‘কৃষকদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশের হাওর অঞ্চলে বিদ্যমান পতিত-বোরো-পতিত ফসল ক্রমে সরিষা প্রবর্তন ’ প্রকল্পটি ২০২৩ সাল হতে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার হাওর অঞ্চলে পরিচালিত হচ্ছে

  • প্রকাশ : সোমবার ০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৮:০০ এএম

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অঞ্চল প্রতিবছরই কৃষি ঝুঁকির মুখে পড়ে। বর্ষাকালে সম্পূর্ণ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এখানকার প্রধান ফসল বোরো ধান আগাম বন্যা, শিলাবৃষ্টি ও ঠান্ডাজনিত চাপের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এই পরিস্থিতিতে হাওর অঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি সরিষা চাষ নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর ও বোরো রোপণের আগের পতিত সময়ে সরিষা আবাদ করলে কৃষকরা অতিরিক্ত ফসলের পাশাপাশি আর্থিক ঝুঁকি কমাতে পারবেন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) এক গবেষণায় উঠে এসেছে এ তথ্য।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার কুড়ারকান্দি এলাকায় প্রকল্পের মাঠ দিবসে গবেষণার ফল তুলে ধরেন প্রধান গবেষক বাকৃবির কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মমিনুল ইসলাম। ‘কৃষকদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশের হাওর অঞ্চলে বিদ্যমান পতিত–বোরো–পতিত ফসল ক্রমে সরিষা প্রবর্তন’ প্রকল্পটি ২০২৩ সাল থেকে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেমের (বাউরেস) তত্ত্বাবধানে এবং সিটি ব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

কৃষিতত্ত্ব বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. আহমদ খায়রুল হাসানের সভাপতিত্বে মাঠ দিবসে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি রিসার্চ সিস্টেমের (বাউরেস) পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. হাম্মাদুর রহমান, বাউরেসের সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. পরেশ কুমার সাহা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওবায়দুল ইসলাম খান অপু এবং অতিরিক্ত উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহাবুব আলমসহ স্থানীয় কৃষকবৃন্দ।

গবেষকবৃন্দ জানান, এই অঞ্চলে উচ্চফলনশীল বোরো ধান উৎপাদনের প্রধান বাধা হলো আগাম বন্যা, শিলাবৃষ্টি ও খরা। বোরো ধান চাষে আরেকটি বড় সমস্যা হলো ঠান্ডাজনিত চাপ। যদি ডিসেম্বরের আগে বোরো ধান রোপণ করা হয়, তবে প্রজনন পর্যায়ে (ফুল আসার সময়) ঠান্ডার কারণে শীষে দানা বন্ধ্যা হয়ে যায়। অন্যদিকে ডিসেম্বরের পরে রোপণ করলে বেশিরভাগ সময় ধান পাকতে পাকতেই আগাম আকস্মিক বন্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ফলে হাওর অঞ্চলে বোরো ধান উৎপাদন এক ধরনের জলবায়ু ঝুঁকির মধ্যে পড়ে থাকে। এই সংকট মোকাবিলায় বিকল্প ও নিরাপদ শস্যক্রম খুঁজে বের করা জরুরি হয়ে উঠেছে। হাওর অঞ্চলে সবচেয়ে প্রচলিত শস্যক্রম হলো পতিত–বোরো–পতিত, যা মোট আবাদি জমির প্রায় ৪০ শতাংশ জুড়ে রয়েছে। ফলে রবি মৌসুমে বিপুল জমি পতিত পড়ে থাকে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর এবং বোরো ধান রোপণের আগের সময়টুকুতে স্বল্পমেয়াদি সরিষা চাষের মাধ্যমে একটি অতিরিক্ত ফসল অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব। এতে কৃষকরা অন্তত একটি ফসল নিশ্চিতভাবে ঘরে তুলতে পারবেন, এমনকি বোরো ধান যদি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তও হয়।

তারা আরও জানান, কিশোরগঞ্জ জেলার ১৩টি উপজেলার মধ্যে চারটি উপজেলা—ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম ও নিকলী—সম্পূর্ণভাবে হাওরবেষ্টিত এবং আরও পাঁচটি উপজেলা আংশিকভাবে হাওর অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। এসব এলাকার মানুষ প্রধানত কৃষিনির্ভর এবং জীবিকার জন্য পুরোপুরি কৃষিজমির ওপর নির্ভরশীল। হাওর এলাকার কৃষকরা তাদের বোরো ফসলকে অনেক সময়ই “ভাগ্যের ফসল” হিসেবে বিবেচনা করেন, কারণ প্রায় কয়েক বছর পরপর ধান পাকতে শুরু করার সময় আকস্মিক বন্যা দেখা দেয় এবং সম্পূর্ণ ফসল নষ্ট হয়ে যায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বন্যার আক্রমণ আরও অনিয়মিত ও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। ফলে কৃষি উৎপাদনে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে এবং এর প্রভাব জাতীয় অর্থনীতিতেও গুরুতরভাবে পড়ছে। স্বাধীনতার পর ১৯৭৪, ১৯৮৮, ১৯৯৮, ২০০৪, ২০১০ এবং সর্বশেষ ২০১৭ সালের ভয়াবহ বন্যা হাওর অঞ্চলে অপূরণীয় ক্ষতির সৃষ্টি করেছে। এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে প্রকল্পটি বিগত প্রায় তিন বছর যাবৎ পরিচালিত হচ্ছে।

গবেষণার বিষয়ে তারা বলেন, গবেষণার প্রথম বছর (২০২৩–২০২৪) বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি), বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) ও বাংলাদেশ পরমাণু গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) উদ্ভাবিত ছয়টি স্বল্পমেয়াদি সরিষার জাত তিনটি বপন সময়ে (১০, ২০ ও ৩০ নভেম্বর) পরীক্ষা করা হয়। ফলাফলে দেখা যায়, ২০ নভেম্বর বপনে বিনা সরিষা–৯ সর্বোচ্চ ফলন দেয়, যার কাছাকাছি ফলন দেয় বারি সরিষা–১৭। সরিষার পরবর্তী ধান (ব্রি ধান–১০০) গড়ে ৬.২ টন প্রতি হেক্টরে ফলন দেয়, যা শস্যক্রমকে লাভজনক হিসেবে তুলে ধরে। দ্বিতীয় বছর (২০২৪–২০২৫) গবেষণায় নির্বাচিত দুটি জাত—বিনা সরিষা–৯ ও বারি সরিষা–১৭—কে বিভিন্ন সার ও বীজহার ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা করা হয়। প্রস্তাবিত বীজহার (৮ কেজি প্রতি হেক্টর) ও সারমাত্রা (১০০ শতাংশ) প্রয়োগে সর্বোচ্চ ফলন পাওয়া গেছে বিনা সরিষা–৯ থেকে। সরিষার পর হাইব্রিড বোরো ধান (সবুজ সাথী) গড়ে ৬.৪ টন প্রতি হেক্টরে ফলন দেয় এবং পুরো শস্যক্রমে ধান সমতুল্য ফলন দাঁড়ায় ১০.১ টন প্রতি হেক্টর। গবেষণার তৃতীয় বছর (২০২৫–২০২৬) বর্তমানে চলমান। আমরা আশা করি, এটি বাস্তবায়িত হলে হাওর অঞ্চলে কৃষি উৎপাদন ও কৃষকের আয় দুটোই বাড়বে এবং জলবায়ু ঝুঁকির মধ্যেও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

গবেষকরা জানান, হাওর অঞ্চলে সরিষা চাষের প্রধান প্রতিবন্ধকতা হলো প্রতি বছর একই সময়ে পানি না নামায় বপনের সময় নির্ধারণে জটিলতা। এছাড়া হাওরের সব জমি সরিষা চাষের উপযোগী নয়—উঁচু ও মাঝারি উঁচু বা কান্দা এলাকার জমিই তুলনামূলকভাবে বেশি উপযোগী। অক্টোবরের শেষ ও নভেম্বরের শুরুতে অনাকাঙ্ক্ষিত বৃষ্টিও সরিষার বপন ও প্রাথমিক বৃদ্ধিতে বড় বাধা সৃষ্টি করে।

এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গবেষকরা আরও স্বল্পমেয়াদি ও দ্রুত পরিপক্ব সরিষার জাত উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী জমি থেকে সেচের পানি ঢুকে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জমির ধরন ও ঝুঁকি বিবেচনায় কৃষকদের একত্রিত করে কমিউনিটি ফার্মিং চালুর পরামর্শ দেন তারা।

এবার গবেষণার অংশ হিসেবে দেওয়া বিনা সরিষা–৯ চাষ করেছেন হাসন রাজা। তিনি জানান, হাওরের কিছু উঁচু জায়গা রয়েছে। এসব জায়গায় পানি আসে না। আগে ভুট্টা চাষ করতাম, কিন্তু ক্ষতি হওয়ায় এখন সরিষা করছি। লাভের আশা করছি। এখন আমাদের দেখাদেখি অনেকেই সরিষা চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছে। হাওরে এখন সরিষা নতুন ফসল হিসেবে প্রচলিত হচ্ছে।

নজরুল ইসলাম নামের আরেকজন কৃষক বলেন, আমি তিন বছর যাবৎ সরিষা চাষ করি এবং সরিষার তেল ব্যবহার করছি। আমার নিজেরই গ্যাসের সমস্যা ছিল, সরিষার তেল ব্যবহার করে এখন সমাধান হয়েছে। নিজে সরিষা ভাঙিয়ে স্বাস্থ্যকর তেল ব্যবহার করতে পারছি—এটাই বড় লাভ বলে আমি মনে করি।

অতিরিক্ত উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহাবুব আলম বলেন, আমরা হাওরের উন্নয়নে অত্যন্ত আন্তরিক। আমরা ঘোষণা করেছি যে এখানে কোনো কৃষক যদি ধানের পরিবর্তে সরিষা চাষ করতে চান, তাহলে আমরা বিনামূল্যে বীজ ও সার দেব। সরিষা স্বাস্থ্যের জন্য যেমন উপযোগী, অন্যদিকে সরিষার উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে দেশ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে। সরিষা মাটির উর্বরতাও বৃদ্ধি করে। এজন্য যত্ন সহকারে সরিষা চাষে গুরুত্ব দিতে হবে।

বাকৃবি রিসার্চ সিস্টেমের (বাউরেস) পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. হাম্মাদুর রহমান বলেন, ১৫ বছরে হাওরের অনেক কিছু পরিবর্তন হয়েছে। আগে শুধু ধান চাষ হতো, এখন ভুট্টা ও সরিষাও হচ্ছে। জমিকে যত বেশি ব্যবহার করা যাবে, ততই বেশি পাওয়া যাবে। শুধু ধান চাষ করে বসে থাকলে হবে না; বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজিও সঙ্গে চাষ করতে হবে। সরিষার চাষ এখন হাওরে লাভের মুখ দেখছে। এ গবেষণার মাধ্যমে হাওরের সরিষা সারা দেশে বিস্তার লাভ করবে বলে আশা করছি।




  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:০০ পিএম

আগামী ২৪ জানুয়ারি আয়োজিত হতে যাওয়া নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ৩য় সমাবর্তনে ২০১৪-১৫ থেকে ২০২০-২১ সেশন পর্যন্ত যে সকল শিক্ষার্থী মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের পরিবারকে বিশেষ মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান করবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।


মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য নিশ্চিত করেন নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।

উপাচার্য বলেন, ‘সমাবর্তন শুধু সনদ বিতরণের অনুষ্ঠান নয়, এটি পুরো নোবিপ্রবি পরিবারের মিলনমেলা। এই দীর্ঘ সময়ে আমরা আমাদের যে সকল প্রিয় শিক্ষার্থীকে হারিয়েছি, তাঁদের স্মৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে অমলিন। সমাবর্তনের মূল আয়োজনে ১০ম থেকে ১৬তম ব্যাচের প্রয়াত শিক্ষার্থীদের স্মরণে তাঁদের পরিবারের হাতে মরণোত্তর সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে।’


তিনি আরও জানান, সমাবর্তন উৎসবমুখর ও সুশৃঙ্খল করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। নিবন্ধনের সার্বিক অগ্রগতি এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার বিষয়েও প্রশাসন ইতিবাচক দৃষ্টি রাখছে।


জবিতে খালেদা জিয়ার ছবি বিকৃতিকারীকে আটক ও পুলিশে সোপর্দ

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:২৮ পিএম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক আহ্বায়ক সাখাওয়াতুল ইসলাম খান পরাগের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের পাশের দেয়ালে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ছবিতে বিকৃতিকারী এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।


গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত পৌনে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের পাশে এ ঘটনা ঘটে।


জানা যায়, আটককৃত ব্যক্তি চাঁদপুর থেকে ঢাকায় এসেছেন এবং জাতীয় পার্টির দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন বলে জানিয়েছেন। 


প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে রিকশা থেকে নামার সময় দেয়ালে থাকা বেগম খালেদা জিয়ার ছবিতে এক ব্যক্তিকে কিছু লাগাতে দেখা যায়। এ সময়ে জবি ছাত্রদল নেতা পরাগের নেতৃত্বে কয়েকজন নেতাকর্মী এবং নিরাপত্তাকর্মী দ্রুত এগিয়ে গিয়ে তাকে আটক করেন এবং নিরাপত্তা বক্সে নিয়ে যান।


জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তি জানান, তিনি চাঁদপুর থেকে ঢাকায় এসেছেন। জাতীয় পার্টির দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম চৌধুরীর সঙ্গে বিশেষ প্রয়োজনে দেখা করতে এসেছেন বলেও দাবি করেন। তার সঙ্গে কোনো মোবাইল ফোন বা মানিব্যাগ ছিল না বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। পরে পরাগ থানায় যোগাযোগ করলে পুলিশ এসে তাকে নিয়ে যায়।


এ বিষয়ে জবি ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক সাখাওয়াতুল ইসলাম খান পরাগ বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাদের রেডলাইন। বেগম খালেদা জিয়ার ছবি বিকৃতি করায় অজ্ঞাতনামা ফ্যাসিস্টদের সহযোগী এই ব্যক্তিকে ধরে পিটিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেই।


তিনি আরও বলেন, "সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছবি বিকৃতির বিষয়টি অত্যন্ত নিন্দনীয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আমরা চাই, ঘটনার সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসুক এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।"


এদিকে আটককৃত ব্যক্তির বিস্তারিত পরিচয়, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ঘটনায় পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে কোতোয়ালি থানার ওসি কে এম রবিউল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


নোবিপ্রবিতে বিটিসি ও এমআইএস ডে’র উদ্বোধন অনুষ্ঠিত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:২৬ পিএম

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস্ (এমআইএস) বিভাগের আয়োজনে দুই দিনব্যাপী ‘বিটিসি ও এমআইএস ডে ২০২৬' এর উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।


এ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।


নোবিপ্রবি বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।




অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস্ এমন একটি সমন্বিত ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ ও যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হয়। আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই এমআইএসের গুরুত্ব অপরিসীম। বর্তমানে শুধু তথ্য সংগ্রহ করাই যথেষ্ট নয়, বরং তথ্যকে বিশ্লেষণ করে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।


উপাচার্য আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিগ ডেটা, ক্লাউড কম্পিউটিং ও ডিজিটাল অটোমেশনের এই সময়ে এমআইএসের জ্ঞান নতুন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে। নোবিপ্রবির এমআইএস বিভাগের শিক্ষার্থীরাও তাদের অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের ডিজিটাল রূপান্তর, ব্যবসায়িক উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা করছি।


বক্তব্যে এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা, সৃজনশীলতা ও নতুন কিছু উদ্ভাবনে উৎসাহিত করবে বলে উল্লেখ করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।


অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস্ (এমআইএস) বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. জিয়াউল হক। এ সময় এমআইএস সহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


প্রসঙ্গত, আয়োজনের প্রথম দিন থাকছে, পোস্টার প্রেজেন্টেশন, প্রোগ্রামিং, ই-গেমিং ও বিজনেস কেস প্রতিযোগিতা। দ্বিতীয় দিনে রয়েছে ‘ইন্টারন্যাশনাল কলোকোইয়াম অব বিজনেস এন্ড টেকনোলজি’ প্রতিপাদ্যে কি-নোট স্পিকারদের প্রেজেন্টেশন ও টেকনিক্যাল সেশন। এতে কি-নোট স্পিকার হিসেবে রয়েছেন হালিমা গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল কালাম হাসান, কুমিল্লা বার্ডের উপ-পরিচালক অসীম কুমার সরকার ও থ্রাইভিং স্কিলস লিমিটেডের ফাউন্ডার এন্ড সিইও মো. আবদুল্লাহ আল মাহমুদ। বিশ^বিদ্যালয়ের এমআইএস নেট এর উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের স্পন্সর হিসেবে রয়েছে হালিমা গ্রুপ।


শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৫৭ পিএম

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে প্রতিদিন বেলা ১১টার পর কোনো ক্লাসে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।


পুরোনো গবেষণার মাঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মতবিনিময় সভা শেষে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।


সভা শেষে শিক্ষার্থীরা জানান, পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পর্যায়ের পরীক্ষা বর্জন করবেন তারা। পাশাপাশি প্রতিদিন বেলা ১১টার পর কোনো ক্লাসেও অংশ নেবেন না।




আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ওয়াসিউল হাসান সরকার বলেন, আন্দোলন আরও বেগবান করতে আজ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে তিন দিনের সময় দিয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল। ওই সময়ের মধ্যে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে বলা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।




পুরোনো গবেষণার মাঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। মাঠটিতে সচিবালয় স্থাপনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তারা মানববন্ধন, বিক্ষোভ, অবস্থান ও সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গা এবং সেখানে কৃষিবিষয়ক গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যলয়ের কাছে দেওয়া হোক। মাঠটি সচিবালয়ের জন্য ব্যবহার করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের পাশে সচিবালয় স্থাপিত হলে ভবিষ্যতে নানা সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।


এদিকে গত বুধবার পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে নির্মাণাধীন দুটি মেলার স্থাপনা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মেলা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। তবে গবেষণার মাঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।



  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৫১ পিএম

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ১৮ সদস্যবিশিষ্ট এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।


গত রোববার (১ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের কার্যক্রম পুনর্গঠনের লক্ষ্যে আয়োজিত সাধারণ সভায় এ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বর্তমানে অ্যাসোসিয়েশনের কোনো কার্যকর কমিটি না থাকায় সভায় উপস্থিত সদস্যরা একটি এডহক কমিটি গঠনে সম্মত হন। কমিটির সাচিবিক দায়িত্ব পালনের জন্য কৃষিবিদ শেখ কামরুল হাসানকে মনোনীত করা হয়।


কৃষিবিদ আনোয়ারুল নবী মজুমদারের (বাবলা) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রবীণ ও নবীন কৃষিবিদ নেতৃবৃন্দের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে ১৮ সদস্যের এ কমিটি গঠন করা হয়।


কমিটির সদস্যরা হলেন কৃষিবিদ রাশিদুল হাসান হারুন, কৃষিবিদ ড. কামরুজ্জামান কায়সার, কৃষিবিদ ড. সারোয়ার হোসেন, কৃষিবিদ ড. নাজমুল আমিন মজুমদার, কৃষিবিদ ড. খন্দকার মাহফুজুল হক (বাচ্চু), কৃষিবিদ খন্দকার আসাদুজ্জামান কিটন, কৃষিবিদ ড. এম. সালাহউদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী, কৃষিবিদ ড. নাহিদ জেবা, কৃষিবিদ চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল ফারুক, কৃষিবিদ ড. মাসুদুল হক ঝন্টু, কৃষিবিদ ড. এফ. এম. আমিনুজ্জামান, কৃষিবিদ মোহাম্মদ আবুল বাশার, কৃষিবিদ আবু হেনা মোস্তফা কামাল পান্না, কৃষিবিদ সাইফুল্লা আজাদ, কৃষিবিদ ড. মোহা. আশাবুল হক আশা এবং কৃষিবিদ মোকাদ্দিছুল মোমিন মিঠুন।


সভায় সিদ্ধান্ত হয়, এডহক কমিটির সদস্যরা নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের কার্যকর কমিটি গঠন করবেন।


সভায় গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধার স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এম. সালাহউদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে স্বাগত জানান। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের অবস্থান এবং গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধারের সার্বিক পরিস্থিতি সভায় উপস্থিত সদস্যদের সামনে তুলে ধরেন। পরে কৃষিবিদ নেতৃবৃন্দের বক্তব্য ও বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধারের বিষয়ে কয়েকটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।



ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৩১ এএম

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এমবিবিএস ও বিডিএস কোর্সে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ দিচ্ছে পাকিস্তান। পাকিস্তান সরকারের বৃত্তিমূলক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে মোট ২৫ জন বাংলাদেশি এ সুযোগ পাবেন। আগ্রহী শিক্ষার্থীদের ১৬ নভেম্বর ২০২৬–এর মধ্যে আবেদনপত্র জমা দিতে হবে।


শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পাকিস্তান সরকার পাকিস্তান টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম সেশনের (২০২৬-২৭) অধীনে পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এমবিবিএস ২০টি ও বিডিএস ৫টি কোর্সে ভর্তির ঘোষণা দিয়েছে। 


এই প্রোগ্রামের আবেদনপত্র এবং বিস্তারিত তথ্য মিনিস্ট্রি অব ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্সের ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করা যাবে। সম্পূর্ণ আবেদনপত্র ১৬ নভেম্বরের মধ্যে ঢাকার পাকিস্তান হাইকমিশনে পাঠাতে হবে।