• প্রকাশ : রবিবার ০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ২:৩৮ এএম
  • আপডেট : রবিবার ০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ২:৩৮ এএম

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিনামূল্যে থ্যালাসেমিয়া স্ক্রীনিং

  • প্রকাশ : রবিবার ০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ২:৩৮ এএম

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশের থ্যালাসেমিয়া বাহকের সংখ্যা ১১ শতাংশেরও বেশি। প্রতিবছর কত সংখ্যক শিশু থ্যালাসেমিয়া রোগ নিয়ে জন্ম নেয় তার সঠিক সংখ্যাটি অজানা। এর মূল কারণ হলো থ্যালাসেমিয়া রোগ সম্পর্কে আমরা উদাসীন এবং সচেতনতার অভাব। 


এরকম পরিস্থিতিতে থ্যালাসেমিয়া রোগ সম্পর্কে সচেতন করার লক্ষ্যে যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বেস কেয়ার ফাউন্ডেশন ইউকের অর্থায়নে এবং জেনেক্স হেলথের প্রযুক্তিগত সহায়তায় দেশ ও ব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মাঝে থ্যালাসেমিয়া সচেতনতা এবং ফ্রি স্ক্রীনিং নিয়ে কাজ করছে স্বনামধন্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান বায়োটেড। 


প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে প্রায় ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয় এ কর্মসূচি পরিচালনা করেছে তারা। তারই ধারাবাহিকতায় গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হল "থ্যালাসেমিয়া অ্যাওয়ারনেস এন্ড স্ক্রিনিং ক্যাম্পেইন"। এই উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজন করা হয় একটি সচেতনতামূলক সেমিনার। 


সেমিনারের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর মোহাম্মদ নাজমুল আহসান। বক্তব্যে প্রধান অতিথি বলেন, যদিও দেশের অনেক থ্যালাসেমিয়া রোগী রয়েছে তারপরও জনসাধারণের মাঝে এই রোগ নিয়ে সচেতনতা নেই বললেই চলে। তরুণ প্রজন্মের মাঝে সচেতনতা তৈরি করা হলে, ভবিষ্যতে থ্যালাসেমিয়া রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাবে। 


সেমিনারে উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ডঃ আরিফুজ্জামান রাজিব বলেন, স্বাস্থ্য সেবায় যে সকল গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু উপেক্ষিত ও সমস্যা রয়েছে সেরকম একটি সমস্যা থ্যালাসেমিয়া এবং সেই রোগটি সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে সচেতন করার মহান ব্রত নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে বায়োটেড। যথাযথ শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে রোগ নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে আগ্রহ তৈরি করার এই উদ্যোগে সকলের শামিল হওয়া উচিত। 




গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বাঁধন ইউনিট সহ-আয়োজক হিসেবে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে। সেমিনারে বাঁধনের উপদেষ্টা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল জুবায়ের বলেন, এ ধরনের কর্মসূচি প্রকৃতপক্ষে শিক্ষার্থীদের জীবন মান উন্নয়নের ভূমিকা রাখছে এবং স্বাস্থ্য সচেতন করে তুলছে। 


সেমিনারে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, শুধুমাত্র ছাত্রছাত্রীই নয় বরং সচেতন হলে পরে প্রতিটি নাগরিকের উচিত হবে তাহলে থ্যালাসেমিয়া স্ক্রীনিং করানো এবং তারা ভবিষ্যতে সরকারের তরফ থেকে কর্মসূচি শুরু করার জন্য উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।


থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত রোগ। বিবাহের পূর্বে পরীক্ষার মাধ্যমে বাহক নির্ণয় করা সম্ভব হলে এবং বাহক-বাহক বিয়ে বন্ধ করা গেলে থ্যালাসেমিয়া রোগীর সংখ্যা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা সম্ভব। সেজন্য প্রয়োজন সচেতনতা এবং পরীক্ষার মাধ্যমে বাহক নির্ণয়ের উদ্যোগ।


বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হতে পারে থ্যালাসেমিয়া সচেতনতা তৈরীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক কর্মসূচির মাধ্যমেই দেশে থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞগণ। ‌স্বনামধন্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান বায়োটেড (BioTED) বিগত বেশ কয়েক বছর ধরেই থ্যালাসেমিয়া সহ তরুণ প্রজন্মের অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে বাংলাদেশে সচেতনতামূলক এবং গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। 


দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সাথে যৌথ উদ্যোগে বায়োটেড (BioTED) কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিগত প্রায় এক বছর ধরে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পর্যায়ক্রমে শিক্ষার্থীদের মাঝে থ্যালাসেমিয়ার বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করার লক্ষ্যে বায়োটেড “এওয়ারনেস এন্ড স্ক্রিনিং ক্যাম্পেইন” পরিচালনা করছে।


সেমিনারে ‎বায়োটেডের প্রতিষ্ঠাতা এবং নির্বাহী পরিচালক ড. মুহাম্মদ সওগাতুল ইসলাম বলেন, এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় সহ প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে থ্যালাসেমিয়া রোগের বিরুদ্ধে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি করা সম্ভব। ধীরে ধীরে সেই কর্মসূচি সামাজিক পর্যায়েও ছড়িয়ে দিতে হবে। 


থ্যালাসেমিয়া রোগ প্রতিরোধ করতে হলে প্রয়োজন সামাজিক আন্দোলন এবং সামাজিকভাবে এই সমস্যার মোকাবেলা করা সম্ভব হলে থ্যালাসেমিয়া রোগীর সংখ্যা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা সম্ভব। সচেতনতাই হচ্ছে থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধ করার প্রথম পদক্ষেপ।


‎তিনি আরও বলেন, বংশগত রোগ হওয়ার কারণে থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধযোগ্য, কিন্তু পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য নয়। নিরাময়ের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল যা অধিকাংশ মানুষের সক্ষমতার বাইরে। তাই সচেতনতা এবং প্রতিরোধই একমাত্র পথ। 


আমরা যদি বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা করি এবং দু’জনই যদি থ্যালাসেমিয়া ক্যারিয়ার হই, তবে আমাদের সন্তান এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি খুব বেশি থাকে। তাই রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে এই ঝুঁকি জানা সম্ভব।


‎এ সময় তিনি সবাইকে বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা, থ্যালাসেমিয়া ক্যারিয়ার হলে সতর্ক সিদ্ধান্ত নেয়া এবং পরিবার ও সমাজে এ বিষয়ে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। উল্লেখ্য বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ১৫-২০ হাজার থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশু জন্মগ্রহণ করে যার অধিকাংশই পাঁচ বছর বয়সের পূর্বে মারা যায় বলে ধারণা করা হয়। ‌


উদ্বেগের বিষয় হলো এসব শিশু জন্মগ্রহণ করার পরে বাবা-মা জানতে পারেন যে তারা থ্যালাসেমিয়ার বাহক ছিলেন। তাই থ্যালাসেমিয়া রোগ প্রতিরোধ করতে হলে অবশ্যই ব্যাপক ভিত্তিক স্ক্রিনিং এর মাধ্যমে দেশের সমস্ত নাগরিকের জন্য থ্যালাসেমিয়া বাহক নির্ণয় বাধ্যতামূলক করা উচিত। যাতে বাহক এবং বাহকের বিয়ের মাধ্যমে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশু জন্মের হার ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা সম্ভব হয়।


ফ্রি থ্যালাসেমিয়া স্ক্রিনিংয়ে শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন, যারা বিনামূল্যে থ্যালাসেমিয়া স্ক্রিনিং এর সুযোগ পেয়েছেন।‌ থ্যালাসেমিয়া স্ক্রিনিং টেস্ট একটি ব্যয়বহুল পরীক্ষার মাধ্যমে করা হয়ে থাকে। শিক্ষার্থীরা বলেন, বেসরকারি হাসপাতাল বা ভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোতে থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষা ব্যয়বহুল। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানটি বিনামূল্যে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এই সেবা প্রদান করছে। শুধু তাই নয়, এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। 


অনুষ্ঠান শেষে মূল বক্তা ড. মুহাম্মদ সওগাতুল ইসলাম আশা প্রকাশ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সচেতন করা গেলে সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সারাদেশে সচেতনতা তৈরি করা সম্ভব। তবে সেক্ষেত্রে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। সুস্থ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে এখনই আমাদের উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজনীয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:০০ পিএম

আগামী ২৪ জানুয়ারি আয়োজিত হতে যাওয়া নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ৩য় সমাবর্তনে ২০১৪-১৫ থেকে ২০২০-২১ সেশন পর্যন্ত যে সকল শিক্ষার্থী মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের পরিবারকে বিশেষ মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান করবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।


মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য নিশ্চিত করেন নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।

উপাচার্য বলেন, ‘সমাবর্তন শুধু সনদ বিতরণের অনুষ্ঠান নয়, এটি পুরো নোবিপ্রবি পরিবারের মিলনমেলা। এই দীর্ঘ সময়ে আমরা আমাদের যে সকল প্রিয় শিক্ষার্থীকে হারিয়েছি, তাঁদের স্মৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে অমলিন। সমাবর্তনের মূল আয়োজনে ১০ম থেকে ১৬তম ব্যাচের প্রয়াত শিক্ষার্থীদের স্মরণে তাঁদের পরিবারের হাতে মরণোত্তর সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে।’


তিনি আরও জানান, সমাবর্তন উৎসবমুখর ও সুশৃঙ্খল করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। নিবন্ধনের সার্বিক অগ্রগতি এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার বিষয়েও প্রশাসন ইতিবাচক দৃষ্টি রাখছে।

সর্বশেষ সব খবর

জবিতে খালেদা জিয়ার ছবি বিকৃতিকারীকে আটক ও পুলিশে সোপর্দ

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:২৮ পিএম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক আহ্বায়ক সাখাওয়াতুল ইসলাম খান পরাগের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের পাশের দেয়ালে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ছবিতে বিকৃতিকারী এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।


গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত পৌনে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের পাশে এ ঘটনা ঘটে।


জানা যায়, আটককৃত ব্যক্তি চাঁদপুর থেকে ঢাকায় এসেছেন এবং জাতীয় পার্টির দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন বলে জানিয়েছেন। 


প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে রিকশা থেকে নামার সময় দেয়ালে থাকা বেগম খালেদা জিয়ার ছবিতে এক ব্যক্তিকে কিছু লাগাতে দেখা যায়। এ সময়ে জবি ছাত্রদল নেতা পরাগের নেতৃত্বে কয়েকজন নেতাকর্মী এবং নিরাপত্তাকর্মী দ্রুত এগিয়ে গিয়ে তাকে আটক করেন এবং নিরাপত্তা বক্সে নিয়ে যান।


জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তি জানান, তিনি চাঁদপুর থেকে ঢাকায় এসেছেন। জাতীয় পার্টির দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম চৌধুরীর সঙ্গে বিশেষ প্রয়োজনে দেখা করতে এসেছেন বলেও দাবি করেন। তার সঙ্গে কোনো মোবাইল ফোন বা মানিব্যাগ ছিল না বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। পরে পরাগ থানায় যোগাযোগ করলে পুলিশ এসে তাকে নিয়ে যায়।


এ বিষয়ে জবি ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক সাখাওয়াতুল ইসলাম খান পরাগ বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাদের রেডলাইন। বেগম খালেদা জিয়ার ছবি বিকৃতি করায় অজ্ঞাতনামা ফ্যাসিস্টদের সহযোগী এই ব্যক্তিকে ধরে পিটিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেই।


তিনি আরও বলেন, "সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছবি বিকৃতির বিষয়টি অত্যন্ত নিন্দনীয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আমরা চাই, ঘটনার সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসুক এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।"


এদিকে আটককৃত ব্যক্তির বিস্তারিত পরিচয়, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ঘটনায় পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে কোতোয়ালি থানার ওসি কে এম রবিউল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সর্বশেষ সব খবর

নোবিপ্রবিতে বিটিসি ও এমআইএস ডে’র উদ্বোধন অনুষ্ঠিত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:২৬ পিএম

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস্ (এমআইএস) বিভাগের আয়োজনে দুই দিনব্যাপী ‘বিটিসি ও এমআইএস ডে ২০২৬' এর উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।


এ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।


নোবিপ্রবি বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।




অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস্ এমন একটি সমন্বিত ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ ও যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হয়। আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই এমআইএসের গুরুত্ব অপরিসীম। বর্তমানে শুধু তথ্য সংগ্রহ করাই যথেষ্ট নয়, বরং তথ্যকে বিশ্লেষণ করে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।


উপাচার্য আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিগ ডেটা, ক্লাউড কম্পিউটিং ও ডিজিটাল অটোমেশনের এই সময়ে এমআইএসের জ্ঞান নতুন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে। নোবিপ্রবির এমআইএস বিভাগের শিক্ষার্থীরাও তাদের অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের ডিজিটাল রূপান্তর, ব্যবসায়িক উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা করছি।


বক্তব্যে এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা, সৃজনশীলতা ও নতুন কিছু উদ্ভাবনে উৎসাহিত করবে বলে উল্লেখ করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।


অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস্ (এমআইএস) বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. জিয়াউল হক। এ সময় এমআইএস সহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


প্রসঙ্গত, আয়োজনের প্রথম দিন থাকছে, পোস্টার প্রেজেন্টেশন, প্রোগ্রামিং, ই-গেমিং ও বিজনেস কেস প্রতিযোগিতা। দ্বিতীয় দিনে রয়েছে ‘ইন্টারন্যাশনাল কলোকোইয়াম অব বিজনেস এন্ড টেকনোলজি’ প্রতিপাদ্যে কি-নোট স্পিকারদের প্রেজেন্টেশন ও টেকনিক্যাল সেশন। এতে কি-নোট স্পিকার হিসেবে রয়েছেন হালিমা গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল কালাম হাসান, কুমিল্লা বার্ডের উপ-পরিচালক অসীম কুমার সরকার ও থ্রাইভিং স্কিলস লিমিটেডের ফাউন্ডার এন্ড সিইও মো. আবদুল্লাহ আল মাহমুদ। বিশ^বিদ্যালয়ের এমআইএস নেট এর উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের স্পন্সর হিসেবে রয়েছে হালিমা গ্রুপ।

সর্বশেষ সব খবর

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৫৭ পিএম

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে প্রতিদিন বেলা ১১টার পর কোনো ক্লাসে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।


পুরোনো গবেষণার মাঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মতবিনিময় সভা শেষে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।


সভা শেষে শিক্ষার্থীরা জানান, পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পর্যায়ের পরীক্ষা বর্জন করবেন তারা। পাশাপাশি প্রতিদিন বেলা ১১টার পর কোনো ক্লাসেও অংশ নেবেন না।




আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ওয়াসিউল হাসান সরকার বলেন, আন্দোলন আরও বেগবান করতে আজ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে তিন দিনের সময় দিয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল। ওই সময়ের মধ্যে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে বলা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।




পুরোনো গবেষণার মাঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। মাঠটিতে সচিবালয় স্থাপনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তারা মানববন্ধন, বিক্ষোভ, অবস্থান ও সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গা এবং সেখানে কৃষিবিষয়ক গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যলয়ের কাছে দেওয়া হোক। মাঠটি সচিবালয়ের জন্য ব্যবহার করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের পাশে সচিবালয় স্থাপিত হলে ভবিষ্যতে নানা সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।


এদিকে গত বুধবার পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে নির্মাণাধীন দুটি মেলার স্থাপনা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মেলা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। তবে গবেষণার মাঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।


সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৫১ পিএম

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ১৮ সদস্যবিশিষ্ট এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।


গত রোববার (১ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের কার্যক্রম পুনর্গঠনের লক্ষ্যে আয়োজিত সাধারণ সভায় এ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বর্তমানে অ্যাসোসিয়েশনের কোনো কার্যকর কমিটি না থাকায় সভায় উপস্থিত সদস্যরা একটি এডহক কমিটি গঠনে সম্মত হন। কমিটির সাচিবিক দায়িত্ব পালনের জন্য কৃষিবিদ শেখ কামরুল হাসানকে মনোনীত করা হয়।


কৃষিবিদ আনোয়ারুল নবী মজুমদারের (বাবলা) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রবীণ ও নবীন কৃষিবিদ নেতৃবৃন্দের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে ১৮ সদস্যের এ কমিটি গঠন করা হয়।


কমিটির সদস্যরা হলেন কৃষিবিদ রাশিদুল হাসান হারুন, কৃষিবিদ ড. কামরুজ্জামান কায়সার, কৃষিবিদ ড. সারোয়ার হোসেন, কৃষিবিদ ড. নাজমুল আমিন মজুমদার, কৃষিবিদ ড. খন্দকার মাহফুজুল হক (বাচ্চু), কৃষিবিদ খন্দকার আসাদুজ্জামান কিটন, কৃষিবিদ ড. এম. সালাহউদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী, কৃষিবিদ ড. নাহিদ জেবা, কৃষিবিদ চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল ফারুক, কৃষিবিদ ড. মাসুদুল হক ঝন্টু, কৃষিবিদ ড. এফ. এম. আমিনুজ্জামান, কৃষিবিদ মোহাম্মদ আবুল বাশার, কৃষিবিদ আবু হেনা মোস্তফা কামাল পান্না, কৃষিবিদ সাইফুল্লা আজাদ, কৃষিবিদ ড. মোহা. আশাবুল হক আশা এবং কৃষিবিদ মোকাদ্দিছুল মোমিন মিঠুন।


সভায় সিদ্ধান্ত হয়, এডহক কমিটির সদস্যরা নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের কার্যকর কমিটি গঠন করবেন।


সভায় গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধার স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এম. সালাহউদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে স্বাগত জানান। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের অবস্থান এবং গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধারের সার্বিক পরিস্থিতি সভায় উপস্থিত সদস্যদের সামনে তুলে ধরেন। পরে কৃষিবিদ নেতৃবৃন্দের বক্তব্য ও বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধারের বিষয়ে কয়েকটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।


সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৩১ এএম

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এমবিবিএস ও বিডিএস কোর্সে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ দিচ্ছে পাকিস্তান। পাকিস্তান সরকারের বৃত্তিমূলক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে মোট ২৫ জন বাংলাদেশি এ সুযোগ পাবেন। আগ্রহী শিক্ষার্থীদের ১৬ নভেম্বর ২০২৬–এর মধ্যে আবেদনপত্র জমা দিতে হবে।


শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পাকিস্তান সরকার পাকিস্তান টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম সেশনের (২০২৬-২৭) অধীনে পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এমবিবিএস ২০টি ও বিডিএস ৫টি কোর্সে ভর্তির ঘোষণা দিয়েছে। 


এই প্রোগ্রামের আবেদনপত্র এবং বিস্তারিত তথ্য মিনিস্ট্রি অব ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্সের ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করা যাবে। সম্পূর্ণ আবেদনপত্র ১৬ নভেম্বরের মধ্যে ঢাকার পাকিস্তান হাইকমিশনে পাঠাতে হবে।

সর্বশেষ সব খবর