কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনে সংবাদ সম্মেলন করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন
দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে আগামী আগস্টের শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশ থেকে নতুন কর্মী মালয়েশিয়ায় যেতে শুরু করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)-এর মাধ্যমে স্বল্প খরচে কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হবে। পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়া সফররত প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
তিনদিনের মালয়েশিয়া সফরের অগ্রগতি তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ পুনরায় শুরু করতে দুই দেশের সরকারের মধ্যে উচ্চপর্যায়ে একাধিকবার ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এসব আলোচনায় বন্ধ থাকা শ্রমবাজার পুনরায় চালু, কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে আনার বিষয়ে উভয় পক্ষ নীতিগতভাবে একমত হয়েছে।
তিনি বলেন, নতুন কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকারের লক্ষ্য হবে মধ্যস্বত্বভোগীর প্রভাব কমিয়ে আনা। এজন্য বোয়েসেলের মাধ্যমে স্বল্প খরচে কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন, আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকেই নতুন কর্মীরা মালয়েশিয়ায় আসা শুরু করবেন। পর্যায়ক্রমে কর্মী পাঠানোর সংখ্যা বাড়ানো হবে।
তিনি বলেন, সরকার শ্রমবাজারকে সম্পূর্ণভাবে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে বদ্ধপরিকর। সাধারণ কর্মীরা যেন অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় না করে নিরাপদ ও বৈধ উপায়ে মালয়েশিয়ায় আসতে পারেন, সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আরও বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতেও দুই দেশ গুরুত্ব দিচ্ছে। কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি করতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি বিষয়গুলো দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, চলমান আলোচনা শুধু নতুন কর্মী পাঠানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মীদের কল্যাণ, অধিকার সুরক্ষা এবং কর্মপরিবেশ উন্নয়নের বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, সরকার এমন একটি কর্মী নিয়োগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে যোগ্য কর্মীরা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিদেশে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। তারা অযৌক্তিক খরচ বা দালালচক্রের হয়রানির শিকার হবেন না।
এসময় তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলোর ফল বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। এর ফলে একদিকে যেমন দেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে, অন্যদিকে রেমিট্যান্স প্রবাহও আরও শক্তিশালী হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত কার্যক্রম সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মাহদী আমিন।
তিনি বলেন, কর্মী নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং কর্মীবান্ধব নীতি নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
ছবি : সংগৃহীত
মালয়েশিয়ার কেদাহ অঙ্গরাজ্যের কুলিম জেলার একটি বাণিজ্যিক ভবনের নির্মাণস্থলে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ১২৯ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম)। আটক অভিবাসীদের মধ্যে ১০০ জনই বাংলাদেশি নাগরিক। গতকাল বুধবার (২৯ জুলাই) স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় পরিচালিত ‘অপস সাপু’ অভিযানে কেদাহ ইমিগ্রেশন বিভাগের ২০ সদস্যের একটি বিশেষ এনফোর্সমেন্ট দল অংশ নেয়। গোয়েন্দা তথ্য ও জনসাধারণের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এক বিবৃতিতে কেদাহ ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক মোহদ রিদজুয়ান মোহদ জাইন জানান, অভিযানে মোট ১৫৯ জনের পরিচয়পত্র ও কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়। তাদের মধ্যে ৩০ জন মালয়েশিয়ার নাগরিক এবং ১২৯ জন বিদেশি ছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে ১২৯ অভিবাসীকেই আটক করা হয়।
আটক অভিবাসীদের বিরুদ্ধে বৈধ ভ্রমণ নথি বা ওয়ার্ক পাস না থাকা, নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান (ওভারস্টে) এবং পাসের শর্ত লঙ্ঘনসহ অভিবাসন আইনের বিভিন্ন ধারা ভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে। আটকদের মধ্যে ১২৫ জন পুরুষ এবং চারজন নারী। জাতীয়তা অনুযায়ী তাদের মধ্যে ১০০ জন বাংলাদেশি, ১১ জন পাকিস্তানি, ১০ জন ইন্দোনেশীয় এবং আটজন মিয়ানমারের নাগরিক।
ইমিগ্রেশন পরিচালক জানান, অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন অবৈধ অভিবাসী পালানোর চেষ্টা করেন। কেউ কেউ নির্মাণাধীন ভবনের উঁচু অংশে এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে লুকিয়ে আত্মগোপনের চেষ্টা করেন। তবে অভিযানকারী সদস্যদের দ্রুত পদক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সবাইকে আটক করা সম্ভব হয়।
মোহদ রিদজুয়ান মোহদ জাইন বলেন, আটক ব্যক্তিদের বয়স ২১ থেকে ৬২ বছরের মধ্যে। পরবর্তী তদন্ত, প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের বেলান্তিক ইমিগ্রেশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে।
কেদাহ ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে নিয়োগকর্তাদের বৈধ কাগজপত্র ও কর্মঅনুমতিবিহীন বিদেশি কর্মী নিয়োগ বা আশ্রয় না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩ লঙ্ঘনকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে গুলিতে রুহুল আমিন নাসির নামের এক বাংলাদেশি ট্যাক্সি চালক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার ভোরে ব্রুকলিনের অ্যবার্ন প্ল্যাস ও ফোর্ট গ্রিনের কাছে নর্থ পোর্টল্যান্ড অ্যাভেনিউয়ে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে পুলিশ বলছে, সেখানে যাত্রী নামাচ্ছিলেন ৫৩ বছর বয়সি নাসির। এসময় তার ট্যাক্সিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয় আরেকটি গাড়ি। তাতে ট্যাক্সির বড় ক্ষতি হয়েছে কি না তা দেখতে নামেন নাসির। এসময় ধাক্কা দেওয়া গাড়ির চালকের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান ট্যাক্সি থেকে নামা যাত্রী। তখন তাদের শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন নাসির। এ সময় পাশের বাসা থেকে আসা এক ব্যক্তি অতর্কিতে গুলি চালালে তা নাসিরের মুখমুণ্ডলের ডানপাশে বিদ্ধ হয়।
আহতের বন্ধু শাহ আলম শনিবার সন্ধ্যায় জানান, নাসিরকে ঘটনাস্থল সংলগ্ন নিউ ইয়র্ক-প্রেসবাইটেরিয়ান ব্রুকলিন মেথডিস্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তার দুদফা অস্ত্রোপচার হয়েছে।
পুলিশ বলছে, নাসিরের শারীরিক অবস্থা এখন শঙ্কামুক্ত।
‘প্রবাসী বরিশাল বিভাগীয় কল্যাণ সমিতি’তে একসময় সেক্রেটারি ছিলেন নাসির।
সংগঠনটির উপদেষ্টা শাহ আলম বলেন, “আমরা হাসপাতালে খোঁজ-খবর রাখছি। তবে একদিন পার হলেও বন্দুকধারী গ্রেপ্তার না হওয়ায় কমিউনিটিতে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।”
নিউইয়র্ক সিটিতে কর্মরত অবস্থায় ট্যাক্সি চালক গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।
এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে নিউ ইয়র্ক স্টেট ফেডারেশন অব ট্যাক্সি ড্রাইভারসের মুখপাত্র ফার্নান্দো ম্যাতিও বলেন, “জীবিকার তাগিদে ট্যাক্সি ড্রাইভাররা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন। বন্দুকধারী দুর্বৃত্তরা আক্রমণ চালিয়ে নির্বিঘ্নে কেটে পড়ছে। শনাক্ত করা কঠিন হচ্ছে। এমন পরিস্থিতির অবসানে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।”
নিউ ইয়র্কের প্রতিটি ট্যাক্সিতে ক্যামেরা বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “যাতে চালকদের ওপর হামলার ঘটনায় দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করা যায়।”
ফেডারেশনের তথ্য অনুযায়ী, নাসিরের ওপর আক্রমণ গত দুই সপ্তাহের মধ্যে দায়িত্বরত চালকের ওপর দ্বিতীয় গুলির ঘটনা। কয়েকদিন আগে ব্রুকলিনে পাকিস্তানি চালক দ্যানিশ সারওয়ার গুলিবিদ্ধ হয়ে প্যারালাইজড হন।
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যের কলচেস্টারের সাগরে জোয়ারের পানিতে ডুবে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এক ব্রিটিশ-বাংলাদেশি নারী ও তার ১৫ বছর বয়সী কন্যা। সামার হলিডে বা গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সাগরপাড়ে ঘুরতে গিয়ে এই মারাত্মক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে।
বৃহস্পতিবার ভোরে ইউকে (যুক্তরাজ্য) বিএনপির আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ এবং সদস্যসচিব খসরুজ্জামান খসরু এই দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। নিহত দুজন হলেন যুক্তরাজ্য যুবদল নেতা ডা. মনসুর রহমানের স্ত্রী এবং তাদের ১৫ বছরের কিশোরী কন্যা। নিহত ওই নারী যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও সিলেটের ছাতক উপজেলার অধিবাসী মুজিবুর রহমানের কন্যা। আর ডা. মনসুর রহমান সিলেটের বিশিষ্ট বিএনপি নেতা শেখ মখন মিয়ার সন্তান।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, লন্ডনের ওয়েস্ট মার্সি সমুদ্র সৈকতে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে তারা সবাই আনন্দমুখর পরিবেশে বসেছিলেন। এ সময় হঠাৎ সাগরের প্রচণ্ড স্রোত এসে পরিবারের ছোট একটি শিশুকে টেনে নিয়ে যেতে থাকে। অবোধ শিশুটিকে উদ্ধারের আকুল চেষ্টায় পানিতে ঝাঁপ দেন মা ও তার ১৫ বছর বয়সী মেয়ে। শেষ পর্যন্ত শিশুটিকে বাঁচাতে পারলেও উত্তাল জোয়ারের টানে তলিয়ে গিয়ে দুজনেই মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারান।
দুর্ঘটনার সময় সৈকতে উপস্থিত থাকা শোকস্তব্ধ পিতা মুজিবুর রহমান কান্নাজড়িত কণ্ঠে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলেও বিস্তারিত আর কিছু বলতে পারেননি। এই ঘটনায় গুরুতর আহত পরিবারের অন্য সদস্যদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় হেলিকপ্টারে করে দ্রুত লন্ডনের হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই উদ্ধার কাজে নেমে পড়ে যুক্তরাজ্যের জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। এসেক্স পুলিশের এক মুখপাত্র জানান, কলচেস্টারের ওয়েস্ট মার্সিতে একটি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের কর্মীরা দায়িত্ব পালন করছেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে সাধারণ জনগণকে আপাতত সিভিউ অ্যাভিনিউ এবং এর সংলগ্ন সৈকত এলাকা এড়িয়ে চলার অনুরোধ করা হচ্ছে।
ঘটনাস্থলে দীর্ঘক্ষণ ধরে এইচএম কোস্টগার্ডের হেলিকপ্টার উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। রয়্যাল ন্যাশনাল লাইফবোট ইনস্টিটিউট (আরএনএলআই) জানিয়েছে, সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবিলায় ওয়েস্ট মার্সির ইনশোর লাইফবোটের পাশাপাশি ক্লাক্টন-অন-সি কেন্দ্রের দুটি বিশেষ লাইফবোট অবিলম্বে সাগরে নামানো হয়েছে।
সংগৃহীত ছবি
ইতালির রাজধানী রোমে একই পরিবারের তিন বাংলাদেশি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন ওই পরিবারের আরও এক সদস্য। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৬ জুন) রাত প্রায় ৯টার দিকে রোমের পশ্চিমাঞ্চলীয় অরেলিও এলাকার ভিয়া মন্টিগ্লিও সড়কের একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে- নিহতরা হলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কামাল হোসেন, তার স্ত্রী এবং তাদের ৫ বছর বয়সী কন্যা সন্তান। তাদের দেশের বাড়ি বাংলাদেশের নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায়। হামলায় নিহত কামাল হোসেনের ১৮ বছর বয়সী ছেলেও গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে তিনি শঙ্কামুক্ত।
ইতালির সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে প্রতিবেশীরা ওই ফ্ল্যাট থেকে চিৎকার শুনতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে।
প্রাথমিক সুরতহাল শেষে তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে তাদের হত্যা করা হয়েছে।
খবর পেয়েই রোম পুলিশের বিশেষ শাখা এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ করেছেন। তবে কী কারণে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কিংবা এর পেছনে কারা জড়িত, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানাতে পারেনি প্রশাসন।
হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে চিরুনি অভিযান ও তদন্ত শুরু হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সংগৃহীত ছবি
মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগের (জেআইএম) বিশেষ অভিযানে ১৮৬ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। গতকাল শুক্রবার (১৯ জুন) দিনগত রাতে রাজধানী কুয়ালালামপুরের পুডু মার্কেট এলাকার আশপাশে বিদেশি নাগরিকদের আবাসস্থল লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়।
‘অপস কুতিপ’ নামের এ অভিযানে বেশ কয়েকজন বিদেশি নাগরিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ার এবং বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে থাকার চেষ্টা করেন। তবে কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং পরে সবাইকে আটক করা হয়।
ইমিগ্রেশন বিভাগের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ৫ মিনিটে শুরু হওয়া এ অভিযানে কুয়ালালামপুর ফেডারেল টেরিটরি ইমিগ্রেশন বিভাগ, পুত্রাজায়া ও সেলাঙ্গর ইমিগ্রেশন বিভাগ, রয়্যাল মালয়েশিয়া পুলিশ (পিডিআরএম), কুয়ালালামপুর সিটি হল (ডিবিকেএল) এবং জাতীয় নিবন্ধন বিভাগের (জেপিএন) মোট ১৩৭ জন কর্মকর্তা ও সদস্য অংশ নেন।
অভিযান চলাকালে ৩২০ জন বিদেশি নাগরিকের কাগজপত্র যাচাই করা হয়। এর মধ্যে ১৮৬ জনকে বিভিন্ন ধরনের অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক করা হয়েছে।
আটকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছেন বাংলাদেশি নাগরিক। মোট ১১৮ জন বাংলাদেশি পুরুষকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া ২৮ জন ইন্দোনেশীয় (৭ পুরুষ ও ২১ নারী), ২৬ জন মিয়ানমার নাগরিক (১৩ পুরুষ ও ১৩ নারী), ৫ জন ভিয়েতনামি (৩ পুরুষ ও ২ নারী), ৪ জন নেপালি, দুজন ভারতীয়, একজন পাকিস্তানি এবং দুজন চীনা নাগরিককে (১ পুরুষ ও ১ নারী) আটক করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিদের কেউ ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছিলেন, আবার কেউ বৈধ ভ্রমণ নথি বা অনুমতিপত্র ছাড়াই দেশটিতে বসবাস করছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩-এর ধারা ১৫(১)(সি) (অতিরিক্ত সময় অবস্থান) এবং ধারা ৬(১)(সি) (বৈধ নথিপত্র ছাড়া অবস্থান)-এর আওতায় তদন্ত চলছে।
ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আটক ব্যক্তিদের ইমিগ্রেশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে।
সংগৃহীত ছবি
লন্ডনে জুলাই অভ্যুত্থানের নেতা ও এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর অনুষ্ঠান ঘিরে উত্তেজনা ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুক্তরাজ্য শাখার নেতা-কর্মীরা হাসনাত আবদুল্লাহ ও তার সঙ্গীদের লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করার ঘটনাও ঘটেছে। সোমবার পূর্ব লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেল ও এলেম পার্ক এলাকায় পৃথক দুটি স্থানে এ ঘটনা ঘটে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতাসহ অন্তত তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
মায়েদা ব্যাঙ্কুয়েটিং হলে হট্টগোল ও ডিম নিক্ষেপ
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ইউকে অ্যালায়েন্সের উদ্যোগে পূর্ব লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেল এলাকার ইস্ট লন্ডন মসজিদ-সংলগ্ন মায়েদা ব্যাঙ্কুয়েটিং হলে (মায়েদা গ্রিল রেস্টুরেন্ট) এক সভার আয়োজন করা হয়। জুলাই আন্দোলনের এক সেমিনারে যোগ দিতে লন্ডনে অবস্থানরত এনসিপির দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন।
হাসনাত আবদুল্লাহর আসার খবরে বিকেল থেকেই ভেন্যুর বাইরে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। অন্যদিকে এনসিপির সমর্থকরাও অনুষ্ঠানস্থলের সামনে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয় এবং এনসিপি কর্মীদের লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় অনুষ্ঠানটি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে হাসনাত আবদুল্লাহ অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান রাত ৯টার দিকে। কয়েক ডজন পুলিশের কঠোর পাহারায় দৌড়ে বিকল্প একটি দরজা দিয়ে রেস্তোরাঁর ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন তিনি। এ সময় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়ে মারলে তিনি দ্রুত ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে অনুষ্ঠান শেষেও তিনি পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যেই স্থান ত্যাগ করেন।
আওয়ামী লীগ নেতাসহ আটক ৩
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। উত্তেজনাকর পরিস্থিতির একপর্যায়ে পুলিশ তিনজনকে আটক করে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে লন্ডন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফসার খান সাদেক রয়েছেন।
এলেম পার্কে ধাওয়া ও হাতাহাতি
এর আগে সোমবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে পূর্ব লন্ডনের রমফোর্ড এলাকার এলেম পার্কে হাসনাত আবদুল্লাহকে ঘিরে এক দফা উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, হাসনাত আবদুল্লাহ ও তার সহযোগীরা পার্ক এলাকায় হাঁটার সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাদের অনুসরণ করে বিভিন্ন মন্তব্য করতে থাকেন।
সেখানেও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে ডিম ছুড়ে মারা হয়। এতে এনসিপির কেন্দ্রীয় এক নেতার গায়ে ডিম লাগে। এরপর তার সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের তীব্র বাগ্বিতণ্ডা এবং একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে উপস্থিত লোকজন পরিস্থিতি শান্ত করেন।