সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলিমুল ইসলামের পদত্যাগ ও অপসারণের দাবিতে আন্দোলন আরও জোরালো হয়েছে। উপাচার্যের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে টানা অষ্টম দিনের মতো মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এই অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়। এতে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বর্তমান উপাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক ক্ষেত্রে চরম অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হয়রানি করে আসছেন। এমনকি বিভিন্ন নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও বড় ধরনের অনিয়ম হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। বিশ্ববিদ্যালয়কে স্থবিরতা থেকে মুক্ত করে স্বাভাবিক গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে উপাচার্যের অপসারণের কোনো বিকল্প নেই বলে জানান বক্তারা।
অধ্যাপক ড. এমদাদুল হকের সভাপতিত্বে এবং জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামানের সঞ্চালনায় এই কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকরা। বক্তাদের মধ্যে ছিলেন অধ্যাপক ছিদ্দিকুল ইসলাম, সাদা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক, সাবেক সভাপতি মাহবুব ইকবাল, আতাউর রহমান ও অধ্যাপক ড. নাজমুল হক।এ ছাড়া কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা পরিষদের সভাপতি গাজী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, মোহাম্মদ নেওয়ামত উল্লাহ, বাছিত উদ্দিন, আশফাক আহমেদ, সিকৃবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক সানাউল হোসেন সনি, যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন, আশরাফুল ইসলাম ও গোলাম রাব্বানী।
আন্দোলনরত শিক্ষকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী বর্তমান প্রশাসন চলছে না। উল্টো কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মনীতি বহির্ভূতভাবে বদলি করা হচ্ছে এবং ফাইলের অজুহাতে মানসিকভাবে চাপে রাখা হচ্ছে। প্রশাসনের এমন আচরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও তার কোনো যথাযথ ফলাফল বা বিচার মিলছে না। তারা অবিলম্বে বর্তমান উপাচার্যকে অপসারণ করে ক্যাম্পাসে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন আন্দোলনকারীরা।
নোবিপ্রবিতে আয়োজিত হতে যাচ্ছে চতুর্থ ন্যাশনাল সায়েন্স ফেস্ট
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) আগামী ৩ ও ৪ অক্টোবর নোবিপ্রবি সায়েন্স ক্লাবের উদ্যোগে চতুর্থবারের মতো আয়োজিত হতে যাচ্ছে ন্যাশনাল সায়েন্স ফেস্ট ২০২৬।
এ আয়োজনে নোবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। এবারের উৎসবে মোট ৯টি সেগমেন্ট রাখা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি সেগমেন্টে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতা করতে পারবেন। চারটি সেগমেন্টে শুধুমাত্র নোবিপ্রবির বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারবেন। বাকি দুটি সেগমেন্ট স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত।
জাতীয় পর্যায়ের তিনটি ইভেন্ট হলো— পোস্টার প্রেজেন্টেশন, থ্রি মিনিটস রিসার্চ আইডিয়া প্রেজেন্টেশন ও রোবট লাইন রেস কম্পিটিশন। নোবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা, ই-স্পোর্টস, দাবা প্রতিযোগিতা ও ফটোগ্রাফি কনটেস্ট। এছাড়া স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য থাকছে প্রজেক্ট শোকেজ ও সায়েন্স অলিম্পিয়াড।
আয়োজকরা জানান, নয়টি সেগমেন্টে মোট ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার প্রদান করা হবে। সায়েন্স ফেস্টে অংশগ্রহণের জন্য রেজিস্ট্রেশনের শেষ সময় ২৫ সেপ্টেম্বর।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, গতবারের সায়েন্স ফেস্টে প্রায় ৮৫০ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেছিলেন। এবার গতবারের তুলনায় আরও বেশি সাড়া পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান তারা। এবারের আয়োজনে এক হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন আয়োজকরা।
আয়োজকরা আশা করছেন, শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অন্যান্যবারের মতো এবারও ন্যাশনাল সায়েন্স ফেস্ট ২০২৬ সুন্দর ও সফলভাবে অনুষ্ঠিত হবে।
কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মতবিনিময় সভা
কুমিল্লায় আলোচিত ইয়াশাত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী লড়বেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতি। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সমিতির নেতারা।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্স রুমে জেলা আইনজীবী সমিতি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় এ কথা জানান সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. সহিদ উল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক মো. মাহাবুবুল হক খন্দকার।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসেন সরকার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন, কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিজ্ঞ পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকোট মো: কাইমুল হক রিংকু, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
আলোচনা সভায় অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা এবং তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
অ্যাডভোকেট মো. সহিদ উল্লাহ বলেন, ‘আমরা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মৌখিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির কেউ অপ্রতিম হত্যা মামলায় আসামিদের পক্ষে লড়বেন না।’
আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী না দাঁড়ালে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কোনো ব্যাঘাত ঘটবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা যদি আসামির পক্ষে কেউ না দাঁড়াই, তাহলে রাষ্ট্র নিজেই আসামির পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করবে। কারণ একতরফা বিচার হলে সেখানে ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।’
গভর্নিং বডির নির্বাচনের দাবি অভিভাবকদের
শিক্ষার্থীর স্বার্থরক্ষাকারী সংগঠন অভিভাবক ঐক্য ফোরাম এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জিয়াউল কবির দুলু ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার একবিবৃতিতে দেশের সব বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তথা স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসায় ম্যানেজিং কমিটির ও গভর্নিং বডির নির্বাচন দেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপির সরকার প্রায় ৮ মাস ধরে সরকার পরিচালনা করে আসছে। এর পূর্বে অন্তর্বর্তী সরকার প্রায় ১৮ মাস দেশ পরিচালনা করেছে। কিন্তু অন্তর্বর্তী ও চলমান বিএনপির সরকার এখন পর্যন্ত বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসায় সরাসরি নির্বাচনের আয়োজন করেছে না। এহেন অবস্থায় বেসরকারি স্কুল, কলেজ পরিচালনায় জবাবদিহিতার অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। কোন কোন স্কুল, কলেজে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলের ন্যায় দূর্নীতি চলছে। এতে শিক্ষার যথাযথ মান উন্নয়নে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে। কোন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আর্থিক লুটপাটসহ পড়াশুনার পরিবেশও নাই। প্রায় সব বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা দীর্ঘদিন ধরে এডহক কমিটি দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।
জাতীয় নির্বাচনের পর সারাদেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করা হচ্ছে কিন্তু স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসায় ম্যানেজিং কমিটির ও গভর্নিং বডির নির্বাচনে কোন আইনগত বাধা নাই। তবুও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃপক্ষ নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থের কারনে নির্বাচন দিতে গড়িমসি করছে। বর্তমানে দেশের সব বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসায় নির্বাচন করার মতো সুষ্ঠু পরিবেশ রয়েছে। এই সুষ্ঠু পরিবেশ চলমান থাকা অবস্থায় এবং শিক্ষার্থী ভর্তি শেষে একাদশ শ্রেনিতে ক্লাস শুরুর সাথে সাথে ম্যানেজিং কমিটির/গভর্নিং বডির নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা প্রস্তুত করার কার্যক্রম শুরু করার জন্য দেশের সব বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এবং শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা দেয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
মোঃ সম্রাট
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) গোপনে নারী শিক্ষার্থীদের আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করার সময় মোঃ সম্রাট নামের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ১৭তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থীকে হাতেনাতে আটক করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। অভিযুক্তের মোবাইল ফোন তল্লাশি করে শতাধিক ছাত্রীর বিভিন্ন মুহূর্তের সংবেদনশীল ও আপত্তিকর ছবি পাওয়ার কথা জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জবির শান্ত চত্বরে অবস্থানরত নারী শিক্ষার্থীদের গোপন ছবি-ভিডিও ধারণ করতে গেলে তা বুঝতে পেরে কয়েকজন শিক্ষার্থীর সহায়তায় তাৎক্ষণিক সম্রাট নামের অভিযুক্ত সেই ছাত্রকে আটক করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত সম্রাট বিশ্ববিদ্যালয়ের 'শান্ত চত্বর' এলাকায় বসে সেখানে অবস্থানরত নারী শিক্ষার্থীদের ছবি ও ভিডিও ধারণ করছিলেন। বিষয়টি এক নারী শিক্ষার্থীর সন্দেহ হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সহপাঠী ও অন্য শিক্ষার্থীদের বিষয়টি জানান। পরে সাধারণ শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে অভিযুক্তকে ধরে ফেলেন এবং তার মোবাইল ফোন চেক করেন।
মোবাইল যাচাই করে দেখা যায়, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে বসা অন্তত একশ জন শিক্ষার্থীর ছবি এবং কিছু আপত্তিজনক ভিডিও তার ফোনে সংরক্ষিত রয়েছে। পরে শিক্ষার্থীরা অভিযুক্তকে প্রক্টর অফিসে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী মোঃ সম্রাটের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি নিজের পরিচয় জানালেও সামগ্রিক ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করতে রাজি হননি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের অতিরিক্ত দায়িত্বে নিয়োজিত অধ্যাপক ড. মো. আজম খান জানান, "ঘটনাটি আমরা অবগত আছি। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন চেক করা হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে প্রক্টর অফিসে আলোচনা চলছে। ভেতরের প্রকৃত ঘটনা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
রাজধানীর যেসব এলাকায় মানুষের বসবাস তুলনামূলক কম, সেসব স্থানে এডিস মশার লার্ভা বেশি পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। এসব এলাকায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে অভিযান পরিচালনা করায় লার্ভার উপস্থিতির তুলনায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক কম রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, বিভিন্ন এলাকায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া গেলেও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক কম রয়েছে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার কারণে এ ক্ষেত্রে সফলতা এসেছে।
তিনি বলেন, সরকারি অফিস-আদালত, তথ্য ভবন ও মার্কেটসহ যেসব স্থানে মানুষের চলাচল কম এবং পানি জমে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, সেসব জায়গায় লার্ভা শনাক্তে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। লার্ভা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে মোবাইল কোর্টও পরিচালনা করা হচ্ছে।
মশক নিধন কার্যক্রমে গাফিলতির কারণে ইতোমধ্যে দুই কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। মশক নিধনে ব্যবহৃত ওষুধ ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা ও বিশেষজ্ঞদের অনুমোদনের পর ব্যবহার করা হয় বলেও জানান তিনি।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নগরবাসীর সহযোগিতা চেয়ে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, শুধু সিটি করপোরেশনের একার পক্ষে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এ লক্ষ্যে তিন ধরনের লিফলেট বাসাবাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি নগরবাসীর সহযোগিতা চেয়ে একটি খোলা চিঠিও দেওয়া হয়েছে।
মশা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন হাসপাতালে সেন্ট্রাল ট্র্যাপ দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতালসহ প্রয়োজনীয় স্থানগুলোতে এসব ট্র্যাপ ব্যবহার করা হবে।
অনুষ্ঠানে মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার, সংরক্ষিত নারী আসন-১৬-এর সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলি, শেকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মুহাম্মদ আবুল বাশারসহ সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উপাচার্য থেকে সম্মাননা নিচ্ছেন ড. জান্নাতুল ফেরদৌস
বায়োটেকনোলজি গবেষণায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আন্তর্জাতিক ‘ইয়ং এশিয়ান বায়োটেকনোলজিস্ট প্রাইজ-২০২৬’ পেলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ফার্মেসি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস। জাপানের ‘দ্যা সোসাইটি ফর বায়োটেকনোলজি, জাপান’ (এসবিজে) তাঁকে এ সম্মাননা প্রদান করেছে।
গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে জাপানের হোক্কাইডো বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ৭৮তম (এসবিজে) কনফারেন্সে তাঁকে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
সহযোগী অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌসের পুরস্কারপ্রাপ্ত গবেষণার বিষয় হলো- ‘ইঞ্জিনিয়ারিং ন্যানোজেল ডিসপারশন ফর এডভান্সড ড্রাগ ডেলিভারি সিস্টেমস’। উন্নত ও কার্যকর ওষুধ সরবরাহব্যবস্থা (ড্রাগ ডেলিভারি সিস্টেম) তৈরিতে ন্যানোজেল ডিসপারশন নিয়ে গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তাঁর এ গবেষণা উন্নত ওষুধ সরবরাহব্যবস্থা তৈরির ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। একই সঙ্গে উন্নত ওষুধ সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে তাঁর গবেষণা ভবিষ্যতে চিকিৎসা ও ওষুধবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পুরস্কারপ্রাপ্ত সহযোগী অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, “নিজের মেধা ও মনন দিয়ে বিশ্বের গবেষকদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করেছি। আন্তর্জাতিক পুরস্কার অনুষ্ঠানে যখন আমার বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশের নাম উচ্চারিত হচ্ছিলো; তখন খুব গর্ববোধ করি।”
পুরস্কার অর্জনের পর মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ড. জান্নাতুল ফেরদৌস বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ তাঁকে অভিনন্দন জানান এবং তাঁর এ অর্জনে সন্তোষ প্রকাশ করেন।