ছবি: সংগৃহীত।
রোজার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সাহরি। সারা দিনের প্রয়োজনীয় শক্তির যোগান আসে এই সাহরির খাবার থেকেই। তাই সুস্থ থেকে রোজা পালনের জন্য সাহরির খাদ্যতালিকায় সতর্ক থাকা জরুরি।
আমাদের দেশের সাধারণ খাদ্যাভ্যাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অনেকেই সাহরিতে উচ্চ চর্বিযুক্ত বা অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার খেতে পছন্দ করেন। তবে এ ধরনের খাবার শরীরের জন্য মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত নয়। সাহরিতে ভুল খাবার নির্বাচনের কারণে শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
তাই রোজায় সুস্থ থাকতে সাহেরির তালিকায় বেশ কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি।
সেহরিতে যেসব খাবার খেতে পারেন——
১.তরল খাবার:
সাহরির খাবারে স্বাদের চেয়ে খাদ্যগুণকে বেশি গুরুত্ব দিন। সাহরিতে বেশি করে তরল খাবার খান। যেমন: লেবু, কমলা, শসা, তরমুজ, ডাবের পানি ইত্যাদি। রোজার দিনে শরীরের পানিশূন্যতা কমাতে পর্যাপ্ত পানি ও জলীয় খাবার খাওয়া জরুরি।
২. জটিল কার্বোহাইড্রেট-সমৃদ্ধ খাবার :
জটিল কার্বোহাইড্রেট যুক্ত খাবার। লাল চালের ভাত বা ব্রাউন রাইস, ওটস, লাল আটার রুটি, মুসুর বা মুগ ডাল। এ খাবারগুলো ধীরে ধীরে হজম হয়, ফলে দীর্ঘক্ষণ শক্তি জোগায় এবং ক্ষুধার অনুভূতি কমায়।
৩. প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার:
প্রোটিন শরীরের টিস্যু মেরামত করে এবং শক্তি বজায় রাখে। যেমন: সিদ্ধ ডিম, অমলেট, মুরগির মাংস , দই, ছোলা, বাদাম ও বীজ (বাদাম, চিয়া সিড, তোকমা ইত্যাদি) ।
৪. আঁশযুক্ত খাবার:
আঁশযুক্ত খাবার যেমন: সবুজ শাক- সবজি, ফলমূল, ছোলার ডাল ও মুগ ডাল। এ খাবারগুলো হজম প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে করে, ফলে ক্ষুধা দেরিতে লাগে।
সেহরিতে যা খাবেন না:
*এ সময় শুকনো ও প্রক্রিয়াজাত খাবার খাবেন না। এ ধরনের খাবার শরীরকে পানিশূন্য করে।
* সেহরির সময় চা বা কফি পান থেকে বিরত থাকুন। এগুলো পানিশূন্যতা বাড়ায়।
* উচ্চ চর্বিসমৃদ্ধ এবং তেলে ভাজা খাবার সেহেরিতে খাবেন না। এছাড়া, পাকস্থলীতে অস্বস্তি করে এমন খাবার এড়িয়ে চলুন।
* এ সময় লবণাক্ত খাবার পরিহার করুন। যেমন: আচার, বেশি মসলাজাতীয় খাবার, প্রকিয়াজাত খাবার, ভারি ডেজার্ট ও কোমল পানীয় ইত্যাদি।
সেহেরিতে সঠিক খাবার খেলে রোজা রাখা অনেকটা সহজ হয় এবং শরীর সুস্থ থাকে। তাই সেহেরিতে সঠিক খাবার বেঁছে নেওয়া জরুরি।
ইফতারের সময় অন্তত দুইটি খেজুর খেলে তাৎক্ষণিক শরীর শক্তি জোগায়
সারাদিন রোজার পর রোজদাররা খেজুর দিয়ে রোজা ভাঙেন। ইফতারের সময় অন্তত দুইটি খেজুর খেলে তাৎক্ষণিক শরীর শক্তি জোগায়।
এই ফলপুষ্টিগুণে ভরপুর। হালকা রসালো খেজুরও বেশ সুস্বাদুও। স্মুদি কিংবা চাটনি তৈরিতেও স্বাভাবিক মিষ্টি ভাব বজায় রাখতে খেজুরের জুড়ি নেই। বাজারে নানা ধরনের খেজুর মেলে। কোনওটি লম্বাটে, কোনওটি খানিক শক্ত, কোনও হালকা খয়েরি কোনওটি আবার কালচে। সব ধরনের খেজুরের মধ্যে কোনটি ভালো মানের এবং সেটা কীভাবে চিনবেন তা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন আছে।
বিভিন্ন ধরনের খেজুরের মধ্যে আজওয়া, আনবারা, সাগি বা সুগায়ি, সাফাওয়ি, মুসকানি, মরিয়ম খেজুর অন্যতম। এছাড়া রয়েছে খালাস, ওয়াসালি, বেরহি, শালাবি, ডেইরি, মাবরুম, ওয়ান্নাহ, সেফরি, সুক্কারি, খুদরি ইত্যাদি। আমাদের দেশে আজওয়া ও মরিয়ম খেজুরের চাহিদা বেশি।
রঙেই পরিচয়:
খেজুরের যেমন বৈচিত্র আছে, তেমনই রঙেরও পার্থক্য আছে। কোনওটি হালকা হলদেটে, কোনওটি খয়েরি, কোনটিতে আবার গাঢ় রং। সাধারণত, কম পাকা খেজুর হলদেটে রঙের হতে পারে। খেজুর যত পাকবে, রংও ততই গাঢ় হবে।
গায়ের রঙ:
কোনও খেজুর খানিক শুকনো, কোনওটি রসালো। খেজুর একটু বেশি কোঁচকানো হলে বুঝতে হবে সেটি শুকনো। এর চেয়ে একটু চকচকে খেজুর বেশি ভাল হতে পারে। হাত দিয়ে চেপে দেখুন, সেটি হালকা নরম কি না।
গন্ধ:
খেজুরের তীব্র গন্ধ না থাকলেও, এর নিজস্ব গন্ধ খাওয়ার সময় ঠিকই টের পাওয়া যায়। যে কোনও ফল ভাল মানের হলে সেটি গন্ধেই বোঝা যায়। যদি খেজুর মুখে দিয়ে স্বাদ বা গন্ধ ঠিক মনে না হয় তাহলে সেটা বাদ দেওয়াই ভালো।
নরম কীনা:
খেজুরে হালকা চাপ দিয়ে দেখুন। বেশি তলতলে হলে বা আলতো চাপেই বীজ বেরিয়ে এলে বুঝবেন, তাতে আর্দ্রতা বা রসের মাত্রা বেশি। ভালো খেজুর সাধারণত হালকা নরম হয়, বাইরেটা থাকে অল্প শক্ত। তবে এটা সাধারণত খেজুরটা কোন প্রজাতির তার উপর খানিকটা নির্ভর করে।
প্যাকেজিং:
খেজুর কেনার সময় প্যাকেট পরীক্ষা করে নিন। কাটা বা ফাটা থাকলে সেটি বাদ দিতে হবে। ভাল মানের খেজুর কেনার সময় প্যাকেজিং গুরুত্বপূর্ণ। প্যাকেজিংয়ে সমস্যা থাকলে খেজুর নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
মিষ্টির মাত্রা :
ভালো বা নিম্ন মানের খেজুর যাচাই করার একটা ভালো উপায় হলো খেজুরে উপস্থিত মিষ্টির মাত্রা খেয়ে দেখা। খেজুরের প্রাকৃতিকভাবে থাকা মিষ্টি হয় সহনীয় ধরনের। যারা অতিরিক্ত মিষ্টি খেতে পছন্দ করেন না তারাও খেতে পারে এমন মিষ্টি থাকে উন্নতমানের খেজুরে। খেজুর যদি অতিরিক্ত মিষ্টি লাগে তাহলে বুঝতে হবে সেটায় কৃত্রিম মিষ্টি মেশানো আছে।
পিঁপড়া ও মাছির উপস্থিতি:
ভালো খেজুর চেনার অন্যতম কৌশল হলো পিঁপড়া ও মাছির উপস্থিতি লক্ষ্য করা। যদি দেখা যায় খেজুরের সামনে মাছি ও পিঁপড়া ভিড় করছে, তাহলে বুঝতে হবে সেটা ভালো মানের নয়।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় শিশুর গলায় খাবার আটকে যাওয়াকে বলা হয় ‘চোকিং’।
এক মুহূর্ত আগেও শিশুটি হাসছিল, খেলছিল। হঠাৎ খাওয়ার সময় মুখ লাল হয়ে গেল, শব্দ বন্ধ, মনে হচ্ছে গলায় কিছু আটকে গেছে! মুহূর্তেই ঘরের ভেতর শুরু হয় আতঙ্ক। এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি অনেক পরিবারই হন। আর এই কয়েক সেকেন্ডের ভুল সিদ্ধান্ত কখনও কখনও বড় বিপদের কারণ হতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পদ্ধতি জানা থাকলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিপদ এড়ানো সম্ভব।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় শিশুর গলায় খাবার আটকে যাওয়াকে বলা হয় ‘চোকিং’। শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, ছয় মাস থেকে তিন বছর বয়স পর্যন্ত শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। কারণ, এ সময় দাঁত পুরোপুরি ওঠে না, গিলতে শেখার প্রক্রিয়াও সম্পূর্ণ হয় না।
ভারতীয় শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের সংগঠনগুলোর পরামর্শ অনুযায়ী, শক্ত, গোল কিংবা পিচ্ছিল খাবার (যেমন আঙুর, বাদাম, শক্ত বিস্কুট) এই বয়সে খুব সতর্কতার সঙ্গে দিতে হবে।
কীভাবে বুঝবেন?
প্রথমেই লক্ষ্য করুন, শিশু কাশতে পারছে কি না। যদি কাশে, কাঁদতে পারে বা শব্দ বের হয়; তবে বুঝতে হবে শ্বাসনালি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এ অবস্থায় আতঙ্কিত হয়ে শিশুর মুখে আঙুল ঢোকাবেন না। এতে খাবার আরও ভেতরে ঢুকে যেতে পারে। বরং তাকে কাশতে দিন। অনেক সময় কাশিই সমস্যার সমাধান করে দেয়।
কিন্তু যদি শিশুর মুখ নীলচে হয়ে যায়, কোনো শব্দ না বের হয়, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়; তবে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।
এক বছরের কম বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে
শিশুকে উপুড় করে আপনার কাঁধ বা উরুর ওপর রাখুন, মাথা শরীরের চেয়ে একটু নিচের দিকে থাকবে। এরপর পিঠের মাঝামাঝি অংশে হাতের তালু দিয়ে পাঁচবার দৃঢ়ভাবে চাপড় দিন। কাজ না করলে শিশুকে চিত করে বুকে দুই আঙুল দিয়ে পাঁচবার চাপ দিন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের প্রশিক্ষণে এই পদ্ধতি শেখানো হয়।
এক বছরের বেশি বয়স হলে
এ ক্ষেত্রে ‘হাইমলিক পদ্ধতি’ প্রয়োগ করা যেতে পারে। তবে এটি সঠিকভাবে না শিখে প্রয়োগ করা উচিত নয়। ভুলভাবে করলে অভ্যন্তরীণ আঘাতের আশঙ্কা থাকে। তাই অনেক বিশেষজ্ঞই অভিভাবকদের প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ক প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরামর্শ দেন।
যেসব ভুল করবেন না
সবচেয়ে বড় ভুল হলো, চোখে না দেখে আঙুল বা চামচ দিয়ে খাবার বের করতে চেষ্টা করা। এতে খাবার আরও ভেতরে সরে গিয়ে শ্বাসনালি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে শিশুকে কখনও একা ছেড়ে দেবেন না।
খাওয়ানোর সময় শিশুকে বসিয়ে রাখুন। দৌড়াতে দৌড়াতে বা খেলতে খেলতে খাবার দেবেন না। খাবার সব সময় ছোট ছোট টুকরো করে দিন, যাতে গিলতে সুবিধা হয়।
শিশুর নিরাপত্তা সচেতনতার ওপরই অনেকাংশে নির্ভর করে। তাই আতঙ্ক নয়, আগে জানুন তারপরই পদক্ষেপ নিন। সচেতনতা ও সঠিক পদক্ষেপই হতে পারে একটি প্রাণ বাঁচানোর চাবিকাঠি।
রমজান উপলক্ষে ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে অফার
পবিত্র মাহে রমজানের আধ্যাত্মিকতা, সৌহার্দ্য ও একসাথে আনন্দ ভাগাভাগির আবহকে আরও বিশেষ করে তুলতে ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট নিয়ে এসেছে মাসব্যাপী ব্যতিক্রমধর্মী রমজান আয়োজন। ঐতিহ্যবাহী স্বাদ, আধুনিক আতিথেয়তা এবং প্রশান্তিময় পরিবেশের সমন্বয়ে অতিথিদের জন্য সাজানো হয়েছে নানান আকর্ষণীয় ডাইনিং অফার, যা পরিবার, বন্ধু ও কর্পোরেট আয়োজনের জন্য হয়ে উঠবে আদর্শ গন্তব্য।
রমজানজুড়ে ঢাকা রিজেন্সির লয়াল্টি প্রোগ্রাম প্রিমিয়ার ক্লাব মেম্বার, ঢাকা রিজেন্সি ফ্যান গ্রুপ মেম্বার এবং অনেকগুলো ব্যাংক কার্ডের মাধ্যমে অতিথিরা উপভোগ করতে পারবেন আকর্ষণীয় বাই ওয়ান গেট ওয়ান সুবিধা। পাশাপাশি হোটেলটির প্রাইম পার্টনার হিসেবে ব্র্যাক ব্যাংকের সিলেক্টেড কার্ডহোল্ডারদের জন্য থাকছে বাই ওয়ান গেট টু অফার, যা ইফতার ও ডিনার আয়োজনকে আরও আনন্দময় করে তুলবে।
এছাড়া রয়েছে কর্পোরেট পার্টনারস এবং সিলেক্টেড কার্ড হোল্ডারদের জন্য এক্সক্লুসিভ ব্যুফে ডিনার বান্ডেল অফার, যেখানে মাত্র ৯৯৯৯ টাকায় ৩ জন এবং ১১৯৯৯ টাকায় ৪ জন আনলিমিটেড ব্যুফে ডিনার উপভোগ করতে পারবেন, যা অতিথিদের জন্য দিচ্ছে বাড়তি সাশ্রয় ও প্রিমিয়াম ডাইনিং অভিজ্ঞতা।
পাশাপাশি রমজানকে আরও পরিপূর্ণ করতে হোটেলের জনপ্রিয় রুফটপ গার্ডেন রেস্টুরেন্ট গ্রিল অন দা স্কাইলাইনে থাকছে ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলির জন্য স্পেশাল প্ল্যাটার, ঢাকা রিজেন্সি প্রিমিয়ার ক্লাব মেম্বার এবং ব্যাংক কার্ড হোল্ডার পাচ্ছে ২০% ডিসকাউন্ট। ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট বরাবরের মতোই এই পবিত্র মাসে অতিথিদের জন্য নিয়ে এসেছে আন্তরিক সেবা, মনোমুগ্ধকর পরিবেশ এবং সুস্বাদু আয়োজনের এক অনন্য সমন্বয়, যেখানে রমজানের মূল চেতনা, একতা, উদারতা ও আনন্দ ভাগাভাগি প্রতিফলিত হবে প্রতিটি মুহূর্তে।
আগ্রহী অতিথিদের অগ্রিম বুকিংয়ের মাধ্যমে এই বিশেষ আয়োজন উপভোগ করার জন্য আমন্ত্রণ। বিস্তারিত তথ্য ও বুকিং এর জন্য যোগাযোগ করুন 01713-332661 নম্বরে অথবা ভিজিট করুন https://www.facebook.com/share/17qPbMQwi6/ ।
মিসিং ডে
অ্যান্টি-ভ্যালেন্টাইনস উইকের আজ ষষ্ঠ দিন-মিসিং ডে। সাধারণত ২০ ফেব্রুয়ারি পালন করা এই দিনটি তাদের জন্য, যারা সিঙ্গেল, কিংবা সম্প্রতি ব্রেকআপের পর নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
অ্যান্টি-ভ্যালেন্টাইনস উইকের অংশ
ভ্যালেন্টাইনস ডে’র পর ১৫ থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সামাজিক মাধ্যমে যে ধারাবাহিক দিনগুলোর কথা শোনা যায়, তারই একটি মিসিং ডে। এই দিনগুলো মূলত জনপ্রিয়তা পেয়েছে তরুণদের মধ্যে আবেগ প্রকাশ ও সম্পর্কের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার একটি প্রতীকী উপলক্ষ হিসেবে।
মিসিং ডে আসলে কী?
নামের কারণে মনে হতে পারে এটি কষ্ট বা তিক্ততার দিন। কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়। মিসিং ডে মানে কারও অনুপস্থিতি স্বীকার করা। কারও জন্য মন খারাপ হওয়া লুকিয়ে না রাখা। অতীতের স্মৃতিগুলোকে অস্বীকার না করে, গ্রহণ করা।
এটি হতে পারে পুরোনো ভালোবাসা, দূরে থাকা বন্ধু, কিংবা পরিবারের এমন একজন মানুষ - যার সঙ্গে এখন আর তেমন দেখা হয় না বা সময় কাটানো হয় না।
মিস করা কি দুর্বলতা?
না, কাউকে মিস করা স্বাভাবিক মানবিক অনুভূতি। অনুভূতি অস্বীকার করলে তা দীর্ঘমেয়াদে মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে। আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, আবেগ স্বীকার ও প্রকাশ মানসিক সুস্থতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একইভাবে মায়ো ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী, শোক বা বিচ্ছেদের পর অনুভূতি গ্রহণ করা হিলিং প্রক্রিয়ার একটি ধাপ।
সামনে এগোনোর শক্তি
হিলিং কখনও একদিনে হয় না। কারও অনুপস্থিতি মেনে নেওয়া মানেই তাকে ভুলে যাওয়া নয়। বরং এটি নিজের ভেতরে জায়গা তৈরি করা - যাতে নতুন অভিজ্ঞতা, নতুন সম্পর্ক জায়গা পায়। অ্যান্টি-ভ্যালেন্টাইনস উইকের এই দিনটি তাই কেবল একাকিত্বের নয়; এটি আবেগের সততা ও নিজেকে বোঝার দিন।
অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে নেওয়া
গ্ল্যামারের জগতে বয়স শুধুই সংখ্যা এ কথার প্রমাণ বারবার দেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। চল্লিশ পেরিয়েও তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সবাইকে মুগ্ধ করে। ফ্যাশন কুইন খেতাবটি প্রিয়াঙ্কার জন্য একদম ঠিক,কারণ তিনি সবসময় তার পোশাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সাহস দেখিয়েছেন। সম্প্রতি তার আসন্ন ছবি ‘দ্য ব্লাফ’-এর আফটার-পার্টিতে প্রিয়াঙ্কা গৌরব গুপ্তার তৈরি পোশাকে হাজির হয়ে নজর কেড়েছেন।
তিনি ডিজাইনারের দ্য ডিভাইন অ্যান্ড্রোজিন স্প্রিং/সামার ২০২৬ সংগ্রহ থেকে আধুনিক লুক বেছে নিয়েছিলেন। মিনিমালিস্টিক অথচ গ্ল্যামারাস এই লুক প্রিয়াঙ্কার স্টাইল ও ব্যক্তিত্বের নিখুঁত মিশ্রণ উপস্থাপন করে। প্রিয়াঙ্কার পোশাকে ছিল না অতিরিক্ত নাটকীয়তা, ছিল না চেনা ধাঁচের গ্ল্যামারবরং ছিল পরিমিত সৌন্দর্য, আধুনিক ভাবনা এবং ভারতীয় পোশাকের নতুন ধারণা।
প্রিয়াঙ্কা পরেছেন ‘গোল্ডেন আর্ক’ নামের একটি স্যাফরন-হিউড শাড়ি-গাউন। নরম শিফন কাপড়ে তৈরি এই পোশাকে ছিল করসেটেড কাঠামো, যা ভাস্কর্যধর্মী র্যাপ বডিসের মাধ্যমে গড়েছে শক্তিশালী সিলুয়েট। নিচের দিকে নরম প্লিটেড ড্রেপ এবং লম্বা ওড়নার মতো এক্সটেনশন পুরো লুককে দিয়েছে নাটকীয় সমাপ্তি। প্যারিসে প্রথম প্রদর্শিত এই পোশাক ঐতিহ্য আর আধুনিকতার অনন্য মেলবন্ধন।
প্রিয়াঙ্কার শাড়ি-গাউনটি ছিল অ্যাসিম্যাট্রিকাল স্টাইলে। এক-কাঁধ খোলা নকশা তার কলারবোনকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। কোমরের কাছে রুচড ডিটেইলিং এবং এক পাশে উরু-উঁচু চেরা পোশাকটিকে দিয়েছে সাহসী আবেদন। কাঁধ থেকে নেমে আসা কেপের মতো লম্বা ড্রেপ পিছনে তৈরি করেছে
দৃষ্টিনন্দন ট্রেন-যা তার হাঁটার সঙ্গে সঙ্গে বাড়িয়েছে গ্ল্যামার।
ফিটেড সিলুয়েট প্রিয়াঙ্কার লম্বা গড়নকে আরও স্ট্যাচুস্ক করে তোলে এবং হলুদ রঙের উজ্জ্বলতা এক ধরনের রাজকীয় আভা প্রদান করেছে।
হাই-ফ্যাশন আউটফিটের সঙ্গে প্রিয়াঙ্কা বেছে নিয়েছিলেন সোনালি রঙের সূঁচালো হিল, যার অ্যানকেল স্ট্র্যাপ ও মেটালিক শাইন পোশাকের সঙ্গে নিখুঁতভাবে মানিয়েছে। ভারী গয়না এড়িয়ে তিনি পোশাককেই কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছেন। ছোট একটি সোনালি ব্যাগ ছিল তার একমাত্র অ্যাকসেসরি-যা লুককে দিয়েছে পরিমিত পরিশীলন।
মেকআপে ছিল ডিউ উজ্জ্বল বেস। চোখের নিচে হালকা কনসিলার, গালে সফট পিচ-গোলাপি ব্লাশ। নিউট্রাল আইশ্যাডো আর নিখুঁত আইলাইনার চোখের সৌন্দর্যকে আরও বৃদ্ধি করেছে। ভ্রু ছিল একেবারে স্বাভাবিক। ঠোঁটে নরম কোরাল সাটিন ফিনিশ লিপ কালার। মসৃণ, ঢেউ খেলানো চুল পুরো লুককে দিয়েছে পরিপূর্ণতা।সবকিছু মিলিয়ে লুকটি ছিল রোমান্টিক ও মিনিমাল। এখানে সৌন্দর্যের লক্ষ্য ছিল পোশাককে ছাপিয়ে যাওয়া নয়, বরং তার গঠন ও ভাবনাকে সামনে আনা।
দেশীয় ও পশ্চিমা পোশাকে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া সব সময় অনুপ্রেরণা দেন। প্রতিটি অনুষ্ঠানে তার লুক আত্মবিশ্বাস, ঐতিহ্য এবং আন্তর্জাতিক গ্ল্যামারের স্বাক্ষর বহন করে। প্রিয়াঙ্কার স্টাইল শুধু পোশাক নয়, বরং ব্যক্তিত্বের এক নিখুঁত প্রকাশ।
ভারী খাবার গ্রহণ না করে খেজুর ও পানি দিয়ে শুরু করতে হবে
শুরু হয়েছে মাহে রমজান। দীর্ঘক্ষণ উপবাসের পর ইফতারের মুহূর্তে যে কোন রোজদারের জন্য আনন্দের।
তবে অনেকেই এ সময় অতিরিক্ত খেয়ে ফেলেন। যার ফলে বদহজম, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বা ক্লান্তি দেখা দেয়। তবে সঠিক খাদ্য নির্বাচন, পরিমিত খাবার গ্রহণে এসব সমস্যা এড়ানো যায়।
ইফতারের প্রথম ধাপই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। হঠাৎ ভারী খাবার গ্রহণ না করে খেজুর ও পানি দিয়ে শুরু করতে হবে। খেজুরে থাকা প্রাকৃতিক শর্করা ও পটাসিয়ামের উৎস রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত স্থিতিশীল করে।
এরপর একটু বিরতি নিয়ে হালকা স্যুপ, সবজির সালাদ বা ফলমূল খেতে পারেন। এতে বদহজমের ঝুঁকি কমে এবং অতিরিক্ত খাওয়া এড়ানো যায়। রাতের খাবারে ভাতের সঙ্গে মুরগির মাংস, মাছ ,ডাল, সবজি রাখুন। খাবার ভালোভাবে চিবিয়ে খান। এতে তৃপ্তির অনুভূতি বাড়ে এবং ক্যালরি গ্রহণ নিয়ন্ত্রণে থাকে।
রমজানের ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে মিষ্টি ও ভাজা খাবার পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে সুষম খাবার দিয়ে ইফতার শুরু করলে অতিরিক্ত ক্ষুধা কমে। ভাজা খাবারের পরিবর্তে বেইকড বা গ্রিলড খাবার বিকল্প হিসেবে বেছে নিতে পারলে ভালো।
ভারী সিরাপজাত মিষ্টির বদলে তাজা ফল, দইয়ের সঙ্গে মধু বা কম চিনিযুক্ত ঘরোয়া ডেজার্ট খেতে পারেন। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমবে। ওটস, ডিম, দই, ফল, বাদাম, সবজি ও গোটা শস্য দিয়ে সেহরি তৈরি করুন। ইফতারে একবারে অনেক পানি না খেয়ে সেহরির আগ পর্যন্ত পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন। নিয়ম মেনে খাবার খেলে অ্যাসিডিটি, বদহজমের সমস্যা অনেকটা এড়ানো যায়।