ছবি: সংগৃহীত।

  • প্রকাশ : সোমবার ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১২:৫৭ এএম

ঢাকা উত্তর, দক্ষিণসহ দেশের ছয় সিটি করপোরেশনে ছয়জন পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ছয় প্রশাসক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানী সরকার বিভাগ ( সিটি কর্পোরেশন-১ শাখা)। প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ ২২ ফেব্রুয়ারি।


প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ছয় সিটি করপোরেশনে যে ছয় প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাঁরা হলেন—


ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন: মো. আব্দুস সালাম


ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন: মো. শফিকুল ইসলাম খান


খুলনা সিটি করপোরেশন: নজরুল ইসলাম মঞ্জু


সিলেট সিটি করপোরেশন: আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী


নারায়ণগঞ্জ করপোরেশন: মো. সাখাওয়াত হোসেন খান


গাজীপুর সিটি করপোরেশন: মো. শওকত হোসেন সরকার


প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪–এর ধারা ২৫ক–এর উপধারা (১)–এর অনুবৃত্তিক্রমে এই ছয়জনকে করপোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত বা পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো।


প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, নিয়োগকৃত প্রশাসকেরা স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪–এর ধারা ২৫ক–এর উপধারা (৩) অনুযায়ী সিটি করপোরেশনের মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁরা বিধি মোতাবেক ভাতা প্রাপ্য হবেন। জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:১১ পিএম

সরকারি-বেসরকারি স্কুলে লটারির পরিবর্তে পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়ার ঘোষণা দিলেও সেখান থেকে সরে আসার চিন্তা করছে সরকার। সেক্ষেত্রে আগামী বছরও স্কুলে ভর্তিতে লটারি ব্যবস্থা বহাল রাখার আভাস দিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা।


শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষস্থানীয় একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে সোমবার রাতে বলেন, “স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি বহাল রাখা যায় কিনা, সে বিষয়ে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।”


ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় শিশুদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টির আশঙ্কা থেকে লটারি ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।


তার ভাষ্য, “চলতি মাসেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।”


এদিকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের এক শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে এদিন রাতে বলেন, “ভর্তিতে পরীক্ষার বদলে লটারি বহাল রাখার বিষয়ে ভাবা হচ্ছে। লটারি বহাল রাখা যায় কিনা বা কোন কোন শ্রেণিতে লটারি বহাল রাখায় যায়, সে বিষয়ে ভর্তি কমিটিকে আলোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আশা করছি ১০ অগাস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।”


গত মার্চে লটারি প্রথা বাতিলের ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


গত ১৬ মার্চ এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, "বছরের প্রথমে অ্যাডমিশন যেটা হয়, সেখানে আমরা লটারির পরিবর্তে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করতে যাচ্ছি। আগাম জানিয়ে দিলাম, যেন সবাই সুযোগ পায়।


"আমরা লটারি সিস্টেম উইথড্র করলাম,দ্যাটস ইট।"


থেমে থেমে বৃষ্টি ঝরবে ঢাকায়

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:২৪ পিএম

বৃষ্টি দিয়ে শুরু হয়েছে রাজধানীর আজ মঙ্গলবারের সকাল। সকাল সাড়ে আটটায় এ প্রতিবেদন লেখার সময়ও ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হচ্ছিল বিভিন্ন স্থানে। আকাশ মেঘলা আছে। 


আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, দুপুর পর্যন্ত বৃষ্টির বিরতি চলতে পারে। দুপুরের দিকে আবার বৃষ্টি হতে পারে। তবে বিকেলের দিকে বৃষ্টি কমে আসতে পারে। দেশের চার বিভাগে বৃষ্টি অপেক্ষাকৃত বেশি হতে পারে আজ।


আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায়, অর্থাৎ গতকাল সোমবার সকাল ৬টা থেকে আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত রাজধানীতে ২৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।


আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক আজ সকালে বলেন, সকাল আটটার দিক থেকেই বৃষ্টি কমে এসেছে রাজধানীতে। এখন একটা বিরতি চলতে পারে। অর্থাৎ বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা কম। তবে দুপুরের দিকে আবার বৃষ্টি হতে পারে। বিকেল চারটা থেকে পাঁচটার দিকে বৃষ্টি আবার কমে যেতে পারে।


আজ দেশের চার বিভাগে অপেক্ষাকৃত বেশি বৃষ্টি হতে পারে। সেগুলো হলো রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও বরিশাল।


ওমর ফারুক বলেন, ঢাকা বিভাগের কিছু কিছু অংশেও বৃষ্টি হতে পারে। তবে বাকি অংশে বৃষ্টি কম হতে পারে।


গতকাল দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায়, ১১৩ মিলিমিটার। দেশের প্রায় সর্বত্রই গতকাল বৃষ্টি হয়েছে। দেশের অন্য এলাকাগুলোর মধ্যে নোয়াখালীতে ৯০ মিলিমিটার, নওগাঁর বদলগাছী ও নীলফামারীর ডিমলায় ৭৯ মিলিমিটার এবং ফেনীতে ৬৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়।


গত মাসে দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে ৩৫ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়। মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার পাশাপাশি সাগরের গভীর নিম্নচাপের ফলে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক বৃষ্টি হয় মাসের শুরুতে। ভারী বৃষ্টিতে দেশের অন্তত ৯ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।


আজ সংবিধান সংশোধনের বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৪১ এএম

সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে গঠন করা জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি আজ মঙ্গলবার প্রথম বৈঠকে বসছে। জুলাই জাতীয় সনদে থাকা সংবিধান-সম্পর্কিত মৌলিক সংস্কার প্রস্তাবগুলোর কী হবে, সংবিধান সংশোধন কমিটি কীভাবে কাজ করবে, কত দিনের মধ্যে এ কমিটি প্রতিবেদন দেবে- এসব এখনো চূড়ান্ত হয়নি। 


আজ প্রথম বৈঠকে কমিটির কর্মপরিকল্পনা ঠিক করার কথা রয়েছে।


সংবিধান সংস্কারে অন্তর্বর্তী সরকার যে প্রক্রিয়া নির্ধারণ করেছিল, সেটি অনুসরণ করছে না নির্বাচিত বিএনপি সরকার। বিরোধী দলের আপত্তি উপেক্ষা করে সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। গত ১৩ জুলাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের ‘সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি’ গঠন করে জাতীয় সংসদ।


এই কমিটির কার্যপরিধি হলো, ‘সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধনের নিমিত্ত সুপারিশ প্রণয়নপূর্বক সংসদে রিপোর্ট পেশ’। এ কাজ করার ক্ষেত্রে কমিটি কী কী করবে, কীভাবে কাজ করবে, তার বিস্তারিত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঠিক হয়নি। কত দিনের মধ্যে কমিটিকে সংসদে প্রতিবেদন দিতে হবে, সেটাও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়নি।


সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, কমিটির সংসদে প্রতিবেদন দিতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হবে। সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত কমিটিও অংশীজনদের সঙ্গে সংবিধান সংশোধন প্রশ্নে আলোচনা করবে। এ ছাড়া কমিটি বিদ্যমান সংবিধান পর্যালোচনা, জুলাই সনদে থাকা সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাব, বিএনপির দলীয় নির্বাচনী ইশতেহারে সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত যেসব দফা ছিল, সেগুলোও পর্যালোচনা করবে। এসবের ভিত্তিতে সংবিধানের কোথায় কোথায় কী কী পরিবর্তন আনা প্রয়োজন, সে সুপারিশ করবে বিশেষ কমিটি।


সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রথম বৈঠকে কমিটি নিজেদের কর্মকৌশল ঠিক করবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপির অঙ্গীকার আছে। এর বাইরেও বিএনপির নিজস্ব কিছু অঙ্গীকার আছে। সংবিধানে কী কী সংশোধনী আনা যায়, তা নিয়ে বিশেষ কমিটি সংবিধানবিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, গণমাধ্যমের সম্পাদকসহ সব স্তরের অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করবে। এরপর কমিটি প্রতিবেদন তৈরি করে সংসদে পেশ করবে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইন মন্ত্রণালয় সংসদে বিল আনবে। সে বিলের ওপর আবার সংসদে আলোচনা হবে। তারপর বিলের ওপর ভোটাভুটি হবে।


বিরোধী দল থেকে এই কমিটিতে পাঁচজনের নাম দেওয়ার অনুরোধ করেছিল সরকারি দল। তবে কারও নাম দেয়নি বিরোধী দল। গঠনের দিনই এ কমিটি প্রত্যাখ্যান করে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছিল বিরোধী দল। 


সেদিন বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান সংসদে বলেছিলেন, এ ধরনের কমিটি গঠনের বিষয়ে তাঁদের ধারণাগত মতপার্থক্য আছে। তাঁরা সংবিধান সংস্কার চান।


সংবিধান সংস্কারের আলোচনা শুরু হয়েছিল অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে। ২০২৪ সালের অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ছয়টি সংস্কার কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। এর একটি ছিল অধ্যাপক আলী রীয়াজের নেতৃত্বাধীন সংবিধান সংস্কার কমিশন। অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা, জনমত জরিপসহ বিভিন্নভাবে নেওয়া মতামতের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ৩১ জানুয়ারি ওই কমিশন বিস্তারিত সুপারিশ সরকারের কাছে জমা দেয়। 


পরে ছয়টি সংস্কার কমিশনের সুপারিশ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দুই দফায় দীর্ঘ আলোচনা করে তৈরি করা হয় জুলাই জাতীয় সনদ।


সনদের ৪৮টি প্রস্তাব সংবিধান-সম্পর্কিত। এর মধ্যে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন, উচ্চকক্ষের ক্ষমতা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগপদ্ধতি, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠনপ্রক্রিয়া, প্রধানমন্ত্রীর একাধিক পদে থাকার বিধানসহ এ ধরনের কিছু প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে সংবিধানে মৌলিক পরিবর্তন আসবে। তবে এ ধরনের কিছু প্রস্তাবে বিএনপির ভিন্নমত (নোট অব ডিসেন্ট) ছিল।


ভিন্নমত থাকা বিষয়গুলো বিএনপি যেভাবে চায়, সেভাবে নির্বাচনী ইশতেহারে তুলে ধরেছিল। যেমন তারা একটি দলের নিম্নকক্ষে পাওয়া আসনের ভিত্তিতে উচ্চকক্ষে আসন বণ্টনের কথা বলেছে। জুলাই সনদের প্রস্তাবে নিম্নকক্ষে সারা দেশে পাওয়া ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষে আসন বণ্টনের কথা বলা আছে।


অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গত বছরের নভেম্বরে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ জারি করা হয়েছিল। সেটার আলোকে সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপির ভিন্নমতের বিষয়গুলো গণভোটে উল্লেখ ছিল না। 


অর্থাৎ ঐকমত্য কমিশনের মূল প্রস্তাবগুলোর ওপর গণভোট হয়েছে। এতে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারে নির্বাচিত সংসদ সদস্যের সমন্বয়ে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন ও নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দুটি শপথ নেওয়ার কথা ছিল। একটি সংসদ সদস্য হিসেবে, আরেকটি সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে।


জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নেতৃত্বাধীন জোটের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও বিএনপির সংসদ সদস্যরা নেননি। ফলে ওই সংস্কার পরিষদও গঠিত হয়নি। বিএনপি দাবি করেছে, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অবৈধ। এ ধরনের শপথ নেওয়ারও কোনো সুযোগ নেই। তবে জুলাই জাতীয় সনদ যেভাবে তারা ভিন্নমতসহ স্বাক্ষর করেছে, সেভাবে বাস্তবায়ন করবে।


বিশেষ কমিটি কি জুলাই সনদের ৪৮টি সাংবিধানিক প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য কাজ করবে, নাকি সেগুলোকে কেবল বিবেচনায় রেখে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে নতুন করে সংবিধান সংশোধনের সুপারিশ তৈরি করবে- এমন প্রশ্নও আছে। বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে বলেছিল, সংবিধান সংস্কারে ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর জুলাই জাতীয় সনদ যে আঙ্গিকে ঐকমত্য ও স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেগুলো সে মতে বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:২৯ এএম

আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ৮১) উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক যাবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছানোর কথা রয়েছে তার। তিনি জাতিসংঘ অধিবেশনে ভাষণ দেওয়া ছাড়াও বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। তার সম্মানে আয়োজিত হবে নাগরিক সংবর্ধনা। এ ছাড়া ক্যালিফোর্নিয়ার সানফ্রান্সিসকোতে দুদিনের একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ শেষে দেশে ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী। 


সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর ৮ থেকে ১০ দিনের হবে বলে সরকারের নির্ভরযোগ্য সূত্র এবং যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সংশ্লিষ্ট নেতারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


বিশ্লেষকরা বলছেন, এবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। ফলে দীর্ঘ চল্লিশ বছর পর জাতিসংঘ সদর দপ্তরের মিলনায়তনে একই সঙ্গে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান ও সভাপতির আসন যেন সমসাময়িক বিশ্ব রাজনীতিতে বিরল এক কূটনৈতিক দৃশ্যপট প্রত্যক্ষ করতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। সরকারপ্রধানের সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সফরসূচি ও অন্যান্য কর্মসূচি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন বলে জানা গেছে।


এদিকে দীর্ঘ দুই দশক বিরতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফর ঘিরে সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসী ও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপিসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে অভাবনীয় উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। 


২০০৬ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের আমলে যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়েছিলেন তারেক রহমান। আবারও দীর্ঘদিন পর তার যুক্তরাষ্ট্র সফরকে স্মৃতিময় করে রাখতে এবং দলীয় প্রধান তথা দেশের প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে এক বিশাল নাগরিক সংবর্ধনা সভার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। 


বিভিন্ন কর্মসূচি সফল করতে এরই মধ্যে অনলাইনে বিশেষ ভার্চুয়াল যৌথ প্রস্তুতি সভা সম্পন্ন করেছেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নীতিনির্ধারক ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের অসংখ্য নেতাকর্মী দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে জড়ো হবেন নিউইয়র্কে।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী গতকাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে যাওয়ার কথা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো শিডিউল চূড়ান্ত হয়নি। সফরসূচি চূড়ান্ত করা নিয়ে কার্যক্রম চলছে।


উল্লেখ্য যে, সরকার গঠনের পর প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে গত ২১ থেকে ২৬ জুন মালয়েশিয়া এবং চীন সফর করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার ওই দ্বিপক্ষীয় রাষ্ট্রীয় সফরে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে জনশক্তি রপ্তানি, পণ্য আমদানি-রপ্তানি, করিডোর স্থাপনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এমওইউ এবং চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। 


এরপর কয়েকটি দেশ সফরের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগদানের আগে প্রধানমন্ত্রী আপাতত অন্য কোনো দেশ সফরে যাচ্ছেন না বলে সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে।


প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের সময়সূচি ও গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি প্রসঙ্গে কূটনৈতিক ও দলীয় সূত্রগুলো বলছে, আগামী ২১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর বহর নিউইয়র্কে পৌঁছানোর সম্ভাব্য সূচি নির্ধারিত রয়েছে। অধিবেশনে যোগদানের পাশাপাশি তিনি সফরকালে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে একাধিক দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নিতে পারেন। পরে ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে জাতিসংঘের সদর দপ্তরের মূল মিলনায়তনে তিনি সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে তার বহুল প্রতীক্ষিত ঐতিহাসিক ভাষণ তুলে ধরবেন।


ব্যাপক প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতাদের


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন পর দলীয় চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র আগমন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সংশ্লিষ্ট একাধিক নেতা জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছাবেন। ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি জাতিসংঘের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। ২৫ সেপ্টেম্বর তাকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হবে। ২৬ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সানফ্রান্সিসকোতে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। 


এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর সানফ্রান্সিসকো থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।


বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান ভূঁইয়া মিল্টন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতাকর্মীরা অতীতে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন পর যুক্তরাষ্ট্র আসবেন এটা আমাদের জন্য খুশির খবর। আশা করি তাকে ঘিরে সব কর্মসূচি সফল হবে এবং আমরা তাকে সংবর্ধনা দেব।


বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য গিয়াস আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগদানের জন্য নিউইয়র্কে আসবেন। তাকে বরণ করতে আমরা বিভিন্ন ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশা করছি প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফর ফলপ্রসূ হবে।


বিএনপি চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ও ক্যালিফোর্নিয়া বিএনপির সভাপতি বদরুল আলম চৌধুরী শিপলু বলেন, প্রায় বিশ বছর পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্র আসবেন, এটি আমাদের জন্য খুশির খবর। এবার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের সভাপতি পদে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ তথা পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। এ জয় বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মর্যাদার প্রতীক। বিশ্ব রাজনীতির এ জটিল সময়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতিত্ব করা বাংলাদেশের জন্য বৈশ্বিক নীতিনির্ধারণে এক বিশাল সুযোগ তৈরি করবে।


ফ্লোরিডা স্টেট বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইমরানুল হক চাকলাদার বলেন, দীর্ঘদিন পর প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর ঘিরে আমরা আনন্দিত এবং আশাবাদী। ইনশাআল্লাহ তাকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হবে।


নিজেদের দাবি-দাওয়া প্রধানমন্ত্রীকে জানাবেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতারা


এদিকে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কোনো কমিটি নেই। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা-ক্ষোভ ও বিভাজন তৈরি হয়েছে। পদপদবি না পেয়েও অনেক নেতাকর্মী ক্ষুব্ধ এবং কমিটি না থাকায় অনেকেই পৃথকভাবে কর্মসূচি পালন করেছেন। অথচ বছর দুই আগেও শেখ হাসিনার পতনের দাবিতে সক্রিয় এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলো। 


সর্বশেষ ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী হয়ে যুক্তরাষ্ট্র গিয়েছিলেন বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির শীর্ষ নেতারা। সে সময় নিউইয়র্কে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে হেনস্তার ঘটনায় বিএনপির সাংগঠনিক সক্ষমতায় নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ও প্রশ্ন তৈরি হয়।


যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতা জানান, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আমলে হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার হলেও আজ তাদের কোনো দলীয় পরিচয় নেই। এদিকে প্রায় দেড় বছর আগে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির ব্যানারে কোনো কর্মসূচি পালন থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে বিএনপি। গত বছরের ১৭ জানুয়ারি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়, যা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপিতে তোলপাড় হয়। যদিও নেতাকর্মীদের দাবি, এখানে দলীয় শৃঙ্খলা কিংবা কোনো ধরনের নিয়ম ভঙ্গের মতো কিছু ঘটেনি। নেতাকর্মীরা শুধু চলমান কর্মসূচি দলীয় ব্যানারে পালন করছেন।


সংশ্লিষ্টরা জানান, শেখ হাসিনার পতন আন্দোলনে বহির্বিশ্বে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপির নেতাকর্মীদের ভূমিকা ছিল নজিরবিহীন। গত ১৫ বছর অনেকেই বাংলাদেশে আসতে পারেননি। অনেকের পরিবার মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পার হলেও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কমিটি গঠনের দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। 


সর্বশেষ ২০০৫ ও ২০১১ সালে আব্দুল লতিফ (সম্রাট) ও জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে কমিটি দেওয়া হয়, যা ২০১১ সালে ভেঙে দেওয়া হয়। ২০১৫ সালের পর তারেক রহমান কয়েকবার কমিটি গঠনের ব্যাপারে আলোচনা ও লন্ডনে বৈঠক করলেও, তা আলোর মুখ দেখেনি। এমন অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্ক গেলে তার কাছে দ্রুত কমিটি গঠনসহ অন্যান্য সাংগঠনিক বিষয়ে দাবি-দাওয়া জানাবেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।


একই সঙ্গে সরকারপ্রধান ও সভাপতির আসন: ইতিহাসের প্রেক্ষাপট ও নতুন সমীকরণ


আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভাষণকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে একটি অভূতপূর্ব দৃশ্যপট তৈরি হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন প্রধান পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের নতুন পথচলা, ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক নীতি, টেকসই উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক সংকট সমাধানে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরবেন-তখন জাতিসংঘ অধিবেশনের সভাপতির আসনে বসে সেই সভা পরিচালনা করবেন বাংলাদেশেরই পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। 


বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসে একই দেশের সরকারপ্রধান মূল মঞ্চে ভাষণে আর তারই ক্যাবিনেটের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্বসভার সর্বোচ্চ আসনে থেকে সেই অধিবেশন নিয়ন্ত্রণ করছেন-এমন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সমীকরণ আধুনিক বিশ্ব কূটনীতিতে অত্যন্ত বিরল।


ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও শাসনব্যবস্থার ভিন্নতা জাতিসংঘে বাংলাদেশের নেতৃত্বের প্রসঙ্গ এলে অনেকেই ১৯৮৬ সালের কথা স্মরণ করেন। ওই বছর বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে সভাপতিত্বের গুরুদায়িত্ব পালন করেছিলেন। 


তবে বিশ্লেষকদের মতে, সে সময়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ওই সময় বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকারব্যবস্থা বজায় ছিল এবং তৎকালীন শাসন কাঠামোতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অবস্থান ও বিশ্বমঞ্চের সমীকরণটি ভিন্ন ছিল। স্বাধীন বাংলাদেশের পাঁচ দশকের ইতিহাসে প্রথমবার সংসদীয় গণতন্ত্রের অধীনে একই মন্ত্রিসভার শীর্ষ দুই প্রতিনিধি- প্রধান নির্বাহী হিসেবে ‘প্রধানমন্ত্রী’ এবং শীর্ষ কূটনীতিক হিসেবে ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী’-একই সময়ে বিশ্বমঞ্চের ক্ষমতার কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।


বিশ্লেষকরা বলছেন- অনন্য উচ্চতায় বাংলাদেশ


রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ দুই দশক পর তারেক রহমানের নিউইয়র্ক গমন যেমন বিএনপির জন্য রাজনৈতিক পুনর্জাগরণের প্রতীক, তেমনি জাতিসংঘের মতো মূল বৈশ্বিক মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ এবং বাংলাদেশি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্ব একই সঙ্গে ঘটা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকে এক নতুন উচ্চতায় উন্নীত করবে। 


ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যে বাংলাদেশের এ ঐতিহাসিক ও মর্যাদাপূর্ণ কূটনৈতিক উপস্থিতি বিশ্বদরবারে দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্ট সবাই।


জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি এবং সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শামছুল আলম বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী এবং সভাপতি হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর যৌথ উপস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের জন্য একটি অত্যন্ত গৌরবময় ও মর্যাদাপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করবে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, জাতিসংঘের এই ৮১তম অধিবেশন বিশ্ব কূটনীতির ইতিহাসে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। দীর্ঘ ১৬ বছর পর বিএনপি সরকার গঠনের পর এটা বিরাট সাফল্য।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:১২ পিএম

অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ২০২৬ এবং ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি-২০২৬ বাতিলের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। 


আজ সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকার নিরাপদ, কার্যকর, মানসম্মত এবং সাশ্রয়ী মূল্যের ওষুধ জনগণের জন্য নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। 

‘অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ২০২৬’ এবং ‘ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ২০২৬’ বাতিলের কারণ হলো, ওষুধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩ অনুযায়ী অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা প্রণয়নের আগে জাতীয় ওষুধ উপদেষ্টা পরিষদের পরামর্শ গ্রহণের বিধান রয়েছে, যা প্রতিপালন করা হয়নি।


অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ও ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি জাতীয় ওষুধ উপদেষ্টা পরিষদের পরামর্শ ছাড়াই প্রণীত হয়। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়। বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন। 


ইতিমধ্যে গত ২৯ জুন ওষুধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩-এর বিধান অনুযায়ী জাতীয় ওষুধ উপদেষ্টা পরিষদ গঠিত হয়েছে। এই উপদেষ্টা পরিষদে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে। তবে এ বছরের অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ও ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি বাতিল হলেও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ১৯৯৪ সালের আদেশে প্রণীত অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা এবং সেসব ওষুধের সরকারি মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা আগের মতো বহাল থাকবে। 


অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা হালনাগাদ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওষুধের মূল্য এমনভাবে নির্ধারণ করা হবে যেন জনগণের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি না হয় এবং বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা বজায় থাকে।


মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির সাবেক মহাসচিব জাকির হোসেন। তিনি বলেন, ‘প্রায় দুই বছর ওষুধ শিল্পে স্থবির পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তে অচলাবস্থা দূর হবে। বাজারে স্বস্তি ফিরে আসবে। শিল্প মালিকেরা আন্তরিকতা দেখিয়েছেন। আশা করা যায়, যে আইনি জটিলতা ছিল তা দূর হবে।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৪৪ পিএম

দেশে চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার ত্বরান্বিত করতে দেশের সকল গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ সোমবার (৩ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌর বিদ্যুৎ সংক্রান্ত এক সভায় এ নির্দেশ দেন তিনি। 


প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ কথা জানান। তিনি জানান, জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে তারেক রহমান মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনগুলোতে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে। 


পাশাপাশি দেশে সোলার ইনভার্টার উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানিতে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া সাধারণ মানুষের জন্য সৌর বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী, সহজলভ্য ও লাভজনক করে তুলতে একটি কার্যকর অর্থনৈতিক মডেল প্রণয়নের নির্দেশও দেন প্রধানমন্ত্রী।


উপ প্রেস সচিব আরো জানান, সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রাথমিক পর্যায়ে বঙ্গভবন, তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতীয় সংসদ ভবন, বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভবন, পরিকল্পনা কমিশন ভবনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে।


সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি ভবনে সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার শুরু হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে এ প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহ বাড়বে। এ কারণেই তিনি বিভিন্ন সরকারি ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশনা দেন।