ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি।
রাজধানীর সাত সরকারি কলেজের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা ব্যবস্থাপনায় ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি গঠন করে অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার। খসড়া অধ্যাদেশের প্রস্তাবের মত সাতটি কলেজকে চারটি স্কুলে বিভক্ত না করে চূড়ান্ত অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, কলেজগুলোর স্বকীয়তা বজায় রেখে একাডেমিকভাবে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির সঙ্গে যুক্ত থাকবে।
আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় রোববার 'ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ, ২০২৬ গেজেট আকারে প্রকাশ করে।
এ অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ এবং সরকারি তিতুমীর কলেজের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা ব্যবস্থাপনায় নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গঠিত হল। কলেজগুলোর শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে এ বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়নের অপেক্ষায় ছিলেন।
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, সাতটি কলেজের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমের পাঠ্যক্রম, শিক্ষক, সনদায়নসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনায় নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টি গঠন করা হচ্ছে।
এ অধ্যাদেশের বিধান অনুযায়ী ঢাকায় ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্বয়ংসম্পূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় সুবিধা সম্বলিত স্থায়ী ক্যাম্পাস তৈরি করা হবে। তবে স্থায়ী ক্যাম্পাস তৈরি না হওয়া পর্যন্ত ভবন ও জায়গা ভাড়া করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
সাতটি কলেজ ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির সংযুক্ত কলেজ হিসাবে থাকবে। সংযুক্ত কলেজগুলোর পরিচয়, বৈশিষ্ট্য, অবকাঠামো, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ও অন্যান্য বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা অক্ষুণ্ণ থাকবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য, উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, ট্রেজারার, সিনেট, সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্যদের সমন্বয়ে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি নামে এই স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান গঠিত হবে।
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির দায়িত্ব ও ক্ষমতা নিয়ে অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় ও সংযুক্ত কলেজে শিক্ষাদানের জন্য পাঠ্যক্রম নির্ধারণ ও পরীক্ষা গ্রহণ; জ্ঞান-বিজ্ঞানের যে কোনো শাখায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষাদান, গবেষণা, জ্ঞানের সৃজন, উৎকর্ষ সাধন ও বিতরণের ব্যবস্থা করা; কর্মদক্ষ জনসম্পদ সৃষ্টির জন্য, আধুনিক প্রযুক্তি, পেশা, বৃত্তি ও অর্থনৈতিক চাহিদার ভিত্তিতে উচ্চশিক্ষার নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের কোর্স প্রণয়ন ও পরিচালনা করা; আর বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের কোনো কোর্স শেষ করা ব্যক্তিদের অধ্যয়নকৃত বা গবেষণাকৃত বিষয়বস্তুর মূল্যায়ন করা এবং ডিগ্রি, ডিপ্লোমা, সার্টিফিকেট দেওয়া; সম্মানসূচক ডিগ্রি বা অন্য কোনো সম্মাননা দেওয়া।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনে প্রভাষক, সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, অধ্যাপক, সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ও এমিরেটাস অধ্যাপকের পদসহ গবেষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর যে কোনো পদ সৃষ্টি করা এবং সংশ্লিষ্ট সিলেকশন বোর্ডের সুপারিশ শেষে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা রাখবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, কলেজগুলোর প্রশাসনিক প্রধান পদে থাকবেন অধ্যক্ষরা। আর ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রধান হবেন উপাচার্য। সংযুক্ত কলেজগুলো শিক্ষকরা কলেজ শিক্ষক এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা শুধু শিক্ষক হিসেবে অবিহিত হবেন।
সংযুক্ত কলেজসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমের সাথে সম্পর্কিত সব শিক্ষাদান ও গবেষণা কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করবে। শিক্ষাদানের মধ্যে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক, প্রভাষক ও অন্যান্য শিক্ষকদের দেওয়া বক্তৃতা, পরীক্ষাগার বা কর্মশালায় কার্যক্রম, টিউটোরিয়াল, ভার্চুয়াল এবং অন্যান্য শিক্ষাদান অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পাঠ্যক্রম, পাঠ্যসূচি ও শিক্ষাদান পদ্ধতি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল নির্ধারণ করবে।
পূর্বাপর
এক সময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত থাকা এ কলেজগুলোকে ২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়েছিল। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ তুলে কলেজগুলোর শিক্ষার্থীরা আলাদা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি তোলেন।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ‘ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানে’ সরকার পরিবর্তনের পর সে আন্দোলন আরও বেগবান হয়। সাত কলেজের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সমকক্ষ একটি স্বতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর রূপরেখা প্রণয়নে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যানকে প্রধান করে চার সদস্যের উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি কলেজগুলোর অধিভুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, তখন এ কলেজগুলোতে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির প্রক্রিয়া চলছিল। পরে অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠন করে কলেজগুলোতে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়।
ইউজিসি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপরেখা প্রস্তাব করে। তার ভিত্তিতে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশের খসড়া প্রকাশ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়
খসড়ায় সাতটি কলেজকে চারটি স্কুলে বিভক্ত করে ‘ইন্টারডিসিপ্লিনারি’ কাঠামোতে বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের প্রস্তাব করা হয়। বলা হয়, কলেজগুলোতে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠদানও চালু থাকবে।
কিন্তু প্রস্তাবিত স্কুলিং কাঠামোর বিরোধিতা করেন কলেজগুলোর শিক্ষা ক্যাডারের শিক্ষকরা। তাদের আশঙ্কা ছিল, ওই কাঠামোতে তাদের পদোন্নতির মত মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হবে।
তারা কলেজগুলোর স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে 'অধিভুক্তিমূলক কাঠামোতে' নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছিলেন।
আর কলেজগুলোর বর্তমান শিক্ষার্থীদের একাংশ নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টির আইনি কাঠামো দ্রুত নিশ্চিত করার পক্ষে অবস্থান নিয়ে দ্রুততম সময়ে অধ্যাদেশ জারির দাবিতে আন্দোলনে নামে।
অবশেষে এ বছর ২২ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি' স্থাপনের জন্য অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন করে। দুই সপ্তাহ পর তা গেজেট আকারে জারি হল।
আগামী ২৪ জানুয়ারি আয়োজিত হতে যাওয়া নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ৩য় সমাবর্তনে ২০১৪-১৫ থেকে ২০২০-২১ সেশন পর্যন্ত যে সকল শিক্ষার্থী মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের পরিবারকে বিশেষ মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান করবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য নিশ্চিত করেন নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
উপাচার্য বলেন, ‘সমাবর্তন শুধু সনদ বিতরণের অনুষ্ঠান নয়, এটি পুরো নোবিপ্রবি পরিবারের মিলনমেলা। এই দীর্ঘ সময়ে আমরা আমাদের যে সকল প্রিয় শিক্ষার্থীকে হারিয়েছি, তাঁদের স্মৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে অমলিন। সমাবর্তনের মূল আয়োজনে ১০ম থেকে ১৬তম ব্যাচের প্রয়াত শিক্ষার্থীদের স্মরণে তাঁদের পরিবারের হাতে মরণোত্তর সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে।’
তিনি আরও জানান, সমাবর্তন উৎসবমুখর ও সুশৃঙ্খল করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। নিবন্ধনের সার্বিক অগ্রগতি এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার বিষয়েও প্রশাসন ইতিবাচক দৃষ্টি রাখছে।
জবিতে খালেদা জিয়ার ছবি বিকৃতিকারীকে আটক ও পুলিশে সোপর্দ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক আহ্বায়ক সাখাওয়াতুল ইসলাম খান পরাগের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের পাশের দেয়ালে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ছবিতে বিকৃতিকারী এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।
গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত পৌনে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের পাশে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, আটককৃত ব্যক্তি চাঁদপুর থেকে ঢাকায় এসেছেন এবং জাতীয় পার্টির দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন বলে জানিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে রিকশা থেকে নামার সময় দেয়ালে থাকা বেগম খালেদা জিয়ার ছবিতে এক ব্যক্তিকে কিছু লাগাতে দেখা যায়। এ সময়ে জবি ছাত্রদল নেতা পরাগের নেতৃত্বে কয়েকজন নেতাকর্মী এবং নিরাপত্তাকর্মী দ্রুত এগিয়ে গিয়ে তাকে আটক করেন এবং নিরাপত্তা বক্সে নিয়ে যান।
জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তি জানান, তিনি চাঁদপুর থেকে ঢাকায় এসেছেন। জাতীয় পার্টির দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম চৌধুরীর সঙ্গে বিশেষ প্রয়োজনে দেখা করতে এসেছেন বলেও দাবি করেন। তার সঙ্গে কোনো মোবাইল ফোন বা মানিব্যাগ ছিল না বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। পরে পরাগ থানায় যোগাযোগ করলে পুলিশ এসে তাকে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে জবি ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক সাখাওয়াতুল ইসলাম খান পরাগ বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাদের রেডলাইন। বেগম খালেদা জিয়ার ছবি বিকৃতি করায় অজ্ঞাতনামা ফ্যাসিস্টদের সহযোগী এই ব্যক্তিকে ধরে পিটিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেই।
তিনি আরও বলেন, "সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছবি বিকৃতির বিষয়টি অত্যন্ত নিন্দনীয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আমরা চাই, ঘটনার সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসুক এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।"
এদিকে আটককৃত ব্যক্তির বিস্তারিত পরিচয়, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ঘটনায় পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে কোতোয়ালি থানার ওসি কে এম রবিউল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নোবিপ্রবিতে বিটিসি ও এমআইএস ডে’র উদ্বোধন অনুষ্ঠিত
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস্ (এমআইএস) বিভাগের আয়োজনে দুই দিনব্যাপী ‘বিটিসি ও এমআইএস ডে ২০২৬' এর উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) বর্ণাঢ্য র্যালি ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
নোবিপ্রবি বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস্ এমন একটি সমন্বিত ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ ও যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হয়। আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই এমআইএসের গুরুত্ব অপরিসীম। বর্তমানে শুধু তথ্য সংগ্রহ করাই যথেষ্ট নয়, বরং তথ্যকে বিশ্লেষণ করে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।
উপাচার্য আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিগ ডেটা, ক্লাউড কম্পিউটিং ও ডিজিটাল অটোমেশনের এই সময়ে এমআইএসের জ্ঞান নতুন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে। নোবিপ্রবির এমআইএস বিভাগের শিক্ষার্থীরাও তাদের অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের ডিজিটাল রূপান্তর, ব্যবসায়িক উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা করছি।
বক্তব্যে এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা, সৃজনশীলতা ও নতুন কিছু উদ্ভাবনে উৎসাহিত করবে বলে উল্লেখ করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস্ (এমআইএস) বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. জিয়াউল হক। এ সময় এমআইএস সহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, আয়োজনের প্রথম দিন থাকছে, পোস্টার প্রেজেন্টেশন, প্রোগ্রামিং, ই-গেমিং ও বিজনেস কেস প্রতিযোগিতা। দ্বিতীয় দিনে রয়েছে ‘ইন্টারন্যাশনাল কলোকোইয়াম অব বিজনেস এন্ড টেকনোলজি’ প্রতিপাদ্যে কি-নোট স্পিকারদের প্রেজেন্টেশন ও টেকনিক্যাল সেশন। এতে কি-নোট স্পিকার হিসেবে রয়েছেন হালিমা গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল কালাম হাসান, কুমিল্লা বার্ডের উপ-পরিচালক অসীম কুমার সরকার ও থ্রাইভিং স্কিলস লিমিটেডের ফাউন্ডার এন্ড সিইও মো. আবদুল্লাহ আল মাহমুদ। বিশ^বিদ্যালয়ের এমআইএস নেট এর উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের স্পন্সর হিসেবে রয়েছে হালিমা গ্রুপ।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে প্রতিদিন বেলা ১১টার পর কোনো ক্লাসে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।
পুরোনো গবেষণার মাঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মতবিনিময় সভা শেষে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
সভা শেষে শিক্ষার্থীরা জানান, পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পর্যায়ের পরীক্ষা বর্জন করবেন তারা। পাশাপাশি প্রতিদিন বেলা ১১টার পর কোনো ক্লাসেও অংশ নেবেন না।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ওয়াসিউল হাসান সরকার বলেন, আন্দোলন আরও বেগবান করতে আজ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে তিন দিনের সময় দিয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল। ওই সময়ের মধ্যে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে বলা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
পুরোনো গবেষণার মাঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। মাঠটিতে সচিবালয় স্থাপনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তারা মানববন্ধন, বিক্ষোভ, অবস্থান ও সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গা এবং সেখানে কৃষিবিষয়ক গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যলয়ের কাছে দেওয়া হোক। মাঠটি সচিবালয়ের জন্য ব্যবহার করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের পাশে সচিবালয় স্থাপিত হলে ভবিষ্যতে নানা সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।
এদিকে গত বুধবার পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে নির্মাণাধীন দুটি মেলার স্থাপনা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মেলা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। তবে গবেষণার মাঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ১৮ সদস্যবিশিষ্ট এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গত রোববার (১ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের কার্যক্রম পুনর্গঠনের লক্ষ্যে আয়োজিত সাধারণ সভায় এ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বর্তমানে অ্যাসোসিয়েশনের কোনো কার্যকর কমিটি না থাকায় সভায় উপস্থিত সদস্যরা একটি এডহক কমিটি গঠনে সম্মত হন। কমিটির সাচিবিক দায়িত্ব পালনের জন্য কৃষিবিদ শেখ কামরুল হাসানকে মনোনীত করা হয়।
কৃষিবিদ আনোয়ারুল নবী মজুমদারের (বাবলা) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রবীণ ও নবীন কৃষিবিদ নেতৃবৃন্দের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে ১৮ সদস্যের এ কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির সদস্যরা হলেন কৃষিবিদ রাশিদুল হাসান হারুন, কৃষিবিদ ড. কামরুজ্জামান কায়সার, কৃষিবিদ ড. সারোয়ার হোসেন, কৃষিবিদ ড. নাজমুল আমিন মজুমদার, কৃষিবিদ ড. খন্দকার মাহফুজুল হক (বাচ্চু), কৃষিবিদ খন্দকার আসাদুজ্জামান কিটন, কৃষিবিদ ড. এম. সালাহউদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী, কৃষিবিদ ড. নাহিদ জেবা, কৃষিবিদ চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল ফারুক, কৃষিবিদ ড. মাসুদুল হক ঝন্টু, কৃষিবিদ ড. এফ. এম. আমিনুজ্জামান, কৃষিবিদ মোহাম্মদ আবুল বাশার, কৃষিবিদ আবু হেনা মোস্তফা কামাল পান্না, কৃষিবিদ সাইফুল্লা আজাদ, কৃষিবিদ ড. মোহা. আশাবুল হক আশা এবং কৃষিবিদ মোকাদ্দিছুল মোমিন মিঠুন।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, এডহক কমিটির সদস্যরা নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের কার্যকর কমিটি গঠন করবেন।
সভায় গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধার স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এম. সালাহউদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে স্বাগত জানান। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের অবস্থান এবং গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধারের সার্বিক পরিস্থিতি সভায় উপস্থিত সদস্যদের সামনে তুলে ধরেন। পরে কৃষিবিদ নেতৃবৃন্দের বক্তব্য ও বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধারের বিষয়ে কয়েকটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এমবিবিএস ও বিডিএস কোর্সে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ দিচ্ছে পাকিস্তান। পাকিস্তান সরকারের বৃত্তিমূলক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে মোট ২৫ জন বাংলাদেশি এ সুযোগ পাবেন। আগ্রহী শিক্ষার্থীদের ১৬ নভেম্বর ২০২৬–এর মধ্যে আবেদনপত্র জমা দিতে হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পাকিস্তান সরকার পাকিস্তান টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম সেশনের (২০২৬-২৭) অধীনে পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এমবিবিএস ২০টি ও বিডিএস ৫টি কোর্সে ভর্তির ঘোষণা দিয়েছে।
এই প্রোগ্রামের আবেদনপত্র এবং বিস্তারিত তথ্য মিনিস্ট্রি অব ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্সের ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করা যাবে। সম্পূর্ণ আবেদনপত্র ১৬ নভেম্বরের মধ্যে ঢাকার পাকিস্তান হাইকমিশনে পাঠাতে হবে।