কামরুল হাসান টিটু, রংপুর ব্যুরো
প্রতিষ্ঠার ১৭ বছরেও রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি)তে কখনো হয়নি কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ নির্বাচন (ব্রাকসু) ।
২০০৮ সালের ১২ অক্টোবর যাত্রা শুরুর পর থেকেই আওয়ামী শাসনামল হওয়ায় ক্ষমতার জোরে সরকারি দলের ছাত্র সংগঠনের আধিপত্য দেখা গেছে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে। তাদের হাতে নির্যাতন, হয়রানি ও চাঁদাবাজির স্বীকার হয়েছে অসংখ্য শিক্ষার্থী।
গত বছরের ১৬ জুলাই বৈষমবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বেরোবির ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার সাথে ছাত্রলীগ নেতা কর্মীদের জড়িত থাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৮তম সিন্ডিকেট সভায় লেজুড় বৃত্তিক ছাত্র-শিক্ষকসহ সকল ধরনের রাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। এবং লেজুড় বৃত্তিক রাজনৈতিক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষে প্রামাণিত হলে ১১১তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী “সর্বোচ্চ শাস্তি আজীবন বহিঃস্কার ও ছাত্রত্ব বাতিল” করা যেতে পারে, প্রয়োজনে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী শাস্তি বিধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।
বেরোবির সাধারণ শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন যাবৎ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে তাদের অধিকার আদায়, গণতান্ত্রিক চর্চা, ন্যায্য দাবি, আদায়সহ বিভিন্ন কারণে ছাত্রসংসদের দাবি জানিয়ে আসছে। গত মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর শহীদ আবু সাঈদের এই বিশ্ববিদ্যালয়টিতেও কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিটি আরও জোরালো হয়ে উঠেছে ।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের ৮ এপ্রিল জাতীয় সংসদে পাস হওয়া বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় আইনে ছাত্র সংসদের কোনো বিধান রাখা হয়নি। যার কারণে নির্বাচন করতে হলে প্রথমে ছাত্র সংসদ আইনের খসড়া একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটে পাস করে তা অনুমোদনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাতে হবে। বিধানটি বিশ্ববিদ্যালয় আইনে সংযুক্ত হলে তারপরেই ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হবে। এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় আইনের-২০০৯ এ ছাত্র সংসদ নির্বাচনের নীতিমালা যুক্ত করার জন্য কাজ শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে জানা যায়, ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট কর্তৃক ‘বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ’ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। এই নীতিমালা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় চ্যান্সেলর মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক অনুমোদনের জন্য ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনে প্রেরণ করা হয়েছে। এই মুহুর্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছাত্র সংসদ নির্বাচনের নিমিত্তে ছাত্র সংসদ সংক্রান্ত স্বতন্ত্র ব্যাংক হিসাব নম্বরে অর্থ সংরক্ষণ করা, ভোটার তালিকা প্রণয়নসহ যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। নীতিমালা অনুমোদন হলে যথা শীঘ্রই ছাত্র সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করা হবে।
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদ নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকার সচেতন সাধারণ শিক্ষার্থীরাও ছাত্রসংসদ নির্বাচন নিয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। তাদের অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন সভা, সেমিনার ও সমাবেশে ছাত্রসংসদ নির্বাচনের জোরালো দাবি তুলে ধরছেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের শিক্ষার্থী আহমাদুল হক আলবির বলেন, “ক্যাম্পাসে সহিংসতা, দখলদারিত্ব এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো ঘটনাগুলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতি ও অনীহা সৃষ্টি করেছে। ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসগুলোতে আধিপত্য বিস্তার করতে বিরোধীদের দমন এবং ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ করে রেখেছিল। ছাত্র সংসদ নির্বাচন চালু থাকলে, ক্যাম্পাসে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের মধ্যে একটি ভারসাম্য তৈরি হতো এবং একক আধিপত্য বিস্তার করা কঠিন হতো। এতে ক্যাম্পাসে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় থাকবে এবং শিক্ষার্থীরা তাদের মতামত প্রকাশ করার সুযোগ পাবে। এর মাধ্যমে ক্যাম্পাসে ‘আওয়ামী জাহেলিয়াতের’ মতো পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আশ্বাস দিলেও দীর্ঘদিন সময় নিয়ে ছাত্রসংসদের বিষয় অগ্রসরমান কিছু না দেখিয়ে ওনাদের ব্যার্থতা প্রকাশ করছে। প্রশাসনের উচিত শিক্ষার্থীদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা এবং ছাত্র সংসদ নির্বাচনের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া”।
শিক্ষার্থী এস এম আশিকুর রহমান বলেন, ৫ আগস্ট এর পর শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবী ছিলো ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ এবং ছাত্র সংসদ নির্বাচন।বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ হলে ও ছাত্র সংসদ নির্বাচন এর রোড ম্যাপ এখনো দেওয়া হয় নি।ছাত্রদের অধিকার নিয়ে কথা বলার জন্য ছাত্র সংসদ এর বিকল্প নেই। অতি দ্রুত সকল জটিলতা কাটিয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের জোর দাবি জানাচ্ছি।
শিক্ষার্থী তানভীর হাসান দিপু বলেন, একটি দেশের পার্লামেন্ট যেমন গুরুত্বপূর্ণ, এবং পার্লামেন্ট দেশের মানুষের জন্য যতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে আমি মনে করি একটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের জন্য ছাত্র সংসদ ঠিক ততটাই ভূমিকা রাখে।
আরেক শিক্ষার্থী মো. শামসুর রহমান সুমন বলেন, অভ্যুত্থান পরবর্তী বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় দেশের বিপ্লবী ধারায় উজ্জীবিত এক অনন্য ক্যাম্পাস। লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ হয়েছে আমরা সেটিকে সাধুবাদ জানাই। কিন্তু গণতান্ত্রিক চর্চা ও শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের জন্য আগামী ক্যাম্পাসে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দেয়ার দাবি জানাই।
এবিষয়ে বেরোবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী বলেন, ছাত্র সংসদ করার জন্য কোন সংবিধি ছিল না তাই নতুন সংবিধি প্রণয়নের জন্য একটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়। কমিটি সকল স্টেক হোল্ডারদের সাথে কথা বলে একটি খসড়া সংবিধি দেয় সেটি ছাত্র, শিক্ষক, শিক্ষার্থী কর্মকর্তাসহ সকলের সম্মতিক্রমে পরিবর্তন পরিমার্জন করা হয় এবং আমরা সেটি সিন্ডিকেটে পাশ করি। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনে পাঠিয়েছি সেটি মঞ্জুরি কমিশনে আছে।
তিনি শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, একটি সংবিধি নতুনভাবে সংযোজন করতে হলে তার অনেকগুলো প্রক্রিয়া পার করতে হয়। আমাদের প্রক্রিয়া শিক্ষার্থীদের দাবির আগেই শুরু করেছি। আমরা আশা করি অতি শীঘ্রই এটি সম্পন্ন করতে পারব। এবং ছাত্র সংসদের সংবিধি পূর্ণাঙ্গ পাশ হয়ে আসবে ।
আগামী ২৪ জানুয়ারি আয়োজিত হতে যাওয়া নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ৩য় সমাবর্তনে ২০১৪-১৫ থেকে ২০২০-২১ সেশন পর্যন্ত যে সকল শিক্ষার্থী মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের পরিবারকে বিশেষ মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান করবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য নিশ্চিত করেন নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
উপাচার্য বলেন, ‘সমাবর্তন শুধু সনদ বিতরণের অনুষ্ঠান নয়, এটি পুরো নোবিপ্রবি পরিবারের মিলনমেলা। এই দীর্ঘ সময়ে আমরা আমাদের যে সকল প্রিয় শিক্ষার্থীকে হারিয়েছি, তাঁদের স্মৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে অমলিন। সমাবর্তনের মূল আয়োজনে ১০ম থেকে ১৬তম ব্যাচের প্রয়াত শিক্ষার্থীদের স্মরণে তাঁদের পরিবারের হাতে মরণোত্তর সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে।’
তিনি আরও জানান, সমাবর্তন উৎসবমুখর ও সুশৃঙ্খল করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। নিবন্ধনের সার্বিক অগ্রগতি এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার বিষয়েও প্রশাসন ইতিবাচক দৃষ্টি রাখছে।
জবিতে খালেদা জিয়ার ছবি বিকৃতিকারীকে আটক ও পুলিশে সোপর্দ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক আহ্বায়ক সাখাওয়াতুল ইসলাম খান পরাগের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের পাশের দেয়ালে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ছবিতে বিকৃতিকারী এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।
গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত পৌনে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের পাশে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, আটককৃত ব্যক্তি চাঁদপুর থেকে ঢাকায় এসেছেন এবং জাতীয় পার্টির দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন বলে জানিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে রিকশা থেকে নামার সময় দেয়ালে থাকা বেগম খালেদা জিয়ার ছবিতে এক ব্যক্তিকে কিছু লাগাতে দেখা যায়। এ সময়ে জবি ছাত্রদল নেতা পরাগের নেতৃত্বে কয়েকজন নেতাকর্মী এবং নিরাপত্তাকর্মী দ্রুত এগিয়ে গিয়ে তাকে আটক করেন এবং নিরাপত্তা বক্সে নিয়ে যান।
জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তি জানান, তিনি চাঁদপুর থেকে ঢাকায় এসেছেন। জাতীয় পার্টির দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম চৌধুরীর সঙ্গে বিশেষ প্রয়োজনে দেখা করতে এসেছেন বলেও দাবি করেন। তার সঙ্গে কোনো মোবাইল ফোন বা মানিব্যাগ ছিল না বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। পরে পরাগ থানায় যোগাযোগ করলে পুলিশ এসে তাকে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে জবি ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক সাখাওয়াতুল ইসলাম খান পরাগ বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাদের রেডলাইন। বেগম খালেদা জিয়ার ছবি বিকৃতি করায় অজ্ঞাতনামা ফ্যাসিস্টদের সহযোগী এই ব্যক্তিকে ধরে পিটিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেই।
তিনি আরও বলেন, "সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছবি বিকৃতির বিষয়টি অত্যন্ত নিন্দনীয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আমরা চাই, ঘটনার সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসুক এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।"
এদিকে আটককৃত ব্যক্তির বিস্তারিত পরিচয়, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ঘটনায় পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে কোতোয়ালি থানার ওসি কে এম রবিউল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নোবিপ্রবিতে বিটিসি ও এমআইএস ডে’র উদ্বোধন অনুষ্ঠিত
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস্ (এমআইএস) বিভাগের আয়োজনে দুই দিনব্যাপী ‘বিটিসি ও এমআইএস ডে ২০২৬' এর উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) বর্ণাঢ্য র্যালি ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
নোবিপ্রবি বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস্ এমন একটি সমন্বিত ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ ও যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হয়। আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই এমআইএসের গুরুত্ব অপরিসীম। বর্তমানে শুধু তথ্য সংগ্রহ করাই যথেষ্ট নয়, বরং তথ্যকে বিশ্লেষণ করে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।
উপাচার্য আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিগ ডেটা, ক্লাউড কম্পিউটিং ও ডিজিটাল অটোমেশনের এই সময়ে এমআইএসের জ্ঞান নতুন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে। নোবিপ্রবির এমআইএস বিভাগের শিক্ষার্থীরাও তাদের অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের ডিজিটাল রূপান্তর, ব্যবসায়িক উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা করছি।
বক্তব্যে এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা, সৃজনশীলতা ও নতুন কিছু উদ্ভাবনে উৎসাহিত করবে বলে উল্লেখ করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস্ (এমআইএস) বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. জিয়াউল হক। এ সময় এমআইএস সহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, আয়োজনের প্রথম দিন থাকছে, পোস্টার প্রেজেন্টেশন, প্রোগ্রামিং, ই-গেমিং ও বিজনেস কেস প্রতিযোগিতা। দ্বিতীয় দিনে রয়েছে ‘ইন্টারন্যাশনাল কলোকোইয়াম অব বিজনেস এন্ড টেকনোলজি’ প্রতিপাদ্যে কি-নোট স্পিকারদের প্রেজেন্টেশন ও টেকনিক্যাল সেশন। এতে কি-নোট স্পিকার হিসেবে রয়েছেন হালিমা গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল কালাম হাসান, কুমিল্লা বার্ডের উপ-পরিচালক অসীম কুমার সরকার ও থ্রাইভিং স্কিলস লিমিটেডের ফাউন্ডার এন্ড সিইও মো. আবদুল্লাহ আল মাহমুদ। বিশ^বিদ্যালয়ের এমআইএস নেট এর উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের স্পন্সর হিসেবে রয়েছে হালিমা গ্রুপ।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে প্রতিদিন বেলা ১১টার পর কোনো ক্লাসে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।
পুরোনো গবেষণার মাঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মতবিনিময় সভা শেষে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
সভা শেষে শিক্ষার্থীরা জানান, পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পর্যায়ের পরীক্ষা বর্জন করবেন তারা। পাশাপাশি প্রতিদিন বেলা ১১টার পর কোনো ক্লাসেও অংশ নেবেন না।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ওয়াসিউল হাসান সরকার বলেন, আন্দোলন আরও বেগবান করতে আজ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে তিন দিনের সময় দিয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল। ওই সময়ের মধ্যে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে বলা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
পুরোনো গবেষণার মাঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। মাঠটিতে সচিবালয় স্থাপনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তারা মানববন্ধন, বিক্ষোভ, অবস্থান ও সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গা এবং সেখানে কৃষিবিষয়ক গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যলয়ের কাছে দেওয়া হোক। মাঠটি সচিবালয়ের জন্য ব্যবহার করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের পাশে সচিবালয় স্থাপিত হলে ভবিষ্যতে নানা সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।
এদিকে গত বুধবার পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে নির্মাণাধীন দুটি মেলার স্থাপনা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মেলা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। তবে গবেষণার মাঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ১৮ সদস্যবিশিষ্ট এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গত রোববার (১ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের কার্যক্রম পুনর্গঠনের লক্ষ্যে আয়োজিত সাধারণ সভায় এ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বর্তমানে অ্যাসোসিয়েশনের কোনো কার্যকর কমিটি না থাকায় সভায় উপস্থিত সদস্যরা একটি এডহক কমিটি গঠনে সম্মত হন। কমিটির সাচিবিক দায়িত্ব পালনের জন্য কৃষিবিদ শেখ কামরুল হাসানকে মনোনীত করা হয়।
কৃষিবিদ আনোয়ারুল নবী মজুমদারের (বাবলা) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রবীণ ও নবীন কৃষিবিদ নেতৃবৃন্দের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে ১৮ সদস্যের এ কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির সদস্যরা হলেন কৃষিবিদ রাশিদুল হাসান হারুন, কৃষিবিদ ড. কামরুজ্জামান কায়সার, কৃষিবিদ ড. সারোয়ার হোসেন, কৃষিবিদ ড. নাজমুল আমিন মজুমদার, কৃষিবিদ ড. খন্দকার মাহফুজুল হক (বাচ্চু), কৃষিবিদ খন্দকার আসাদুজ্জামান কিটন, কৃষিবিদ ড. এম. সালাহউদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী, কৃষিবিদ ড. নাহিদ জেবা, কৃষিবিদ চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল ফারুক, কৃষিবিদ ড. মাসুদুল হক ঝন্টু, কৃষিবিদ ড. এফ. এম. আমিনুজ্জামান, কৃষিবিদ মোহাম্মদ আবুল বাশার, কৃষিবিদ আবু হেনা মোস্তফা কামাল পান্না, কৃষিবিদ সাইফুল্লা আজাদ, কৃষিবিদ ড. মোহা. আশাবুল হক আশা এবং কৃষিবিদ মোকাদ্দিছুল মোমিন মিঠুন।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, এডহক কমিটির সদস্যরা নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের কার্যকর কমিটি গঠন করবেন।
সভায় গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধার স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এম. সালাহউদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে স্বাগত জানান। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের অবস্থান এবং গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধারের সার্বিক পরিস্থিতি সভায় উপস্থিত সদস্যদের সামনে তুলে ধরেন। পরে কৃষিবিদ নেতৃবৃন্দের বক্তব্য ও বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধারের বিষয়ে কয়েকটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এমবিবিএস ও বিডিএস কোর্সে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ দিচ্ছে পাকিস্তান। পাকিস্তান সরকারের বৃত্তিমূলক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে মোট ২৫ জন বাংলাদেশি এ সুযোগ পাবেন। আগ্রহী শিক্ষার্থীদের ১৬ নভেম্বর ২০২৬–এর মধ্যে আবেদনপত্র জমা দিতে হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পাকিস্তান সরকার পাকিস্তান টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম সেশনের (২০২৬-২৭) অধীনে পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এমবিবিএস ২০টি ও বিডিএস ৫টি কোর্সে ভর্তির ঘোষণা দিয়েছে।
এই প্রোগ্রামের আবেদনপত্র এবং বিস্তারিত তথ্য মিনিস্ট্রি অব ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্সের ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করা যাবে। সম্পূর্ণ আবেদনপত্র ১৬ নভেম্বরের মধ্যে ঢাকার পাকিস্তান হাইকমিশনে পাঠাতে হবে।