ছবি : সংগৃহীত
জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, সেটাই এখন বিএনপি সরকারের মূল ফোকাস। এ লক্ষ্যে ১৮০ দিনের ‘স্বল্পমেয়াদি’ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে নতুন সরকার। এরই মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, বৃক্ষরোপণ এবং নদী-খাল-জলাধার খনন ও পুনর্খনন নিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে।
এই রমজানেই পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে আট বিভাগের আট উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড চালু হবে। তবে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচন সামনে রেখে এবার সংগঠনের দিকেও মনোযোগী হচ্ছে বিএনপি।
নির্বাচনে ধানের শীষ না পেয়ে দলের নেতারা ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ হওয়ায় তৃণমূলের অনেক জায়গায় সংগঠন কার্যত বিভক্ত হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় তৃণমূলে সংগঠন গুছিয়ে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী সংগঠন নিয়েই স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চায় বিএনপি।
সিদ্ধান্ত না হলেও এর অংশ হিসেবে ঈদুল ফিতরের পর তৃণমূল পুনর্গঠনে হাত দিতে পারে দলটি। তবে নির্বাচনে ধানের শীষ ও জোট প্রার্থীর বিরুদ্ধে ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ হয়ে বহিষ্কৃত হওয়া নেতাদের ব্যাপারে এখনই ভাবছে না বিএনপি। দলীয় সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অর্ধশতাধিক আসনে বিএনপি নেতারা ধানের শীষ না পেয়ে ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে দলকে চ্যালেঞ্জে ফেলেছিলেন তারা; যদিও বিষয়টি সহজেই উতরে এককভাবে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি।
তবে নির্বাচনে এত সংখ্যক বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়া নিয়ে চিন্তিত দল। তাই এর ‘প্রকৃত কারণ’ অনুসন্ধানে নামছে বিএনপি। দলটি বুঝতে চায়, ‘ধানের শীষ না পেয়ে দলের নেতারা কি নিজেদের অধিকতর যোগ্য মনে করে পাস করবে’-এই চিন্তা ও বিশ্বাস থেকেই ধানের শীষের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিল, নাকি কারও ইন্ধনে প্রার্থী হয়েছিলেন?
বিএনপি এও মনে করছে, নির্বাচনে পাস করার প্রবল সম্ভাবনা ছিল, এ রকম বেশ কয়েকজন প্রার্থীও ফেল করেছেন। এদের মধ্যে খুলনা-২ আসনের নজরুল ইসলাম মঞ্জু, রংপুর-৬ আসনের সাইফুল ইসলাম, ময়মনসিংহ-১ আসনের সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স অন্যতম। ধানের শীষের এমন প্রার্থীরা কেন ফেল করলেন, এর কারণও জানতে চায় দল। তাই এই দুটি বিষয় নিয়ে বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকদের মাধ্যমে শিগগির কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে বিএনপি।
তপশিল ঘোষণার পর প্রথমদিকে ধানের শীষ না পেয়ে ১১৭টি আসনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রায় ১৯০ জন বিএনপি নেতা মনোনয়নপত্র জমা দেন। পরে দলীয় নানান উদ্যোগের পর বেশিরভাগ নেতা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিলেও শেষ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক আসনে নির্বাচনী লড়াইয়ে ছিলেন বিদ্রোহীরা।
বিএনপির দপ্তর বিভাগ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে যেসব নেতা নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন, এমন অন্তত ৭১ জনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। আর দলীয় বা দল সমর্থিত জোট প্রার্থীর বিপক্ষে গিয়ে স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় সারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করে বিএনপি।
ভোটের ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় ২০টির মতো আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থীরা সুবিধা পান। এ ছাড়া ৭টিতে জেতেন বিদ্রোহীরা। সব মিলিয়ে ২৭টির মতো আসনে জয়-পরাজয়ে প্রভাব রাখেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা।
নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর গত মঙ্গলবার বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ৫০ সদস্যের নতুন মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করে। সেখানে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা, সাংগঠনিক সম্পাদক, সম্পাদক ও নির্বাহী কমিটির সদস্যরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। সাংগঠনিক সম্পাদকদের মধ্যে রংপুর বিভাগের আসাদুল হাবিব দুলু, ফরিদপুর সাংগঠনিক বিভাগের শামা ওবায়েদ, ময়মনসিংহ বিভাগের শরীফুল আলম এবং খুলনা বিভাগের অনিন্দ্য ইসলাম অমিত প্রতিমন্ত্রী হন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত, একটি দলকে সাংগঠনিকভাবে গতিশীল রাখতে বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের পদটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকদের মধ্যে যারা মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন; সংগঠনকে গতিশীল রাখতে তাদের স্থলে যত দ্রুত সম্ভব কর্মঠ, দলকে সময় দিতে পারবেন কিন্তু সরকারে নেই, এমন নেতাদের পদায়ন করা প্রয়োজন।
দলীয় সূত্র বলছে, বিএনপি সবে সরকার গঠন করেছে। জনগণকে দেওয়া নানান প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নই এখন বিএনপি সরকারের মূল ফোকাস। সুতরাং এই ব্যাপারটি নিয়ে দল এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি; যথাসময়ে সিদ্ধান্ত নেবে। তবে বিএনপির নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে, দলের যারা এমপি-মন্ত্রী হবেন অর্থাৎ যারা সরকার পরিচালনায় ব্যস্ত থাকবেন, তাদের পরিবর্তে দলের অন্য নেতাদের সংগঠনে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রমজানে বিএনপির পক্ষ থেকে এবার কেন্দ্রীয়ভাবে দু-একটি ইফতার পার্টির আয়োজন করা হতে পারে। তবে স্থানীয় পর্যায়ে স্বাভাবিকভাবেই ইফতার পার্টিগুলো অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে পবিত্র রমজান উপলক্ষে বিএনপির উদ্যোগে ঢাকা-১৭ আসনের কড়াইল বস্তি এবং ভাসানটেক এলাকার ১৪টি এতিমখানা এবং হেফ্জ মাদ্রাসায় প্রত্যেককে পুরো রমজান মাসের জন্য ইফতার, রাতের খাবার ও সেহরি দেওয়া হবে।
এর অংশ হিসেবে প্রথম রোজায় গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান রাজধানীর পশ্চিম ভাসানটেক থানার অন্তর্গত জামিয়া কুরবানিয়া তালিমিয়া দাওরা হাদিস মহিলা মাদ্রাসা ও এতিমখানার এতিম শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে ইফতার করেন। ঢাকা-১৭ আসন থেকে নির্বাচন করে বিজয়ী হন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে দলটির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সায়েদুল আলম বাবুল বলেন, 'রমজানে স্বাভাবিকভাবেই ইফতার পার্টিগুলো হবে। যারা এমপি নির্বাচিত হয়েছেন, তারা এলাকায় ইফতার পার্টি দেবেন। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীরাও সেখানে অংশগ্রহণ করবেন। এটাও এক ধরনের সাংগঠনিক কার্যকলাপ।'
তিনি বলেন, কমিটি গঠন-পুনর্গঠন একটা স্বাভাবিক সাংগঠনিক প্রক্রিয়া। কিছু কমিটির মেয়াদ এরই মধ্যে শেষ হয়ে গেছে; আবার কিছু জায়গায় আহ্বায়ক কমিটি আছে, পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। আমরা কিছুদিন পরে এগুলোতে হাত দেব। সরকারে বিএনপি থাকলেও বিএনপি যেহেতু একটা বৃহৎ সংগঠন, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকবে, এটাতে কোনো ব্যত্যয় হবে না। তাছাড়া সামনে স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলো পর্যায়ক্রমে হতে থাকবে। সুতরাং দলকে গুছিয়ে সুসংগঠিত রাখতে হবে।
সাংগঠনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অনেক সাংগঠনিক সম্পাদক মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন। দলে তাদের স্থলে কোনো পরিবর্তন আসবে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে সায়েদুল আলম বাবুল বলেন, ‘এটা দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বিষয়। হয়তো দল এ ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করে দেখবে।’
বিএনপি ও সরকারের সফলতার জন্য উভয়ের মধ্যেই ভারসাম্য থাকা প্রয়োজন বলে অভিমত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মাদ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘সরকার গঠন করলেই দল পুনর্গঠন করতে হয়। কারণ, সরকার গঠনের সঙ্গে নতুন নতুন ডিমান্ড, নতুন নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিরোধী দলে বা সরকারের বাইরে থাকাকালীন দল একরকমভাবে পরিচালিত হয়, আবার সরকারে থাকলে দল আরেকরকমভাবে পরিচালিত হয়।
এ জন্য দল পুনর্গঠন প্রয়োজন হয়। তবে পুনর্গঠন করতে গিয়ে যারা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন, তাদের এখনই দলে নেওয়া সমীচীন হবে না। কারণ, নির্বাচনে ধানের শীষ ও দল সমর্থিত জোট প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে তারা দলকে চ্যালেঞ্জের মধ্যে ফেলেছিলেন, যদিও দল এ জায়গা থেকে ওভারকাম করেছে।’
তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলে থাকলে তো সব ধরনের মানুষকেই পাশে রাখা যায়, তাতে তেমন সমস্যা হয় না। কিন্তু বিএনপি যেহেতু এখন সরকারে, তাই দল পুনর্গঠনে ত্যাগী-আন্তরিক নেতাদেরই সামনে নিয়ে আসতে হবে। দলের যারা যারা সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন, যারা দলে এখন আর ঠিকমতো রোল প্লে করতে পারবেন না; সংগঠনের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে, সংগঠনকে গতিশীল করতে সেখানে অবশ্যই পরিবর্তন আনার প্রয়োজন হবে। এ ক্ষেত্রে পরের স্তরে যারা আছেন; যারা কর্মঠ, যারা দলকে সময় দিতে পারবেন কিন্তু সরকারে নেই, তাদের দলের কাজে লাগানো দরকার।
তবে এ ক্ষেত্রে একটা বিষয় মনে রাখতে হবে- যতটা পারা যায় সরকারের প্রক্রিয়া থেকে দলের প্রক্রিয়াটা আলাদা রাখা। যারা দল থেকে সরকারে গেছেন, তাদের সবাইকে যদি দলে রাখা হয়, তাহলে তাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে দল এবং সরকার একাকার হয়ে যায়। দল এবং সরকারকে একাকার করে ফেলা যাবে না। আবার দলের যারা সরকারে আছেন, তাদের দল থেকে সম্পূর্ণ বের করেও দেওয়া যাবে না, তাহলে দলের প্রতি তাদের দায়িত্ববোধ-জবাবদিহি থাকে না।’
এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক আরও বলেন, ‘দল এবং সরকারের মধ্যে একটা ভারসাম্য লাগবে। সরকারে যারা আছেন, তারা যেন দলের প্রতি এক ধরনের দায়িত্ব, কর্তব্য ও আন্তরিকতা অনুভব করেন; অন্যদিকে দলে যারা আছেন, তারা যেন সরকারে থাকাদের এক ধরনের জবাবদিহির মধ্যে রাখতে পারেন। সরকারে বিএনপি এবং দলে বিএনপি- এই দুয়ের মধ্যে কানেকশন চ্যানেলটা থাকতে হবে। এটার ওপরই সরকার এবং দল উভয়ের সাফল্য নির্ভর করবে।’
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান
আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও যদি কোনো গণমাধ্যম আগাম ঘোষণা দিয়ে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার বা সম্প্রচারের খবর প্রকাশ করে, তাহলে তা আদালতের রায়ের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে এবং এ বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি একথা বলেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, আগেও এ বিষয়ে সরকার গণমাধ্যমের জন্য সতর্কতামূলক নির্দেশনা দিয়েছিল। যদি কেউ আগাম প্রচার করে যে শেখ হাসিনা বক্তব্য দেবেন এবং সেটি প্রকাশ বা সম্প্রচার করে, তবে সেটি আদালতের আদেশ অমান্য করার শামিল হবে।
তিনি বলেন, আমরা আবারও সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেব, কেউ যেন এ ধরনের কাজ না করেন। আদালতের নির্দেশনা মানা প্রত্যেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। সরকারের কাজ হলো আদালতের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।
তিনি ব্যক্তিগত মতামত তুলে ধরে বলেন, আদালতের আদেশ না থাকলে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে বাধা দেওয়া ঠিক হতো না। কেউ যদি আদালতের ওই আদেশের সঙ্গে একমত না হন, তাহলে তিনি আদালতেই গিয়ে সেই রায় চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত আদালতের আদেশ বহাল থাকবে, ততক্ষণ সেটি সবাইকে মেনে চলতে হবে।
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ বৃহস্পতির জামিন পাওয়ার তথ্য সরকার দুই-তিন দিন পর জানল কেন? একজন সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, এ বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন এবং তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারছেন না।
তিনি বলেন, আমি বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেব এবং তার সঙ্গে কথা বলব। কেন এ ধরনের গ্যাপ হয়েছে, সেটি খতিয়ে দেখা হবে।
প্রশাসনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এখনো আগের সরকারের প্রভাব রয়েছে এমন প্রশ্নের উত্তরে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন ও দেশত্যাগ বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তবে ১৫ বছর ধরে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে যারা দায়িত্বে ছিলেন, তাদের সবাইকে একদিনে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায়, বিশেষ করে প্রশাসনসহ নানা প্রতিষ্ঠানে আগের সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানুষ এখনো রয়েছেন। চাইলেই এত মানুষকে একসঙ্গে সরিয়ে ফেলা সম্ভব নয়। ১৫ বছরে বিভিন্ন স্তরে যারা উঠে এসেছেন, তাদের পরিবর্তে নতুনদের আনতে সময় লাগে।
তিনি আরও বলেন, শুধু বদলি করলেই হবে না, নতুন কর্মকর্তাদের দক্ষতা অর্জনেরও বিষয় রয়েছে। সরকার ধীরে ধীরে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করছে, তবে এমনভাবে নয় যেন রাষ্ট্রের সেবাদান ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, চেষ্টা শুধু নয়, কাজও চলছে। তবে এমনভাবে পরিবর্তন করা হচ্ছে না, যেন ভঙ্গুর সিস্টেম আরও ধ্বংস হয়ে যায়। কারণ শেষ পর্যন্ত মানুষের কাছে সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ছবি : সংগৃহীত
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট চলমান মামলাগুলো আগামী এক বছরের মধ্যে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে কাজ করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। বিচারপ্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক সব মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে এবং কোনোভাবেই তাড়াহুড়ো করে বিচার করা হবে না বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর এ পর্যন্ত ছয়টি মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। এর চেয়েও দ্রুত বিচার শেষ করা সম্ভব হলেও, তাতে বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখেই বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে জুলাই-সংশ্লিষ্ট ২০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলা আগামী এক বছরের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য প্রসিকিউশন কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি আপিল শুনানির প্রস্তুতিও চলছে।
শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি কোথায় বক্তব্য দিচ্ছেন বা দিচ্ছেন না, সেটি ট্রাইব্যুনালের বিবেচ্য বিষয় নয়। ট্রাইব্যুনালের দায়িত্ব হলো আদালতের রায় কার্যকর করার জন্য তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া। তাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব না হলে রায় বাস্তবায়নে বিলম্ব হতে পারে।
বিচারপ্রক্রিয়ায় বাছাই করে আসামি করা হচ্ছে- এমন অভিযোগও নাকচ করেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তারা স্বাধীনভাবে তদন্ত পরিচালনা করেন এবং প্রসিকিউশন সেই তদন্তে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করে না। কোনো তদন্তে ঘাটতি বা অসঙ্গতি দেখা গেলে সেটি পুনঃতদন্তের জন্য ফেরত পাঠানো হয়।
তিনি বলেন, কারও এমন ধারণা থাকতে পারে যে ইচ্ছামতো আসামি করা হচ্ছে। তবে সেই ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, সারা দেশে জুলাই-সংশ্লিষ্ট ৫০৯টি ঘটনার তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে যেগুলোর তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে, সেগুলো ধাপে ধাপে ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন করা হচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত
‘জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে উপজীব্য করে আগামী ৫ আগস্ট (বুধবার) সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ উদযাপিত হবে।
দিবসটি উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ সকাল ৬.০১ মিনিটে শাহবাগস্থ জুলাই শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পস্তবক অর্পণ করবেন এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ঢাকার শেরেবাংলা নগরস্থ বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সকাল ১১:০০টায় জুলাই শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এবং সভাপতিত্ব করবেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আহমেদ আযম খান এমপি।
দিবসটি উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি দেশের সকল জেলা, উপজেলা, সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভায় এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের মিশনসমূহে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এমপি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এমপি এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এমপি। অনুষ্ঠানে জুলাই শহিদ পরিবারের প্রতিনিধি এবং জুলাই যোদ্ধাদের প্রতিনিধিরাও বক্তব্য প্রদান করবেন।
জাতীয় দৈনিকসমূহে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীর বাণী প্রকাশ করা হবে। বিশেষ ক্রোড়পত্র, স্মারক প্রকাশনা ও নিবন্ধ প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার এবং বেসরকারি সম্প্রচার মাধ্যমসমূহে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচারিত হবে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের সকল মিশনে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালিত হবে।
দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়ের পাশাপাশি দেশব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের ৬৪টি জেলায় জুলাই শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, জুলাই শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে। ঢাকা মহানগরসহ সব সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানভিত্তিক আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। দেশের সকল ধর্মীয় উপাসনালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের স্মরণে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, সামরিক জাদুঘর, জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরসহ দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি বিনোদন কেন্দ্রসমূহ শিশুদের জন্য দিনব্যাপী উন্মুক্ত রাখা হবে। পাশাপাশি দেশের সরকারি হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু পরিবার ও বৃদ্ধাশ্রমে বিশেষ প্রীতিভোজের আয়োজন করা হবে।
রাজধানীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, সরকারি ভবন ও স্মৃতিস্তম্ভ জাতীয় পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন ও আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হবে। দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরতে আলোচনা সভার পাশাপাশি রচনা, আবৃত্তি এবং চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।
সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী
আগামী বৃহস্পতিবার থেকে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর। জাদুঘরে প্রবেশে টিকিটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য টিকিটের মূল্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের আগে থেকেই অনলাইনে বুকিং করতে হবে। আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে নির্মিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ আগামীকাল বুধবার উদ্বোধন করা হবে। সকাল ৯টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাদুঘরটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের জন্য জাদুঘর পরিদর্শনের সুযোগ রাখা হবে।
সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী এলে ব্যবস্থাপনা কঠিন হতে পারে। এ কারণে নির্দিষ্ট সময়ভিত্তিক (স্লট) প্রবেশের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তাই দর্শনার্থীদের আগে থেকেই অনলাইনে বুকিং করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে রাজধানীসহ সারা দেশে নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। জাদুঘর উদ্বোধন উপলক্ষে বিকেলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছে।
সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, উদ্বোধনের প্রথম দিন জাদুঘরটি শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। ৬ আগস্ট থেকে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য জাদুঘর খুলে দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ধীরে ধীরে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরকে পরিপূর্ণ করা হবে।
পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় বাংলাদেশ
গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট, শ্রমিক অসন্তোষ, কিংবা ব্যাংকিং জটিলতার সাথে যোগ হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক নিয়ে অস্থিরতা-এসব কিছু মিলিয়ে গেল বছরটা ছিল দেশের শিল্পখাতে এক অনিশ্চয়তার অধ্যায়। এত কিছুর পরেও স্বস্তি মিলছে ডবলিউটিওর তথ্যে।
সংস্থাটির ওয়ার্ল্ড ট্রেড স্ট্যাটিস্টিক্যাল রিভিউ ২০২৫ প্রতিবেদন দেখা যায়, টানা পঞ্চমবারের মতো পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় বাংলাদেশ।
বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, চীনের এই শেয়ারটা আসলে এতটা ম্যাসিভ যে, এখানে অন্যরা সেই অনুপাতে গ্রো করতে পারেনি। এই গ্রো করতে না পারার কারণে আমরা বলছি যে, দ্বিতীয় স্থানে আছি। দ্বিতীয় আর প্রথমের যে তফাত বা পার্থক্য তো ৩৮ আর ১৫৭ বা ১৫৫।
ডবলিউটিওর তথ্য বলছে, গেল বছর বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে ৩৮.৮২ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক, যার নিকটতম প্রতিযোগী ভিয়েতনামের চেয়ে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার বেশি। যদিও বছর ব্যবধানে কমেছে বিশ্ববাজারের হিসাব, সেই সাথে বাংলাদেশের যেখানে রপ্তানি বেড়েছে এক শতাংশের মতো সেখানে ভিয়েতনামের প্রায় ১১ শতাংশ।
অর্থনীতিবিদ মাহফুজ কবির বলেন, ভিয়েতনাম কিন্তু খুব দ্রুত এগিয়ে আসছে। আবার এদিকে ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা আছে-এরাই তো মূল প্লেয়ার। কম্বোডিয়াও আস্তে আস্তে এগিয়ে আসছে। তার মানে হলো যে, বাংলাদেশের অবস্থান এখন দ্বিতীয়, এটিকে ধরে রাখতে হবে আরও বেশ কিছুদিন। অন্তত এই জায়গাটা যেন কেউ না নিয়ে যায় এবং আরও দ্রুত আগোতে হবে। সে ক্ষেত্রে আমাদের অটোমেশনটা দরকার।
মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, বাংলাদেশের যে ৩৮ বা ভিয়েতনামের ৩৭, এইযে বাকি যে ব্যবসা আছে, এখানেও কিন্তু কম-বেশি সবই আসলে চায়না থেকেই আসছে, শ্রমটা বাধে।
বছর ব্যবধানে রপ্তানি কমলেও বরাবরের মতই তৈরি পোশাকে এখনো শীর্ষ অবস্থানে চীন চতুর্থ স্থানে ভারত ও পঞ্চম তুরস্ক।
ছবি : সংগৃহীত
সরকারি-বেসরকারি স্কুলে লটারির পরিবর্তে পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়ার ঘোষণা দিলেও সেখান থেকে সরে আসার চিন্তা করছে সরকার। সেক্ষেত্রে আগামী বছরও স্কুলে ভর্তিতে লটারি ব্যবস্থা বহাল রাখার আভাস দিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষস্থানীয় একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে সোমবার রাতে বলেন, “স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি বহাল রাখা যায় কিনা, সে বিষয়ে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।”
ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় শিশুদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টির আশঙ্কা থেকে লটারি ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।
তার ভাষ্য, “চলতি মাসেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।”
এদিকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের এক শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে এদিন রাতে বলেন, “ভর্তিতে পরীক্ষার বদলে লটারি বহাল রাখার বিষয়ে ভাবা হচ্ছে। লটারি বহাল রাখা যায় কিনা বা কোন কোন শ্রেণিতে লটারি বহাল রাখায় যায়, সে বিষয়ে ভর্তি কমিটিকে আলোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আশা করছি ১০ অগাস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।”
গত মার্চে লটারি প্রথা বাতিলের ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
গত ১৬ মার্চ এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, "বছরের প্রথমে অ্যাডমিশন যেটা হয়, সেখানে আমরা লটারির পরিবর্তে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করতে যাচ্ছি। আগাম জানিয়ে দিলাম, যেন সবাই সুযোগ পায়।
"আমরা লটারি সিস্টেম উইথড্র করলাম,দ্যাটস ইট।"