য অস্বীকার করা পলাতক দোষী সাব্যস্ত গণহত্যাকারী হাসিনা এবং তার অপরাধী সহযোগীদের ইতিহাসের জোয়ারকে বিপরীত করার একটি বৃথা প্রচেষ্টা। বাংলাদেশের জনগণ অতীতে এ ধরনের জঘন্য প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছিল এবং এখনও করছে। প্রবাসসংবাদ
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে সমুন্নত রেখে দেশের জনগণ দৃঢ় সংকল্প নিয়েছে যে, জাতি আর কখনও ফ্যাসিবাদের অন্ধকার দিনগুলোতে ফিরে যাবে না এবং বাংলাদেশ কখনও ক্লায়েন্ট রাষ্ট্র হবে না। সাজাপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনা ও তার মাফিয়া প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের রাজনীতিতে কখনও স্থান পাবে না।
এতে আরও বলা হয়, সার্বভৌম সাম্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ও দূরদর্শী সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় বাংলাদেশ। দুঃখজনকভাবে, ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তির অধীনে দোষী সাব্যস্ত অপরাধী হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারত সরকারের কাছে বারবার অনুরোধ করা হলেও এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিপরীতে, যেকোনও অজুহাতে তাকে গণমাধ্যমের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলার সুযোগ দেওয়া আমাদের জনগণের অনুভূতির জন্য গভীরভাবে ক্ষতিকর এবং বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিকাশের জন্যও ক্ষতিকর।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
‘স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্তির পর আমরা যদি বলি জুলাই কার, জুলাই কার? জুলাই আমাদের কারোই থাকবে না।’ রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে এ কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
বেঁচে থাকার কথা ছিল না উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পৃথিবীর জঘন্যতম ও ঘৃণ্যতম হত্যাকাণ্ড এবং জঘন্যতম স্বৈরাচারকে আমরা দেখেছি। যদি আমরা আয়না ঘরে যাই, যেখানে আমার ৬১ দিনের অভিজ্ঞতা আছে। সেখানে একটা জানোয়ার ২৪ ঘণ্টা থাকতে পারে না, আমরা সেখানে থেকেছি। আমার ভাই মীর কাসেম, তার ছেলে ব্যারিস্টার আরমান এখনো ট্রমাটাইজড। ওর বাবার বন্ধু ছিলাম, একসঙ্গে জেল খেটেছি... আমি বললাম, ভাই কেন ফেরত আসলেন?
তিনি বললেন, আমি যদি না আসি আমার ছেলেটাকে ধরে নিয়ে যাবে। ফাঁসি তো তার হলো, কিন্তু ছেলেকেও তো ধরে নিয়ে গেল। আমি একটা জীবন্ত ইতিহাস... বাবা এ জন্য ফিরে এসেছিলেন তার সন্তানকে রক্ষা করবেন, কিন্তু সন্তানকে রক্ষা করতে পারেননি।’
‘সে রকম একটা স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্তির পরে আমরা যদি বলি জুলাই কার? জুলাই কার? তাহলে জুলাই আমাদের কারোই থাকবে না। এই অবস্থা থেকে আমাদের মুক্তি পেতে হবে। পৃথিবীতে অনেক জাতি আছে, স্বাধীনতার জন্য শতবর্ষ সংগ্রাম করে। কোনোদিন স্বাধীনতা পায় না। শতাব্দীর পর শতাব্দী চলে যায়।
মহামতি লেলিন বলেছিলেন, “দেয়ার আর ডিকেডস, নাথিং হ্যাপেনস দেয়ার। বাট দেয়ার আর ডেইস অ্যান্ড উইকস ডিকেডস হ্যাপেনস দেয়ার।” আমরা সেই শতাব্দীকে নিয়ে এসেছি। নিউটনের কোনো আপেল নয় আন্দোলন-বিপ্লব-গণঅভ্যুত্থান...সেই আপেলকে পেড়ে নিতে হয়েছে। পাকাতে হয়েছে। আমরা সেই আপেলকে নিয়ে এসেছি। দলীয়করণ করা যাবে না কোথাও,’ যোগ করেন তিনি।
প্রতীকী ছবি
দেশে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ৮৩ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা ১২৪।
বুধবার হাম পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৮৬৫ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আর চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছে ৯৯৮ শিশু।
গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মারা গেছে ৭৫৮ শিশু। একই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ৯৬ শিশু। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৫৪ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৩২ হাজার ৯০৫। এর মধ্যে ১৬ হাজার ৬৫৫ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। এ সময়ে মোট এক লাখ ১৫ হাজার ২৩৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং তাদের মধ্যে এক লাখ ১১ হাজার ৫ জন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রামাণ্যচিত্র নিয়ে হট্টগোল ও একদল অংশগ্রহণকারীর অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে যাওয়ার ঘটনায় ‘লজ্জিত ও ব্যথিত’ হওয়ার কথা বলেছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। প্রদর্শিত প্রামাণ্যচিত্রে জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রতীক আবু সাঈদ এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছবি না থাকাকে ‘ভুল’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তিনি।
তবে ভুলের জন্য মন্ত্রী ক্ষমা চাওয়ার পরও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে হট্টগোল অব্যাহত রাখা এবং সংসদের মতো ‘ওয়াকআউট’ করাকে হাফিজ উদ্দিন আহমদ অনাকাঙ্ক্ষিত বলেছেন।
বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়।
প্রামাণ্যচিত্র শেষ হওয়ার পর জুলাই অভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তি, শহীদ পরিবারের সদস্য এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির নেতাকর্মীদের একাংশ বিভিন্ন ঘটনা ও ব্যক্তির যথাযথ প্রতিনিধিত্ব না থাকার অভিযোগ তোলেন।
একপর্যায়ে তারা ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দেন। পরে এনসিপির সদস্য সচিব, সংসদ সদস্য আখতার হোসেন মঞ্চে উঠে প্রামাণ্যচিত্রের অসংগতি সংশোধনের দাবি জানান।মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান ভুল হয়ে থাকলে তা সংশোধনের আশ্বাস দেন। তিনি দুঃখও প্রকাশ করেন।
হট্টগোলের একপর্যায়ে রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তায় নিয়োজিত সদস্যরা মঞ্চের সামনে অবস্থান নেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে আবার অনুষ্ঠান শুরু হয়।
হট্টগোলের মধ্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত কয়েকজন বিদেশি অতিথিকে অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে যেতে দেখা যায়। পরে রাষ্ট্রপতিও তার বক্তব্যে বিষয়টি তুলে ধরেন।
গেল ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করায় এই পদের কার্যভার পান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবারের মত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি।
হাফিজ উদ্দিন বলেন, “আজ এই অনুষ্ঠানটি একটি জাতীয় অনুষ্ঠান। জুলাই যোদ্ধাদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করার জন্যই রাষ্ট্র এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। কিন্তু যে দৃশ্য এখানে দেখলাম, সেটিতে অত্যন্ত দুঃখিত এবং লজ্জিত হয়েছি, ব্যথিত হয়েছি।”
সকালে জুলাই জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘জাতীয় ঐক্যের প্রতিফলন’ দেখা গেলেও বিকালের অনুষ্ঠানে তা দেখা যায়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রামাণ্যচিত্রের ভুল স্বীকার করে হাফিজ উদ্দিন বলেন, “নিশ্চয়ই এখানে ডকুমেন্টারিতে অনেক ভুল আছে। প্রথম ভুল আমি যেখানে দেখেছি, সেখানে তো আবু সাঈদের ছবিই নাই। আবু সাঈদ এই বিপ্লবের প্রতিচ্ছবি, প্রতীক। তার ছবি না থাকলে এটা কোনো ডকুমেন্টারি হল না। সেখানে আরো নাই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছবিও তো নাই।”
ভুলের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ক্ষমা চাওয়ার পর সবাইকে শান্ত হওয়া উচিত ছিল, বলেন তিনি।
“সুতরাং কিছু ভুল হয়েছে এবং এই ভুল মাননীয় মন্ত্রী জোড় হাতে স্বীকার করেছেন, ক্ষমা চেয়েছেন, বারংবার ক্ষমা চেয়েছেন। তারপর তো শান্ত হওয়া উচিত। এ ধরনের একটা জাতীয় অনুষ্ঠানে এটাকে পুষে সংসদের মতো একটা ওয়াকআউট, এটি বাঞ্ছনীয় নয়।”
আখতার হোসেন তার অনুসারীদের শান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন বলেও তুলে ধরেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি।
তিনি বলেন, “আমি লক্ষ্য করেছি মাননীয় সংসদ সদস্য আখতার, তিনি তার অনুসারীদের প্রশমিত করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বাংলাদেশে নেতাকে তো মানে না সহজে অনুসারীরা। প্রতি মুহূর্তেই তারা যে নেতার চেয়ে বড়, এটা প্রমাণ দেওয়ার জন্য মুখিয়ে থাকে।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিদেশি অতিথিরা চলে যাওয়ার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, “এখানে যারা বিদেশি বসা ছিল...কিন্তু তারা তো চলেই গিয়েছে।”
বিদেশি অতিথিদের সামনে এ ধরনের ঘটনা ঘটায় দেশের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে, বলেন তিনি।
হাফিজ উদ্দিন বলেন, “জাতীয় অনুষ্ঠানে এই ধরনের বিশৃঙ্খলা মোটেই কাম্য ছিল না।”
নির্বাচিত সরকারকে প্রয়োজনীয় সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “ভাই, আমরা তো জনগণের ভোট নিয়ে এখানে এসেছি। জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি আমরা। হাওয়া থেকে উড়ে এসে বসি নাই এখানে। সুতরাং এই সরকার নির্বাচিত একটি সরকার, এটুকু শ্রদ্ধা-সম্মান প্রাপ্য।”
সরকার ভুল করলে তার জন্য জবাবদিহি করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
“ভুল তো আমরা করি। আরো হয়তো সামনে আরো ভুল করব। সেই ভুল করলে তার জন্য মাসুলও দেব। কিন্তু সবাই মিলে ভুল সংশোধন করতে চাই।”
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়া একজন দৃষ্টিহীন জুলাই যোদ্ধা ও তার মায়ের কথা তুলে ধরে আবেগাপ্লুত হন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি।
তিনি বলেন, “মা তার অন্ধ ছেলেকে নিয়ে এখানে দাঁড়িয়েছেন। তার ছেলেটি চোখ হারিয়েছে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য, আইনের শাসন কায়েম করার জন্য।”
জুলাই যোদ্ধাদের প্রয়োজন মেটাতে মন্ত্রীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হলে তা জাতির জন্য লজ্জার হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
“আজকে তারা আমাদের সামনে এসে দাঁড়িয়ে যদি মর্যাদাই না পান, তাদেরকে যদি আবারও ছোটখাটো চাওয়া-পাওয়ার জন্য মন্ত্রীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়, সেটি জাতির জন্য লজ্জা।”
সরকার জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার এবং আহতদের দায়িত্ব নেবে বলেও আশ্বস্ত করেন হাফিজ উদ্দিন।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের এই সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ জুলাইতে যারা আত্মাহুতি দিয়েছেন, সেইসব পরিবারের রক্ষণাবেক্ষণ করা। এটাই সবচেয়ে পবিত্র দায়িত্ব। যারা আহত, চোখের দৃষ্টি হারিয়েছেন, অঙ্গ হারিয়েছেন, তাদেরকে সুস্থ করে তোলা এই সরকারের পবিত্র দায়িত্ব।”
সরকার আওয়ামী লীগের মতো হতে চায় না, এ কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা তো আর আওয়ামী লীগ হতে পারব না। হতেও চাই না।”
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে হাফিজ উদ্দিন বলেন, “(শেখ হাসিনা) আবার বলে যে ডিসেম্বর মাসে আসবেন, দেশে এসে পদার্পণ করবেন। আমরা অপেক্ষা করে আছি। আসেন দেশে। দেখা হবে ইনশাআল্লাহ রাজপথে।”
তিনি বলেন, “২৭ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধ করেছি। এখন ৮২ বছর বয়সে আরেকটা করব বাংলাদেশের জন্য। বাংলাদেশের জনগণের শাসন, গণতন্ত্র চিরস্থায়ী করে যাব আমরা।”
জুলাই অভ্যুত্থান রাষ্ট্র পুনর্গঠনের সুযোগ এনে দিয়েছে তুলে ধরে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠন করতে হবে। সেখানে প্রত্যেক নাগরিক সমান অধিকার ও মর্যাদা পাবেন।
মতের ভিন্নতা থাকলেও জাতীয় স্বার্থ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
হাফিজ উদ্দিন বলেন, “আমাদের সজাগ থাকতে হবে, যাতে কোনো বিভাজন, কোনো বিদ্বেষ বা কোনো সংকীর্ণ স্বার্থ যেন আমাদের জাতীয় অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে না পারে।”
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “কেউ কাউকে বলতে শুনেছি, আমরা কি নির্বাচনের জন্য জীবন বিসর্জন দিয়েছি নাকি? নির্বাচন তো গণতন্ত্রের অনুষঙ্গ।”
“এই দেশে যতদিন গণতন্ত্র থাকবে, সাধারণ মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, ততদিনই আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন থাকবে। সুতরাং গণতন্ত্র কোনো হেলাফেলার জিনিস নয়।”
রাষ্ট্রপতি পদের মর্যাদা রক্ষায় সচেতন থাকার কথাও বলেন হাফিজ উদ্দিন। তিনি বলেন, “আমি ক্ষুদ্র ব্যক্তি। কিন্তু একটি বড় চেয়ার আপনারাই দিয়েছেন। সেখানে বসে আছি। চেয়ারের মর্যাদা যাতে সবসময় থাকে, সেই জন্য আমার জন্য নয়, চেয়ারের মর্যাদা রক্ষার জন্য, বাংলাদেশের মর্যাদা রক্ষার জন্য আমরা প্রত্যেকটি নাগরিক সচেতন থাকব।”