জাপানে ভবন নির্মাণে ব্যবহৃত শক অ্যাবজরবার
‘ঢাকায় কি আজ ভূমিকম্প হয়েছে?’ এমন প্রশ্ন লিখছেন অনেকে; কেউবা আবার ইংরেজিতে 'আর্থ কোয়েক টুডে' লিখে গুগলে সার্চ করছেন।
গত ২১ নভেম্বর সকালে ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে গোটা বাংলাদেশে যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে সপ্তাহ পেরিয়েও তা থেকে বের হতে পারেননি অনেকে। এক সপ্তাহের মধ্যে ছয়বার কম্পন অনুভূত হওয়ায় বলতে গেলে আতঙ্ক ফিরে ফিরে এসেছে। ফলে ভূমিকম্প নিয়ে নানা প্রশ্ন জানতে চাইছে মানুষ।
তবে বাংলাদেশের কাছাকাছিই এমন দেশ রয়েছে, যেখানে ভূমিকম্প প্রায় নিত্যদিনের ব্যাপার। দেশটি বাংলাদেশের পূর্বদিকের একটু দূরবর্তী প্রতিবেশী জাপান। সে দেশে বছরে প্রায় দেড় হাজারের মতো ভূমিকম্প হয়, সুনামির সতর্কতাও দেওয়া হয় বিভিন্ন সময়।
তাহলে জাপান কীভাবে ভূমিকম্পের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে?
দেশটিতে অসংখ্য বহুতল ভবনও রয়েছে। নিয়মিত ভূমিকম্পের মধ্যে থাকা একটি দেশ আকাশচুম্বী ভবন নির্মাণে কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে কিংবা কোন বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখে? এবং এক সপ্তাহের মধ্যে কয়েকটি ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠা বাংলাদেশ জাপানের কাছ থেকে কী শিখতে পারে?
তার আগে জেনে নেওয়া যাক, জাপানে এত ভূমিকম্প কেন হয়।
জাপানি দ্বীপপুঞ্জ প্রশান্ত মহাসাগরের 'রিং অব ফায়ার'-এর ওপর অবস্থিত। যেখানে ইউরেশিয়ান, ফিলিপাইন ও প্যাসিফিক টেকটোনিক প্লেট মিলিত হয়েছে। অর্থাৎ জাপান তিনটি মিলিত টেকটোনিক প্লেটের ওপর অবস্থান করছে। এটিকে পৃথিবীতে ভূতাত্ত্বিকভাবে সবচেয়ে সক্রিয় অঞ্চল বলা হয়।
এই ভূতাত্ত্বিক অস্থিতিশীলতার কারণেই জাপানে এত ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
এর মধ্যে অনেক ছোট ভূমিকম্প সাধারণ মানুষ হয়তো টেরই পায় না, আর মাঝারি ধরনের ভূমিকম্প দেশটিতে একরকম স্বাভাবিক ঘটনা। তবে, অনেকবার বড় ভূমিকম্পের সাক্ষীও হয়েছে জাপান।
জাপান থেকে শেখার যা আছে
বাংলাদেশে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রায় প্রতিবছরই আবির্ভূত হয়। আর তা হয় এখানকার আবহাওয়া ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে। দুর্যোগ হিসেবে ভূমিকম্প এখানে বন্যা বা ঘূর্ণিঝড়ের মতো নিয়মিত নয়।
দেশটিতে সরকারি ও নাগরিক পর্যায়ে বন্যা বা ঘূর্ণিঝড় নিয়ে যতটুকু প্রস্তুতি থাকে, ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে ততটুকুও নেই। বাংলাদেশে ভূমিকম্পে ঝাঁকুনির মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা ছাড়া এ নিয়ে আর কোনো ধারণা পাওয়া যায় না সাধারণ আলাপচারিতায়।
এমন প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভূমিকম্পের বিষয়ে জাপানের কাছ থেকে বাংলাদেশের অনেক কিছু শেখার আছে।
জাপানের সঙ্গে আর্থসামাজিক পার্থক্যকে বিবেচনায় রেখেও তারা বলছেন, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করার মতো কিছু বিষয়ে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশটিকে অনুসরণ করতে পারে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের একজন ভূতত্ত্ববিদ ও ভূমিকম্প বিষয়ক বিশেষজ্ঞ সৈয়দ হুমায়ূন আখতার বলেন, গত ২১ নভেম্বরের ভূমিকম্প বাংলাদেশে যেভাবে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল, জাপানের নাগরিকরা সাধারণত সেভাবে ভয় পান না।
তার জন্য, প্রতিনিয়ত ভূমিকম্পের মুখোমুখি হওয়াকেই একমাত্র কারণ বলে মনে করেন না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের এই অধ্যাপক। বরং 'সচেতনতা ও প্রস্তুতি'র কারণেই সেটি সম্ভব হয়েছে, যোগ করেন তিনি।
অধ্যাপক আখতার যে ‘প্রস্তুতি’র কথা বলছিলেন, একেবারে অল্প বয়স থেকেই প্রত্যেক জাপানি নাগরিক তার মধ্য দিয়ে যায় বলে জানান বাংলাদেশি স্থপতি ও নগর পরিকল্পনাবিদ ইকবাল হাবিব।
তিনি বলেন, ‘জাপানে একটা বাচ্চা জন্মের পর থেকেই ভূমিকম্পের বিষয়ে শেখা শুরু হয়। নিয়মিত মহড়ার মধ্য দিয়ে তারা জানে তাৎক্ষণিক কী করতে হবে।’
শৈশবে ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতির জন্য স্কুলগুলোতেও নিয়মিত মহড়া হয়। শিশুরা মহড়ায় ডেস্কের নিচে আশ্রয় নেওয়ার অনুশীলন করে। ভূমিকম্পের পরপর তার নিরাপদ আশ্রয়ের স্থান কোথায় হবে তা সম্পর্কেও ধারণা দেওয়া হয় তাদের। সাধারণত ১৫ দিন পরপর এ ধরনের অনুশীলন হয় বলে জানা যায়।
নিয়মিত ড্রিল (মহড়া) করতে বিশেষ অর্থের প্রয়োজন নেই। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য জায়গায় সেটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করা যেতে পারে বলে মনে করেন অধ্যাপক হুমায়ূন আখতার।
জাপানে নিকটতম আশ্রয়কেন্দ্র যেমন পার্ক বা খেলার মাঠ কোথায় অবস্থিত, সে সম্পর্কে সবাইকে অবহিত করা থাকে, যাতে তারা ভবন থেকে নিরাপদ জায়গায় সরে আসতে পারে।
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাসহ অন্য বড় শহরগুলোতে তেমন নিরাপদ জায়গা নিশ্চিত করা ও সেটি সম্পর্কে সবাইকে অবগত করার কথা বলছেন স্থপতি ইকবাল হাবিব।
জাপানে অবকাঠামোগত নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। বড় শহরের উঁচু ভবনগুলো এমনভাবে নকশা করা হয়েছে, যাতে ভূমিকম্পের সময় সেগুলো কাঁপে না, বরং দুলতে থাকে, যা এগুলোকে নিরাপদ করে তোলে।
বাংলাদেশে তেমন সুউচ্চ ভবন অপেক্ষাকৃত কম।
স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, বাংলাদেশেও সাধারণত সুউচ্চ ভবনগুলো বিল্ডিং কোড মেনে ভূমিকম্প সহনীয় হিসেবে নির্মাণ করা হয়। কিন্তু, অপেক্ষাকৃত ছোট ব্যক্তি মালিকানাধীন ভবনগুলোর ক্ষেত্রে বিল্ডিং কোড মানা হয় না এবং ভূমিকম্পের আঘাত সামলানোর মতো নির্মাণশেলী প্রয়োগ করা হয় না।
এই ভবনগুলোই অপেক্ষাকৃত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। এ ক্ষেত্রেও জাপানকে অনুসরণ করে 'অবকাঠামোগত নিরাপত্তা কার্যকর' করার ওপর জোর দেন তিনি।
এ ছাড়া রেজিলিয়েন্স প্ল্যান বা পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা কার্যকর করা জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
জাপানে আকাশচুম্বী ভবনগুলো কীভাবে ভূমিকম্পে টিকে থাকে
বছরজুড়ে শত শত কম্পন সহ্য করার পরও জাপান কী করে বিশ্বের সবচেয়ে 'স্থিতিস্থাপক' ভবনগুলোর আবাসস্থল, তা একটি কৌতূহলের বিষয়।
স্থিতিস্থাপকতার মানে হলো, কোনো আঘাত বা চাপের ফলে কিছুটা সরে আবার আগের অবস্থানে ফিরে আসার ক্ষমতা। জাপানের ভবনগুলোর স্থিতিস্থাপকতার রহস্য লুকিয়ে আছে মূলত মাটির নিচে 'নেচে ওঠার' ক্ষমতায়।
টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার ও সহযোগী অধ্যাপক জুন সাতো বলেন, ‘জাপানের টাওয়ার ব্লকগুলো সাধারণ ভবন নয়। দেশটিতে সব ভবন, ছোট বা অস্থায়ী হলেও, ভূমিকম্প-সহনশীল হতে হয়।’
প্রকৌশলীরা দুটি প্রধান পর্যায়ে স্থিতিস্থাপকতা নিয়ে কাজ করেন বলে জানা যায়—প্রথম পর্যায় হলো স্বল্প মাত্রার ভূমিকম্প সহ্য করা। তেমন ভূমিকম্পে মেরামত করার মতো কোনো ক্ষতি হওয়ার কথা নয়। ভবনের নকশা এমনভাবে করা হয়, যাতে এসব ভূমিকম্পে কোনো ক্ষতি না হয়। দ্বিতীয় পর্যায় হলো, ভয়াবহ ভূমিকম্প সহ্য করা, যা অপেক্ষাকৃত বিরল।
এ ক্ষেত্রে মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয় জাপানের ইতিহাসে অন্যতম প্রলয়ংকরী গ্রেট কান্তো ভূমিকম্পকে। ১৯২৩ সালের ৭ দশমিক ৯ মাত্রার এই ভূমিকম্পে টোকিও ও ইয়োকোহামা বিধ্বস্ত হয় এবং এক লাখ ৪০ হাজারের এর বেশি মানুষ নিহত হয়।
এই মাত্রা বা তার চেয়ে বড় ভূমিকম্পে ভবনকে সম্পূর্ণ অক্ষত রাখা আর লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয় না। প্রাণহানি এড়ানোই মূল লক্ষ্য।
ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ জিগি লুবকোভস্কি বলেন, ‘আপনি ভবনগুলো মানুষের জীবন রক্ষার জন্য নকশা করেন। এটাই এক্ষেত্রে ন্যূনতম শর্ত।’
আর সাতোর মতে, ‘যখন কোনো কাঠামো ভূমিকম্পের সব শক্তি সহ্য করতে বা শুষে নিতে পারে, তখনই আর এটি ধসে পড়বে না।’
সিসমিক আইসোলেশন নামে একটি প্রক্রিয়া এ ক্ষেত্রে কাজ করে।
ভবনগুলোকে এমন একধরনের বিয়ারিং বা শক অ্যাবজরবার (আঘাত সহনীয় বস্তু) এর ওপর বসানো হয়, যা ভূমিকম্পের প্রভাবে নড়াচড়া প্রতিরোধ করে।
কখনো কখনো ৩০ থেকে ৫০ সেমি পুরু রাবারের ব্লক ব্যবহার করা হয়। যেখানে ভবনের কলাম ফাউন্ডেশন বা ভিত্তির সঙ্গে জুড়ে থাকে, সেখানে এই রাবার প্যাড বসানো হয়।
এ ছাড়া মোশন ড্যাম্পার ও মেশ স্ট্রাকচারের মতো বিভিন্ন প্রযুক্তিও প্রয়োগ করা হয় ভূমিকম্প সহনশীলতা বাড়াতে। মোশন ড্যাম্পারগুলো দেখতে অনেকটা সাইকেলের পাম্পের মতো, তবে এতে বাতাসের বদলে তরল থাকে।
লুবকোভস্কি বলেন, ‘একটি উঁচু ভবন হয়তো দেড় মিটার বা পাঁচ ফুট নড়তে পারে। কিন্তু যদি নির্দিষ্ট স্তরে, প্রতি দ্বিতীয় তলায় ড্যাম্পার বসানো হয়, তবে সেই নড়াচড়া অনেক কমে যায়। ফলে সুপারস্ট্রাকচারের (ওপরের কাঠামোর) ক্ষতি রোধ হয়।’
আর মেশ স্ট্রাকচার ব্যবহার ভবনের সাপোর্টগুলোকে বাঁকানো থেকে রক্ষা করে। যদি একটি অংশ বাঁকতে শুরু করে, কাছাকাছি থাকা অন্য অংশ তা ঠেকায়। এসব প্রযুক্তি ও প্রকৌশলের কাজে লাগিয়েই দিনের পর দিন ভূমিকম্পের সঙ্গে বসবাস করে আসছে জাপানিরা।
যদিও বাংলাদেশের আর্থসামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় সুউচ্চ ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে এসব প্রযুক্তির চেয়ে প্রস্তুতিমূলক মহড়া ও সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
একই সঙ্গে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান যাতে সবাই মেনে চলেন তা নিশ্চিত করার তাগিদ তাদের। ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ও নগর পরিকল্পনাবিদদের অভিমত, এসব ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সদিচ্ছা জরুরি।
বিএনপি
আগামী ৪ থেকে ৭ নভেম্বর দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এশীয় রাজনৈতিক দলসমূহের আন্তর্জাতিক সম্মেলনের (আইসিএপিপি) ১৩তম সাধারণ অধিবেশন। এই সম্মেলনে যোগ দেবেন বিএনপির ২ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল।
বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সম্মেলনে অংশ নেবেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স ।
আজ বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য (দপ্তরে সংযুক্ত) তারিকুল আলম তেনজিং স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
‘পরিবর্তনশীল বিশ্বে আস্থা পুনর্গঠন ((Rebuilding Trust in a Transforming World)- এই স্লোগানকো সামনে রেখে এবার ১৩ তম সাধারণ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এশিয়ার ৩৭ টি দেশের ৯৬ টি রাজনৈতিক দল এই অধিবেশনে যোগ দিচ্ছে।
উল্লেখ্য, বিএনপি এশিয়ার রাজনৈতিক দলগুলোর জোট আইসিএপিপি'র স্থায়ী কমিটির সদস্য। সিউলে অনুষ্ঠিতব্য আইসিএপিপি’র ১৩ তম সাধারণ অধিবেশনের যৌথ আয়োজক দক্ষিণ কোরিয়ার মিনজু (ডেমোক্রেটিক) পার্টি এবং পিপল পাওয়ার পার্টি। আইসিএপিপি ২০০০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ফিলিপাইনের ম্যানিলায় গঠন করা হয়।
প্রতীকী ছবি
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১৩১৮ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত অদ্যাবধি দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৮২৩ জনে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ৮২ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ৫৪৬ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে এবং এই বিভাগে মারা গেছে পাঁচজন। এছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগে মারা গেছে একজন। ১৫ মার্চ থেকে অদ্যাবধি মোট সন্দেহজনক হামে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,১৫৮ জনে এবং নিশ্চিত মৃত্যু হয়েছে ১০৫ জনের।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের হাসপাতালগুলোতে হাম নিয়ে নতুন ভর্তির সংখ্যা ১,৩১৮ জন। আর হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ১,২০৪ জন রোগী। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৯৮ হাজার ৭৫০ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। আজ মঙ্গলবার দুপুরে বঙ্গভবনে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রপতিকে সাম্প্রতিক জাপান সফরের বিষয়ে অবহিত করেন। এ সময় তারা দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ও জাতীয় স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তার সাম্প্রতিক জাপান সফরের বিভিন্ন দিক, সফরকালে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।
পরে একান্ত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, জাপানের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাঁর আলোচনা সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।
রাষ্ট্রপতি এ সফরে দুদেশের মধ্যে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব, বাংলাদেশের জ্বালানি, অবকাঠামো এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে জাপানি বিনিয়োগসহ বিভিন্ন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো উঠে আসায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সম্প্রসারণ ও আরও সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এর আগে, দুপুরে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে এসে পৌঁছালে রাষ্ট্রপতি তাঁকে স্বাগত জানান এবং সাক্ষাৎ করতে আসায় প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব, অতিরিক্ত প্রেস সচিব, একান্ত সচিব-২ সহ বঙ্গভবন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ছবি : সংগৃহীত
এখন থেকে মোটরসাইকেলের সামনের অংশে রেজিস্ট্রেশন নম্বর এক লাইনে লেখার অনুমতি দিতে পারবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। পাশাপাশি মোটরসাইকেলের নকশা অনুযায়ী একাধিক মাপের নম্বরপ্লেট ব্যবহারের অনুমতিও দিতে পারবে সংস্থাটি। মোটরসাইকেলের সামনের নম্বরপ্লেট প্রদর্শনের নিয়মে পরিবর্তন এনে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
মূলত মোটরসাইকেলের সামনের অংশে নম্বরপ্লেট স্থাপন ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধিগত জটিলতা দূর করতে সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২ সংশোধন করেছে সরকার। সংশোধিত বিধিমালায় মোটরসাইকেলের সামনের নম্বরপ্লেটের নকশা, আকার, অক্ষরের উচ্চতা ও নম্বর লেখার বিন্যাসে পরিবর্তনের সুযোগ রাখা হয়েছে। এর ফলে মোটরসাইকেলের কাঠামো ও নকশা বিবেচনায় সামনে নম্বরপ্লেট স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পথ আরও সুগম হলো।
রোববার (১ নভেম্বর) প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ১২২ ধারায় দেওয়া ক্ষমতাবলে সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর ৩৬ বিধি সংশোধন করা হয়েছে।
সংশোধিত বিধিমালায় বলা হয়েছে, মোটরসাইকেলের সামনের অংশে রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শনের ক্ষেত্রে আগে নির্ধারিত পদ্ধতির পাশাপাশি নম্বরটি একটি আনুভূমিক রেখায় লেখার অনুমতি দিতে পারবে কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া মোটরসাইকেলের নকশা অনুযায়ী সামনের রেজিস্ট্রেশন চিহ্ন একাধিক মাপের (দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ) বিপরীতমুখী রেট্রো-রিফ্লেক্টিভ প্লেটের ওপর প্রদর্শনের অনুমতি দিতে পারবে বিআরটিএ।
নতুন বিধিমালায় সামনের নম্বরপ্লেটের অক্ষরের উচ্চতা, জেলা বা অঞ্চলের নাম নির্দেশকারী অক্ষরের মাত্রা, যানবাহনের শ্রেণি নির্দেশকারী অক্ষরের উচ্চতা, প্লেটের ওপরের অংশে ফাঁকা জায়গা, দুটি সংখ্যার মধ্যবর্তী ফাঁকা জায়গা এবং দ্বিতীয় লাইনের সংখ্যাগুলোর মধ্যে হাইফেনের দৈর্ঘ্য নির্ধারণের ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে কর্তৃপক্ষকে।
এ ছাড়া একই লাইনে রেজিস্ট্রেশন নম্বর লেখার ক্ষেত্রে জেলা বা অঞ্চলের নাম নির্দেশকারী অক্ষর এবং যানবাহনের শ্রেণি নির্দেশকারী অক্ষরের পর নির্ধারিত দৈর্ঘ্যের হাইফেন ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, সড়ক পরিবহন বিধিমালার ৩৬ বিধির উপবিধি (১০) থেকে ‘মোটরসাইকেল এবং’ শব্দ দুটি বাদ দেওয়া হয়েছে। সংশোধিত বিধিমালা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
গত ২৮ অক্টোবর সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বিআরটিএ সংস্থাপন শাখা থেকে প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয়। এতে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বাক্ষর করেন উপসচিব আল-আমীন মো. নুরুল ইসলাম।
অপরদিকে মোটরসাইকেলের সম্মুখভাগে ম্যানুয়াল নম্বরপ্লেট সংযোজনের সময়সীমা বৃদ্ধি করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোটরসাইকেলের সম্মুখভাগে ম্যানুয়াল নম্বরপ্লেট সংযোজনের সুযোগ থাকছে।
এর আগে মোটরসাইকেলের সম্মুখভাগে ম্যানুয়াল নম্বরপ্লেট সংযোজনের নির্ধারিত সময়সীমা ১৫ নভেম্বরের পরিবর্তে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছিল। বিপুলসংখ্যক মোটরসাইকেলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নম্বরপ্লেট সংযোজন সম্পন্ন করা কঠিন বিবেচনায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এই সময় বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছিল।
এর আগে সড়ক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা জোরদারের লক্ষ্যে মোটরসাইকেলের পেছনে অনুমোদিত আরএফআইডি নম্বরপ্লেটের পাশাপাশি ১৫ নভেম্বরের মধ্যে সামনের দিকেও ম্যানুয়াল নম্বরপ্লেট সংযোজন বাধ্যতামূলক করেছিল বিআরটিএ। এক গণবিজ্ঞপ্তিতে সব মোটরসাইকেল মালিককে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেয়ার পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নম্বরপ্লেট সংযোজন না করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও সতর্ক করেছিল সংস্থাটি।
রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
এবারের বাংলাদেশ সোলার এক্সপোর মূল প্রতিপাদ্য ‘প্রতি ইঞ্চি ছাদ কাজে লাগাই, সৌরবিদ্যুতে আয় বাড়াই’।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মঞ্চে উপস্থিত রয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মিরানা মাহরুখ।এ ছাড়া অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মির্জা ফয়সল আমীন এবং সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৩-এর উপনির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এলিজা জামানের শপথগ্রহণ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) হওয়ার কথা রয়েছে।নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ সংসদ ভবনস্থ স্পিকারের অফিসকক্ষে অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম) সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নবনির্বাচিত দুজন সংসদ সদস্যের শপথ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে শনিবার মির্জা ফয়সল আমীনকে বিজয়ী ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।গত ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন ধানের শীষ প্রতীকে ২ লাখ ২৭ হাজার ৯১৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৫১৩ ভোট।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তৎকালীন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করে।
অপরদিকে সোমবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৩ এর শূন্য পদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী এলিজা জামানকে ‘সংসদ সদস্য’ হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
গত ১ অক্টোবর বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করায় আসনটি শূন্য হয়। পরে ১২ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন এ আসনে উপনির্বাচনের তপসিল ঘোষণা করেছিল। তপসিল অনুযায়ী আগামী ১২ নভেম্বর ভোটগ্রহণের কথা থাকলেও একক প্রার্থী থাকায় আর ভোটের প্রয়োজন হয়নি।