সালমান শাহ
১৯৯৬ সালের ৬ই সেপ্টেম্বর দিনটি ছিল শুক্রবার। সেদিন সকাল সাতটায় বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী ছেলে শাহরিয়ার চৌধুরী ইমনের সঙ্গে দেখা করতে ইস্কাটনের বাসায় যান। কিন্তু ছেলের দেখা না পেয়ে তিনি ফিরে আসেন।
এই শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন ঢাকার তৎকালীন সিনেমা জগতের সুপারস্টার সালমান শাহ।
সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে সালমান শাহ'র মা নীলা চৌধুরী বলেন, বাসার নিচে দারোয়ান সালমান শাহ'র বাবাকে তাঁর ছেলের বাসায় যেতে দিচ্ছিল না ।
নীলা চৌধুরীর বর্ণনা ছিল এ রকম, "বলেছে স্যার এখনতো উপরে যেতে পারবেন না। কিছু প্রবলেম আছে। আগে ম্যাডামকে (সালমান শাহ'র স্ত্রীকে) জিজ্ঞেস করতে হবে। এক পর্যায়ে উনি (সালমান শাহ'র বাবা) জোর করে উপরে গেছেন। কলিং বেল দেবার পর দরজা খুললো সামিরা (সালমান শাহ'র স্ত্রী)।"
"উনি (সালমান শাহ'র বাবা ) সামিরাকে বললেন ইমনের (সালমান শাহ'র ডাক নাম) সাথে কাজ আছে, ইনকাম ট্যাক্সের সই করাতে হবে। ওকে ডাকো। তখন সামিরা বললো, আব্বা ওতো ঘুমে। তখন উনি বললেন, ঠিক আছে আমি বেডরুমে গিয়ে সই করিয়ে আনি। কিন্তু যেতে দেয় নাই। আমার হাজব্যান্ড প্রায় ঘণ্টা দেড়েক বসে ছিল ওখানে।"
বেলা এগারোটার দিকে একটি ফোন আসে সালমান শাহ'র মা নীলা চৌধুরীর বাসায়।
ঐ টেলিফোনে বলা হলো, সালমান শাহকে দেখতে হলে তখনই যেতে হবে।
কেমন ছিল পরিবেশ?
টেলিফোন পেয়ে নীলা চৌধুরী দ্রুত ছেলে সালমান শাহ'র বাসার দিকে রওনা হয়েছিলেন। তবে সালমানের ইস্কাটনের বাসায় গিয়ে ছেলে সালমান শাহকে বিছানার ওপর দেখতে পান নীলা চৌধুরী।
"খাটের মধ্যে যেদিকে মাথা দেবার কথা সেদিকে পা। আর যেদিকে পা দেবার কথা সেদিকে মাথা। পাশেই সামিরার (সালমান শাহ'র স্ত্রী) এক আত্মীয়ের একটি পার্লার ছিল। সে পার্লারের কিছু মেয়ে ইমনের হাতে-পায়ে সর্ষের তেল দিচ্ছে। আমি তো ভাবছি ফিট হয়ে গেছে।"
"আমি দেখলাম আমার ছেলের হাতে পায়ের নখগুলো নীল। তখন আমি আমার হাজব্যান্ডকে বলেছি, আমার ছেলে তো মরে যাচ্ছে," বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন নীলা চৌধুরী।
ইস্কাটনের বাসা থেকে সালমান শাহকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানকার ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করে।
এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ময়না তদন্ত শেষে বলা হয় সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছে।
পরিবারের দাবি
বাংলাদেশে সালমান শাহ অভিনীত প্রথম সিনেমা 'কেয়ামত থেকে কেয়ামত' সিনেমার শেষ দৃশ্যের মতো তাঁর জীবনের রথও থেমে গিয়েছিল ওই ছবি করার ঠিক চার বছর পর।
এরপর তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, সালমান শাহকে হত্যা করা হয়েছে।
নীলা চৌধুরীর অভিযোগ ছিল তারা হত্যা মামলা করতে গেলে পুলিশ সেটিকে অপমৃত্যুর মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে।
পুলিশ বলেছিল, অপমৃত্যুর মামলা তদন্তের সময় যদি বেরিয়ে আসে যে এটি হত্যাকাণ্ড, তাহলে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে হত্যা মামলায় মোড় নেবে।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে অন্যতম শ্রেষ্ঠ নায়কের আকস্মিক মৃত্যুতে স্তম্ভিত হয়ে যায় পুরো দেশ।
সে সময় সারা দেশজুড়ে সালমানের অসংখ্য ভক্ত তাঁর মৃত্যু মেনে নিতে না পারায় বেশ কয়েকজন তরুণী আত্মহত্যা করেন বলেও খবর আসে পত্রিকায়।
সালমানের মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে না পারায় তাঁর ভক্তদের মাঝে তৈরি হয় নানা প্রশ্নের।
আরও প্রশ্ন
সালমান শাহের মৃত্যুকে ঘিরে যখন একের পর এক প্রশ্ন উঠতে থাকে, তখন পরিবারের দাবির মুখে দ্বিতীয়বারের মতো ময়না তদন্ত করা হয়। মৃত্যুর আটদিন পরে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজে তিন সদস্য বিশিষ্ট মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়।
সে বোর্ডের প্রধান ছিলেন ডা. নার্গিস বাহার চৌধুরী।
তিনি বলছিলেন, "লাশটা আমি দেখেছি মরচুয়েরিতে। আমার কাছে মনে হয়েছে যেন সদ্য সে মারা গেছে। এ রকম থাকলে তাঁর মৃত্যুর কারণ যথাযথভাবে নির্ণয় করা যায়। আত্মহত্যার প্রত্যেকটা সাইন (চিহ্ন) সেখানে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে ছিল। তাঁর শরীরে আঘাতের কোন নিশানা ছিল না।"
দ্বিতীয় ময়নাতদন্তে আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করা হলে মামলার কাজ সেখানেই থেমে যায়।
সালমান শাহ'র পারিবারিক বন্ধু চলচ্চিত্র পরিচালক শাহ আলম কিরণ বলছিলেন, শেষের দিকে অনেক মানসিক চাপে ছিলেন সালমান শাহ। পরিবারের সদস্যদের সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং প্রযোজকদের সাথে বোঝাপড়ার ঘাটতি তৈরি হয়েছিল।
সালমান শাহ'র মৃত্যুর পরে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অভাবনীয় ক্ষতির মুখে পড়ে।
প্রযোজকরা লোকসান কমিয়ে আনতে সালমান শাহ'র মতো দেখতে কয়েকজন তরুণকে নিয়ে অসমাপ্ত সিনেমার কাজ সম্পন্ন করার জন্য উঠে-পড়ে লাগেন।
"পুরনো ঢাকার একটি ছেলেকে পেছন থেকে দেখতে সালমানের মতো মনে হয়। তার চুলের স্টাইল দেখতে পেছন দিকে থেকে সালমানের মতো। তখন তার ওপর পুরো ইন্ডাস্ট্রির দায়িত্ব পড়ে গেল। সালমানের অসমাপ্ত ছবিগুলোতে লং শট, ব্যাক টু ক্যামেরা, ওভার-দ্যা-শোল্ডার শটের মাধ্যমে সে ছেলেটাকে ব্যবহার করা শুরু হলো," বলেন শাহ আলম কিরণ।
সালমান শাহ'র মৃত্যুর সংবাদ দর্শকদের মনে এতটাই দাগ কেটেছিল যে এত বছর পরেও অনেকে তার প্রিয় নায়ককে ভুলতে পারেননি। সালমানের মৃত্যুর দুই দশকের বেশী পরেও তাকে নিয়ে দর্শকদের মাঝে আলোচনা থামেনি।
কিন্তু সালমান শাহ'র বিশেষত্ব কী ছিল? কেন তিনি এতোটা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন?
চলচ্চিত্র বিশ্লেষক এবং বেসরকারি ইনডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষক জাকির হোসেন রাজু মনে করেন, সালমান শাহ যে সময়টিতে অভিনয়ে এসেছিলেন, তখন ছিল বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে পালাবদলের সময়।
১৯৯২ সালে 'কেয়ামত থেকে কেয়ামত' সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে আসেন সালমান শাহ। জনপ্রিয় একটি হিন্দি সিনেমার অফিসিয়াল রিমেক ছিল 'কেয়ামত থেকে কেয়ামত'।
এ সিনেমাটি মুক্তির পর থেকেই চলচ্চিত্রে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেন সালমান।
পর্দায় তাঁর পোশাক-পরিচ্ছদ, সংলাপ বলার ধরন, অভিনয়-দক্ষতা - সবকিছু মিলিয়ে দর্শকের মনে স্থান করে নিতে সময় লাগেনি এ নায়কের।
বাংলাদেশের সিনেমায় তিনি 'রোমান্টিক হিরো' হিসেবে পরিচিত পান।
পরিচালক শাহ আলম কিরণ বলেন, "ও যাই করতো, সেটাই ভালো লেগে যেত। অল্প সময়ের মধ্যে এ ছেলেটা চলচ্চিত্রমোদীদের মনে জায়গা করে নিয়েছিল।"
মাত্র চার বছরে ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করে ১৯৯০'র দশকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে আলোড়ন তুলেছিলেন নায়ক সালমান শাহ। সাতাশটি সিনেমার বেশিরভাগই ছিল আলোচিত এবং ব্যবসা সফল।
চলচ্চিত্র বিশ্লেষক জাকির হোসেন রাজু বলছিলেন, ১৯৭০-৮০'র দশকের নায়কদের পরে চলচ্চিত্রে সালমানের আবির্ভাব এক ধরণের তারুণ্যের উচ্ছ্বাস তৈরি করেছিল।
প্রতিশ্রুতিশীল অভিনেতা
নায়ক রাজ্জাক, আলমগীর এবং ফারুকের পর সে সময় নতুন একদল তরুণ অভিনেতার আবির্ভাব হয়েছিল ঢাকার সিনেমা জগতে।
নব্বইয়ের দশকের প্রথম দিকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে যত নায়কের আবির্ভাব ঘটেছিল তাদের মধ্যে সালমান শাহ সবচেয়ে প্রমিজিং (প্রতিশ্রুতিশীল) ছিলেন বলে উল্লেখ করেন জাকির হোসেন রাজু।
তাঁর বর্ণনায়, সালমান শাহ'র অভিনয়ের মধ্যে দর্শক একটা ভিন্নধারা খুঁজে পেয়েছিল। অনেকে আবার সালমান শাহ'র মধ্যে বলিউড নায়কদের ছায়াও খুঁজে পেয়েছিলেন।
সালমান শাহকে নিয়ে আলোচনা কখনোই থামেনি।
মাত্র চার বছরের সিনেমা ক্যারিয়ারে সালমান শাহ বাংলা সিনেমার অভিনয় জগতে নিজের এমন একটি স্থানটি করে নিয়েছিলেন যে তাঁর অভাব এখনো অনুভব করেন দর্শক, পরিচালক, প্রযোজক - সবাই।
এখনো প্রতি বছর সালমান শাহ'র মৃত্যু দিবসে তাঁর অনেক ভক্ত তাঁকে স্মরণ করেন ভালোবাসার সঙ্গে।
আর সালমানের অনেক ভক্তের কাছে তাঁর মৃত্যু এখনো একটি বড় রহস্য হিসেবেই রয়ে গেছে।
ছবি : সংগৃহীত
নতুন ওয়েব ফিল্মে যুক্ত হয়েছেন ঢালিউড অভিনেত্রী পরীমণি। গিয়াস উদ্দিন সেলিমের পরিচালনায় নির্মিতব্য এই ওয়েব ফিল্মের নাম ‘সেপারেশন’। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে এর শুটিং। এতে পরীমণির বিপরীতে অভিনয় করছেন ইমতিয়াজ বর্ষণ।
বিশেষ একটি চরিত্রে দেখা যাবে চিত্রনায়ক নিরবকে। রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় বর্তমানে ওয়েব ফিল্মটির শুটিং চলছে।
গতকাল রোববার নিজের ফেসবুক পেজে শুটিংয়ের একটি ছবি প্রকাশ করে নতুন কাজটির খবর জানান পরীমণি। ছবিতে ‘বিসমিল্লাহ’ লেখার পাশাপাশি ‘সেপারেশন’ ও পরিচালক গিয়াস উদ্দিন সেলিমের নাম উল্লেখ করেছেন অভিনেত্রী।
গিয়াস উদ্দিন সেলিমের পরিচালনায় এর আগে ‘স্বপ্নজাল’ ও ‘গুণিন’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন পরীমণি। এবার এই নির্মাতার সঙ্গে ওয়েব ফিল্মে কাজ করছেন তিনি। তবে ‘সেপারেশন’-এ পরীমণির চরিত্র কিংবা গল্পের বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ইমতিয়াজ বর্ষণের চরিত্র নিয়েও মুখ খোলেননি নির্মাতা বা সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, রাজধানীর ৩০০ ফিটসহ বিভিন্ন লোকেশনে পর্যায়ক্রমে ‘সেপারেশন’-এর শুটিং হবে।
ওয়েব ফিল্মটি মুক্তি পাবে আইস্ক্রিনে। তবে কবে নাগাদ ‘সেপারেশন’ দর্শকের সামনে আসবে, তা এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
মারিয়া শান্ত, সারিকা সাবাহ ও সাদনিমা বিনতে নোমান
একই নাটকে এবার দেখা মিলতে যাচ্ছে এ সময়ের আলোচিত তিন তারকা সাদনিমা বিনতে নোমান, সারিকা সাবাহ ও মারিয়া শান্তর। যেখানে তুলে ধরা হচ্ছে এ তিন তারকার ভিন্ন রকম ভালোবাসার গল্প। নাটকের নাম ‘লাভ স্টোরিস’। ‘নীল সুখ’-এর পর আরও একবার ভালোবাসার গল্প পর্দায় তুলে ধরতে নাটকটি নির্মাণ করেছেন নন্দিত পরিচালক ভিকি জাহেদ।
এতে মারিয়া শান্তকে তিনি উপস্থাপন করেছেন তানিয়া নামের এক তরুণীর চরিত্রে। যে দমবন্ধকর জীবনে প্রতিনিয়ত কী যেন একটি সুর খুঁজে বেড়াচ্ছে। সাদনিমা বিনতে নোমানের অভিনীত রূপা চরিত্রটিতে দেখা যাবে জীবনের ঘাত-প্রতিঘাতে এ উপলদ্ধি করতে যে, সব আগন্তুক ভালোবাসা বয়ে আনে না, কারও আগমনে থাকে ভয়, কৌতূহল আর অজানা দুশ্চিন্তা।
অন্যদিকে সারিকা সাবাহর পর্দায় তুলে ধরা নাযাহ চরিত্রটির হাসিখুশি চেহারার পেছনে লুকিয়ে রাখা হয়েছে মন ভাঙার এক গল্প। এ তিনটি অভিনয়চরিত্র একেবারে নতুন বলে স্বীকার করেছেন মারিয়া, সাদনিমা ও সারিকা। তাদের কথায়, ভিকি জাহেদের কাজ অন্য সবার চেয়ে একেবারে আলাদা। ভালোবাসার গল্প নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রেও তাঁর বাছবিচারও চমকে দেওয়ার মতো। যে কারণে এ কাজটি নিয়ে তারা প্রচণ্ড আশাবাদী।
এ সময়ের আলোচিত তিনি তারকা সাদনিমা বিনতে নোমান, সারিকা সাবাহ ও মারিয়া শান্ত ছাড়াও ‘লাভ স্টোরিস’-এর বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন প্রান্তর দস্তিদার, সাদ নাওভী, ইয়ামিন প্রমুখ।
অভিনেতা-অভিনেত্রীদের কথায়, যেকোনো কাহিনি ও চরিত্র উপস্থাপনে ভিকি জাহেদ বারবার নতুনত্ব তুলে ধরার চেষ্টা করে আসছেন। যদিও ডার্ক থ্রিলার, মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব আর রহস্যময় গল্প এই নির্মাতার নাটক, টেলিছবিতে প্রাধান্য পেয়ে আসছে। ‘চিহ্ন’, ‘শব্দপ্রেম’, ‘তিথিডোর’, ‘কুয়াশা’, ‘ইরিনা’, ‘বাঁচিবার হলো তার সাধ’, ‘কাজলের দিনরাত্রি’, ‘দ্বিতীয় সূচনা’, ‘সেদিন ছিল শুক্রবার’, ‘খোয়াবনামা’, ‘অন্ধ বালক’, ‘প্রাকৃতজন’, ‘কালো বরফ’, ‘চোখ’, ‘মাজনু’, ‘ছন্দপতন’, ‘লাভারস ফুডভ্যান’, ‘কায়কোবাদ’, ‘চরের মাস্টার’, ‘ভুলজন্ম’, ‘পুনর্জন্ম’, ‘জন্মদাগ’, ‘চিরকাল আজ’ থেকে শুরু করে এ নির্মাতার অন্য কাজগুলোর দিকে নজর দিলে তার প্রমাণ মেলে।
এবার সেই জায়গা থেকে একটু সরে এসে নতুনভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন ভিকি জাহেদ।
‘লাভ স্টোরিস’ নিয়ে নির্মাতাদের ভাষ্য, মহাকালের কাছে মানুষের সবচেয়ে বড় অহংকার তার প্রেম, আবার সবচেয়ে বড় পরাজয়ও তার প্রেম! নিয়তি আর অনুভূতির এক জটিল গোলকধাঁধায় পথ হারানোর এক গল্প নিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে ভিন্নধাঁচের এ নাটকটি; যা দর্শকমনে দারুণভাবে ছাপ ফেলবে বলে আশা করছেন তারা। নাটকটি দর্শকের জন্য কে এস এন্টারটেইনমেন্টের ইউটিউব চ্যানেলে উন্মুক্ত করে দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রযোজক মুহামাদ কামরুজ্জামান।
মিমি চক্রবর্তী
ওপার বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীর বিয়ের গুঞ্জনে উত্তাল পুরো টলিপাড়া। ‘বোঝে না সে বোঝে না’ সিনেমা থেকে শুরু করে শাকিব খানের ‘তুফান’, দুই বাংলার দর্শকের মন জয় করা এই অভিনেত্রী এবার জীবনের এক নতুন অধ্যায় শুরু করছেন।
ভারতীয় একাধিক সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, চলতি বছরের শেষেই জীবনের নতুন এই ইনিংস শুরু করতে পারেন অভিনেত্রী।
টলিপাড়ার এক সূত্র বলছে, আগামী ডিসেম্বর মাসেই নাকি বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চলেছেন মিমি চক্রবর্তী। চোখজুড়ানো পাহাড়ের কোলে কালিম্পংয়েই বসতে পারে তার বিয়ের জমকালো আসর।
কাকে বিয়ে করছেন নায়িকা? শোনা যাচ্ছে, তিনি ইন্ডাস্ট্রির কেউ নন; ভারতের নৌবাহিনীতে কর্মরত। নাম সিদ্ধার্থ। এটাই আপাতত গুঞ্জন।
২০১২ সালে ‘বাপি বাড়ি যা’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেছিলেন মিমি চক্রবর্তী। গতানুগতিক ছকের বাইরে গিয়ে নিজের অভিনয় দক্ষতা দিয়ে দর্শকের নজর কাড়েন। এরপর ‘বোঝে না সে বোঝে না’ সিনেমা তাকে এনে দেয় তুমুল জনপ্রিয়তা। অভিনয়ে সফলতার পর ২০১৯ সালে রাজনীতির ময়দানে পা রাখেন এবং যাদবপুর কেন্দ্র থেকে লোকসভা নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সাংসদ হন।
বর্তমানে সৃজিত মুখার্জির ‘এম্পারার ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ সিনেমা এবং নতুন একাধিক কাজের শুটিং নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন মিমি। আগামী দুর্গাপূজাতেই প্রেক্ষাগৃহে আসবে তার নতুন এই ছবি। পেশাগত এত সব ব্যস্ততার আড়ালেই নিঃশব্দে বিয়ের প্রস্তুতি চলছে বলে দাবি বিনোদন জগতের বড় একটি অংশের। ভক্তদের ধারণা, খুব শিগগিরই নিজ মুখে এই সুখবর আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবেন মিমি।
রিভেঞ্জ ড্রেসে প্রিন্সেস ডায়ানা
ব্রিটিশ রাজপরিবারের ইতিহাসে অন্যতম জনপ্রিয়, প্রভাবশালী এবং মানবতাবাদী সদস্য প্রয়াত প্রিন্সেস ডায়ানার বহুল আলোচিত কালো গাউনটি (রিভেঞ্জ ড্রেস) প্রায় ৩০ বছর পর আবারও নিলামে উঠতে যাচ্ছে। বিখ্যাত এ পোশাকটির মূল্য ধরা হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ মার্কিন ডলার। পোশাকটিকে ডায়ানার আত্মবিশ্বাস ও স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে ভাবা হয়।
গ্রিক ডিজাইনার ক্রিস্টিনা স্টাম্বোলিয়ানের নকশা করা কালো রঙের অফ-দ্য-শোল্ডার সিল্কের এ বিশেষ গাউনটি ১৯৯৪ সালে ভ্যানিটি ফেয়ার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পরেছিলেন লেডি ডায়ানা স্পেন্সার (প্রিন্সেস ডায়না)। ওই রাতেই ডায়ানার সাবেক স্বামী এবং তৎকালীন প্রিন্স অব ওয়েলস চার্লস প্রকাশ্যে স্বীকার করেন যে, তিনি বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। এর পর থেকেই ডায়ানার ওই পোশাকটি পরিচিতি পায় ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’ বা ‘প্রতিশোধের পোশাক’ নামে।
এ বছর ৯ ডিসেম্বর নিউইয়র্কে সোথবির আয়োজনে বিশেষ ফ্যাশন নিলামে পোশাকটি তোলা হবে। এটি হবে প্রিন্সেস ডায়ানাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত একটি স্বতন্ত্র ফ্যাশন নিলামের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।
নিলামকারী সংস্থা সোথবির ভাষ্য অনুযায়ী, ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’ বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে স্মরণীয় ও পরিচিত ফ্যাশন মুহূর্তগুলোর একটি। পোশাকটি পরা ডায়ানার ছবি বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যমে অসংখ্যবার প্রকাশিত হয়েছে।
সোথবির জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগ শুরু হওয়ারও আগে এবং তারকাদের ছবি মুহূর্তের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ তৈরি হওয়ার আগে ডায়ানা একটি গাড়ি থেকে নেমেই যেন একটি ‘ভাইরাল ফ্যাশন মুহূর্ত’ তৈরি করেছিলেন।
নিউইয়র্কে নিলামে ওঠার আগে প্রিন্সেস ডায়ানার ঐতিহাসিক পোশাকটি লন্ডন, হংকং ও জেনেভায় প্রদর্শন করা হবে বলে জানিয়েছে ফ্যাশন ম্যাগাজিন ভোগ।
সূত্র : ওয়াশিংটন পোস্ট
অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন
ইতালির ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে গিয়ে হামলার শিকার হওয়ার পর নিজের কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা ও পাশে থাকা মানুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। গতকাল বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে বাঁধন তার ফেসবুকে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘জীবন যখন কঠিন সময়ের মুখোমুখি করে, তখন সবসময় মনে রাখবেন অন্য প্রান্তে হয়তো আপনার জন্য সুন্দর কিছু অপেক্ষা করছে।’
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ চলচ্চিত্রের এই অভিনেত্রী বলেন, ‘কী দীর্ঘ এক যাত্রা ছিল এটি! এমন এক যাত্রা, যেখানে ছিল কঠিন সব মুহূর্ত; ছিল অপমান, হয়রানি, শারীরিকভাবে আক্রান্ত হওয়া, এমনকি নিজের মানুষদের কাছ থেকেই পরিত্যক্ত হওয়ার অনুভূতি। কিন্তু এত কিছুর মধ্যেও আমি একটি গভীর সত্য উপলব্ধি করেছি কখনো কখনো সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত জায়গা থেকেই আসে সবচেয়ে বড় সমর্থন।’
কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানোর জন্য বাংলাদেশ ও ইতালি সরকার, ইতালিতে বাংলাদেশ দূতাবাস, ইতালিয়ান পুলিশ এবং উৎসব কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান বাঁধন।
তিনি বলেন, ‘যখন আমার সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা ও সমর্থনের প্রয়োজন ছিল, তখন আপনারা আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন।’
নিজের কিছু মানুষ যখন দূরে সরে গিয়েছিল, তখন এসব প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিই তার শক্তি ও সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠেছিল বলেও জানান এই অভিনেত্রী। পাশাপাশি যারা তার পাশে দাঁড়িয়েছেন, খোঁজ নিয়েছেন, দোয়া করেছেন কিংবা একটি ভালো কথা বলেছেন, তাদের প্রত্যেকের প্রতিও হৃদয়ের গভীর থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বাঁধন।
সবশেষে আজমেরী হক বাঁধন লেখেন, ‘আমি আপনাদের সবাইকে ভালোবাসি।’
৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতেই ইতালিতে গেছেন বাঁধন।
গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাতে ভাই ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয় একটি পার্কে গেলে সেখানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কিছু কর্মী-সমর্থক তার ওপর হামলা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ করেন বাঁধন।
ঘটনার পর তার পাশে দাঁড়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস ও স্থানীয় প্রশাসন। একই সঙ্গে দেশে-বিদেশে অসংখ্য মানুষ ঘটনার প্রতিবাদ জানান এবং অভিনেত্রীর প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেন।
জেনিফার উইনগেট।
বিয়ে মানেই কি অভিনয় থেকে দূরে সরে যাওয়া? অনেক অভিনেত্রীকেই এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে। এবার একই প্রশ্নের মুখে পড়লেন অভিনেত্রী জেনিফার উইনগেট।
সম্প্রতি বিয়ের পর কাজের অগ্রাধিকার ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি।
আসন্ন ওয়েব সিরিজ ‘শক: ট্রাস্ট নো ওয়ান’-এর প্রচারে গিয়ে জেনিফার জানান, বিয়ের পর জীবনের অগ্রাধিকার কিছুটা বদলেছে ঠিকই, তবে অভিনয় কিংবা কাজের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
গত ১৬ জুলাই প্রবাসী ব্যবসায়ী উইলিয়াম ইসমাইলের সঙ্গে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন জেনিফার। বিয়ের পর কাজের ক্ষেত্রে তার অগ্রাধিকার বা দৃষ্টিভঙ্গিতে কোনো পরিবর্তন এসেছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে অভিনেত্রী বলেন,‘কিছুই বদলায়নি। আমি শুধু বিয়ে করেছি। বাকি সব একই আছে।’
জীবনে ভারসাম্য বজায় রাখতেই বিশ্বাসী জেনিফার। কাজের পরিবেশ এবং সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্কও তার কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। অভিনেত্রীর ভাষায়, কিছু মানুষ জীবনে ভারসাম্য পছন্দ করেন, তিনিও তাদেরই একজন।
টেলিভিশন কিংবা ডিজিটাল- যে মাধ্যমেই কাজ করুন না কেন, সহকর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক ও স্বচ্ছন্দ পরিবেশকে গুরুত্ব দেন জেনিফার। একই মানুষদের সঙ্গে বারবার কাজ করার কারণও জানিয়েছেন তিনি।
তার মতে, পরিচিত মানুষদের সঙ্গে কাজ করলে একটি স্বচ্ছন্দ পরিবেশ তৈরি হয়। একে অপরকে বুঝতে সুবিধা হয়। কে কী করবেন কিংবা কী করবেন না, সেটিও অনেকটা আগে থেকেই জানা থাকে। ফলে কাজের জায়গায় বোঝাপড়া আরও সহজ হয়।
তবে বিয়ের পর জীবনের অগ্রাধিকার কিছুটা বদলেছে বলে স্বীকার করেছেন জেনিফার। কাজের প্রয়োজনে তাকে এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাতায়াত করতে হচ্ছে। কখন কোথায় থাকতে হবে, কাজের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন কীভাবে সামলাবেন- এসব বিষয় এখন আগের চেয়ে কিছুটা বেশি ভাবতে হচ্ছে তাকে।
তবুও নতুন জীবন নিয়ে এখন পর্যন্ত তার অভিজ্ঞতা বেশ ভালো বলেই জানিয়েছেন অভিনেত্রী। পাশাপাশি ভক্তদের ভালোবাসা ও শুভেচ্ছার জন্যও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি।
এদিকে জেনিফার বর্তমানে ব্যস্ত তার নতুন ওয়েব সিরিজ ‘শক: ট্রাস্ট নো ওয়ান’-এর প্রচারে। রহস্য-রোমাঞ্চ ঘরানার এ সিরিজে তার সঙ্গে অভিনয় করেছেন পরিণীতি চোপড়াসহ আরও অনেকে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে সিরিজটির।