• প্রকাশ : শনিবার ১৫ নভেম্বর, ২০২৫, সময় : ৭:১৪ এএম

সরকার গতকাল বৃহস্পতিবার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করেছে। এই আদেশ জারির আগে সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিভিন্ন দলের মধ্যে মতভিন্নতা ছিল।

রাজনৈতিক দলগুলোকে মতভিন্নতা কাটিয়ে সমন্বিত প্রস্তাব দিতে সরকার সাত দিন সময় দিয়েছিল; কিন্তু দলগুলোর মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছে বলে জানা যায়নি। এখন প্রশ্ন হলো, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোট নিয়ে কোন দলের আপত্তির কতটুকু বিবেচনায় নিল ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন সরকার।

১. জুলাই সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ জারির বিপক্ষে ছিল বিএনপি। তারা চেয়েছিল, প্রজ্ঞাপন জারি করে এটা হোক। তাদের যুক্তি, এ ধরনের আদেশ জারির এখতিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের নেই। যদিও জামায়াত সাংবিধানিক আদেশের পক্ষে ছিল।

২. বিএনপি চেয়েছিল গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ একই দিনে হোক। আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ভোট হবে, সেটি আগেই বলেছে সরকার। বিএনপির এ দাবি পূরণ হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে জামায়াতের এই দাবি পূরণ হয়নি। জামায়াত জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোটের দাবি করেছিল।

৩. সংসদে উচ্চকক্ষ গঠন পিআর (সংখ্যানুপাতিক) পদ্ধতি নিয়ে বিএনপির আপত্তি ছিল। বিএনপির চাওয়া ছিল, উচ্চকক্ষে ১০০ আসন বণ্টন হোক নিম্নকক্ষের আসনের অনুপাতে। ধরা যাক, নিম্নকক্ষে একটি দল ১৫০টি আসন পেয়েছে। তাহলে উচ্চকক্ষে তাদের আসন হবে ৫০টি। উচ্চকক্ষ নিয়ে বিএনপির এ ভিন্নমত আমলে নেওয়া হয়নি। এক্ষেত্রে জামায়াত ও এনসিপির দাবি পূরণ হয়েছে। অর্থাৎ সংসদ নির্বাচনে দলগুলো যে অনুপাতে ভোট পাবে, সে অনুপাতে আসন বণ্টন হবে উচ্চকক্ষে। যদি কোনো দল ১০ শতাংশ ভোট পায়, তাহলে উচ্চকক্ষে আসন পাবে ১০টি। সদস্যদের নাম তারা ঠিক করবে।

৪. সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে উচ্চকক্ষেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা, অর্থাৎ ১০০ জনের মধ্যে অন্তত ৫১ জনের ভোট দরকার হবে। বিএনপি সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি উচ্চকক্ষে নেওয়ার বিপক্ষে। বিএনপির ভিন্নমত আমলে নেওয়া হয়নি।

৫. বিএনপি চেয়েছিল নোট অব ডিসেন্ট, অর্থাৎ ভিন্নমত অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ব্যবস্থা হোক। অর্থাৎ নির্বাচনে জয়ী হলে তারা রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ভিন্নমত থাকা প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করবে। এ বিষয়ে বিএনপির দাবি আংশিক পূরণ হয়েছে। মূল বিষয়গুলোতে বিএনপির ভিন্নমত আমলে নেওয়া হয়নি। যেমন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি), মহাহিসাব নিরীক্ষক নিয়োগ ও ন্যায়পাল নিয়োগ।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বিএনপি চেয়েছিল দুদকে নিয়োগ আইনের মাধ্যমে সরকার করবে। সেটি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে রাখা হয়নি। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে দুদকে চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ হবে বাছাই ও পর্যালোচনা কমিটির মাধ্যমে। এই কমিটি আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতির (প্রধান বিচারপতি ব্যতীত) নেতৃত্বে হবে। কমিটিতে হাইকোর্ট বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতি, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, সরকারি কর্মকমিশনের চেয়ারম্যান, সংসদ নেতা ও বিরোধীদলীয় নেতার একজন করে প্রতিনিধি এবং প্রধান বিচারপতি মনোনীত একজন নাগরিক প্রতিনিধি থাকবেন। এই কমিটি নাম প্রস্তাব করবে, রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেবেন।

৬. তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিএনপির ভিন্নমত নেই। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন কীভাবে হবে, তা নিয়ে বিএনপির ভিন্নমত ছিল। তা আমলে নেওয়া হয়নি।

৭. এনসিপি জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি চেয়েছিল। সেটি অনেকটা হয়েছে। তবে ঐকমত্য কমিশনের একটি বিকল্প সুপারিশে বলা হয়েছিল, নির্দিষ্ট সময়ে সংসদ সংস্কার প্রস্তাবগুলো অনুমোদনে ব্যর্থ হলে সেগুলো ২৭০ দিন পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে যুক্ত হয়ে যাবে। এটি নিয়ে আপত্তি ছিল বিএনপির। সরকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধান সংশোধনের সুপারিশটি আমলে নেয়নি।

৮. এনসিপি চেয়েছিল প্রধান উপদেষ্টা জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ জারি করবেন। কারণ, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে নিয়ে আপত্তি ছিল, যদিও বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী আদেশ জারি করতে পারেন রাষ্ট্রপতি। শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির নামেই আদেশ জারি হয়েছে।

৯. এনসিপি গণপরিষদ গঠন অথবা আগামী সংসদকে দ্বৈত ভূমিকা দেওয়ার পক্ষে ছিল। জামায়াতও দ্বৈত ভূমিকা দেওয়ার পক্ষে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে আগামী সংসদকে সেই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ আগামী সংসদ সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে কাজ করবে। যদিও বিএনপি সংসদকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের ক্ষমতা দেওয়ার বিপক্ষে ছিল।

প্রধান উপদেষ্টা ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রধান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের উপস্থিতিতে জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করেন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিরা। গত ১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধান উপদেষ্টা ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রধান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের উপস্থিতিতে জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করেন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিরা। ২৮ অক্টোবর ঐকমত্য কমিশন জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশের প্রক্রিয়া সম্বলিত রিপোর্ট সরকারের কাছে জমা দেয়। স্বাক্ষরিত সনদের সাথে এর ফারাক থাকায় নতুন করে রাজনৈতিক অনৈক্য সৃষ্টি হয়। সমঝোতার লক্ষে অবশেষে ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার ইনোভেটিভ আইডিয়া বৃহস্পতিবার জাতির সামনে হাজির করেন।



সর্বশেষ সব খবর

আজ দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ম্যানেজিং কমিটির ১২ সদস্যের একটি দল রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:৪৬ পিএম

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণতন্ত্রের মূল শক্তি হচ্ছে গণমাধ্যম। গণতন্ত্রকে বাঁচাতে হলে গণমাধ্যমকেও বাঁচাতে হবে। গণমাধ্যমকে সঠিক পথে থেকে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সুশাসনের জন্য দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।


আজ দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ম্যানেজিং কমিটির ১২ সদস্যের একটি দল রাষ্ট্রপতির সাথে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন।


জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাথে সম্পর্কের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রেস ক্লাবের সঙ্গে আমার সম্পর্ক শুধু রাজনৈতিক নয়, এটি দীর্ঘদিনের আত্মিক সম্পর্ক। আমার সবচেয়ে দুঃসময়ে আপনারা আমার পাশে ছিলেন, যা আমার জন্য বিরাট প্রাপ্তি।


এ সময় তিনি সাংবাদিকদের কল্যাণে সার্বিক সহযোগিতা করার আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আমার জায়গা থেকে আপনাদের জন্য যেটুকু করার আছে, আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন, আমি সেটুকু করার চেষ্টা করবো।


সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সাংবাদিক সমাজের মধ্যে ঐক্য অত্যন্ত জরুরি, বিভক্তি কখনো সাফল্য এনে দিতে পারে না। আপনারা মৌলিক জায়গাগুলোতে এক হতে পারলে সরকার ও বিরোধী দলের সঙ্গেও কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবেন।’


এ সময় তিনি নিজেদের সুরক্ষার জন্য এবং অনিয়ম ও গণহারে সাংবাদিক ছাঁটাইয়ের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। 


একইসাথে রাষ্ট্রপতি সংবাদকর্মীদের কর্মসংস্থানের সংকট নিরসনে বন্ধ হয়ে যাওয়া পত্রিকাগুলো পুনরায় চালু করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ‘বন্ধ পত্রিকাগুলো, বিশেষ ট্রাস্টের অধীনে থাকা পত্রিকাগুলো পুনরায় চালু করা গেলে অন্তত ১ হাজার সাংবাদিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।’


এসময় তিনি দৈনিক বাংলা-সহ বন্ধ থাকা অন্যান্য পত্রিকা পুনরায় চালু করার উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানান।


তিনি দেশে গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে তরুণ প্রজন্মের মন-মানসিকতা পরিবর্তনে সাংবাদিকদের কাজ করার আহ্বান জানান।


তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র  হচ্ছে একটা সংস্কৃতি। একে প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে হবে। সেজন্য মন-মানসিকতার ইতিবাচক পরিবর্তন করতে হবে। পুরোনো কর্তৃত্ববাদী চিন্তা-ভাবনা থেকে বেরিয়ে এসে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ধারণ করতে হবে। নতুন প্রজন্মের মধ্যেও গণতান্ত্রিক ভাষা ও মানসিকতা তৈরি করা জরুরি। আন্দোলন করে পরিবর্তন আনার পরও যদি পুরোনো মানসিকতা থেকে যায়, তাহলে প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব হবে না।’


এ সময় তিনি সরকারের যৌক্তিক ও গঠনমূলক সমালোচনার পাশাপাশি সরকারের ভালো কাজগুলো গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে যথাযথভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানান।


তিনি বলেন, জনগণের নির্বাচিত সরকারকে কাজ করার জন্য সময় দিতে হবে। এ সময় তিনি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধসহ বৈশ্বিক কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের কথা যথাযথভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


একইসাথে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সুদীর্ঘ ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি এই প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করেন। 


তিনি দেশের গণমাধ্যমের প্রাণকেন্দ্র এই জাতীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সরকারের সাথে কার্যকর সমন্বয়ের ওপর জোর দেন।



জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ উপস্থিত অন্য সদস্যদের রাষ্ট্রপতির সাথে পরিচয় করিয়ে দেন এবং সংগঠনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। এ সময় তিনি রাষ্ট্রপতিকে সুবিধাজনক সময়ে প্রেস ক্লাবে আমন্ত্রণ জানান।


প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া অতীতের স্মৃতিচারণ করে বলেন, প্রেস ক্লাবে আপনি আমাদের পরিবারের একজন সদস্যের মতো ছিলেন। আমরা গর্বিত ও আনন্দিত যে, প্রেস ক্লাবেরই একজন রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।


সদস্য কাদের গনি চৌধুরী বিগত সময়ের অপসাংবাদিকতার কথা তুলে ধরেন এবং দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের ধারা অব্যাহত রাখতে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন।


তিনি বলেন, গত ১৭ বছর সাংবাদিকদের ওপর যে ধরনের বাধা ও নিয়ন্ত্রণ ছিল, তাতে সাংবাদিকতার সংজ্ঞাই পরিবর্তন করতে হয়েছিল। কিন্তু গত কিছুদিনে আমরা মুক্তভাবে লিখতে পারছি, মুক্তভাবে বলতে পারছি। এই স্বাধীনতা যেন অক্ষুণ্ন ও অব্যাহত থাকে।


তিনি বলেন, সাংবাদিকরা আপনাদের সামনে সত্যটা তুলে ধরেন। আপনারা অন্যান্য জায়গায় হয়তো সবসময় আপনাদের খুশি রাখার মতো কথা শুনবেন। কিন্তু সত্যটা জানতে হলে সাংবাদিকদের কাছে আসতে হবে। এই পথ যেন অব্যাহত থাকে, এই স্বাধীনতা যেন অক্ষুণ্ন থাকে।


এ সময় তিনি সংবাদ মাধ্যম ও সাংবাদিকদের কল্যাণে দ্রুত দশম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নে সরকার ও রাষ্ট্রপতির নিকট সহযোগিতা কামনা করেন।


সদস্য সৈয়দ আবদাল আহমদ এ সময় রাষ্ট্রপতির সাথে অতীতের স্মৃতিচারণ করেন এবং গণতন্ত্র রক্ষায় রাষ্ট্রপতির ত্যাগ ও অবদানের কথা স্মরণ করেন।


উপস্থিত সাংবাদিক নেতারা এ সময় প্রেস ক্লাবের অবকাঠামো সম্প্রসারণে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করলে রাষ্ট্রপতি সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।


জাতীয় প্রেস ক্লাবের পক্ষে প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (পিআইও) সৈয়দ আবদাল আহমদ, কোষাধ্যক্ষ বখতিয়ার রাণা, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও মাসিক সরগম-এর সম্পাদক কাজী রওনাক হোসেন, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য শাহনাজ বেগম পলি, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মাসুমুর রহমান খলিলী, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য এ কে এম মোহসিন এবং ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মোহাম্মদ মোমিন হোসেন।


সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিবসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান আজ তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি ও সমসাময়িক বিষয়ে সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন।

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:৪২ পিএম

ভারতে পলাতক শেখ হাসিনাকে দেশটির প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমে রাজনৈতিক বক্তব্য ও সাক্ষাৎকার দেওয়ার সুযোগ দেওয়াকে অত্যন্ত অপ্রত্যাশিত ও ইরিটেটিং (অস্বস্তিকর) বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।


তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্কের ইতিবাচক পরিবেশ বজায় রাখতে ভারত সরকারের উচিত সেখানে বসে তাকে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত রাখা। বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে এ বিষয়ে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে।’


আজ দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি ও সমসাময়িক বিষয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।


শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আইসিটির চিফ প্রসিকিউটর নিশ্চিত করেছেন যে শেখ হাসিনার আর আপিল করার সুযোগ নেই। তাকে ফিরিয়ে এনে আদালতের রায় অনুযায়ী সাজা কার্যকর করাই এখন সরকারের লক্ষ্য।’


ভারত সরকার যেন তাকে মিডিয়াতে কথা বলতে না দেওয়ার মাধ্যমে সম্পর্কের উন্নয়নে পজিটিভ সিগন্যাল দেয়—সে বিষয়ে নজর দেওয়ার তাগিদ দিয়ে তিনি ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারকে এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান।


অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কোনো স্বাভাবিক রাজনৈতিক দল নয়, এটি একটি মাফিয়া গ্যাং। তাদের মধ্যে নূন্যতম অনুশোচনা নেই।’ 


এ ঘটনায় যুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং সরকার কাউকে ছাড় দেবে না বলে জানান তিনি।


সরকারি চাকুরিতে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে নিয়োগের ক্ষেত্রে মৌখিক পরীক্ষার (ভাইবা) নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে বা বৈষম্য সৃষ্টির জন্য নয়, বরং দক্ষ ও যোগ্য প্রশাসনিক জনবল নিশ্চিত করতেই সরকার এই পরিবর্তন এনেছে।


নতুন বোয়িং বিমান কেনার বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, বোয়িং কেনার অর্থ সরকারকে এখনই এককালীন পরিশোধ করতে হচ্ছে না, ধাপে ধাপে দীর্ঘ সময় ধরে এই পেমেন্ট দেওয়া হবে। এ ছাড়া প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘এয়ারবাস’ থেকেও বিমান ক্রয়ের বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।


অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের দীর্ঘসূত্রিতার সমালোচনা করে ব্রিফিংয়ে উপদেষ্টা বলেন, দেড় বছর সময় পাওয়া সত্ত্বেও বিগত সময়ে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) বা বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ফলে বর্তমান সরকারকে দ্রুততম সময়ে জনগণের সাময়িক ক্রাইসিস কমাতে চীনের সাথে চুক্তিসহ জরুরি পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে।


বিশ্বব্যাপী সম্ভাব্য দীর্ঘস্থায়ী ‘এল নিনো’ আবহাওয়া পরিস্থিতির আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা আরও জানান, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাবে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। তবে বর্তমানে দেশে ইতিহাসের যে কোনো সময়ের চেয়ে খাদ্যের সর্বোচ্চ মজুদ রয়েছে। সম্ভাব্য খাদ্য সংকট সামাল দিতে সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করা হচ্ছে।


ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কে এম আবদুল ওয়াদুদ এবং তথ্য অধিদপ্তরের উপ-প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন নেত্রকোনার কলমাকান্দা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ছবি : পিএমও

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:২৭ পিএম

ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিজেদের ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমাদের প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে। নিজেদের ঘরবাড়ি ও আশপাশে কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব।’


আজ মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে নেত্রকোনার কলমাকান্দা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।


একই সঙ্গে পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধুলা করা এবং প্রাণী ও জীবজন্তুর প্রতি যত্নশীল হওয়ার পরামর্শও দেন প্রধানমন্ত্রী।


প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এ কথা জানান।


পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস নিজের পরিবার থেকেই শুরু করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘তোমরা নিজেরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকবে এবং পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও প্রতিবেশীদেরকেও সচেতন করবে। তোমাদের ছোট ছোট উদ্যোগই একটি পরিচ্ছন্ন ও সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।’


সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার খোঁজখবর নেন। তারা কোন শ্রেণিতে পড়ে, কীভাবে পড়াশোনা করছে এবং ভবিষ্যতে কী হতে চায়; এসব বিষয়েও তাদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।


পড়াশোনার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু পাঠ্যবইয়ে মনোযোগ দিলেই হবে না; সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেড়ে উঠতে নিয়মিত খেলাধুলা ও শরীরচর্চা করতে হবে। সময়ের সঠিক ব্যবহার করতে হবে এবং নিজেদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।’


মানুষের পাশাপাশি প্রাণী ও জীবজন্তুর প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের চারপাশের অসহায় ও অবলা প্রাণীদের প্রতিও যত্নবান হতে হবে। কোনো প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করা যাবে না। জীবজন্তুর প্রতি মমতা ও দায়িত্ববোধ মানবিক সমাজের পরিচয়।’


ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ৪২ জন শিক্ষার্থী আজ জাতীয় সংসদের অধিবেশন দেখতে সংসদ ভবনে আসেন।


তাদের সঙ্গে বিদ্যালয়ের পাঁচজন শিক্ষক এবং পরিচালনা কমিটির দুজন সদস্যও ছিলেন। সংসদ অধিবেশন প্রত্যক্ষ করার একপর্যায়ে তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পান।


প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখা যায়।


প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া পরামর্শ নিজেদের জীবনে অনুসরণ করার পাশাপাশি পরিবার, বিদ্যালয় ও এলাকার মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন তারা।

সর্বশেষ সব খবর

আজ রাজধানীর ধানমন্ডি লেকে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী শেখ রাবিউল আলম। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৫৬ পিএম

দেশের কোনো জাতীয় মহাসড়কে থ্রি-হুইলার বা অটোরিকশা চলাচলের কোনো ধরনের আইনি সুযোগ নেই বলে পরিষ্কার জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রাবিউল আলম।


তবে দেশের একটি বিরাট অংশের মানুষের জীবন-জীবিকা ও কর্মসংস্থান এই পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় তাঁদের মানবিক দিক বিবেচনা করে ধাপে ধাপে একটি টেকসই ও শৃঙ্খলাবদ্ধ নীতিমালার মাধ্যমে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেন তিনি।


জীবন-জীবিকার বিষয় থাকায় অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, জাতীয় মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচলের সুযোগ নেই। তবে অটোরিকশার সঙ্গে অনেক মানুষ সম্পৃক্ত হয়ে যাওয়ায় বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি তাদের জীবন-জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আজ রাজধানীর ধানমন্ডি লেকে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। সামাজিক সংগঠন ধানমন্ডি ইয়ুথ ক্লাব এই পরিবেশবান্ধব কর্মসূচির আয়োজন করে।


রাজধানীর ধানমন্ডি লেকে মাছের পোনা অবমুক্ত ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। ছবি: সংগৃহীত

সড়ক মন্ত্রী জোরালো কণ্ঠে বলেন, ‘সরকার কোনোভাবেই মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচলের পক্ষে নয় এবং এটি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে একাধিক সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তবে অটোরিকশা ঠিক কোন পরিসরে চলবে এবং কোথায় কোনোভাবেই চলাচল করতে পারবে না—এ বিষয়ে সর্বজনগ্রাহ্য একটি সমন্বিত নীতিমালা চূড়ান্ত করা এখন সময়ের দাবি।’


তিনি বলেন, ‘আমরা জাতীয় মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচলের সম্পূর্ণ বিরোধী। আমরা এটি দ্রুততার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করছি। অটোরিকশা স্থানীয় বা ফিডার রোডে কীভাবে চলবে এবং মহাসড়কে এর অনুপ্রবেশ কীভাবে বন্ধ থাকবে—নীতিমালায় তার স্পষ্ট রূপরেখা প্রয়োজন।’


শেখ রাবিউল আলম জানান, অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশ, বিআরটিএ এবং সড়ক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত সকল স্টেকহোল্ডারের যৌথ সমন্বয়ে নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে। তবে সেই নীতিমালায় কোনোভাবেই জাতীয় মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচলের আইনি অনুমোদন দেওয়ার সুযোগ থাকবে না।


হঠাৎ চরম সিদ্ধান্ত না নিয়ে কেন পর্যায়ক্রমে এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে—তার ব্যাখ্যায় মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের লাখ লাখ সাধারণ মানুষ সরাসরি এই পেশার সঙ্গে যুক্ত। তারাও আমাদেরই সমাজের অংশ। ফলে হঠাৎ একক সিদ্ধান্তে গাড়ি বন্ধ করে দিলে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। তাই শুধু যানবাহন বন্ধ করাই মূল সমাধান নয়; বরং বিকল্প কর্মসংস্থান ও শৃঙ্খলিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজা হচ্ছে।


তিনি আরও বলেন, ‘অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের কারণে যারা সাময়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন, তাদের জীবন-জীবিকা রক্ষায় সরকার সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি রাখবে। তাদের কীভাবে অনুমোদনপ্রাপ্ত কোনো স্থানীয় রুটের আওতায় আনা যায় কিংবা শৃঙ্খলার মধ্যে আনা যায়-সেটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।’


পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, নির্ধারিত কোনো আঞ্চলিক বা অভ্যন্তরীণ সড়কে অটোরিকশা চলাচলের অনুমতি থাকলেও চালকের নূন্যতম ড্রাইভিং দক্ষতা ও বয়সের যোগ্যতা নির্ধারণ করা হবে। ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।


সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের কাজের পরিধি উল্লেখ করে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের প্রধান কাজই হলো উচ্চমানের রাস্তা ও মহাসড়ক নির্মাণ, সম্প্রসারণ এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা। সে অনুযায়ী কাজ দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।


মহাসড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে এককভাবে শুধু সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় দায়ী নয় উল্লেখ করে শেখ রাবিউল আলম বলেন, হাইওয়ে ব্যবস্থাপনার সঙ্গে একাধিক মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও হাইওয়ে পুলিশ জড়িত। সব পক্ষকে নিয়ে সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে মহাসড়কের কোনো বিশৃঙ্খলা বা অনিয়মের পুরো দায়ভার এককভাবে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যৌক্তিক নয়; কারণ সার্বিক আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের ভূমিকা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


অনুষ্ঠানে ধানমন্ডি ইয়ুথ ক্লাবের সভাপতি ও ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক শেখ খালিদ হাসান জ্যাকীর সভাপতিত্বে সংগঠনটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।


সর্বশেষ সব খবর

ন্যাশনাল আরবান ফোরাম-২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৪২ পিএম

বড় শহর নয়, মানবিক ও পরিবেশবান্ধব নগরব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।


তিনি বলেন, আমরা এমন এক নগরব্যবস্থা চাই, যা মানুষের জীবনে সত্যিকারের গুণগত ও দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। এমন এক শহর চাই, যেখানে সবার জন্য সুযোগ থাকবে, সুবিচার থাকবে এবং সমতা প্রতিষ্ঠিত হবে। উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে প্রকৃতির সঙ্গে পূর্ণ সামঞ্জস্য রেখে, পরিবেশ ও জলাশয় অক্ষুণ্ন রেখে। নাগরিকরা সেখানে নিরাপদে বসবাস করবেন, আত্মমর্যাদা নিয়ে চলাফেরা করবেন এবং সব ধরনের মৌলিক সেবা ও নাগরিক অধিকার সমানভাবে উপভোগ করবেন।


সোমবার (০৭ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে দুই দিনব্যাপী ন্যাশনাল আরবান ফোরাম-২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।


শহরগুলো জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, দেশের এক-তৃতীয়াংশ মানুষ নগর এলাকায় বসবাস করলেও এখান থেকেই জাতীয় জিডিপির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ অর্জিত হয়। তবে দ্রুত ও অপরিকল্পিত নগরায়ন আবাসন, গণপরিবহন, পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সামগ্রিক পরিবেশের ওপর চরম চাপ সৃষ্টি করছে। এর সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন, ক্রমবর্ধমান বৈষম্য এবং জলবায়ু অভিবাসন সংকটকে আরও গভীর করছে।


তিনি বলেন, নগরের টেকসই উন্নয়ন কতগুলো বড় অট্টালিকা বা কত কিলোমিটার চওড়া রাস্তা তৈরি হয়েছে, তা দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। বরং নগরায়নের ফলে কত মানুষের জীবনমান সত্যিকার অর্থে উন্নত হয়েছে এবং সেই পরিবর্তন কতটা অর্থবহ ও স্থায়ী হয়েছে, সেটিই হওয়া উচিত সাফল্যের মূল মাপকাঠি।


বাংলাদেশ ইতোমধ্যে নগর নীতিমালার কাঠামো শক্তিশালী করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে আমরা স্পষ্টভাবে বিশ্বাস করি, কেবল একটি সুন্দর নীতিমালা তৈরি করাই শেষ কথা নয়; এটি কাজের সূচনা মাত্র। আসল পরীক্ষা হলো সেই নীতিমালার কার্যকর, বাস্তবমুখী ও টেকসই বাস্তবায়ন।’


নগর নীতিমালার সফল বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সরকার, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বেসরকারি খাত, গবেষক, উন্নয়ন সহযোগী ও নাগরিক সমাজের মধ্যে শক্তিশালী সমন্বয় প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


মাহ্দী আমিন বলেন, নগরের সমস্যাগুলো কোনো নির্দিষ্ট প্রশাসনিক সীমানা মানে না এবং কেবল একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের মধ্যেও সীমাবদ্ধ নয়। আবাসন, যোগাযোগ, ড্রেনেজ, পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎ-জ্বালানি, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সমন্বয়ের মাধ্যমেই একটি সামগ্রিক ও টেকসই নাগরিক অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা সম্ভব।


নগরের জটিল সংকট সমাধানে সরকার ‘৩৬০ ডিগ্রি হলিস্টিক অ্যাপ্রোচ’ গ্রহণ করতে চায় জানিয়ে তিনি বলেন, নাগরিকদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা ও নিজস্ব সম্পদের পরিধি বাড়াতে হবে।


তিনি বলেন, এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর কাঠামো গড়ে তুলতে হবে, যা কোনো বিশেষ শ্রেণির জন্য নয়; বরং প্রতিটি নাগরিকের জন্য নিরাপদ পানি, পয়ঃনিষ্কাশন, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা, সাশ্রয়ী শিক্ষা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, আধুনিক গণপরিবহন ও সম্মানজনক কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবে। এসব নাগরিক সুবিধা কোনো বিলাসিতা নয়, বরং প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার।


নগর পরিকল্পনার প্রতিটি ধাপে জলবায়ু সহনশীলতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অবকাঠামো, জনজীবন ও জীবিকার ওপর জলবায়ু পরিবর্তন ইতোমধ্যে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। তাই নদী-নালা, খাল-বিল, উন্মুক্ত স্থান ও সবুজ চত্বরগুলোকে বিচ্ছিন্নভাবে না দেখে সমন্বিত কাঠামোর অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।


জলাবদ্ধতা ও তীব্র তাপদাহ মোকাবিলা এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ‘ন্যাচার-বেসড সল্যুশন’ বা প্রকৃতিভিত্তিক সমাধানের মাধ্যমে শহরগুলোকে সুস্থ ও বাসযোগ্য রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।


নীতিমালা প্রণয়নে ওপর থেকে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে না দিয়ে সাধারণ নাগরিক ও তৃণমূলের বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে বৈশ্বিক অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটানোর আহ্বান জানান মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে নীতিনির্ধারণে প্রতিটি কণ্ঠস্বরকে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।


নতুন নগর পরিকল্পনাকে অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, শহরগুলোতে উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা তৈরি ও নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে তরুণদের মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি মূল শহরের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোর যোগাযোগ বাড়াতে দায়িত্বশীল বেসরকারি বিনিয়োগ, স্থানীয় রাজস্ব বৃদ্ধি এবং কার্যকর পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ জোরদার করতে হবে।


নাগরিক সেবার মান বাড়াতে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র।


ফোরামের মূল প্রতিপাদ্য ‘ফ্রম পলিসি টু অ্যাকশন’ নতুন নির্বাচিত সরকারের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, ‘মাত্র ছয় মাস আগে জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ আজ পরিবর্তনের ইতিবাচক পথে ধাবমান এবং এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের শহরগুলোও দ্রুত বদলে যাচ্ছে।’


স্থানীয় সরকার বিভাগ, ইউএনডিপি ও যুক্তরাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ফোরামে আরও বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের ডেপুটি আবাসিক প্রতিনিধি সোনালী দয়ারত্নে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:০৭ এএম

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় বহু প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এবং দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।


একইসঙ্গে তিনি এই দুর্যোগের সময়ে নেপালের প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছেন।


তারেক রহমান তার পোস্টে লিখেছেন, ‘নেপালে আঘাত হানা ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানির মর্মান্তিক ঘটনায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত ও দুঃখিত। আমার জনগণ ও সরকারের পক্ষ থেকে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এবং নেপালের জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।’


তিনি আরও লেখেন, ‘যারা প্রাণ হারিয়েছেন এবং তাদের পরিবার ও প্রিয়জনদের প্রতি আমাদের চিন্তা ও প্রার্থনা রয়েছে, যারা এই বিশাল ক্ষতির ভার বহন করছেন। এই দুর্দশার সময়ে নেপালের যে ধরনের সহযোগিতার প্রয়োজন হতে পারে, তা দিতে আমরা প্রস্তুত।’


উল্লেখ্য, পোস্টের সঙ্গে নেপালের বন্যাদুর্গত এলাকার একটি ছবিও শেয়ার করেন তারেক রহমান। ছবির সৌজন্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ‘নেপাল টাইমস’।

সর্বশেষ সব খবর