ভালো CGPA আর সুন্দর ক্যারিয়ারের আশায় প্রতিটা স্টুডেন্টকেই পরীক্ষায় বসতে হয়। সবাই চায় ক্যারিয়ারে সফল হতে। শেষ পর্যন্ত একটা ভালো চাকরি, সমাজে ভালো একটা স্ট্যাটাস, এসবই তো কমবেশি সবার স্বপ্ন। আর ভালো চাকরির জন্য ভালো একটা CGPA-ও গুরুত্বপূর্ণ।
তাই CGPA খারাপ হোক, এটা কেউই চায় না। যে ছাত্রটা গত সেমিস্টারেও ভালো রেজাল্ট করতে পারেনি, সেও চায় এই সেমিস্টারে তার রেজাল্টটা ভালো হোক। ভালো রেজাল্টের আশাতেই সবাই পরবর্তী পরীক্ষার জন্য নিজেদেরকে মোটিভেট করে।
পরীক্ষার রুটিন হাতে পাওয়া মাত্রই শুরু হয় প্রস্তুতি। কেউ PDF সংগ্রহ করে, কেউ স্লাইড, কেউ আবার বড় ভাই, আপু কিংবা বন্ধুদের কাছ থেকে নোট এবং আগের বছরের প্রশ্ন সংগ্রহ করে। এসব ম্যাটেরিয়াল বেশিরভাগ সময় পড়ে থাকে টেবিলের কোনো এক কোণে কিংবা মোবাইলের কোনো এক ফোল্ডারে। এগুলোর গুরুত্ব আসলে বোঝা যায় পরীক্ষার আগের রাতে।
যারা এসব ম্যাটেরিয়ালস সংগ্রহ করে রাখে তাদের কেউ পরীক্ষার দুই-তিন দিন আগে থেকে পড়া শুরু করে, কেউ বা পরীক্ষার আগের রাতে পড়া শুরু করে। তবে সারা সেমিস্টার নিয়মিত পড়ে এমন স্টুডেন্টদের সংখ্যা খুবই নগণ্য।
প্রস্তুতির রাতের রাতজাগা পাখি
পরীক্ষার আগের রাত মানেই অন্যরকম একটা পরিবেশ। কোথাও একদম নীরবতা, আবার কোথাও রাতভর চায়ের কাপের টুংটাং শব্দ। কেউ সারারাত জেগে পড়াশোনা করে, কেউ আবার খুব ভোরে উঠে পড়বে বলে ঘুমিয়ে যায়। রাত যত বাড়তে থাকে, মোবাইল আর ল্যাপটপের নীল আলোতে পড়তে থাকা মুখগুলোও বাড়তে থাকে। এর মধ্যেই কেউ কেউ হিসাব করতে থাকে আর কত ঘণ্টা আছে, কতগুলো টপিক বাকি, কোনটা বাদ দেওয়া যায়।
আবার কারও কারও অবস্থা এমন হয় যে পড়ার পরিমাণ দেখে মাথাই কাজ করে না। কম সময় অথচ পড়ার পরিমাণ বেশি, এটা ভাবতেই কেউ কেউ হতাশ হয়ে যায়। কেউ কেউ আবার সেই হতাশায় পড়াশোনাই বন্ধ করে দেয়। তারপরও অনেক পরীক্ষার্থী একটা আশা নিয়ে পড়ে যায়, হয়তো যেটুকু পড়ছি, সেখান থেকেই প্রশ্ন আসবে।
পরীক্ষার সকালের তীব্র উদ্বেগ
সকালে পরীক্ষার আগে কারও নাশতায় থাকে বিস্কুটের প্যাকেট, সিঙ্গারা অথবা ছোলা, কেউ আবার পাউরুটি খায়। কিন্তু খাওয়ার সময় মনোযোগ খাবারের দিকে থাকে না। এক হাতে পাউরুটি, অন্য হাতে মোবাইলে PDF। এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খুব পরিচিত একটা দৃশ্য। পরীক্ষার হলে ঢোকার ১০ মিনিট আগেও পড়াশোনা থামে না। বরং তখন মনে হয়, এই ১০ মিনিটই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
কিছু স্টুডেন্ট যেন তখন ছোটখাটো গবেষক হয়ে ওঠে। তারা গবেষণা করে যে কোন টপিকটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কোনটা পড়লে কমন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি, স্যার এই জিনিসটা ক্লাসে কয়বার বলছেন, কোনটা কম গুরুত্বপূর্ণ, এসব নিয়ে চলে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।
আবার কোথাও দেখা যায় একজন আরেকজনকে থিওরি বুঝিয়ে দিচ্ছে। কেউ নিজে নিজে পড়ছে, আবার পাশের বন্ধুকে বলছে, দাঁড়া, এটা এভাবে বুঝে নে। হলের গার্ডরা পরীক্ষার হলে ঢুকে গেলেও অনেকেই পড়তে থাকে। যেন পরীক্ষার শুরু হওয়ার আগের শেষ কয়েক সেকেন্ডও নষ্ট করা যাবে না। কারণ তখন মনে হয়, আর একটা টপিক পড়লেই হয়তো পরীক্ষার একটা প্রশ্ন কমন পড়ে যাবে।
পরীক্ষার চার ঘণ্টা যেন অন্য এক জগৎ
প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পর প্রথম কয়েক মিনিট পুরো হল নীরব থাকে। সবাই প্রশ্ন পড়ে। পরিচিত টপিকের প্রশ্ন খুঁজে। কোনটা আগে লিখবে, সেটা ঠিক করে। তারপর শুরু হয় খাতার ওপর কলমের খসখস শব্দ।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় একটা জিনিস বেশ কমন, সেটা হলো এক্সট্রা প্যাপার নেওয়ার একটা অদৃশ্য প্রতিযোগিতা। কে বেশি এক্সট্রা পেপার নিয়েছে, সেটা পরীক্ষা শেষে একটা আলোচনার বিষয় হয়ে যায়। কেউ কেউ তো মজা করে বলে, খাতার ওজন বেশি হয়েছে মানে পরীক্ষা ভালো হয়েছে!
এই চার ঘণ্টার মধ্যে কত কিছুই না ঘটে। কখনো খাতায় লেখার সময় পুরো মনোযোগ, কখনো একটা উত্তর মনে করার জন্য চিন্তিত মুখ, আবার আনকমন কোনো প্রশ্ন দেখলে মাথায় হাত পড়ে। এর মাঝেই আবার মূল পেপারের সঙ্গে এক্সট্রা পেপার বাইন্ড করা, এক্সট্রা পেপারের ক্রমিক নম্বর লেখা, সময়ের হিসাব করা, সবই চলতে থাকে। একসময় ঘড়ির দিকে তাকিয়ে মনে হয়, সময় এত দ্রুত চলে গেল কীভাবে!
আবার কোনো কোনো কোর্স ৩ ক্রেডিটের হওয়াতে পরীক্ষা থাকে ৩ ঘন্টা । সেদিনটা আবার বেশিরভাগ ছাত্র পরীক্ষায় সময় ঠিকমতো মিলাতে পারে না। আবার অনেকে কম সময় লিখে আত্মতৃপ্তি কম পায়। ফলস্বরূপ পরীক্ষা খারাপ হলে হতাশা কাজ করে।
পরীক্ষা শেষের স্বস্তি
শেষে সেই মুহূর্তটা আসে। শিক্ষক ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলেন, Pen Down। সঙ্গে সঙ্গে সবাই লেখা বন্ধ করে। কেউ শেষ উত্তরটা কোনোমতে শেষ করেছে, কেউ আবার একটা প্রশ্নের উত্তর অসম্পূর্ণ রেখেই কলম নামিয়ে ফেলেছে।
পরীক্ষা শেষ। একদিকে কয়েক ঘণ্টার লেখার পরিশ্রম শেষ হয়েছে, অন্যদিকে সবার মধ্যে একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস। তবে সবার মুখে স্বস্তি থাকে না। কেউ পরীক্ষা ভালো হওয়ায় খুশি, কেউ আবার হল থেকে বের হয়েই হিসাব শুরু করে, কোথায় ভুল হয়েছে, কোন প্রশ্নটা ভুল লিখেছে, কত নম্বরের উত্তর লেখা বাদ রয়ে গিয়েছিলো।
হলের বাইরে বের হওয়ার পর শুরু হয় আরেক পর্ব। আলোচনার মূল জায়গায় থাকে যে এই প্রশ্নের উত্তর কী দিয়েছিস? কয়টা এক্সট্রা পৃষ্ঠা নিয়েছিলি? কেউ উত্তর মেলায়, কেউ নিজের ভুল খুঁজে পায়, আবার কেউ পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরও পরীক্ষা নিয়ে ভাবতে চায় না। এত কিছু পর কারও পরিকল্পনা থাকে বাড়ি যাওয়ার, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে কিছুক্ষণ সময় কাটায়, আবার কেউ হয়তো সেদিনের পরীক্ষা শেষ করেই পরের পরীক্ষার পড়া নিয়ে বসে যায়।
একটা পরীক্ষা শেষ হয়, কিন্তু সেমিস্টার ফাইনালের গল্প শেষ হয় না। সেমিস্টারের পরের পরীক্ষার জন্য আবার PDF খুলবে, আবার নোট খোঁজা হবে, আবার রাত জাগা হবে। আবার কোনো এক সকালে পাউরুটি হাতে মোবাইলের pdf পড়তে পড়তে হলে ঢুকবে শিক্ষার্থীরা। আবার প্রশ্নপত্র হাতে নেবে। আবার কলম চলবে। আর শেষ পর্যন্ত আবার সেই পরিচিত শব্দ, "Pen Down.”
মোটিভেশন ও অভ্যাস
যাদের একটা সেমিস্টার খারাপ যায়, তারা হতাশ না হয়ে বরং মনে মনে পণ করে যে পরের সেমিস্টারে কামব্যাক করবে। রেজাল্ট হাতে পাওয়ার পর নিজের কাছেই প্রতিজ্ঞা করে, পরের সেমিস্টারে আর এমন হবে না। নতুন সেমিস্টার শুরু হয় নতুন উদ্যমে। প্রথম কয়েকদিন বই-খাতা গুছিয়ে রাখা হয়, মনে হয় এবার নিয়মিত পড়বে। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ যেতে না যেতেই সেই নিয়মে একটু একটু করে ফাটল ধরে। ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট, আড্ডা, ব্যস্ততা, সবকিছুর মাঝে পড়াটা আবার পিছিয়ে যায়।
তারপর হঠাৎ একদিন পরীক্ষার রুটিন হাতে আসে। মনে পড়ে, আচ্ছা, পরীক্ষা তো সামনে! আবার PDF খোঁজা শুরু হয়, স্লাইড জমা হয়, নোট ডাউনলোড হয়। তারপরও পড়া শুরু হয় না। দিন গড়িয়ে রাত আসে, রাত গড়িয়ে পরীক্ষার আগের রাত। আর তখন আবার সেই পরিচিত জায়গায়, চোখের সামনে মোবাইলের নীল আলো, পাশে এক কাপ চা, সামনে বিশাল সিলেবাস। তখন ছাত্রদের মনে হয়, ইশ! যদি আরেকটু আগে শুরু করতাম তাহলে ভালো হতো। কিন্তু পরীক্ষাটা তো আর পিছিয়ে যাবে না। তাই রাত জেগেই শুরু হয় পড়াশোনা। পরীক্ষা শেষ হয়, ফলাফল আসে, যদি খারাপ হয় আবার সেই একই প্রতিজ্ঞা, "পরের সেমিস্টারে এবার সত্যিই নিয়মিত পড়তে হবে।”
এভাবেই মোটিভেশন আসে, অভ্যাস বদলানোর চেষ্টা হয়, আর শেষ পর্যন্ত আমরা অনেকেই আবার ফিরে আসে সেই একই চক্রে, প্রতিজ্ঞা, নতুন শুরু, পুরোনো অভ্যাস, ব্যাস্ততা, আড্ডা ও সময় নষ্ট, পরীক্ষার আগের রাত।
সাহিত্যচর্চায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ঐতিহ্য কার্নিভালে সম্মাননা পেয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) সাহিত্য সংসদ। দেশের সাতটি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের সাহিত্য সংগঠনকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ঐতিহ্য প্রকাশনীর কার্নিভালের অষ্টম দিনে ‘ক্লাব-ডে: লিটারেচার ক্লাব সম্মাননা ও ঐতিহ্য রিডার্স ক্লাব গেটটুগেদার’ অনুষ্ঠানে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য সংসদের পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করেন অভিপ্সা দাস। সম্মাননাপ্রাপ্ত অন্য ছয়টি সংগঠন হলো বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) সাহিত্য সংসদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য সংসদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য সংসদ, ইডেন মহিলা কলেজের ‘অপরাজেয়’, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ডিআইইউ রিডার্স ক্লাব এবং ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের ইউএপি লিটারেচার ক্লাব।
অনুষ্ঠানে বুয়েট সাহিত্য সংসদের পক্ষে হাসান মামুন, রাফিদ আনজুম ও আহনাফ তারহাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য সংসদের পক্ষে আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ও কাসিরা সুলতানা এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য সংসদের পক্ষে মোস্তাফিজুর রাহমান, তারিন তাসনিম ও তানজিনা তাবাসসুম তন্দ্রা সম্মাননা গ্রহণ করেন।
এ ছাড়া ইডেন মহিলা কলেজের ‘অপরাজেয়’-এর পক্ষে সানজিদা হক এবং ইউএপি লিটারেচার ক্লাবের পক্ষে শাহনেওয়াজ শাহিন সম্মাননা গ্রহণ করেন।
সম্মাননা প্রাপ্তির অনুভূতি জানিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য সংসদের সাধারণ সম্পাদক গৌরাঙ্গ দাস বলেন, "এই ধরনের স্বীকৃতি আমাদের জন্য অত্যন্ত অনুপ্রেরণার। আমরা যারা সাহিত্যচর্চা করি, তাদের মধ্যে এ ধরনের সম্মাননা নতুন উদ্দীপনা ও উদ্যম তৈরি করে। বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সাহিত্য নিয়ে আগ্রহ বা অনুরাগ কিছুটা কমে আসছে, সেখানে ঐতিহ্য প্রকাশনীর এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। এমন চমৎকার ও ভিন্নমাত্রার আয়োজনের জন্য ঐতিহ্য প্রকাশনীকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য সংসদের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।"
এদিকে আয়োজনের অংশ হিসেবে ঐতিহ্য রিডার্স ক্লাবের সদস্যদের নিয়ে কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রথম স্থান অর্জন করেন হাসান মামুন, দ্বিতীয় হন রাফিদ আনজুম এবং তৃতীয় হন মাহবুবুল হাছান। বিজয়ীদের ঐতিহ্য প্রকাশনীর রচনাবলি উপহার দেওয়া হয়।
এ ছাড়া বিকেলে সাইফ বরকতুল্লাহ সম্পাদিত ‘সংবাদপত্রে খালেদা জিয়ার মৃত্যু’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। কার্নিভালের অষ্টম দিনের আয়োজনে সংগীতসন্ধ্যাও অনুষ্ঠিত হয়।
ছবি : সংগৃহীত
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। ২৯ অক্টোবর ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। সংশ্লিষ্ট বোর্ড সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান জানান, ২৯ অক্টোবরের মধ্যে ফল প্রকাশের প্রস্তুতি রয়েছে।
বোর্ডের এক কর্মকর্তা জানান, ২৯ অক্টোবর ফল প্রকাশের সম্ভাবনাই বেশি। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২ জুলাই শুরু হয়ে শেষ হয় ৮ আগস্ট। এরপর ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করার কথা ছিল। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ায় ওই বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর।
এবার দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের জন্য সারা দেশে দুই হাজার ৬৯৭টি পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল। তবে পরীক্ষায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন।
বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত, ভিসাও হাতে পেয়েছেন। এবার স্বপ্নের গন্তব্যে পাড়ি জমানোর পালা। কিন্তু প্রথমবার বিদেশযাত্রার আগে কী কী প্রস্তুতি নিতে হবে? কোন নথি সঙ্গে রাখবেন, লাগেজে কী নেওয়া যাবে, আর অপরিচিত দেশে পৌঁছে যাতায়াত ও যোগাযোগের ব্যবস্থা কীভাবে করবেন? আগে থেকে পরিকল্পনা করে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে নিলে যাত্রাপথে অপ্রত্যাশিত ঝামেলা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।
যাত্রার আগে প্রয়োজনীয় নথি গুছিয়ে নিন
বিদেশযাত্রার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি হলো প্রয়োজনীয় নথি নিশ্চিত করা। পাসপোর্ট, ভিসা, বিমান টিকিট, বিশ্ববিদ্যালয়ের অফার লেটার ও ভর্তিসংক্রান্ত কাগজপত্র সঙ্গে রাখুন। প্রয়োজনে শিক্ষাগত সনদ, নম্বরপত্র, বৃত্তির কাগজপত্র, আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ ও আবাসনের তথ্যও সঙ্গে নিতে হতে পারে। গন্তব্য দেশের নিয়ম অনুযায়ী স্বাস্থ্যসংক্রান্ত নথি বা অন্যান্য কাগজপত্র প্রয়োজন কি না, তা আগেই যাচাই করুন। সব নথির মূল কপি নিরাপদে রাখার পাশাপাশি কয়েক সেট ফটোকপি ও ডিজিটাল কপি তৈরি করে রাখুন। গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলো চেক ইন লাগেজে না রেখে হাতব্যাগে রাখাই ভালো। পাসপোর্ট ও ভিসার মেয়াদ, টিকিটের তারিখ, ফ্লাইটের সময় ও টিকিটে দেওয়া নামের সঙ্গে পাসপোর্টের নাম মিলিয়ে নিন।
বিমান টিকিট ও লাগেজের নিয়ম জানুন
ফ্লাইটের সময়ের আগেই বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করুন। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে সাধারণত উড্ডয়নের অন্তত তিন ঘণ্টা আগে পৌঁছানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে এয়ারলাইনসের নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি। সরাসরি ফ্লাইট নাকি ট্রানজিট রয়েছে, মাঝপথে বিমান পরিবর্তন করতে হবে কি না এবং পরবর্তী ফ্লাইটের জন্য পর্যাপ্ত সময় আছে কি না, তা আগেই জেনে নিন।
লাগেজের ওজন ও আকারের সীমা এয়ারলাইনসভেদে আলাদা হতে পারে। তাই টিকিটের সঙ্গে দেওয়া ব্যাগেজ নীতিমালা যাচাই করুন। হাতব্যাগে কী নেওয়া যাবে, তরল পদার্থ বহনের সীমা কত এবং কোন জিনিস নিষিদ্ধ—এসব বিষয়ও জেনে নিন। নিষিদ্ধ বা সীমাবদ্ধ কোনো জিনিস সঙ্গে নিলে বিমানবন্দরে সমস্যায় পড়তে পারেন।
এ বিষয়ে কথা হয় বিডি এক্সপার্ট এডুকেশন কনসালটেন্সির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শফিকুল ইসলাম শিমুলের সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বিদেশযাত্রার আগে পাসপোর্ট, ভিসা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিসংক্রান্ত কাগজপত্র ও টিকিটের তথ্য যাচাই করে নিতে হবে। জরুরি নথির ফটোকপি ও ডিজিটাল কপি সংরক্ষণের পাশাপাশি পাসপোর্ট, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও মূল্যবান জিনিস হাতব্যাগে রাখা উচিত।
শফিকুল ইসলাম শিমুল আরও বলেন, এয়ারলাইনসের লাগেজ নীতিমালা, ট্রানজিটের শর্ত ও বিমানবন্দরে পৌঁছানোর সময় সম্পর্কেও আগেই জেনে নিতে হবে। পাশাপাশি বিদেশে পৌঁছানোর আগেই আবাসন, যাতায়াত ও জরুরি যোগাযোগের ব্যবস্থা নিশ্চিত করলে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া সহজ হয়।
পোশাক, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিকস
গন্তব্য দেশের আবহাওয়া বিবেচনা করে পোশাক বেছে নিন। শীতপ্রধান দেশে গেলে গরম কাপড় এবং বৃষ্টিপ্রবণ এলাকায় গেলে উপযোগী পোশাক সঙ্গে রাখুন। তবে অপ্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে লাগেজ ভারী না করাই ভালো। নিয়মিত ব্যবহার করা ওষুধ সঙ্গে নিতে হলে সেগুলো মূল প্যাকেটে রাখুন। প্রেসক্রিপশনের ওষুধের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র সঙ্গে রাখুন এবং গন্তব্য দেশে ওষুধ বহনের নিয়ম যাচাই করুন।
মুঠোফোন, ল্যাপটপ, চার্জার, প্রয়োজনীয় কেব্ল ও পাওয়ার অ্যাডাপ্টারও গুছিয়ে নিন। গন্তব্য দেশের বৈদ্যুতিক সকেট ও ভোল্টেজের সঙ্গে আপনার ডিভাইসের সামঞ্জস্য আছে কি না, তা যাচাই করুন। গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ও নথির ডিজিটাল কপি ফোন বা নিরাপদ অনলাইন স্টোরেজে রাখুন।
পৌঁছানোর পরের পরিকল্পনাও জরুরি
বিদেশে পৌঁছে কোথায় থাকবেন, বিমানবন্দর থেকে কীভাবে আবাসনে যাবেন এবং জরুরি প্রয়োজনে কার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন—এসব আগে থেকে ঠিক করে রাখুন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী সহায়তা দপ্তর, আবাসন কর্তৃপক্ষ ও পরিচিত ব্যক্তিদের যোগাযোগের তথ্য সংরক্ষণ করুন। গন্তব্য দেশের স্থানীয় জরুরি নম্বরও জেনে নিন। ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারের ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় অর্থ বা আন্তর্জাতিকভাবে ব্যবহারযোগ্য কার্ড প্রস্তুত রাখুন।
জাতীয় পর্যায়ের উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতা ‘আইডিয়া ফেস্ট-২০২৫'-এ বিজয়ী হয়েছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীদের দল 'এসএইউ এগ্রি ৩৬০' (SAU AGRI 360)। গতকাল রোববার রাজধানীর শাহবাগে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে দলটির সদস্যদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্যরা হলেন কৃষি অনুষদের ৭৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মারুফ মোস্তফা মুনিম, কৃষি অর্থনীতি অনুষদের ৭৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. মুহাইমিনুল ইসলাম ও একই অনুষদের ৮০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. রিয়াদ মিয়া। দলনেতা মারুফ মোস্তফা মুনিমের নেতৃত্বে তাঁরা কৃষককেন্দ্রিক স্মার্ট কৃষি ইকোসিস্টেমের একটি সমন্বিত মডেল উপস্থাপন করেন।
গত ১০ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। প্রাথমিক পর্যায় থেকে নির্বাচিত ১৮টি দল সেমিফাইনালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। সেখান থেকে সাতটি দল চূড়ান্ত পর্বে জায়গা পায়।
দলটির প্রস্তাবিত মডেলে কৃষিসংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি, অর্থায়ন ও বাজারব্যবস্থাকে একটি জাতীয় নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। এর মাধ্যমে কৃষকের দোরগোড়ায় আধুনিক কৃষিসেবা পৌঁছে দেওয়া, মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং কৃষিপণ্যের সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্ভুল কৃষিপদ্ধতি, কৃষিপণ্যের মূল্য সংযোজন, রপ্তানিমুখী উৎপাদন ও নতুন কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে দলের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন মারুফ মোস্তফা মুনিম। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নে নিজেদের জ্ঞান ও উদ্ভাবনী চিন্তা কাজে লাগানোর সুযোগ তাঁদের জন্য বড় প্রাপ্তি। এ অর্জন শুধু দলের তিন সদস্যের নয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো পরিবারের গৌরব।
দলের সদস্য মো. মুহাইমিনুল ইসলাম বলেন, কৃষকের দোরগোড়ায় আধুনিক কৃষিসেবা পৌঁছে দেওয়া, সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং উৎপাদনকে বাজারমুখী করার লক্ষ্যেই তাঁদের এ মডেল তৈরি করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে কৃষকের ন্যায্য মূল্যপ্রাপ্তি ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়স্থ চট্টগ্রাম জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদের ২০২৬-২৭ মেয়াদের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী জিসাদুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন একই শিক্ষাবর্ষের ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী আবু শাহরিয়াজ অনিক।
আজ রোববার (১৮ অক্টোবর) উপদেষ্টা মণ্ডলীর সম্মতিক্রমে সাবেক সভাপতি আরাফাত চৌধুরী নিলয় ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নোমানের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়।
আগামী এক বছরের জন্য অনুমোদিত এ কমিটিতে সিনিয়র সহ-সভাপতি হয়েছেন ইকবাল হোসেন, আসরাফুল ইসলাম আসিফ ও জুনাইদুল ইসলাম। সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন অবন্তী রায়, মোবারক চৌধুরী ও সিরাজদৌল্লাহ।
কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন শান্ত শর্মা, মোহাম্মদ মিশকাত, গোবিন্দ দাশ, আকিলা হাসান, জেসমিন আক্তার, মো. জিহান, মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ ও জাহিদ হাছান রাহাত।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মো. ফাতিন ইলহাম তানজিম, মোহাম্মদ হামিদুর রহমান অভি, ইনান চৌধুরী সাব্বির, অন্ত ধর, মো. আকরাম আলী ও শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জাবির খান, মোহাম্মদ আকিব, মো. সাইদুল আলম সাব্বির, জাবিদ হাসান ও সামি উদ্দীন সাজিদ।
এ ছাড়া দপ্তর সম্পাদক হয়েছেন ফয়সাল ইসলাম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোহাম্মদ ইমতিয়াজ উদ্দীন, অর্থ সম্পাদক মো. আসিফুর রহমান, ক্রীড়া সম্পাদক মো. আল ইমরান চৌধুরি এবং সমাজসেবা সম্পাদক মোহাম্মদ ইয়াছিন।
ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক হয়েছেন শাহরিয়া আজাদ জিসান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ফছি ইবনে আলম, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক ইয়াসির আহমেদ, ধর্ম ও সম্প্রীতি সম্পাদক মো. মুস্তাকিম বিল্লাহ এবং মানবসম্পদ সম্পাদক অভিষেক চৌধুরী।
অন্যদিকে, ছাত্রীকল্যাণ সম্পাদক হয়েছেন প্রিয়ন্তি ভৌমিক রিমি, আইন বিষয়ক সম্পাদক আদিত্য দাশ গুপ্ত, শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক আবির রহমান সাধ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক রাশেদ উল্লাহ হাসান এবং তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মো. ফাহিম মুনতাসির চৌধুরী।
নবনির্বাচিত সভাপতি জিসাদুল ইসলাম বলেন, আমার ওপর আস্থা রেখে সভাপতি নির্বাচিত করায় উপদেষ্টা মণ্ডলী, সাবেক সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সংগঠনের সকল সদস্যের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করা, পারস্পরিক ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করা এবং শিক্ষার্থীদের যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকাই হবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য। সকলের সহযোগিতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সংগঠনকে আরও গতিশীল, সুসংগঠিত ও শিক্ষার্থীবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।
নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক আবু শাহরিয়াজ অনিক বলেন, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমাকে নির্বাচিত করায় সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এই দায়িত্ব আমি সম্মান ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে পালন করতে চাই। চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রাখা, নবীন শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করা এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে পাশে থাকাই হবে আমাদের অগ্রাধিকার। সভাপতিসহ কার্যনির্বাহী কমিটির সকল সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করে যেতে চাই।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পঞ্চম সমাবর্তন অনুষ্ঠানের চূড়ান্ত তারিখ ও নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী বছরের (২০২৭) ২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য সমাবর্তন উপলক্ষে আগামী ৫ থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত নিবন্ধন কার্যক্রম চলবে। সমাবর্তনে অংশগ্রহণের নিবন্ধন ফি ৫ হাজার টাকা এবং সনদ ফি ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছে কর্তৃপক্ষ। এতে অংশ নিতে পারবেন ২০১২-১৩ থেকে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) এবং ২০১৫-১৬ থেকে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীরা।
আজ রবিবার (১৮ অক্টোবর) সমাবর্তনকেন্দ্রিক নিবন্ধন উপকমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামান খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান জানান, ‘সমাবর্তন ঘিরে ইতোমধ্যে ২২টি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া একটি কেন্দ্রীয় সেল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখান থেকে সবার কার্যক্রম মনিটরিং করা হবে এবং পারস্পরিক যোগাযোগ সমন্বয় করা হবে।’
নিবন্ধনের তারিখ নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট উপকমিটি নিশ্চিত করতে পারবে।
এ ব্যাপারে সমাবর্তনকেন্দ্রিক নিবন্ধন উপকমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামান খান বলেন, “আগামী ০৫ নভেম্বর থেকে রেজিস্ট্রেশন শুরু হবে, যা ২০ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। প্রাথমিকভাবে রেজিস্ট্রেশন ফি ৫০০০ টাকা ও সনদ ফি ১০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অতিথিদের জন্য ফি পরবর্তীতে নির্ধারণ করা হবে।”
এর আগে উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান গণমাধ্যমে জানান, সমাবর্তন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জ হলেও আমরা বিকেন্দ্রীকরণের ভিত্তিতে দায়িত্ব বণ্টন করে দিয়েছি। যাতে সহজে কার্যক্রম সহজ করা যায়৷ ইতিমধ্যে যথাসময়ে কার্যক্রম সম্পন্ন করতে উপকমিটিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, আগামী ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পঞ্চম সমাবর্তন আয়োজনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। সমাবর্তন আয়োজন নির্বিঘ্ন করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিভিন্ন কমিটির মাধ্যমে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।