কৃষিতে অতিরিক্ত নাইট্রোজেন সার ব্যবহারের প্রবণতা কমিয়ে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় হ্রাস ও পরিবেশ সুরক্ষায় নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) একদল শিক্ষক ও তরুণ গবেষক। বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের যৌথ উদ্যোগে তৈরি রিমোট সেন্সিংভিত্তিক নির্ভুল নাইট্রোজেন ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তিটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘N-FertiSmart’।
গবেষকদের দাবি, প্রযুক্তিটি ব্যবহার করা গেলে প্রচলিত সুপারিশের তুলনায় গড়ে প্রায় ২২ শতাংশ নাইট্রোজেন সার কম ব্যবহার করা সম্ভব।
গতকাল শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রযুক্তিটি উদ্ভাবনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এ ‘N-FertiSmart: Remote Sensing Based Precision Nitrogen Management for Sustainable Agriculture in Bangladesh’ শীর্ষক প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রকল্পটিতে জবির উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ড. মো. আতাউল গনি ও ড. এ এম এম গোলাম আদম এবং সিএসই বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন কাজ করেছেন। তাঁদের সঙ্গে দুই বিভাগের তরুণ গবেষক বিপ্লব বিশ্বাস ও মো. নাজিম শরিফও যুক্ত রয়েছেন।
গবেষকরা জানান, প্রচলিত ‘Fertilizer Recommendation Guide-2024’ (FRG-2024) অনুযায়ী প্রতি হেক্টরে প্রায় ১৭৪ কেজি নাইট্রোজেন সার প্রয়োগের সুপারিশ রয়েছে। তবে N-FertiSmart প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্ভাব্য ডিনাইট্রিফিকেশন হার হিসাব করে গবেষণায় প্রতি হেক্টরে প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেনের পরিমাণ ১৩৫ দশমিক ৭০ কেজিতে নামিয়ে আনার সম্ভাবনা পাওয়া গেছে। এতে প্রচলিত সুপারিশের তুলনায় গড়ে প্রায় ২২ শতাংশ নাইট্রোজেন সার কম ব্যবহার করা সম্ভব বলে দাবি গবেষকদের।
গবেষকদের ভাষ্য, অনেক কৃষক বেশি নাইট্রোজেন বা ইউরিয়া সার প্রয়োগ করলে ফলন বাড়বে এমন ধারণা থেকে সুপারিশকৃত মাত্রার চেয়েও বেশি সার ব্যবহার করেন। কিন্তু ফসলের গাছ প্রয়োজনের অতিরিক্ত নাইট্রোজেন গ্রহণ করতে পারে না। ফলে অতিরিক্ত সার মাটিতে থেকে যায় কিংবা বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে।
গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, নাইট্রোজেন সারের প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ডিনাইট্রিফিকেশন প্রক্রিয়ায় হারিয়ে যেতে পারে। এতে একদিকে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় বাড়ে, অন্যদিকে পানিদূষণ, গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ ও জলজ জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
গবেষকরা আরও জানান, বাংলাদেশের প্রায় ৬৫ শতাংশ কৃষিজমি প্রতিবছর কোনো না কোনোভাবে প্লাবিত হয়। প্লাবনের ফলে মাটির উর্বরতা ও পুষ্টি উপাদানের অবস্থায় পরিবর্তন ঘটে। ফলে কয়েক বছর পরপর প্রচলিত পদ্ধতিতে নির্ধারিত সার প্রয়োগের সুপারিশ সব এলাকার পরিবর্তিত মাটির অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।
এই সীমাবদ্ধতা কাটাতেই N-FertiSmart-এ স্যাটেলাইটভিত্তিক তথ্য ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তিটির মাধ্যমে নির্দিষ্ট এলাকার সম্ভাব্য ডিনাইট্রিফিকেশন হার ও নাইট্রোজেনের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণে সহায়তা পাওয়া যাবে। ফলে জমির বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সার প্রয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।
গবেষকদের মতে, প্রচলিত সার সুপারিশ নির্দিষ্ট সময় পরপর হালনাগাদ করা হলেও স্যাটেলাইটভিত্তিক এই পদ্ধতির মাধ্যমে প্রতিবছর জমির অবস্থা ও সম্ভাব্য ডিনাইট্রিফিকেশন হার বিবেচনায় নিয়ে নাইট্রোজেনের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। এতে কৃষক অতিরিক্ত সার প্রয়োগ এড়াতে পারবেন। একই সঙ্গে সার ব্যবহারের দক্ষতা বাড়বে, কৃষকের খরচ কমবে এবং পরিবেশে নাইট্রোজেনের অপচয় ও দূষণও কমানো সম্ভব হবে।
গবেষক দলের সদস্য ও জবির সিএসই বিভাগের মাস্টার অব সায়েন্সের শিক্ষার্থী বিপ্লব বিশ্বাস বলেন, “একজন গবেষক হিসেবে N-FertiSmart প্রকল্পটি নিয়ে আমি অত্যন্ত আশাবাদী ও গর্বিত। এই প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষি, রিমোট সেন্সিং এবং ডেটাভিত্তিক প্রযুক্তিকে একত্রিত করে বাস্তব কৃষি সমস্যার একটি কার্যকর সমাধান তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। গবেষণার সবচেয়ে বড় আনন্দ হলো একটি বৈজ্ঞানিক ধারণাকে মাঠপর্যায়ে ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তিতে রূপান্তর করার সুযোগ পাওয়া।”
তিনি বলেন, “এই প্রকল্প শুধু নাইট্রোজেন সার ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন নয়, বরং কৃষকের খরচ কমানো, সার ব্যবহারের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব টেকসই কৃষি গড়ে তোলার একটি সম্ভাবনাময় পদক্ষেপ।”
গবেষক দলের অন্যতম সদস্য অধ্যাপক ড. এ এম এম গোলাম আদম বলেন, “বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। উদ্ভিদের ফলনের জন্য নাইট্রোজেন অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট। আমাদের দেশে স্থান, মাটির প্রকৃতি ও ফসলভেদে নাইট্রোজেনের সুপারিশকৃত পরিমাণ নির্ধারণ করা আছে। কিন্তু তা প্রতিবছর হালনাগাদ হয় না। আমাদের এই প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিবছর সম্ভাব্য ডিনাইট্রিফিকেশন হার নির্ণয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেনের পরিমাণ নির্ধারণ করতে পারব।”
তিনি বলেন, “এর ফলে কৃষকদের সারের জন্য অতিরিক্ত ব্যয় লাঘব করে তাদের মুনাফা বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে। একইভাবে দেশে সারের ঘাটতি কমানো, পরিবেশদূষণ রোধ এবং জাতীয়ভাবে কৃষি খাতকে অনেকাংশে সমৃদ্ধ করা সম্ভব হবে।”
নিজেদের উদ্ভাবন প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যাশা জানিয়ে অধ্যাপক গোলাম আদম বলেন, “আমি সত্যিই অনেক ভালো অনুভব করব যদি আমরা আমাদের এই উদ্ভাবনকে প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিতে পারি। আর এটি তখনই সম্ভব হবে, যখন আমরা সরকারি সহায়তার মাধ্যমে বড় পরিসরে আমাদের উদ্ভাবনকে বাস্তবে সকল কৃষকের জন্য উন্মুক্ত করতে পারব। কৃষকরা আমাদের সবার জন্য সারা বছর কাজ করেন, আহারের ব্যবস্থা করেন। তাঁদের জন্য কিছু করতে পারা সত্যিই আমাদের জন্য একটি অনন্য অর্জন।”
প্রকল্পটির কম্পিউটার সায়েন্স ও প্রযুক্তিগত অংশের সঙ্গে যুক্ত অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, “স্যাটেলাইটভিত্তিক তথ্য ও ডেটা বিশ্লেষণকে কাজে লাগিয়ে কৃষিজমির অবস্থাভেদে নাইট্রোজেনের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করা সম্ভব। এর ফলে একই পরিমাণ সার সব জমিতে প্রয়োগের পরিবর্তে জমির প্রকৃত প্রয়োজন অনুযায়ী সার ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। এতে একদিকে কৃষকের খরচ কমবে, অন্যদিকে অতিরিক্ত সার ব্যবহারের কারণে পরিবেশের ওপর যে চাপ তৈরি হয়, সেটিও কমানো সম্ভব হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা এই গবেষণার জন্য তথ্য মন্ত্রণালয় থেকেও অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি। উদ্ভাবনটি বর্তমানে নভোথিয়েটারে আয়োজিত বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে উপস্থাপন করা হয়েছে।”
গবেষক দলের অন্যতম প্রধান সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আতাউল গনি বলেন, “আমাদের এই উদ্ভাবনটি নিয়ে কাজ করার মূল অনুপ্রেরণা হলো বাংলাদেশের কৃষিতে নাইট্রোজেন সার ব্যবহারে দক্ষতা বাড়ানো এবং অপ্রয়োজনীয় নাইট্রোজেন ক্ষয় কমানো। বিশেষ করে দেশের প্লাবন ও জলাবদ্ধতাপ্রবণ কৃষিজমিতে মাটি ও পানির অবস্থা সময়ের সঙ্গে দ্রুত পরিবর্তিত হয়। ফলে একই জমিতে সবসময় একই মাত্রায় সার প্রয়োগ কার্যকর নাও হতে পারে।”
তিনি বলেন, “N-FertiSmart-এর মাধ্যমে আমরা স্যাটেলাইট তথ্য ও ডিনাইট্রিফিকেশনভিত্তিক নাইট্রোজেন ক্ষয়ঝুঁকি বিশ্লেষণকে বিদ্যমান FRG-2024 সার সুপারিশের সঙ্গে সমন্বয় করে কৃষকের জন্য আরও স্থান ও সময়ভিত্তিক নাইট্রোজেন ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে চাই।”
অধ্যাপক আতাউল গনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো সঠিক পরিমাণে, সঠিক সময়ে এবং সঠিক পদ্ধতিতে নাইট্রোজেন সার প্রয়োগের মাধ্যমে ফসলের উৎপাদনশীলতা বজায় রেখে সার অপচয়, অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং পরিবেশগত দূষণ কমানো।”
নিজের অনুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, “একজন গবেষক হিসেবে আমার কাছে সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো, গবেষণাগারে তৈরি একটি বৈজ্ঞানিক ধারণাকে বাস্তব কৃষি সমস্যার সমাধানে এবং ভবিষ্যতে কৃষকের ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তিতে রূপ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আমি আশা করি N-FertiSmart বাংলাদেশের টেকসই ও জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ব্যবস্থাপনায় একটি কার্যকর অবদান রাখতে পারবে।”
এখন কবে নাগাদ প্রযুক্তিটির মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করে কৃষিতে নাইট্রোজেন ব্যবহারের প্রচলিত ধারণায় পরিবর্তন আনার পাশাপাশি কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমানো, সারের অপচয় রোধ এবং পরিবেশগত ক্ষতি নিয়ন্ত্রণের এই নতুন সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো হবে সেদিকেই তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর ফলে একই পরিমাণ সার সব জমিতে প্রয়োগের পরিবর্তে জমির প্রকৃত প্রয়োজন অনুযায়ী সার ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। এতে একদিকে কৃষকের খরচ কমবে, অন্যদিকে অতিরিক্ত সার ব্যবহারের কারণে পরিবেশের ওপর যে চাপ তৈরি হয়, সেটিও কমানো সম্ভব হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা এই গবেষণার জন্য তথ্য মন্ত্রণালয় থেকেও অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি। উদ্ভাবনটি বর্তমানে নভোথিয়েটারে আয়োজিত বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে উপস্থাপন করা হয়েছে।”
গবেষক দলের অন্যতম প্রধান সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আতাউল গনি বলেন, “আমাদের এই উদ্ভাবনটি নিয়ে কাজ করার মূল অনুপ্রেরণা হলো বাংলাদেশের কৃষিতে নাইট্রোজেন সার ব্যবহারে দক্ষতা বাড়ানো এবং অপ্রয়োজনীয় নাইট্রোজেন ক্ষয় কমানো। বিশেষ করে দেশের প্লাবন ও জলাবদ্ধতাপ্রবণ কৃষিজমিতে মাটি ও পানির অবস্থা সময়ের সঙ্গে দ্রুত পরিবর্তিত হয়। ফলে একই জমিতে সবসময় একই মাত্রায় সার প্রয়োগ কার্যকর নাও হতে পারে।”
তিনি বলেন, “N-FertiSmart-এর মাধ্যমে আমরা স্যাটেলাইট তথ্য ও ডিনাইট্রিফিকেশনভিত্তিক নাইট্রোজেন ক্ষয়ঝুঁকি বিশ্লেষণকে বিদ্যমান FRG-2024 সার সুপারিশের সঙ্গে সমন্বয় করে কৃষকের জন্য আরও স্থান ও সময়ভিত্তিক নাইট্রোজেন ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে চাই।”
অধ্যাপক আতাউল গনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো সঠিক পরিমাণে, সঠিক সময়ে এবং সঠিক পদ্ধতিতে নাইট্রোজেন সার প্রয়োগের মাধ্যমে ফসলের উৎপাদনশীলতা বজায় রেখে সার অপচয়, অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং পরিবেশগত দূষণ কমানো।”
নিজের অনুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, “একজন গবেষক হিসেবে আমার কাছে সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো, গবেষণাগারে তৈরি একটি বৈজ্ঞানিক ধারণাকে বাস্তব কৃষি সমস্যার সমাধানে এবং ভবিষ্যতে কৃষকের ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তিতে রূপ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আমি আশা করি N-FertiSmart বাংলাদেশের টেকসই ও জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ব্যবস্থাপনায় একটি কার্যকর অবদান রাখতে পারবে। এর ফলে একই পরিমাণ সার সব জমিতে প্রয়োগের পরিবর্তে জমির প্রকৃত প্রয়োজন অনুযায়ী সার ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। এতে একদিকে কৃষকের খরচ কমবে, অন্যদিকে অতিরিক্ত সার ব্যবহারের কারণে পরিবেশের ওপর যে চাপ তৈরি হয়, সেটিও কমানো সম্ভব হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা এই গবেষণার জন্য তথ্য মন্ত্রণালয় থেকেও অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি। উদ্ভাবনটি বর্তমানে নভোথিয়েটারে আয়োজিত বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে উপস্থাপন করা হয়েছে।”
গবেষক দলের অন্যতম প্রধান সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আতাউল গনি বলেন, “আমাদের এই উদ্ভাবনটি নিয়ে কাজ করার মূল অনুপ্রেরণা হলো বাংলাদেশের কৃষিতে নাইট্রোজেন সার ব্যবহারে দক্ষতা বাড়ানো এবং অপ্রয়োজনীয় নাইট্রোজেন ক্ষয় কমানো। বিশেষ করে দেশের প্লাবন ও জলাবদ্ধতাপ্রবণ কৃষিজমিতে মাটি ও পানির অবস্থা সময়ের সঙ্গে দ্রুত পরিবর্তিত হয়। ফলে একই জমিতে সবসময় একই মাত্রায় সার প্রয়োগ কার্যকর নাও হতে পারে।”
তিনি বলেন, “N-FertiSmart-এর মাধ্যমে আমরা স্যাটেলাইট তথ্য ও ডিনাইট্রিফিকেশনভিত্তিক নাইট্রোজেন ক্ষয়ঝুঁকি বিশ্লেষণকে বিদ্যমান FRG-2024 সার সুপারিশের সঙ্গে সমন্বয় করে কৃষকের জন্য আরও স্থান ও সময়ভিত্তিক নাইট্রোজেন ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে চাই।”
অধ্যাপক আতাউল গনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো সঠিক পরিমাণে, সঠিক সময়ে এবং সঠিক পদ্ধতিতে নাইট্রোজেন সার প্রয়োগের মাধ্যমে ফসলের উৎপাদনশীলতা বজায় রেখে সার অপচয়, অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং পরিবেশগত দূষণ কমানো।”
নিজের অনুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, “একজন গবেষক হিসেবে আমার কাছে সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো, গবেষণাগারে তৈরি একটি বৈজ্ঞানিক ধারণাকে বাস্তব কৃষি সমস্যার সমাধানে এবং ভবিষ্যতে কৃষকের ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তিতে রূপ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আমি আশা করি N-FertiSmart বাংলাদেশের টেকসই ও জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ব্যবস্থাপনায় একটি কার্যকর অবদান রাখতে পারবে।”
এখন কবে নাগাদ প্রযুক্তিটির মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করে কৃষিতে নাইট্রোজেন ব্যবহারের প্রচলিত ধারণায় পরিবর্তন আনার পাশাপাশি কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমানো, সারের অপচয় রোধ এবং পরিবেশগত ক্ষতি নিয়ন্ত্রণের এই নতুন সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো হবে সেদিকেই তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্টরা।
আগামী ২৪ জানুয়ারি আয়োজিত হতে যাওয়া নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ৩য় সমাবর্তনে ২০১৪-১৫ থেকে ২০২০-২১ সেশন পর্যন্ত যে সকল শিক্ষার্থী মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের পরিবারকে বিশেষ মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান করবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য নিশ্চিত করেন নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
উপাচার্য বলেন, ‘সমাবর্তন শুধু সনদ বিতরণের অনুষ্ঠান নয়, এটি পুরো নোবিপ্রবি পরিবারের মিলনমেলা। এই দীর্ঘ সময়ে আমরা আমাদের যে সকল প্রিয় শিক্ষার্থীকে হারিয়েছি, তাঁদের স্মৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে অমলিন। সমাবর্তনের মূল আয়োজনে ১০ম থেকে ১৬তম ব্যাচের প্রয়াত শিক্ষার্থীদের স্মরণে তাঁদের পরিবারের হাতে মরণোত্তর সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে।’
তিনি আরও জানান, সমাবর্তন উৎসবমুখর ও সুশৃঙ্খল করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। নিবন্ধনের সার্বিক অগ্রগতি এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার বিষয়েও প্রশাসন ইতিবাচক দৃষ্টি রাখছে।
জবিতে খালেদা জিয়ার ছবি বিকৃতিকারীকে আটক ও পুলিশে সোপর্দ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক আহ্বায়ক সাখাওয়াতুল ইসলাম খান পরাগের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের পাশের দেয়ালে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ছবিতে বিকৃতিকারী এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।
গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত পৌনে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের পাশে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, আটককৃত ব্যক্তি চাঁদপুর থেকে ঢাকায় এসেছেন এবং জাতীয় পার্টির দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন বলে জানিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে রিকশা থেকে নামার সময় দেয়ালে থাকা বেগম খালেদা জিয়ার ছবিতে এক ব্যক্তিকে কিছু লাগাতে দেখা যায়। এ সময়ে জবি ছাত্রদল নেতা পরাগের নেতৃত্বে কয়েকজন নেতাকর্মী এবং নিরাপত্তাকর্মী দ্রুত এগিয়ে গিয়ে তাকে আটক করেন এবং নিরাপত্তা বক্সে নিয়ে যান।
জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তি জানান, তিনি চাঁদপুর থেকে ঢাকায় এসেছেন। জাতীয় পার্টির দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম চৌধুরীর সঙ্গে বিশেষ প্রয়োজনে দেখা করতে এসেছেন বলেও দাবি করেন। তার সঙ্গে কোনো মোবাইল ফোন বা মানিব্যাগ ছিল না বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। পরে পরাগ থানায় যোগাযোগ করলে পুলিশ এসে তাকে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে জবি ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক সাখাওয়াতুল ইসলাম খান পরাগ বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাদের রেডলাইন। বেগম খালেদা জিয়ার ছবি বিকৃতি করায় অজ্ঞাতনামা ফ্যাসিস্টদের সহযোগী এই ব্যক্তিকে ধরে পিটিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেই।
তিনি আরও বলেন, "সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছবি বিকৃতির বিষয়টি অত্যন্ত নিন্দনীয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আমরা চাই, ঘটনার সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসুক এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।"
এদিকে আটককৃত ব্যক্তির বিস্তারিত পরিচয়, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ঘটনায় পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে কোতোয়ালি থানার ওসি কে এম রবিউল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নোবিপ্রবিতে বিটিসি ও এমআইএস ডে’র উদ্বোধন অনুষ্ঠিত
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস্ (এমআইএস) বিভাগের আয়োজনে দুই দিনব্যাপী ‘বিটিসি ও এমআইএস ডে ২০২৬' এর উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) বর্ণাঢ্য র্যালি ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
নোবিপ্রবি বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস্ এমন একটি সমন্বিত ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ ও যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হয়। আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই এমআইএসের গুরুত্ব অপরিসীম। বর্তমানে শুধু তথ্য সংগ্রহ করাই যথেষ্ট নয়, বরং তথ্যকে বিশ্লেষণ করে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।
উপাচার্য আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিগ ডেটা, ক্লাউড কম্পিউটিং ও ডিজিটাল অটোমেশনের এই সময়ে এমআইএসের জ্ঞান নতুন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে। নোবিপ্রবির এমআইএস বিভাগের শিক্ষার্থীরাও তাদের অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের ডিজিটাল রূপান্তর, ব্যবসায়িক উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা করছি।
বক্তব্যে এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা, সৃজনশীলতা ও নতুন কিছু উদ্ভাবনে উৎসাহিত করবে বলে উল্লেখ করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস্ (এমআইএস) বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. জিয়াউল হক। এ সময় এমআইএস সহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, আয়োজনের প্রথম দিন থাকছে, পোস্টার প্রেজেন্টেশন, প্রোগ্রামিং, ই-গেমিং ও বিজনেস কেস প্রতিযোগিতা। দ্বিতীয় দিনে রয়েছে ‘ইন্টারন্যাশনাল কলোকোইয়াম অব বিজনেস এন্ড টেকনোলজি’ প্রতিপাদ্যে কি-নোট স্পিকারদের প্রেজেন্টেশন ও টেকনিক্যাল সেশন। এতে কি-নোট স্পিকার হিসেবে রয়েছেন হালিমা গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল কালাম হাসান, কুমিল্লা বার্ডের উপ-পরিচালক অসীম কুমার সরকার ও থ্রাইভিং স্কিলস লিমিটেডের ফাউন্ডার এন্ড সিইও মো. আবদুল্লাহ আল মাহমুদ। বিশ^বিদ্যালয়ের এমআইএস নেট এর উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের স্পন্সর হিসেবে রয়েছে হালিমা গ্রুপ।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে প্রতিদিন বেলা ১১টার পর কোনো ক্লাসে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।
পুরোনো গবেষণার মাঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মতবিনিময় সভা শেষে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
সভা শেষে শিক্ষার্থীরা জানান, পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পর্যায়ের পরীক্ষা বর্জন করবেন তারা। পাশাপাশি প্রতিদিন বেলা ১১টার পর কোনো ক্লাসেও অংশ নেবেন না।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ওয়াসিউল হাসান সরকার বলেন, আন্দোলন আরও বেগবান করতে আজ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে তিন দিনের সময় দিয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল। ওই সময়ের মধ্যে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে বলা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
পুরোনো গবেষণার মাঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। মাঠটিতে সচিবালয় স্থাপনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তারা মানববন্ধন, বিক্ষোভ, অবস্থান ও সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গা এবং সেখানে কৃষিবিষয়ক গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যলয়ের কাছে দেওয়া হোক। মাঠটি সচিবালয়ের জন্য ব্যবহার করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের পাশে সচিবালয় স্থাপিত হলে ভবিষ্যতে নানা সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।
এদিকে গত বুধবার পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে নির্মাণাধীন দুটি মেলার স্থাপনা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মেলা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। তবে গবেষণার মাঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ১৮ সদস্যবিশিষ্ট এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গত রোববার (১ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের কার্যক্রম পুনর্গঠনের লক্ষ্যে আয়োজিত সাধারণ সভায় এ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বর্তমানে অ্যাসোসিয়েশনের কোনো কার্যকর কমিটি না থাকায় সভায় উপস্থিত সদস্যরা একটি এডহক কমিটি গঠনে সম্মত হন। কমিটির সাচিবিক দায়িত্ব পালনের জন্য কৃষিবিদ শেখ কামরুল হাসানকে মনোনীত করা হয়।
কৃষিবিদ আনোয়ারুল নবী মজুমদারের (বাবলা) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রবীণ ও নবীন কৃষিবিদ নেতৃবৃন্দের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে ১৮ সদস্যের এ কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির সদস্যরা হলেন কৃষিবিদ রাশিদুল হাসান হারুন, কৃষিবিদ ড. কামরুজ্জামান কায়সার, কৃষিবিদ ড. সারোয়ার হোসেন, কৃষিবিদ ড. নাজমুল আমিন মজুমদার, কৃষিবিদ ড. খন্দকার মাহফুজুল হক (বাচ্চু), কৃষিবিদ খন্দকার আসাদুজ্জামান কিটন, কৃষিবিদ ড. এম. সালাহউদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী, কৃষিবিদ ড. নাহিদ জেবা, কৃষিবিদ চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল ফারুক, কৃষিবিদ ড. মাসুদুল হক ঝন্টু, কৃষিবিদ ড. এফ. এম. আমিনুজ্জামান, কৃষিবিদ মোহাম্মদ আবুল বাশার, কৃষিবিদ আবু হেনা মোস্তফা কামাল পান্না, কৃষিবিদ সাইফুল্লা আজাদ, কৃষিবিদ ড. মোহা. আশাবুল হক আশা এবং কৃষিবিদ মোকাদ্দিছুল মোমিন মিঠুন।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, এডহক কমিটির সদস্যরা নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের কার্যকর কমিটি গঠন করবেন।
সভায় গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধার স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এম. সালাহউদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে স্বাগত জানান। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের অবস্থান এবং গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধারের সার্বিক পরিস্থিতি সভায় উপস্থিত সদস্যদের সামনে তুলে ধরেন। পরে কৃষিবিদ নেতৃবৃন্দের বক্তব্য ও বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধারের বিষয়ে কয়েকটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এমবিবিএস ও বিডিএস কোর্সে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ দিচ্ছে পাকিস্তান। পাকিস্তান সরকারের বৃত্তিমূলক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে মোট ২৫ জন বাংলাদেশি এ সুযোগ পাবেন। আগ্রহী শিক্ষার্থীদের ১৬ নভেম্বর ২০২৬–এর মধ্যে আবেদনপত্র জমা দিতে হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পাকিস্তান সরকার পাকিস্তান টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম সেশনের (২০২৬-২৭) অধীনে পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এমবিবিএস ২০টি ও বিডিএস ৫টি কোর্সে ভর্তির ঘোষণা দিয়েছে।
এই প্রোগ্রামের আবেদনপত্র এবং বিস্তারিত তথ্য মিনিস্ট্রি অব ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্সের ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করা যাবে। সম্পূর্ণ আবেদনপত্র ১৬ নভেম্বরের মধ্যে ঢাকার পাকিস্তান হাইকমিশনে পাঠাতে হবে।