জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ নিচ্ছেন নতুন মন্ত্রিসভার মন্ত্রীরা।
গাড়ি-বাড়ি, বেতন ও সম্পূর্ণ চিকিৎসা খরচসহ অন্তত ১৩ ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবেন নতুন মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা।
মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, চিফ হুইপ, হুইপ, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার এসব সুবিধাভোগী হবেন। বিগত সরকারগুলোর মন্ত্রিসভার সদস্য ও উপদেষ্টারাও এসব সুযোগ-সুবিধা পেয়ে এসেছেন।
মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রীরা কী সুযোগ-সুবিধা পাবেন, তা নির্ধারণ করা আছে সংবিধানের দ্য মিনিস্টার্স এবং মিনিস্টার্স অব স্টেট অ্যান্ড ডেপুটি মিনিস্টার্স (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলাইজ) অ্যাক্টে। এর বাইরে শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানি সুবিধা সরকারের পক্ষ থেকে এমপিদের দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া রাজধানীতে যাদের থাকার স্থায়ী জায়গা নেই, তাদের অনেককে প্লটও বরাদ্দ দিয়েছিল রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। এবার এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হতে পারে।
বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় শুল্কমুক্ত গাড়ি ও প্লট না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান।গতকাল মঙ্গলবার এমপিদের শপথ গ্রহণ শেষে সংসদীয় দলের প্রথম বৈঠক শেষে বিএনপির পক্ষ থেকেও একই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
অতীতের রেওয়াজ থেকে এটা বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন বলে মনে করছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
তিনি বলেন, শুল্কমুক্ত গাড়ি ও প্লট সুবিধা না নেওয়ার ঘোষণা খুবই ভালো একটা উদ্যোগ। পাশাপাশি এটাও বলব, জুলাই সনদে ৩২টি রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করেছে।
সেখানে ৭৪ নম্বর ধারায় বলা আছে, যে কোনো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার তিন মাসের মধ্যে তাঁর এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সম্পদের হিসাব দেবেন। সেটা নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে দেওয়া থাকবে। এভাবে প্রতি বছর তারা সম্পদের হিসাব দেবেন। এখন আমাদের কাজ হবে তারা এগুলো করছে কিনা ফলোআপ করা।
রাষ্ট্রীয় মর্যাদাক্রম অনুযায়ী চিফ হুইপ এবং সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা পূর্ণ মন্ত্রীর পদমর্যাদা ভোগ করেন। হুইপরা ভোগ করেন প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা। স্পিকারের পদমর্যাদা প্রধানমন্ত্রীর পরই। এ ছাড়া ডেপুটি স্পিকার মন্ত্রীর মর্যাদা পেয়ে থাকেন। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা ভোগ করেন।
বেতন-বাড়ি
একজন মন্ত্রী পদমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি প্রতিমাসে বেতন-ভাতা বাবদ এক লাখ পাঁচ হাজার টাকা, প্রতিমন্ত্রী ৯২ হাজার টাকা এবং উপমন্ত্রী ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা পাবেন। দায়িত্ব নেওয়ার পরই তারা সরকারি ব্যয়ে সুসজ্জিত বাসভবন পাবেন বিনা ভাড়ায়। এ ছাড়া যখন প্রয়োজন বাসার সব মেরামতও সরকারের পক্ষ থেকে করা হবে। প্রতিমন্ত্রী-উপমন্ত্রীর ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। তবে তারা কেউ সরকারি বাড়িতে থাকতে না চাইলে একজন মন্ত্রী বাসা ভাড়া বাবদ মাসে ৮০ হাজার টাকা পাবেন। প্রতিমন্ত্রী-উপমন্ত্রী পাবেন ৭০ হাজার টাকা। নিজ বাড়ি বা ভাড়া বাড়িতে থাকলে ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তিন মাসের বাড়ি ভাড়ার সমপরিমাণ টাকা তারা প্রতিবছর পাবেন। বাসভবনের বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও টেলিফোনের যাবতীয় খরচ সরকার বহন করবে। সরকারি বাড়ির সাজসজ্জার জন্য একজন মন্ত্রী পাঁচ লাখ এবং প্রতিমন্ত্রী চার লাখ টাকা পাবেন প্রতিবছর।
গাড়ি সুবিধা
মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা সরকারি খরচে গাড়ি পাবেন। সরকারের পরিবহন পুল থেকে এই গাড়ি সরবরাহ করা হবে। প্রতিদিন ১৮ লিটার জ্বালানি তেল বা সমপরিমাণ অর্থ পাবেন গাড়ির জ্বালানি বাবদ। সরকারি প্রয়োজনে বা নির্বাচনী এলাকায় ভ্রমণের সময় মন্ত্রণালয়ের অধীন যে কোনো সংস্থা বা দপ্তর থেকে একটি জিপ পাবেন তারা। দেশের ভেতরে কোথাও ভ্রমণে গেলে দৈনিক ভাতা পাবেন দুই হাজার টাকা করে। উপমন্ত্রী পাবেন দেড় হাজার টাকা। বিমান ভ্রমণের ক্ষেত্রে বছরে ১০ লাখ টাকা বীমা সুবিধা পাবেন তারা।
মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের সহায়ক ব্যক্তি সুবিধা
একজন মন্ত্রী তাঁর পছন্দ অনুযায়ী উপসচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে একান্ত সচিব (পিএস) হিসেবে পাবেন। এ ছাড়া তারা একজন সহকারী একান্ত সচিব পাবেন। পাবেন দুজন ব্যক্তিগত কর্মকর্তা। এগুলো তাদের পছন্দমতো ব্যক্তিকে তারা নিয়োগ দিতে পারবেন। এ ছাড়া একজন জমাদার, একজন আরদালি, দুজন অফিস সহায়ক ও একজন বাবুর্চি পাবেন। প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীর ক্ষেত্রে এসব সুবিধা কিছুটা কম পাবেন। দুজনের পরিবর্তে একজন অফিস সহকারী, একজন ব্যক্তিগত কর্মকর্তা পাবেন তারা।
চিকিৎসা
মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের কেউ অসুস্থ হলে চিকিৎসার পুরো ব্যয়ভার সরকার বহন করবে। সেই খরচের কোনো সীমা আইনে বেঁধে দেওয়া নেই। তবে চিকিৎসা খরচের ভাউচার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিতে হবে।
আপ্যায়ন
দেশি-বিদেশি অতিথিদের আপ্যায়নের জন্য একজন মন্ত্রী মাসে ১০ হাজার টাকা করে আপ্যায়ন ভাতা পাবেন। আর প্রতিমন্ত্রী পাবেন সাড়ে সাত হাজার টাকা। উপমন্ত্রী পাবেন পাঁচ হাজার টাকা।
এলাকার উন্নয়নে বরাদ্দ
নিজের নির্বাচনী এলাকার মসজিদ, মন্দির উন্নয়নসহ এলাকার মানুষের দাতব্য কাজে একজন মন্ত্রী বছরে ১০ লাখ টাকা, প্রতিমন্ত্রী পাবেন সাড়ে সাত লাখ এবং উপমন্ত্রী পাবেন পাঁচ লাখ। এ টাকার মধ্যে একজন মন্ত্রী চাইলে একজন ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা দিতে পারেন। প্রতিমন্ত্রী দিতে পারবেন ৩৫ হাজার ও উপমন্ত্রী দিতে পারবেন ২৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর বেতন ও সুবিধাদি নির্ধারণ করা রয়েছে দ্য প্রাইম মিনিস্টার্স (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) অ্যাক্টের মাধ্যমে।
সেখানে বলা আছে, একজন প্রধানমন্ত্রী মাসে এক লাখ ১৫ হাজার টাকা পারিশ্রমিক পাবেন। এর সঙ্গে বাড়ি ভাড়া হিসেবে পাবেন এক লাখ টাকা। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিনোদনের জন্য ব্যয় করা সম্পূর্ণ অর্থই তিনি পাবেন ভাতা হিসেবে। তাঁর অফিস থেকে বাসা এবং বাসা থেকে অফিসে যাতায়াতের সব খরচও বহন করবে রাষ্ট্র। এ ছাড়া তিনি আরও অনেক সুবিধা রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী হিসেবে পেয়ে থাকেন।
এমপিদের সুযোগ-সুবিধা
এমপিরা মাসে বেতন হিসেবে ৫৫ হাজার টাকা পেয়ে থাকেন। তবে অতীতে দেখা গেছে, বেতনের বাইরেও এলাকার উন্নয়নে তাদের পৃথকভাবে সামাজিক নিরাপত্তা খাত দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দের নজির রয়েছে। এ ছাড়া তারা শুল্কমুক্ত গাড়ি নিয়েছেন। প্লটও পেয়েছেন অনেকে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
সৌদি আরবে একাধিক হুতি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। এসব হামলায় ৩ বাংলাদেশি নিহত ও বেশ কয়েকজন হতাহতের ঘটনাও রয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নিন্দা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি সরকার ও জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে।
বাংলাদেশ সব ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
ছবি : সংগৃহীত
আসছে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রা কমে ঢাকাসহ সারাদেশে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এরইমধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির শুক্রবার বলেন, “উত্তরের দিকে তাপমাত্রা কিছুটা কমছে। রংপুর বিভাগের কথা চিন্তা করলে তেঁতুলিয়ায় দিন ও রাতের তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রয়েছে। রাজারহাট ও দিনাজপুরেও তাপমাত্রা ২০ থেকে ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে আছে। রাজশাহী ও ঈশ্বরদীতেও তাপমাত্রা কমেছে।
“সামনের সপ্তাহে আবহাওয়ার বর্তমান ব্যবস্থাটি কেটে গেলে তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তখন ঢাকাসহ সারাদেশে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে।”
এদিকে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে তথ্য দিয়ে এই আবহাওয়াবিদ বলেন, “পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটি আরও ঘনীভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শনিবার এটি নিম্নচাপে এবং পরে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।
“এই মুহূর্তে এর কোনো প্রভাব আমাদের ওপর নেই। তবে ২৫ অক্টোবরের পর উপকূলীয় এলাকায় কিছুটা বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।”
আগামী কয়েক দিনের আবহাওয়া পরিস্থিতি সম্পর্কে তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, “আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় দেশে বৃষ্টিপাতের তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই। পুরো দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে।”
প্রতীকী ছবি
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গত একদিনে ডেঙ্গু নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ২৯৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু-বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) দুজন ও ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) একজনের মৃত্যু হয়েছে।
এতে চলতি বছর মশাবাহিত রোগটিতে এ পর্যন্ত মোট প্রাণহানি ৩৭১ জনে দাঁড়াল।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাহিরে) সবচেয়ে বেশি ২৭৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পাশাপাশি এই সময়ে বরিশাল বিভাগে ১৫৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২১৯, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১১৬, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩১, খুলনা বিভাগে ১৪৭, ময়মনসিংহ বিভাগে ১০০, রাজশাহী বিভাগে ১১৩ ও রংপুর বিভাগে ৩৮ ও সিলেট বিভাগে দুইজন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
সবমিলিয়ে চলতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে আজ শুক্রবার পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ৩৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনসহ শুধু ঢাকা বিভাগেই ডেঙ্গুতে ১৭৯ জন মারা গেছেন।
এ ছাড়া উল্লেখিত সময়ে খুলনা বিভাগে ৬৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩০ জন, বরিশাল বিভাগে ২৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৩ জন, রংপুরে ৭ জন ও সিলেট বিভাগে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রতীকী ছবি
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২১৪ জনে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।
বুলেটিনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেট বিভাগেই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ১৩৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৫৫৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১৯৪ জন, বরিশালে ১১৫ জন, সিলেটে ৯৪ জন, ময়মনসিংহে ৬৫ জন, খুলনায় ৬০ জন, রংপুরে ২৪ জন এবং রাজশাহীতে ২০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬৩৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ৮৬ হাজার ৭৯৮ জন।
এদিকে, ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৮৭০ জনে। তাদের মধ্যে ২৩ হাজার ২৭৩ জনের শরীরে হাম নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খানকে দেখে এলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বঙ্গভবন জানিয়েছে, শুক্রবার সকালে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে যান রাষ্ট্রপতি। তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর স্ত্রী অ্যাডভোকেট রোকসানা খন্দকার এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
এভারকেয়ার হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সাহাবুদ্দিন তালুকদারসহ চিকিৎসকরা আবদুল মঈন খানের সর্বশেষ অবস্থা রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।
গত বুধবার বুকে ব্যথা নিয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন মঈন খান। তিনি শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগে ভুগছেন। চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।
শাহজালাল বিমানবন্দরে যাত্রীরা (ফাইল ছবি)
৩৫ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠিয়েছে ইউরোপের কয়েকটি দেশ। এর মধ্যে ইতালি থেকে ১৯ জন, গ্রিস থেকে ১০ জন এবং সাইপ্রাস থেকে ছয়জন বাংলাদেশি দেশে ফিরছেন।
ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল সোয়া আটটায় একটি বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে (পিভিজি ৯৪৪৫) তারা ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
বিমানবন্দরে সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটি ও প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহযোগিতায় ফেরত আসা বাংলাদেশিদের জরুরি সহায়তা, কাউন্সেলিং এবং নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম। এ সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, একটি বিশেষ বিমানে করে ৩৫ বাংলাদেশি শুক্রবার সকালে ঢাকায় এসেছেন। এর মধ্যে ইতালি থেকে ১৯ জন, গ্রিস থেকে ১০ জন এবং সাইপ্রাস থেকে ছয়জন বাংলাদেশি দেশে ফিরছেন।
তাদের সবাইকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রত্যাশা-২ প্রকল্প থেকে বিমানবন্দরে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে কাউন্সিলিং ও প্রশিক্ষণ শেষে সবাইকে অর্থনৈতিক সহায়তা করা হবে।