রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শেষ হতে চলেছে, কিন্তু দেশের সবচেয়ে জটিল সংকট রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা রয়ে গেছে অপরিবর্তিত। অন্তর্বর্তী সরকারের শুরুতেই রোহিঙ্গা সমস্যাকে প্রাধান্য দিয়ে বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় ড. খলিলুর রহমানকে।
ফলে অনেকেই বিগত সরকারের তুলনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি বেশি আস্থা রেখেছিল। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস কয়েকবার বলেছিলেন, ডিসেম্বরের মধ্যেই রোহিঙ্গারা ঘরে ফিরবে। কিন্তু ডিসেম্বর পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। বরং রাখাইন সীমান্তে নতুন উত্তেজনা এবং রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঘটনা বেড়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কূটনীতিক বলেন, ‘জান্তা সরকার কখনোই রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার ব্যাপারে জোরালো ভূমিকা রাখেনি। মিয়ানমারে সাম্প্রতিক নির্বাচনে যারা ক্ষমতায় এসেছে, তারা জান্তা সমর্থিত। ফলে নতুন সরকার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আগ্রহ দেখাবে না। তবে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সরকারের একটি আন্তর্জাতিক মর্যাদা ছিল। কিন্তু রোহিঙ্গা ইস্যুতে ফলপ্রসূ অগ্রগতি না হওয়ায় ভবিষ্যৎ নির্বাচিত সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ আরও কঠিন হবে।’
রোহিঙ্গা সংকটের শিকড় বহু পুরোনো। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইনের মাধ্যমে রাষ্ট্রহীন ঘোষণা করা হয়। ২০১৭ সালের আগস্টে সেনাবাহিনীর অভিযানে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয় এবং প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।
জাতিসংঘ এ ঘটনাকে জাতিগত নিধন হিসেবে উল্লেখ করে। বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজার শিবিরে অবস্থান করছে। তাদের ভরণপোষণে বছরে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। সাহায্যকারী সংস্থাগুলোর বাজেট সংকোচনের ফলে খাদ্য ও অন্যান্য সহায়তা কমেছে, যা বাংলাদেশ ও শরণার্থীদের জন্য বড় উদ্বেগ।
গত বছর থাইল্যান্ডে বিমসটেক সম্মেলনে বিশেষ দূত জানান, ‘মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তারা ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে এবং ডিসেম্বর থেকে কার্যক্রম শুরু হবে।’ কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি। আগস্টে কক্সবাজারে স্টেকহোল্ডার ডায়ালগে রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা জানালেও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অগ্রসর হয়নি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ যুদ্ধ ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে প্রত্যাবাসন সম্ভব হচ্ছে না। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক চাপের অভাবও এ ব্যর্থতার কারণ। যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারত কার্যকর ভূমিকা নেয়নি। চীন জান্তার সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্যের কারণে প্রত্যাবাসনে জোর দেয়নি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইউএসএআইডির সহায়তা কমিয়েছে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নও বাজেট সংকোচন করেছে। সরকারের এক কর্মকর্তা বলেন, পশ্চিমারা চায় রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যাক। তারা কাজ করে আয় করলে বিদেশি অনুদানের প্রয়োজন কমবে। এতে পশ্চিমাদের দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার চাপ কমবে।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক। তাদের বাংলাদেশের নাগরিক বানানো উচিত হবে না। এতে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সংকটে পড়বে।
প্রত্যাবাসনে অগ্রগতি না থাকলেও সীমান্তে অনুপ্রবেশ বেড়েছে। ২৬ জানুয়ারি টেকনাফসহ বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে রোহিঙ্গা প্রবেশের খবর পাওয়া যায়। শিবিরে অস্ত্র চোরাচালান ও সশস্ত্র গ্রুপের তৎপরতা বেড়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। ফরটিফাই রাইটস জানায়, কিছু গ্রুপ শরণার্থীদের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করছে। অনেকে ক্যাম্প ছেড়ে শহরে চলে যাচ্ছে। বিজিবি পাহারা জোরদার করলেও দীর্ঘ সীমান্ত পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ কঠিন।
২৬ জানুয়ারি টেকনাফে আরাকান আর্মি ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র গ্রুপের সংঘর্ষে গোলাগুলির ঘটনায় এক বাংলাদেশি শিশু নিহত ও কয়েকজন আহত হয়। আরাকান আর্মি রাখাইনের স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে লড়ছে এবং এআরএসএ ও আরএসওকে সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ করেছে। উত্তেজনার ফলে সীমান্তে ড্রোন নজরদারি ও অস্ত্র চোরাচালান বেড়েছে। বাংলাদেশ সরকার প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং মিয়ানমারকে সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলেছে। তবে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়নি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকানো কঠিন। কার্যকর সমাধান সরকারকেই খুঁজতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জান্তা কখনোই রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে চায়নি। সেনা সমর্থিত সরকার এ বিষয়ে অগ্রসর হবে, তা ভাবা অতিরঞ্জিত। সামনে আরও অনুপ্রবেশ হলে নিরাপত্তা সংকট বাড়বে।’
আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গাম্বিয়া মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলা করেছে। ২৯ জানুয়ারি মৌখিক শুনানি শেষ হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, রায় ডিসেম্বর মাসে আসতে পারে। রায় মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে পারে, তবে জান্তা তা মানবে কি না অনিশ্চিত।
আন্তর্জাতিক চাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার না হলে রোহিঙ্গা সমস্যা বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি বোঝায় পরিণত হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
ছবি : সংগৃহীত
আসছে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রা কমে ঢাকাসহ সারাদেশে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এরইমধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির শুক্রবার বলেন, “উত্তরের দিকে তাপমাত্রা কিছুটা কমছে। রংপুর বিভাগের কথা চিন্তা করলে তেঁতুলিয়ায় দিন ও রাতের তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রয়েছে। রাজারহাট ও দিনাজপুরেও তাপমাত্রা ২০ থেকে ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে আছে। রাজশাহী ও ঈশ্বরদীতেও তাপমাত্রা কমেছে।
“সামনের সপ্তাহে আবহাওয়ার বর্তমান ব্যবস্থাটি কেটে গেলে তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তখন ঢাকাসহ সারাদেশে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে।”
এদিকে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে তথ্য দিয়ে এই আবহাওয়াবিদ বলেন, “পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটি আরও ঘনীভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শনিবার এটি নিম্নচাপে এবং পরে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।
“এই মুহূর্তে এর কোনো প্রভাব আমাদের ওপর নেই। তবে ২৫ অক্টোবরের পর উপকূলীয় এলাকায় কিছুটা বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।”
আগামী কয়েক দিনের আবহাওয়া পরিস্থিতি সম্পর্কে তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, “আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় দেশে বৃষ্টিপাতের তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই। পুরো দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে।”
প্রতীকী ছবি
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গত একদিনে ডেঙ্গু নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ২৯৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু-বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) দুজন ও ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) একজনের মৃত্যু হয়েছে।
এতে চলতি বছর মশাবাহিত রোগটিতে এ পর্যন্ত মোট প্রাণহানি ৩৭১ জনে দাঁড়াল।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাহিরে) সবচেয়ে বেশি ২৭৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পাশাপাশি এই সময়ে বরিশাল বিভাগে ১৫৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২১৯, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১১৬, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩১, খুলনা বিভাগে ১৪৭, ময়মনসিংহ বিভাগে ১০০, রাজশাহী বিভাগে ১১৩ ও রংপুর বিভাগে ৩৮ ও সিলেট বিভাগে দুইজন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
সবমিলিয়ে চলতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে আজ শুক্রবার পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ৩৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনসহ শুধু ঢাকা বিভাগেই ডেঙ্গুতে ১৭৯ জন মারা গেছেন।
এ ছাড়া উল্লেখিত সময়ে খুলনা বিভাগে ৬৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩০ জন, বরিশাল বিভাগে ২৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৩ জন, রংপুরে ৭ জন ও সিলেট বিভাগে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রতীকী ছবি
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২১৪ জনে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।
বুলেটিনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেট বিভাগেই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ১৩৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৫৫৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১৯৪ জন, বরিশালে ১১৫ জন, সিলেটে ৯৪ জন, ময়মনসিংহে ৬৫ জন, খুলনায় ৬০ জন, রংপুরে ২৪ জন এবং রাজশাহীতে ২০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬৩৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ৮৬ হাজার ৭৯৮ জন।
এদিকে, ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৮৭০ জনে। তাদের মধ্যে ২৩ হাজার ২৭৩ জনের শরীরে হাম নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খানকে দেখে এলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বঙ্গভবন জানিয়েছে, শুক্রবার সকালে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে যান রাষ্ট্রপতি। তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর স্ত্রী অ্যাডভোকেট রোকসানা খন্দকার এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
এভারকেয়ার হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সাহাবুদ্দিন তালুকদারসহ চিকিৎসকরা আবদুল মঈন খানের সর্বশেষ অবস্থা রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।
গত বুধবার বুকে ব্যথা নিয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন মঈন খান। তিনি শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগে ভুগছেন। চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।
শাহজালাল বিমানবন্দরে যাত্রীরা (ফাইল ছবি)
৩৫ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠিয়েছে ইউরোপের কয়েকটি দেশ। এর মধ্যে ইতালি থেকে ১৯ জন, গ্রিস থেকে ১০ জন এবং সাইপ্রাস থেকে ছয়জন বাংলাদেশি দেশে ফিরছেন।
ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল সোয়া আটটায় একটি বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে (পিভিজি ৯৪৪৫) তারা ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
বিমানবন্দরে সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটি ও প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহযোগিতায় ফেরত আসা বাংলাদেশিদের জরুরি সহায়তা, কাউন্সেলিং এবং নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম। এ সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, একটি বিশেষ বিমানে করে ৩৫ বাংলাদেশি শুক্রবার সকালে ঢাকায় এসেছেন। এর মধ্যে ইতালি থেকে ১৯ জন, গ্রিস থেকে ১০ জন এবং সাইপ্রাস থেকে ছয়জন বাংলাদেশি দেশে ফিরছেন।
তাদের সবাইকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রত্যাশা-২ প্রকল্প থেকে বিমানবন্দরে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে কাউন্সিলিং ও প্রশিক্ষণ শেষে সবাইকে অর্থনৈতিক সহায়তা করা হবে।
বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দোকানপাট ও শপিং মল রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার বিশেষ অনুমতির মেয়াদ শেষ হয়েছে। ফলে আজ শুক্রবার থেকে আগের সময়সূচি অনুযায়ী সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে দোকানপাট, মার্কেট ও বিপণিবিতান।
এতে প্রতিষ্ঠানগুলোর খোলা থাকার সময় দুই ঘণ্টা কমছে। বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রাখতে চলতি বছর কয়েক দফায় দোকানপাট খোলা ও বন্ধের সময় পরিবর্তন করেছে সরকার। সর্বশেষ গত ৫ অক্টোবর দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত রাত ১০টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখার অনুমতি দেয় বিদ্যুৎ বিভাগ।
সেই সময়সীমা শেষ হওয়ায় আজ থেকে পুরোনো নিয়ম কার্যকর হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সকাল ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত শপিং মল, মার্কেট ও দোকানপাট খোলা রাখা যাবে। ২৩ অক্টোবর থেকে আগের নিয়মে সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে হবে।
এ বছর জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে দোকানপাট বন্ধের সময় একাধিকবার পরিবর্তন করা হয়। এপ্রিলের শুরুতে শপিং মল ও দোকানপাট সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরে ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সময় বাড়িয়ে সন্ধ্যা ৭টা করা হয়। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে গত ১২ মে সাময়িকভাবে রাত ১০টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়।
এরপর জুনে বন্ধের সময় রাত ৯টা নির্ধারণ করা হয়। পরে ১২ আগস্ট বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সময় আরও এক ঘণ্টা কমিয়ে রাত ৮টা করা হয়। সেই অনুযায়ী সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখার নিয়ম চালু হয়, যা আজ থেকে আবার কার্যকর হলো।