দেশের কৃষি উৎপাদনে ইউরিয়া সারের অপচয় দীর্ঘদিনের একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মাঠে প্রয়োগ করা সারের উল্লেখযোগ্য অংশ গাছ শোষণ করতে না পারায় তা বাতাসে উড়ে যায়, আবার একাংশ মাটির নিচে লিচিং হয়ে পানিদূষণ ঘটায়। একই সঙ্গে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের মাধ্যমে পরিবেশের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এতে যেমন কৃষকের উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, তেমনি পরিবেশগত ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এ প্রেক্ষাপটে পরিবেশবান্ধব সমাধান হিসেবে বায়োচার (কার্বন) সমৃদ্ধ ন্যানো ইউরিয়া নিয়ে কাজ করছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক। তাদের উদ্ভাবিত এই প্রযুক্তি ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে প্রয়োগে প্রাথমিক সফলতা দেখিয়েছে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-এ পরিচালিত পরীক্ষায় ন্যানো ইউরিয়া ব্যবহারে ধান উৎপাদনে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
গবেষণায় ইউরিয়া সারের কণাকে ২০ থেকে ৫০ ন্যানোমিটার আকারে রূপান্তর করে বায়োচার দ্বারা আবৃত করা হয়েছে। এর ফলে ধীরে ধীরে নাইট্রোজেন নিঃসরণ হয় এবং ফসলের প্রয়োজন অনুযায়ী দীর্ঘ সময় ধরে পুষ্টি সরবরাহ সম্ভব হয়। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে নাইট্রোজেন ব্যবহারের দক্ষতা ৭৫ থেকে ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব। পাশাপাশি অ্যামোনিয়া অপচয় ও গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ন্যানো-কার্বন কোটেড ইউরিয়া ব্যবহারে প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ কম সার প্রয়োগ করেও সমপরিমাণ বা তার চেয়ে বেশি ফলন পাওয়া সম্ভব। এতে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে ধানের ফলন ১০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি এবং ফসলের গুণগত মান উন্নয়নের সম্ভাবনাও লক্ষ্য করা গেছে।
এবিষয়ে প্রধান গবেষক ও বাকৃবির কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমেদ খায়রুল হাসান বলেন, 'প্রতি বছর সরকারকে ইউরিয়া সারে প্রচুর পরিমাণ ভর্তুকি দিতে হয়। কৃষকেরাও সবচেয়ে বেশি এই ইউরিয়া সারই ব্যবহার করেন। যা নিয়ে প্রায়ই বিভিন্ন ধরনের জটিলতা বা সমস্যা দেখা দেয়। এসব বিষয় মাথায় রেখেই সারের খরচ কমানো এবং পরিবেশ রক্ষার উদ্দেশ্যে আমার গবেষণার কাজ শুরু করি। প্রাথমিকভাবে আমার যে অনুমান ছিল সেই অনুমানে মাঠ পর্যায়ে প্রাথমিকভাবে আমরা সফল।'
তিনি আরও বলেন, 'পরবর্তীতে আরও কিছু পরীক্ষণের মাধ্যমে আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারব যে আমাদের এই ন্যানো ইউরিয়া প্রযুক্তিটি কতটুকু সফল হয়েছে। তবে আমি আশাবাদী যে আগামী মৌসুমেই আমরা এ বিষয়ে একটি পরিষ্কার ধারণা দিতে পারব। এটি যদি বৃহত্তর পরিসরে উৎপাদন করা যায় এবং মাঠ পর্যায়ে পরীক্ষা করা যায় তবেই এটি নিশ্চিতভাবে বলা যাবে। বিশেষ করে বাংলাদেশের ধান চাষের জন্য এই ন্যানো ইউরিয়া সার একটি অত্যন্ত কার্যকর প্রযুক্তি হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।'
গবেষণার সাথে সংশ্লিষ্ট পিএইচডি ফেলো আমজাদ হোসেন বলেন, ন্যানো ইউরিয়া সিনথেসিস এবং বৈশিষ্ট্য নির্ধারণে আমরা সফল হয়েছি। মাঠ পর্যায়ে প্রয়োগে আমরা প্রায় সাফল্যের পথে। যদি ন্যানো ইউরিয়া ব্যবহারে ফলন সমান থাকে তবুও আমরা সফল বলবো। কারণ প্রথাগত ইউরিয়া তিন বার দিতে হয় কিন্তু ন্যানো একবারে দিয়ে হবে। যেহেতু বায়োচার আকারে দিবে এতে কার্বন এমিশন কম হবে। মাটির গুণাগুণ বজায় থাকবে সমৃদ্ধি হবে। আর্থিকভাবেও কৃষক লাভবান হবে।'
মাটির কার্বন সমৃদ্ধের বিষয়ে ব্রি'র মৃত্তিকা বিজ্ঞানী ড. মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, 'প্রথাগত ইউরিয়া ব্যবহারে গ্রিনহাউস গ্যাস বিশেষ করে নাইট্রাস গ্যাস এমিশন বেশি হয়। এতে পরিবেশ হুমকির মধ্যে পড়ে। তবে যদি ইউরিয়াকে বায়োচর সমৃদ্ধ করে প্রয়োগ করা যাই তাহলে ২০-২২ শতাংশ কার্বন এমিশন কমানো যাবে। এতে মাটির কার্বন সমৃদ্ধ হয়ে উর্বরতা বৃদ্ধি করবে। এটা অনেক বড় অর্জন হবে।'
এবিষয়ে কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের (কেজিএফ) মৃত্তিকা বিজ্ঞানী ড. মো. মনোয়ার করিম খান বলেন, এখানে ৮০ শতাংশ ন্যানো ইউরিয়া আর ১০০ শতাংশ প্রিলড ইউরিয়া ব্যবহার করা হয়েছে। যদি দুইটার ফলাফলকে আমরা পাশাপাশি রাখি তাহলে দেখতে পারব উভয়ই প্রায় একই রকম ফলন দিচ্ছে। যদি ন্যানো ইউরিয়া প্রযুক্তির মাধ্যমে সাধারণ ইউরিয়ার মতোই ফলন পাই তাহলে এটাকে প্রিলড ইউরিয়ার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করতে পারব এবং এটি কৃষকদের জন্যেও অনেক সাশ্রয়ী হবে। পাশাপশি সরকারের উপর কৃষি সারের বড় অংকের ভর্তুকি, গত বছরও যেটার পরিমাণ ছিল প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকা। এই চাপ হ্রাস পাবে।'
ব্রি'র গবেষণা উইংয়ের পরিচালক ড. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম মূল লক্ষ্য 'প্রিসিশন এগ্রিকালচার' বা সূক্ষ্ম কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ন্যানো ইউরিয়া প্রযুক্তি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সময়োপযোগী সমাধান হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের পরীক্ষণে দেখা গেছে, যেখানে সাধারণ ইউরিয়া সার তিনবার এবং বিপুল পরিমাণে প্রয়োগ করতে হয়, সেখানে ন্যানো ইউরিয়া মাত্র একবার ব্যবহার করেই আমরা কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন নিশ্চিত করতে পারছি। এতে আমাদের কৃষকদের শ্রম ও খরচ উভয়ই কমবে। সাধারণ ইউরিয়া ব্যবহারের ফলে ধান ক্ষেতের মাটি থেকে যে গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরিত হয়, ন্যানো প্রযুক্তির মাধ্যমে সেই নিঃসরণ কমিয়ে আমরা একটি নির্মল পরিবেশ গড়ে তুলতে পারব।
আগামী ২৪ জানুয়ারি আয়োজিত হতে যাওয়া নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ৩য় সমাবর্তনে ২০১৪-১৫ থেকে ২০২০-২১ সেশন পর্যন্ত যে সকল শিক্ষার্থী মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের পরিবারকে বিশেষ মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান করবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য নিশ্চিত করেন নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
উপাচার্য বলেন, ‘সমাবর্তন শুধু সনদ বিতরণের অনুষ্ঠান নয়, এটি পুরো নোবিপ্রবি পরিবারের মিলনমেলা। এই দীর্ঘ সময়ে আমরা আমাদের যে সকল প্রিয় শিক্ষার্থীকে হারিয়েছি, তাঁদের স্মৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে অমলিন। সমাবর্তনের মূল আয়োজনে ১০ম থেকে ১৬তম ব্যাচের প্রয়াত শিক্ষার্থীদের স্মরণে তাঁদের পরিবারের হাতে মরণোত্তর সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে।’
তিনি আরও জানান, সমাবর্তন উৎসবমুখর ও সুশৃঙ্খল করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। নিবন্ধনের সার্বিক অগ্রগতি এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার বিষয়েও প্রশাসন ইতিবাচক দৃষ্টি রাখছে।
জবিতে খালেদা জিয়ার ছবি বিকৃতিকারীকে আটক ও পুলিশে সোপর্দ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক আহ্বায়ক সাখাওয়াতুল ইসলাম খান পরাগের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের পাশের দেয়ালে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ছবিতে বিকৃতিকারী এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।
গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত পৌনে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের পাশে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, আটককৃত ব্যক্তি চাঁদপুর থেকে ঢাকায় এসেছেন এবং জাতীয় পার্টির দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন বলে জানিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে রিকশা থেকে নামার সময় দেয়ালে থাকা বেগম খালেদা জিয়ার ছবিতে এক ব্যক্তিকে কিছু লাগাতে দেখা যায়। এ সময়ে জবি ছাত্রদল নেতা পরাগের নেতৃত্বে কয়েকজন নেতাকর্মী এবং নিরাপত্তাকর্মী দ্রুত এগিয়ে গিয়ে তাকে আটক করেন এবং নিরাপত্তা বক্সে নিয়ে যান।
জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তি জানান, তিনি চাঁদপুর থেকে ঢাকায় এসেছেন। জাতীয় পার্টির দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম চৌধুরীর সঙ্গে বিশেষ প্রয়োজনে দেখা করতে এসেছেন বলেও দাবি করেন। তার সঙ্গে কোনো মোবাইল ফোন বা মানিব্যাগ ছিল না বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। পরে পরাগ থানায় যোগাযোগ করলে পুলিশ এসে তাকে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে জবি ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক সাখাওয়াতুল ইসলাম খান পরাগ বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাদের রেডলাইন। বেগম খালেদা জিয়ার ছবি বিকৃতি করায় অজ্ঞাতনামা ফ্যাসিস্টদের সহযোগী এই ব্যক্তিকে ধরে পিটিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেই।
তিনি আরও বলেন, "সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছবি বিকৃতির বিষয়টি অত্যন্ত নিন্দনীয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আমরা চাই, ঘটনার সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসুক এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।"
এদিকে আটককৃত ব্যক্তির বিস্তারিত পরিচয়, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ঘটনায় পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে কোতোয়ালি থানার ওসি কে এম রবিউল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নোবিপ্রবিতে বিটিসি ও এমআইএস ডে’র উদ্বোধন অনুষ্ঠিত
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস্ (এমআইএস) বিভাগের আয়োজনে দুই দিনব্যাপী ‘বিটিসি ও এমআইএস ডে ২০২৬' এর উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) বর্ণাঢ্য র্যালি ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
নোবিপ্রবি বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস্ এমন একটি সমন্বিত ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ ও যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হয়। আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই এমআইএসের গুরুত্ব অপরিসীম। বর্তমানে শুধু তথ্য সংগ্রহ করাই যথেষ্ট নয়, বরং তথ্যকে বিশ্লেষণ করে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।
উপাচার্য আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিগ ডেটা, ক্লাউড কম্পিউটিং ও ডিজিটাল অটোমেশনের এই সময়ে এমআইএসের জ্ঞান নতুন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে। নোবিপ্রবির এমআইএস বিভাগের শিক্ষার্থীরাও তাদের অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের ডিজিটাল রূপান্তর, ব্যবসায়িক উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা করছি।
বক্তব্যে এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা, সৃজনশীলতা ও নতুন কিছু উদ্ভাবনে উৎসাহিত করবে বলে উল্লেখ করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস্ (এমআইএস) বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. জিয়াউল হক। এ সময় এমআইএস সহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, আয়োজনের প্রথম দিন থাকছে, পোস্টার প্রেজেন্টেশন, প্রোগ্রামিং, ই-গেমিং ও বিজনেস কেস প্রতিযোগিতা। দ্বিতীয় দিনে রয়েছে ‘ইন্টারন্যাশনাল কলোকোইয়াম অব বিজনেস এন্ড টেকনোলজি’ প্রতিপাদ্যে কি-নোট স্পিকারদের প্রেজেন্টেশন ও টেকনিক্যাল সেশন। এতে কি-নোট স্পিকার হিসেবে রয়েছেন হালিমা গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল কালাম হাসান, কুমিল্লা বার্ডের উপ-পরিচালক অসীম কুমার সরকার ও থ্রাইভিং স্কিলস লিমিটেডের ফাউন্ডার এন্ড সিইও মো. আবদুল্লাহ আল মাহমুদ। বিশ^বিদ্যালয়ের এমআইএস নেট এর উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের স্পন্সর হিসেবে রয়েছে হালিমা গ্রুপ।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে প্রতিদিন বেলা ১১টার পর কোনো ক্লাসে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।
পুরোনো গবেষণার মাঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মতবিনিময় সভা শেষে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
সভা শেষে শিক্ষার্থীরা জানান, পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পর্যায়ের পরীক্ষা বর্জন করবেন তারা। পাশাপাশি প্রতিদিন বেলা ১১টার পর কোনো ক্লাসেও অংশ নেবেন না।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ওয়াসিউল হাসান সরকার বলেন, আন্দোলন আরও বেগবান করতে আজ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে তিন দিনের সময় দিয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল। ওই সময়ের মধ্যে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে বলা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
পুরোনো গবেষণার মাঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। মাঠটিতে সচিবালয় স্থাপনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তারা মানববন্ধন, বিক্ষোভ, অবস্থান ও সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গা এবং সেখানে কৃষিবিষয়ক গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যলয়ের কাছে দেওয়া হোক। মাঠটি সচিবালয়ের জন্য ব্যবহার করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের পাশে সচিবালয় স্থাপিত হলে ভবিষ্যতে নানা সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।
এদিকে গত বুধবার পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে নির্মাণাধীন দুটি মেলার স্থাপনা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মেলা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। তবে গবেষণার মাঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ১৮ সদস্যবিশিষ্ট এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গত রোববার (১ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের কার্যক্রম পুনর্গঠনের লক্ষ্যে আয়োজিত সাধারণ সভায় এ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বর্তমানে অ্যাসোসিয়েশনের কোনো কার্যকর কমিটি না থাকায় সভায় উপস্থিত সদস্যরা একটি এডহক কমিটি গঠনে সম্মত হন। কমিটির সাচিবিক দায়িত্ব পালনের জন্য কৃষিবিদ শেখ কামরুল হাসানকে মনোনীত করা হয়।
কৃষিবিদ আনোয়ারুল নবী মজুমদারের (বাবলা) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রবীণ ও নবীন কৃষিবিদ নেতৃবৃন্দের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে ১৮ সদস্যের এ কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির সদস্যরা হলেন কৃষিবিদ রাশিদুল হাসান হারুন, কৃষিবিদ ড. কামরুজ্জামান কায়সার, কৃষিবিদ ড. সারোয়ার হোসেন, কৃষিবিদ ড. নাজমুল আমিন মজুমদার, কৃষিবিদ ড. খন্দকার মাহফুজুল হক (বাচ্চু), কৃষিবিদ খন্দকার আসাদুজ্জামান কিটন, কৃষিবিদ ড. এম. সালাহউদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী, কৃষিবিদ ড. নাহিদ জেবা, কৃষিবিদ চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল ফারুক, কৃষিবিদ ড. মাসুদুল হক ঝন্টু, কৃষিবিদ ড. এফ. এম. আমিনুজ্জামান, কৃষিবিদ মোহাম্মদ আবুল বাশার, কৃষিবিদ আবু হেনা মোস্তফা কামাল পান্না, কৃষিবিদ সাইফুল্লা আজাদ, কৃষিবিদ ড. মোহা. আশাবুল হক আশা এবং কৃষিবিদ মোকাদ্দিছুল মোমিন মিঠুন।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, এডহক কমিটির সদস্যরা নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের কার্যকর কমিটি গঠন করবেন।
সভায় গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধার স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এম. সালাহউদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে স্বাগত জানান। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের অবস্থান এবং গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধারের সার্বিক পরিস্থিতি সভায় উপস্থিত সদস্যদের সামনে তুলে ধরেন। পরে কৃষিবিদ নেতৃবৃন্দের বক্তব্য ও বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধারের বিষয়ে কয়েকটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এমবিবিএস ও বিডিএস কোর্সে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ দিচ্ছে পাকিস্তান। পাকিস্তান সরকারের বৃত্তিমূলক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে মোট ২৫ জন বাংলাদেশি এ সুযোগ পাবেন। আগ্রহী শিক্ষার্থীদের ১৬ নভেম্বর ২০২৬–এর মধ্যে আবেদনপত্র জমা দিতে হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পাকিস্তান সরকার পাকিস্তান টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম সেশনের (২০২৬-২৭) অধীনে পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এমবিবিএস ২০টি ও বিডিএস ৫টি কোর্সে ভর্তির ঘোষণা দিয়েছে।
এই প্রোগ্রামের আবেদনপত্র এবং বিস্তারিত তথ্য মিনিস্ট্রি অব ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্সের ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করা যাবে। সম্পূর্ণ আবেদনপত্র ১৬ নভেম্বরের মধ্যে ঢাকার পাকিস্তান হাইকমিশনে পাঠাতে হবে।