বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানের মন্তব্যে গভীর উদ্বেগ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আজ রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আলোচনা সভায় ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান সম্পর্কে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ যে বক্তব্য প্রদান করেছেন-তা কেবল অসঙ্গতই নয়, বরং ইতিহাস, ভাষাতত্ত্ব ও গণআকাঙ্ক্ষার বাস্তবতাকে অস্বীকার করার শামিল। আমি তার এই মন্তব্যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, ‘ইনকিলাব’ শব্দটি আরবি উৎসভিত্তিক হলেও উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন, স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রাম এবং গণঅধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে বহু দশক ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ভাষা কোনো সংকীর্ণ গণ্ডিতে আবদ্ধ নয়; ভাষা জনগণের ব্যবহারে সমৃদ্ধ হয়, বিকশিত হয় এবং আপন রূপ লাভ করে।
তিনি বলেন, বাংলা ভাষা নিজেই তদ্ভব, তৎসম, আরবি, ফারসি, পর্তুগিজ ও ইংরেজিসহ অসংখ্য ভাষা থেকে শব্দ গ্রহণ করে আজকের অবস্থানে পরিণত রূপ লাভ করেছে।
অতএব, কোনো শব্দের উৎপত্তিকে কেন্দ্র করে তাকে ‘বাংলাবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া ভাষাবিজ্ঞানের মৌলিক নীতির পরিপন্থি। ভাষার প্রশ্নে বিভাজন সৃষ্টি করে জাতিকে দ্বিধাবিভক্ত করার অপচেষ্টা কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছে কাম্য নয়।
আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর একচেটিয়া স্লোগান নয়; এটি শোষণ, অন্যায় ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক। দেশের ছাত্র-জনতা যখন অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়, তখন তাদের কণ্ঠরোধ করার ভাষাগত যুক্তি দাঁড় করানো গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থি।
তিনি বলেন, মন্ত্রী মহোদয় বলেছেন, এ স্লোগান উচ্চারিত হলে তার ‘রক্তক্ষরণ’ হয়। অথচ জনগণের অধিকার হরণ, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও টেন্ডারবাজির মতো ফৌজদারি অপরাধ, ঘুস-দুর্নীতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অনিয়ম এবং বৈষম্য দেশে চরম আকার ধারণ করা সত্ত্বেও আপনার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটায় না।
এগুলো কী আপনার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটানোর জন্য যথেষ্ট নয়? প্রকৃতপক্ষে এগুলোই তো জাতির হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটানোর জন্য যথেষ্ট। কিন্তু আপনার মতো লোকদের হৃদয়ে এগুলো পৌঁছায় না। দেশবাসীর প্রত্যাশা- জনগণের ন্যায্য প্রতিবাদের ভাষাকে দোষারোপ না করে বরং জনদুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই সরকারের দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বিশ্বাস করে বাংলা ভাষা আমাদের গৌরব, আমাদের আত্মপরিচয়ের অন্যতম ভিত্তি। বাংলা ভাষার ভেতরে বহুমাত্রিক শব্দভাণ্ডার ও ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতার সমন্বয় রয়েছে।
কোনো শব্দ বা স্লোগানকে কেন্দ্র করে জাতিকে বিভক্ত করার চেষ্টা পরিহার করতে আমরা সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানাই। একই সঙ্গে আমরা অবিলম্বে মন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় জনগণই এর যথাযথ জবাব দেবে। আল্লাহ আমাদের দেশ ও জাতিকে সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করুন।
জিয়ারত শেষে দোয়া করছেন এনসিপি নেতারা।
রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে অভিশংসন ও পরে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। বুধবার বিকেলে বনানী সামরিক কবরস্থানে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের শহীদদের কবর জিয়ারত শেষে তিনি এ দাবি জানান।
নাহিদ ইসলাম বলেন, 'চব্বিশের জুলাইয়ে গণহত্যা ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেননি রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন। এজন্য তিনি গণহত্যার দায় এড়াতে পারেন না।'
'সংসদের প্রথম অধিবেশনে তাকে অভিসংশন করতে হবে। এরপর গণহত্যার দায়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে হবে,' বলেন নাহিদ।
সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎকারের উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, 'তিনি যে ধরনের সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, সেটাও আসলে শপথ লঙ্ঘন হয়েছে। ফলে কোনোভাবেই এই রাষ্ট্রপতি আর এই দায়িত্বে এই পদে থাকার যোগ্য না।'
তিনি আরও বলেন, 'রাষ্ট্রপতি বলতে আমরা বুঝি রাষ্ট্রের অভিভাবক। যে সম্মান-শ্রদ্ধা ভাবগাম্ভীর্যসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব প্রয়োজন তার কোনোটাই তার নেই। বরং নানা অপরাধে তিনি অভিযুক্ত। ফলে এখন সময় এসেছে অভিশংসন করে তাকে সরানো। দ্বিতীয়ত তার বিরুদ্ধে মামলা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে তাকে গ্রেপ্তার করা নতুন সরকারের অন্যতম দায়িত্ব।'
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন সারজিস আলম
স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টি এবং জামায়াতে ইসলামী এককভাবে প্রার্থী দেবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। গতকাল মঙ্গলবার রাতে বাংলা মোটরে দলটির অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।
যদিও কিছুদিন আগে সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটবদ্ধভাবে প্রার্থী দিয়েছিল জামায়াত ও এনসিপি, যাকে তারা নির্বাচনী জোট বলে বর্ণনা করেছে।
সারজিস আলম বলেন, আমরা যেহেতু এখন পর্যন্ত জামায়াতও তাদের জায়গা থেকে বলেছে তারা স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনের প্রস্তুতি এককভাবে নেওয়া শুরু করেছে। আমরা এনসিপিও আমাদের জায়গা থেকে স্থানীয় নির্বাচনের যে প্রস্তুতি আমরাও এককভাবে সেই প্রস্তুতি শুরু করতে যাচ্ছি।
তবে শেষ মুহূর্তে যদি মনে হয় ১১ দলীয় জোট একসাথে স্থানীয় নির্বাচন করতে পারে তখন সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সিটি করপোরেশনসহ সব স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনে এনসিপি দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করবে বলেও জানান সারজিস আলম।
তিনি বলেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বাংলাদেশের প্রত্যেকটি উপজেলা, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় আমরা আমাদের প্রাথমিক প্রার্থী ঘোষণা করতে চাই। ১২টি সিটি করপোরেশন, ৪৯৫টি উপজেলা ও ৩৩০ টি যে পৌরসভা রয়েছে এনসিপি সেগুলোর দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করবে।
ছবি : সংগৃহীত
গণ-অভ্যুত্থানের দিন ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিষয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অনেক কিছুই চেপে গেছেন বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। আজ মঙ্গলবার বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে শফিকুর রহমান রাষ্ট্রপতির বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এর আগে একটি গণমাধ্যমে দুই পর্বে রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎকার ছাপা হয়।
সেই সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে তাঁর টিকে থাকার পেছনে বিএনপি জোট ও সশস্ত্র বাহিনীর সমর্থনের কথা বলেছেন। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন।
এ ছাড়া সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতির অপসারণের আন্দোলন, তাঁকে বিদেশ যেতে বাধা দেওয়ার অভিযোগসহ নানা বিষয় উঠে এসেছে।
রাষ্ট্রপতির সেই সাক্ষাৎকারের দিকে ইঙ্গিত করে জামায়াত আমির ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘৫ই আগস্ট ২০২৪ বিষয়ে রাষ্ট্রপতি অনেক কিছুই চেপে গিয়েছেন। পতিত পলাতক প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে উনি উপস্থিত নেতৃবৃন্দকে যা বলেছিলেন এবং পরবর্তীতে জাতিকে যা জানিয়েছিলেন, তার বর্তমান বক্তব্যে তিনি তা স্বীকার করেননি। আর এখন যা বলছেন, সেদিন তার কিছুই তিনি বলেননি।’
শফিকুর রহমান লেখেন, ‘কোটি কোটি মানুষ যা শুনল এবং সেদিন তিনি যা বললেন আর এখন যা বলছেন, তার হিসেব রাষ্ট্রপতি মিলিয়ে দেবেন কি?’
পোস্টের শেষ দিকে জামায়াত আমির লেখেন, ‘জাতি অবুঝ নয়। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ জায়গা থেকে এ রকম আচরণ অগ্রহণযোগ্য।’
বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার যে প্রসঙ্গ, সেটিকে আইনগতভাবে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তরে এ কথা বলেন মির্জা ফখরুল।
সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করেন, বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের অফিসগুলো খোলা হচ্ছে—এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান কী? উত্তরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এটা আমরা চাইনি এবং যেহেতু আইনগতভাবে বলা আছে যে তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ, সেভাবেই এটাকে দেখা হবে সব জায়গায়।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ের পর এই প্রথম বিএনপির কোনো মন্ত্রী বা জ্যেষ্ঠ নেতা এ কার্যালয়ে যান। সকাল সাড়ে ১০টায় নয়াপল্টন অফিসে যান বিএনপি মহাসচিব। সেখানে দলটির নেতা-কর্মীরা মির্জা ফখরুলকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মির্জা ফখরুল বলেন, নয়াপল্টনে বিএনপির এ কার্যালয় থেকে বিগত সময়ে সবচেয়ে বেশি আন্দোলন ও কর্মসূচি পালন করা হয়; যার নের্তৃত্বে ছিলেন বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।
মির্জা ফখরুল বলেন, এ কার্যালয় থেকে দেওয়া কর্মসূচিগুলো জনগণকে অনুপ্রাণিত করেছিল।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সঠিক সময়ে সরকারি নিয়ম মেনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কতগুলো নিয়মকানুন আছে সরকারি। সরকারি এবং যেসব প্রথা আছে, সেগুলো কতগুলোর মেয়াদ আছে, কতগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, সবগুলোকে এক জায়গায় নিয়ে এসে সরকারের তরফ থেকে একটি সঠিক সময়ে এই নির্বাচনগুলো দেওয়ার ব্যবস্থা আমরা করব। তবে নিঃসন্দেহে এই নির্বাচনকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।’
জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি কাদের মনোনয়ন দেবে, এমন প্রশ্নোত্তরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তাঁদের জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকতে হবে, রাজনীতি ও দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকতে হবে। আমাদের দলের পক্ষ থেকে যাঁরা দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন, তাঁদের প্রাধান্য দেওয়া হবে।’
জাতীয় পার্টিকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন দলটির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে পরিকল্পিতভাবে জাতীয় পার্টিকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন দলটির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী। তিনি বলেছেন, "আমাদের ভোট কমানো হয়েছে। কমানোটা দুটি পরিকল্পনার অংশ ছিল। একটা হলো, আমাদের তৃতীয় করা হবে। আরেকটা হচ্ছে, যদি কখনো উচ্চকক্ষ হয়, আনুপাতিক ভোটে আমরা যেন একটি আসনও না পাই।”
আজ রোববাবর বিকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে দলের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে এসে এসব অভিযোগ তোলেন পাটোয়ারী।
অর্ন্তবর্তী সরকারের বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “তাদের নির্দেশনায় প্রশাসন নির্বাচনে কারচুপি করেছে। জাতীয় পার্টিকে তাকে শক্তিশালী আসনগুলোতে তৃতীয় করা হয়েছে; জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, জাতীয় পার্টি জন্য যা বিস্ময়কর।
“তারপরও তারেক রহমান ও নতুন সরকারকে আমরা অভিনন্দন জানাই। নতুন সরকার প্রতিহিংসা পরিহার করে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি করবে, আমরা এটাই প্রত্যাশা করি।”
তিনি বলেন, “দেশের অসংখ্য কেন্দ্রে জাতীয় পার্টিকে শূন্য ভোট দেখানো হয়েছে। কেন্দ্রভিত্তিক রেজাল্টে ঘসাভাজা দেখেছি আমরা। ঘসাভাজা করা একটি কাগজ আমাদের কাছে এসেছিল।"
তিনি বলেন, “এজেন্টকে ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এজেন্টদের কাছ থেকে আগে সই নেওয়া হয়েছে। ব্যাপকভাবে ভোটের আগে ভোট কেনা হয়েছে। প্রশাসন এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নেয়নি।”
গণভোটে সবচেয়ে বেশি কারচুপি হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, “সবচেয়ে কুলষিত হচ্ছে গণভোট। গণভোটের ৭৩ লাখ বাতিল ভোট হয়েছে, একটি ভোটে ৭৩ লাখ বাতিল ভোট কীভাবে হয়।”
একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা। শহীদ মিনারে যাওয়ার পর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একটি ইউনিটের নেতাকর্মীদের ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগানের মুখে ফুল ও ব্যানার রেখেই শহীদ মিনার এলাকা ত্যাগ করতে হয়ে তাদের।
সংবাদ সম্মেলনে এ প্রসঙ্গও তোলেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সন্মেলনে অন্যদের মধ্যে অতিরিক্ত মহাসচিব রেজাউল ভূঁইয়া, প্রেসিডিয়াম সদস্য আলমগীর শিকদার লোটন, ইমরান হোসেন মিয়া, মঈনুর রাব্বী রুম্মান, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য খলিলুর রহমান খলিল, জাহিদুর রহমান জাহিদ, ভাইস চেয়ারম্যান আখতার হোসেন, আব্দুস সোবহান ও হেলাল উদ্দিন।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা ৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী অফিসে আসেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তৃতীয় দিনের মতো সচিবালয়ে তার কার্যালয়ে অফিস করেছেন। আজ রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা ৫ মিনিটে তিনি অফিসে আসেন।
সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর অফিসে নির্দিষ্ট সময়ে পৌঁছে সবাইকে অবাক করে দেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ে সবাইকে অফিসে উপস্থিত থাকার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ‘গুলশানের বাসা থেকে প্রধানমন্ত্রী রওনা হয়ে সকাল ৯টা ৫মিনিটে সচিবালয়ে পৌঁছান। অফিসে এতো সকালে প্রধানমন্ত্রীকে অফিসে দেখে অনেকে অভিভূত হয়েছেন।’
অতিরিক্ত প্রেস সচিব রুমন বলেন, ‘একজন সাংবাদিক সকাল ৯টা ২০ মিনিটে তার ফেসবুকে স্ট্যাটাস বলেন প্রধানমন্ত্রীর অফিসে আসার ছবি তোলার জন্য অপেক্ষা করছি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী যে ১৫ মিনিট আগেই সচিবালয়ে প্রবেশ করেছেন, সেটা উনি জানেন না।’
আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ‘সচিবালয়ে অফিসে এসে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টারা কারা কারা অফিসে এসেছেন তার খোঁজ-খবর নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছেন যাতে নির্দিষ্ট সময়ে সকলে অফিসে উপস্থিত হন।’
দেশের ১৭তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পরদিন ১৮ ফেব্রুয়ারি সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং শেরে বাংলা নগরে বাবা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করে সচিবালয়ে প্রথম অফিস করেন তিনি।
১৯ ফেব্রুয়ারিও সচিবালয়ে দাপ্তরিক কাজ করেন তিনি। মাঝে শুক্রবার সরকারি ছুটি কাটান। সর্বশেষ শনিবার ছুটির দিনেও তেজগাঁও কার্যালয়ে অফিস করেন তারেক রহমান।
মূলত প্রশাসনিক কাজে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ছুটির দিনে শনিবারেও দাপ্তরিক কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে।