স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে টেকসই উত্তরণ এবং চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের অবস্থানের সমালোচনা করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ এবং বন্দরের বিষয়সহ কোনো দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কেবলমাত্র নির্বাচিত সরকারের। এ বিষয়ে এমন কোনো সরকার সিদ্ধান্ত নিতে পারে না, যাদের নির্বাচনী ম্যান্ডেট নেই।
দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেবে এমন সিদ্ধান্তে সময় চাওয়াটাই একটি অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বশীল পদক্ষেপ হওয়া উচিত। কিন্তু আমরা কেন ভান ধরছি যে, আমাদের কোনো বিকল্প নেই? কেন আমরা নিজেরাই নিজেদের ভবিষ্যৎ সীমাবদ্ধ করছি? স্থগিতের বিকল্প প্রকাশ্যে বন্ধ করে দিয়ে আমরা নিজেরাই আলোচনা করার ক্ষমতা দুর্বল করছি। আন্তর্জাতিক আলোচনায় আমরা প্রভাব খাটানোর সুযোগ হাতছাড়া করে আগেই দুর্বল অবস্থান থেকে টেবিলে বসছি। সোমবার রাতে ওই পোস্টে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যাও দিয়েছেন।
তিনি লিখেছেন, ধরুন গাজীপুরের একটি ছোট পোশাক কারখানার মালিকের কথা। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি এই ব্যবসা গড়ে তুলেছেন। শতাধিক শ্রমিককে কর্মসংস্থান দিয়েছেন। অতি সামান্য মুনাফা করে কারখানা চালিয়ে গেছেন। নির্মম বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা করেছেন। হঠাৎ একদিন, যে শুল্ক সুবিধায় তার পণ্যের দাম প্রতিযোগিতামূলক থাকতো কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই সেটা নীরবে হারিয়ে গেল। এর ফলে তার অর্ডার কমতে থাকে। এতে কারখানা চালু রাখা, শ্রমিকদের মজুরি ও নিজের পরিবার সামলানো নিয়ে তিনি চাপে পড়েন।
আরেকটি উদাহরণ দিয়ে তিনি লেখেন, এবার কল্পনা করুন নারায়ণগঞ্জের সদ্য স্নাতক সম্পন্ন করা এক তরুণীর কথা। তিনি তার পরিবারকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ডুবে যেতে দেখছেন। তার বাবা একটি কারখানায় কাজ করেন। সংসারের সব খরচ মেটাতে ওভারটাইমই তার ভারসা। রপ্তানির ওপর চাপ পড়লেই প্রথমে ওভারটাইম বন্ধ হয়। এরপর শিফট কমে। তারপর চাকরি চলে যায়। এগুলো সাধারণ পরিবারের নীরব সংকট। এই সিদ্ধান্ত নিতে তারা কোনো ভোট করেনি। কেউ তাদের জিজ্ঞাসাও করেনি। বাস্তব সংখ্যাগুলোও তাদের দেখানো হয়নি। এই কারণেই বাংলাদেশের এলডিসি উত্তীর্ণ হওয়া নিয়ে যে বিতর্ক তা সরকারি বিবৃতির চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্ব বহন করে।
তারেক রহমান লিখেছেন, বিএনপি আগে থেকেই বলে আসছে, ২০২৬ সালে উত্তীর্ণ হওয়ার সময় ঠিক রেখে স্থগিতের বিকল্প খোলা না রাখার মতো সম্পূর্ণ রাজনৈতিক একটি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, যার কোনো নির্বাচনী ম্যান্ডেট নেই। তারপরও এই সরকার এমন দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে যা দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎকে দশকের পর দশক প্রভাবিত করবে। আমাদের বলা হলো, সময় বাড়ানো ‘অসম্ভব’। এমনকি স্থগিতের অনুরোধ করাটা নাকি ‘অপমানে’র এবং জাতিসংঘ নাকি সেটা বিবেচনাও করবে না। কিন্তু একটু গভীরে তাকালে দেখা যায়, ইতিহাস ভিন্ন ও আরও জটিল কথা বলে।
অ্যাঙ্গোলা ও সামোয়ার মতো দেশ তাদের উত্তীর্ণ হওয়ার সময় সংশোধন করেছে। জাতিসংঘের নিয়মই বলে, কোনো দেশ অর্থনৈতিক ধাক্কায় পড়লে এই সময় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেবে এমন সিদ্ধান্তে সময় চাওয়াটাই একটি অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বশীল পদক্ষেপ হওয়া উচিত। কিন্তু আমরা কেন ভান ধরছি যে, আমাদের কোনো বিকল্প নেই? কেন আমরা নিজেরাই নিজেদের ভবিষ্যৎ সীমাবদ্ধ করছি? স্থগিতের বিকল্প প্রকাশ্যে বন্ধ করে দিয়ে আমরা নিজেরাই আলোচনা করার ক্ষমতা দুর্বল করছি। আন্তর্জাতিক আলোচনায় আমরা প্রভাব খাটানোর সুযোগ হাতছাড়া করে আগেই দুর্বল অবস্থান থেকে টেবিলে বসছি।
সরকারের নথিতেই স্বীকার করা হয়েছে যে, ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যেই ব্যাংকখাতে চাপ, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট, ঋণঝুঁকি বৃদ্ধি ও রপ্তানি মন্থর হয়ে যাওয়ার প্রভাব অনুভব করছেন। এটা এলডিসি উত্তরণে বিরোধিতা নয়। বাংলাদেশ এগিয়ে যাওয়ার অধিকার অর্জন করেছে। কিন্তু ‘অধিকার’ থাকা আর ‘প্রস্তুত’ থাকা এক বিষয় নয়। আমার মনে হয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণে কোনো সন্দেহ না থাকা মানেই সেটা প্রকৃত জাতীয় শক্তি নয়। প্রকৃত জাতীয় শক্তি হলো, অপরিবর্তনীয় কিছু হয়ে ওঠার আগেই কঠিন প্রশ্নগুলো করার সুযোগ থাকা।
চট্টগ্রাম বন্দরের প্রসঙ্গ
চট্টগ্রাম বন্দরের প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন, এটা বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রবেশদ্বার। সেখানে যা হয় তার প্রভাব লাখো মানুষের জীবনে অনেক গভীর প্রভাব ফেলে। বন্দরকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্তগুলো কোনোভাবেই রুটিন কাজ নয়। এগুলো জাতীয় সম্পদ নিয়ে কৌশলগত অঙ্গীকার- যা একটি অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বেঁধে দেওয়ার মতো করে এগিয়ে নিচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দরে যা দেখা যাচ্ছে, তা এলডিসি উত্তীর্ণ হওয়ার প্রক্রিয়ারই প্রতিচ্ছবি। কৌশলগত বিকল্পগুলো বন্ধ। জনআলোচনাকে ঝামেলা মনে করা হচ্ছে। যুক্তিসঙ্গত উদ্বেগকে ‘অনিবার্যতা’র কথা বলে পাশ কাটিয়ে দেওয়া হচ্ছে। একটা বিষয় স্পষ্ট করে বলি- এটা কোনো ব্যক্তিকে আক্রমণ নয়। এটি প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করা এবং এই নীতিকে রক্ষা করা যে, দেশের ভবিষ্যৎকে দশকের পর দশক প্রভাবিত করতে পারে এমন সিদ্ধান্ত নেবে সেই সরকার যার জনগণের কাছে জবাবদিহি রয়েছে।
তারেক রহমান লিখেছেন, কেউ বলছে না যে, আমাদের এলডিসি থেকে উত্তীর্ণ হওয়া উচিত নয় বা বন্দর সংস্কার করা উচিত নয়। যুক্তিটা খুবই সহজ ও মৌলিক- একটি দেশের ভবিষ্যৎ এমন সরকারের হাতে বন্দি থাকা উচিত নয়, যাকে এই জাতি নির্বাচিত করেনি। কৌশলগত ধৈর্যধারণ কোনো দুর্বলতা নয়। জনপরামর্শ কোনো বাধা নয়। গণতান্ত্রিক বৈধতা কোনো বিলম্ব নয়। আর আমার মতে, এটাই হয়তো এসবের পেছনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সত্য। বাংলাদেশের মানুষ কখনও তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিষ্ক্রিয় ছিল না। তারা সম্মান, মতপ্রকাশের অধিকার ও পছন্দের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে- এ কারণে তারা অনেক কষ্ট সহ্য করেছে ও ত্যাগ করেছে। তাদের দাবি খুবই সাধারণ—তাদের কথা শুনতে হবে, তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে, তাদের সম্মান দিতে হবে। এ জন্যই আমাদের অনেকেই তাকিয়ে আছি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনের দিকে।
রাজধানীর ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সাংগঠনিক মতবিনিময় সভায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন
বিএনপির অবস্থান চাঁদাবাজি, মাদক ও দখলের বিরুদ্ধে উল্লেখ করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, ‘আমি স্পষ্ট জানিয়ে দিতে চাই, আমার নির্বাচনী এলাকায় কোনো মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজের ঠাঁই হবে না। এসব লোকের সঙ্গে কোনো বিএনপির নেতাকর্মীর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ মঙ্গলবার রাজধানীর কোতোয়ালী থানার ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সাংগঠনিক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দুষ্কৃতকারীদের চিহ্নিত করতে নিয়মিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এখন থেকে নিয়মিত সব নেতাকর্মীকে নিয়ে এক টেবিলে বসব এবং দুষ্কৃতকারীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করব।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন, বিএনপির অবস্থান চাঁদাবাজি, মাদক এবং দখলের বিরুদ্ধে। কিন্তু মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা এ বিষয়ে সোচ্চার না হলে তা বাস্তবায়ন কঠিন।
সরকার ও বিএনপির ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে দলের প্রকৃত নেতাকর্মীদের অনুপ্রবেশকারী ও দলের নাম বিক্রি করে চাঁদাবাজি করা ব্যক্তিদের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের চাওয়া-পাওয়াকে ধারণ করে সুস্থ ও সঠিক রাজনীতি করতে হবে।
ইশরাক হোসেন বলেন, জনগণের যে চাওয়া-পাওয়া, সেই বিষয়গুলোকে কীভাবে ধারণ করে একটি সুস্থ ও সঠিক রাজনীতি করতে হয়—সেই বিষয়গুলো আমরা ধারণ করব। ঢাকা-৬ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে এ এলাকার ১১টি ওয়ার্ডের সব দায়-দায়িত্ব আমার। এখানে ভালো কিছু হলে যেমন আমার সুনাম হয়, ঠিক তেমনি ব্যর্থতার গ্লানিও আমাকেই বহন করতে হয়।
তিনি বলেন, আমরা নির্বাচিত হয়ে পাঁচ বছরের জন্য সরকার গঠন করিনি। বরং ফ্যাসিস্ট হাসিনা বিগত ১৭ বছরে যে ভঙ্গুর পরিস্থিতি ও ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছিল, সেখান থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে স্বাধীন, উন্নত ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে আমরা গড়ে তুলতে চাই।
তিনি আরও বলেন, কিছুদিন আগে সদরঘাটে হত্যাকাণ্ডের মতো গর্হিত অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। এখন সময় এসেছে, এসব অপরাধীকে চিহ্নিত করে তাদের লাগাম টেনে ধরতে হবে। যারা আমাদের সুনাম ক্ষুণ্ন করছে, যারা জনগণের কাছে বিএনপির ভাবমূর্তি নষ্ট করছে, তাদের কঠোর হাতে দমন করতে হবে।
সভায় ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. ফরহাদ রানার সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মো. সুমন ভূঁইয়া, কোতোয়ালী থানা বিএনপির সভাপতি আনোয়ারুল আজিম, যুগ্ম আহ্বায়ক সুরাইয়া বেগমসহ কোতোয়ালী থানার ওসি এবং স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
ইসলামপন্থি সাত দল ও হেফাজতে ইসলামের লোগো
কওমি ধারার সাত ইসলামী দলের ঐক্য প্রক্রিয়ায় প্রস্তাব সমন্বয়ের একটি ধাপ শেষ হয়েছে। হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে গঠিত উপকমিটি সাত দলের পৃথক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করে একটি ‘সমন্বিত রূপরেখা’ তৈরি করেছে। এখন সেই ‘রূপরেখা’ সাত দলের নেতাদের সামনে উপস্থাপন করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার অপেক্ষা।
তবে ঐক্যটি কী ধরনের হবে, কী কাঠামোয় এগোবে এবং রাজনৈতিকভাবে দলগুলো কতটা সমন্বিত থাকবে-এসব প্রশ্নের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।
সাত দলের ঐক্য প্রক্রিয়া কত দূর এগিয়েছে, তা জানতে আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি বশিরুল্লাহর সঙ্গে কথা বলা হয়।
এ সময় তিনি জানান, গত ১ সেপ্টেম্বর হাটহাজারী মাদ্রাসায় হেফাজতের উদ্যোগে গঠিত উপকমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সাত দলের দেওয়া প্রস্তাবগুলো সমন্বয় করে একটি সমন্বিত ‘রূপরেখা’ তৈরি করা হয়েছে।
মুফতি বশিরুল্লাহ বলেন, ‘হেফাজতের উদ্যোগে গঠিত উপকমিটি সাত দলের প্রস্তাবনাগুলো নিয়ে বৈঠক করেছে। হাটহাজারী মাদ্রাসায় ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সাত দলের দেওয়া প্রস্তাবগুলো সমন্বয় করে একটা সমন্বিত রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।’
পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান চিকিৎসার জন্য বর্তমানে থাইল্যান্ডে অবস্থান করছেন। তিনি দেশে ফিরলে সাত দলের নেতাদের ডাকা হবে। এরপর তাদের দেওয়া পৃথক প্রস্তাবনাগুলো থেকে তৈরি সমন্বিত রূপরেখাটি তাদের সামনে পেশ করা হবে। সব দল একসঙ্গে বসে নিজেদের ঐক্য প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করবে এবং এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।’
দলগুলোর অবস্থান কী?
হেফাজতের পক্ষ থেকে সাত দলের প্রস্তাব সমন্বয় করে সমন্বিত রূপরেখা তৈরির কথা জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট কয়েকটি দলের নেতারা বলছেন, তারা উপকমিটির সর্বশেষ বৈঠক ও এর ফলাফল সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত নন।
তবে ঐক্যের বিষয়ে তাদের ইতিবাচক অবস্থান রয়েছে। মূল পার্থক্য ঐক্যটি কী ধরনের হবে এবং দলগুলো কীভাবে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান বজায় রাখবে, তা নিয়ে।
খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী বলেন, ‘হেফাজতের সর্বশেষ যে উপকমিটির বৈঠকের কথা আপনি বলছেন, সেটার রেজাল্ট আমরা জানি না। আশা করি, ওনারা সুন্দরভাবে সমন্বয় করবেন। প্রয়োজন হলে আমাদের ডাকবেন। খেলাফত মজলিস একটি সুন্দর ঐক্য চায়। স্বতন্ত্র ঐক্যের প্রত্যাশা করে।’
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘আমরা পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য অপেক্ষা করছি। যারা ঐক্য প্রক্রিয়ায় সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের প্রতি আমাদের ভরসা আছে। আশা করছি, তারা ইসলামী দলগুলোকে কাছাকাছি আনার ব্যাপারে এবং একটি কার্যকর ঐক্য গড়ার ব্যাপারে সুন্দরভাবে এগিয়ে যাবেন।’
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী বলেন, ‘আমরা আমাদের প্রস্তাবনাগুলো জমা দিয়েছি। এখন পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায়। আহলু সুন্নাত ওয়াল জামাতের আদর্শ ধারণ করে আমরা সবসময় ঐক্য পক্রিয়ার পক্ষে ছিলাম, এখনো আছি। সবসময় থাকব। আশা করি আমাদের অন্য ভাইয়েরাও এই বিষয়ে দ্বিমত করবেন না।’
ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী বলেন, ‘উপকমিটির বৈঠকের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আমরা অবগত নই। তবে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায়। সুন্দর ঐক্যের অপেক্ষায়। আমরা চাই, মৌলিক বিষয়গুলোতে সবাই ঐকমত্য পোষণ করে একসঙ্গে জোটবদ্ধ হবে।’
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন বলেন, ‘সাত দলের প্রস্তাবনাগুলো নিয়ে হেফাজতের সর্বশেষ উপকমিটির বৈঠকের বিষয়টি আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে জানি না। তবে আমরা তো এই ঐক্যের পক্ষে। আমরা প্রত্যাশা করি, আমাদের প্রস্তাবগুলো হেফাজত নেতৃবৃন্দ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে রূপরেখা তৈরি করবেন।’
প্রস্তাবনায় পার্থক্য কোথায়?
সাত দলের প্রস্তাবগুলোতে ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বড় ধরনের বিরোধ না থাকলেও ঐক্যের ধরন, রাজনৈতিক কর্মকৌশল ও সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে ভিন্নতা রয়েছে।
হাতে আসা সাত দলের প্রস্তাবনাগুলোর কয়েকটি কপি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে সাত দলের ঐক্য, জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে সমন্বিতভাবে অংশ নেওয়া এবং অন্য রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে আলাদা সমঝোতা না করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের নীতি ও আদর্শের ওপর অবিচল থাকা, আদর্শিক মতপার্থক্য এড়িয়ে চলা এবং একটি বিশেষ ফোরামের মাধ্যমে ঐক্যের কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সমমনা কওমিপন্থি দলগুলোর ঐক্য বজায় রাখার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও নির্বাচনকেন্দ্রিক সিদ্ধান্তে প্রতিটি দলের নিজস্ব এখতিয়ার থাকার পক্ষে। দলটি বর্তমান ১১ দলীয় জোটে থাকার বিষয়টিকেও এই ঐক্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক মনে করছে না।
মাওলানা আতাউল্লাহ আমিনের বক্তব্য অনুযায়ী, ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে সমমনা ইসলামী দলগুলো অন্য জোটে থেকেও একসঙ্গে কাজ করতে পারে।
অন্যদিকে, খেলাফত মজলিস চাইছে নতুন ঐক্যে যুক্ত দলগুলো অন্য কোনো জোটে একসঙ্গে না থাকুক। একই সঙ্গে দলগুলোর নিজস্ব রাজনৈতিক কৌশল নিজেরাই নির্ধারণ করবে-এমন অবস্থানের কথা জানিয়েছে দলটি।
বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি সমমনা দলগুলোর আদলে ঐক্যের কথা বলেছে। পাশাপাশি ঐক্যবদ্ধ দলগুলোকে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে মাঠে সক্রিয় থাকার বিষয়টি প্রস্তাব করেছে।
বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন হেফাজতের তত্ত্বাবধানে কওমি স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে নতুন ঐক্য গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে। একই সঙ্গে অন্য বড় রাজনৈতিক দল বা জোটের সংস্রব ত্যাগ করে নতুন জোটে যুক্ত হওয়া, পর্যায়ক্রমে নেতৃত্ব দেওয়া এবং সমন্বয় কমিটি বা মজলিসে শূরার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেছে।
ইসলামী ঐক্যজোট ঐক্যের ভিত্তি হিসেবে আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদাকে প্রাধান্য দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। একই সঙ্গে কেউ এই আকিদা লঙ্ঘন করলে তাকে ঐক্যে রাখা যাবে না-এমন অবস্থানও জানিয়েছে দলটি।
যেভাবে শুরু ঐক্য প্রক্রিয়া
কওমি ধারার সাত ইসলামী দলকে একসঙ্গে পথ চলার উদ্যোগ নেয় হেফাজতে ইসলাম। গত ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির জামেয়া আজিজুল উলুম বাবুনগরে হেফাজতের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে সাত দলকে নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সাত দলের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। বৈঠকে ভবিষ্যতে ঐক্যবদ্ধভাবে পথ চলার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয় দলগুলো।
মূলত সাধারণ জোটের বাইরে ইসলামপন্থিদের স্বতন্ত্র একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলাই ছিল এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। এর অংশ হিসেবে দলগুলোকে হেফাজতের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর কাছে ৩ আগস্টের মধ্যে জোট গঠনের রূপরেখা জমা দিতে বলা হয়। প্রায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাত দলই তাদের প্রস্তাবনা জমা দিয়েছে।
দলগুলোর দেওয়া প্রস্তাব পর্যালোচনা ও সমন্বয়ের জন্য হেফাজতের উদ্যোগে সাত সদস্যের একটি উপকমিটি গঠন করা হয়।
সামনে কী?
উপকমিটির বৈঠকে সাত দলের প্রস্তাবগুলো সমন্বয় করে একটি ‘সমন্বিত রূপরেখা’ তৈরি করা হয়েছে।
তবে সেটি এখনো সাত দলের নেতাদের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি। হেফাজতের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান চিকিৎসা শেষে থাইল্যান্ড থেকে দেশে ফেরার পর সাত দলের নেতাদের ডাকার কথা জানিয়েছেন মুফতি বশিরুল্লাহ।
ওই বৈঠকে ‘সমন্বিত রূপরেখা’ দলগুলোর সামনে উপস্থাপন করা হবে। এরপর সাত দল নিজেদের প্রস্তাব ও অবস্থান নিয়ে আলোচনা করে ঐক্য প্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
ফলে সাত দলের ঐক্য প্রক্রিয়া এখন পৃথক প্রস্তাব দেওয়া ও সেগুলো সমন্বয়ের ধাপ পেরিয়ে যৌথ আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। তবে ঐক্যের ধরন, সাংগঠনিক কাঠামো ও রাজনৈতিক কর্মকৌশল নিয়ে দলগুলোর প্রস্তাবে যে ভিন্নতা রয়েছে, তা পরবর্তী বৈঠকে কীভাবে সমাধান হয়- সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।
অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন ও এনসিপির লোগো।
ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মীদের বর্বর হামলা, শারীরিকভাবে হেনস্তা এবং তার সঙ্গে থাকা নিরপরাধ নারী ও শিশুকে আঘাত করার ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ, ধিক্কার ও গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেন।
বিবৃতিতে তারা বলেন, দেশজুড়ে গণহত্যা ও জুলুম চালিয়ে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মুখে পতন ঘটা আওয়ামী ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী দেশ থেকে পালিয়ে এখন বিদেশের মাটিতে বসে দেশের জুলাই যোদ্ধাদের ওপর রাজনৈতিক সহিংসতা ও সন্ত্রাসী হামলা ছড়ানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। ভেনিসে একজন সুপরিচিত সাংস্কৃতিক কর্মী ও জুলাই যোদ্ধার ওপর হামলার মতো জঘন্য অপরাধ প্রমাণ করে যে, তাদের হিংস্র খুনে মানসিকতা বিন্দুমাত্র বদলায়নি।
বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দণ্ডিত সন্ত্রাসী আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের ভেনিসে উপস্থিতিতে তার ঘনিষ্ঠ সন্ত্রাসীরাই এই হামলা চালিয়েছে। তার সাথে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা চিহ্নিত সন্ত্রাসী ক্যাডাররাই মূলত ভেনিসের মাটিতে অভিনেত্রী বাঁধন ও তার পরিবারের ওপর এই ন্যক্কারজনক হামলা চালায়। তাকে জোরপূর্বক ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে বাধ্য করে। এতে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, বিদেশে অবস্থানরত পরাজিত ও পলাতক ফ্যাসিবাদের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রত্যক্ষ মদদ ও উস্কানিতেই এই রাজনৈতিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও হামলা পরিচালিত হচ্ছে।
ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা সামাজিক রিকনসিলিয়েশন (পুনর্মিলন) সম্ভব নয় উল্লেখ করে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তাদের এই অব্যাহত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আবার প্রমাণ করে দিল যে, এই রক্তচোষা ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা সামাজিক রিকনসিলিয়েশন (পুনর্মিলন) সম্ভব নয়। যারা বিদেশের মাটিতেও জুলাই যোদ্ধাদের রক্তাক্ত করতে দ্বিধা করে না, তাদের স্থান কেবল আইনের কাঠগড়ায়। স্বৈরাচার পতন ঘটানো জুলাই যোদ্ধারা আমাদের জাতীয় সম্পদ; বিদেশের মাটিতে সন্ত্রাসী এই সংগঠনের ক্যাডাররা তাদের ওপর হামলা চালানোর যে দুঃসাহস দেখিয়েছে, তা কোনো অবস্থাতেই বরদাশত করা হবে না।
বিবৃতিতে এনসিপি নেতারা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সরকারের প্রতি স্পষ্ট বার্তা জানিয়ে বলেন, ইতালিয়ান সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে এই হামলায় জড়িত চিহ্নিত আওয়ামী সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে এবং তাদের ভিসা বাতিল করে বাংলাদেশে ডিপোর্ট (বহিষ্কার) করে আইনের আওতায় আনতে হবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অবস্থানরত সকল জুলাই যোদ্ধা, প্রবাসী বিপ্লবী কর্মী ও সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জনগণের ট্যাক্সে পরিচালিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ভেনিসের এই সন্ত্রাসী হামলায় জড়িতদের কূটনৈতিক ও আইনি মাধ্যমে বাংলাদেশে ডিপোর্ট করে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের মুখোমুখি করা না হলে বর্তমান সরকারকে কঠিন জবাব দিতে হবে। এনসিপি বাংলাদেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সব মঞ্চে ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
প্রসঙ্গত, ইতালির মেস্ত্রে শহরে জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে করা লাইভে তিনি এ অভিযোগ করেন।
যেখানে তিনি আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) প্রবাসী কর্মীদের জড়িয়ে এই হামলার অভিযোগ তোলেন।
ফেসবুক লাইভে তিনি অভিযোগ করেন, ‘এখানে আমি আমার ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে পার্কে গিয়েছিলাম। সেখানে আমাদের অনেক বাঙালি ভাই এসে আমাকে ‘ফিজিক্যালি হ্যারাস’ করেছে। আমার শরীরে পানি, কোক ছুড়ে মেরেছে। এতে আমি একদম ভিজে যাই।’
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম- এর লোগো
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম এর বাংলাদেশ ব্যাংক প্রাতিষ্ঠানিক ইউনিটের ৫২ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে মু. আবু বকর সিদ্দিকী শিপলুকে আহ্বায়ক ও মো. আল-আমীন মিয়াকে সদস্য সচিব নির্বাচিত করা হয়েছে। এছাড়া কমিটিতে সাতজনকে উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য করা হয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম- এর কেন্দ্রীয় সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ড. কে. এম. আই. মন্টি এই কমিটির অনুমোদন দেন। আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম-এর কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তরের দায়িত্বে থাকা সাকিবুর রহমান সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য: কমিটিতে উপদেষ্টামণ্ডলীতে রয়েছেন সাতজন। তারা হলেন-
মো. ওবায়দুল হক (নিবাহী পরিচালক অব.)
মো. মোকসুদুজ্জামান (নিবাহী পরিচালক)
মো. শহীদ রেজা (পরিচালক)
স্বপন কুমার গোস্বামী (পরিচালক)
মো. সালাউদ্দিন তপাদার (অতিরিক্ত পরিচালক)
মোহাম্মদ জাকির হোসেন (অতিরিক্ত পরিচালক)
মো. মনজুর মোর্শেদ (অতিরিক্ত পরিচালক অব.)
আহ্বায়ক কমিটি
বাংলাদেশ ব্যাংক প্রাতিষ্ঠানিক ইউনিটের ৫২ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটিতে যারা রয়েছেন তারা হলেন-
মু. আবু বকর সিদ্দিকী (শিপলু) (আহ্বায়ক)
এম. মাহবুবুর রহমান (সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক)
মো. মোশাররফ হোসেন (যুগ্ম আহ্বায়ক)
মো. শামস তিবরীজ ভুইয়া (যুগ্ম আহ্বায়ক)
শফিউল আযম ফাহিম (যুগ্ম আহ্বায়ক)
মো. হাবিবুর রহমান (যুগ্ম আহ্বায়ক)
মো. আশরাফুল ইসলাম (যুগ্ম আহ্বায়ক)
আসমা বেগম (যুগ্ম আহ্বায়ক)
মো. আলী হোসেন (যুগ্ম আহ্বায়ক)
মো. আল-আমীন মিয়া (সদস্য সচিব)
এছাড়া কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন-
মো. রাজু আহমেদ
নূরে আলম জিকু
মো. গোলাম রাব্বী তানভীর
আবদুল্লাহ আল মামুন
জি এম আপেল মাহমুদ
মাহবুব মোর্শেদ
ওয়াসি আহমেদ ইভান
ইসমাইল হাসান
শাহ মো. নেওয়াজ শরীফ
মো. মাহবুবুর রহমান তালুকদার
মো. আলী আসগর
মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান মুন্না
মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন যান
মো. হানিফুল ইসলাম
মো. তানজীল হোসেন পলক
শাকিলা সুলতানা
শারমীন সুলতানা তুষা
সাহেলী নার্গিস
মো. শাহীন আলম
মো. এনামুল হক
ড. তানজিমা বেগম মণি
মো. আব্দুল হালিম
মোহাম্মদ মিজানুর রহমান
মো. শাহজালাল খান
মো. রেজোয়ানুর রহমান
মো. ওমর ফারুক
শায়মা সিদ্দিকী শর্মী
কেশব চন্দ্র শীল
মো. মামুন-উর-রশিদ
আনাস আরাবী
মাহাতীর মো. আবু রায়হান
মো. মাসুম রানা
মোহাম্মদ সালাউদ্দিন আহমেদ
মো. এনায়েতউল্লাহ
মো. আলাউদ্দিন
মো. আক্তার হোসেন খান
মো. বাকির ভূঁইয়া
মো. রাজীবুল হাসান
আলফাজ হোসেন
মো. আমীর হোসেন
কাজী নাসিফ মোহাম্মদ
মো. শিফাত-ই- মনজুর
আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ও সারজিস আলম
ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা-প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তিনি বাঁধনের প্রতি পূর্ণ সংহতি জানিয়েছেন। অন্যদিকে বাঁধনকে নিয়ে গর্বিত হওয়া, তাঁর পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
আসিফ মাহমুদ ও সারজিস আলম নিজ নিজ ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পৃথক পোস্টে এই প্রতিক্রিয়া জানান। আসিফ মাহমুদ তাঁর পোস্টটি দিয়েছেন আজ মঙ্গলবার সকালে। আর গতকাল দিবাগত রাতে পোস্ট দেন সারজিস আলম।
৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে ইতালিতে গেছেন বাঁধন। গতকাল রাতে ভাইসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তিনি ইতালির একটি পার্কে গেলে হামলা-হেনস্তার শিকার হন।
পরে বাঁধন বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার কারণেই তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়েছে। হামলাকারীদের কয়েকজন নিজেদের আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ও ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ) কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।
আসিফ মাহমুদ তাঁর পোস্টে বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম সহযোদ্ধা ও অভিনেত্রী বাঁধনের ওপর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের হামলা, তাঁকে শারীরিকভাবে আঘাত করার তীব্র নিন্দা-প্রতিবাদ জানাচ্ছেন তিনি। একটি গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণ যে ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিকব্যবস্থাকে প্রত্যাখ্যান করেছে, সেই নিষিদ্ধ ও সন্ত্রাসী সংগঠনের পলাতক নেতা-কর্মীরা এখনো হামলা-সহিংসতা চালিয়ে যাচ্ছে। এই ঘটনা পরাজিত ও নিষিদ্ধ রাজনৈতিক শক্তির পুরোনো সন্ত্রাসী চরিত্রেরই বহিঃপ্রকাশ।
জুলাইয়ের গণ-আন্দোলনে বাঁধন সাহসের সঙ্গে রাজপথে ছিলেন উল্লেখ করেন আসিফ মাহমুদ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের মানুষের অধিকার ও স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশের দাবিতে বাঁধন তাঁর নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন। তাঁর ওপর হামলা প্রমাণ করে, পরাজিত সন্ত্রাসীশক্তি এখনো প্রতিশোধ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের রাজনীতি থেকে বের হতে পারেনি।
হামলা করে, ভয় দেখিয়ে কিংবা সহিংসতা চালিয়ে অরাজকতা করে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে দমিয়ে রাখা যাবে না বলে উল্লেখ করেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, ইতালির মাটিতে বাংলাদেশের একজন নাগরিকের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িতদের দেশটির প্রচলিত আইনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ দূতাবাসকে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে হবে।
বাঁধনের প্রতি পূর্ণ সংহতি জানিয়ে এনসিপির মুখপাত্র তাঁর পোস্টে লিখেছেন, জুলাইয়ের সহযোদ্ধাদের ওপর যেকোনো হামলার বিরুদ্ধে তাঁদের অবস্থান স্পষ্ট।
এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম তাঁর পোস্টে বাঁধনকে নিয়ে গর্বিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। বাঁধনকে উদ্দেশ করে তিনি লিখেছেন, ‘আপনি এই দেশের জন্য লড়াই করেছেন, দেশের মানুষকে স্বৈরাচার থেকে মুক্ত করার জন্য লড়াই করেছেন।’
যারা বাঁধনের ওপর হামলা করেছে, তাদের খুনিদের দালাল, বিবেকবোধ বিক্রি করে দেওয়া এক একটা নরপশু হিসেবে অভিহিত করেছেন সারজিস আলম। এদের কাছ থেকে এর চেয়ে বেশি কিছু বাঁধনকে আশা না করতে বলেন তিনি।
বাঁধনের উদ্দেশে সারজিস আলম লিখেছেন, ‘আমরা সবাই আপনার সাথে আছি। পুরো বাংলাদেশ আপনার সাথে।’
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরশন থেকে দক্ষিণের ২১ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার হয়েছেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। আর দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে উত্তরের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার এলাকা স্থানান্তর করেছেন দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সামনে রেখে তাঁরা ভোটার এলাকা স্থানান্তর করেছেন তারা।
এনসিপি গত মার্চে জানিয়েছিল, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট নয় এককভাবে স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ঢাকা উত্তরে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব এবং দক্ষিণে আসিফ মাহমুদ মেয়র প্রার্থী হবেন। দলটির সূত্র জানিয়েছে, ছয় মাস পর এই অবস্থান বদলেছে। দক্ষিণে নাসীর এবং উত্তরে আসিফকে প্রার্থী করার চিন্তা করা হচ্ছে। তাই সোমবার তারা ভোট স্থানান্তর করেছেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে নাসীরুদ্দীন হারলেও, ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের সঙ্গে সমানে সমানে লড়াই করেছেন। মির্জা আব্বাসের ৫৯ হাজার ভোটের বিপরীতে ৫৪ হাজার ভোট পান নাসীর। ওই নির্বাচনে তিনি ভোটার ছিলেন উত্তরের ঢাকা-১৮ আসনে। তাই নিজেকে নিজে ভোট দিতে পারেননি।
সংসদ নির্বাচনের আগে কুমিল্লা-৩ থেকে থেকে ঢাকা-১০ আসনের ভোটার হন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পদ ছেড়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া আসিফ মাহমুদ। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁর নির্বাচন করা হয়নি, জামায়াত জোট প্রার্থী না করায়। এরপর দক্ষিণে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম এই ছাত্রনেতা। তবে সোমবার দক্ষিণের ধানমন্ডির ১৮ নম্বর ওয়ার্ড ছেড়ে উত্তরের আফতাবনগরের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার হয়েছেন।
জাতীয় নির্বাচনের ভোটাররা যে কোনো আসেন প্রার্থী হতে পারেন। স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার হতে হয়। আসিফ মাহমুদ সমকালকে বলেন, দলের পরিচালিত কয়েকটি জরিপে দেখা গেছে, উত্তরে আমার অবস্থান ভালো। দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর অবস্থান ভালো। তাই এ চিন্তা থেকেই ভোটার স্থানান্তর করা হয়েছে।
প্রার্থী হচ্ছেন কিনা-প্রশ্নে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ বলেছেন, এটা দল ঠিক করবে। এনসিপি সর্বাত্মক এবং এককভাবে স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলের যারা পরিচিত মুখ, তাদের ভোট এ কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকায় স্থানান্তর করা হচ্ছে।
নাসীরুদ্দীন বলেন, নির্বাচন করবেন কিনা নিশ্চিত নয়। তবে নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা রয়েছে, তিনি যাতে দক্ষিণে প্রার্থী হন। আবার যেহেতু ঢাকা-৮ আসনে ইতোমধ্যে নির্বাচন করেছেন, তাই ভবিষ্যত চিন্তায় এই এলাকায় ভোটার হয়েছেন।
জামায়াত ইতোমধ্যে জানিয়েছে স্থানীয় নির্বাচনে কেন্দ্রীয়ভাবে জোট হবে না। ১১-দলীয় ঐক্যের শরিকরা যে যার মতো অংশ নেবে। স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনে জোট হতে পারে। ঢাকা উত্তরে দলের নির্বাহী পরিষদ মুহাম্মদ সেলিমউদ্দিন এবং ঢাকা দক্ষিণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েমকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে বাছাই করেছে জামায়াত।
উত্তরের অন্তর্ভূক্ত আটটি আসনের চারটিতে জামায়াত জয়ী হয় সংসদ নির্বাচনে। দক্ষিণের সাতটি আসনের দুটি জিতেছে। জোট সূত্র জানিয়েছে, দক্ষিণকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে জামায়াত। সেলিমউদ্দিন সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৬ আসনে অল্প ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। তিনি আগেভাগে প্রচার শুরু করলেও, কোনো কারণে সিটি নির্বাচন না করলে তাঁকে সংসদীয় রাজনীতিতে রাখা যাবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম ছাত্রনেতা সাদিক কায়েমকে তাঁর নিজ এলাকা খাগড়াছড়ির পরিবর্তে ঢাকার রাজনীতিতে সক্রিয় করতে চায় জামায়াত। এ কারণে দক্ষিণ শরিকদের ছাড়া হবে না। এই সমীকরণ মাথায় রাখছে এনসিপি।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামী নভেম্বর থেকে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে স্থানীয় নির্বাচন শুরু হবে। এরপর ধাপে ধাপে অন্যান্য স্তরের নির্বাচন হবে। আসিফ মাহমুদ বলেন, এ হিসাবেও সিটি নির্বাচনে এখনও আট দশ মাস সময় বাকি। তপশিল ঘোষণার পর বলা যাবে কী হবে।
জোট সূত্রের খবর, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে বোঝা যাবে সরকার এবং সরকারি দলের কী আচরণ হবে স্থানীয় নির্বাচনে। যদিও অতীতের মতো ক্ষমতাসীনরা স্থানীয় নির্বাচনে শক্তি দেখায়, তা দেখে পৌরসভা, উপজেলা, সিটি নির্বাচনে জোট করা না করার সিদ্ধান্ত হবে।